সতীন কে নিজের পালা হিবা করা বৈধ

সতীন কে নিজের পালা হিবা করা বৈধ

সতীন কে নিজের পালা হিবা করা বৈধ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৪. অধ্যায়ঃ সতীন কে নিজের পালা হিবা করা বৈধ

৩৫২১

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাওদাহ্‌ বিনত যাম্‌আহ্‌ [রাদি.]-এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয়া কোন নারীকে আমি দেখিনি যার দেহের মধ্যে আমি আমার অবস্থান পছন্দ করব- এমন এক নারী যার মাঝে ছিল [ব্যক্তিত্ব সুলভ] তেজস্বিতা। আয়িশা [রাদি.] বলেন, বৃদ্ধা হয়ে গেলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট তাহাঁর প্রাপ্য [পালার] দিনটি আয়িশা [রাদি.]-কে হিবা করে দিলেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার কাছে আমার পালার দিনটি আয়িশার জন্য দিয়ে দিলাম। ফলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য দুদিন পালা বন্টন করিতেন, তার নিজের [এক] দিন এবং সাওদাহ [রাদি.]-এর [এক] দিন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৯৩]

৩৫২২

আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্, আমর আন্ নাক্বিদ ও মুজাহিদ ইবনি মূসা [রহিমাহুমুল্লাহ] সকলে হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত সানাদে রিওয়ায়াত করেন যে, সাওদাহ্ [রাদি.] যখন বৃদ্ধা হয়ে গেলেন…[পূর্বোক্ত যুহায়র সানাদের ঊর্ধ্বতন রাবী] জারীর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের অনুরূপ। তবে [মুজাহিদ সানাদের ঊর্ধ্বতন রাবী] শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার হাদীসে অধিক বলেছেন যে, সাওদাহ্ [রাদি.] বলেছেন, সে {আয়িশা [রাদি.]} ছিল প্রথম নারী [কুমারী] যাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার পরে বিয়ে করেছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৯৪]

৩৫২৩

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে নারীরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর [স্ত্রী হওয়ার জন্য] আত্মানিবেদিতা হত আমি তাদের নির্লজ্জতায় বিস্ময় প্রকাশ করতাম এবং বলতাম, কোন নারী কি [এভাবে নির্লজ্জ হয়ে] আত্মনিবেদন করিতে পারে? পরে যখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করিলেন- “তুমি তাদের [স্ত্রীগণের মধ্যে] যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট হইতে দূরে সরিয়ে রাখতে পার এবং যাকে ইচ্ছা তোমার কাছে স্থান দিতে পার এবং যাকে তুমি দূরে রেখেছো তাকে [পুনরায়] কামনা করলে তাতে তোমার কোন অপরাধ হইবে না”- [সুরাহ্‌ আল আহ্‌যাব ৩৩:৫১]। আয়িশা [রাদি.] বলেন, আমি তখন বললামঃ আল্লাহর কসম আমি তো দেখছি আপনার প্রতিপালক আপনার মনোবাঞ্ছা পূরণে দ্রুতই সাড়া দিয়ে থাকেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৯৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৯৫]

৩৫২৪

আবু বাক্‌র ইবনি আবু শায়বাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলিতেন, কোন নারী কি কোন পুরুষের কাছে নিজেকে নিবেদন করিতে লজ্জাবোধ করে না? অবশেষে আল্লাহ নাযিল করিলেন, “তুমি তাঁদের যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট থেকে দূরে রাখতে পার এবং যাকে ইচ্ছা তোমার কাছে স্থান দিতে পার” তখন আমি বললাম, “অবশ্যই আপনার প্রতিপালক আপনার মনোবাঞ্ছা পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৯৬]

৩৫২৫

আত্বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা সারিফ নামক স্থানে ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর সঙ্গে নবী পত্নী মায়মূনাহ্‌ [রাদি.]-এর জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। তখন ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, ইনি নবী [সাঃআঃ]-এর সহধর্মিণী। সুতরাং তোমার যখন তাহাঁর কফিন [লাশ] তুলবে তখন তাকে খুব জোড়ে নাড়া দিবে না এবং কাঁপাবে না; নরম ও আলতোভাবে তাঁকে তুলবে। কেননা, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে নয়জন স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের আটজনের জন্য রাত যাপনের পালা নির্ধারণ করিতেন এবং একজনের জন্য করিতেন না। [মধ্যবর্তী] রাবী আত্বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, যাঁর জন্য পালা নির্ধারণ করিতেন না তিনি হলেন সফিয়্যাহ্‌ বিন্‌ত হুয়াই ইবনি আখত্বাব [রাদি.]।{৫৩} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৯৭]

{৫৩} উলামাগণ বলেন, রাবী আত্বার এখানে বিস্মৃতি ঘটেছে। সঠিক কথা হলো যে স্ত্রীর কোন পালা ছিল না তিনি হলেন সাওলা [রাদি.]।

৩৫২৬

ইবনি জুরায়জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

ঐ সানাদে বর্ণিত। এ বর্ণনায় অতিরিক্ত বলা হয়েছে, আত্বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন, তিনি [মায়মূনাহ্] ছিলেন তাঁদের মাঝে সব শেষে মৃত্যুবরণকারিণী, তিনি মাদীনায় মৃত্যবরণ করেন।{৫৪} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৯৮]

{৫৪} কায্বী বলেন, বাহ্যিক কথা থেকে বুঝা যায় যে, আত্বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর দ্বারা মায়মূনাকে উদ্দেশ্য করিয়াছেন। অথচ হাদীসে আছে তিনি মাক্কার নিকটবর্তী সারিফা নামক স্থানে মৃত্যবরণ করিয়াছেন। আর সর্বসম্মতিক্রমে মায়মূনার মৃত্যু হয়েছে ইক্ত সারিফা নামক স্থানে। সুতরাং মায়মূনাহ্ মাদীনায় মৃত্যুবরণ করিয়াছেন উদ্দেশ্য যথাযথ নয়। বরং সফিয়্যাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] উদ্দেশ্য নিলে যথার্য হইবে।

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply