নতুন লেখা

বায়ু প্রবাহ, বজ্রধ্বনি, চাঁদ, স্বপ্ন, খাবার ও সফরে বের হওয়ার দোয়া

বায়ু প্রবাহ, বজ্রধ্বনি, চাঁদ, স্বপ্ন, খাবার ও সফরে বের হওয়ার দোয়া

বায়ু প্রবাহ, বজ্রধ্বনি, চাঁদ, স্বপ্ন, খাবার ও সফরে বের হওয়ার দোয়া >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়ঃ ৪৫, অনুচ্ছেদঃ (৩৪-৫৭)=২৪টি

অনুচ্ছেদ-৩৪ঃ ঘর হইতে বের হওয়ার সময় পাঠ করার দু আ
অনুচ্ছেদ-৩৫ঃ [ঘর হইতে বের হওয়ার সময় নাবী [সাঃআঃ] এর পঠিত দু আ]
অনুচ্ছেদ-৩৬ঃ বাজারে প্রবেশের দুয়া
অনুচ্ছেদ-৩৭ঃ পীড়িত ব্যক্তি যে দু আ পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৩৮ঃ বিপদ্গ্রস্থ লোককে প্রত্যক্ষ করে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৩৯ঃ মজলিস হইতে উঠে যাওয়ার দুয়া
অনুচ্ছেদ-৪০ঃ বিপদকালে আমাল করার দুয়া
অনুচ্ছেদ-৪১ঃ কোন জায়গায় যাত্রাবিরতি করলে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৪২ঃ সফরে যাওয়ার সময় যে দুয়া পাঠ করিতে হয়
অনুচ্ছেদ-৪৩ঃ সফর হইতে ফিরে এসে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৪৪ঃ কোন লোককে বিদায় দেয়ার সময় যে দুয়া পাঠ করিতে হয়
অনুচ্ছেদ-৪৫ঃ অনুরুপ প্রসঙ্গ
অনুচ্ছেদ-৪৬ঃ [সফরকালে দুয়া চাওয়া]
অনুচ্ছেদ-৪৭ঃ যানবাহনে আরোহণের সময় দুয়া পাঠ করা
অনুচ্ছেদ-৪৮ঃ মুসাফিরের দুয়া প্রসঙ্গে যা উল্লেখ আছে
অনুচ্ছেদ-৪৯ঃ প্রচণ্ড বেগে বায়ু প্রবাহের কালে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৫০ঃ বজ্রধ্বনি শুনে যে দুয়া পাঠ করিতে হইবে
অনুচ্ছেদ-৫১ঃ নতুন চাঁদ দেখে যে দুয়া পড়তে হয়
অনুচ্ছেদ-৫২ঃ রাগের আবির্ভাব হলে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৫৩ঃ মন্দ স্বপ্ন দেখলে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৫৪ঃ বাগানে নতুন ফল প্রত্যক্ষ করলে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৫৫ঃ খানা খাওয়ার সময় পাঠ করার দুয়া
অনুচ্ছেদ-৫৬ঃ খাবার শেষে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৫৭ঃ গাঁধার চীৎকার শুনে যে দুয়া পাঠ করিবে

অনুচ্ছেদ-৩৪ঃ ঘর হইতে বের হওয়ার সময় পাঠ করার দু আ

৩৪২৬ : আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঘর হইতে কেউ বাইরে রাওয়ানা হওয়াকালে যদি বলে,

“আল্লাহ তাআলার নামে, আল্লাহ তাআলার উপরই আমি নির্ভর করলাম, আল্লাহতা আলার সাহায্য ব্যতীত বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারো নেই”,

তবে তাকে বলা হয় [আল্লাহ তাআলাই] তোমার জন্য যথেষ্ট, [অনিষ্ট হইতে] তুমি হিফাযাত অবলম্বন করেছ। আর তার হইতে শাইতান দূরে সরে যায়।

সহীহঃ মিশকাত তাহক্বীক্ব সানী [হাঃ ২৪৪৩], তালীকুর রাগীব [হাঃ ২/২৬৪], আল-কালিমুত তাইয়্যিব [হাঃ ৫৮/৪৯]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৩৫ঃ [ঘর হইতে বের হওয়ার সময় নাবী [সাঃআঃ] এর পঠিত দু আ]

৩৪২৭ : উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যখন নাবী [সাঃআঃ] ঘর হইতে বাইরে রাওয়ানা হইতেন তখন বলিতেনঃ

بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نَزِلَّ أَوْ نَضِلَّ أَوْ نَظْلِمَ أَوْ نُظْلَمَ أَوْ نَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيْنَا

বিস্মিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্না তাউজু বিকা মিন আন নাজিল্লা আও নাদিল্লা আও নাজলিমা আও নুজলামা আও নাজহালা আও ইউজহালা আলাইনা

“আল্লাহ তাআলার নামে, আল্লাহ তাআলার উপর আমি নির্ভর করলাম। হে আল্লাহ ! আমরা পদস্থলন হইতে কিংবা পথভ্রষ্ঠতা হইতে কিংবা যুলম করা হইতে কিংবা অত্যাচারিত হওয়া হইতে কিংবা অজ্ঞতাবশত কারো প্রতি মন্দ আচরণ হইতে বা আমাদের প্রতি কারো অজ্ঞতা প্রসূত আচরণ হইতে তোমার নিকট আশ্রয় চাই”।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৮৮৪]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৩৬ঃ বাজারে প্রবেশের দুয়া

৩৪২৮ : মুহাম্মাদ ইবনি ওয়াসি [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

আমি মক্কায় পৌঁছালে আমার ভাই সালিম ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] আমার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তার বাবা হইতে, তার দাদার সনদে আমার কাছে হাদীস রিওয়ায়াত করেন যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক বাজারে প্রবেশ করে বলে,

“আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি এক, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই, সকল ক্ষমতা তাহাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাহাঁর জন্য, তিনিই প্রাণ দান করেন ও মৃত্যু দেন, তিনি চিরজীবি, তিনি কক্ষনো মৃত্যুবরণ করবেন না, তাহাঁর হাতেই মঙ্গল এবং তিনিই সবসময় প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতার অধিকারী”,

তার জন্য আল্লাহ তাআলা দশ লক্ষ নেকী বরাদ্দ করেন, তার দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার দশ লক্ষ গুণ সম্মান বৃদ্ধি করেন।

হাসানঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ২২৩৫]। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি গারীব । এ হাদীস যুবাইর পরিবারের কোষাধ্যক্ষ আমর ইবনি দীনার সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে একই রকম রিওয়ায়াত করিয়াছেন । এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৩৪২৯ : সালিম ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদা হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাজারে গিয়ে বলে, “

আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি এক, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই, তিনিই সমস্ত কিছুর ক্ষমতার অধিকারী, সকল প্রশংসা তাহাঁর তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু দেন, তিনি চিরজীবি, তিনি কক্ষনো মৃত্যুবরণ করবেন না, তাহাঁর হাতেই কল্যাণ, সমস্ত কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান”,

তার জন্য আল্লাহ তাআলা তার জন্য দশ লক্ষ নেকী বরাদ্দ করেন, তার দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে একখানা ঘর তৈরি করেন।

হাসানঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-৩৭ঃ পীড়িত ব্যক্তি যে দু আ পাঠ করিবে

৩৪৩০ : আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন লোক

اَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার

বললে সে সময় তার প্রভু তার কথাটি সত্য বলে অনুমোদন দেন এবং বলেনঃ আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমিই মহান। আর যখন বান্দা বলে,

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ

লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু” [আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি এক],

তখন বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আমি এক। যখন বান্দা বলে,

اَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু” [আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন মাবূদ নেই, তিনি এক, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই],

তখন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, আমি এক, আমার কোন অংশীদার নেই। যখন বান্দা বলে,

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ

লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু” [আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন মাবূদ নেই, তাহাঁরই রাজত্ব, সমস্ত প্রশংসাও তাহাঁর],

তখন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, রাজত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমার জন্যই। যখন বান্দা বলে,

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّ

লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” [আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন মাবূদ নেই। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন অনিষ্ট বা উপকার করার ক্ষমতা কারো নেই],

তক্ষনি আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, আমি ছাড়া [আমার সহযোগিতা ব্যতীত] অকল্যাণ দূর করা ও মঙ্গল লাভ করার সামর্থ্য কারো নেই। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরো বলিতেনঃ যে লোক রোগাক্রান্ত অবস্থায় এই বাক্যগুলো পাঠ করিল, তারপর মৃত্যুবরণ করিল, জাহান্নামের আগুন তাকে ভক্ষণ করিবে না।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৭৯৪]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৩৮ঃ বিপদ্গ্রস্থ লোককে প্রত্যক্ষ করে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪৩১ : উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক কোন বিপদগ্রস্থ লোককে প্রত্যক্ষ করে বলে,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلاً إِلاَّ عُوفِيَ مِنْ ذَلِكَ الْبَلاَءِ كَائِنًا مَا كَانَ مَا عَاشَ

আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আফানি মিম্মাব তালাকা বিহি ওয়া ফাদ্দালানি আলা কাসির মিম্মান খলাক তাফদিলান

“সকল প্রশংসা আল্লাহ তা আলার জন্য, তিনি যে বিপদে তোমাকে জড়িত করিয়াছেন তা হইতে আমাকে হিফাযাতে রেখেছেন এবং তাহাঁর অসংখ্য সৃষ্টির উপর আমাকে সম্মান দান করিয়াছেন”,

সে তার মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত উক্ত অনিষ্ট হইতে হিফাযাতে থাকিবে । তা যে কোন বিপদেই হোক না কেন ।

হাসানঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৮৯২]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৩৪৩২ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক কোন রোগাক্রান্ত বা বিপদগ্রস্ত লোককে প্রত্যক্ষ করে বলে,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلاً لَمْ يُصِبْهُ ذَلِكَ الْبَلاَءُ

“সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি তোমাকে যে ব্যাধিতে আক্রান্ত করিয়াছেন, তা হইতে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তার অসংখ্য সৃষ্টির উপর আমাকে সম্মান দান করিয়াছেন”,

সে উক্ত ব্যাধিতে কক্ষনো আক্রান্ত হইবে না।

সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ [হাঃ ২৭৩৭]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৩৯ঃ মজলিস হইতে উঠে যাওয়ার দুয়া

৩৪৩৩ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক মজলিসে বসে প্রয়োজন ছাড়া অনেক কথা-বার্তা বলেছে, সে উক্ত মাজলিস হইতে উঠে যাওয়ার আগে যদি বলেঃ

اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ ‏.‏ إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ فِي مَجْلِسِهِ ذَلِكَ 

“হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য। আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই, তোমার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি ,

তাহলে উক্ত মজলিসে তার যে অপরাধ হয়েছিলো তা ক্ষমা করে দেয়া হইবে।

সহীহঃ মিশকাত [হাঃ ২৪৩৩]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪৩৪ : ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, প্রতিটি মাজলিসে হিসাব করে দেখা গেছে যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উক্ত মাজলিস হইতে উঠে যাওয়ার আগে এক শতবার বলিতেনঃ

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَىَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

“হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার তাওবা গ্রহণ কর। কারন তুমিই তাওবাহ কবুলকারী, ক্ষমাকারী”।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৮১৪]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৪০ঃ বিপদকালে আমাল করার দুয়া

৩৪৩৫ : ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আল্লাহর নাবী [সাঃআঃ] বিপদ কালে এই দুয়া পাঠ করিতেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَلِيُّ الْحَلِيمُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আলিয়্যুল হালিমু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুল আরসিল আজিম লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুস সামাওয়াতে ওয়াল আরদি ওয়া রব্বুল আরসিল কারিম (আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি পরম সহিষ্ণু [মহান] ও মহাজ্ঞানী। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন মাবূদ নেই, তিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবীর প্রভু এবং মহা মর্যাদাবান আরশের প্রভু)

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ৩৮৮৩], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪৩৬ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন ভয়াবহ বিপদে পড়লে আকাশে দিকে নিজ মাথা তুলতেনঃ

سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

সুবহানাল্লাহিল আজিম (মহান আল্লাহ খুবই পবিত্র)

আর যখন তিনি আকুতি সহকারে দুয়া করিতেন তখন বলিতেনঃ

 يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ

ইয়া হায়্যুল কায়্যুম (হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী)

অত্যন্ত দুর্বল, আলকালিমুত তায়্যিব [১১৯/৭৭], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। এই হাদীসটির তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

অনুচ্ছেদ-৪১ঃ কোন জায়গায় যাত্রাবিরতি করলে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪৩৭ : খাওলা বিনতুল হাকীম আস-সুলামিয়াহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলাল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ কোন লোক যদি কোন জায়গায় অবতরন করে বলে,

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ 

আউজু বি কালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সাররি মা খালাক লাম ইয়া দুররু হুসাইয়ু ( আমি আল্লাহ তাআলার সম্পূর্ণ বাক্যর দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করি তাহাঁর সকল সৃষ্টির ক্ষতি হইতে)

সে উক্ত জায়গা ত্যাগ করা পর্যন্ত কোন কিছুই তার অনিষ্ট করিতে পারবে না।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৫৪৭], মুসলিম। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৪২ঃ সফরে যাওয়ার সময় যে দুয়া পাঠ করিতে হয়

৩৪৩৮ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সফরে বের হইতেন, সে সময় প্রথমে সওয়ারীতে আরোহণ করিতেন, তারপর নিজের আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করিতেন। অধঃস্তন বর্ণনাকারী শুবাহ আঙ্গুল উঁচু করে ইশারা করে দেখিয়েছেন। তারপর রাসুলাল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ اللَّهُمَّ اصْحَبْنَا بِنُصْحِكَ وَاقْلِبْنَا بِذِمَّةٍ ‏.‏ اللَّهُمَّ ازْوِ لَنَا الأَرْضَ وَهَوِّنْ عَلَيْنَا السَّفَرَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ

হে প্রভু! সফরে তুমি আমার সঙ্গী এবং আমার [অনুপস্হিতিতে] আমার পরিবার –পরিজনের [আমার] প্রতিনিধি। হে আল্লাহ ! মঙ্গল সহকারে তুমি আমাদের সঙ্গী হও এবং তোমার জামানতে আমাদেরকে ফিরাও। হে আল্লাহ! মাটিকে [সফরের দীর্ঘ পথ] আমাদের জন্য সংকুচিত করে দাও এবং সফর আমাদের জন্য সহজ কর। হে আল্লাহ ! তোমার নিকট আমি সফরের ক্লান্তি হইতে এবং ফিরে আসার দুশ্চিন্তা ও ব্যর্থতা হইতে আশ্রয় প্রার্থনা করি “।

সহীহঃ সহীহ আবু দাউদ [হাঃ ২৩৩৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪৩৯ : আবদুল্লাহ ইবনিস সারজিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সফরে রাওয়ানা হইতেন , সে সময় বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ اللَّهُمَّ اصْحَبْنَا فِي سَفَرِنَا وَاخْلُفْنَا فِي أَهْلِنَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ وَمِنَ الْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْنِ وَمِنْ دَعْوَةِ الْمَظْلُومِ وَمِنْ سُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الأَهْلِ وَالْمَالِ

আলাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন ওয়া’সাইস সাফারি ওয়া কালাবারতল মুনকলাবি ওয়া মিনাল হাওরি বা’দাল কাওনি ওয়া মিন দা’ওয়াতিল মাজলুমি ওয়া মিন সুয়েল মাঞ্জারি ফিল আহলে ওয়াল মালা

“ হে আল্লাহ ! তুমি সফরে আমার সঙ্গী এবং আমার [অনুপস্হিতিতে] আমার পরিবার-পরিজনের তুমিই [আমার] স্হলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ ! আমাদের সফরে তুমি আমাদের সাথী হও এবং আমাদের পরিবার –পরিজনের জন্য আমাদের প্রতিনিধি হও। হে আল্লাহ ! তোমার কাছে আমরা সফরের ক্লান্তি , ফিরে আসার ব্যর্থতা , প্রাচুর্যের পরে রিক্ততা , নির্যাতিতের অভিশাপ এবং পরিবার –পরিজন ও মাল-সম্পত্তির প্রতি কু- দৃষ্টি হইতে তোমার নিকট আশ্রয় কামনা করি “।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৮৮৮] ,মুসলিম। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৪৩ঃ সফর হইতে ফিরে এসে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪৪০ : আল-বারাআ ইবনি আযিয [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সফর হইতে প্রত্যাবর্তন করে নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিতেনঃ

 آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ 

আ-য়িবুনা তা-য়িবুনা আবিদুনা লিরব্বানা হামিদুন (আমরা [সফর হইতে হিফাযাতে] ফিরে আসা ব্যক্তি , তাওবাহকারী , ইবাদাতকারী , আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী)

সহীহঃ সহীহ আবু দাউদ [হাঃ ২৩৩৯]। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ । এ হাদীস সুফিয়ান সাওরী আবু ইসহাক হইতে , তিনি আল-বারাআ [রাদি.] হইতে এই সনদে রিওয়ায়াত করিয়াছেন কিন্তু আর-রাবী ইবনিল বারাআ এর উল্লেখ করেননি । শুবাহর বর্ণনাটিই অনেক বেশি বিশুদ্ধ ।এ অনুচ্ছেদে ইবনি উমর , আনাস ও জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪৪১ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সফর হইতে ফিরে এসে মাদীনার প্রাচীরের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতেন এবং মাদীনার প্রতি মুহাব্বতের কারনে তাহাঁর উস্ট্রী দ্রুত হাঁকাতেন , আর অপর কোন পশু হলে তাও তাড়াতাড়ি চালাতেন।

সহীহঃ বুখারী ৮৭৪ নং হাদীসের সংক্ষেপিত। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৪৪ঃ কোন লোককে বিদায় দেয়ার সময় যে দুয়া পাঠ করিতে হয়

৩৪৪২ : ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন কোন লোককে নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বিদায় দেয়ার সময় তাকে নিজের হাতে ধরতেন এবং যতক্ষন পর্যন্ত সে নিজের হাত নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হইতে না ছাড়াতেন সে পর্যন্ত তিনিও তার হাত ছাড়তেন না। তিনি বলিতেনঃ

أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَآخِرَ عَمَلِكَ

আসতাওদিয়ুল্লাহি দিনিকা ওয়া আ¬মানাতাকা ওয়া আখিরা আমালিকা (তোমার দ্বীন , ঈমান ও সর্বশেষ আমলের ব্যাপারে আমি আল্লাহ তাআলাকে আমানতদার নিযুক্ত করলাম )।

সহীহঃ সহীহাহ ,[হাঃ ১৬,২৪৮৫] , আল-কালিমুত , তাইয়্যিব তাহক্বিক্ব সানী [হাঃ ১৬৯/১২২] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪৪৩ : সালিম [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

কোন লোক সফরের উদ্দেশে রাওয়ানা হলে ইবনি উমর [রাদি.] তাকে বলিতেন , আমার কাছে আস। আমি তোমাকে বিদায় সম্ভাষণ জানাব। যেভাবে রাসুলাল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমাদেরকে বিদায় সম্ভাষণ জানাতেন। তিনি বলিতেনঃ

أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ

আসতাওদিয়ুল্লাহি দিনিকা ওয়া আ¬মানাতাকা ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা (তোমার দ্বীন , ঈমান ও সর্বশেষ আমলের জন্য আমি আল্লাহ তাআলাকে যিম্মাদার করলাম )।

সহীহঃ প্রাগুক্ত। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৪৫ঃ অনুরুপ প্রসঙ্গ

৩৪৪৪ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন , নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছে এক লোক এসে বলিল , হে আলাহর রাসুল ! আমি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে পাথেয় দিন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তোমাকে তাক্বওয়ার পাথেয় দান করুন। সে বলিল, আরো বেশি দিন। তিনি বললেনঃ তোমার গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করুন। সে বলিল , আমার মাতা পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক ! আমাকে আরো বেশি দান করুন। তিনি বললেনঃ তিনি [আল্লাহ তাআলা] তোমার জন্য মঙ্গলকে সহজতর করুন , তুমি যেখানেই থাক।

হাসান সহীহঃ আল-কালিমুত , তাইয়্যিব তাহক্বিক্ব সানী [হাঃ ১৭০]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

অনুচ্ছেদ-৪৬ঃ [সফরকালে দুয়া চাওয়া]

৩৪৪৫ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি বলিল, হে আলাহর রাসুল ! আমি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি, অতএব উপদেশ দিন। তিনি বললেনঃ অবশ্যই তুমি আল্লাহ তাআলার ভয় [তাক্বওয়া] অবলম্বন করিবে এবং প্রতিতি উচ্চ জায়গায় যাওয়ার সময় তাকবীর ধ্বনি দিবে। যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল সে সময় রাসুলাল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ

اللَّهُمَّ اطْوِ لَهُ الأَرْضَ وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ

হে আল্লাহ ! তার পথের ব্যবধান কমিয়ে দাও এবং তার জন্য সফর সহজতর করে দাও “।

হাসানঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ২৭৭১]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-৪৭ঃ যানবাহনে আরোহণের সময় দুয়া পাঠ করা

৩৪৪৬ : আলী ইবনি রাবীআহ [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আলী [রাদি.] এর কাছে আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার নিকট আরোহণের জন্য একটি জন্তু আনা হল। তিনি পা দানীতে তার পা রেখে বলিলেন, বিসমিল্লাহ্‌ “। তারপর তিনি তার পিঠের উপর ঠিকমত বসার পর বলিলেন , আলহামদু লিল্লাহ্‌ “। তারপর বলিলেন , “ পবিত্র ও মহান তিনি যিনি একে আমাদের নিয়ন্ত্রনাধীন করিয়াছেন , তা না হলে আমরা একে বশীভূত করিতে সক্ষম ছিলাম না। অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাব “ –[সূরা আয-যুখরুখ ১৩—১৪]। এরপর তিনি “ আলহামদু লিল্লাহ “তিনবার ও “ আল্লাহু আকবর “ তিনবার বলিলেন এবং আরো বললেনঃ তুমি অত্যন্তঃ পবিত্র সত্তা , আমার উপর আমি অত্যাচার করেছি। অতএব তুমি আমাকে মাফ কর , কেননা তুমি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ মাফ করিতে পারে না।“ তারপর তিনি হাসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম , হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি কি কারনে হাসলেন? তিনি বলিলেন, রাসুলাল্লাহ [সাঃআঃ] কে আমি তা-ই করিতে দেখেছি যা আমি করলাম। তারপর তিনি হেসেছিলেন। আমি প্রশ্ন করেছিলাম , হে আল্লাহর রাসুল ! আপনি কি কারনে হাসলেন? তিনি বললেনঃ যখন বান্দা বলে , “হে আল্লাহ ! আমার অপরাধসমুহ ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ অপরাধ ক্ষমা করিতে পারে না” , সে সময় আল্লাহ তাআলা তার এ কথায় খুশি হন।

সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব [১৭২/১২৬] , সহীহ আবু দাউদ [হাঃ ২৩৪২]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪৪৭ : ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] যখন সফরে রাওয়ানা হইতেন তখন বাহনে আরোহণ করে তিনবার তাকবীর বলিতেন এবং আরো বলিতেনঃ “অতি পবিত্র ও মহান তিনি যিনি একে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করিয়াছেন, তা না হলে আমরা একে নিয়ন্ত্রণ করিতে সক্ষম ছিলাম না। অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাব”— [সূরা যুখরুফ ১৩-১৪]। তারপর তিনি বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমার এ সফরে আমি তোমার নিকট পুণ্য ও তাকওয়া এবং তোমার পছন্দনীয় কাজ করার তাওফীক প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমাদের সফরটি আমাদের জন্য সহজসাধ্য করে দাও এবং আমাদের জন্য পথের ব্যবধান সংকুচিত করে দাও। হে আল্লাহ! সফরে তুমিই আমাদের সঙ্গী এবং আমাদের পরিবার-পরিজনের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরে তুমি আমাদের বন্ধু এবং আমাদের পরিজনের প্রতিনিধি হয়ে যাও।” তিনি সফর হইতে পরিজনের কাছে প্রত্যাবর্তন করে বলিতেনঃ “ইনশা আল্লাহ আমরা প্রত্যাবর্তনকারী এবং তাওবাহকারী ও আমাদের রবের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী”।

সহীহঃ সহীহ আবু দাউদ [হাঃ ২৩৩৯], মুসলিম। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৪৮ঃ মুসাফিরের দুয়া প্রসঙ্গে যা উল্লেখ আছে

৩৪৪৮ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তিন লোকের দুয়া কুবুল করা হয়। নির্যাতিতের দুয়া, মুসাফিরের দুয়া এবং সন্তানদের উপর পিতার অভিশাপ।

হাসানঃ সহীহাহ [হাঃ ৫৯৮, ১৭৯৭]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-৪৯ঃ প্রচণ্ড বেগে বায়ু প্রবাহের কালে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪৪৯ : আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] প্রবল বেগে বায়ু প্রবাহিত হইতে দেখলে বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهَا وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসলুকা মিন খায়রি হা- ওয়া খায়রি মা- ফিহা ওয়া খায়রি মা- উরসেলাতু বিহি ওয়া আউজু বিকা মিন সাররি হা- ওয়া সাররি মা- ফিহা ওয়া সাররি মা- উরসেলাত বিহি (হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি এ বাতাসের মঙ্গল, এর মাঝে নিহিত মঙ্গল এবং যে মঙ্গলসহ এটা পাঠানো হয়েছে তা প্রার্থনা করি। আর এর ক্ষতিকর দিক, এর মাঝে নিহিত ক্ষতি এবং যে ক্ষতিসহ এটা পাঠানো হয়েছে তা হইতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি)।

সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ [হাঃ ২৭৫৭], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৫০ঃ বজ্রধ্বনি শুনে যে দুয়া পাঠ করিতে হইবে

৩৪৫০ :আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

আল্লাহুম্মা লা- তাক্তুলনা বি গজাবিকা ওয়া লা তুহলিকনা বি আজাবিকা ওয়া আফিনা কবলা জালিকা (হে আল্লাহ! তোমার গযব দিয়ে আমাদেরকে মেরে ফেলো না, তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করো না, বরং তার আগেই আমাদেরকে মাফ করে দাও)।

যঈফ, যঈফা [১০৪২], আল কালিমুত তায়্যিব [১৫৮/১১১], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-৫১ঃ নতুন চাঁদ দেখে যে দুয়া পড়তে হয়

৩৪৫১ : ত্বালহা ইবনি উবাইদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নতুন চাঁদ দেখার পর নাবী [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ أَهْلِلْهُ عَلَيْنَا بِالْيُمْنِ وَالإِيمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالإِسْلاَمِ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ

হে আল্লাহ! আমাদের জন্য চাঁদটিকে বারাকাতময় [নিরাপদ], ঈমান, নিরাপত্তা ও শান্তির বাহন করে উদিত করো। হে নতুন চাঁদ আল্লাহ তাআলা আমারও প্রভু, তোমারও প্রভু।

সহীহঃ সহীহাহ [হাঃ ১৮১৬], আল-কালিমুত তাইয়্যিব [১৬১/১১৪] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৫২ঃ রাগের আবির্ভাব হলে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪৫২ : মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] এর সামনে দুই লোক পরস্পরকে গালি গালাজ করে। এমনকি তাহাদের একজনের মুখমণ্ডলের রাগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠে। সে সময় নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ নিশ্চয় আমি এমন একটি বাক্য জানি, এ ব্যক্তিটি যদি তা উচ্চারণ করত তবে অবশ্যই তার ক্রোধ চলে যেত। তা হলঃ

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

আউজু বিল্লাহি মিনাস সাইতানের রাজিম (আমি বিতাড়িত শাইতান হইতে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি)

সহীহঃ রাওযুন নাযীর [হাঃ ৬৩৫], বুখারী [হাঃ ৬১১৫], মুসলিম [হাঃ ৮/৩০-৩১], সুলাইমান ইবনি সুরাদ হইতে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৫৩ঃ মন্দ স্বপ্ন দেখলে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪৫৩ : আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে তিনি বলিতে শুনেছেনঃ তোমাদের কেউ তার পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে থাকলে তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হইতে। অতএব সে যেন এজন্য আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে এবং যা সে দেখেছে তা অন্যের নিকট প্রকাশ করে। আর সে এর বিপরীত মন্দ স্বপ্ন দেখলে তা শাইতানের পক্ষ হইতে। অতএব সে যেন এর অনিষ্ট হইতে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং অন্য কারো নিকট তা ব্যক্ত না করে। তাহলে তাতে তার কোন অনিষ্ট হইবে না।

সহীহঃ তালীকুর রাগীব [হাঃ ২/২৬২], সহীহ আল-জামি [হাঃ ৫৪৯, ৫৫০], বুখারী। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৫৪ঃ বাগানে নতুন ফল প্রত্যক্ষ করলে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪৫৪ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাহাবাগণ [তাহাদের বাগানে] সর্বপ্রথম পাকা ফল দেখলে তা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে [হাদীয়াহ স্বরূপ] নিয়ে আসত। ফলটি নিজ হাতে নিয়ে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَمُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَأَنَا أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِهِ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَهُ

হে আল্লাহ! আমাদের ফলমূলে আমাদেরকে বারাকাত দাও, আমাদের শহরে আমাদেরকে বারাকাত দাও এবং আমাদের দাড়িপাল্লায় আমাদের বারাকাত দাও। হে আল্লাহ! ইবরাহীম নিশ্চয়ই তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু ও তোমার নাবী এবং আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নাবী। তোমার নিকট তিনি মক্কা ভূমির জন্য দুয়া করেছিলেন। তোমার নিকট আমিও মাদীনার জন্য দুয়া করছি, যেভাবে তিনি মক্কার জন্য তোমার নিকট দুয়া করেছিলেন এবং আরও সম-পর্যায়ের”।

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি কোন বালককে উপস্থিত দেখিতে পেলে ফলটি তাকে দিয়ে দিতেন।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৩২৯], মুসলিম। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৫৫ঃ খানা খাওয়ার সময় পাঠ করার দুয়া

৩৪৫৫ : ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ও খালিদ ইবনিল ওয়ালীদ [রাদি.] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সঙ্গে মাইমূনাহ [রাদি.]-এর কাছে গেলাম। আমাদের জন্য তিনি এক পাত্র দুধ নিয়ে এলেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] [তা হইতে] পান করিলেন। তাহাঁর ডান পাশে ছিলাম আমি এবং খালিদ ছিলেন তার বাম পাশে। তিনি আমাকে বললেনঃ এখন তোমার পান করার পালা। তবে তুমি চাইলে তোমার উপর খালিদকে অগ্রাধিকার দিতে পার। আমি বললাম, আপনার উচ্ছিষ্টে আমি আমার উপর কোন লোককে অগ্রাধিকার দিব না। তারপর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আল্লাহ তাআলা যাকে আহার করান সে যেন বলে,

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ

আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহি ওয়া আতইমনা খইরান মিনহু ( হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ খাদ্যে বারাকাত দাও এবং আমাদেরকে এর চাইতে উত্তম খাবার আহার করাও)

আর আল্লাহ তাআলা যাকে দুধ পান করান সে যেন বলে,

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ 

আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহি ওয়া রিজনা মিনহু (হে আল্লাহ! এ দুধে আমাদেরকে বারাকাত দাও এবং এর চাইতেও বেশি আমাদেরকে দান কর।)

এরপর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ একই সঙ্গে পান ও আহারের জন্য যথেষ্ট হওয়ার মত দুধের বিকল্প কোন খাবার নেই।

হাসানঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৩২২]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-৫৬ঃ খাবার শেষে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪৫৬ : আবু উমামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সামনে হইতে [খাবার শেষে] দস্তরখান তুলে নেয়া কালে তিনি বলিতেনঃ

الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مُوَدَّعٍ وَلاَ مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبُّنَا

আলহামদুলিলাহি হামদান কাসিরান তায়্যিবান মুবারাকনা ফিহি গাইরা মুওয়াদায়িন ওয়া লা মুসতাগনা আনহু রব্বানা (সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, পবিত্র ও বারাকাতময় বিপুল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তা কখনো ছাড়তে পারব না এবং তা হইতে অমুখাপেক্ষীও হইতে পারব না)।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩২৮৪], বুখারী। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪৫৭ : আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন খেতেন অথবা কিছু পান করিতেন, তখন বলিতেনঃ

 الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ

আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়া সাকানা ওয়া যাআলানা মুসলিমিন (সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌ তাআলার জন্য, যিনি আমাদেরকে খাবার খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন এবং মুসলমানদের অন্তর্গত করিয়াছেন)।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩২৮৩]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৩৪৫৮ : সাহল ইবনি মুআয ইবনি আনাস [রাদি.] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক আহার করার পর বলিল,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ

আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানি হাজা ওয়া রজা কানিহি মিন গইরি হাওলিন মিন্নি ওয়া লা কুওওয়াতিন (সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি আমাকে এটা আহার করিয়েছেন এবং এটা আমাকে রিযক দিয়েছেন, আমার তা লাভ করার প্রচেষ্টা বা শক্তি ব্যতীত),

তার আগের সকল অপরাধ ক্ষমা করা হয়।

হাসানঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩২৮৫]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-৫৭ঃ গাঁধার চীৎকার শুনে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪৫৯ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা মোরগের ডাক শুনতে পেলে সে সময় আল্লাহ তাআলার কাছে তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করিবে। কেননা সে ফেরেশতাকে প্রত্যক্ষ করেছে। আর যখন তোমরা গাধার চীৎকার শুনবে তখন আল্লাহ তাআলার নিকট শাইতান হইতে আশ্রয় প্রার্থনা করিবে। কেননা সে শাইতানকে দেখেছে।

সহীহঃ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ও অন্যান্য দুয়া

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ও অন্যান্য দুয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ …

Leave a Reply

%d bloggers like this: