সদাচরণ বিষয়ক উপদেশ মুলক গুরুত্তপূর্ণ হাদিস

সদাচরণ বিষয়ক উপদেশ মুলক গুরুত্তপূর্ণ হাদিস

সদাচরণ বিষয়ক উপদেশ মুলক গুরুত্তপূর্ণ হাদিস , এই অধ্যায়ে মোট (২০০-২১৬) =১৭টি হাদীস >> উপদেশ হাদিস এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-১৪ঃ সদাচরণ

পরিচ্ছেদঃ সদাচরণ

২০০. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, আল্লাহ কোমল, তিনি কোমলতাকে ভালবাসেন। আর তিনি কোমলতার প্রতি যত অনুগ্রহ করেন, কঠোরতা এবং অন্য কোন আচরণের প্রতি তত অনুগ্রহ করেন না।

মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে, একদা রাসূল [সাঃআঃ] আয়েশা [রাদি.]-কে বলেন, কোমলতা নিজের জন্য বাধ্যতামূলক করে নাও এবং কঠোরতা ও নির্লজ্জতা হইতে নিজেকে বাঁচাও। কারণ যাতে নম্রতা ও কোমলতা থাকে তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয়। আর যাতে কোমলতা থাকে না, তা দোষণীয় হয়ে পড়ে

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৫০৬৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০১. জারীর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

জারীর [রাদি.] নবী করীম [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যাকে কোমলতা ও নম্রতা হইতে বঞ্চিত করা হয়, তাকে যাবতীয় কল্যাণ হইতে বঞ্চিত করা হয়

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৫০৬৯]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০২. ইবনি ওমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] এক আনছারী ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সে তার ভাইকে লজ্জা করার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছিল। তখন রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, তাকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা হল ঈমানের অংশ

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৫০৭০]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০৩. ইমরান ইবনি হুছায়েন [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, লজ্জা কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসে না। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, লজ্জার সবকিছুই কল্যাণ

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৫০৭১]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০৪. ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, পূর্ববর্তী নবীগণ হইতে লোকেরা যা পেয়েছে এবং আজও যা বিদ্যমান তা হল যখন তোমার লজ্জা থাকিবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করিতে পারবে

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/৫০৭২]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০৫. নাওয়াস ইবনি সামআন আল-আনছারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একদা আমি রাসূল [সাঃআঃ]-কে নেকী ও পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, নেকী হল উত্তম চরিত্র আর পাপ হল যে কাজ তোমার অন্তরে সংশয় সৃষ্টি করে এবং ঐ কাজটি তুমি জনসমাজে প্রকাশ হওয়া অপসন্দ কর [মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৫০৭৩]।

এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০৬. আব্দুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই আমার কাছে অধিক প্রিয়, যার চরিত্র ভাল

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/৫০৭৪]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০৭. আব্দুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সর্বপেক্ষা উত্তম, যে চরিত্রের দিক দিয়ে উত্তম

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৫০৭৫]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০৮. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, যাকে নম্রতার কিছু অংশ প্রদান করা হয়েছে তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের বিরাট কল্যাণের অংশ দেওয়া হয়েছে। আর যাকে সেই কোমলতা হইতে বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে উক্ত ইহকাল ও পরকালের বিরাট কল্যাণ হইতে বঞ্চিত করা হয়েছে

[শরহু সুন্নাহ, মেশকাত হাদিস/৫০৭৬]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০৯. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, লজ্জা ঈমানের অংশ, আর ঈমানের ফলাফল জান্নাত। পক্ষান্তরে নির্লজ্জতা দুশ্চরিত্রের অংশ, আর দুশ্চরিত্রতার পরিণতি জাহান্নাম

[তিরমিজি, মেশকাত হাদিস/৫০৭৭, সনদ ছহীহ]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২১০. মুযাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি হইতে বর্ণিতঃ

একদা ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! সর্বোত্তম কোন্ জিনিসটি, যা মানব জাতিকে দেওয়া হয়েছে? তিনি বলিলেন, উত্তম চরিত্র

[বায়হাক্বী, মেশকাত হাদিস/৫০৭৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২১১. হারেছ ইবনি ওয়াহাব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, কঠোর ও রুক্ষ্ম স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করিবে না

[আবু দাউদ, মেশকাত হাদিস/৫০৮০, সনদ ছহীহ]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২১২. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় সর্বাপেক্ষা ভারী যে জিনিসটি রাখা হইবে, তা হল উত্তম চরিত্র। আর আল্লাহ তাআলা অশ্লীলভাষী দুশ্চরিত্রকে ঘৃণা করেন

[তিরমিজি, মেশকাত হাদিস/৫০৮১]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২১৩. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূল [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, ঈমানদার ব্যক্তিরা তাদের উত্তম চরিত্র দ্বারা নফল ছিয়াম পালনকারী ও রাতে ইবাদকারীর মর্যাদা লাভ করিবে

[আবু দাউদ, মেশকাত হাদিস/৫০৮২, সনদ ছহীহ]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২১৪. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, তুমি যেখানে থাকিবে আল্লাহকে ভয় করিবে। কোন কারণে মন্দ কাজ হয়ে গেলে তার পর পরই ভাল কাজ করিবে। ভাল কাজ পাপকে মুছে ফেলবে। আর সদাচরণের মাধ্যমে মানুষের সাথে মিলে মিশে থাকি

বে [তিরমিজি, মেশকাত হাদিস/৫০৮৩]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২১৫. আব্দুল্লাহ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকের সংবাদ দিব না? যার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়; আর আগুনও তাকে স্পর্শ করিতে পারবে না। এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার মেজায নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের নিকটতম [মিশুক] এবং আচরণ সরল সহজ

[আহমাদ, তিরমিজি, মেশকাত হাদিস/৫০৮৪]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২১৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, ঈমানদার মানুষ সরল ও ভদ্র হয়। পক্ষান্তরে পাপী মানুষ ধূর্ত ও হীন চরিত্রের হয়

[তিরমিজি হাদিস/১৯৬৪; মেশকাত হাদিস/৫০৮৫]।এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

Leave a Reply