সলাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ

সলাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ

সলাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৭. অধ্যায়ঃ সলাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ

১০৮৬

মুআবিয়াহ্ ইবনিল হাকাম আস্ সুলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন এক সময় আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে নামাজ আদায় করছিলামভ। ইতোমধ্যে [নামাজ আদায়কারীদের মধ্যে] কোন একজন লোক হাঁচি দিলে [জবাবে] আমি “ইয়ার্হামুকাল্ল-হ” [অর্থাৎ- আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন] বললাম। এতে সবাই রুষ্ট দৃষ্টিতে আমার প্রতি তাকাতে থাকল। তা দেখে আমি বললামঃ আমার মা আমার বিয়োগ ব্যথায় কাতর হোক। [অর্থাৎ-এভাবে আমি নিজেকে ভৎসনা করলাম]। কি ব্যাপার! তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছ যে? তখন তারা নিজ নিজ উরুতে হাত চাপড়াতে থাকল। [আমার খুব রাগ হওয়া সত্ত্বেও] আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চায় তখন আমি চুপ করে রইলাম। পরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ শেষ করলে আমি তাঁকে সবকিছু বললাম। আমার পিতা ও মাতা তাহাঁর জন্য কুরবান হোক। আমি ইতোপূর্বে বা এর পরে আর কখনো অন্য কোন শিক্ষককে তাহাঁর চেয়ে উত্তম পন্থায় শিক্ষা দিতে দেখিনি। আল্লাহর শপথ করে বলছি, তিনি আমাকে ধমকালেন না বা মারলেন না কিংবা বকাঝকাও করিলেন না। বরং বললেনঃ নামাজের মধ্যে কথাবার্তা ধরণের কিছু বলা যথোচিত নয়। বরং প্রয়োজনবশতঃ তাসবীহ, তাকবীর বা কুরআন পাঠ করিতে হইবে অথবা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যেরূপ বলেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] ! আমি সবেমাত্র জাহিলিয়াত বর্জন করেছি এবং এরপর আল্লাহ আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা গণকদের কথায় বিশ্বাস করে। তিনি [সাঃআঃ] [এ কথা শুনে] বললেনঃ তুমি গণকদের কাছে যেয়ো না। সে বললঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা শুভ অশুভ লক্ষণ নির্ধারণ করে থাকে। তিনি বললেনঃ এটা তাদের হৃদয়ের বদ্ধমূল বিশ্বাস। এটি তাদেরকে [ভাল কাজ করিতে] বাধা না দেয়। হাদীস বর্ণনাকারী সাববাহ বলেছেন, তা যেন তোমাকে বাধা না দেয়। লোকটি বর্ণনা করিয়াছেন- আমি আবারও বললামঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা রেখা টেনে শুভ-অশুভ নির্ধারণ করে থাকে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ একজন নবী এভাবে রেখা টানতেন। সুতরাং কারো রেখা যদি [নবীর রেখা] অনুরূপ হয় তাহলে তা ঠিক হইবে।{৪}

বর্ণনাকারী মুআবিয়াহ্ বলেন, আমার এক দাসী ছিল সে উহুদ ও জাও্ওয়ানিয়্যাহ্ এলাকায় আমার বকরীপাল চরাত। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরীপাল থেকে বাঘে একটি বকরী নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মত একজন মানুষ। তাদের মত আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কাছে আসলাম [এবং সব কথা বললাম] কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাকে [দাসী] মুক্ত করে দিব? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাঁকে [দাসীকে] জিজ্ঞেস করলেনঃ [বলো তো] আল্লাহ কোথায়? সে বলিল- আকাশে। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, [বলো তো] আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মুমিনাহ্ নারী। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮০, ইসলামিক সেন্টার- ১০৮৮]

{৪} খাত্ত্বাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সে নবীর জন্য রেখা বিদ্যা ইল্মে নবূওয়্যাতের একটা অংশ ছিল। হাদীসের মর্মানুসারে তার সাথে সামঞ্জস্য হইতে হইবে ইল্মুল ইয়াকীন বা সুদৃঢ় অবগতির মাধ্যমে কোন ধারণার ভিত্তিতে নয়। আর এ শর্ত পাওয়া অসম্ভবপর বিধায় প্রকারান্তরে এটা হারামের হুকুমভুক্ত হয়েছে। এমনকি রেখা বিদ্যা মুবাহ হওয়া আমাদের শারীআতে রহিত হয়ে গেছে- এ ব্যাপারে আলিমগণের ঐকমত্য রয়েছে।

[শারহে মুসলিম-১ম খন্ড ২০৩ পৃষ্ঠা]

১০৮৭

ইয়াহ্ইয়া ইবনি আবু কাসীর হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮১, ইসলামিক সেন্টার- ১০৮৯]

১০৮৮

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করিতেন সে অবস্থায় আমরা তাঁকে সালাম দিলে তিনি [সাঃআঃ] তাহাঁর জবাব দিতেন কিন্তু [হাবশায় হিজরাতের পর] নাজাশীর কাছ থেকে আমরা ফিরে এসে তাঁকে [নামাজরত অবস্থায়] সালাম দিলে তিনি জবাব দিলেন না। তখন [নামাজ শেষে] আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি নামাজ আদায় করিতেন এমন অবস্থায় আমরা আপনাকে সালাম দিলে তার জবাব দিতেন। [কিন্তু আজকে আমাদের সালামের জবাব দিলেন না!] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ নামাজের মধ্যে নির্ধারিত করণীয় থাকে।{৫} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮২, ইসলামিক সেন্টার- ১০৯০]

{৫} ঈমাম নাবাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ নামাজরত অবস্থায় শব্দ বিনিময়ে সালামের জবাব দান নিষিদ্ব, তবে ইশারা দ্বারা জবাব্দান নিষিদ্ব নয়; বরং মুস্তাহাব। জাবির [রাদি.] -এর হাদীসে এর সাবিত রয়েছে। [শারহে মুসলিম-১ম খণ্ড ২০৪ পৃষ্ঠা]

১০৮৯

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ১০৯১]

১০৯০

যায়দ ইবনি আরকাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নামাজরত অবস্থায় কথা বলতাম। লোকে নামাজরত অবস্থায় তার পাশে [সলাতে] দাঁড়ানো অপর ব্যক্তির সাথে কথা বলত। এরপর আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ [আরবি] “আর তোমরা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ অনুগত ও একনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়াও” – [সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ২ : ২৩৮]। এ হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদেরকে নামাজের মধ্যে চুপ থাকতে আদেশ দেয়া হলো এবং কথা বলিতে নিষেধ করা হলো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ১০৯২]

১০৯১

ইসমাঈল ইবনি আবু খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ১০৯৩]

১০৯২

জাবির ইবনূ আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক সময়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে কোন একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম সওয়ারীতে আরোহণ করে [নাফ্ল নামাজ আদায়রত] অতিক্রম করিয়াছেন। কুতায়বাহ্ বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করছিলেন। জাবির ইবনি আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি [ফিরে আসার পর ঐ অবস্থায়] তাঁকে সালাম দিলে তিনি [সাঃআঃ] আমাকে ইশারা করিলেন [ইশারা দ্বারা সালামের জবাব দিলেন]। নামাজ শেষ করে তিনি [সাঃআঃ] আমাকে ডেকে বললেনঃ তুমি এইমাত্র আমাকে সালাম দিয়েছ। তখন আমি নামাজ আদায় করছিলাম। ঐ সময় তিনি [সাঃআঃ] পূর্ব দিকে মুখ করে ছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ১০৯৪]

১০৯৩

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বানী মুস্ত্বালিক্ব গোত্রের দিকে যাওয়ার সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম তিনি [সাঃআঃ] উটের পিঠে বসে নামাজ আদায় করছেন। আমি তাঁকে বললাম [অর্থাৎ- যে কাজে পাঠিয়েছিলেন সে সম্পর্কে] কিন্তু তিনি [সাঃআঃ] আমাকে হাত দ্বারা এভাবে ইশারা করিলেন। বর্ণনাকারী যুহায়র ইবনি হারয্ তাহাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে {তিনি [সাঃআঃ] } কিভাবে ইশারা করেছিলেন তা দেখালেন। জাবির ইবনি আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি তখন শুনেছিলাম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছু পড়ছেন এবং মাথা দ্বারা ইশারা করছেন। নামাজ শেষ হলে তিনি [সাঃআঃ] আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি তোমাকে যে জন্য পাঠিয়েছিলাম তার কি করেছ? আমি শুধু এ কারনে তোমার সাথে কথা বলিনি যে, আমি তখন নামাজ আদায় করেছিলাম।

হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহ্য়র ইবনি হার্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ কথাগুলো বলার সময় আবুয্ যুবায়র কাবার দিকে মুখ করে বসে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি [আবুয্ যুবায়র] হাত দিয়ে ইশারা দেখাচ্ছিলেন তখন কাবার দিকে মুখ না করে বানী মুস্তালিকের দিকে মুখ করে বলছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ১০৯৫]

১০৯৪

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নবী [সাঃআঃ] -এর সাথে ছিলাম। তিনি [সাঃআঃ] আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখিতে পেলাম তিনি [সাঃআঃ] তাহাঁর সওয়ারীর পিছে বসে কিবলাহ্ ছাড়া অন্যদিকে মুখ করে নামাজ আদায় করছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। কিন্তু তিনি [সাঃআঃ] আমার সালামের কোন জবাব দিলেন না। নামাজ শেষ করে বললেনঃ আমি নামাজ আদায় করছিলাম তাই তোমার সালামের কোন জবাব দিতে পারিনি। এছাড়া আর কিছুই আমাকে তোমার সালামের জবাব দেয়া থেকে বিরত রাখেনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ১০৯৬]

১০৯৫

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [এক সময়ে] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে কোন একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ১০৯৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply