সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা [ইত্যাদি] চিবিয়ে তাহাঁর মুখে দেয়া

সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা [ইত্যাদি] চিবিয়ে তাহাঁর মুখে দেয়া

সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা [ইত্যাদি] চিবিয়ে তাহাঁর মুখে দেয়া >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৫. অধ্যায়ঃ সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা [ইত্যাদি] চিবিয়ে তাহাঁর মুখে দেয়া এবং এ উদ্দেশে তাকে কোন নেককার ব্যক্তির নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব; জন্মের দিন নাম রাখা জায়িয; আব্দুল্লাহ এবং ইবরাহীম ও অন্যান্য নবীগণের নামে নামকরণ করা মুস্তাহাব

৫৫০৫

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনি আবু তাল্‌হাহ্‌ আনসারী এর জন্মকালে আমি তাঁকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর দরবারে নিয়ে গেলাম। সে সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্বীয় গায়ে একটি আল্খাল্লা জড়িয়ে তাহাঁর উটের গায়ে তৈল মালিশ করছিলেন। তিনি প্রশ্ন করিলেন, তোমার সাথে খেজুর আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর আমি তাহাঁর হাতে কয়েকটি খেজুর দিলাম। তিনি তাহাঁর মুখে জড়িয়ে দিয়ে চিবালেন। তারপর শিশুটির মুখ ফাঁক করে তার মুখের ভিতরে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগল। সে সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আনসারীদের খেজুরের প্রতি ভালবাসা এবং তিনি তাহাঁর নাম রাখলেন, আব্দুল্লাহ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪২৭, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৪৯]

৫৫০৬

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু তালহাহ্‌ [রাদি.] এর এক পুত্র সন্তান রোগগ্রস্ত ছিল। [একদিন] আবু তালহাহ্‌ [রাদি.] [তাহাঁর কর্মে] বের হলো এদিকে তাহাঁর বাচ্চাটি মারা যায়। যখন আবু তালহাহ্‌ [রাদি.] ফিরে আসলেন, তিনি [স্ত্রীকে] প্রশ্ন করিলেন, আমার সন্তান কি করছে? [স্ত্রী] উন্মু সুলায়ম [রাদি.] বলিলেন, সে পুর্বের চেয়ে অধিকতর শান্ত। তারপর তিনি তাঁকে রাতের খাদ্য দিলেন, তিনি তা খেলেন, তারপর তার সাথে মিলিত হলেন। তারপর তিনি অবসর হলে উন্মু সুলায়ম [রাদি.] বলিলেন, শিশুটিকে দাফন করে এসো। যখন সকাল হলো আবু তালহাহ্‌ [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর দরবারে এসে তাঁকে [সব] ঘটনা অবহিত করিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তোমরা কি গতরাতে মিলিত হয়েছো? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি [দুআ করে] বলিলেন, হে আল্লাহ! তাদের দুজনের জন্যে বারাকাত দিন। তারপর তাহাঁর স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করিলেন। সে সময় আবু তালহাহ্‌ [রাদি.] আমাকে বলিলেন, তাকে [কোলে] তুলে নবী [সাঃআঃ] এর দরবারে নিয়ে যাও। তাকে নিয়ে রসূল [সাঃআঃ] এর নিকট আসলেন। উন্মু সুলায়ম [রাদি.] তাহাঁর সঙ্গে কতক খেজুরও দিলেন। রসূলুলাহ [সাঃআঃ] তাকে [শিশুটিকে] কোলে নেন এবং জিজ্ঞেস করিলেন, তার সাথে কিছু আছে কি? তাঁরা বললো, হ্যাঁ, কয়েকটি খেজুর। তখন নবী [সাঃআঃ] সেগুলো বের করিলেন ও চিবালেন। তারপর তা তাহাঁর মুখ হইতে নিলেন এবং বাচ্চাটির মুখের মধ্যে দিলেন। এরপর তাকে তাহনীক করে তাহাঁর জন্যে দুআ করিলেন এবং তার নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪২৮, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৫০]

৫৫০৭

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মাদ ইবনি বাশ্‌শার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … আনাস [রাদি.] হইতে এ ঘটনা সহকারে রাবী ইয়াযীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪২৯, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৫১]

৫৫০৮

আবু মুসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার একটি পুত্র সন্তান ভুমিষ্ঠ হলে আমি তাকে নিয়ে নবী [সাঃআঃ] এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইব্‌রাহীম এবং একটি খেজুর চিবিয়ে তাহাঁর মুখে দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩০, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৫২]

৫৫০৯

উরওয়াহ্‌ ইবনি যুবায়র ও ফাতিমাহ্‌ বিনতু মুনযির ইবনি যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তাঁরা বলেন, আসমা বিনতু আবু বাক্‌র [রাদি.] যে সময় হিজরাত করিলেন, সে সময় তিনি আব্দুল্লাহ ইবনি যুবায়র [রাদি.] কে পেটে ধারণ করছিলেন। কুবায় পৌছলে তিনি আব্দুল্লাহকে প্রসব করিলেন। তারপর প্রসবের পর তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর দরবারে গেলেন যাতে তিনি তাকে [নবজাতককে] খেজুর চিবিয়ে বারাকাত দেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাচ্চাটিকে তাহাঁর নিকট হইতে নিয়ে নিজের কোলে রাখলেন। এরপর একটি খেজুর নিয়ে আসলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশা [রাদি.] বলেন, তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত খুঁজে যোগাড় করিতে আমাদের কিছু সময় দেরী হলো। তারপর তিনি তা চিবিয়ে নিজ মুখে থেকে তার মুখের ভিতরে দিলেন। অতএব তাহাঁর পেটে প্রথম যা ঢুকল তা ছিল রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর লালা। আসমা [রাদি.] আরও বলেছেন, তারপর তিনি তাকে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তার জন্যে দুআ করিলেন, আর তার নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ। তারপর সাত কিংবা আট বছর বয়সে সে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর দরবারে বাইআত হওয়ার জন্য এলো। [পিতা] যুবায়র [রাদি.] তাকে তা করার উপদেশ দিয়েছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে এগিয়ে আসতে দেখে মুচকি হাসলেন। তারপর তাকে বাইআত করে নিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৫৩]

৫৫১০

আসমা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি মাক্কায় [থাকাকালে] আব্দুল্লাহ ইবনি যুবায়র [রাদি.]-কে গর্ভে ধারণ করেন। তিনি বলেন, আমি [মক্কা থেকে] মাদীনায় [হিজরাতের উদ্দেশ্যে] বের হলাম। সে সময় আমার গর্ভকাল পূর্ণ হয়ে আসছে। আমি মাদীনায় এসে কুবায় গমন করলাম এবং তাঁকে প্রসব করলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর খিদমাতে গেলাম। তিনি তাকে [নবজাতককে] তাহাঁর কোলে রাখলেন, এরপর একটি খেজুর আনিয়ে তা চিবালেন, অতঃপর তাহাঁর মুখ থেকে লালাসহ তার [বাচ্চাটির] মুখে দিলেন। অতএব রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর লালাই ছিল প্রথম খাদ্য, যা তার পেটে ঢুকলো। অতঃপর খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দেয়ার পর তার জন্য দুআ করিলেন এবং তাকে বারাকাত [এর দুআ] দিলেন। এ সন্তানই ছিল [মাদীনায়] হিজরাতের পর ইসলামের প্রথম নবজাতক। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩২, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৫৪]

৫৫১১

আসমা বিনতু আবু বাক্‌র সিদ্দীক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনি যুবায়র [রাদি.] কে গর্ভে ধারণ করে হিজরাত করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর দরবারে পৌছলেন। অতঃপর উসামাহ্‌ [রাদি.] এর হাদীসের অবিকল উল্লেখ করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৩, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৫৫]

৫৫১২

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর দরবারে [নবজাতক] সন্তানদের নিয়ে আসা হত। তাদের জন্য তিনি বারাকাতের দুআ করিতেন এবং খেজুর চিবিয়ে তাদের মুখে দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৪, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৫৬]

৫৫১৩

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনি যুবায়রকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর দরবারে [নবজাতক] নিয়ে আসলাম তাকে তাহনীক করার জন্য। অতঃপর আমরা একটি খেজুর চাইলাম। তবে তা সংগ্রহ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়লো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৫, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৫৭]

৫৫১৪

সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুনযির ইবনি আবু উসায়দ [রাদি.] কে তাহাঁর জন্মের সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট আনা হলো। নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর রানের উপরে তাকে রাখলেন। আবু উসায়দ [রাদি.] [পাশে] উপবিষ্ট। নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর সামনে কোন বিষয় মনোযোগ দিলেন। আবু উসায়দ [রাদি.] তার সন্তানের ব্যাপারে [কাউকে] আদেশ করিলেন। তাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর রানের উপর থেকে উঠিয়ে নিয়ে তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিলো। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সজাগ হলেন এবং বলিলেন, বাচ্চাটি কোথায়? আবু উসায়দ [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনি প্রশ্ন করিলেন, তার নাম কী? তারা বলিল অমুক- হে আল্লাহর রসূল! তিনি বলিলেন, না; বরং তাহাঁর নাম মুনযির। এভাবে তিনি সেদিন থেকে তাহাঁর নাম মুনযির রেখে দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৬, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৫৮]

৫৫১৫

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মানুষের মাঝে চরিত্রগুণে সর্বোত্তম ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল, যাকে আবু উমায়র বলে সম্বোধন করা হতো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি অনুমান করি তিনি বলেছিলেন যে, সে দুধ ছাড়ানো বয়সের ছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখনই [আমাদের ঘরে] আসতেন, তখন তাকে দেখে বলিতেন, হে আবু উমায়র! কি করেছো নুগায়র [চড়ূইছানা]? এ কথা বলে তিনি তাহাঁর সঙ্গে খেলা করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৩৭, ইসলামিক সেন্টার-৫৪৫৯]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply