শাইতানের উস্কিয়ে দেয়া , মানুষের মাঝে ফিত্নাহ্ সৃষ্টি …

শাইতানের উস্কিয়ে দেয়া , মানুষের মাঝে ফিত্নাহ্ সৃষ্টি

শাইতানের উস্কিয়ে দেয়া , মানুষের মাঝে ফিত্নাহ্ সৃষ্টি >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৬. অধ্যায়ঃ শাইতানের উস্কিয়ে দেয়া , মানুষের মাঝে ফিত্নাহ্ সৃষ্টি করার উদ্দেশে শাইতান কর্তৃক সেনাদল পাঠানো এবং প্রতিটি মানুষের সঙ্গে একজন সাথী রয়েছে

৬৯৯৬. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, আরব ভূখণ্ডে মুসল্লীগণ শাইতানের উপাসনা করিবে, এ বিষয়ে শাইতান নিরাশ হয়ে পড়েছে। তবে তাদের একজনকে অন্যের বিরুদ্ধে উস্কিয়ে দেয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়নি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৯৯]

৬৯৯৭. আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯০০]

৬৯৯৮. জারীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] হইতে শুনেছি। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই ইবলিসের আর্‌শ সমুদ্রের উপর স্থিরকৃত। সে লোকেদেরকে ফিতনায় নিপতিত করার উদ্দেশে তার বাহিনী পাঠায়। শাইতানের কাছে সবচেয়ে বড় সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি ফিতনা সৃষ্টিকারী।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯০১]

৬৯৯৯. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ইবলীস পানির উপর তার আরশ স্থাপন করতঃ তার বাহিনী প্রেরণ করে। তম্মধ্যে তার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জনকারী সে-ই যে সবচেয়ে বেশী ফিতনা সৃষ্টিকারী। তাদের একজন এসে বলে, আমি অমুক অমুক কাজ করেছি। সে বলে, তুমি কিছুই করনি। অতঃপর অন্যজন এসে বলে, অমুকের সাথে আমি সকল প্রকার ধোঁকার আচরণই করেছি। এমনকি তার থেকে তার স্ত্রীকে আলাদা করে দিয়েছি। তারপর শাইতান তাকে তার নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে হ্যাঁ, তুমি খুব ভাল।

রাবী আমাশ বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেনঃ অতঃপর শাইতান তার সাথে আলিঙ্গন করে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯০২]

৭০০০. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন, শাইতান তার সৈন্য বাহিনীকে পাঠিয়ে লোকেদেরকে ফিতনায় নিপতিত করে। তম্মধ্যে সে-ই তার নিকট সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী যে অধিক ফিতনা সৃষ্টিকারী।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯০৩]

৭০০১. আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই একটি শাইতান নির্ধারিত আছে। সহাবাগণ প্রশ্ন করিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সাথেও কি? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, আমার সাথেও। তবে তার মুকাবিলায় আল্লাহ আমাকে সাহায্য করিয়াছেন। এখন আমি তার সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। এখন সে আমাকে কল্যাণকর বিষয় ছাড়া কক্ষনো অন্য কিছুর নির্দেশ দেয় না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯০৪]

৭০০২. মানসূর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

জারীর থেকে অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে সুফ্ইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, প্রত্যেক মানুষের সাথে একটি শাইতান সঙ্গীরূপে এবং একজন ফেরেশ্তা সঙ্গীরূপে নিযুক্ত রয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯০৫]

৭০০৩. নবী [সাঃআঃ]-এর সহধর্মিণী আয়িশাহ্ সিদ্দীকা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন এক রজনীতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার কাছ থেকে বের হলেন। তিনি বলেন, এতে আমার মনে কিছুটা অহমিকা আসল। তারপর তিনি এসে আমার অবস্থা অবলোকন করে বলিলেন, হে আয়িশাহ্! তোমার কি হয়েছে? তুমি কি ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছো? উত্তরে আমি বললাম, আমার ন্যায় মহিলা আপনার ন্যায় স্বামীর প্রতি কেন ঈর্ষাপরায়ণ হইবে না? এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমার শাইতান মনে হয় তোমার কাছে এসেছে? তখন তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার সঙ্গেও কি শাইতান রয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তারপর আমি বললাম, প্রত্যেক মানুষের সাথেই কি শাইতান রয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সঙ্গেও কি রয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, আমার সঙ্গেও। তবে আল্লাহ তাআলা তার মুকাবিলায় আমাকে সাহায্য করিয়াছেন। এখন তার ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৫০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯০৬]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply