সফরে চলা, বিশ্রাম নিতে অবতরণ করা, রাত কাটানো

সফরে চলা, বিশ্রাম নিতে অবতরণ করা, রাত কাটানো

সফরে চলা, বিশ্রাম নিতে অবতরণ করা, রাত কাটানো >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ১৬৮: সফরে চলা, বিশ্রাম নিতে অবতরণ করা, রাত কাটানো এবং সফরে ঘুমানোর আদব-কায়দা। রাতে পথচলা মুস্তাহাব, সওয়ারী পশুদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করা এবং তাহাদের বিশ্রামের খেয়াল রাখা। যে তাহাদের অধিকারের ব্যাপারে ত্রুটি করে তাকে তাহাদের অধিকার আদায়ের নির্দেশ দেওয়া। সওয়ারী সমর্থ হলে আরোহীর নিজের পিছনে অন্য কাউকে বসানো বৈধ।

1/969 عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «إِذَا سَافَرْتُمْ فِي الخِصْبِ، فَأَعْطُوا الإبلَ حَظَّهَا مِنَ الأَرْضِ، وَإِذَا سَافَرْتُمْ فِي الجَدْبِ، فَأَسْرِعُوا عَلَيْهَا السَّيْرَ، وَبَادِرُوا بِهَا نِقْيَهَا، وَإِذَا عَرَّسْتُمْ، فَاجْتَنِبُوا الطَّرِيقَ ؛ فَإنَّهَا طُرُقُ الدَّوَابِّ، وَمَأوَى الهَوَامِّ بِاللَّيْلِ ». رواه مسلم

১/৯৬৯। আবূ হুরাইরা রাঃআঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যখন তোমরা সবুজ-শ্যামল ঘাসে ভরা যমীনে সফর করিবে, তখন উটকে তার যমীনের অংশ দাও [অর্থাৎ কিছুক্ষণ চরতে দাও]। আর যখন তোমরা ঘাস-পানিবিহীন যমীনে সফর করিবে, তখন তার উপর চড়ে দ্রুত চলো এবং তার শক্তি শেষ হওয়ার পূর্বেই গন্তব্যস্থানে পৌঁছে যাও। আর যখন তোমরা রাতে বিশ্রামের জন্য কোন স্থানে অবতরণ করিবে, তখন আম রাস্তা থেকে দূরে থাকো। কারণ, তা রাতে [হিংস্র] জন্তুদের রাস্তা এবং [বিষাক্ত] পোকামাকড়ের আশ্রয় স্থল।’’ [মুসলিম] [1]

2/970 وَعَنْ أَبي قَتَادَةَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ، فَعَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينهِ، وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهُ، وَوَضَعَ رَأسَهُ عَلَى كَفِّهِ . رواه مسلم

২/৯৭০। আবূ ক্বাতাদাহ রাঃআঃ বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ যখন সফরে থাকতেন এবং রাতে বিশ্রামের জন্য কোথাও অবতরণ করিতেন, তখন তিনি ডান পার্শ্বে শয়ন করিতেন। আর তিনি ফজরের কিছুক্ষণ পূর্বে বিশ্রাম নিলে তার হাতটা খাড়া করে হাতের চেটোর উপর মাথা রেখে আরাম করিতেন।’ [মুসলিম][2] 

আলেমগণ বলেন, ‘তিনি হাত খাড়া রেখে আরাম করিতেন, যাতে গভীর নিদ্রা এসে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত অথবা প্রথম ওয়াক্ত ছুটে না যায়।’

3/971 وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « عَلَيْكُمْ بِالدُّلْجَةِ، فَإنَّ الأرْضَ تُطْوَى بِاللَّيْلِ ». رواه أَبُو داود بإسناد حسن

৩/৯৭১। আনাস রাঃআঃ বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা রাতে সফর কর। কেননা, রাতে যমীনকে গুটিয়ে দেওয়া হয়।’’ [আবূ দাউদ, হাসান সূত্রে]  [3] [অর্থাৎ রাস্তা কম মনে হয়।]

4/972 وَعَنْ أَبي ثَعْلَبَةَ الخُشَنِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ النَّاسُ إِذَا نَزَلُوا مَنْزِلاً تَفَرَّقُوا فِي الشِّعَابِ وَالأوْدِيَةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « إنَّ تَفَرُّقَكُمْ فِي هَذِهِ الشِّعَابِ وَالأَوْدِيَةِ إِنَّمَا ذَلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ!» فَلَمْ يَنْزِلُوا بَعْدَ ذَلِكَ مَنْزِلاً إِلاَّ انْضَمَّ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ. رواه أَبُو داود بإسناد حسن

৪/৯৭২। আবূ সা‘লাবা খুশানী রাঃআঃ বলেন, লোকেরা যখন কোন স্থানে অবতরণ করিতেন, তখন তাঁরা গিরিপথ ও উপত্যকায় ছড়িয়ে যেতেন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, ‘‘তোমাদের এ সকল গিরিপথে ও উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত হওয়া শয়তানের কাজ।’’ এরপর তাঁরা যখনই কোন মঞ্জিলে অবতরণ করিতেন, তখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে থাকতেন। [আবূ দাউদ] [4]

5/973 وَعَنْ سَهلِ بنِ عَمرٍو وَقِيلَ: سَهلِ بنِ الرَّبِيعِ بنِ عَمرٍو الأَنصَارِي المَعرُوفِ بِابنِ الحَنظَلِيَّةِ، وَهُوَ مِن أَهلِ بَيعَةِ الرِّضْوَانِ رضي الله عنه، قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ بِبَعِيرٍ قَدْ لَحِقَ ظَهْرُهُ بِبَطْنِهِ، فَقَالَ: «اِتَّقُوا اللهَ فِي هَذِهِ البَهَائِمِ المُعجَمَةِ، فَارْكَبُوهَا صَالِحَةً، وَكُلُوهَا صَالِحَةً». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

৫/৯৭৩।  সাহল ইবনি আমর রাঃআঃ মতান্তরে  সাহল ইবনি রাবী ইবনি আমর রাঃআঃ আনসারী –যিনি ইবনুল হানযালিয়্যাহ নামে প্রসিদ্ধ এবং ইনি বায়আতে রিযওয়ানে অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে একজন—তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ একটা উটের পাশ দিয়ে গেলেন, যার পিঠটা [দুর্বলতার কারণে] পেটের সাথে লেগে গিয়েছিল। [তা দেখে] তিনি বলিলেন, ‘‘তোমরা এ সব অবলা জন্তুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। সুতরাং তোমরা তাহাদের সুস্থ থাকা অবস্থায় আরোহণ কর এবং তাহাদের সুস্থ থাকা অবস্থায় মাংস খাও।’’ [আবু দাঊদ, বিশুদ্ধ সূত্রে][5]

6/974 وَعَنْ أَبي جَعفَرٍ عَبدِ اللهِ بنِ جَعفَرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: أَردَفَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ خَلْفَهُ، وَأسَرَّ إليَّ حَدِيثاً لاَ أُحَدِّثُ بِهِ أحَداً مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ أحَبَّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِحاجَتِهِ هَدَفٌ أَوْ حَائِشُ نَخْلٍ . يَعنِي: حَائِطَ نَخْلٍ . رواه مسلم هكَذَا مُختصراً .

وزادَ فِيهِ البَرْقَانِي بِإِسنَادِ مُسلِمٍ – بَعدَ قَوْلِهِ: حَائِشُ نَخْلٍ – فَدَخَلَ حَائِطاً لِرَجُلٍ مِنَ الأنْصَارِ، فَإِذَا فِيهِ جَمَلٌ، فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللهِ ﷺ جَرْجَرَ وَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ، فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ فَمَسَحَ سَرَاتَهُ – أيْ: سِنَامَهُ – وَذِفْرَاهُ فَسَكَنَ، فَقَالَ: « مَنْ رَبُّ هَذَا الجَمَلِ ؟ لِمَنْ هَذَا الجَمَلُ ؟ » فَجَاءَ فَتَىً مِنَ الأنْصَارِ، فَقَالَ: هَذَا لِي يَا رَسُولَ اللهِ . قَالَ: « أَفَلاَ تَتَّقِي اللهَ فِي هَذِهِ البَهِيمَةِ الَّتِي مَلَّكَكَ اللهُ إيَّاهَا ؟ فَإنَّهُ يَشْكُو إلَيَّ أنَّكَ تُجِيعُهُ وتُدْئِبُهُ ». رواه أَبُو داود كرواية البرقاني .

৬/৯৭৪। আবূ জা‘ফর আব্দুল্লাহ ইবনি জা‘ফর রাঃআঃ বলেন, ‘একদা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ আমাকে সওয়ারীর উপর তাহাঁর পিছনে বসালেন এবং আমাকে তিনি একটি গোপন কথা বলিলেন, যা আমি কাউকে বলব না। আর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ উঁচু জায়গা [দেওয়াল, ঢিবি ইত্যাদি] অথবা খেজুরের বাগানের আড়ালে মল-মূত্র ত্যাগ করা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করিতেন।’ [ইমাম মুসলিম এটিকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বারক্বানী এতে মুসলিমের সূত্রে বর্ধিত আকারে ‘খেজুরের বাগান’ শব্দের পর বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এক আনসারীর বাগানে প্রবেশ করে সেখানে একটা উট দেখিতে পেলেন। উটটা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে দেখে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল এবং তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। নবী সাঃআঃ তাহাঁর কাছে এসে তার কুঁজে এবং কানের পিছনের অংশে হাত ফিরালেন, ফলে সে শান্ত হল। তারপর তিনি বলিলেন, ‘‘এই উটের মালিক কে? এই উটটা কার?’’ অতঃপর আনসারদের এক যুবক এসে বলিল, ‘এটা আমার হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বলিলেন, ‘‘তুমি কি এই পশুটার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না, আল্লাহ তোমাকে যার মালিক বানিয়েছেন? কারণ, সে আমার নিকট অভিযোগ করছে যে, তুমি তাকে ক্ষুধায় রাখ এবং [বেশি কাজ নিয়ে] ক্লান্ত করে ফেলো!’’ [আবু দাঊদ][6]

7/975 وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا إِذَا نَزَلْنَا مَنْزِلاً، لاَ نُسَبِّحُ حَتَّى نَحُلَّ الرِّحَالَ . رواه أَبُو داود بإسناد عَلَى شرط مسلم

৭/৯৭৫। আনাস রাঃআঃ বলেন, ‘আমরা যখন [সফরে] কোন মঞ্জিলে অবতরণ করতাম, তখন সওয়ারীর পালান নামাবার পূর্বে নফল নামায পড়তাম না।’ [আবূ দাঊদ, মুসলিমের শর্তে] [7] 

অর্থাৎ আমরা নামাযের প্রতি আগ্রহী হওয়া সত্ত্বেও সওয়ারীর পিঠ থেকে পালান নামিয়ে তাকে আরাম না দেওয়ার আগে নামায পড়তে শুরু করতাম না।


[1] মুসলিম ১৯২৬, তিরমিযী ২৮৫৮, আবূ দাউদ ২৫৬৯, আহমাদ ৮২৩৭, ৮৭০০

[2] মুসলিম ৬৮৩, আহমাদ ২২০৪০, ২২১২৫

[3] আবূ দাউদ ২৫৭১

[4] আবূ দাউদ ২৬২৮, আহমাদ ২৭২৮২

[5] আবূ দাউদ ২৫৮৩, ২৫৮৪, তিরমিযী ১৬৯১, নাসায়ী ৫৩৭৪, দারেমী ২৪৫৭

[6] মুসলিম ৩৪২, ২৪২৯, আবূ দাউদ ২৫৪৯, ইবনু মাজাহ ২৪০, আহমাদ ১৭৪৭, দারেমী ৬৬৩, ৭৫৫

[7] আবূ দাউদ ২৫৫১

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply