নতুন লেখা

শারীয়াত হিসেবে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যা আদেশ করিয়াছেন

শারীয়াত হিসেবে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যা আদেশ করিয়াছেন

শারীয়াত হিসেবে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যা আদেশ করিয়াছেন >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৮. অধ্যায়ঃ শারীয়াত হিসেবে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যা আদেশ করিয়াছেন তা পালন করা ওয়াজিব আর পার্থিব বিষয়ে তিনি যে অভিমত ব্যক্ত করেন তা পালন করা ওয়াজিব নয়

৬০২০

তাল্‌হাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে খর্জুর বৃক্ষের মাথায় দাঁড়ানো একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এরা কি করছে? মানুষেরা বলিল, এরা খেজুর গাছের পরাগায়ণ করছে। নরকে মাদীর [কেশর] সংমিশ্রণ করে, ফলে তা গর্ভ ধারণ করে। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমার মনে হয় না এতে কোন লাভ হয়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বক্তব্য সাহাবাদের নিকট পৌঁছলে তাঁরা প্রজনন কর্ম থেকে বিরত থাকেন। তারপর এ সংবাদ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেয়া হলো। তিনি বলিলেন, এতে যদি তাদের লাভ হয়ে থাকে তবে তাঁরা করুক। আমি তো ধারণাপ্রসুত- এ কথা বলেছি। তাই তোমরা আমার অনুমানকে ধরে রেখো না। কিন্তু আমি যদি আল্লাহর তরফ হইতে কোন কথা বলি, তবে সেটার উপর আমাল করো। কারণ আমি আল্লাহর উপর কখনই মিথ্যা অপবাদ দেই না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯১৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯৫২]

৬০২১

রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাদীনায় আসলেন। সে সময় লোকেরা খেজুর বৃক্ষ তাবীর করত। বর্ণনাকারী বলেন, অর্থাৎ- খেজুর বৃক্ষকে পরাগায়ন করাত। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা কি করছ? তাঁরা বলিল, আমরা তো এমন করে আসছি। তিনি বলিলেন, [আমার মনে হয়] তোমরা এমন না করলেই ভাল হয়। তাই তাঁরা তা ছেড়ে দিল। আর এতে করে খেজুর ঝরে পড়ল কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, তার উৎপাদন হ্রাস পেল। বর্ণনাকারী বলেন, মানুষেরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এ ঘটনা ব্যক্ত করিল। তখন তিনি বলিলেন, আমি তো একজন মানুষ মাত্র এতে কোন সন্দেহ নেই। দ্বীনের ব্যাপারে যখন তোমাদের আমি কোন নির্দেশ দেই তোমরা তখন তা পালন করিবে, আর যখন কোন কথা আমি আমার ধ্যান-ধারণা থেকে বলি, তখন [বুঝতে হইবে] আমি একজন মানুষ মাত্র।

বর্ণনাকারী ইকরামাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, নবী [সাঃআঃ] অনুরূপ বলেছেন।

আর মাকিরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] নিঃসন্দেহে শুধু নাফাযাত [ঝড়ে পড়ল] বলেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯১৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯৫৩]

৬০২২

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] যারা খেজুর বৃক্ষ তাবীর করত এদের কতক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলিলেন, এটি যদি না করিতে তাহলে তোমাদের ভাল হতো। লোকেরা বিরত থাকল। এতে চিটা খেজুর উৎপন্ন হলো। তারপরে কোন এক সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি প্রশ্ন করিলেন, তোমাদের খেজুর বৃক্ষের কি হলো? ব্যক্তিরা বলিল, আপনি এরূপ এরূপ বলেছিলেন [সেটি করায় এমন হয়েছে]। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমাদের দুনিয়াবী ব্যাপারে তোমরাই ভাল জানো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯১৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯৫৪]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: