হিসাব ও শাস্তি ছাড়াই মুসলিমদের একাধিক দল জান্নাতে প্রবেশ করার প্রমাণ

হিসাব ও শাস্তি ছাড়াই মুসলিমদের একাধিক দল জান্নাতে প্রবেশ করার প্রমাণ

হিসাব ও শাস্তি ছাড়াই মুসলিমদের একাধিক দল জান্নাতে প্রবেশ করার প্রমাণ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিচে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায় পড়ুন

৯৪. অধ্যায়ঃ হিসাব ও শাস্তি ছাড়াই মুসলিমদের একাধিক দল জান্নাতে প্রবেশ করার প্রমাণ

৪০৮

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

নবি [সাঃআ:] বলেছেন, আমার উম্মাতের সত্তর হাজার লোক হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করিবে। জনৈক সহাবা [উক্কাশাহ্] বলিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্‌! আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, আমাকে যেন তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] দুআ করিলেন, ইয়া আল্লাহ! ওকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। তারপর আরেকজন সহাবা দাঁড়িয়ে বলিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্‌! আমার জন্যও আল্লাহর কাছে দুআ করুন, আমাকেও যেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বললেনঃ এ সুযোগ লাভে উক্কাশাহ্ তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে। [ই.ফা. ৪১৩ ই.সে ৪২৭]

৪০৯

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনিয়াছি ….. পরবর্তী অংশ উপরোল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ। [ই.ফা. ৪১৪ ই.সে ৪২৮]

৪১০

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমার উম্মাতের একটি দল জান্নাতে প্রবেশ করিবে। তাহাদের সংখ্যা হইবে সত্তর হাজার। তাহাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় চমকাতে থাকিবে।

আবু হুরাইরা [রাঃআ:] বলেন, তখন উক্কাশাহ্ ইবনি মিহসান আসাদী দাঁড়ালেন। তাহাঁর গায়ে একটি চাদর ছিল। বলিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্‌! আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন তিনি যেন আমাকেও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! একে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। এরপর আরেকজন আনসারী দাঁড়িয়ে বলিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন তিনি যেন আমাকেও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বললেনঃ এ সুযোগ লাভে উক্কাশাহ্ তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে। [ই.ফা. ৪১৫; ই.সে. ৪২৯]

৪১১

আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক জান্নাতে প্রবেশ করিবে। আর তাহাদের একটি দলের চেহারা হইবে চাঁদের মত [উজ্জ্বল]। [ই.ফা. ৪১৬; ই.সে. ৪৩০]

৪১২

ইমরান [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর নবি [সাঃআ:] বলেছেনঃ আমার উম্মাতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, তারা কারা, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআ:]? তিনি বললেনঃ যারা ক্ষতস্থানে লোহা পুড়ে লাগায় না এবং [জাহিলী যুগের ন্যায়] ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্রের দ্বারা চিকিৎসা কামনা করে না বরং তারা আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করে। এ সময় উক্কাশাহ্‌ [রাঃআ:] উঠে দাঁড়িয়ে বলিলেন, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন, তিনি যেন আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নবি [সাঃআ:] বলিলেন, তুমিও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলিল, হে আল্লাহর নবি! আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, তিনি আমাকেও যেন তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। উত্তরে নবি [সাঃআ:] বললেনঃ উক্কাশাহ্ তোমার আগেই সে দলভুক্ত হয়ে গেছে। [ই.ফা. ৪১৭; ই.সে. ৪৩১]

৪১৩

ইমরান ইবনি হুসায়ন [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করিবে। সহাবাগণ জিজ্ঞেস করিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! এরা কারা? রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বললেনঃ যারা ঝাড়ফুঁক করায় না, পাখি উড়িয়ে শুভাশুভের লক্ষণ মেনে চলে না, অগ্নি দাগ গ্রহণ করে না, বরং সর্বদাই আল্লাহর ওপর নির্ভর করে [তারাই]। [ই.ফা. ৪১৮; ই.সে. ৪৩২]

৪১৪

সাহ্‌ল ইবনি সাদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার বা সাত লক্ষ [এখানে রাবী আবু হাযিম কোন সংখ্যাই নিশ্চিত করে বলিতে পারেননি] লোক পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একে অন্যের হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। তাহাদের প্রথম ব্যক্তি শেষ ব্যক্তির প্রবেশের আগে প্রবেশ করিবে না, বরং সবাই একত্রে প্রবেশ করিবে। তাহাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত চমকাতে থাকিবে। [ই.ফা. ৪১৯; ই.সে. ৪৩৩]

৪১৫

হুসায়ন ইবনি আবদুর রহমান [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনি যুবায়র-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি প্রশ্ন করিলেন, তোমাদের মধ্য হতে কেউ রাতে যে তারকাটি বিচ্যুত হয়েছিল তা দেখেছ কি? আমি বললাম, আমি দেখেছি। অবশ্য আমি রাতের সলাতে রত ছিলাম না; আমাকে বিচ্ছু দংশন করেছিল। সাঈদ বলিলেন, দংশন করার পর তুমি কী করেছিলে? আমি বললাম, ঝাড়ফুঁক করিয়েছি। তিনি বলিলেন, তোমাকে এ ঝাঁড়ফুক গ্রহণে কিসে উদ্বুদ্ধ করিল? আমি বললাম, সে হাদীস যা আমাদেরকে শাবী বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, শাবী কী হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন? আমি বললাম, শাবী বুরাইদাহ্‌ ইবনি হুসায়ন আল আসলামী [রাঃআ:]-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, কুদৃষ্টি বা বিচ্ছু দংশন ব্যতীত অন্য বিষয়ে ঝাড়ফুঁক করানো উচিত নয়।

তিনি বলিলেন, ভাল বলেছেন। ইবনি আব্বাস [রাঃআ:] নবি [সাঃআ:] হতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, স্বপ্নে আমার সামনে সকল নবিদের উপস্থিত করা হয়। অতঃপর তখন কোন কোন নবিকে দেখলাম যে, তাহাঁর সঙ্গে ছোট্ট একটি দল রয়েছে; আর কাউকে দেখলাম, তাহাঁর সঙ্গে একজন কিংবা দুজন লোক আবার কেউ এমনও ছিলেন যে, তাহাঁর সাথে কেউ নেই। হঠাৎ আমার সামনে এক বিরাট দল দেখা গেল। মনে হলো, এরা আমার উম্মাত। তখন আমাকে বলা হলো, ইনি মূসা [আ:] ও তাহাঁর উম্মাত; তবে আপনি ওপর দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন। আমি ওদিকে তাকালাম, দেখি বিরাট একদল, আবার বলা হলো, আপনি ওপর দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন, [আমি ওদিকে তাকিয়ে দেখলাম] এক বিরাট দল। বলা হলো, এরা আপনার উম্মাত। এদের মধ্যে সত্তর হাজার এমন লোক আছে যারা শাস্তি ব্যতীত ও হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করিবে। এ বলে রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] দাঁড়ালেন, অতঃপর তাহাঁর ঘরে চলে গেলেন। তারা উপস্থিত সহাবাগণ তখন এ হিসাব ও আযাববিহীন জান্নাতে প্রবেশকারী কারা হইবেন? এ নিয়ে আলোচনা শুরু করিলেন। কেউ বলিলেন, তাঁরা রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর সহাবা। কেউ বলিলেন, তারা সে সব লোক যারা ইসলামের উপর জন্মলাভ করেছে এবং আল্লাহর সঙ্গে কোন প্রকার শির্‌ক করেনি এবং তাঁরা বহু জিনিসের উল্লেখ করিলেন। তারপর রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] তাঁদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেনঃ তোমরা কী নিয়ে আলোচনা করছিলে? সবাই বিষয়টি [খুলে] বলিলেন। তখন রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] তাঁদের বললেনঃ এরা সে সব লোক যারা ঝাড়ফুঁক করে না বা তা গ্রহণও করে না, পাখি উড়িয়ে শুভাশুভের লক্ষণ মানে না বরং সর্বদাই আল্লাহর উপর নির্ভর করে। তখন উক্কাশাহ্ ইবনি মিহসান [রাঃআ:] দাঁড়িয়ে বলিলেন, আমার জন্যে দুআ করুন, আল্লাহ যেন আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বললেনঃ তুমি তাহাদেরই একজন থাকিবে। তারপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্যও দুআ করুন, আল্লাহ যেন আমাকেও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] উত্তর : এ সুযোগ লাভ উক্কাশাহ্ তোমার চাইতে অগ্রগামী হয়ে গেছে। [ই.ফা. ৪২০; ই.সে. ৪৩৪]

৪১৬

ইবনি আব্বাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেছেনঃ স্বপ্নে আমার সামনে সকল উম্মাতকে পেশ করা হয় ….. এভাবে বর্ণনাকারী হুসায়ন বর্ণিত হাদীসের অনুরূপই বর্ণনা করেন। কিন্তু হাদীসটির প্রথমাংশ উল্লেখ করেনি। [ই.ফা. ৪২১; ই.সে. ৪৩৫]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply