নতুন লেখা

দানে সন্তানদের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেয়া মাকরুহ

দানে সন্তানদের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেয়া মাকরুহ

দানে সন্তানদের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেয়া মাকরুহ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ দানে সন্তানদের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেয়া মাকরুহ

৪০৬৯

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তাহাঁর পিতা তাঁকে সঙ্গে করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট আসেন। তারপর বলেন যে, আমি আমার এ পুত্রকে আমার একটি গোলাম দান করেছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমার সকল সন্তানকে কি এভাবে দান করেছো? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তা হলে তুমি তা ফিরিয়ে নাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩২, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩১]

৪০৭০

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট আসেন এবং বলেন যে, আমি আমার এ পুত্রকে একটি গোলাম প্রদান করেছি। তিনি বলিলেন, তোমার সকল পুত্রকে দান করেছ কি? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে তা ফিরিয়ে নাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩২]

৪০৭১

আবু বাকর ইবনি আবু শাইবাহ্, ইসহাক্ ইবনি ইবরাহীম ও ইবনি আবু উমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইবনি উইয়াইনাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এবং কুতাইবাহ্ ও ইবনি রুমহ্, [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] লায়স ইবনি সাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে, হারমালাহ্ ইবনি ইয়াহ্ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে, ইসহাক্ ইবনি ইবরাহীম ও আব্দ ইবনি হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে, তাঁরা সকলেই যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইউনুস ও মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর বর্ণনায় [[আরবী]] এবং লায়স ও ইবনি উয়াইনাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর বর্ণনায় [[আরবী]] এবং মুহাম্মাদ ইবনি নুমান ও হুমায়দ ইবনি আবদুর রহমান থেকে লায়স এর বর্ণনায় “বাশীর নুমানকে সাথে নিয়ে আসে” বলা হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৩]

৪০৭২

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তাঁকে তাহাঁর পিতা একটি গোলাম দান করেন। নবী [সাঃআঃ] তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, এ গোলামটি কিসের? তিনি বলিলেন, একে আমার পিতা আমাকে দান করিয়াছেন। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহাঁর সকল ভাইদেরকে তুমি দিয়েছো কি, যেভাবে একে দিয়েছো? তিনি বলিলেন, না। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে তা ফিরিয়ে নাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৪]

৪০৭৩

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা তার সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করেন। আমার মা আম্‌রাহ্‌ বিনতু রাওয়াহা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিলেন, আমি সন্তুষ্ট হইতে পারছি না, যতক্ষণ না আপনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে সাক্ষী রাখেন। এরপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবী [সাঃআঃ]- এর নিকট আসেন, আমার দানের উপর তাঁকে সাক্ষী রাখার জন্যে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বলিলেন, এরূপ কাজ কি তুমি তোমার আর সব পুত্রদের সঙ্গে করেছ? তিনি বলিলেন, না। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার সন্তানদের মধ্যে ন্যায় বিচার কর। তখন আমার পিতা চলে আসেন এবং সে দান ফিরিয়ে নেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৫]

৪০৭৪

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাহাঁর মা বিনতু রাওয়াহা [রাদি.] তাহাঁর পিতার নিকট স্বীয় পুত্রের জন্যে তাহাঁর সম্পদ থেকে কিছু দান করার অনুরোধ করিলেন। এক বছর যাবৎ তিনি এ ব্যাপারে গড়িমসি করেন। পরে তা দেয়ার ইচ্ছা জাগল। বিনতু রাওয়াহা [রাদি.] বলিলেন, আমার পুত্রকে যা দিবেন তার উপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে সাক্ষী না রাখা পর্যন্ত আমি খুশি হবো না। তখন আমার পিতা আমার হাত ধরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট আসলেন। সে সময় আমি বালক ছিলাম। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এর মা বিনতু রাওয়াহা চায় যে, আমি তাহাঁর পুত্রকে যা দান করেছি আপনাকে তার সাক্ষী রাখি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে বাশীর! এ ছাড়া তোমার কি আর কোন পুত্র আছে? বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি কি তাদের সকলকে এরূপ দান করেছ? তিনি বলিলেন, না। তখন তিনি বলিলেন, তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি যুল্‌মের ব্যাপারে সাক্ষী হই না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৬]

৪০৭৫

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, এ ছাড়া কি তোমার আরও পুত্র আছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাদের সবাইকে কি এভাবে দান করেছ? বলিলেন, না। তিনি বললেনঃ তা হলে আমি যুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হবো না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৭]

৪০৭৬

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পিতাকে বলিলেন, আমাকে অন্যায় কাজের ব্যাপারে সাক্ষী রেখো না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৮]

৪০৭৭

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর উদ্দেশে রওয়ানা করিলেন। তারপর বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল [সাঃআঃ]! আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি নুমানকে আমার সম্পদ থেকে অমুক অমুক বস্তু দান করেছি। তিনি বলিলেন, তোমার সকল পুত্রদেরও কি তুমি তা দান করেছ, যেরূপ নুমানকে দান করেছ? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এর সাক্ষী রাখো। তারপর বলিলেন, তুমি কি এটা চাও যে, তারা সবাই তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে এরূপ করো না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪০, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৯]

৪০৭৮

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে কোন এক জিনিস দান করেন। পরে তিনি আমাকে সাথে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট গমন করেন তাঁকে সাক্ষী রাখার জন্যে। তিনি বলিলেন, তোমার সকল পুত্রকে কি এভাবে দান করেছ? তিনি [আমার পিতা] বলিলেন, না। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি কি তাদের থেকে উত্তম ব্যবহার আশা করো না? যেমন আশা করো এর থেকে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে আমি সাক্ষী হবো না।

ইবনি আওন বলেন, আমি এ হাদীসটি মুহাম্মাদের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায় বিচার করো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪১, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪০]

৪০৭৯

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বাশীরের স্ত্রী তাকে বলেন, আমার পুত্রকে আপনার গোলামটি দান করে দিন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে আমার পক্ষে সাক্ষী রাখুন। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট এসে বলিলেন, অমুকের কন্যা [আমার স্ত্রী] আমার কাছে আবেদন করেছে, যেন আমি তার পুত্রকে আমার গোলামটি দান করে দেই। আর সে বলেছে, রসূল্লুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে আমার পক্ষে সাক্ষী করুন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তার কি আরও ভাই আছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তাদের সকলকে কি প্রদান করেছ, যেরূপ ওকে দিচ্ছ? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে এটি সঠিক কাজ হইবে না। আর অন্যায় কাজে আমি সাক্ষী হব না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪২, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪১]

About Muslim

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: