নতুন লেখা

শিষ্টাচার সম্পর্কিত হাদীস আবুদ দাউদ হাদিস শরীফ থেকে

শিষ্টাচার সম্পর্কিত হাদীস আবুদ দাউদ হাদিস শরীফ থেকে

শিষ্টাচার সম্পর্কিত হাদীস আবুদ দাউদ হাদিস শরীফ থেকে >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ৪৩, অনুচ্ছেদঃ ১৬৩-১৮২=২০টি

অনুচ্ছেদ-১৬৩ঃ কোন ব্যক্তির এরূপ বলা যে, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন
অনুচ্ছেদ-১৬৪ঃ কোন ব্যক্তির এরূপ বলা যে, আল্লাহ তোমার চক্ষু শীতল করুন
অনুচ্ছেদ-১৬৫ঃ একজন আরেকজনকে বললো, আল্লাহ তোমাকে হেফাযাত করুন
অনুচ্ছেদ-১৬৬ঃ কেউ কারো সম্মানার্থে দাঁড়ালে
অনুচ্ছেদ-১৬৭ঃ যে ব্যক্তি বলে, অমুক আপনাকে সালাম দিয়েছে
অনুচ্ছেদ-১৬৮ঃ কারো ডাকের জবাবে লাব্বায়িক বলা
অনুচ্ছেদ-১৬৯ঃ একে অপরকে বলা, আল্লাহ আপনাকে হাসিমুখে রাখুন
অনুচ্ছেদ-১৭০ঃ বাড়িঘর নির্মাণ প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-১৭১ঃ উপর তলায় কক্ষ নির্মাণ সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৭২ঃ কুল গাছ কাটা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ -১৭৩ঃ রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো
অনুচ্ছেদ-১৭৪ঃ রাতে আগুন নিভিয়ে রাখা
অনুচ্ছেদ–১৭৫ঃ সাপ মারা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৭৬ঃ টিকটিকি হত্যা করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৭৭ঃ পিঁপড়া মারা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৭৮ঃ ব্যাঙ হত্যা করা
অনুচ্ছেদ-১৭৯ঃ পাথর কুচি নিক্ষেপ করা
অনুচ্ছেদ-১৮০ঃ খাত্‌না করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৮১ঃ রাস্তায় পুরুষদের সাথে নারীদের যাতায়াত সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৮২ঃ সময়কে গালি দেয়া সম্পর্কে

অনুচ্ছেদ-১৬৩ঃ কোন ব্যক্তির এরূপ বলা যে, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন

৫২২৬

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ হে আবু যার! আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি উপস্থিত, আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ-১৬৪ঃ কোন ব্যক্তির এরূপ বলা যে, আল্লাহ তোমার চক্ষু শীতল করুন

৫২২৭

ক্বাতাদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বা অন্য কারো হইতে বর্ণীতঃ

ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] বলেন, জাহিলী যুগে আমরা বলতাম, “আল্লাহ তোমাদের চক্ষু শীতল করুন অথবা প্রত্যুষে তুমি আনন্দিত হও। ইসলামের আবির্ভাবের পর আমাদের এসব বলিতে বাধা দেওয়া হয়। আব্দুর রায্‌যাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মামার বলেন, আল্লাহ তোমার জন্য তোমার চক্ষু শীতল করুন, এরূপ বলা অপছন্দনীয়। তবে আল্লাহ তোমার চক্ষু শীতল করুন – এরূপ বলা দোষনীয় নয়। {৫২২৫}

{৫২২৫} কাতাদাহ হাদিসটি ইমরান ইবনি হুসাইন হইতে শুনেননি। সুতরাং এটি মুনকাতি। আত-তাহযীব গ্রন্থে রয়েছেঃ তিনি আনাস বিন মালিক ছাড়া কোন সাহাবী হইতে হাদিস শুনেননি।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৫ঃ একজন আরেকজনকে বললো, আল্লাহ তোমাকে হেফাযাত করুন

৫২২৮

আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এক সফরে ছিলেন। পথিমধ্যে লোকেরা পিপাসার্ত হওয়ায় দ্রুত অগ্রসর হয়। আমি ঐ রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর সঙ্গেই ছিলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আল্লাহ তোমাকে হেফাযাত করুন; যেমন তুমি তাহাঁর নাবীকে হিফাযাত করেছো [পাহাড়া দিয়ে]।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৬ঃ কেউ কারো সম্মানার্থে দাঁড়ালে

৫২২৯

আবু মিজলায [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুআবিয়াহ [রাদি.] ইবনিয যুবাইর ও ইবনি আমিরের নিকট আসলেন। ইবনি আমির দাঁড়িয়ে গেলেন, কিন্তু ইবনিয যুবাইর বসে রইলেন। মুআবিয়াহ [রাদি.] ইবনি আমিরকে বলিলেন, বসো। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ যে লোক নিজের জন্য অন্য লোকের অপেক্ষা করাকে পছন্দ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আসন নির্ধারণ করে নেয়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৩০

আবু উমামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লাঠিতে ভর দিয়ে আমাদের নিকট আসলেন। আমরা তাহাঁর সম্মানে উঠে দাঁড়ালে তিনি বলিলেনঃ তোমরা দাঁড়াবে না, যেরুপ অনারবরা একে অপরের সম্মান দেখানোর জন্য দাঁড়ায়।

{৫২২৮} ইবনি মাজাহ, আহমাদ । সানাদে ইযতিরাব রয়েছে । এছাড়া সানাদে আবু আদাব্বাস অজ্ঞাত [মাজহুল] ।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৭ঃ যে ব্যক্তি বলে, অমুক আপনাকে সালাম দিয়েছে

৫২৩১

গালিব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা হাসান [রাদি.]–এর বাড়ির দরজায় বসে ছিলাম। এ সময় এক লোক এসে বলিল, আমার পিতা আমার দাদার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমাকে আমার পিতা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর নিকট পাঠালেন। তিনি বলিলেন, তাহাঁর নিকট গিয়ে তাঁকে সালাম জানাবে। তিনি বলেন, আমি তাহাঁর নিকট পৌঁছে বলিলাম, আমার পিতা আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি বলিলেনঃ আলাইকা ওয়া আলা আবীকাস্‌ সালাম [তোমার এবং তোমার পিতার উপর শান্তি বর্ষিত হোক]।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৫২৩২

আবু সালামাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আয়িশাহ [রাদি.] তাহাঁর নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে বলিয়াছেনঃ জিবরাঈল [আঃ] তোমাকে সালাম জানিয়েছে। আয়িশাহ [রাদি.] বলিলেনঃ “ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ” [অর্থঃ তাহাঁর উপরেও শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক!]।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৮ঃ কারো ডাকের জবাবে লাব্বায়িক বলা

৫২৩৩

আবু হাম্মাম আবদুল্লাহ ইবনি ইয়াসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবু আব্দূর রহমান আল-ফিহরী [রাদি.] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সঙ্গে হুনাইনে উপস্থিত ছিলাম। আমরা প্রচণ্ড গরমের দিনে সফর করলাম। সূর্য ঢলে পড়লে আমি আমার সামরিক পোশাক পরিধান করে আমার ঘোড়ায় চড়লাম, তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট আসলাম। তিনি তখন তাহাঁর তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। আমি বলিলাম, আস্‌সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহি ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। যাত্রার সময় হয়েছে। তিনি বলিলেনঃ ঠিক আছে। তারপর বলিলেনঃ হে বিলাল! উঠো। বিলাল [রাদি.] একটি বাবলা গাছের নীচ হইতে হন্তদন্ত হয়ে আসলেন। তার ছায়া পাখীর ছায়ার মত ছোট ছিল। বিলাল [রাদি.] বলিলেন, আমি আপনার ডাকে সাড়া দিলাম, আমি উপস্থিত আছি, আমি আপনার জন্য উৎসর্গীত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমার ঘোড়ার গদি আঁটো। তিনি একটি গদি বের করিলেন যার উভয় পাশ খেজুর গাছের পাতা ভর্তি ছিল। তাতে আত্মগর্বের কিছুই ছিল না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাতে আরোহন করিলেন এবং আমরাও সওয়ার হলাম। অতঃপর বর্ণনাকারী পুরো হাদিস বর্ণনা করেন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬৯ঃ একে অপরকে বলা, আল্লাহ আপনাকে হাসিমুখে রাখুন

৫২৩৪

ইবনি কিনানাহ ইবনি আব্বাস ইবনি মিরদাস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা ও তার দাদা হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাসলেন। তখন আবু বাকর বা উমার [রাদি.] তাঁকে বলিলেন, আল্লাহ আপনার মুখে হাঁসি ফুটিয়ে রাখুন। {৫২৩২}

{৫২৩২} ইবনি মাজাহ, আহমাদ, বায়হাক্বী । সানাদে আবদুল্লাহ বিন কিননাহ রয়েছে । ঈমাম বুখারী বলেনঃ তার হাদিস সহিহ নয় । আমি কাউকে তার দোষ-গুন বর্ণনা করিতে দেখিনি । হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মাজহুল [অজ্ঞাত] ।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫২৩৫

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি ও আমার মা তখন আমার একটি দেয়াল মেরামত করছিলাম। তিনি বলিলেনঃ হে আবদুল্লাহ! কি হচ্ছে? আমি বলিলাম, মেরামত করছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আমি দেখছি, নির্দেশ [কিয়ামত বা মৃত্যু] এর চেয়েও দ্রুত ধাবমান।

সহিহ ।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৩৬

আল-আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আল-আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ সানাদে উল্লেখিত হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছেঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা তখন আমাদের জীর্ণশীর্ণ ঘরটি মেরামত করছিলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ এটা কি হচ্ছে? আমরা বলিলাম, আমাদের এ জীর্ণশীর্ণ কুঁড়ে ঘরটি মেরামত করছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আমি তো দেখছি এ জীর্ণ ঘরের চাইতেও নির্দেশ দ্রুত ধাবমান।

সহিহ।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭০ঃ বাড়িঘর নির্মাণ প্রসঙ্গে

৫২৩৭

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাইরে বের হয়ে গম্বুজাকৃতির একটি উঁচু পাকা ঘর দেখিতে পেয়ে বলিলেনঃ এটা কি? তাহাঁর সাহাবীগণ বলিলেন, এটা অমুক আনসারী ব্যক্তির। তিনি চুপ থাকলেন এবং বিষয়টি স্মরণে রাখলেন। পরে ঐ প্রাসাদের মালিক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট আসে লোকদের মধ্যে তাঁকে সালাম দিলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরূপ কয়েকবার হলো। ফলে লোকটি তার প্রতি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর রাগ হওয়া এবং তাহাঁর উপেক্ষা সম্পর্কে বুঝতে পারলো। এতে সে তার সাথীদের নিকট প্রকৃত ঘটনা জানতে চাইলো। সে বললো, আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এরূপ আচরণ তা আমি বুঝতে পারছি না। লোকেরা বললো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাইরে বের হয়েছিলেন। তিনি তোমার গম্বুজ দেখিতে পেয়েছেন। অতএব সে তার পাকা বাড়িতে ফিরে এসে তা ধ্বংস করে একেবারে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরেক দিন বের হলেন। তিনি ঐ প্রাসাদটি দেখিতে না পেয়ে বলিলেন, প্রাসাদটির কি হলো? লোকেরা বললো, প্রাসাদের মালিক আমাদের নিকট তার প্রতি আপনার অসন্তুষ্টি ও উপেক্ষার বিষয় জানতে চাইলে আমরা তাহাকে ঘটনা খুলে বলি, এতে সে তা বিধ্বস্ত করে দেয়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, বস্তুত প্রত্যেক উচ্চ পাকা বাড়ি তার মালিকের জন্য দুর্ভাগ্যর কারণ হইবে। তবে যেটি একান্ত জরুরী সেটি ছাড়া।

সহীহঃ সহিহাহ হা/২৮৩০।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭১ঃ উপর তলায় কক্ষ নির্মাণ সম্পর্কে

৫২৩৮

দুকাইন ইবনি সাঈদ আল-মুযানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে খাবার চাইলাম। তিনি বলিলেনঃ হে উমার! যাও, এদেরকে দাও। অতএব তিনি আমাদেরকে নিয়ে উপর তলার একটি রুমে উঠলেন, অতঃপর তার রুম হইতে চাবি নিয়ে তা খুললেন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭২ঃ কুল গাছ কাটা সম্পর্কে

৫২৩৯

আবদুল্লাহ ইবনি হুবশী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি কুল গাছ কাটবেঃ, আল্লাহ তাহাকে মাথা উপর করে জাহান্নামে ফেলবেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] কে এ হাদিসের তাৎপর্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি খুবই সংক্ষিপ্ত। অর্থাৎ খোলা ময়দানের কুল গাছ, যার ছায়ায় পথচারী ও চতুষ্পদ প্রাণী আশ্রয় নিয়ে থাকে তা কোনো ব্যক্তি নিজ মালিকানাহীন, অপ্রয়োজনে ও অন্যায়ভাবে কেটে ফেললে আল্লাহ তাহাকে উপর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৪০

উরওয়াহ ইবনিয যুবাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি হাদিসের সনদ নাবী [সাঃআঃ] পর্যন্ত উন্নীত করে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।{৫২৩৮}

{৫২৩৮} বায়হাক্বী ।

এই হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৫২৪১

হাসসান ইবনি ইবরাহীম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি উরওয়াহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর পুত্র হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে কুল গাছ কাটা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। এ সময় তিনি উরওয়াহ [রাদি.]-এর দালানে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলিলেন, তুমি কি এসব দরজা ও পত্রপল্লব দেখিতে পাচ্ছো? এসব দরজার চৌকাঠ উরওয়াহ [রাদি.] এর কুল গাছ দ্বারা তৈরী। তিনি তার জমি থেকে তা কেটে এনেছিলেন। তিনি বলিয়াছেন, তাতে কোন অসুবিধা নেই। হুমাইদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি বলেন, হে ইরাকী! তুমি আমার নিকট একটি বিদআত নিয়ে এসেছো! সে বললো, আমি বলিলাম, বিদআত তো আপনাদের কাছ থেকেই। আমি মক্কায় এ ব্যক্তিকে বলিতে শুনিয়াছি, যে লোক কুল গাছ কাটে তাহাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লানত করেছেন। অতঃপর বর্ণনাকারী অনুরূপ অর্থের হাদিস বর্ণনা করেন। {৫২৩৯}

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ -১৭৩ঃ রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো

৫২৪২

বুরাইদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলেতে শুনিয়াছিঃ মানুষের শরীরে তিনশো ষাটটি গ্রন্থি রয়েছে। তার প্রতিটি জোড়ার জন্য সদাক্বাহ করা উচিৎ। লোকজন বলিল, কেউ কি এতো সদাক্বাহ করিতে সক্ষম, হে আল্লাহর নাবী! তিনি বলিলেনঃ তুমি মাসজিদের শ্লেষ্মা পুতে দিবে এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলবে। তুমি যদি তা নাও পারো তাহলে চাশ্‌তের সময় দুই রাকআত সলাত আদায় করিবে, এতেই তোমার জন্য যথেষ্ট হইবে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৪৩

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ প্রতিদিন সকালে আদম সন্তানের দেহের প্রতিটি জোড়ার জন্য সদাক্বাহ ধার্য হয়। তার সঙ্গে সাক্ষাতকারীকে তার সালাম দেয়া একটি সদাক্বাহ। সৎকাজের আদেশ করা একটি সদাক্বাহ এবং অসৎ কাজ হইতে নিষেধ করাও একটি সদাক্বাহ। রাস্তা হইতে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলা একটি সদাক্বাহ। নিজ স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করাও একটি সদাক্বাহ। সাহাবীরা প্রশ্ন করিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে কামভাব উপভোগ করলে তাও কি তার জন্য সদাক্বাহ? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তা অবৈধ পাত্রে রাখা হলে কি সে গুনাহগার হতো না? তিনি আরো বলিলেনঃ দুপুরের সময় দুই রাকআত সলাত আদায় করা এসবের জন্য যথেষ্ট। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাম্মাদ [রাদি.] সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ কথাটুকু উল্লেখ করেননি।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৪৪

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু যার [রাদি.] সূত্রে এ সানাদে পূর্বোক্ত হাদিস বর্ণিত। তাতে রয়েছেঃ নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর কথাবার্তার মাঝখানে এসবের উল্লেখ করেছেন। {৫২৪২}

আমি এটি সহিহ এবং যঈফে পাইনি।

{৫২৪২} এটি গত হয়েছে, হা/১২৮৬ ।

এই হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৫২৪৫

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ এক ব্যক্তি কখনো কোন ভালো কাজ করেনি, শুধু একটি কাঁটাযুক্ত ডাল রাস্তা হইতে সরিয়েছিলো। হয়ত ডালটি গাছেই ছিলো, কেউ তা কেটে ফেলে রেখেছিলো অথবা রাস্তায়ই পরে ছিলো। আল্লাহ তার একাজ গ্রহণ করিলেন এবং তাহাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ-১৭৪ঃ রাতে আগুন নিভিয়ে রাখা

৫২৪৬

সালিম [রাদি.] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা ঘুমানোর সময় তোমাদের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে রাখবে না।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৪৭

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একটি ইঁদুর আসে বাতির সলতে টেনে নিয়ে যেতে যেতে তা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সম্মুখে তাহাঁর মাদুরের উপর রাখলো। যার উপর তিনি বসা ছিলেন। এতে মাদুরের এক দিরহাম পরিমান জায়গা পুড়ে যায়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ ] বলিলেনঃ যখন তোমরা ঘুমাবে তখন বাতি নিভিয়ে দিবে। কারণ শয়তান ইঁদুর ইত্যাদির অনুরূপ প্রাণীকে এরুপ কাজে প্ররোচিত করে এবং তোমাদেরকে পোড়ায়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ–১৭৫ঃ সাপ মারা সম্পর্কে

৫২৪৮

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ ] বলিয়াছেনঃ যেদিন থেকে সাপের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেদিন থেকে ঐগুলোর সঙ্গে আমরা শান্তিচুক্তি করিনি। অতএব যে ব্যক্তি ভয়ে সেগুলোকে [হত্যা না করে] ছেড়ে দিবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৫২৪৯

ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা সাপ মারবে। যে ব্যক্তি তাহাদের প্রতিশোধের ভয় করিবে সে আমার দলভুক্ত নয়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৫০

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি তাহাদের প্রতিশোধের ভয়ে সাপ [না মেরে] ছেড়ে দিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। যখন হইতে এগুলোর সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে তখন থেকে আমরা এগুলোকে নিরাপদে ছেড়ে দেইনি।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৫১

আল-আব্বাস ইবনি আবদুল মুত্তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলেন, আমরা যমযম কূপকে পরিষ্কার করিতে চাই। কিন্তু তাতে জিন অর্থাৎ ছোট ছোট অনেক সাপ রয়েছে। নাবী [সাঃআঃ] ঐগুলো মেরে ফেলার আদেশ দিলেন।

সহিহ। যদি ইবনি সাবিত হাদিসটি “আব্বাস হইতে শুনে থাকেন”।

এই হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৫২৫২

সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা সাপ মেরে ফেলবে, বিশেষ করে ডোরাকাটা ও লেজকাটা সাপ। কেননা এ দুটি সাপ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে এবং গর্ভপাত ঘটায়। আবদুল্লাহ [রাদি.] সাপ পেলেই মেরে ফেলেতেন। আবু লুবাবাহ অথবা যায়িদ ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] একটি সাপের পিছু ধাওয়া করিতে দেখে বলিলেন, ঘরে বসবাসকারী সাপ মারতে নিষেধ করা হয়েছে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৫৩

আবু লুবাবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঘরে বসবাসকারী সাপ মারতে বারণ করেছেন, তবে ডোরাবিশিষ্ট এবং লেজকাটাগুলো নয়। কারণ এগুলো দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে এবং নারীদের গর্ভপাত ঘটায়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৫৪

নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু লুবাবাহ [রাদি.] ইবনি উমর [রাদি.]- এর নিকট উপরোক্ত হাদিস বর্ণনা করার পর তিনি তার ঘরে একটি সাপ দেখিতে পান। তার আদেশে ঘর হইতে সাপটি বের করে বাকীর দিকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৫৫

নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি এ হাদিস বর্ণনা করে বলেন, পরে আমি ঐ সাপটিকে আবার তার ঘরে দেখেতে পেয়েছি।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৫২৫৬

মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াহ্‌ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ও তার এক সাথী অসুস্থ আবু সাঈদ [রাদি.]-কে দেখিতে যান। তিনি বলেন, আমরা তার নিকট হইতে বেরিয়ে আসার পর আরেক সঙ্গীর সঙ্গে আমাদের দেখা হলো। তিনিও তাহাকে দেখিতে এসেছেন। আমরা কিছুটা এগিয়ে গিয়ে মাসজিদে বসলাম। তিনি ফিরে এসে আমাদের জানালেন, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] কে বলিতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ ] বলিয়াছেনঃ কতক সাপ জিনদের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই কেউ তার ঘরে এগুলোর কোনটিকে দেখিতে পেলে সে যেন তিনবার একে সতর্ক করে। তারপরও ফিরে আসলে সে যেন একে মেরে ফেলে। কারণ তা শয়তান। {৫২৫৪}

দুর্বলঃ যঈফাহ, হা/৩১৬৩.

{৫২৫৪} এর সানাদে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে ।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫২৫৭

আবুস সায়িব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আবু সাঈদ আল-খুদরীর [রাদি.] নিকট আসলাম। আমি তার নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় আমি তার খাটের নিচে নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। চেয়ে দেখি একটি সাপ। আমি উঠে দাঁড়ালাম। আবু সাঈদ [রাদি.] বলিলেন, তোমার কি হলো? আমি বলিলাম, ওখানে সাপ। তিনি বলিলেন তা তুমি কি করিতে চাও? আমি বলিলাম, আমি এটিকে হত্যা করবো। তিনি তার ঘরের নিজ কক্ষ বরাবর অপর একটি কক্ষের দিকে ইশারা করে বলিলেন, আমার এক চাচাত ভাই এই কক্ষে বাস করতো। আহযাবের যুদ্ধের দিন সে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট বাড়ি যাওয়ার অনুমতি চাইলো, সে ছিলো সদ্য বিবাহিত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে অনুমতি দিলেন এবং সঙ্গে তার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যাবার নির্দেশ দিলেন। সে বাড়ি ফিরে এসে দেখলো, তার স্ত্রী ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে। সে বর্শা দ্বারা তার স্ত্রীকে ইশারা করলো আর স্ত্রী বললো, তুমি তাড়াহুড়া করো না, আগে দেখো কিসে আমাকে বের হইতে বাধ্য করেছে। সে ঘরে প্রবেশ করে দেখলো এক বীভৎস সাপ। সে সেটিকে বর্শাবিদ্ধ করলো। সাপটি তখনো তড়পাচ্ছিলো। তিনি বলিলেন, আমার জানা নেই কার মৃত্যু আগে হয়েছে, লোকটির না সাপটির! তার গোত্রের লোকজন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আপনি আল্লাহর নিকট দুআ করুন যাতে তিনি আমাদের সঙ্গীকে ফিরিয়ে দেন। তিনি বলিলেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। তারপর বলিলেনঃ মাদীনাহ্‌র একদল জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাহাদের কাউকে যদি তোমরা দেখিতে পাও তাহলে তিনবার তাহাকে সতর্ক করিবে। তারপরও যদি তোমাদের সামনে তা আত্মপ্রকাশ না করে তাহলে তোমরা তাহাকে মারতে চাইলে তিনবার বলার পর মারতে পারো।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৫২৫৮

ইবনি আজলান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি আজলান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ হাদিস সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে। এতে রয়েছেঃ সে এটিকে তিনবার সতর্ক করিবে। তারপরও যদি দেখিতে পাও, তবে তাহাকে মারবে। কারণ তা একটি শয়তান। {৫২৫৬}

{৫২৫৬} মুসলিম।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৫২৫৯

হিশাম ইবনি যাহবার আযাদকৃত গোলাম আবুস সায়িব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরীর [রাদি.] নিকট গেলেন। অতঃপর অনুরূপ বরং এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গ হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছেঃ তিনদিন পর্যন্ত একে সতর্ক করো। তারপরও যদি তোমরা দেখিতে পাও, তাহলে সেটিকে হত্যা করো। কারণ সেটি হচ্ছে একটি শয়তান।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৬০

আবদুর রহমান ইবনি আবু লাইলাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে ঘরে বসবাসকারী সাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের বসবাসের ঘরে এগুলোকে দেখিতে পেলে বলবেঃ আমি তোমাদেরকে সেই ওয়াদার কসম দিয়ে বলছি যা নূহ [আঃ] তোমাদের থেকে গ্রহণ করেছিলেন। অথবা আমি তোমাদেরকে সেই ওয়াদার কসম দিয়ে বলছি যা সুলায়মান [আঃ] তোমাদের কাছ থেকে নিয়েছিলেন যে, তোমরা আমাদের ক্ষতি করিবে না। এরপরও তারা ফিরে এলে তোমরা তাহাদের মেরে ফেলো। {৫২৫৮}

{৫২৫৮} তিরমিজি, নাসায়ীর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ। ঈমাম তিরমিজি বলেন, এ হাদিসটি হাসান গরীব।

এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫২৬১

ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলিয়াছেন, তোমরা সব সাপকেই হত্যা করিবে, কেবল সাদা জিন ব্যতীত যা দেখিতে রৌপ্য দন্ডের মত। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমাকে এক ব্যক্তি বলিয়াছেন, সাদা সাপ আঁকাবাঁকা হয়ে চলাচল করে না। এটা যদি সঠিক হয়ে থাকে তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তা এই সাপের একটি নিদর্শন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাওকুফ

অনুচ্ছেদ-১৭৬ঃ টিকটিকি হত্যা করা সম্পর্কে

৫২৬২

আমির ইবনি সাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গিরগিটি [টিকটিকি] মারার হুকুম করেছেন। তিনি তার নাম দিয়েছেন অনিষ্টকারী।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৬৩

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতে একটি গিরগিটি [টিকটিকি] হত্যা করিবে, তার জন্য এরূপ সওয়াব রয়েছে। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে এটি হত্যা করিবে, তার জন্য এরূপ এরূপ সওয়াব রয়েছে, যা প্রথম আঘাতে মারার তুলনায় কম। আর যে ব্যক্তি তৃতীয় আঘাতে তা হত্যা করিবে, তার জন্য এরূপ এরূপ সওয়াব রয়েছে, যা দ্বিতীয় আঘাতে হত্যার চেয়ে কম।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৬৪

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ প্রথম আঘাতে মারতে পারলে তার জন্য সত্তর নেকী রয়েছে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭৭ঃ পিঁপড়া মারা সম্পর্কে

৫২৬৫

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন এক নাবী [আঃ] এক গাছের নিচে বসবাস করছিলেন। একটি পিঁপড়া তাঁকে কামড় দিলো। তিনি বিছানাপত্র সরানোর নির্দেশ দিলে তা তাহাঁর নিচ হইতে সরানো হলো। তারপর তিনি আদেশ দিলে সব পিঁপড়া জ্বালিয়ে দেয়া হলো। আল্লাহ তাহাঁর নিকট ওয়াহী পাঠালেনঃ একটি মাত্র পিঁপড়া নয় কেন?

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৬৬

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ একদা একটি পিঁপড়া এক নাবীকে কামড় দিলে তাহাঁর নির্দেশে সব পিঁপড়া জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ ঐ নাবীর নিকট ওয়াহী পাঠালেনঃ তোমাকে একটি মাত্র পিঁপড়া কামড় দিয়েছে। অথচ তুমি তাসবীহ পাঠরত একটি উম্মাত ধ্বংস করে দিলে!

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৬৭

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] চার প্রকার প্রাণী হত্যা করিতে বারণ করেছেনঃ পিঁপড়া, মধুমক্ষিকা, হুদহুদ পাখি এবং চড়ুই সদৃশ বাজ পাখি।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫২৬৮

আবদুর রহমান ইবনি আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলিয়াছেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে সফরে ছিলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য চলে গেলেন। এদিকে আমরা একটি ছোট পাখি দেখিতে পেলাম। তার সঙ্গে ছিলো দুটি বাচ্চা। আমরা বাচ্চা দুটিকে ধরে ফেলি। মা পাখিটি এসে পাখা ঝাপটাতে লাগলো। নাবী [সাঃআঃ] ফিরে এসে বলিলেনঃ কে এই পাখিটিকে তার বাচ্চা ধরে এনে ভীত সন্ত্রস্ত করেছে? তোমরা এটির বাচ্চা ফিরিয়ে দাও। নাবী [সাঃআঃ] আমাদের পুড়িয়ে মারা পিঁপড়ার একটি বাসস্থানও দেখিতে পেলেন। তিনি বলিলেনঃ এগুলো কে পুড়িয়েছে? আমরা বলিলাম, আমরা। তিনি বলিলেনঃ আগুনের রব ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়া কারো পক্ষে সমীচীন নয়।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭৮ঃ ব্যাঙ হত্যা করা

৫২৬৯

আবদুর রহমান ইবনি উসমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা এক ডাক্তার নাবী [সাঃআঃ]-কে ঔষধ তৈরীতে ব্যাঙ ব্যবহার করা বিষয়ে প্রশ্ন করলো। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে ব্যাঙ মারতে বারণ করেন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭৯ঃ পাথর কুচি নিক্ষেপ করা

৫২৭০

আবদুল্লাহ ইবনি মুগাফ্‌ফাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাথরকণা নিক্ষেপ করিতে বারণ করেছেন। তিনি বলিয়াছেনঃ এর দ্বারা শিকারও ধরা যায় না, শত্রুকেও আঘাত করা যায় না, বরং তা চোখ নষ্ট করে এবং দাঁত ভেঙ্গে ফেলে।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮০ঃ খাত্‌না করা সম্পর্কে

৫২৭১

উম্মু আত্বিয়্যাহ আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মাদীনাতে এক মহিলা খাতনা করতো। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেনঃ তুমি গভীর করে কাটবে না। কারণ তা মেয়েলোকের জন্য অধিকতর আরামদায়ক এবং স্বামীর জন্য অতি পছন্দনীয়। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনি আমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে আব্দুল মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে একই অর্থে ও সানাদে এটি বর্ণিত হয়েছে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদিসটির সনদ দুর্বল।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮১ঃ রাস্তায় পুরুষদের সাথে নারীদের যাতায়াত সম্পর্কে

হামাযাহ ইবনি আবু উসাইদ আল-আনসারী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

৫২৭২

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন, যখন তিনি মাসজিদ হইতে বের হওয়ার সময় দেখেন, রাস্তায় পুরুষরা মহিলাদের সঙ্গে এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মহিলাদের বলিলেনঃ তোমরা একটু অপেক্ষা করো। কারণ তোমাদের রাস্তার মাঝ দিয়ে চলাচলের পরিবর্তে পাশ দিয়ে চলাচল করা উচিৎ। সুতরাং মহিলারা দেয়ালের পাশ দিয়ে চলাচল করতো, এতে তাহাদের চাদর দেয়ালের সাথে আটকে যেতো। {৫২৭০}

{৫২৭০} বায়হাক্বী।

এই হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৫২৭৩

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] পুরুষ লোককে দুই মহিলার মাঝখান দিয়ে চলাচল করিতে বারণ করেছেন। {৫২৭১}

বানোয়াটঃ যঈফাহ হা/৩৭৫।

{৫২৭১} হাকিম। ঈমাম হাকিম বলেনঃ সনদ সহিহ। কিন্তু ঈমাম যাহাবী বলেনঃ সনদের দাউদ বিন সালিহ সম্পর্কে ইবনি হিব্বান বলেনঃ তিনি মাওযু ও বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করেন।

এই হাদিসের তাহকিকঃ জাল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮২ঃ সময়কে গালি দেয়া সম্পর্কে

৫২৭৪

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মহামহিম আল্লাহ বলেনঃ আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়। সে যুগকে [সময়কে] গালি দেয়। অথচ যুগ আমারই নিয়ন্ত্রণে। আমিই রাত ও দিন পরিবর্তন করি।

এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি

ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, তীর, লৌহবর্ম ইত্যাদি ইসলামের যুদ্ধ নীতি ঘোড়া, পশু, তরবারি, …

Leave a Reply

%d bloggers like this: