মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ

শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ

মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ, এই অধ্যায়ে মোট =৩৪৬ টি হাদীস (২০৯০ – ২১৩৬) >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ১১ – কাফফারা সমূহ , অধ্যায়ঃ (১-২১)=২১টি, হাদীস (২০৯০ – ২১৩৬)

১১/১. অধ্যায়ঃ রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে সকল শব্দে শপথ করিতেন।
১১/২. অধ্যায়ঃ আল্লাহ ব্যতীত অপর কিছুর নামে শপথ করা নিষেধ ।
১১/৩. অধ্যায়ঃ কেউ দ্বীন ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের নামে শপথ করিলে।
১১/৪. অধ্যায়ঃ যাহার জন্য আল্লাহর নামে শপথ করা হয়, সে যেন তাতে সন্তুষ্ট হয়।
১১/৫. অধ্যায়ঃ শপথ হয় গুনাহ অথবা অনুতাপের কারণ।
১১/৬. অধ্যায়ঃ শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ যুক্ত করা।
১১/৭. অধ্যায়ঃ কেউ শপথ করার পর তাহার বিপরীত করা কল্যাণকর প্রতিভাত হলে।
১১/৮. অধ্যায়ঃ যারা বলে, মন্দ বিষয়ে শপথের কাফফারা হলো কাজটি বর্জন করা।
১১/৯. অধ্যায়ঃ শপথ ভঙ্গের কাফফারাস্বরূপ কয়জনকে আহার করাতে হইবে?
১১/১০. অধ্যায়ঃ মধ্যম ধরনের আহার্যদান, যা তোমরা নিজেদের পরিজনদের আহার করিয়ে থাকো।
১১/১১. অধ্যায়ঃ মন্দ কাজের শপথ করে তাতে অটল থাকা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা শোধ না করা উভয়ই নিষিদ্ধ।
১১/১২. অধ্যায়ঃ শপথকারীর দায়মুক্তিতে সাহায্য করা।
১১/১৩. অধ্যায়ঃ “আল্লাহ্ যা চান এবং তুমি যা চাও” এরূপ বলা নিষেধ।
১১/১৪. অধ্যায়ঃ শপথের বিষয় কেউ যদি মনের মধ্যে গোপন রাখে।
১১/১৫. অধ্যায়ঃ মানত করা নিষেধ ।
১১/১৬. অধ্যায়ঃ পাপাচারমূলক কাজের মানত ।
১১/১৭. অধ্যায়ঃ কেউ নামোল্লেখ না করে মানত করিলে ।
১১/১৮. অধ্যায়ঃ মানত পূর্ণ করা ।
১১/১৯. অধ্যায়ঃ কেউ মানত পূর্ন না করে মারা গেলে ।
১১/২০. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি পদব্রজে হাজ্জ করার মান্নত করেছে ।
১১/২১. অধ্যায়ঃ কোন ব্যক্তি তাহার মানতের মধ্যে পাপ-পুণ্য একাকার করে ফেললে ।

১১/১. অধ্যায়ঃ রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে সকল শব্দে শপথ করিতেন।

২০৯০ রিফাআহ আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] শপথ করিলে বলিতেনঃ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ। {২০৯০}

{২০৯০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনি মাজাহ ২০৯১, আহমাদ ১৫৭৮২, সহীহাহ ২০৬৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন মুসআব সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১২, ২৬/৪৬০ নং পৃষ্ঠা]।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২০৯১ রিফাআহ বিন আরাবাহ আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে শব্দ দ্বারা শপথ করিতেন তা ছিলঃ আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি; সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। {২০৯১}

{২০৯১} ইবনি মাজাহ ২০৯০, আহমাদ ১৫৭৮২, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৪/২৮৯, সহিহাহ ২০৬৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ্। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল মালিক বিন মুহাম্মাদ আস-সানআনি সম্পর্কে ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি এককভাবে জাল [বানিয়ে] হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫৫৭, ১৮/৪০৫ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুল মালিক বিন মুহাম্মাদ আস-সানআনি এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৮৫ টি শাহিদ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৬৬১৭, ৬৬২৮, ৭৩৯১, তিরমিজি ১৫৪০, আবু দাউদ ৩২৬৩, ৩২৬৫, দারাকুতনী ২৩৫০, আহমাদ ৪৭৬৩, ৫৩২৪, ৫৩৪৫, ৬০৭৪, ৭৮০৯, শারহুস সুন্নাহ ৮৬। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২০৯২ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর অধিকাংশ শপথ ছিলঃ না, অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারীর শপথ! {২০৯২}

{২০৯২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৬১৭, ৬৬২৮, ৭৩৯১, ১৫৪০, নাসাঈ ৩৭৬১, ৩৭৬২, আবু দাউদ ৩২৬৩, আহমাদ ৫৩৪৫৬০৭৪, দারেমী ২৩৫০, যিলাল ২৩৪, সহীহাহ ২০৯০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২০৯৩ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর শপথ ছিলঃ না, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। {২০৯৩}

{২০৯৩} নাসাঈ ৪৭৭৬, আবু দাউদ ৩২৬৫, আহমাদ ৭৮০৯, মিশকাত ৩৪২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা]।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১/২. অধ্যায়ঃ আল্লাহ ব্যতীত অপর কিছুর নামে শপথ করা নিষেধ ।

২০৯৪ উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উমার [রাদি.] -কে তাহার পিতাহার নামে শপথ করিতে শুনলেন। রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। উমার [রাদি.] বলেন, এরপর থেকে আমি আর কখনো এভাবে শপথ করিনি বা অন্যের বরাতেও তা উল্লেখ করিনি। {২০৯৪}

{২০৯৪} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৬৪৭, মুসলিম ১৬৪৬, তিরমিজি ১৫৩৩, নাসাঈ ৩৭৬৭, ৩৭৬৮, আবু দাউদ ৩২৪৯, আহমাদ ১১৩, ২৪২, ইরওয়াহ ২৫৬০, তখরিজুল মুখতাহার ১৯৫-১৯৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২০৯৫ আবদুর রহমান বিন সামুরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা দেব-দেবী ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করো না। {২০৯৫}

{২০৯৫} মুসলিম ১৬৪৮, নাসাঈ ৩৭৭৪, আহমাদ ২০১০১, তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২০৯৬ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করিতে গিয়ে বলল, লাত ও উযযাহার শপথ, সে যেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে। {২০৯৬}

{২০৯৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৪৭৬০, ৬১০৭, ৬৩০১, ৬৬৫০, মুসলিম ১৬৪৭, তিরমিজি ১৫৪৫, নাসাঈ ৩৭৭৫, আবু দাউদ ৩২৪৭, আহমাদ ৮০২৬, ইরওয়াহ ২৫৬৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২০৯৭ সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি লাত ও উযযাহার নামে শপথ করিলে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ বলো, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু” [আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাহাঁর কোন শরীক নেই]। অতঃপর তুমি তিনবার বামদিকে থুথু নিক্ষেপ করো এবং শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো, আর কখনো এর পুনরাবৃত্তি করো না। {২০৯৭}

{২০৯৭} নাসাঈ ৩৭৭৬, ৩৭৭৭, ইরওয়াহ ৮/১৯২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের সানাদের রাবী সকলেই সিকাহ। সানাদে ইসরাইল এর নামঃ ইউনুস বিন আবু ইসহাক আস সুবাঈ। আর আবু ইসহাক এর নাম আমর বিন আবদুল্লাহ বিন উবায়দ আস-সুবাঈ যিনি ইসরাইলের দাদা। এই হাদিসে ইরওয়া [২৫৬৩] এর মাঝে শায়খ আলবানী কাউকে দোষারোপ করেন নি। তবে কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আবু ইসহাক হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করে আন আন সুত্রে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। [সুনান ইবনি মাজাহ আল-আরনাওত ২০৯৭, ৩/২৩৮ নং পৃষ্ঠা]মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১/৩. অধ্যায়ঃ কেউ দ্বীন ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের নামে শপথ করিলে।

২০৯৮ সাবিত ইবনিদ দাহহাক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের মিথ্যা শপথ করিল, সে যেরুপ বলেছে সে তদ্রপ। {২০৯৮}

{২০৯৮} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৩৬৪, ৬০৪৭, ৬১০৫, ৬৬৫৩, মুসলিম ১১০, তিরমিজি ১৫৪৩, নাসাঈ ৩৭৭০, ৩৭৭১, ৩৮১৩, আবু দাউদ ৩২৫৭, আহমাদ ১৫৯৫০, ১৫৯৫৬, দারেমী ২৩৬১, ইরওয়াহ ২৫৭৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২০৯৯ আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে বলিতে শুনলেন, আমি যদি এরূপ করি তবে আমি ইহুদী। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, অবধারিত হইতে গেল। {২০৯৯}

{২০৯৯} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তালীকুর রগীব ৪/৩১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ অত্যন্ত জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল্লাহ বিন মুহাররার সম্পর্কে আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু নুআয়ম আল-আসবাহানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মানুষ তাহার হাদিস বর্জন করেছে। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫২৩, ১৬/২৯ নং পৃষ্ঠা] মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

২১০০ বুরায়দাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বলল, আমি ইসলাম থেকে মুক্ত, সে যদি মিথ্যা বলে থাকে তবুও সে যা বলেছে তাই, আর যদি সে সত্য বলে থাকে তবুও ইসলাম তাহার কাছে নিরাপদে ফিরে আসবে না। {২১০০}

{২১০০} নাসাঈ ৩৭৭২, আবু দাউদ ৩২৫৮, আহমাদ ২২৪৯৭, ইরওয়াহ ২৫৭৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/৪. অধ্যায়ঃ যাহার জন্য আল্লাহর নামে শপথ করা হয়, সে যেন তাতে সন্তুষ্ট হয়।

২১০১ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে তাহার পিতাহার নামে শপথ করিতে শুনে বলেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করো না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে শপথ করে সে যেন তা সত্যে পরিণত করে। আর যাহার জন্য আল্লাহর নামে শপথ করা হয়, সে যেন তাতে সন্তুষ্ট হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে সন্তুষ্ট হয় না, আল্লাহর সাথে তাহার কোন সম্পর্ক থাকে না। {২১০১}

{২১০১} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৬৭৯, ৩৮৩৬, ৬১০৮, ৬৬৪৬, ৬৬৪৮, ৭৪০১, মুসলিম ১৬৪৬, তিরমিজি ১৫৩৩, ১৫৩৪, ১৫৩৫, আহমাদ ৪৫০৯, ৪৫৩৪, ৪৫৭৯, ৪৬৮৯, ৪৮৮৬, ৫০৭০, ৫৩২৪, ৫৩৫২, ৫৪৩৯, ৫৫৬৮, ৫৭০২, ৬০৩৬, ৬২৫২, মুয়াত্তা মালিক ১০৩৭, দারেমী ২৩৪১, ইরওয়াহ ২৬৯৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১০২ আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ ঈসা বিন মারয়াম [আঃ] এক ব্যক্তিকে চুরি করিতে দেখে বলিলেন, তুমি চুরি করিলে? সে বলল, না, সেই সত্তার শপথ যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তখন ঈসা [আঃ] বলিলেন, আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম এবং আমার চোখকে অবিশ্বাস করলাম। {২১০২}

{২১০২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩৪৪৪, মুসলিম ২৩৬৮, নাসাঈ ৫৪২৭, আহমাদ ২৭৩৭১, ৮৭৫০, তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা] ২. আবু বাকর বিন ইয়াহইয়া ইবনিন নাদর সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ নয় আবার দুর্বলও নয়, তিনি মজবুত রাবী। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত, তাহার থেকে দুই জন রাবী হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন কিন্তু কেউ তাহাকে তাওসীক করেনি। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭২৬২, ৩৩/১৫২ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু ইবনি মাজাহর উস্তায ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব এর দুর্বলতা ও আবু বাকর বিন ইয়াহইয়া ইবনিন নাদর এর জাহালতের কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২৫ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৩ টি অধিক দুর্বল, ১০ টি দুর্বল, ৭ টি হাসান, ৫ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৩৪৪৪, মুসলিম ১৫১, আহমাদ ২৭৩৭১, ৮৭৫০, শারহুস সুন্নাহ ৩৫২০।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/৫. অধ্যায়ঃ শপথ হয় গুনাহ অথবা অনুতাপের কারণ।

২১০৩ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বস্তুত শপথ হলো গুনাহ বা অনুতাপ। {২১০৩}

{২১০৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তালীকুর রগীব ৩/২৯, রওফুল নাযীর ৫০৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি বাশশার বিন কিদাম সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল ও মুনকার। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও ঈমাম যাহাবী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৫, ৪/৮২ নং পৃষ্ঠা]মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১/৬. অধ্যায়ঃ শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ যুক্ত করা।

২১০৪ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি শপথ করিল এবং ইনশাআল্লাহ [যদি আল্লাহ চান] বলল, তাহার প্রতি শপথ ভংগের দায় বর্তায়। {২১০৪}

{২১০৪} তিরমিজি ১৫৩২, ইরওয়াহ ২৫৭০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১০৫ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি তাহার শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ যুক্ত করিল, সে চাইলে শপথ থেকে ফিরে যেতে পারে অথবা তা পরিত্যাগও করিতে পারে। তাতে সে শপথ ভঙ্গকারী নয়। {২১০৫}

{২১০৫} ইবনি মাজাহ ২১০৬, তিরমিজি ১৫৩১, নাসাঈ ৩৭৯৩, আবু দাউদ ৩২৬১, ৩২৬২, আহমাদ ৪৪৯৬, ৪৫৬৭, ৫০৭৪, ৬৩৭৮, মুয়াত্তা মালিক ১০৩৩, দারেমী ২৩৪২, ইরওয়াহ ২৫৭১, মিশকাত ৩৪২৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি মিনদাহ বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫২২১, ২৫/২১৫ নং পৃষ্ঠা] মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১০৬ নাফি ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যে ব্যক্তি শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ যুক্ত করে, সে শপথ ভঙ্গকারী নয়। {২১০৬}

{২১০৬} ইবনি মাজাহ ২১০৫, তিরমিজি ১৫৩১, নাসাঈ ৩৭৯৩, আবু দাউদ ৩২৬১, ৩২৬২, আহমাদ ৪৪৯৬, ৪৫৬৭, ৫০৭৪, ৬৩৭৮, মুয়াত্তা মালিক ১০৩৩, দারেমী ২৩৪২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ্। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/৭. অধ্যায়ঃ কেউ শপথ করার পর তাহার বিপরীত করা কল্যাণকর প্রতিভাত হলে।

২১০৭ আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আশআরীদের একটি দলের সাথে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আল্লাহর শপথ ! আমি তোমাদের জন্য জন্তুযানের ব্যবস্থা করিতে অক্ষম। রাবী বলেন, আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম। অতঃপর কিছু সংখ্যক উট এসে গেল। তখন তিনি আমাদের উজ্জ্বল কুঁজবিশিষ্ট তিনটি উট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমাদের প্রত্যাবর্তনের সময় আমাদের একজন অপরজনকে বলল, আমরা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। তিনি শপথ করে বলেছিলেন যে, তিনি আমাদের জন্তুযান দিতে অপারগ। পরে আবার তিনি আমাদের তা দিলেন। কাজেই চলো, আমরা তাহাঁর নিকট ফিরে যাই। অতএব আমরা তাহাঁর নিকট ফিরে এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার নিকট জন্তুযান চাইতে এসেছিলাম। আপনি শপথ করে বলেছিলেন যে, আপনি আমাদের জন্তুযান দিতে অক্ষম। এরপর আপনি আমাদের জন্তুযান দিলেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করিনি, আল্লাহই তোমাদের বাহনের ব্যবস্থা করিয়াছেন। আল্লাহর শপথ! আল্লাহর তাআলার মর্জি আমি শপথ করার পর তাহার বিপরিতে কল্যাণ দেখিতে পেলে আমি শপথ ভঙ্গের কাফফারা আদায় করি, অতঃপর কল্যাণকর কাজটি করি। অথবা তিনি বলেনঃ আমি সেই ভাল কাজটি করি এবং আমার শপথ ভঙ্গের কাফফারা শোধ করি। {২১০৭}

{২১০৭} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৩১৩৩, ৬৭২১, মুসলিম ১৬৪৯, নাসাঈ ৪৩৪৬, আহমাদ ১৯০৯৪, ১৯১২৫, ১৯২৫০, ইরওয়াহ ৭/১৬৬, রওদুন নাদীর ২০৪০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১০৮ আদী বিন হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি শপথ করার পর তাহার বিপরীতে কল্যাণ দেখিতে পেলে সে যেন ঐ কল্যাণকর কাজটি করে এবং তাহার শপথের কাফফারা আদায় করে। {২১০৮}

{২১০৮} মুসলিম ১৬৫১, নাসাঈ ৩৭৮৫, ৩৭৮৬, ৩৭৮৭, আহমাদ ১৭৭৮৭, ১৭৭৯৩, ১৭৮০১, ১৭৮০৯, ১৮৮৯০, দারেমী ২৩৪৫, ইরওয়াহ ৭/১৬৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১০৯ মালিক আল-জুশামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমার নিকট আমার চাচাতো ভাই এলে আমি শপথ করে বলি যে, আমি তাহাকে কিছু দানও করিব না এবং তাহার সাথে আত্মীয়তাহার সম্পর্কও বজায় রাখবো না। তিনি বলেনঃ তোমার শপথের কাফফারা শোধ করো। {২১০৯}

{২১০৯} নাসাঈ ৩৭৮৮, ইরওয়া ৭/১৬৭ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ্। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/৮. অধ্যায়ঃ যারা বলে, মন্দ বিষয়ে শপথের কাফফারা হলো কাজটি বর্জন করা।

২১১০ আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি আত্মীয়তাহার সম্পর্ক ছিন্ন করার শপথ করিলে অথবা অসঙ্গত বিষয়ের শপথ করিলে, ঐ কাজটি তাহার না করার ভিতরেই কল্যাণ নিহিত আছে। {২১১০}

{২১১০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ২৩২৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি হারিসাহ বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার ও দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১০৫৭, ৫/৩১৩ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু হারিসাহ বিন মুহাম্মাদ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির শতাধিক শাহিদ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৩১৩৩, ৪৩৮৫, ৫৫১৮, ৬৬২৩, ৬৬৪৯, ৬৬৮০, ৬৭১৮, ৬৭২১, ৭৫৫৫, মুসলিম ১৬৪৯, ১৬৫০, ১৬৫১, ১৬৫২, ১৬৫৩, তিরমিজি ১৫৩০, আবু দাউদ ৩২৭৬, ৩২৭৭, দারেমী ২৩৪৫, আহমাদ ৬৬৯৭, ৬৮৬৮, ৬৯৩০, ৮৫১৭, ২৭৩২৭, ১৭৭৮০, ১৭৭৮৭, ১৭৭৯৩। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১১১ আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন ব্যক্তি কোন বিষয়ে শপথ করার পর তাহার বিপরীতে কল্যাণ লক্ষ্য করিলে সে যেন তাহার শপথ ত্যাগ করে। তাহার শপথ ত্যাগ করাই তাহার শপথ ভঙ্গের কাফফারা। {২১১১}

{২১১১} আবু দাউদ ৩২৭৪, ইরওয়াহ ৭.১৬৮, যঈফাহ ১৩৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ মুনকার। উক্ত হাদিসের রাবি আওন বিন উমারাহ সম্পর্কে আবু বকর আল-বায়হাকী ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অমনোযোগী ও সন্দেহ করেন। ঈমাম যাহাবী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৫৫৪, ২২/৪৬১ নং পৃষ্ঠা] মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

১১/৯. অধ্যায়ঃ শপথ ভঙ্গের কাফফারাস্বরূপ কয়জনকে আহার করাতে হইবে?

২১১২ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক সা খেজুর কাফফারাস্বরূপ দান করেন এবং লোকদের এরুপ নির্দেশ দেন। কেউ যদি তা না পায়, তবে অর্ধ সা গম আদায় করিবে। {২১১২}

{২১১২} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আব্বাস বিন ইয়াযীদ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। মাসলামাহ ইবনিল কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৪৬, ১৪/২৬১ নং পৃষ্ঠা] ২. উমার বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়ালা আস-সাকাফী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে জড়িত। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ঈমাম যাহাবী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪২৭০, ২১/৪১৭ নং পৃষ্ঠা]।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১/১০. অধ্যায়ঃ মধ্যম ধরনের আহার্যদান, যা তোমরা নিজেদের পরিজনদের আহার করিয়ে থাকো।

২১১৩ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন কোন লোক তাহার পরিবার পরিজনের আহারের জন্য সহজেই পর্যাপ্ত ব্যয় করিতে পারতো এবং কোন কোন লোক একান্ত কষ্টেই তাহার পরিজনদের জন্য অপর্যাপ্ত ব্যয় করতো। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। [অনুবাদ] “মধ্যম ধরনের, যা তোমরা তোমাদের পরিজনদের আহার করিয়ে থাকো।” [সূরা মাইদাঃ ৮৯] {২১১৩}

তাহকিক আলবানীঃ সনদটি সহীহ ও মাওকূফ{২১১৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। মিসবাহুস যুজাজাহ ১/৩২২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ মাওকুফ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ মাওকুফ

১১/১১. অধ্যায়ঃ মন্দ কাজের শপথ করে তাতে অটল থাকা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা শোধ না করা উভয়ই নিষিদ্ধ।

২১১৪ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবুল কাসিম রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ আল্লাহর বিধানমত কাফফারা আদায় না করে কোন অসঙ্গত শপথের উপর অটল থাকলে সে আল্লাহর নিকট অপরাধী সাব্যস্ত হয়।

{উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হইয়াছে, অপর সানাদটি হলোঃ}

১/২১১৪ [১] { মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া } { ইয়াহইয়া বিন সালিহ আল-ওয়াহাযী } { মুআবিয়াহ বিন সাল্লাম } { ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর } { ইকরিমাহ } { আবু হুরাইরাহ [রাদি.] } {২১১৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{২১১৪} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৬২৫, মুসলিম ১৬৫৫, আহমাদ ২৭৪২৭, ইরওয়াহ ৭/১৬৬, সহীহাহ ১২২৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি সুফইয়ান বিন ওয়াকী সম্পর্কে ঈমাম বুখারী মন্তব্য করিয়াছেন। ঈমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী তাহার হাদিস বর্জন করিয়াছেন। ঈমাম যাহাবী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৪১৮, ১১/২০০ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু সুফইয়ান বিন ওয়াকী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ২০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ৩ টি অধিক দুর্বল, ৪ টি দুর্বল, ১১ টি হাসান, ২ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৬৬২৬, আহমাদ ৭৬৮৫, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১৬০৩৬, মুজামুল আওসাত ৪৬৫২।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/১২. অধ্যায়ঃ শপথকারীর দায়মুক্তিতে সাহায্য করা।

২১১৫ বারা বিন আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] শপথকারীর দায়মুক্তিতে সাহায্য করিতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। {২১১৫}

{২১১৫} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১২৩৯, ২৪৪৫, ৫১৭৫, ৫৬৩৫, ৫৬৫০, ৫৮৬৩, ৬২২২, ৬২৩৫, ৬৬৫৪, মুসলিম ২০৬৬, তিরমিজি ২৮০৯, নাসাঈ ১৯৩৯, ৩৭৭৮,আহমাদ ১৮০৩৪, ১৮০৬১, ১৮১৭০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১১৬ আবদুর রহমান বিন সফওয়ান অথবা সফওয়ান বিন আবদুর রহমান আল-কুরাশী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মাক্কাহ বিজয়ের দিন আবদুর রহমান তাহার পিতাহাকে নিয়ে এসে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতাহাকে হিজরতে শরীক করুন। তিনি বলেনঃ তাহার তো হিজরত নেই। তিনি সেখান থেকে চলে গিয়ে আব্বাস [রাদি.] -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিলেন, আপনি আমাকে চিনেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। এরপর আব্বাস [রাদি.] একটি জামা গায়ে দিয়ে চাদরবিহীন অবস্থায় বেরিয়ে পড়লেন এবং বলিলেন, হে আল্লাহর রসুল! আপনি তো এই লোক এবং তাহার ও আমাদের মধ্যেকার ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে অবহিত। সে তাহার পিতাহাকে নিয়ে এসেছে, যেন আপনি তাহাকে হিজরতের জন্য বাইআত করেন। নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ এখন তো আর হিজরত নেই। আব্বাস [রাদি.] বলেন, আপনাকে শপথ দিয়ে বলছি। নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর হাত বাড়িয়ে দিয়ে লোকটির হাত স্পর্শ করিলেন এবং বললেনঃ আমি আমার চাচার শপথ পূর্ণ করলাম এবং এখন আর হিজরত নেই।

{ উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হইয়াছে, অপর সানাদটি হলোঃ }

২/২১১৬ [১] . আবদুর রহমান বিন সফওয়ান অথবা সফওয়ান বিন আবদুর রহমান আল-কুরাশী [রাদি.] তাহার নিজেস্ব সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন। ইয়াযীদ বিন আবু যিয়াদ বলেন, অর্থাৎ যে দেশের লোকেরা ইসলাম গ্রহন করে সেখান হইতে কোন হিজরত নেই।

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দঈফ।{২১১৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৩০, ৪৩৮৫, ৪৪১৫, ৫৫১৭, ৬৬২৩, ৬৬৪৯, ৬৬৭৮, ৬৬৮০, ৬৭৪১, ৭৫৫৫, আহমাদ ১৫১২৩, বায়হাকী ৯/২৩১, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৪/৩০৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনি মাঈন তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা] ২. ইয়াযীদ বিন আবু যিয়াদ সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ তাহাকে সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে কিন্তু দলীল হিসেবে গ্রহন করা গ্রহণযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯৯১, ৩২/১৩৫ নং পৃষ্ঠা]মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১/১৩. অধ্যায়ঃ “আল্লাহ্ যা চান এবং তুমি যা চাও” এরূপ বলা নিষেধ।

২১১৭ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন শপথ করা কালে এভাবে না বলে, “আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা ইচ্ছা করো”। বরং সে যেন বলে, “আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন, এরপর তুমি যা ইচ্ছা করছো”। {২১১৭}

{২১১৭} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ১৩৬, ১৩৯, ১০৯৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২১১৮ হুযায়ফাহ ইবনিল ইয়ামান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক মুসলিম ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে যে, আহলে কিতাবের এক ব্যক্তির সাথে তাহার সাক্ষাত হলে সে বলল, তোমরা কতই না উত্তম জাতি, যদি তোমরা শেরেক না করিতে। তোমরা বলে থাকো, “আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেন”। অতঃপর সে স্বপ্নের কথাটি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট বর্ণনা করিল। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! শোনো, আমি তো তোমাদের এরূপ কিছু বলিতে শিখাইনি। তোমরা বলবে, “আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন, এরপর রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যা চান”।

{উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হইয়াছে, অপর সানাদটি হলোঃ} .

২/২১১৮ [১] . আয়েশা [রাদি.] , এর মায়ের সম্পর্কের ভাই তুফায়ল বিন সাখবারাহ নবী [সাঃআঃ] হইতে অনুরুপ হাদিস বর্ণনা করেন। {২১১৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ{২১১৮} আহমাদ ২০১৭১, দারেমী ২৬৯৯, বায়হাকী ১০/৪৫ সহীহাহ ১৩৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/১৪. অধ্যায়ঃ শপথের বিষয় কেউ যদি মনের মধ্যে গোপন রাখে।

২১১৯ সুওয়ায়দ বিন হানযালাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর উদ্দেশে বের হলাম এবং আমাদের সাথে ছিলেন ওয়াইল বিন হুজর [রাদি.]। তাহার এক শত্রু তাহাকে ধরে ফেলে। সাথের লোকজন শপথ করিতে রাযী হলো না। তাই আমি শপথ করে বললাম যে, সে আমার ভাই। অতএব সে তাহাকে ছেড়ে দেয়। আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে তাহাঁকে জানালাম যে, দলের লোকজন শপথ করিতে সম্মত না হওয়ায় আমি শপথ করে বলি যে, সে আমার ভাই। রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তুমি সত্য বলেছো। এক মুসল্মান অপর মুসলমানের ভাই। {২১১৯}

{২১১৯} আবু দাউদ ৩২৫৬, আহমাদ ১৬২৮৫, বায়হাকী ১০/৭২, সহিহাহ ৫০৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১২০ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ শপথের ফলাফল শপথকারীর অভিপ্রায়ের উপর নির্ভরশীল। {২১২০}

{২১২০} ইবনি মাজাহ ২১২১, মুসলিম ১৬৫৩, তিরমিজি ১৩৫৪, আবু দাউদ ৩২৫৫,আহমাদ ৭০৭৯, ৮১৭৮, দারেমী ২৩৪৯, মুসলিম ৫/৭৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আব্বাদ বিন আবু সালিহ সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি তাহার পিতা থেকে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন যা তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি তাহার পিতা থেকে এককভাবে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মুনকার তথা কুফুরী নয় এমন কওলী বা আমলী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩৩৮, ১৫/১১৬ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আব্বাদ বিন আবু সালিহ এর কারণে সানাদটি হাসান। হাদিসটির ৬৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ১ টি জাল, ১২ টি অধিক দুর্বল, ২৬ টি দুর্বল, ১৪ টি হাসান, ১১ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ মুসলিম ১৬৫৪, তিরমিজি ১৩৫৪, আবু দাউদ ৩২৫৫, দারেমী ২৩৪৯, আহমাদ ৭০৭৯, ৮১৭৮, দারাকুতনী ৪২৬৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১৬০২২, শারহুস সুন্নাহ ২৫১৪, ২৫১৫, আল-ফাওয়াইদ ৯৭১।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১২১ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমার প্রতিপক্ষ তোমার শপথে আস্থা স্থাপন করিলে সেটাই হইবে তোমার শপথের ভিত্তি। {২১২১}

{২১২১} ইবনি মাজাহ ২১২০, মুসলিম ১৬৫৩, তিরমিজি ১৩৫৪, আবু দাউদ ৩২৫৫,আহমাদ ৭০৭৯, ৮১৭৮, দারেমী ২৩৪৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল্লাহ বিন আবু আলিহ সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি তাহার পিতা থেকে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন যা তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি তাহার পিতা থেকে এককভাবে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তিনি মুনকার তথা কুফুরী নয় এমন কওলী বা আমলী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩৩৮, ১৫/১১৬ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুল্লাহ বিন আবু সালিহ এর কারণে সানাদটি হাসান। হাদিসটির ৬৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ১ টি জাল, ১২ টি অধিক দুর্বল, ২৬ টি দুর্বল, ১৪ টি হাসান, ১১ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ মুসলিম ১৬৫৪, তিরমিজি ১৩৫৪, আবু দাউদ ৩২৫৫, দারেমী ২৩৪৯, আহমাদ ৭০৭৯, ৮১৭৮, দারাকুতনী ৪২৬৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১৬০২২, শারহুস সুন্নাহ ২৫১৪, ২৫১৫, আল-ফাওয়াইদ ৯৭১।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/১৫. অধ্যায়ঃ মানত করা নিষেধ ।

২১২২ আবদুল্লাহ বিন উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মানত করিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং বলেছেনঃ এর দ্বারা কৃপণের কিছু সম্পদ হাতছাড়া হয় মাত্র। {২১২২}

{২১২২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৬০৮, ৬৬৯২, ৬৬৯৩, মুসলিম ১৬৩৯, নাসাঈ ৩৮০১, ৩৮০২, ৩৮০৩, আবু দাউদ ৩২৮৭, আহমাদ ৫২৫৩, ৫৫৬৭, ৫৯৫৮, দারেমী ২৩৪০, ইরওয়াহ ২৫৮৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১২৩ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, মান্নত আদম-সন্তানের জন্য তাহার তাকদীরের নির্ধারিত বস্তুর অতিরিক্ত কিছু বয়ে আনে না, বরং তাহার জন্য নির্ধারিত তাকদীরই তাহার উপর বিজয়ী হয়। অতএব এর দ্বারা বখীলের কিছু আর্থিক খরচ হয় মাত্র। ফলে ইতোপূর্বে তাহার জন্য যা সহজ ছিলো না তা তাহার জন্য সহজ হয়ে গেলো। আল্লাহ্ তাআলা অবশ্যি বলেছেন, তুমি খরচ করিলে আমিও তোমার জন্য খরচ করিব। {২১২৩}

{২১২৩} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৬০৯, ৬৬৯৪, মুসলিম ১৬৪০, নাসাঈ ৩৮০৪, ৩৮০৫, আবু দাউদ ৩২৮৮, আহমাদ ৭২৫৫, ২৭৩৬৯, ৮৬৪৩, ২৭৪৯৭, ৯৬৪৭, ইরওয়াহ ৮/২০৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/১৬. অধ্যায়ঃ পাপাচারমূলক কাজের মানত ।

২১২৪ ইমরান বিন হুসায়ন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পাপ কাজে মানত করা যাবে না এবং আদম-সন্তান যে জিনিসের মালিক নয় তাহার মানতও হয় না। {২১২৪}

{২১২৪} মুসলিম ১৬৪১, নাসাঈ ৩৮১২, ৩৮৪০, ৩৮৪১, ৩৮৪৫, ৩৮৪৭, ৩৮৪৮, ৩৮৪৯, ৩৮৫০, ৩৮৫১, বায়হাকী ১০/২২১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১২৫ আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ গুনাহের কাজে মানাত করা যাবে না। এর কাফফারা হলো শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরুপ। {২১২৫}

{২১২৫}ইবনি মাজাহ ২১২৬,সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৬৯৬, ৬৭০০, তিরমিজি ১৫২৪, নাসাঈ ৩৮০৬, ৩৮০৭, ৩৮০৮,৩৮৩৩, ৩৮৩৪, ৩৮৩৫, ৩৮৩৬, ৩৮৩৭, ৩৮৩৮, ৩৮৩৯, আবু দাউদ ৩২৮৯, আহমাদ ২৩৫৫৫, ২৩৬২১, ২৫২১০, ২৫৩৪৯, মুয়াত্তা মালিক ১০৩১, দারেমী ২৩৩৮, ইরওয়াহ ২৫৯০, মিশকাত ৩৪৩৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১২৬ আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন তা করে। এর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র অবাধ্যাচরণ করার মানত করে, সে যেন তা না করে। {২১২৬}

{২১২৬} ইবনি মাজাহ ২১২৫, সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৬৯৬, ৬৭০০, তিরমিজি ১৫২৪, নাসাঈ ৩৮০৬, ৩৮০৭, ৩৮০৮,৩৮৩৩, ৩৮৩৪, ৩৮৩৫, ৩৮৩৬, ৩৮৩৭, ৩৮৩৮, ৩৮৩৯, আবু দাউদ ৩২৮৯, আহমাদ ২৩৫৫৫, ২৩৬২১, ২৫২১০, ২৫৩৪৯, মুয়াত্তা মালিক ১০৩১, দারেমী ২৩৩৮, ইরওয়াহ ৯৬৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/১৭. অধ্যায়ঃ কেউ নামোল্লেখ না করে মানত করিলে ।

২১২৭ উকবাহ্‌ বিন আমির আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন কোন ব্যক্তি নামোল্লেখ না করে মানত করিলে তাহার কাফফারা হলো শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরুপ। {২১২৭}

তাহকীক আলনানীঃ নাম উল্লেখ করার কথা ব্যতীত সহীহ।{২১২৭} মুসলিম ১৬৪৫, তিরমিজি ১৫২৮, নাসাঈ ৩৮৩২, ৩৩২৩, ইরওয়াহ ২৫৮৬, তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ নামোল্লেখ করার কথা ব্যতীত সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইসমাইল বিন রাফি সম্পর্কে আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবুল আরব আল-কিরওয়ানী আবু জাফার আল-উকায়লী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে জড়িত। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার হিফয শক্তি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৪২, ৩/৮৫ নং পৃষ্ঠা]।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১২৮ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন ব্যক্তি নামোল্লেখ না করে মানত করিলে তাহার কাফফারা হইবে শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ। আর কোন ব্যক্তি তাহার সামর্থ্যের বহির্ভূত কিছুর মানত করিলে তাহার কাফফারাও শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ। আর যে ব্যক্তি তাহার সামর্থ্য মোতাবেক মানত করে, সে যেন তা পূরণ করে। {২১২৮}

{২১২৮} আবু দাউদ ৩৩২৩, ইরওয়াহ ৮-২১১, জইফ আল-জামি ৫৮৬৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ অত্যন্ত জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবদুল মালিক বিন মুহাম্মাদ আস-সানআনী সম্পর্কে ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি এককভাবে জাল [বানিয়ে] হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫৫৭, ১৮/৪০৫ নং পৃষ্ঠা] ২. খারিজাহ বিন মুসআব সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে জড়িত। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে না। ঈমাম দারাকুতনী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৫৯২, ৮/১৬ নং পৃষ্ঠা]।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

১১/১৮. অধ্যায়ঃ মানত পূর্ণ করা ।

২১২৯ উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জাহিলিয়াতের যুগে একটি মানত করেছিলাম। ইসলাম গ্রহণের পর আমি এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে জিজ্ঞেস করিলে তিনি আমাকে মানত পূর্ণ করার নির্দেশ দেন। {২১২৯}

{২১২৯} ইবনি মাজাহ ১৭৭২,সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২০৩২, ২০৪২, ২০৪৩, ২১৪৪, ৪৩২০, ৬৬৯৭, মুসলিম ১৬৫৬, তিরমিজি ১৫৩৯, নাসাঈ ৩৮২০, ৩৮২১, ৩৮২২, আবু দাউদ ৩৩২৫, আহমাদ ২৫৭, ৪৬৯১, ৫৫১৪, ৬৩৮২, দারেমী ২৩৩৩, বায়হাকী ৭/৩৪১, দারাকুতনী ৪/১৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১৩০ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি বুয়ানা নামক স্থানে একটি কুরবানী করার মানত করেছি তিনি বলেনঃ তোমার মধ্যে কি জাহিলিয়াতের চিন্তা অবশিষ্ট রয়ে গেছে? সে বলল, না। তিনি বলেনঃ তাহলে তোমার মানত পূর্ণ করো। {২১৩০}

{২১৩০} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বায়হাকী ৫/৬৬, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ২/৬, মিশকাত ৩৪৩৭, আত-তালীকু আলার-রাওদাহ ২/১৭৮-১৭৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবদুল্লাহ বিন রাজা সম্পর্কে আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবুরী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কিছু সন্দেহ করেন। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় অধিক সংমিশ্রণ করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩২৬২, ১৪/৪৯৫ নং পৃষ্ঠা] ২. আল-মাসউদী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি নুমায়র বলেন, তিনি সিকাহ তবে শেষ বয়সে হাদিস সংমিশ্রণ করিয়াছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ তবে বাগদাদে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। মুহাম্মদ বিন সাদ বলেন, তিনি সিকাহ তবে মৃত্যুর পূর্বে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। আলী ইবনিল মাদানী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৭২, ১৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা]।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১৩১ মায়মূনা বিনতু কারদাম আল-ইয়াসারিয়্যা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তাহার পিতা নবী [সাঃআঃ] এর সাথে সাক্ষাত করেন। তখন মায়মূনা তাহার পিতাহার সাথে একই বাহনে তাহার পিছনে বসা ছিলেন। তিনি [পিতা] বলিলেন, আমি বুয়ানা নামক স্থানে একটি কুরবানী করার মানত করেছি। রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করেনঃ সেখানে কি কোন মূর্তি আছে? তিনি বলেন, না। তিনি বলেনঃ তোমরা মানত পূর্ণ করো। {২১৩১}

{২১৩১} আবু দাউদ ৩৩১৪, আহমাদ ২৬৫২৪, বায়হাকী ৬/২৮৩ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ্। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আত-তায়ফী সম্পর্কে আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও ভুল করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৩৮৮, ১৫/২২৬ নং পৃষ্ঠা]।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/১৯. অধ্যায়ঃ কেউ মানত পূর্ন না করে মারা গেলে ।

২১৩২ সাদ বিন উবাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে তাহার মায়ের একটি মান্নত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যা পূর্ণ করার আগেই তাহার মা মারা যান। রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তুমি তাহার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করো। {২১৩২}

{২১৩২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৭৬১, ৬৬৯৮, ৬৯৫৯, মুসলিম ১৬৩৮, তিরমিজি ১৫৪৬, নাসাঈ ৩৬৫৯, ৩৬৬০, ৩৬৬২, ৩৬৬৩, ৩৮১৭, ৩৮১৮, ৩৮১৯, আবু দাউদ ৩৩০৭, আহমাদ ১৮৯৬, ২৩৩২, ৩০৪০, ৩৪৯৪, মুয়াত্তা মালিক ১০২৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১৩৩ জাবির বিন আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক মহিলা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলল, আমার মা মারা গেছেন। তিনি সিয়াম রাখার মান্নত করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাহার রোযাহার মান্নত পূর্ণ করার আগেই মারা গেলেন। রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তাহার পক্ষ থেকে ওলী [ওয়ারিস] যেন সিয়াম রাখে। {২১৩৩}

{২১৩৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহ দাউদ ২০৭৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইবনি লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তাহার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাহাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনিস সারী বলেন, যদি তাহার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করতাম না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা] মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/২০. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি পদব্রজে হাজ্জ করার মান্নত করেছে ।

২১৩৪ উকবাহ বিন আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে তাহার বোন নগ্নপদে ও অনাবৃত চেহারায় পদব্রজে [হজ্জে] যাওয়ার মান্নত করেছে। তিনি বিষয়টি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে অবহিত করিলেন। তিনি বলেনঃ তাহাকে বলো, সে যেন বাহনে আরোহণ করে এবং মুখমণ্ডল আবৃত রেখে [হাজ্জে যায়] এবং তিন দিন সিয়াম রাখে। {২১৩৪}

{২১৩৪} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৮৬৬, মুসলিম ১৬৪৪, তিরমিজি ১৫৪৪, নাসাঈ ৩৮১৪, আবু দাউদ ৩২৯৩, আহমাদ ১৬৮৪০, ১৬৮৫৫, ১৬৮৭৯, ১৬৮৯৭, ১৬৯২৪, ১৬৯৩৫, ১৭৩৩৮, দারেমী ২৩৩৪, ইরওয়াহ ২৫৯২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি উবায়দুল্লাহ বিন যাহর সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু হাতিম বিন হিব্বান ও ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। ঈমাম দারাকুতনী ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৩৩, ১৯/৩৬ নং পৃষ্ঠা] মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১৩৫ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] এক বৃদ্ধকে দেখলেন যে, সে তাহার দু ছেলের উপর ভর করে হেঁটে যাচ্ছে। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ এ ব্যক্তির কি হইয়াছে? ছেলেরা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! [তাহার] মানত। রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ হে বুড়ো! তুমি বাহনে আরোহণ করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমার ও তোমার মানতের মুখাপেক্ষী নন। {২১৩৫}

{২১৩৫} মুসলিম ১৬৪৩, আবু দাউদ ৩৩০১, আহমাদ ৮৬৪২, দারেমী ২৩৩৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াকুব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জাফার আল-উকায়লী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২/৩১৮ নং পৃষ্ঠা] ২. আবদুল আযীয বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। মালিক বিন আনাস তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা] মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১/২১. অধ্যায়ঃ কোন ব্যক্তি তাহার মানতের মধ্যে পাপ-পুণ্য একাকার করে ফেললে ।

২১৩৬ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মক্কায় রোদের মধ্যে দাঁড়ানো এক ব্যক্তিকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করিলেনঃ একী? লোকজন বলল যে, সে সিয়াম রাখার, সারাটা দিন ছায়া গ্রহন না করার এবং কথাবার্তা না বলার মান্নত করেছে। তাই সে এ অবস্থায় দাড়িয়ে আছে। তিনি বলেনঃ সে যেন কথা বলে, ছায়া গ্রহন করে, বসে এবং তাহার সিয়াম পূর্ণ করে।

{উপরোক্ত হাদীসে মত ২ টি সানাদের ১টি বর্ণিত হইয়াছে, অপর সানাদটি হলঃ}

১/২১৩৬. [১] ইবনি আব্বাস [রাদি.] , সূত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে অনুরুপ হাদিস বর্ণনা করেন। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।{২১৩৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ{২১৩৬} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৬৭০৪, আবু দাউদ ৩৩০০, তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল্লাহ বিন উমার সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি দুর্বল, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ছিলেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৪০, ১৫/৩২৭ নং পৃষ্ঠা] উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুল্লাহ বিন উমার এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৭৯ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ২৪ টি অধিক দুর্বল, ২৫ টি দুর্বল, ১৬ টি হাসান, ১৪ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ৬৭০৪, আবু দাউদ ৩৩০০, আহমাদ ১৭০৭৮, দারাকুতনী ৪২৭৯, ৪২৮২, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১৫৮১৮, ১৫৮২১, মুজামুল আওসাত ৮৪৬৮, ৮৫৪৭, শারহুস সুন্নাহ ২৪৪৩।মানত করা এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা সমূহ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply