সদকা সম্পর্কিত অধ্যায় । Muatta Malik

সদকা সম্পর্কিত অধ্যায় । Muatta Malik

সদকা সম্পর্কিত অধ্যায় । Muatta Malik, এই অধ্যায়ে হাদীস =১৫ টি ( ১৮৭২-১৮৮৬ পর্যন্ত )>> মুয়াত্তা ইমাম মালিক এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ৫৮ঃ সাদাকাহ্ সম্পর্কিত

পরিচ্ছেদ ১: সদকা প্রদানের উৎসাহ প্রসঙ্গে
পরিচ্ছেদ ৩: যেই সদকা মাকরূহ

পরিচ্ছেদ ১: সদকা প্রদানের উৎসাহ প্রসঙ্গে

১৮১৫ ঈদ ইব্নু ইয়াসার [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে অর্জিত মাল থেকে সদকা করে, আল্লাহ্ তাআলা শুধুমাত্র হালাল অর্থাৎ পবিত্রকেই কবূল করেন– তা হলে উক্ত সদকা সে আল্লাহ্‌র হাতে দিল। আল্লাহ্ তাআলা তাকে এভাবে লালন-পালন করেন, যেভাবে তোমরা ঘোড়ার বাচ্চা কিংবা উটের বাচ্চা লালন-পালন কর। শেষ পর্যন্ত সেই সদকা [বর্ধিত হয়ে] পর্বতসমান হয়ে যায়

[বুখারি ৭৪৩০, ঈমাম মুসলিম ইবনি আব্বাস থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন ১০১৪]এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮১৬ আনাস ইব্নু মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

মদীনার আনসারগণের মধ্যে আবু তালহা [রাদি.] ছিলেন সর্বাধিক ধনী ব্যক্তি। তাঁর সবচাইতে অধিক খেজুর বৃক্ষ ছিল। সমুদয় বাগানের মধ্যে “বাইরুহা” নামক বাগানটি ছিল তাঁর [আবু তালহার] অধিক পছন্দনীয়। বাগানটি মসজিদে নববীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সেই বাগানে প্রায়ই আসা-যাওয়া করিতেন। সেখানকার পানি খুবই উত্তম ছিল, তিনি তা পান করিতেন। আনাস [রাদি.] বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলঃ

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ

অর্থাৎ যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু [আল্লাহ্‌র রাহে] খরচ না করিবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাবে না। তখন আবু তালহা [রাদি.] রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট এসে বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আল্লাহ্ তাআলা বলেন, যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু [আল্লাহ্‌র রাহে] খরচ না করিবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাবে না। আর আমার প্রিয় বস্তু হল এই বাইরুহা। আমি একে আল্লাহর রাস্তায় সদকা করলাম। এর বিনিময়ে আমি নেকীর আশা রাখি এবং ইহা আল্লাহ্‌র নিকট জমা রাখছি। সুতরাং ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি একে যেভাবে ইচ্ছা ব্যায় করুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, বাহ্বা! এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল, এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল। তুমি এই বাগান সম্বন্ধে যা কিছু বলেছ আমি উহা শ্রবণ করেছি। আমার মনে হয়, তুমি একে তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করে দাও। আবু তালহা বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি উহা বিতরণ করে দিব। অতএব আবু তালহা [রাদি.] তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও চাচাত ভাইগণের মধ্যে উহা বণ্টন করে দিলেন।

[বুখারি ১৪৬১, মুসলিম ৯৯৮]এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮১৭ যায়দ ইব্নু আসলাম [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, ভিক্ষুককে দাও যদিও সে ঘোড়ায় আরোহণ করে আসে।

[যয়ীফ, আবু দাঊদ ১৬৬৫, তিনি হুসাইন বিন আলী থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন। আলবানী হাদীসটি যয়ীফ বলেছেন {সিলসিলা যয়ীফা ১৩৭৮}, তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৮১৮ আমর ইব্নু মুয়াজ আশহালী তাঁর দাদী হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, হে মুমিন মহিলাগণ! তোমাদের কেউ যেন স্বীয় প্রতিবেশীকে তুচ্ছ মনে না করে, যদিও সে ছাগলের একটি পোড়া খুর পাঠায় [তাও কবূল কর]। [বুখারি ২৫৬৬, মুসলিম ১০৩০]এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮১৯ নবী করীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সহধর্মিণী আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট জনৈক ভিক্ষুক এসে কিছু ভিক্ষা চাইল। তিনি [আয়িশা] রোযা রেখেছিলেন। ঘরে একটি রুটি ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। তিনি স্বীয় দাসীকে বলিলেন, উহা ফকীরকে দিয়ে দাও। দাসী বলল, আপনার ইফতারের জন্য আর কিছুই থাকিবে না। তিনি বলিলেন, [যাহা হোক] দিয়ে দাও। অতঃপর দাসী সেই রুটি ফকীরকে দিয়ে দিল। দাসীটি বলে, সন্ধ্যার সময় কোন বাড়ি হইতে বা কোন এক ব্যক্তি হাদিয়া পাঠিয়ে দিল ছাগলের ভুনা গোশত যে কখনো হাদীয়া পাঠাতো না। আয়িশা [রাদি.] আমাকে ডেকে বলিলেন, খাও। ইহা তোমার রুটি হইতে উত্তম।

[হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৮২০ মালিক [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

জনৈক মিসকীন নবী করীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সহধর্মিণী আয়িশা [রাদি.]-এর কাছে এসে কিছু ভিক্ষা চাইল। তাঁর সম্মুখে তখন আঙ্গুর ছিল। আয়িশা [রাদি.] এক ব্যক্তিকে বলিলেন, একটি আঙ্গুর নিয়ে ঐ মিসকীনকে দিয়ে দাও। লোকটি আশ্চর্যবোধ করিতে লাগল [মাত্র একটি আঙ্গুর দিচ্ছেন!]। আয়িশা [রাদি.] লোকটির মনোভাব বুঝতে পেরে বলিলেন, তুমি আশ্চর্যবোধ করছ? এই একটি আঙ্গুর কত অণু পরিমাণ হইবে বলে তুমি মনে কর ?

{১} [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]{১} অর্থাৎ এটাই বা কম কি? আল্লাহ্‌র জন্য দেয়া হলে আল্লাহ্ তা কবূল করেন পরিমাণ নয়- নিয়তই আসল বস্তু। তবে সামর্থ্যানুযায়ী দেয়াই সমীচীন।এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়অনুচ্ছেদ ২: ভিক্ষা করা হইতে বিরত থাকা প্রসঙ্গে

১৮২১ আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনসারের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর কাছে কিছু চাইল। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাদেরকে কিছু দান করলেন; তারা পুনরায় কিছু চাইল। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আবার কিছু দান করলেন। এইভাবে তিনবার দান করলেন ; এমন কি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট যা কিছু ছিল, সব নিঃশেষ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমার কাছে যে পরিমাণ মাল থাকিবে, উহা তোমাদের না দিয়ে আমি কখনও জমা করে রাখব না। তবে যে ভিক্ষা চাওয়া হইতে বিরত থাকিবে, আল্লাহ্ তাকে রক্ষা করেন। যে সবর করে কারো মুখাপেক্ষী নয় বলে কার্যত প্রকাশ করিবে, আল্লাহ্ তাকে ধনী করে দিবেন। যে সবর করিবে, আল্লাহ্ তাআলা তাকে সবরের তাওফীক দান করিবেন। মানুষকে যা কিছু দান করা হয়েছে, তন্মধ্যে সবরের চাইতে বড় ও উত্তম আর কিছু নেই

[বুখারি ১৪৬৯, মুসলিম ১০৫৩]এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮২২ আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] মিম্বারের উপর আরোহণ করে বলিলেন, তিনি তখন সদকা ও ভিক্ষাবৃত্তি হইতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা সম্পর্কে কথা বলছিলেন, নিচের হাতের চাইতে উপরের হাত উত্তম। উপরের হাত হল দাতার হাত এবং নিচের হাত হল ভিক্ষুকের হাত।

[বুখারি ১৪২৯, মুসলিম ১০৩৩]এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮২৩ আতা ইব্নু ইয়াসার [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.]-এর নিকট কিছু দান [বা তুহফা] প্রেরণ করলেন। উমার [রাদি.] উহা [গ্রহণ করলেন না বরং] ফেরত পাঠালেন। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাহাকে জিজ্ঞেস করলেন, ফেরত পাঠালে কেন? উমার [রাদি.] বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি কি আমাদেরকে বলেছিলেন যে, এ লোকটি উত্তম, যে কারো নিকট হইতে কিছু গ্রহণ করে না? রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, এর অর্থ এই যে, ভিক্ষা চেয়ে কিছু গ্রহণ করিবে না। আর চাওয়া ছাড়া যদি পাওয়া যায় উহা আল্লাহ্‌র দান। অতঃপর উমার ইব্নু খাত্তাব [রাদি.] বলিলেন, সেই পাক যাতের কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, ভবিষ্যতে আমি কারো নিকট কিছু চাইব না এবং চাওয়া ছাড়া কিছু পাওয়া গেলে উহা গ্রহণ করব। [আবদুর রাযযাকে বর্ণনা করেন ১১/১০৩]এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৮২৪ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, সেই পাক যাতের কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি কোন মুসলমান রশি দিয়ে জ্বালানি কাঠের বোঝা বেঁধে উহা স্বীয় পৃষ্ঠে তুলে নেয় [এবং উহাকে বিক্রি করে রোজগার করে], তা সেই ব্যক্তির জন্য ইহা হইতে উত্তম যে, সে এমন কোন ব্যক্তির নিকট গিয়ে কিছু [ভিক্ষা] চায়, যাকে আল্লাহ্ তাআলা মাল দিয়েছেন, সে তাকে কিছু দিক বা না দিক।

{১} [বুখারি ১৪৭০, মুসলিম ১০৪২]{১} ভিক্ষা করার চাইতে নিজে পরিশ্রম করে রোজগার করা সর্বাপেক্ষা উত্তম। কেননা পরিশ্রমে লজ্জার কিছু নেই; কিন্তু ভিক্ষার লজ্জা আছে এবং ভিক্ষা মানহানিকরও বটে।এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮২৫ আসাদ গোত্রীয় এক ব্যক্তির নিকট হইতে আতা ইব্নু ইয়াসার [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, আমি ও আমার পরিবার বকীউল-গরকদে [মদীনার প্রসিদ্ধ কবরস্থান] অবস্থান করলাম। আমার স্ত্রী আমাকে বলল, রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর কাছে গিয়ে আমাদের খাওয়ার জন্য কিছু চেয়ে আন এবং আমাদের দৈন্যের কথা বর্ণনা কর। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর কাছে গিয়ে দেখি যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট কিছু ভিক্ষা চাচ্ছে এবং রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলছেন, আমার কাছে এমন কিছু নেই যে, আমি তোমাকে দিতে পারি। [এটা শুনে] লোকটি ক্রোধান্বিত হয়ে এই বলিতে বলিতে ফিরে গেল, আমার জীবনের কসম! তুমি যাকে দিতে চাও তাকেই দাও। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, এই লোকটি আমার উপর এইজন্য রাগ করে চলে গেল যে, তাকে কিছু দেয়ার মতো আমার কাছে কিছু নেই। যে মুসলমানের নিকট চল্লিশ দিরহাম [এক উকিয়া] কিংবা সেই পরিমাণ মাল আছে, সে যদি ভিক্ষা চায় তবে সে কাকুতি মিনতি করে ভিক্ষা চাইল। আসাদ গোত্রীয় লোকটি বলল, একটি দুধের উষ্ট্রী আমার জন্য এক উকিয়া [চল্লিশ দিরহাম] হইতে উত্তম। মালিক [রহঃ] বলেন, চল্লিশ দিরহামে এক উকিয়া হয়। আসাদ লোকটি বলল, আমি রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর কাছে কিছু না চেয়ে প্রত্যাবর্তন করলাম। এর পর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট যব ও শুকনা আঙ্গুর এল এবং তিনি আমাদেরকেও সেগুলো হইতে দিলেন, এমন কি শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে ধনী করে দিলেন।

[সহীহ, আবু দাঊদ ১৬২৭, নাসাঈ ২৫৯৬, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন {সিলসিলা সহীহাহ ১৭১৯}]এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮২৬ আলা ইব্নু আবদুর রহমান [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্‌র পথে মাল সদকা করলে মাল কমে যায় না। মাফ করলে সম্মান বৃদ্ধি হয় এবং নম্রতা প্রদর্শনকারীর মর্যাদা আল্লাহ্ তাআলা বাড়িয়ে দেন। মালিক [রহঃ] বলেন হাদীসটি নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] মারফু কিনা আমার জানা নেই।

এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ৩: যেই সদকা মাকরূহ

১৮২৭ মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর পরিবারের জন্য সদকা হালাল নয়; উহা [সদকা] মানুষের হাতের ময়লা।

{১} নবী-পরিবার বলিতে বানী হাশিমকে বোঝায়। কেউ কেউ বানী মুত্তালিবও উল্লেখ করিয়াছেন অর্থাৎ এদের জন্য সদকার মাল খাওয়া হারাম।এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮২৮ আবু বাকর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বানী আবদিল আশহাল গোত্রীয় এক ব্যক্তিকে সদকা উশুল করার জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করলেন। লোকটি [কাজ শেষে] প্রত্যাবর্তন করে রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট [তার পরিশ্রম ছাড়া] সাদাকার একটি উট চাইল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] রাগান্বিত হলেন; তাঁর চেহারা মুবারকে ক্রোধের লক্ষণ দৃষ্ট হল। রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর ক্রোধের লক্ষণ এই ছিল যে, তখন তাঁর চক্ষু মুবারক লাল হয়ে যেত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, কেউ কেউ আমার কাছে এমন কিছু চায় যা আমার জন্য দেয়া অনুচিত এবং তার পক্ষে চাওয়াও অনুচিত। আমি যদি না দেই, তবে উহা আমার খারাপ লাগে, আর যদি দেই, তবে আমার পক্ষে দেয়া অনুচিত, তার পক্ষে নেওয়াও অনুচিত। অতঃপর লোকটি বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আর কখনও কিছু চাইব না।

[হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৮২৯ যায়দ ইব্নু আসলামের পিতা হইতে বর্ণিতঃ

; তিনি বলেছেন, আবদুল্লাহ্ ইব্নু আরকাম [রাদি.] আমাকে বলিলেন, আমাকে কোন সওয়ারীর উট দেখাও। আমি উহা আমীরুল মুমিনীনকে বলে ব্যবহার করব। আমি বললাম, হ্যাঁ, আছে। তবে উহা সাদাকাহর উট। অতঃপর আবদুল্লাহ্ ইব্নু আরকাম বলিলেন, তুমি কি এটা পছন্দ করিবে? গরমের দিনে কেউ স্বীয় লজ্জাস্থান এবং রানের গোড়া ধুয়ে সেই পানি তোমাকে খাওয়াতে চাইলে তুমি উহা খাবে? আসলামের পিতা বলেন, আমার বড় রাগ হল, তাকে বললাম, আল্লাহ্ তোমাকে মাফ করুন, তুমি আমাকে এই রকম কথা বলছ? আবদুল্লাহ্ বলিলেন, সদকাও মানুষের ময়লা ধোয়া পানি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

By মুয়াত্তা মালিক

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply