নতুন লেখা

সদাক্বাতুল ফিতর বা ফিতরার বর্ণনা

সদাক্বাতুল ফিতর বা ফিতরার বর্ণনা

সদাক্বাতুল ফিতর বা ফিতরার বর্ণনা  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪. অধ্যায়ঃ সদাক্বাতুল ফিতর বা ফিতরার বর্ণনা

২১৬৮

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুসলিম দাস-দাসী এবং স্বাধীন পুরুষ ও মহিলা সকলের উপর এক সা হিসেবে খেজুর বা প্রত্যেক রমাযান মাসে সদাক্বায়ে ফিতর নির্ধারণ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ২১৪৯]

২১৬৯

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রত্যেক স্বাধীন বা ক্রীতদাস ব্যক্তি সে প্রাপ্তবয়স্ক হোক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক- সকলের উপরই এক সা খেজুর বা সদাক্বায়ি ফিতর নির্ধারণ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ২১৫০]

২১৭০

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] আযাদ গোলাম, পুরুষ, স্ত্রী সবার উপর রমাযান মাসের ফিতরা ফরয করে দিয়েছেন। রাবী বলেন, এরপর কতক লোক অর্ধ সা গমকে এর সমান করে নিয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ২১৫১]

২১৭১

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক সা খেজুর বা যব দিয়ে সদাক্বায়ি ফিত্রা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে লোকেরা দু মুদ্দ গমের মূল্য এক সা খেজুর বা যবের সমান ধরে নেয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৫০, ইসলামিক সেন্টার- ২১৫২]

২১৭২

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক সা খেজুর বা যব রমাযানের পরে সদাক্বায়ি ফিত্রা ধার্য করিয়াছেন- সে [মুসলিম ব্যক্তি] স্বাধীন হোক বা ক্রীতদাস, পুরুষ বা মহিলা, ছোট বা বড় [অর্থাৎ সকলকেই ফিত্রা দিতে হইবে]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৫১, ইসলামিক সেন্টার- ২১৫৩]

২১৭৩

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা এক সা খাদ্য অর্থাৎ গম, অথবা এক সা খেজুর বা এক সা পনির বা এক সা শুষ্ক আঙ্গুর সদাক্বায়ি ফিত্রা হিসেবে বের করতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৫২, ইসলামিক সেন্টার- ২১৫৪]

২১৭৪

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জীবদ্দশায় আমরা ছোট, বড়, স্বাধীন, ক্রীতদাস- প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা খাদ্য [অর্থাৎ গম] বা এক সা পনির, বা এক সা যব বা এক সা খেজুর বা এক সা শুষ্ক আঙ্গুর ফিতরা হিসেবে বের করতাম। আমরা এভাবেই ফিতরা আদায় করে আসছিলাম। শেষ পর্যন্ত যখন মুআবিয়াহ্ [রাদি.] হাজ্জ বা উমরার উদ্দেশে আমাদের মাঝে গমন করিলেন, তিনি লোকদের উদ্দেশে ওয়ায করিলেন এবং বললেনঃ আমি জানি যে, সিরিয়ার দু মুদ্দ লাল গম এক সা খেজুরের সমান। সুতরাং লোকেরা তার এ অভিমত গ্রহণ করিল।

আবু সাঈদ বলেন, কিন্তু আমি যতদিন জীবিত থাকব ততদিন পূর্বের ন্যায় যে পরিমাণে ও যে নিয়মে দিচ্ছিলাম সেভাবেই দিতে থাকব। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৫৩, ইসলামিক সেন্টার- ২১৫৫]

২১৭৫

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের মাঝে বর্তমান থাকা অবস্থায় আমরা ছোট-বড়, আযাদ-গোলাম প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তিন ধরনের জিনিস যথা- এক সা খেজুর অথবা এক সা পনির অথবা এক সা বার্লি [যব] দিয়ে ফিত্রা আদায় করতাম। আমরা এভাবেই ফিত্রা আদায় করে আসছিলাম। অতঃপর মুআবিয়াহ্ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে রায় দিলেন যে, দুমুদ্দ গম এক সা খেজুরের সমান [বিনিময়ের দিক থেকে]।

আবু সাঈদ [রাদি.] বলেন, কিন্তু আমি পূর্বের নিয়মেই ফিত্রা আদায় করে আসছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৫৪, ইসলামিক সেন্টার- ২১৫৭]

২১৭৬

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা তিন প্রকারের জিনিস যথা- পনির, খেজুর ও বার্লি দিয়ে ফিতরা আদায় করতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৫৫, ইসলামিক সেন্টার- ২১৫৮]

২১৭৭

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মুআবিয়াহ্ [রাদি.] এক সা খেজুরের পরিবর্তে অর্ধ সা গম [ফিতরার জন্য] নির্ধারণ করলে আবু সাঈদ [রাদি.] এর বিরোধিতা করিলেন এবং বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সময় যেভাবে এক সা খেজুর বা শুকনা আঙ্গুর বা যব বা পনির দিতাম এখনো আমি সে পরিমাণেই দিব। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ২১৫৬]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: