পানীয় ও পানপাত্র । শরাব ও প্রতিটি নেশা উদ্রেককারী হারাম

পানীয় ও পানপাত্র । শরাব ও প্রতিটি নেশা উদ্রেককারী হারাম

পানীয় ও পানপাত্র । শরাব ও প্রতিটি নেশা উদ্রেককারী হারাম , এই অধ্যায়ে মোট =৬৫ টি হাদীস (৩৩৭১ – ৩৪৩৫) >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৩০, অধ্যায়ঃ (১-২৭)=২৭টি, হাদীস ( ৩৩৭১ – ৩৪৩৫ )

২৪/১. অধ্যায়ঃ শরাব সমস্ত পাপ কাজের প্রসূতি
২৪/২. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরাব পান করে, সে আখেরাতে তা থেকে বঞ্চিত থাকিবে
২৪/৩. অধ্যায়ঃ শরাবখোর
২৪/৪. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি শরাব পান করে তাহার নামায কবুল হয় না
২৪/৫. অধ্যায়ঃ যা থেকে শরাব তৈরি হয়
২৪/৬. অধ্যায়ঃ শরাবের উপর দশ প্রকারের অভিসম্পাত করা হইয়াছে।
২৪/৭. অধ্যায়ঃ শরাবের ব্যবসা
২৪/৮. অধ্যায়ঃ লোকেরা [শেষ যমানায়] শরাবের বিভিন্ন নামকরণ করিবে
২৪/৯. অধ্যায়ঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককারী জিনিস হারাম
২৪/১০. অধ্যায়ঃ যে জিনিসের অধিক পরিমাণ নেশা উদ্রেক করে, তাহার সামান্য পরিমাণও হারাম।
২৪/১১. অধ্যায়ঃ দুটি জিনিসের সংমিশ্রণে [উত্তেজক পানীয়] প্রস্তুত নিষিদ্ধ।
২৪/১২. অধ্যায়ঃ নাবীয বানানো এবং তা পান করা
২৪/১৩. অধ্যায়ঃ শরাবের পাত্রে নাবীয বানানো নিষেধ
২৪/১৪. অধ্যায়ঃ উপরোক্ত পাত্রগুলোতে নাবীয তৈরী করার অনুমতি
২৪/১৫. অধ্যায়ঃ মাটির কলসে নাবীয বানানো
২৪/১৬. অধ্যায়ঃ পাত্র ঢেকে রাখা
২৪/১৭. অধ্যায়ঃ রুপার পাত্রে পান করা
২৪/১৮. অধ্যায়ঃ তিন নিঃশ্বাসে পানীয় দ্রব্য পান করা
২৪/১৯. অধ্যায়ঃ মশকের মুখ উল্টিয়ে পানি পান করা
২৪/২০. অধ্যায়ঃ মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা
২৪/২১. অধ্যায়ঃ দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করা
২৪/২২. অধ্যায়ঃ পানীয় পানের সময় পর্যায়ক্রমে ডান দিকের ব্যক্তিকে দিতে হইবে
২৪/২৩. অধ্যায়ঃ পানির পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলা নিষেধ
২৪/২৪. অধ্যায়ঃ পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দেয়া নিষেধ
২৪/২৫. অধ্যায়ঃ আঁজলা ভরে পানি পান করা এবং পানিতে মুখ লাগিয়ে পান করা
২৪/২৬. অধ্যায়ঃ পরিবেশনকারী সবশেষে পান করিবে
২৪/২৭. অধ্যায়ঃ গ্লাসে পান করা

২৪/১. অধ্যায়ঃ শরাব সমস্ত পাপ কাজের প্রসূতি

৩৩৭১. আবু দারদা [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

আমার বন্ধু [সাঃআঃ] আমাকে উপদেশ দিয়েছেন ঃ শরাব পান করো না, কারণ তা সমস্ত পাপাচারের প্রসূতি। {৩৩৭১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৭১} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহ আল-জামি ৭৩৩৪, আত-তালীকুর রাগীব ১/১৯৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. রাশিদ আবু মুহাম্মাদ আল-হিম্মানী সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করিতেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৮২৯, ৯/১৬ নং পৃষ্ঠা] ২. শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শুবাহ ইবনিল হাজ্জাজ তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৮১, ১২/৫৭৮ নং পৃষ্ঠা] ৩. আবদুল ওয়াহহাব সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬০৫, ১৮/৫০৯ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৭২. খাব্বাব ইবনিল আরাত্তি [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ সাবধান ! শরাব পরিহার করো। কারণ শরাবের পাপ অন্যান্য পাপাচারকে আওতাভুক্ত করে নেয়, যেমন তাহার গাছ [আংঙ্গুর গাছ] অন্যান্য গাছের উপর বিস্তারিত হয়। {৩৩৭২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দূর্বল।{৩৩৭২} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আত-তালীকুর রাগীব ৩/১৮২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আল-আব্বাস বিন উসমান আদ-দিমাশকী সম্পর্কে আবুল হাসান বিন সুমায় বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি কখনো কখনো সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৩২, ১৪/২৩৩ নং পৃষ্ঠা] ২. মুনীর ইবনিয যুবায়র সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী, ঈমাম যাহাবী ও দুহায়ম আদ-দিমাশকী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬২১২, ২৫/৫৭৩ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৪/২. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরাব পান করে, সে আখেরাতে তা থেকে বঞ্চিত থাকিবে

৩৩৭৩. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরাব পান করিল, সে তা থেকে তওবা না করিলে, আখেরাতে তা পান করিতে পারবে না। {৩৩৭৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।

{৩৩৭৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৫৭৫, মুসলিম ১৪৮৬, ১৪৯০, ২০০৩, তিরমিজি ১৮৬১, নাসাঈ ৫৬৭১, ৫৬৭৩, ৫৬৭৪,আবু দাউদ ৩৬৭৯, আহমাদ ৪৬৭৬, ৪৭১৫, ৪৮০৮, ৪৮৯৭, মুয়াত্তা মালিক ১৫৯৭, দারেমী ২০৯০, রাওদুন নাদীর ৫৬১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৭৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরাব পান করে, সে আখেরাতে তা পান করিতে পারবে না। {৩৩৭৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। {৩৩৭৪} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/৩. অধ্যায়ঃ শরাবখোর

৩৩৭৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ শরাবখোর [পাপের ক্ষেত্রে] মূর্তিপূজকের সমতুল্য। {৩৩৭৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।{৩৩৭৫} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ৬৭৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ১. মুহাম্মাদ বিন সুলায়ম আল-আসবাহানী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫২৬২, ২৫/৩০৮ নং পৃষ্ঠা] ২. সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তাহার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩৭৬. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ শরাব পানে অভ্যস্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না। {৩৩৭৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৭৬} আহমাদ ২৬৯৩৮, সহীহাহ ৬৭৫, ৬৭৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/৪. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি শরাব পান করে তাহার নামায কবুল হয় না

৩৩৭৭. আবদুল্লাহ বিন আমর [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শরাব পান করে এবং মাতাল হয়, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাহার নামাজ কবুল হয় না। সে মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে। আর যদি সে তওবা করে, তবে আল্লাহ তায়ালা তাহার তওবা কবুল করবেন। সে পুনরায় শরাব পানে লিপ্ত হলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাহাকে রাদগাতুল খাবাল পান করাবেন। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! রাদগাতুল খাবাল কী? তিনি বলেনঃ জাহান্নামীদের দেহ থেকে নির্গত পুঁজ ও রক্ত। {৩৩৭৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৭৭} তিরমিজি ১৮৬২, নাসাঈ ৫৬৬৪, ৫৬৭০, আহমাদ ৬৬০৬, ৬৭৩৪, দারেমী ২০৯১, সহীহাহ ৭০৯, আত-তালীক আলা ইবনি খুযাইমাহ ৯৩৯, তাখরীজুল ঈমান লি ইবনিস সালাম ৯১, মিশকাত ৩৬৮৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/৫. অধ্যায়ঃ যা থেকে শরাব তৈরি হয়

৩৩৭৮. আবু হুরাইরাহ[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, শরাব এ দুটি গাছ থেকে তৈরী হয়ঃ খেজুর গাছ ও আংগুর গাছ। {৩৩৭৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৭৮} মুসলিম ১৯৮৫, তিরমিজি ১৮৭৫, নাসাঈ ৫৫৭২, ৫৫৭৩, আবু দাউদ ৩৬৭৮, আহমাদ ৭৬৯৫, ৯০৩৯, ৯৭৯০, ১০০৬৭, ১০৩৩১, ১০৩৩২, ১০৪২৬, দারেমী ২০৯৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইকরিমাহ বিন আম্মার সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি কোন সিকাহ রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করিলে তাহার হাদিস গ্রহণযোগ্য। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ করেন। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪০০৮, ২০/২৫৬ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৭৯. নুমান বিন বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ গম থেকে শরাব হয়, বার্লি থেকে শরাব হয়, আংগুর থেকে শরাব হয়, খেজুর থেকে শরাব হয় এবং মধু থেকে শরাব হয়। {৩৩৭৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৭৯} তিরমিজি ১৮৭২, আবু দাউদ ৩৬৭৬, ৩৬৭৭, সহীহাহ ১৫৯৩, মিশকাত ৩৬৪৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি সারিয়্যা বিন ইসমাইল সম্পর্কে আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মানুষ তাহার হাদিস বর্জন করেছে, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবরাহীম বিন ইসহাক বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। ঈমাম যাহাবী তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২১৯৩, ১০/২২৭ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু সারিয়্যা বিন ইসমাইল এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৫৩ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ২০ টি খুবই দুর্বল, ৭১ টি দুর্বল, ৭৪ টি হাসান, ৮৮ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৫৫৮৮, তিরমিজি ১৮৭২, আবু দাউদ ৩৬৬৯, ৩৬৭৬, ৩৬৭৭, ৩৬৮৩, আহমাদ ৫৯৫৬, ১৫১৩১, ১৭৫১৩, ১৭৫৭৪, ১৭৫৭৫, ১৭৮৮৬, ১৭৯৪০, দারাকুতনী ৪৫৯৬, ৪৫৯৭, ৪৫৯৯, ৪৬০০, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১৩৫৫৫, ১৭০৮০, মুজামুল আওসাত ১১০৩, ৫৭১২, ৭২৮৫।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/৬. অধ্যায়ঃ শরাবের উপর দশ প্রকারের অভিসম্পাত করা হইয়াছে।

৩৩৮০. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ শরাবের উপর দশভাবে অভিসম্পাত করা হয়েছেঃ স্বয়ং শরাব [অভিশপ্ত], শরাব উৎপাদক, যে তা উৎপাদন করায়, তাহার বিক্রেতা, তাহার ক্রেতা, তাহার বহনকারী, তা যাহার জন্য বহন করা হয়, এর মূল্য ভোগকারী, তা পানকারী ও তা পরিবেশনকারী [এদের সকলেই অভিশপ্ত]। {৩৩৮০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৮০} আবু দাউদ ৩৬৭৪, আহমাদ ৫৬৮৩, মিশকাত ২৭৭৭, ইরওয়া ১৫২৯, রাওদুন নাদীর ৫৪৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল আযীয বিন উমার সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আবু হাফস উমার বিন শাহীন ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু মুসহির আল-গাসসানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবদুল আলা বিন মুসহির বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৬৪, ১৮/১৭৩ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৮১. আনাস বিন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ দশভাবে শরাবের উপর অভিশম্পাত করেছেনঃ শরাব প্রস্তুতকারী, তা উৎপাদনকারী, যে তা উৎপাদন করায়, যাহার জন্য তা উৎপাদন করা হয়, তা বহনকারী, যাহার জন্য তা বহন করা হয়, তাহার বিক্রেতা, তাহার পরিবেশনকারী এবং যাহার জন্য পরিবেশন করা হয়। এভাবে তিনি দশজনের উল্লেখ করিয়াছেন। {৩৩৮১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৮১} তিরমিজি ১২৯৫, গায়াতুল মারাম ৬০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি শাবীব সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬৮৯, ১২/৩৫৯ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/৭. অধ্যায়ঃ শরাবের ব্যবসা

৩৩৮২. আয়েশা [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

যখন সূদ সম্পর্কিত সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো নাযিল হয়, তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাইরে বের হয়ে আসেন এবং শরাবের ব্যবসাও নিষিদ্ধ [হারাম] ঘোষণা করেন। {৩৩৮২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ {৩৩৮২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৪৫৯, ২০৮৪, ২২২৬, ৪৫৪০, ৪৫৪১, ৪৫৪২, ৪৫৪৩, মুসলিম ১৫৮০, নাসাঈ ৪৬৬৫, আ৩৪৯০, আহমাদ ২৩৬৭৩, দারেমী ২৫৬৯, ২৫৭০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৮৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সামুরা [রাদি.] শরাব বিক্রয় করেন এ কথা উমার [রাদি.] জানতে পেরে বলিলেন, আল্লাহ সামুরাকে ধ্বংস করুনঃ সে কি জানে না যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “আল্লাহ তায়ালা ইহূদীদের অভিশম্পাত করুন, তাহাদের প্রতি চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তাহারা তা গলিয়ে বিক্রি করতো। {৩৩৮৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৮৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২২২৩, ৩৪৬০, মুসলিম ১৫৮২, নাসাঈ ৪২৫৭, আহমাদ ১৭১, দারেমী ২১০৪, ইরওয়া ১২৯০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/৮. অধ্যায়ঃ লোকেরা [শেষ যমানায়] শরাবের বিভিন্ন নামকরণ করিবে

৩৩৮৪. আবু উমামাহ আল-বাহিলী [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এমন কোন রাত এবং দিন অতিবাহিত হইবে না, যখন আমার উম্মাতের কতক লোক শরাবের ভিন্ন নামকরণ করে তা পান করিবে না। {৩৩৮৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৮৪} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ১/১৩৭, ১৩৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুস সালাম বিন আবদুল কুদ্দুস সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি মুনকার সুত্রে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও সালিহ বিন মুহাম্মাদ বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম যাহাবী তাহাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪২৪, ১৮৫/৮৭ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুস সালাম বিন আবদুল কুদ্দুস এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৯১ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১৪ টি খুবই দুর্বল, ৩০ টি দুর্বল, ১৮ টি হাসান, ২৯ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ আবু দাউদ ৩৬৮৯, দারেমী ২১০০, আহমাদ ১৭৬০৭, ২১৭২৭, ২২২০০, ২২৩৯২, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১৭০৫২, ১৭০৫৫। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৮৫. উবাদাহ ইবনিস সামিত [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার উম্মতের কতক লোক শরাবের ভিন্নতর নাম রেখে তা পান করিবে। {৩৩৮৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৮৫}আহমাদ ২২২০১, সহীহাহ ৯০, ৪১০৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আল হুসায়ন বিন আবুস সারী আল-আসকালনী সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও তিনি অপরিচিত। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু আরুবাহ আল-হারবানী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি মিথ্যুক। মুহাম্মাদ বিন আবুস সারী আল-আসকালনী বলেন, তোমরা আমার ভাই এর নিকট থেকে কেউ হাদিস গ্রহন করিও না, কারণ তিনি মিথ্যুক। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৩৩১, ৬/৪৬৮ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আল হুসায়ন বিন আবুস সারী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৯১ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১৪ টি খুবই দুর্বল, ৩০ টি দুর্বল, ১৮ টি হাসান, ২৯ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ আবু দাউদ ৩৬৮৯, দারেমী ২১০০, আহমাদ ১৭৬০৭, ২১৭২৭, ২২২০০, ২২৩৯২, মুসানান্নাফ আবদুর রাযযাক ১৭০৫২, ১৭০৫৫। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/৯. অধ্যায়ঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককারী জিনিস হারাম

৩৩৮৬. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ নেশা উদ্রেককর প্রতিটি পানীয় হারাম। {৩৩৮৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৪২, ৫৫৮৫, ৫৫৮৬, মুসলিম ২০০১, তিরমিজি ১৮৬৩, ১৮৬৬, নাসাঈ ৫৫৯০, ৫৫৯১, ৫৫৯২, ৫৫৯৩, ৫৫৯৪, আবু দাউদ ৩৬৮২, ৩৬৮৭, আহমাদ ২৩৫৬২, ২৩৯০২, ২৪১৩১, ২৫০৪৪, ২৫৩৬৩, মুয়াত্তা মালিক ১৫৯৫, দারেমী ২০৯৭, ইরওয়া ৮/৪১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৮৭. আব্দুল্লাহ বিন উমার [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককর জিনিস হারাম। {৩৩৮৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৮৭} মুসলিম ৩৭৩৩, ৩৭৩৪, ৩৭৩৫, তিরমিজি ১৮৬১, আহমাদ ৪৬৩০, ৪৮১৫, ৪৮৪৮, ৫৬১৬, ৫৬৯৭, ৫৭৮৬, ৬১৪৪, ৬১৮৩, ইরওয়া ৮/৪১, রাওদুন নাদীর ৫৪২-৫৪৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৮৮. ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককর জিনিস হারাম। {৩৩৮৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৮৮} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। ইরওয়া ৮/৪১, রাওদুন নাদীর ৫৪২-৫৪৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আয়্যুব বিন হানী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাহার পরিচয় সম্পর্কে আমার জানা নেই। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস গ্রহনে শিথিল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৩০, ৩/৫০১ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৮৯. মুআবিয়া [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককর জিনিস প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য হারাম। {৩৩৮৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩৩৮৯} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. খালিদ বিন হায়্যান আর-রাক্কী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় শিথিল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৬০১, ৮/৪২ নং পৃষ্ঠা] ২. সুলায়মান বিন আবদুল্লাহ ইবনিয যিবরিকান সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ঈমাম যাহাবী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি মাকবুল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫৩৪, ১২/১৬ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৯০. ইবনি উমার [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রতিটি নেশা উদ্রেককর জিনিস শরাবের অন্তর্ভুক্ত এবং যে কোন শরাবই হারাম। {৩৩৯০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৯০} মুসলিম ৩৭৩৩, ৩৭৩৪, ৩৭৩৫, তিরমিজি ১৮৬১, আহমাদ ৪৬৩০, ৪৮১৫, ৪৮৪৮, ৫৬১৬, ৫৬৯৭, ৫৭৮৬, ৬১৪৪, ৬১৮৩, ইরওয়া ৮/৪১, রাওদুন নাদীর ৫৪২-৫৪৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আলকামাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি সালিহ। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি কখনো হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনি আদী বলেন, তাহার হাদিস বর্ণনায় সমস্যা নেই। ঈমাম নাসাঈ তাহাকে সিকাহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৯১. আবু মুসা [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নেশা সৃষ্টকারী প্রতিটি জিনিস হারাম। {৩৩৯১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৯১} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৪৩৪৩, ৪৩৪৫, ৬১২৪, মুসলিম ১৭৩৩, নাসাঈ ৫৫৯৫,৫৫৯৭, ৫৬০২, ৫৬০৩, ৫৬০৪, আবু দাউদ ৩৬৮৪, আহমাদ ১৯১৭৪, ১৯২২৯, ১৯২৪৩, দারেমী ২০৯৮, রাওদুন নাদীর ৮৫৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/১০. অধ্যায়ঃ যে জিনিসের অধিক পরিমাণ নেশা উদ্রেক করে, তাহার সামান্য পরিমাণও হারাম।

৩৩৯২. আব্দুল্লাহ বিন উমার [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে কোন নেশা উদ্রেককর জিনিস হারাম। আর যে জিনিসের অধিক পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে তাহার সামান্য পরিমাণও হারাম। {৩৩৯২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৯২} মুসলিম ৩৭৩৩, ৩৭৩৪, ৩৭৩৫, তিরমিজি ১৮৬১, আহমাদ ৪৬৩০, ৪৮১৫, ৪৮৪৮, ৫৬১৬, ৫৬৯৭, ৫৭৮৬, ৬১৪৪, ৬১৮৩, ইরওয়া ২৩৭৩, ২৩৭৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়্যা বিন মানযুর সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু আহমাদ আল-আসকারী বলেন, তাহার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু বিশর আদ-দাওলাবী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৯৯৬, ৯/৩৬৯ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু যাকারিয়্যা বিন মানযুর এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির শতাধিক শাহিদ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ২৪২, ২৪৬৪, ৪৩৪৩, ৪৩৪৫, ৫৫৮৫, ৫৫৮৬, ৫৫৯৮, ৬১২৪, মুসলিম ১৫৮০, ১৭৩৩, ২০০২, ২০০৩, তিরমিজি ১২৯৩, ১৮৬১, ১৮৬৩, ১৮৬৪, ১৮৬৬, আবু দাউদ ৩৬৭৩, ৩৬৭৯, ৩৬৮০, ৩৬৮২, ৩৬৮৫, ৩৬৮৬, ৩৬৮৭, দারেমী ২০৯৭, ২০৯৮, আহমাদ ২৪৭২, ২৬২০, ৩২৬৪, ১৯১০০, ১৯২২৮। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৯৩. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যে জিনিসের অধিক পরিমান নেশা উদ্রেক করে, তাহার সামান্য পরিমানও হারাম। {৩৩৯৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ।{৩৩৯৩} তিরমিজি ১৮৬৫, আবু দাউদ ৩৬৮১, আহমাদ ১৪২৯৩, ইরওয়া ৮/৪৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৩৯৪. আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যে জিনিসের অধিক পরিমান নেশা সৃষ্টি করে, তাহার সামান্য পরিমানও হারাম। {৩৩৯৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ। {৩৩৯৪} নাসাঈ ৫৬০৭, আহমাদ ২৭৯৪২, ৬৬৯৯, ইরওয়া ৮/৪৩, ৪৪, রাওদুন নাদীর ৫৮৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২৪/১১. অধ্যায়ঃ দুটি জিনিসের সংমিশ্রণে [উত্তেজক পানীয়] প্রস্তুত নিষিদ্ধ।

৩৩৯৫. জাবির বিন আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খেজুর ও আংগুর একত্রে ভিজিয়ে নাবীয তৈরী করিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং পাকা খেজুর ও কাঁচা খেজুর একত্রে মিশিয়ে নাবীয তৈরী করিতেও নিষেধ করিয়াছেন। মুহাম্মাদ বিন রুমহ, লায়স বিন সাদ, আতা, জাবিন বিন আবদুল্লাহ [রাদি.]। {৩৩৯৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৯৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৬০১, মুসলিম ১৯৮৬, তিরমিজি ১৮৭৬, নাসাঈ ৫৫৫৬, ৫৫৬২, আবু দাউদ ৩৭০৩, আহমাদ ১৩৭২০, ১৩৭৮৭, ১৩৮২৮, ১৪০০৭, ১৪৫০১, ২৭৭৩০, ১৪৭৫৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৯৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা কাঁচা খেজুর ও শুকনা খেজুর একত্রে ভিজিয়ে নাবীয তৈরী করো না, তবে এর প্রতিটি পৃথকভাবে ভিজিয়ে নাবীয তৈরী করিতে পার। {৩৩৯৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৯৬} মুসলিম ১৯৮৯, নাসাঈ ৫৫৭০, আহমাদ ৯৪৫৮, ১০৪২৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইকরিমাহ বিন আম্মার সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি কোন সিকাহ রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করিলে তাহার হাদিস গ্রহণযোগ্য। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ করেন। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪০০৮, ২০/২৫৬ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৯৭. আবু কাতাদাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছেনঃ কাঁচা খেজুর ও পাকা খেজুর একত্রে মিশাবে না এবং খেজুর ও আঙ্গুরও একত্রে মিশাবে না। তবে এর প্রতিটি পৃথকভাবে ভিজিয়ে নাবীয তৈরী করিতে পারো। {৩৩৯৭}

তাহকীক আলবানী সহীহ।{৩৩৯৭} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৬০২, মুসলিম ১৯৮৮, নাসাঈ ৫৫৫১, ৫৫৫২, ৫৫৬১, ৫৫৬৬, ৫৫৬৭, আবু দাউদ ৩৭০৪, আহমাদ ২২০১৫, ২২১১২, ২২১২৩, ২২১৪০, দারেমী ২১১৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/১২. অধ্যায়ঃ নাবীয বানানো এবং তা পান করা

৩৩৯৮. আয়েশা [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য একটি পাত্রে নাবীয বানাতাম। আমরা এক মুঠো খেজুর অথবা এক মুঠো আংগুর তুলে নিয়ে পাত্রের মধ্যে ছেড়ে দিতাম, অতঃপর তাতে পানি ঢেলে দিতাম। আমরা সকালবেলা তা ভিজাতাম এবং তিনি সন্ধ্যাবেলা তা পান করিতেন। আবার কখনও আমরা সন্ধ্যাবেলা তা ভিজাতাম এবং তিনি সকালবেলা তা পান করিতেন। আবু মুআবিয়া [রাদি.], তাহার বর্ণনায় বলেন, দিনে ভিজাতেন এবং তিনি রাতের বেলা তা পান করিতেন অথবা রাতের বেলা ভিজাতেন এবং তিনি দিনের বেলা তা পান করিতেন। {৩৩৯৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৯৮}মুসলিম ২০০৫, তিরমিজি ১৮৭১, আবু দাউদ ৩৭১১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি বুনানাহ বিনতু ইয়াযীদ আল-আবশামিয়্যাহ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৭৯৮, ৩৫/১৩৮ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু বুনানাহ বিনতু ইয়াযীদ আল-আবশামিয়্যাহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৪০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১ টি জাল, ২৩ টি খুবই দুর্বল, ৬২ টি দুর্বল, ৭৭ টি হাসান, ৭৭ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৫১৭৬, ৫১৮২, ৫১৮৩, ৫১৯১, ৫৫৯৭, ৬৬৮৫, মুসলিম ৯৭৭, ২০০৪, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, তিরমিজি ১৮৭১, আবু দাউদ ৩৭০২, ৩৭০৭, ৩৭০৮, ৩৭১১, ৩৭১২, ৩৭১৩, দারেমী ২১০৭, আহমাদ ১৯৬৪, ২০৬৯, ২১৪৪।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩৯৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য নাবীয তৈরি করা হতো এবং তিনি তা ঐদিন অথবা পরের দিন সকাল অথবা তৃতীয় দিন পর্যন্ত পান করিতেন। পান করার পর এর কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকলে তিনি তা ঢেলে ফেলে দিতেন অথবা ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিতেন। {৩৩৯৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৩৯৯} মুসলিম ২০০৪, নাসাঈ ৫৭৩৭, ৫৭৩৮, ৫৭৩৯, আবু দাউদ ৩৭১৩, আহমাদ ২০৬৯, ইরওয়া ২৩৮৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবু ইসরাঈল সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। ঈমাম দারাকুতনী ও ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৪০, ৩/৭৩ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪০০. জাবির বিন আব্দুল্লাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য একটি পাথরের পাত্রে নাবীয তৈরী করা হত। {৩৪০০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।

{৩৪০০} মুসলিম ১৯৯৯, নাসাঈ ৫৫৯৬, ৫৬৪৭, ৫৬৪৮, আবু দাউদ ৩৭০২, ৪৮৩৫, আহমাদ ১৩৮৫৫, ১৪০৯০, ১৪৬৪১, ১৪৭০২, দারেমী ২১০৭, সহীহাহ ৩০০৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/১৩. অধ্যায়ঃ শরাবের পাত্রে নাবীয বানানো নিষেধ

৩৪০১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাঠের পাত্রে, তৈলাক্ত পাত্রে, কদুর খোলের পাত্রে ও মাটির সবুজ পাত্রে নাবীয তৈরী করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি আরও বলেনঃ সমগ্র নেশা সৃষ্টিকর জিনিস হারাম। {৩৪০১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ।{৩৪০১} মুসলিম ১৯৯৩, নাসাঈ ৫৫৮৯, ৫৬৩০, ৫৬৩৭, ৫৬৪৬, আবু দাউদ ৩৬৯৩, আহমাদ ৭৬৯৪, ৮৪৪২, ৯০৯০, ১০১৩২, ১০২৮৯, ১০৫৮৮, মালেক ১৫৯২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবু আমর বিন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হুরায়স সম্পর্কে ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে ঈমাম যাহাবী বলেন, তাহার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ঈমাম দারাকুতনী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫১৩, ২৬/২১২ নং পৃষ্ঠা]শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৪০২. ইবনি উমার [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তৈলাক্ত পাত্রে ও কদুর খোলে নাবীয তৈরী করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪০২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪০২} মুসলিম ১৯৯৭, ১৯৯৮, তিরমিজি ১৮৬৮, নাসাঈ ৫৬২৪, ৫৬২৫, ৫৬৩১, ৫৬৩২, ৫৬৩৪, ৫৬৪৩, ৫৬৪৫, আবু দাউদ ৩২৯০, আহমাদ ৪৬১৫, ৪৮৯৪, ৪৯৭৫, ৫০১০, ৫০৫২, ৫০৭১, ৫১৩৪, ৫১৬৫, ৫৪০০, ৫৪৬২, ৫৫৪৭, ৫৭৩০, ৫৯১৮, ৫৯৭৬, ৬৪০৫, ১৫৯১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪০৩. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাটির সবুজ পাত্রে, কদুর খোলে ও কাঠের পাত্রে পান করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪০৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪০৩} আহমাদ ১০৬৮১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪০৪. আবদুর রহমান বিন ইয়ামার [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] কদুর খোল ও মাটির সবুজ পাত্র ব্যবহার করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪০৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪০৪} নাসাঈ ৫৬২৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/১৪. অধ্যায়ঃ উপরোক্ত পাত্রগুলোতে নাবীয তৈরী করার অনুমতি

৩৪০৫. বুরায়দাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, আমি তোমাদেরকে কতগুলো পাত্র ব্যবহার করিতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা তাতে নাবীয তৈরী করিতে পারো এবং সমস্ত নেশা উদ্রেককারী জিনিস পরিহার করো। {৩৪০৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪০৫} মুসলিম ৯৭৭, আল-আহকাম ১৭৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি সিমাক বিন হারব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তাহার পূর্বে বর্ণিত হাদিস যারা শ্রবন করিয়াছেন তা সহীহ। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারাক বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫৭৯, ১২/১১৫ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪০৬. ইবনি মাসঊদ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, আমি কতকগুলো পাত্রে নাবীয তৈরী করিতে তোমাদের নিষেধ করেছিলাম। জেনে রাখো! পাত্র কোনো জিনিসকে হারাম করে না। তবে সকল নেশাকর দ্রব্যই হারাম। {৩৪০৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪০৬} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আয়্যুব বিন হানী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাহার পরিচয় সম্পর্কে আমার জানা নেই। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস গ্রহনে শিথিল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৩০, ৩/৫০১ নং পৃষ্ঠা]শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/১৫. অধ্যায়ঃ মাটির কলসে নাবীয বানানো

৩৪০৭. আয়েশা [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

তোমাদের মধ্যে কোন মহিলা কি প্রতি বছর তাহার কোরবানির পশুর চামড়া দিয়ে একটি মশক বানাতে সক্ষম নয়? তিনি পুনরায় বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাটির কলসে এবং এরূপ এরূপ পাত্রে নাবীয তৈরী করিতে নিষেধ করিয়াছেন, অবশ্য সিরকা বানানো যেতে পারে। {৩৪০৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সানাদটি দুর্বল।{৩৪০৭} আহমাদ ২৪১৫৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি সুওয়ায়দ বিন সাঈদ সম্পর্কে আবুল হাসান বিন সুফইয়ান আল-কুফী বলেন, তিনি দুর্বল। আবুল কাসিম আল-বাগাবী বলেন, তিনি হুফফাযদের একজন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক তাদলীস করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬৪৩, ১২/২৪৭ নং পৃষ্ঠা] ২. রুমায়সাহ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৮৪৪, ৩৫/১৮১ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৪০৮. আবু হূরায়রাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাটির কলসে নাবীয বানাতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪০৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪০৮} নাসাঈ ৫৬৩৭, আহমাদ ১০৫৮৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪০৯. আবু হূরায়রাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] এর নিকট মাটির কলসে প্রস্তুত নাবীয নিয়ে আসা হলো, যাতে মাদকতা সৃষ্টি হয়েছিলো। তিনি বলেন, কলসটা ঐ দেয়ালের ওপর নিক্ষেপ করো। কারণ তা কেবল সেইসব লোক পান করিতে পারে যাদের আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের প্রতি ঈমান নাই। {৩৪০৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪০৯} নাসাঈ ৫৬১০, ৫৭০৪, সহীহাহ ৩০১০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি সদাকাহ বিন মুআবিয়াহ সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আল-আওযাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৮৬৩, ১৩/১৩৩ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু সদাকাহ বিন মুআবিয়াহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৭৯ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১৭ টি খুবই দুর্বল, ৫৪ টি দুর্বল, ৮ টি হাসান হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ আবু দাউদ ৩৭১৬, দারাকুতনী ৪৫৯৫। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/১৬. অধ্যায়ঃ পাত্র ঢেকে রাখা

৩৪১০. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, তোমরা খাদ্য ও পানীয় পাত্র ঢেকে রাখো, মশকের মুখ বন্ধ করো, প্রদীপ নিভিয়ে দাও [শয়নকালে] ঘরের দরজা বন্ধ করো। কারণ, শয়তান [মুখবন্ধ] মশক খুলতে পারে না, [বন্ধ] দরজাও খুলতে পারে না এবং [ঢেকে রাখা] পাত্রও খুলতে পারে না। তোমাদের কেও যদি পাত্র ঢাকার মত কিছু না পায় তবে সে যেন তাহার ওপর একটি কাঠ আড়াআড়িভাবে রেখে দেয় এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে। কেননা ইঁদুর মানুষের ঘর জ্বালিয়ে দেয়। {৩৪১০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪১০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩২৮০, ৩৩০৪, ৩৩১৬, ৫৬০৬, ৫৬২৩, ৫৬২৪, ৬২৯৫, ৬২৯৬, মুসলিম ২০১১, ২০১২, ২০১৪, তিরমিজি ১৮১২, ২৮৫৭, আবু দাউদ ৩৭৩১, ৩৭৩৪, আহমাদ ১৩৮১৬, ১৩৯৫৮, ১৪৪১৫, মুয়াত্তা মালিক ১৭২৭, ইরওয়া ৩৯, রাওদুন নাদীর ২০৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪১১. আবু হূরায়রাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাত্র ঢেকে রাখতে, মশকের মুখ বন্ধ করিতে এবং খালি পাত্র উপুড় করে রাখতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। {৩৪১১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪১১} আহমাদ ৮৫৮২, দারেমী ২১৩২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার বর্ণিত হাদিস সহীহ নয়। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তাহার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪১২. আয়েশা [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য রাতের বেলা তিনটি পাত্র রাখতাম এবং তিনটিই ঢেকে রাখতাম। একটি তাহাঁর পবিত্রতা অর্জনের জন্য, একটি তাহাঁর মিসওয়াকের জন্য, একটি তাহাঁর পান করার জন্য। {৩৪১২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩৪১২} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। জইফ ইবনি মাজাহ ৮০, ৩৬১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. হারামী বিন উমারাহ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১১৬৯, ৫/৫৫৬ নং পৃষ্ঠা] ২. হারীশ বিন খিররীত সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, আমি তাহাকে চিনি না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১১৭৮, ৫/৫৮৩ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৪/১৭. অধ্যায়ঃ রুপার পাত্রে পান করা

৩৪১৩. উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি রুপার পাত্রে পান করে, সে নিজের পেটে গড় গড় করে জাহান্নামের আগুন ঢালে। {৩৪১৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪১৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৬৩৪, মুসলিম ২০৬৫, আহমাদ ২৬০২৮, ২৬০৪২, ৫৬০৫৫, ২৬০৭১, মুয়াত্তা মালিক ১৭১৭, দারেমী ২১২৯, ইরওয়া ৩৩, রাওদুন নাদীর ৪২১, গায়াতুল মারাম ১১৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪১৪. হুযায়ফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সোনা ও রুপার পাত্রে পান করিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং বলেছেনঃ তা দুনিয়াতে তাহাদের [কাফিরদের] জন্য এবং তোমাদের জন্য আখেরাতে। {৩৪১৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।

{৩৪১৪} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৪২৬, ৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১, ৫৮৩৭, মুসলিম ২০৬৭, তিরমিজি ১৮৭৮, নাসাঈ ৫৩০১, আবু দাউদ ৩৭২৩, আহমাদ ২২৮০৩, ২২৮৫৫, ২২৯২৭, ২২৯৫৪, দারেমী ২১৩০, ইরওয়া ৩২, আল-গায়াহ ১১৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪১৫. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যে ব্যক্তি রুপার পাত্রে পান করে, সে নিজের পেটে গড় গড় করে জাহান্নামের আগুন ঢালে। {৩৪১৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪১৫} আহমাদ ২৪১৪১, ইরওয়া ১/৬৯, আত-তালীকুর রাগীব ১/১১৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/১৮. অধ্যায়ঃ তিন নিঃশ্বাসে পানীয় দ্রব্য পান করা

৩৪১৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করিতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করিতেন। {৩৪১৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪১৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৬৩১, মুসলিম ২০২৮, তিরমিজি ১৮৮৪, আহমাদ ১১৭২৩, ১১৭৭৬, ১১৭৮৩, ১১৮৮৬, ১২৫১২, ১২৭৯৫, ১৩২২৩, দারেমী ২১২০, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১১৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪১৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] পানি পান করিলেন এবং পানের সময় দুবার নিঃশ্বাস নিলেন। {৩৪১৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩৪১৭} তিরমিজি ১৮৮৬, মুখতাসারুশ শামাইল ১৮১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি রিশদীন বিন কুরায়ব সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি কুফরী নয় এমন কওলী বা আমলী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৯১২, ৯/১৯৬ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৪/১৯. অধ্যায়ঃ মশকের মুখ উল্টিয়ে পানি পান করা

৩৪১৮. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মশকের মুখ উল্টিয়ে তাতে মুখ লাগিয়ে পান করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪১৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪১৮} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৬২৫, ৫৬২৬, মুসলিম ২০২৩, তিরমিজি ১৮৯০, আবু দাউদ ৩৭২০, আহমাদ ১০৬৪৩, ১১২৪৮, ১১২৬৫, ১১৪৭৮, দারেমী ২১১৯, সহীহাহ ১১২৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪১৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মশকের মুখ উল্টিয়ে পানি পান করিতে নিষেধ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর এ নিষেধাজ্ঞার পর এক ব্যক্তি রাতের বেলা উঠে পাত্রের মুখ উল্টে পানি পান করিতে গেলে তৎক্ষণাৎ তা থেকে একটি সাপ বের হয়ে আসে। {৩৪১৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩৪১৯} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। আত-তালীকুর রাগীব ৩/১৮৮, ১১৯, সহীহাহ ১১২৬, তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি যামআহ বিন সালিহ সম্পর্কে ইবনি আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি সহীহ হাদিসের বিপরীত বর্ণনা করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২০০৩, ৯/৩৮৬ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৪/২০. অধ্যায়ঃ মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা

৩৪২০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪২০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪২০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৬২৭, ৫৬২৮, আহমাদ ৭১১৩, ৭১৩৫, দারেমী ২১১৮, সহীহাহ ৩৯৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪২১. ইবনি আব্বাস [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪২১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪২১} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৬২৯, তিরমিজি ১৮২৫, নাসাঈ ৪৪৪৮, আবু দাউদ ৩৭১৯, আহমাদ ১৯৯০, ২১৬২, ২৬৬৬, ২৯৪৪, ৩১৩২, দারেমী ২১১৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/২১. অধ্যায়ঃ দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করা

৩৪২২. ইবনি আব্বাস [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

আমি নবী [সাঃআঃ] কে যমযমের পানি পরিবেশন করলাম। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় তা পান করিলেন। শাবী [রঃ] বলেন, আমি এ হাদিস ইকরিমার নিকট বর্ণনা করিলে, তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা করেননি। {৩৪২২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪২২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৬৩৭, ৫৬১৭, মুসলিম ২০২৭, তিরমিজি ১৮৮২, নাসাঈ ২৯৬৪, ২৯৬৫, আহমাদ ১৮৪১, ১৯০৬, ৩১৭৬, ৩৪৮৭, ৩৫১৭, মুখতাসারুশ শামাইল ১৭৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪২৩. কাবশাহ আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহার নিকট এলেন। নিকটেই পানির মশক ঝুলানো ছিল। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় তা থেকে পান করিলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর মুখ লাগানো স্থানের বরকত লাভের আশায় কাবশা [রাদি.] মশকের মুখ কেটে সংরক্ষণ করেন। {৩৪২৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪২৩} তিরমিজি ১৮৯২, মিশকাত ৪২৮১, মুখতাসারুশ শামাইল ১৮২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪২৪. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪২৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪২৪} মুসলিম ২০২৪, আবু দাউদ ৩৭১৭, তিরমিজি ১৮৭৯,আহমাদ ১১৭৭৫, ১১৯২৯, ১২০৮১, ১২৪৬০, ১২৬৪৯, ১৩২০৬, ১৩৫৩১, ১৩৬৯১, দারেমী ২১২৭, সহীহাহ ১৭৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/২২. অধ্যায়ঃ পানীয় পানের সময় পর্যায়ক্রমে ডান দিকের ব্যক্তিকে দিতে হইবে

৩৪২৫. আনাস বিন মালিক [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য পানি মিশ্রিত দুধ আনা হলো। তাহাঁর ডান পাশে ছিল এক বেদুইন এবং বাম পাশে ছিলেন আবু বকর [রাদি.]। তিনি তা থেকে পান করার পর বেদুইনকে দেন এবং বলেনঃ পর্যায়ক্রমে ডান দিক থেকে। {৩৪২৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪২৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৩৫২, ২৫৭১, ৫৬১২, ৫৬১৯, মুসলিম ২০২৯, তিরমিজি ১৮৯৩, আবু দাউদ ৩৭২৬, আহমাদ ১১৬৬৭, ১১৭১১, ১২৬২৬, ১৩০০৯, মুয়াত্তা মালিক ১৭২৩, দারেমী ২১১৬, সহীহাহ ১৭৭১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪২৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর জন্য দুধ দেওয়া হলো। তাহাঁর ডান দিকে ছিলেন বিন আব্বাস [রাদি.] ও বাম দিকে ছিলেন খালিদ ইবনিল ওয়ালীদ [রাদি.]। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিন আব্বাস [রাদি.] কে বলেন, তুমি কি আমাকে অনুমতি দিবে যে আমি খালেদকে পানি পান করাবো? বিন আব্বাস বলিলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে আমার উপর অপর কাউকে অগ্রাধিকার দেয়া আমি পছন্দ করি না। অতএব বিন আব্বাস [রাদি.] দুধের পাত্র নিয়ে পান করেন এবং খালিদ [রাদি.]-ও পান করেন। {৩৪২৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। {৩৪২৬} আহমাদ ১৯০৭, ১৯৭৯, সহীহাহ ২৩২০, মাখতাসারুশ শামাইল ১৭৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদানী, ইবনি আবু শায়বাহ, আমর ইবনিল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২৪/২৩. অধ্যায়ঃ পানির পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলা নিষেধ

৩৪২৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ পানীয় দ্রব্য পানকালে যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ফেলে। নিঃশ্বাস নেয়ার প্রয়োজন হলে সে মুখ থেকে পাত্র সরিয়ে নিবে, অতঃপর আরও পান করিতে চাইলে পাত্র থেকে পান করিবে। {৩৪২৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪২৭} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ৩৮৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. দাউদ বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসে সন্দেহ রয়েছে। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। উসমান বিন আবু শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৬৮, ৮/৪০৯ নং পৃষ্ঠা] ২. আবদুল আযীয বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। মালিক বিন আনাস তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা] ৩. আল-হারিস বিন আবু যুবাব সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয় তবে তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস বর্ণনা করায় কোন দোষ নেই। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ঈমাম যাহাবী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১০২৫, ৫/২৪৪ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪২৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পানপাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪২৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪২৮} তিরমিজি ১৮৮৮, আবু দাউদ ৩৭২৮, আহমাদ ১৯১০, ২৮১৩, দারেমী ২১৩৪, মিশকাত ৪২৭৭, ইরওয়া ১৯৭৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/২৪. অধ্যায়ঃ পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দেয়া নিষেধ

৩৪২৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পানপাত্রে ফুঁ দিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪২৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪২৯} তিরমিজি ১৮৮৮, আবু দাউদ ৩৭২৮, আহমাদ ১৯১০, ২৮১৩, দারেমী ২১৩৪, মিশকাত ৪২৭৭, ইরওয়া ১৯৭৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪৩০. ইবনি আব্বাস [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কখনও পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দিতেন না। {৩৪৩০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩৪৩০} তিরমিজি ১৮৮৮, আবু দাউদ ৩৭২৮, আহমাদ ১৯১০, ২৮১৩, দারেমী ২১৩৪, ইরওয়া ৭/৩৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি শারীক বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবুল হাসান ইবনিল কাত্তান বলেন, তিনি হাদিস তাদলীস করার দিক থেকে প্রসিদ্ধ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ঈমাম তিরমিজি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল ও সন্দেহ করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৩৬, ১২/৪৬২ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৪/২৫. অধ্যায়ঃ আঁজলা ভরে পানি পান করা এবং পানিতে মুখ লাগিয়ে পান করা

৩৪৩১. আবদুল্লাহ বিন উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে উপুড় হয়ে [পাত্রের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে] পানি পান করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি আমাদেরকে এক হাতের আঁজলা ভরে পানি পান করিতেও নিষেধ করিয়াছেন এবং বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কুকুরের মত পানিতে মুখ দিয়ে পান না করে, এক হাতেও যেন পানি পান না করে, যেমন একদল লোক পান করে থাকে, যাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট; রাতের বেলা পানপাত্র আন্দোলিত না করে যেন পানি পান না করে। তবে পাত্র আবৃত অবস্থায় থাকলে ভিন্ন কথা। যে ব্যক্তি পাত্র থেকে পান করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হাত দিয়ে পানি পান করে এবং এর দ্বারা বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ তাহার উদ্দেশ্য, তবে আল্লাহ তাআলা তাহার আংগুলের সমপরিমাণ পুণ্য তাহার আমলনামায় লিখে দিবেন। কারণ হাত হচ্ছে ঈসা বিন মরিয়ম [আঃ]-এর পানপাত্র, যখন তিনি পানপাত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলেছিলেনঃ আফসোস ! এটাও পার্থিব উপকরণ। {৩৪৩১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩৪৩১} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ২১৬৭, জইফ আল-জামি ৬৩৭০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ ইবনিল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ঈমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হিব্বান তাহাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা] ২. মুসলিম বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯৩৪, ২৭/৫২৫ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৪৩২. জাবির বিন আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক আনসার সাহাবীর নিকট গেলেন। তখন তিনি নিজের বাগানে পানি দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে বলেনঃ তোমার নিকট মশকের বাসি পানি থাকলে আমাদের পান করাও, অন্যথায় আমরা মুখ লাগিয়ে পান করে নিবো। তিনি বলেন, আমার নিকট মশকের বাসি পানি আছে। অতঃপর তিনি কুঁড়ে ঘরের দিকে গেলেন এবং আমরাও তাহাঁর সাথে গেলাম। ঐ সাহাবী তাহাঁর জন্য একটি বকরী দোহন করে তাহার দুধ মশকের পানিতে ঢাললেন। তিনি তা পান করিলেন। অতঃপর তাহাঁর সাথে তাহাঁর যে সাহাবী ছিলেন তাহার সাথেও এরূপ করা হলো। {৩৪৩২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪৩২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৫৬১৩, ৫৬২১, আবু দাউদ ৩৭২৪, আহমাদ ১৪১১০, ১৪২৯৮, ১৪৪১১, দারেমী ২১২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ফুলায়হ বিন সুলায়মান সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাহার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭৭৫, ২৩/৩১৭ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪৩৩. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা একটি পানির চৌবাচ্চা অতিক্রমকালে তা থেকে মুখ লাগিয়ে পানি পান করছিলাম। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা মুখ লাগিয়ে পানি পান করো না, বরং তোমাদের হাতগুলো ধৌত করে তাহার সাহায্যে পান করো। কারণ হাতের তুলনায় অধিক পরিচ্ছন্ন কোন পাত্র নাই। {৩৪৩৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩৪৩৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ২৮৪৫, জইফ আল-জামি ৬২৬৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনি মাঈন তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা] ২. লায়স সম্পর্কে ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতাহারাবুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু যুরআহ ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫০১৭, ২৪/২৭৯ নং পৃষ্ঠা] ৩. সাঈদ বিন আমির সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাহার মাঝে কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৩০১, ১০/৫১৪ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৪/২৬. অধ্যায়ঃ পরিবেশনকারী সবশেষে পান করিবে

৩৪৩৪. আবু কাতাদাহ [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ লোকেদের পানীয় পরিবেশনকারী সবশেষে পান করিবে। {৩৪৩৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩৪৩৪} মুসলিম ৬৮১, তিরমিজি ১৮৯৪, আহমাদ ২২০৪০, ২২০৭১, ২২০৯৩, দারেমী ২১৩৫, রাওদুন নাদীর ১০১৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪/২৭. অধ্যায়ঃ গ্লাসে পান করা

৩৪৩৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.], হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একটি কাঁচের গ্লাস ছিল। তিনি তাতে পানীয় দ্রব্য পান করিতেন। {৩৪৩৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩৪৩৫} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যইফাহ ৪২২৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. যায়দ ইবনিল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনিল মাদানী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাহাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করিয়াছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২০৯৫, ১০/৪০ নং পৃষ্ঠা] ২. মানদাল বিন আলী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাহাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াকুব বিন শসায়বাহ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬১৭৬, ২৮/৪৯৩ নং পৃষ্ঠা] ৩. মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি সালিহ। সুলায়মান বিন তাহারখান ও সুলায়মান বিন মিহরান বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি আমার নিকট হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা] শরাব পানিয় সম্পর্কিত হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

By ইমাম ইবনে মাজাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply