সহীহ শামায়েলে তিরমিযী – রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর হাসি

সহীহ শামায়েলে তিরমিযী – রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর হাসি

 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী – রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর হাসি , এই অধ্যায়ে হাদীস ৬ টি ( ১৬৮-১৭৩ পর্যন্ত )<< শামায়েলে তিরমিযী হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন 

অধ্যায়-৩৫ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর হাসি

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মুচকি হাসি হাসতেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) হাসার সময় দাঁত দেখা যেত

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মুচকি হাসি হাসতেন

১৬৮.আবদুল্লাহ ইবনি হারিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর চেয়ে অধিক মুচকি হাস্যকারী ব্যক্তি কাউকে দেখিনি।{১}

{১} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৭৭৫০; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৩৫০; শুআবুল ঈমান, হাদিস নং/৭৬৮৭। সহীহ শামায়েলে তিরমিযী হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৬৯. আবদুল্লাহ ইবনি হারিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সবসময় মুচকী হাসতেন।

সহীহ শামায়েলে তিরমিযী হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) হাসার সময় দাঁত দেখা যেত

১৭০. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, নিশ্চয় আমি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে ভালোভাবে জানি। আর যে ব্যক্তি সর্বশেষ জাহান্নাম হতে নাজাত পাবে, তাকেও জানি। কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে [আল্লাহর নিকট উপস্থিত করে] বলা হইবে, এর সগীরা গুনাহগুলো উপস্থাপন করো এবং কবীরা গুনাহগুলো গোপন করে রাখো। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হইবে, তুমি অমুক অমুক দিনে এই এই গুনাহ করেছ। তখন সে ব্যক্তি সবগুলো স্বীকার করিবে এবং একটিও অস্বীকার করিবে না। এরপর সে তাহাঁর কবীরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তখন ঘোষণা দেয়া হইবে যে, তাহাঁর প্রতিটি মন্দ কাজের বিনিময়ে একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করো। এরপর সে বলবে, নিশ্চয় এখনও আমার অনেক গুনাহ বাকী আছে, যা দেখিতে পাচ্ছি না। আবু যর [রাদি.] বলেন, তখন আমি দেখলাম, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মুচকি হাসছেন; এমনকি তাহাঁর সাদা দাতগুলো দেখা যাচ্ছিল।{১}

{১} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২১৪৩০; মুসনাদুল বাযযার, হাদিস নং/৩৯৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৪৩৬০, সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস নং/৩০৫২। সহীহ শামায়েলে তিরমিযী হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৭১. জারীর ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার ইসলাম গ্রহণের পর হতে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে [তাহাঁর কাছে আসতে] বাধা দেননি। আর আমাকে দেখা মাত্রই তিনি হাসতেন।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৩০৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৬৫১৮ ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৫৯; মুসমাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৯১৯৬; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৭২০০ শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৩৪৯। সহীহ শামায়েলে তিরমিযী হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৭২. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সর্বশেষে জাহান্নাম হতে নাজাত পেয়ে বের হয়ে আসবে, আমি তাঁকে চিনি। সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম হতে বের হয়ে আসবে। এরপর তাকে বলা হইবে, এসো। জান্নাতে প্রবেশ করো। ঘোষণা মুতাবিক সে [জান্নাতের দিকে] যাবে এবং সেখানে প্রবেশ করে দেখিতে পাবে কোথাও ঠাঁই নাই। লোকেরা সকল স্থান অধিকার করে আছে। অতঃপর সে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে এবং বলবে, হে আমার প্রতিপালক! লোকেরা তো সব স্থানই দখল করে আছে। তখন তাকে বলা হইবে, তোমার সে কালের [দুনিয়ার] কথা স্মরণ আছে কি, যেখানে তুমি অবস্থান করেছিলে? সে বলবে, জি-হ্যাঁ। সবই আমার মনে পড়ে।

বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাকে বলা হইবে, তোমার মনে যা চায়, তা আকাঙ্ক্ষা করো। তিনি বলেন, তখন সে আকাঙ্ক্ষা করিবে। এরপর তাকে বলা হইবে, তুমি যে ইচ্ছা পোষণ করলে তাই তোমার জন্য মঞ্জুর করা হলো এবং তোমাকে দশ দুনিয়ার সমান দেয়া হইবে। তিনি বলেন, তখন সে বলবে, আপনি কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন অথচ আপনি আমার মালিক সারা জাহানের সম্রাট! তিনি [বর্ণনাকারী] বলেন, এমতাবস্থায় আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে মুচকি হাসি দিতে দেখলাম, এমনকি তাহাঁর দাত দেখা যাচ্ছিল।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৪৮০ঃ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৭৪৩; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/৩৫৯৫; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৪৩৫৬। সহীহ শামায়েলে তিরমিযী হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৭৩. আলী ইবনি রবীআ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আলী [রাদি.] এর সামনে উপস্থিত হলাম। তখন তাহাঁর কাছে একটি জানোয়ারকে আরোহণের জন্য আনা হলো। যখন তিনি সে পশুটির পাদানীতে পা রাখলেন এবং বলিলেন, “বিসমিল্লা-হ”। অতঃপর জানোয়ারের পিঠে যখন সোজা হয়ে বসলেন তখন বলিলেন, “আলহামদু লিল্লা-হ” [সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর] অতঃপর বললেনঃ

“সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না- লাহু মুক্বরিনীন, ওয়া ইন্না-ইলা- রব্বিনা-লামুনক্বালিবূন”

অর্থাৎ হে আল্লাহ! মহান সত্তার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাদের জন্য একে বশীভূত করিয়াছেন। আমরা একে বশীভূত করিতে সক্ষম নই। বস্তুত আমরা তাহাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।{১}

এরপর তিনি ৩ বার “আলহামদু লিল্লাহ” এবং ৩ বার “বিসমিল্লাহ” পাঠ করিলেন। এরপর এ দুআ পড়লেনঃ

“সুবহা-নাকা ইন্নী যলামতু নাফসী ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা- ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা”।

অর্থাৎ আল্লাহ পবিত্র! নিশ্চয় আমি আমার নিজের উপর সীমালঙ্ঘন করেছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই।

এরপর তিনি হাসলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমীরুল মুমিনীন! আপনার হাসি পেল? তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে এমনভাবে দেখেছি যেভাবে আমি এইমাত্র কথা ও কাজ সম্পন্ন করলাম। এরপর তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন জিনিস আপনাকে হাসাল? তিনি বলিলেন, তোমার প্রতিপালক তাহাঁর বান্দার এ কথা খুবই পছন্দ করেন যখন সে বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও, এ বিশ্বাস রেখে যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ গুনাহ মাফ করিতে পারে না।{2}

{১} সূরা যুখরুফ- ১৪। {2} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/৭৫৩; মুসনাদুত তায়ালুসী, হাদিস নং/১৩৪; সুনানুল কাবীর লিন নাসাঈ, হাদিস নং/৮৭৪৮; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/১৩৪৩; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/২৬৯৮।সহীহ শামায়েলে তিরমিযী হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply