শপথ করা মানত কসম আমানত সম্পদ আত্মসাত কাফফারা ইঃ

শপথ করা মানত কসম আমানত সম্পদ আত্মসাত কাফফারা ইঃ

শপথ করা মানত কসম আমানত সম্পদ আত্মসাত কাফফারা ইঃ , এই অধ্যায়ে হাদীস ৮৪ টি (৩২৪২ – ৩৩২৫) >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায় – ২২ঃ শপথ ও মানত, অনুচ্ছেদঃ ১-৩২=৩২টি, হাদীসঃ (৩২৪২-৩৩২৫)=৮৪টি

অনুচ্ছেদ-১ঃ মিথ্যা কসমের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী
অনুচ্ছেদ-২ঃ যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদ আত্মসাতের জন্য মিথ্যা কসম করে
অনুচ্ছেদ-৩ঃ নাবী [ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ] এর মিম্বারের উপর মিথ্যা কসম খাওয়া কঠিন পাপ
অনুচ্ছেদ-৪ঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে কসম করা।
অনুচ্ছেদ-৫ঃ বাপ-দাদার নামে কসম করা মাকরূহ
অনুচ্ছেদ-৬ঃ আমানতের উপর শপথ করা অপছন্দনীয়
অনুচ্ছেদ -৭ঃ বেহুদা শপথ করা
অনুচ্ছেদ-৮ঃ ছলনামূলক কসম করা
অনুচ্ছেদ-৯ঃ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মেও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কসম করা।
অনুচ্ছেদ-১০ঃ যে ব্যক্তি তরকারি না খাওয়ার কসম করে
অনুচ্ছেদ–১১ঃ কসমে ইনশাআল্লাহ বলা
অনুচ্ছেদ-১২ঃ নাবী [সাঃআঃ]-এর কসমের ধরন
অনুচ্ছেদ-১৩ঃ কসম ইয়ামীনের সমার্থক কিনা
অনুচ্ছেদ-১৪ঃ যে ব্যক্তি কিছু না খাওয়ার শপথ করেছে
অনুচ্ছেদ-১৫ঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার শপথ করা
অনুচ্ছেদ-১৬ঃ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা শপথ করা
অনুচ্ছেদ-১৭ঃ অপেক্ষাকৃত উত্তম কাজ হলে কসম ভঙ্গ করা
অনুচ্ছেদ-১৮ঃ কসমের কাফফারাহ কত সা
অনুচ্ছেদ-১৯ঃ কাফফারাহ হিসেবে মুমিন দাসী আযাদ করা
অনুচ্ছেদ-২০ঃ কসমের পর ইন শা আল্লাহ্‌ বলা
অনুচ্ছেদ-২১ঃ [মানত করা অপছন্দনীয়]
অনুচ্ছেদ-২২ঃ গুনাহের কাজে মানত করা
অনুচ্ছেদ-২৩ঃ যিনি বলেন, গুনাহের কাজের মানত ভঙ্গ করলে কাফফারাহ দিবে
অনুচ্ছেদ-২৪ঃ যে ব্যক্তি বাইতুল মুকাদ্দাসে সলাত আদায়ের মানত করেছে
অনুচ্ছেদ-২৫ঃ মৃতের পক্ষ হইতে মানত পূর্ণ করা
অনুচ্ছেদ-২৬ঃ কেউ ক্বাযা সওম রেখে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা তা আদায় করিবে
অনুচ্ছেদ-২৭ঃ মানত পূর্ণ করার নির্দেশ
অনুচ্ছেদ-২৮ঃ মালিকানাবিহীন জিনিসের মানত করা
অনুচ্ছেদ-২৯ঃ নিজের সমস্ত মাল দান করার মানত করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ—৩০ঃ যা পূর্ণ করার সামর্থ্য নাই তার মানত করা

অনুছেদ-৩১ঃ কোন কিছুর নাম উল্লেখ না করে মানত করা
অনুচ্ছেদ-৩২ঃ জাহিলী যুগে মানত করার পর ইসলাম গ্রহণ করলে

অনুচ্ছেদ-১ঃ মিথ্যা কসমের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী

৩২৪২.ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি বন্দী থাকা অবস্থায় মিথ্যা শপথ করলো, সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামের নির্ধারণ করে নিলো।

সহিহঃ সহিহাহ [২৩৩২]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২ঃ যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদ আত্মসাতের জন্য মিথ্যা কসম করে

৩২৪৩. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খায়, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করিবে যে, তিনি তার প্রতি চরম অসন্তুষ্ট। আশআস[রাদি.] বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ। এ হাদিস আমার সম্পর্কে বলা হয়েছে। আমার এবং এক ইয়াহুদীর যৌথ মালিকানায় একটি জমি ছিল। সে আমার মালিকানা অস্বীকার করলে আমি নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। নাবী [সাঃআঃ] আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার সাক্ষী আছে কি? আমি বলিলাম, না। তিনি ইয়াহুদীকে বলিলেনঃ তুমি কসম খাও। আমি বলিলাম, হে আল্লাহ রাসূল! সে কসম করিবে এবং আমার জমি তার হাতে চলে যাবে। অতঃপর মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের ওয়াদাসমূহ সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করে, আখিরাতে তাহাদের জন্য কোন অংশই নেই…” আয়াতের শেষ পর্যন্ত [সূরাহ আলে ইমরানঃ ৭৭]।

সহিহঃ ইবনি মাজাহ [২৩২৩]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৪৪. আশআস ইবনি ক্বায়িস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কিনদাহ এলাকার একজন ও হাদরামাওত এলাকার একজন-এ দুজনে ইয়ামানে অবস্থিত এক খণ্ড জমির মালিকানা দাবি করে নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে মোকদ্দমা পেশ করলো। হাদরামাওতের লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তির পিতা আমার জমি জবরদখল করে নিয়েছে। সে এখন তার দখলে আছে। তিনি বলিলেনঃতোমার কোন সাক্ষী আছে কি? সে বললো, না। তাহলে আপনি তাহাকে এভাবে কসম করিতে বলুন, “আল্লাহর শপথ, আমার এ জমি তার পিতা জবরদখল করে নিয়েছে এ বিষয়ে সে জানে না।” এ কথা শুনেই কিনদার লোকটি শপথ করিতে উদ্ধত হলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ শপথের মাধ্যমে কেউ সম্পদ আত্মসাৎ করলে সে হাত-পা কাটা অবস্থায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত হইবে। এ কথা শুনে কিনদী বললো, নিঃসন্দেহে এ জমিটা তার।

সহীহঃ ইরওয়া [৮/২৬২-২৬৩]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৪৫. আলক্বামাহ ইবনি ওয়াইল ইবনি হুজর আল-হাদরামী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হাদরামাওতের একজন এবং কিনদাহ এলাকার একজন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে এলো। হাদরামী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করে নিয়েছে। কিনদী বললো, এটা আমার দখলেই আছে। আমিই তাতে চাষাবাদ করি, এতে তার কোন স্বত্ব নাই। বর্ণনাকারী বলেন, নাবী [সাঃআঃ] হাদরামীকে বলিলেন। তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? সে বললো, না। তিনি বলিলেনঃতবে তোমাকে কিনদীর শপথের উপর নির্ভর করিতে হইবে। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল। সে তো মন্দ লোক। সে মিথ্যা কসম করিতে পরোয়া করিবে না। তার কোন বাছ-বিচার নাই। রাসূলল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃএছাড়া তোমার কোন বিকল্প পথ নেই। কিনদী শপথ করিতে অগ্রসর হলো। সে যখন পিঠ ফিরালো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ জেনে রাখো। সে যদি জুলুম করে অন্যের সম্পদ দখলের জন্য কসম খায়, তবে সে আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় উপস্থিত হইবে যে, তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন।

সহিহঃ ইরওয়া [২৬৩২]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩ঃ নাবী [ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ] এর মিম্বারের উপর মিথ্যা কসম খাওয়া কঠিন পাপ

৩২৪৬. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি আমার মিম্বারের কাছে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কসম খায়, তা একটি তাজা মিসওয়াকের জন্য হলেও- সে জাহান্নামে নিজের বাসস্থান ঠিক করে নিলো অথবা তার জন্য আগুন ওয়াজিব হয়ে গেলো।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২৩২৫]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪ঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে কসম করা।

৩২৪৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কেউ শপথ করিতে গিয়ে যদি বলে, আমি লাত [নামক মূর্তির] নামে শপথ করে বলছি; তবে সে যেন অবশ্যই বলে- “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই।” আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, আসো তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন কিছু সদাক্বাহ করে।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২০৯৬]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৫ঃ বাপ-দাদার নামে কসম করা মাকরূহ

৩২৪৮.আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা নিজেদের পিতা-মাতা কিংবা দেবদেবীর নামে শপথ করিবে না। তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহর নামে শপথ করিবে। আর তোমরা আল্লাহর নামে কেবল সে বিষয়েই শপথ করিবে যে বিষয়ে তোমরা সত্যবাদী।

সহীহঃ নাসায়ী [২৭৯৬] শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৪৯.উমার ইবনিল খাত্তাব [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উমারকে [রাদি.] একটি কাফেলার সাথে পেলেন। তখন তিনি তার পিতার নামে শপথ করলে রাসূলল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করিতে নিষেধ করেছেন। কারো শপথ করার প্রয়োজন হলে সে যেন আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে, অন্যথায় চুপ থাকে।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২০৯৪]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৫০.উমার [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে পিতার নামে কসম করিতে শুনলেন… বাপ-দাদার নামে কসম খেও না এ পর্যন্ত উপরের হাদিসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ উমার [রাদি.] বলেন, এরপর আমি কখনও ব্যক্তিগতভাবে বা বর্ণনা প্রসঙ্গে ঐরূপ শপথ করিনি।

সহিহ ঃ ইরওয়া [৮/১৮৭]।শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৫১.সাঈদ ইবনি আবু উবাইদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] এক ব্যক্তিকে এভাবে শপথ করিতে শুনলেন ঃ “না! এ কাবার শপথ।” তখন ইবনি উমার [রাদি.] তাহাকে বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করে, সে শিরক করলো।

সহিহ ঃ তিরমিজি [১৫৯০]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৫২. আবু সুহাইল নাফি ইবনি মালিক ইবনি আবু আমির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ত্বালহা উবাইদুল্লাহ [রাদি.] এর নিকট জনৈক বেদুইনের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলিয়াছেনঃ  নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, তার [বেদুইনের] পিতার কসম! যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে সে সফলকাম হইবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করিবে। তার পিতার কসম! যদি সে সত্য বলে থাকে। [হাদিসটি সম্ভবত ইসলামের প্রথম যুগের-অনুঃ]

শাযঃ এটি সলাত অধ্যায়ের প্রথম দিকে গত হওয়া একটি হাদিসের অংশ বিশেষ। তাতে “তার পিতার কসম” কথাটি নেই। যয়ীফহ [৪৯৯২]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ শায

অনুচ্ছেদ-৬ঃ আমানতের উপর শপথ করা অপছন্দনীয়

৩২৫৩. বুরাইদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি আমানতের উপর শপথ করিবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

সহিহ ঃ সহিহাহ [৯৪]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ -৭ঃ বেহুদা শপথ করা

৩২৫৪. আত্বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বেহুদা কসম খাওয়া সম্পর্কে বলেন, আয়িশাহ [রাদি.] বলিয়াছেন, রাসূলল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ “কোন ব্যক্তির নিজ ঘরে বসে কথাবার্তায় এরূপ বলা যেঃ কখনো নয়, আল্লাহর শপথ! এবং হাঁ, আল্লাহর শপথ!”

শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮ঃ ছলনামূলক কসম করা

৩২৫৫. আবু হুরাইরাহ [রাঃ] সূত্রে বর্ণিত। হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমার শপথ তখনই গ্রহণযোগ্য হইবে যখন তোমার প্রতিপক্ষ তা বিশ্বাস করিবে। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আব্বাদ ইবনি আবু সালিহ এবং আবদুল্লহ ইবনি আবু সালিহ একই লোক।

সহিহ, হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৫৬. সুওয়াইদ ইবনি হানযালাহ [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে দেখা করিতে রওয়ানা হলাম। তখন আমাদের সাথে ওয়াইল ইবনি হুজর [রাদি.]-ও ছিলেন। এমন সময় তার এক শত্রু তাহাকে ধরে ফেললো। দলের লোকেরা এ ব্যাপারে শপথ করিতে সংকোচবোধ করলে আমি শপথ করে বলিলাম, সে আমার ভাই। ফলে শত্রু তাহাকে ছেড়ে দিলো। আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] এর নিকট এসে তাঁকে ঘটনাটি জানালাম এবং বলিলাম, দলের লোকেরা এভাবে শপথ করাকে ভাল মনে করেনি। তাই আমি শপথ করে বলেছি, সে আমার ভাই। তিনি বলেনঃ তুমি সঠিক বলেছো। কেননা এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ[২১১৯]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯ঃ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মেও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কসম করা।

৩২৫৭. সাবিত ইবনিদ দাহ্হাক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে [হুদায়বিয়াতে] গাছের নীচে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কেউ ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করলে- সে যেরূপ বলবে তাই হইবে। কেউ নিজেকে কোন জিনিস দ্বারা হত্যা [আত্মহত্যা] করলে তাহাকে ক্বিয়ামাতের দিন ঐ জিনিস দ্বারা অবিরত শাস্তি দেয়া হইবে। আর কেউ যদি এমন জিনিসের মানত করে যার মালিক সে নয়, তবে এ মানতের কোন মূল্য নেই।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২০৯৮]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৫৮. বুরাইদাহ [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন ব্যক্তি যদি শপথ করে বলেঃ আমি ইসলাম থেকে মুক্ত। সে মিথ্যা বললেও সে যেরুপ বলেছে তদ্রুপই হইবে। আর সত্যবাদী হলে তার পক্ষে নিরাপদে ইসলামে ফিরে আসা সম্ভব নয়।

সহিহঃ ইবনি মাজাহ [২১০০]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১০ঃ যে ব্যক্তি তরকারি না খাওয়ার কসম করে

৩২৫৯. ইউসুফ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি সালাম [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি দেখি, নাবী [সাঃআঃ] রুটির উপর খেজুর রেখে বলিলেনঃ এটা হচ্ছে এটার তরকারী।

দুর্বলঃ এর চেয়ে পরিপূর্ণ আসছে হা/৩৮৩০। যঈফাহ [৪৭৩৭, ৮২৬], মিশকাত [৪২২৩]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৬০. ইউসুফ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি সালাম [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে উপরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত।

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি। হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ–১১ঃ কসমে ইনশাআল্লাহ বলা

৩২৬১. ইবনি উমার [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করার পর ইনশাআল্লাহ বললো, সে ব্যতিক্রম করলো।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২১০৫, ২১০৬]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৬২. ইবনি উমার [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কেউ শপথ করে ইনশাআল্লাহ বললে সে ইচ্ছা করলে শপথ পূর্ণও করিতে পারে আবার নাও করিতে পারে, এতে কোন দোষের কিছু নেই।

সহীহঃ এর পূর্বেরটি দেখুন। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১২ঃ নাবী [সাঃআঃ]-এর কসমের ধরন

৩২৬৩. ইবনি উমার [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, অধিকাংশ সময় রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] এভাবে শপথ করিতেনঃ “লা ওয়া মুকাল্লিবিল কুলূব”।

সহীহঃ যিলালুল জান্নাহ [২৩৬]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৬৪. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন গুরুত্ব সহকারে শপথ করিতেন, তখন বলিতেনঃ “লা ওয়াল্লাযী নাফসু আবিল ক্বাসিমে বিয়াদিহ”।

দুর্বলঃ মিশকাত [৩৪২২], যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৪৩২৮]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৬৫.আবু হুরাইরাহ [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শপথ করার সময় বলিতেনঃ “লা ওয়া আসতাগফিরুল্লাহ”।

দুর্বলঃ ইবনি মাজাহ [২০৯৩], মিশকাত [৩৪৩২]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৬৬. আসিম ইবনি লাক্বীত্ব [রাঃ] হইতে বর্ণীতঃ

একদা লাক্বীত্ব ইবনি আসিম [রাদি.] একটি দলের প্রতিনিধি হয়ে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে সাক্ষাৎ করিতে রওয়ানা হলেন। লাক্বীত্ব [রাদি.] বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] দরবারে উপস্থিত হলাম। অতঃপর তিনি এ হাদিস বর্ণনা করেন। যাতে রয়েছেঃ নাবী[সাঃআঃ] বলিয়াছেন, “লাআমরু ইলাহিকা”।

দুর্বলঃ যিলালুল জান্নাহ [৬৩৬]।শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৩ঃ কসম ইয়ামীনের সমার্থক কিনা

৩২৬৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আবু বক্‌র [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ] সম্পর্কে কসম খেলেন। নাবী [সাঃআঃ] তাঁকে বলিলেনঃ এভাবে শপথ করো না।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [৩৯১৮]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৬৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু হুরায়রা [রাদি.] বর্ণনা করিতেন ঃ এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] নিকট এসে বললো, আমি আজ রাতে একটা স্বপ্ন দেখেছি। এ বলে সে স্বপ্নে যা দেখেছে তা বর্ণনা করলো। আবু বকর [রাদি.] এর ব্যাখ্যা করিলেন। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি স্বপ্নের ব্যাখ্যায় কিছুটা ঠিক বলেছো এবং কিছুটা ভুল করেছ। আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, আপনাকে আল্লাহ্‌র শপথ করে বলছি, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি ভুল অংশটি বলে দিন। নাবী [সাঃআঃ] তাঁকে বলিলেন, শপথ করো না।

শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৬৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদিসটি বর্ণনা করেন। কিন্তু এতে “শপথ” শব্দটি উল্লেখ নাই। এতে রয়েছে ঃ তিনি আবু বকর [রাদি.]-কে তাহাঁর ভুল দিক অবহিত করেননি।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪ঃ যে ব্যক্তি কিছু না খাওয়ার শপথ করেছে

৩২৭০. আবদুর রহমান ইবনি আবু বক্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমাদের কাছে কিছু মেহমান আসলো। এ সময় রাতের বেলা আবু বকর [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি [আবু বক্‌র] আমাদের বলে গেলেন যে, তুমি মেহমানদের থেকে অবসর হওয়ার পর আমি আসবো। আবদুর রহমান মেহমানদের কাছে ফিরে এসে তাহাদেরকে খাবার দিলেন। মেহমানরা বলিলেন, আবু বক্‌র ফিরে না আসা পর্যন্ত খাবার গ্রহন করবো না। তিনি ফিরে এসে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমাদের মেহমানদের কি অবস্থা, তাহাদের খাবার খাইয়েছো? ঘরের লোকেরা বললো, না। আমি বলিলাম, আমি তাহাদের খাবার নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তারা আপনাকে ছেড়ে খেতে রাজি হননি। তারা বলিলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! তিনি [আপনি] ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা খাবো না। মেহমানরা বলিলেন, আবদুর রহমান সত্যিই বলিয়াছেন। তিনি আমাদের জন্য খাবার এনেছিলেন, কিন্তু আপনি না আসা পর্যন্ত আমরা খেতে রাজি হইনি। তিনি বলিলেন, কোন জিনিস তোমাদেরকে বাঁধা দিলো? তারা বলিলেন, আপনার অনুপস্থিতি। আবু বক্‌র [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি আজ রাতে আহার করবো না। তারাও বলিলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আপনি না খেলে আমরাও রাতে আহার করবো না। তিনি বলিলেনঃ আমি এ রাতের মত খারাপ রাত কখনো দেখিনি। তিনি আবদুর রহমানকে বলিলেন, খাবার নিয়ে আসো। বর্ণনাকারী বলেন, তাহাদেরকে খাদ্য দেয়া হলো। তিনি বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করিলেন, তারাও খেলেন। আমি জানতে পারলাম, তিনি [আবু বক্‌র] সকালে নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট গিয়ে রাতের ঘটনা বর্ণনা করেন। তখন নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ বরং তুমি তাহাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং সত্যবাদী।

শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৭১. আবদুর রহমান ইবনি আবু বকর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রের বর্ণনায় রয়েছে ঃ তিনি বলেন, তিনি [আবু বকর] কাফফারাহ দিয়েছিলেন কিনা আমি জানতে পারিনি।

শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫ঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার শপথ করা

৩২৭২. সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আনসার সম্প্রদায়ের দুই ভাইয়ের মধ্যে একটি [যৌথ] মীরাস ছিল। এক ভাই অপর ভাইয়ের কাছে তা বণ্টনের দাবি করলে সে বলিল, তুমি পুনরায় মীরাস বণ্টনের কথা বললে আমি আমার সমস্ত সম্পদ কাবা ঘরের জন্য ওয়াক্ফ করে দিবো। উমার [রাদি.] লোকটিকে বলিলেন, কাবা ঘর তোমার সম্পত্তির মুখাপেক্ষী নয়। তোমার শপথের কাফফারাহ আদায় করো এবং তোমার ভাইয়ের সাথে [বণ্টনের] কথাবার্তা বলো। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, মহান রব্বের নাফরমানীতে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করণে এবং যার মালিক তুমি নও তাতে তোমার কোন শপথ ও মানত জায়িয নেই।

সনদ দুর্বল ঃ মিশকাত [৩৪৪৩]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৭৩. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মানত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কাজেই করা যেতে পারে আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কসম খাওয়া নিষেধ।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩২৭৪. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আদম সন্তান যে বস্তুর মালিক নয় তাতে তার কোন মানত নাই শপথও নাই; আল্লাহর নাফরমানীর কাজে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে কোন মানত গ্রহণযোগ্য হইবে না। কোন লোক কসম খাওয়ার পর তার বিপরীতে কল্যাণ দেখিতে পেলে সে তার শপথ বর্জন করে অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করিবে। পূর্বের শপথ বর্জন করাই শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ গণ্য হইবে। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে বর্ণিত এ বিষয়ের সহিহ হাদিসসমূহের বক্তব্য হচ্ছে ঃ “তাহাকে তার শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারাহ দিতে হইবে,” কিন্তু যেসব হাদিস যথার্থ নয় সেগুলো ছাড়া। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আহ্মাদ [রাদি.] কে বলিলাম, ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ আল-কাত্তান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইয়াহইয়া ইবনি উবাইদুল্লাহর সূত্রে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তখন আহ্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইয়াহইয়া ইবনি উবাইদের হাদিসসমূহ প্রত্যাখ্যাত এবং তাহাঁর পিতা অজ্ঞাত।

হাসান ঃ তাহাঁর এ কথাটি বাদে {…আরবী…} কেননা এ অংশটুকু মুনকার। যঈফাহ [১৩৬৫], যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৬৩১২]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬ঃ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা শপথ করা

৩২৭৫,ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা দুই ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে তাহাদের বিবাদ পেশ করলো। নাবী [সাঃআঃ] বাদীর কাছে প্রমাণ চাইলেন। কিন্তু তার কাছে প্রমাণ ছিল না। তিনি বিবাদীকে শপথ করিতে বললে সে বললো, মহান আল্লাহ্‌র নামে শপথ, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হাঁ, তুমি তো [মিথ্যা শপথ] করেছো। কিন্তু তোমাকে নিষ্ঠার সাথে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার কারনে ক্ষমা করা হয়েছে। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ হাদিস দ্বারা জানা যায়, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে কাফফারাহ প্রদানের নির্দেশ দেননি।

শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭ঃ অপেক্ষাকৃত উত্তম কাজ হলে কসম ভঙ্গ করা

৩২৭৬. আবু বুরদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! আমি কোন কাজের শপথ করার পর তার বিপরীত দিকে কল্যাণ দেখিতে পেলে ইন শা আল্লাহ্‌ আমি শপথ ভঙ্গ করে কাফফারাহ প্রদান করবো এবং অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করবো। অথবা তিনি বলিয়াছেন, আমি অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করবো এবং আমার শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ আদায় করবো।

সহিহ ঃ ইবনি মাজাহ [২১০৭]। শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৭৭. আবদুর রহমান ইবনি সামুরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা নাবী [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেনঃ হে আবদুর রহমান ইবনি সামুরাহ! তুমি কোন বিষয়ে শপথ করার পর তাহাঁর বিপরীতে কল্যাণ দেখিতে পেলে তুমি কল্যাণকর কাজটি করিবে এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ আদায় করিবে। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ঈমাম আহমাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] শপথ ভঙ্গের পূর্বেই কাফফারাহ আদায় জায়িয মনে করেন।

শপথ করা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৭৮. আবদুর রহমান [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে আছে ঃ “প্রথমে কাফফারাহ দিবে, তারপর কল্যাণকর কাজটি করিবে”। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবু মূসা আল-আশআরী, আদী ইবনি হাতিম ও আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে যেসব হাদিস বর্ণিত হয়েছে তার কতগুলোতে রয়েছে, শপথ ভঙ্গের পর কাফফারাহ আদায় করিবে, আর কতগুলোতে রয়েছে, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারাহ আদায় করিবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮ঃ কসমের কাফফারাহ কত সা

৩২৭৯. আবদুর রহমান ইবনি হারমালাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উম্মু হাবীব আমাদেরকে একটি সা দিলেন। তিনি আমাদেরকে তার দ্বিতীয় স্বামী সাফিয়্যাহ্‌র ভ্রাতুষ্পুত্রের সূত্রে বলেন, তিনি সাফিয়্যাহ্‌র সূত্রে বলিয়াছেন, এটি নাবী [সাঃআঃ] এর সা। আনাস [ইবনি ইয়াদ] বলেন, আমি তা যাচাই করে দেখেছি, তার ওজন হিশাম ইবনি আবদুল মালিকের যুগের আড়াই মুদ্দের সমান।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৮০.মুহাম্মাদ ইবনি মুহাম্মাদ ইবনি খাল্লাদ আবু আমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

“মাক্কূক খালিদ” নামে আমাদের একটি মাক্কূক ছিল। তা ছিল হারূনুর রশীদের আমলের পরিমাপকের দ্বিগুণ। মুহাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, খালিদের সা ছিল হিশাম ইবনি মালিকের সা।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

৩২৮১. উমাইয়্যাহ ইবনি খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খালিদ আল-কাসরী গভর্ণর হয়ে সা-কে দ্বিগুণ করিলেন। তাতে এক সা ষোল রতলের সমান হয়। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মুহাম্মাদ ইবনি মুহাম্মাদ খাল্লাদকে নিগ্রোরা বন্দী করে হত্যা করে। তিনি তার হাতের ইশারায় বলেন, এভাবে। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার হাত প্রসারিত করেন এবং দুহাতের তালু মাটির দিকে উপুর করে বলেন, আমি তাহাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ্‌ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন। আমি বলিলাম, তাহলে আপনার বন্দী অবস্থা আপনার অনিষ্ট করিতে পারেনি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

অনুচ্ছেদ-১৯ঃ কাফফারাহ হিসেবে মুমিন দাসী আযাদ করা

৩২৮২. মুআবিয়াহ ইবনিল হাকাম আস-সুলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার একটি বাঁদী আছে। আমি তাহাকে জোরে থাপ্পর মেরেছি। রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে এটা কষ্টদায়ক মনে হল। আমি বলিলাম, তাহাকে আযাদ করে দেই? তিনি বলিলেনঃ তাহাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাহাকে নিয়ে এলে তিনি তাহাকে জিজ্ঞেস করিলেন ঃ আমি কে? সে বললো, আপনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। তিনি আমাকে বলিলেনঃ তাহাকে আযাদ করে দাও, কারন সে মুমিন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৮৩. আশ-শারীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা তার মা তাহাকে একটি মুমিন বাঁদী আযাদ করিতে তাহাকে ওসিয়াত করেন। তিনি নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার মা তার পক্ষ হইতে একটি মুমিন ক্রীতদাসী আযাদ করিতে আমাকে ওসিয়াত করেছেন। কিন্তু আমার কাছে নুবা এলাকার একটি হাবশী ক্রীতদাসী আছে। এরপর হাদিসের বাকী অংশ উপরের হাদিসের শেষাংশের অনুরূপ। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, খালিদ ইবনি আবদুল্লাহ এটি মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আশ-শারীদের নাম উল্লেখ করেননি।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৩২৮৪.আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি একটি কালো দাসী নিয়ে নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আমাকে একটি মুমিন দাসী আযাদ করিতে হইবে। তিনি [সাঃআঃ] দাসীটিকে জিজ্ঞেস করিলেন ঃ আল্লাহ্‌ কোথায়? সে তার হাতের আঙ্গুল দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করলো। তিনি তাহাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করিলেন ঃ আমি কে? সে নাবী [সাঃআঃ] ও আকাশের দিকে ইশারা করে বললো, আপনি আল্লাহ্‌র রাসুল। তিনি বলেনঃ তুমি তাহাকে আযাদ করে দাও কেননা সে মুমিন।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০ঃ কসমের পর ইন শা আল্লাহ্‌ বলা

৩২৮৫. ইকরিমাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। আল্লাহর শপথ! অবশ্যই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। অতঃপর তিনি ইন শা আল্লাহ্ বলিলেন।

সহিহ।আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আল-ওয়ালীদ বিন মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] শারীক হইতে বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৮৬. ইকরিমাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। অতঃপর তিনি বলিলেন, ইন শা আল্লাহ্। পুনরায় তিনি বলিলেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো ইন শা আল্লাহু তাআলা। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি অচিরেই কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলিলেনঃ ইন শা আল্লাহ্। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ওয়ালীদ ইবনি মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] শারীক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে হাদিসের শেষাংশে বর্ণনা করছেন, অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১ঃ [মানত করা অপছন্দনীয়]

৩২৮৭.আবদুল্লাহ ইবনি উমার[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মানত করিতে নিষেধ করে বলেনঃ মানত [তাকদীরের] কোন কিছুই পরিবর্তন করিতে পারে না, শুধু কৃপণের কিছু সম্পদ ব্যয় হয় মাত্র। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ মানত কোন কিছুই প্রতিহত করিতে পারে না।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২১২২]।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৮৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ [আল্লাহ্‌ বলেন] মানত আদম সন্তানের তাক্বদীরকে এমন কিছু দিতে পারে না – যা আমি তার জন্য নির্ধারণ করিনি। বরং আমি তার তাক্বদীরে যা নির্ধারণ করেছি কেবল তাই মানত তাহাকে এনে দেয়। তা কৃপণের ধন থেকে কিছু পরিমাণ বের করে আনে এবং তার নিকট তা নিয়ে আসে যা আগে তার কাছে আসেনি।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২১২৩]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২ঃ গুনাহের কাজে মানত করা

৩২৮৯. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র আনুগত্যের মানত করে, সে যেন তাহাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নাফরমানীর মানত করে, সে যেন তা না করে।

সহীহঃ ইবুন মাজাহ [২১২৬]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৩ঃ যিনি বলেন, গুনাহের কাজের মানত ভঙ্গ করলে কাফফারাহ দিবে

৩২৯০. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ গুনাহের কাজে মানত করা জায়িয নাই। [কেউ করলে] এর কাফফারাহ হইবে শপথ ভঙ্গের কাফফারাহ্‌র সমান।

সহীহঃ ইবুন মাজাহ [২১২৫]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৯১. আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আহমাদ ইবনি শাব্বুয়াহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] কে বলিতে শুনিয়াছি, ইবনিল মুবারক[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ হাদিস সম্পর্কে বলিয়াছেন, যুহরী এ হাদিসটি আবু সালামাহ্র কাছে শোনেননি। আবু দাউদ[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আহ্মাদ ইবনি হাম্বল[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] – কে বলিতে শুনিয়াছি, তারা আমাদের জন্য হাদিসকে ত্রুটিযুক্তভাবে বর্ণনা করেছে- সুতরাং একথা কি সঠিক? আর ইবনি আবু উয়াইস ছাড়া অপর কেউ কি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন? তিনি উত্তরে বলেন, বিশ্বস্ততায় আইয়ুব ইবনি সুলাইমান ইবনি বিলাল আবু উয়াইসের সম-পর্যায়ের। হাদিসটি আইয়ুবও বর্ণনা করেছেন।

আমি এটি সহিহ ও যঈফেও পাইনি। হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩২৯২. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ পাপকাজে কোন মানত নেই। এর কাফফারাহ শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ। আহ্‌মাদ ইবনি মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সঠিক সনদ হলোঃ আলী ইবনিল মুবারক – ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি আবু কাসির – মুহাম্মাদ ইবনিয যুবাইর – তার পিতা – ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] – নাবী[সাঃআঃ]। আল-মারওয়াযী এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, এ হাদিস সম্পর্কে সুলাইমান ইবনি আরক্বাম সন্দিহান। তার থেকে আয-যুহরী হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মুরসালভাবে আবু সালামা – আয়িশাহ [রাদি.] হইতে। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, বাক্বিয়্যাহ এ হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-আওযাই-ইয়াহ্‌ইয়া-মুহাম্মাদ ইবনিয যুবাইর – আলী ইবনিল মুবারকের সানাদে পূর্বের হাদিসের অনুরূপ।

সহীহঃ পূর্বেরটি দ্বারা।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৯৩. উক্ববাহ ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার বোন পদব্রজে এবং খালি মাথায় হাজ্জ করার মানত করেছে। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তাহাকে ওড়না পরতে, যানবাহনে আরোহণ করিতে এবং তিন দিন সওম পালন করিতে আদেশ করো।

দুর্বলঃ ইবনি মাজাহ [২১৩৪], যইফ সুনান আত-তিরমিজি, যইফ সুনান নাসায়ী, ইরওয়া [২৫৯২], মিশকাত [৩৪৪২]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৯৪. মাখলাদ ইবনি খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবু সাইদ আর-রুআইনী উপরোক্ত হাদিস ইয়াহ্ইয়া ইবনি সাইদ কর্তৃক বর্ণিত সনদের অনুরূপ সানাদে একই হাদিস বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩২৯৫. উকবাহ ইবনি আমির আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার বোন পদব্রজে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করিতে যাওয়ার মানত করেন। তিনি আমাকে এ বিষয়ে নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে ফাতাওয়াহ জিজ্ঞেস করিতে বলেন। আমি নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে ফাতাওয়াহ জানতে চাইলে তিনি বলিলেনঃ সে যেন পায়ে হেঁটে যায় এবং যানবাহনেও যায়।

দুর্বলঃ পূর্বেরটি দেখুন [৩২৯৪]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৯৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উক্ববাহ ইবনি আমিরের [রাদি.] বোন পদব্রজে হাজ্জে যাওয়ার মানত করেছিলেন। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে সওয়ারীতে করে আসার এবং একটি কুরবানি করার নির্দেশ দিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৯৭. ইবনি আব্বাস[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] যখন জানতে পারলেন, উক্ববাহ ইবনি আমিরের [রাদি.] বোন পদব্রজে হাজ্জ করার মানত করেছেন, তখন তিনি বলিলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তার এরূপ মানতের মুখাপেক্ষী নন। তাহাকে যানবাহনে চড়ে হাজ্জে আসার নির্দেশ দাও। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সাঈদ ইবনি আবু আরূবাহ[রহমাতুল্লাহি আলাইহি]– ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইকরিমাহ হইতে নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৯৮. ইকমিরাহ[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উক্ববাহ ইবনি আমিরের [রাদি.] বোন … অতঃপর হিশামের হাদিসের সমার্থবোধক হাদিস বর্ণিত। বর্ণনাকারী কুরবানির উল্লেখ করেননি। এতে আরও রয়েছেঃ তোমার বোনকে হুকুম করো সে যেন বাহনে চড়ে যায়। আবু দাউদ[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, খালিদ[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ হাদিস ইকরিমাহ সূত্রে হিশামের হাদিসের অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেছেন।

সহিহঃ পূর্বেরটি দ্বারা। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৯৯. উক্ববাহ ইবনি আমির আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার এক বোন পায়ে হেঁটে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করার মানত করেন। তিনি আমাকে হুকুম করিলেন, আমি যেন নাবী [সাঃআঃ]-কে এ বিষয়ে ফাতাওয়াহ জিজ্ঞেস করি। আমি নাবী[সাঃআঃ]-এর নিকট ফাতাওয়াহ জানতে চাইলে তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ সে যেন পায়ে হেঁটেও যায় এবং বাহনে চড়েও যায়।

সহীহঃ ইরওয়া [৮/২১৯]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩০০. ইবনি আব্বাস[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা নাবী [সাঃআঃ] খুতবাহ দিচ্ছিলেন। তখন তিনি দেখলেন, একটি লোক রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি লোকটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে লোকেরা বলিল, সে আবু ইসরাইল। সে মানত করে যে, সে দাঁড়িয়ে থাকিবে, বসবে না, ছায়া নিবে না, কথা বার্তা বলবে না এবং সওম পালন করিবে। তখন তিনি বলিলেনঃ তাহাকে আদেশ করো , সে যেন কথা বলে, ছায়া নেয়, বসে এবং সওম পূর্ণ করে।

সহীহঃ ইরওয়া [৮/২১৮]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩০১. আনাস ইবনি মালিক[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দেখলেন, এক ব্যক্তি তার দুই ছেলের কাঁধে ভর করে হেঁটে যাচ্ছে। তিনি তার সম্পর্কে জানতে চাইলে লোকেরা বলিল, সে পায়ে হেঁটে [হাজ্জে] যাওয়ার মানত করেছে। তিনি বলিলেনঃ এ ব্যক্তির নিজেকে এভাবে কষ্ট দেয়া হইতে আল্লাহ্‌ সম্পূর্ণ মুক্ত। তিনি তাহাকে বাহনে চড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩০২. ইবনি আব্বাস[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] কাবা ঘর তাওয়াফ করার সময় এক ব্যক্তিকে অতিক্রম করিতে গিয়ে দেখলেন – তার নাকে আংটিযুক্ত রশি লাগিয়ে তাহাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নাবী [সাঃআঃ] তা নিজ হাতে কেটে ফেলেন এবং তাহাকে তার হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।

সহীহঃ নাসায়ী [২৯২০] হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩০৩..ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উক্ববাহ ইবনি আমিরের[রাদি.] বোন শারীরিক সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও পদব্রজে হজ্জ করার মানত করেন। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ নিশ্চয়ই মহামহিম আল্লাহ্‌ তোমার বোনের এরূপ মানতের মুখাপেক্ষী নন। সুতরাং সে বাহনে চড়ে যায় এবং একটি উট কুরবানি করে।

সহীহঃ দেখুন [৩২৯৭]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩০৪. উক্ববাহ ইবনি আমির আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ]- কে বলিলেন, আমার বোন পদব্রজে বাইতুল্লাহ যাওয়ার মানত করেছে। তিনি বলিলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তোমার বোনের পায়ে হেঁটে বাইতুল্লাহ যাওয়াতে বাধ্যবাধকতা রাখেননি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৪ঃ যে ব্যক্তি বাইতুল মুকাদ্দাসে সলাত আদায়ের মানত করেছে

৩৩০৫. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি [মাক্কাহ] বিজয়ের দিন দাঁড়িয়ে বলিল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আল্লাহ্‌ আপনাকে মক্কা বিজয়ের গৌরব দান করলে আমি আল্লাহ্‌র জন্য বাইতুল মুক্কাদাসে দুরাকআত সলাতের মানত করেছিলাম। তিনি বলিলেনঃ ঐ সলাত এখানেই আদায় করো। সে পুনরায় একই কথা বললে তিনি বলিলেনঃ এখানে [মাসজিদুল হারামে] পড়ে নাও। সে পুনরায় একই কথা বললে তিনি বলিলেনঃ এ ব্যাপারে তোমার স্বাধীনতা রয়েছে। আবু দাউদ[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবদুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত আছে।

সহীহঃ ইরওয়া [২৫৯৭] হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩০৬. উমার ইবনি আবদুর রহমান ইবনি আওফ[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে নাবী [সাঃআঃ]-এর কতিপয় সাহাবীর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। এতে রয়েছেঃ নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ ঐ সত্তার শপথ, যিনি মুহাম্মাদকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন! তুমি এখানে তোমার মানতের সলাত আদায় করে নিলে এটা তোমার বাইতুল মুকাদ্দাসে সলাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট হতো।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৫ঃ মৃতের পক্ষ হইতে মানত পূর্ণ করা

৩৩০৭. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সাদ ইবনি উবাদাহ [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিকট ফাতাওয়াহ জানতে চেয়ে বলিলেন, আমার মা মারা গেছেন, কিন্তু তার একটি মানত আছে যা তিনি পুরণ করে যেতে পারেননি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তুমি তার পক্ষ হইতে তা আদায় করো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩০৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক মহিলা সমুদ্র ভ্রমণে গিয়ে মানত করলো, আল্লাহ যদি তাহাকে নিরাপদে ফেরার সুযোগ দিলে সে এক মাস সাওম পালন করিবে। অতঃপর আল্লাহ তাহাকে সমুদ্রের বিপদ থেকে মুক্তি দিলেন। কিন্তু সাওম পালনের পূর্বেই সে মারা গেল। তার মেয়ে অথবা বোন রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] এর নিকট আসলে তিনি তাহাকে মৃতের পক্ষ হইতে সওম পালনের নির্দেশ দিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩০৯. বুরাইদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক মহিলা নাবী [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে বলিল, আমি আমার মাকে একটি দাসী দিয়েছিলাম। তিনি ঐ দাসী রেখে মারা গেছেন। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি সওয়াব পেয়েছো এবং ঐ দাসী উত্তরাধিকার সূত্রে পুনরায় তোমার মালিকানায় ফিরে এসেছে। সে বলিল, তিনি এক মাসের সাওম বাকি রেখে মারা গেছেন। হাদিসের বাকি অংশ [উপরের] আমর ইবনি আওন বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [১৭৫৯,২৩৯৬]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৬ঃ কেউ ক্বাযা সওম রেখে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা তা আদায় করিবে

৩৩১০. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক মহিলা নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বলেন, তার মায়ের এক মাসের সওম বাকি আছে। কাজেই আমি কি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করবো? তিনি বলেনঃ তোমার মা ঋণগ্রস্থ হলে তুমি কি তা পরিশোধ করিতে না? মহিলা বলেন, হাঁ। তিনি বলেনঃ তবে আল্লাহ্‌র প্রাপ্য পরিশোধ করাটা অধিক অগ্রগণ্য।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩১১. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন ব্যক্তি সওম অনাদায়ী রেখে মারা গেলে তার পক্ষ হইতে তার ওয়ারিসগণ সওম পালন করিবে।

সহিহ। এটি সাওম অধ্যায়ে গত হয়েছে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৭ঃ মানত পূর্ণ করার নির্দেশ

৩৩১২. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, এক মহিলা নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানত করেছি যে, আমার মাথার উপর দফ বাজাবো। তিনি বলিলেনঃ তোমার মানত পূর্ণ করো। মহিলাটি আবার বলিলেনঃ আমি অমুক অমুক স্থানে যাবাহ করার মানত করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, ঐসব স্থানে জাহিলী যুগে কুরবানি করা হতো। নাবী [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করেন, তোমার এ কোরবানি কি কোন মূর্তির জন্য? সে বলিল, না। তিনি বলিলেনঃ তাহলে তোমার মানত পূর্ণ করো।

হাসান সহীহঃ ইরওয়া [৪৫৭৮]। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৩৩১৩. সাবিত ইবনিদ দাহহাক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] এর যুগে এক ব্যক্তি মানত করে যে, সে বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট যাবাহ করিবে। সে নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বললো, আমি বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানি করার মানত করেছি। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ সেখানে কি জাহেলী যুগের কোন মূর্তি রয়েছে? লোকেরা বলিল, না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কি তাহাদের কোন মেলা বসতো? লোকেরা বলিল, না। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমার মানত পূর্ণ করিতে পারো। কেননা আল্লাহ্‌র নাফরমানীমূলক কাজের জন্য কৃত মানত পূর্ণ করা জায়িয নয় এবং আদম সন্তান যে জিনিসের মালিক নয় তারও কোন মানত নেই।

সহীহঃ মিশকাত [৩৪৩৭]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩১৪. কারদাম-কন্যা মায়মূনাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আমার পিতার সাথে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] বিদায় হাজ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হই। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দেখিতে পেলাম। আমি যখন লোকজনকে বলিতে শুনলাম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তখন আমি এক দৃষ্টিতে তাহাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার পিতা তাহাঁর কাছে গেলেন, তখন তিনি তাহাঁর উষ্ট্রীতে আরোহিত ছিলেন। তার সাথে সচিবের চাবুকের মত একটি চাবুক ছিল। আমি লোকদেরকে এবং বেদুইনদেরকে বলিতে শুনলাম, চাবুক, চাবুক। আমার পিতা তাহাঁর কাছে গিয়ে তাহাঁর পা ধরলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা তাহাঁর নবুওয়াতের স্বীকারোক্তি করিলেন এবং তাহাঁর কথা শুনলেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মানত করেছিলাম, আমার একটি পুত্র সন্তান হলে আমি বুওয়ানার শেষ প্রান্তে পাহাড়ের পাদদেশে কিছু সংখ্যক মেষ যাবাহ করবো। অধস্তন বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় মায়মূনাহ[রাদি.] পঞ্চাশটি বলিয়াছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কি কোন প্রতিমা আছে? তিনি বলিলেন, না। তিনি বলেনঃ তাহলে তুমি আল্লাহর নামে কৃত তোমার মানত পূর্ণ করিতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তার মেষগুলো একত্র করে যাবাহ করিতে লাগলেন। তার মধ্যে একটি মেষ ছুটে পালালে তিনি এই এই বলিতে বলিতে তার পিছু ধাওয়া করেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আমার পক্ষ হইতে আমার মানত পূর্ণ করুন। সুতরাং তিনি সেটিকে ধরে ফেলেন এবং যাবাহ করেন।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২১৩১]।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩১৫. কারদাম ইবনি সুফিয়ান-কন্যা মায়মূনাহ [রাদি.] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত, কিন্তু সংক্ষিপ্তভাবে। নাবী [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করলেনঃ সেখানে কোন প্রতিমা আছে কিনা? অথবা জাহিলী যুগের কোন মেলা বসতো কি না? তিনি বলিলেন, না। আমি বলিলাম, এ আমার মা, তার একটি মানত ও পদব্রেজে [হাজ্জ করার] ইচ্ছা আছে। আমি কি তার পক্ষ হইতে তা পূর্ণ করবো? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ [২১৩১] হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৮ঃ মালিকানাবিহীন জিনিসের মানত করা.

৩৩১৬. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল-আদবা নামক উটটি আকিল গোত্রের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। এ উট হাজীদের কাফেলার আগে আগে চলতো। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটিকে বন্দী করে নাবী [সাঃআঃ]-এর কাছে আনা হলো। তখন নাবী [সাঃআঃ] গায়ে চাঁদর জড়িয়ে একটি গাধার পিঠে বসে ছিলেন। আল-আদবার মালিক বললো, হে মুহাম্মাদ! আমাকে এবং হাজ্জীদের আগে আগে চলা আমার উষ্ট্রীকে কোন অপরাধে গ্রেপ্তার করিলেন? তিনি বলিলেনঃ তোমাকে তোমার বন্ধুগোত্র সাক্বিফদের অপরাধের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, সাক্বিফ গোত্র নাবী [সাঃআঃ]-এর দুজন সাহাবীকে বন্দী করে রেখেছিলো। আল-আদবার মালিক বললো, আমি মুসলিম অথবা সে বললো, আমি ইসলাম কবুল করেছি। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি কথাগুলো মুহাম্মাদ ইবনি ঈসার কাছ থেকে শিখেছি। তিনি [সাঃআঃ] যখন কিছুদুর অগ্রসর হলেন তখন লোকটি উচ্চস্বরে হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ বলে ডাকলো। বর্ণনাকারী বলেন, নাবী [সাঃআঃ] ছিলেন অনুগ্রহকারী ও সহানুভূতিশীল। তিনি তার ডাকে ফিরে এসে বলিলেন, তোমার কি হয়েছে? সে বলিল, আমি মুসলিম। তিনি বলিলেনঃ তুমি বন্দী হওয়ার আগে এ কথা বললে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যেতে। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, অতঃপর আমি সুলাইমানের বর্ণিত হাদিসে প্রত্যাবর্তন করি। লোকটি বলিল, হে মুহাম্মাদ! আমি ক্ষুধার্ত আমাকে খাদ্য দিন, আমি পিপাসার্ত, আমাকে পান করান। বর্ণনাকারী বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ এটাই তোমার উদ্দেশ্য অথবা এটাই তার উদ্দেশ্য। বর্ণনাকারী বলেন, এ বন্দীর বিনিময়ে মুসলিম বন্দীদ্বয়কে মুক্ত করে আনা হয়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আল-আদবা নামক উষ্ট্রীটি নিজের সওয়ারি হিসেবে রাখলেন। অতঃপর মুশরিকরা মাদীনাহ এসে উপকণ্ঠে হামলা করে আদবা উটকে লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় এবং একজন মুসলিম মহিলাকেও বন্দী করে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, তারা রাতের বেলা উটগুলোকে ময়দানে ছেড়ে দিত। এক রাতে তারা গভীর ঘুমে থাকলে মুসলিম বন্দী মহিলাটি গিয়ে যে উটের গায়েই হাত দিলেন সেটা আওয়াজ করলো। এভাবে তিনি আল-আদবার কাছে পৌঁছে গেলেন। তিনি একটি অনুগত ও সুদক্ষ উষ্ট্রীর কাছে পৌঁছে গেলেন। তিনি তার পিঠে চড়লেন, এবং আল্লাহ্‌র নামে মানত করিলেন, আল্লাহ যদি মুশরিকদের কবল থেকে তাহাকে মুক্তি দেন তাহলে তিনি এ পশুটি যাবাহ করবেন। অতঃপর তিনি মাদীনাহ আসলে ঐ উটনীকে চেনা গেলো যে, এটি ছিল নাবী [সাঃআঃ] এর উটনী। তখন নাবী [সাঃআঃ] কে খবর দেয়া হলো। তিনি তাহাকে ডেকে পাঠালেন। অতঃপর তাহাকে নিয়ে আসা হলো এবং তার মানত সম্পর্কে নাবী [সাঃআঃ]-কে জানানো হলো। তিনি বলিলেনঃ তুমি উটনীকে খুবই নির্মম প্রতিদান দিতে চেয়েছো। আল্লাহ তাহাকে যে উটনীর সাহায্যে মুক্তি দিলেন সে তাহাকে যাবাহ করিতে চায়। আল্লাহ্‌র নাফরমানীর কাছে মানত করলে তা পূরণ কারা জায়িয নয় এবং আদম সন্তান যার মালিক নয় তার মানত করা ও তা পূর্ণ করা জায়িয নয়। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ মহিলা আবু যার [রাদি.]-এর স্ত্রী ছিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৯ঃ নিজের সমস্ত মাল দান করার মানত করা সম্পর্কে

৩৩১৭. কাব ইবনি মালিক[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তাওবাহ কবুল হওয়ায় আমি আমার সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো এবং তা আল্লাহ ও তাহাঁর রাসুলের জন্য দান করে দিবো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমার সম্পদের কিছু অংশ নিজের জন্য রেখে দেয়াই তোমার জন্য উত্তম হইবে। কাব [রাদি.] বলেন, আমি বলিলাম , খায়বারে প্রাপ্ত আমার অংশ নিজের জন্য রেখে দিলাম।

সহিহ ঃ নাসায়ী [৩৮২৩ ]। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩১৮. আবদুল্লাহ ইবনি কাব ইবনি মালিক[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তার তাওবাহ কবুল হওয়ার পর তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলেন , আমি আমার সমস্ত সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো —“ তোমার জন্য উত্তম হইবে “ পর্যন্ত পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত।

সহিহ ঃ এর পূর্বেরটি দেখুন। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩১৯. ইবনি কাব ইবনি মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বা আবু লুবাবাহ কিংবা আল্লাহর ইচ্ছায় অপর কেউ নাবী [সাঃআঃ]-কে বলেন , আমার তাওবাহ কবুল হওয়ায় আমি আমার গোত্রের যে বাড়িতে অপরাধের শিকার হয়েছি, তা ত্যাগ করবো এবং আমার সমস্ত সম্পদ সদাক্বাহ করে দিবো। তিনি বলিলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ সদাক্বাহ করাই তোমার জন্য যথেষ্ট।

সনদ সহিহ। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩২০. ইবনি কাব ইবনি মালিক[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবু লুবাবাহ [রাদি.] ছিলেন—অতপর পূর্বোক্ত হাদিসের সমার্থক হাদিস বর্ণিত। ঘটনাটি আবু লুবাবাহ [রাদি.] সংশ্লিষ্ট। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইউনুস ইবনি শিহাব হইতে তিনি বনু সায়িব ইবনি আবু লুবাবাহ হইতে বর্ণনা করেছেন।

সানাদঃ দুর্বল। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩২১. কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তাওবাহ কবুল হওয়ায় আমি আমার সমস্ত সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো এবং আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহ ও তাহাঁর রাসুলের পথে খরচ করবো। তিনি বলিলেন, না। আমি বলিলাম, তাহলে অর্ধেক সম্পদ? তিনি বলিলেনঃ না। আমি বলিলাম-এক তৃতীয়াংশ? তিনি বলিলেনঃ হাঁ। আমি বলিলাম, খায়বারের প্রাপ্ত সম্পদ আমার নিজের জন্য রেখে দিলাম।

হাসান সহিহ। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ—৩০ঃ যা পূর্ণ করার সামর্থ্য নাই তার মানত করা

৩৩২২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কেউ নাম উল্লেখ [নির্দিষ্ট] না করে মানত করলে, তার কাফফারাহ শপথ ভঙ্গের কাফফারাহর অনুরূপ। কেউ গুনাহের কাজে মানত করলে তার কাফফারাহ শপথ ভঙ্গের কাফফারাহর অনুরূপ। কেউ যদি এমন মানত করে যা পূর্ণ করা তার সামর্থ্যর বাইরে, তার কাফফারাহ হইবে শপথ ভঙ্গের কাফফারাহর অনুরূপ। কোন ব্যক্তি যদি সামর্থ্য অনুযারী মানত করে তবে সে যেন তা পূর্ণ করে। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ওয়াকী ও অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ এ হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনি সাঈদ ইবনি হিন্দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাসের [রাদি.] উপর মওকূফভাবে বর্ণনা করেছেন।

দুর্বল মারফু ঃ ইরওয়া [২৫৮৬], যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৫৮৬২], মিশকাত [৩৪৩৬]।। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মারফু

অনুছেদ-৩১ঃ কোন কিছুর নাম উল্লেখ না করে মানত করা

৩৩২৩. উক্ববাহ ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মানতের কাফফারাহ হলো শপথ ভঙ্গের কাফফারার মত।

সহিহ ঃ নাসায়ী [ ৩৮৩২ ]।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩২৪. উক্ববাহ ইবনি আমির [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত।

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি। হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ-৩২ঃ জাহিলী যুগে মানত করার পর ইসলাম গ্রহণ করলে

৩৩২৫. উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি জাহিলিয়াতের যুগে মাসজিদুল হারামে এক রাত ইতিকাফ করার মানত করেছিলাম। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেনঃ তুমি তোমার মানত পূর্ণ করো।

সহিহ। এটি সিয়াম অধ্যায়ের শেষ দিকে গত হয়েছে। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply