লোক দেখানো এবং খ্যাতির উদ্দেশে যে যুদ্ধ করে …

লোক দেখানো এবং খ্যাতির উদ্দেশে যে যুদ্ধ করে

লোক দেখানো এবং খ্যাতির উদ্দেশে যে যুদ্ধ করে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪৩. অধ্যায়ঃ লোক দেখানো এবং খ্যাতির উদ্দেশে যে যুদ্ধ করে সে জাহান্নামের যোগ্য হয়

৪৮১৭

সুলাইমান ইবনি ইয়াসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা লোকজন যখন আবু হুরায়রা্‌ [রাদি.]-এর নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছিল, তখন সিরিয়াবাসী নাতিল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিলেন, হে শায়খ! আপনি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট থেকে শুনেছেন এমন একখানা হাদীস আমাদেরকে শুনান। তিনি বলেন, হ্যাঁ! [শুনাবো]। আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে বলিতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হইবে, সে হচ্ছে এমন একজন যে শহীদ হয়েছিল। তাঁকে উপস্থিত করা হইবে এবং আল্লাহ তাহাঁর নিয়ামাতরাশির কথা তাকে বলবেন এবং সে তার সবটাই চিনতে পারবে [এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করিবে।] তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, এর বিনিময়ে‌ কী আমাল করেছিলে? সে বলবে, আমি তোমারই পথে যুদ্ধ করেছি এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি বরং এ জন্যেই যুদ্ধ করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে বলে, তুমি বীর। তা বলা হয়েছে, এরপর নির্দেশ দেয়া হইবে। সে মতে তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হইবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হইবে যে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ করেছে এবং কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে। তখন তাকে হাযির করা হইবে। আল্লাহ তাআলা তাহাঁর প্রদত্ত নিআমাতের কথা তাকে বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে [এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করিবে।] তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, এত বড় নিআমাত পেয়ে বিনিময়ে তুমি কী করলে? জবাবে সে বলবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন অধ্যয়ন করেছি। জবাবে আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলে। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকে বলে, তুমি একজন ক্বারী। তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেয়া হইবে, সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হইবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার হইবে যাকে আল্লাহ তাআলা সচ্ছলতা এবং সর্ববিধ বিত্ত-বৈভব দান করিয়াছেন। তাকে উপস্থিত করা হইবে এবং তাকে প্রদত্ত নিআমাতসমূহের কথা তাঁকে বলবেন। সে তা চিনতে পারবে [স্বীকারোক্তিও করিবে।] তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, এসব নিআমাতের বিনিময়ে তুমি কী আমল করেছো? জবাবে সে বলবে, সম্পদ ব্যয়ের এমন কোন খাত নেই যাতে সম্পদ ব্যয় করা তুমি পছন্দ কর, আমি সে খাতে তোমার সন্তুষ্টির জন্যে ব্যয় করেছি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি বরং এ জন্যে তা করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে দানবীর বলে অভিহিত করে। তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেয়া হইবে। সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হইবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৪৭৭১]

৪৮১৮

সুলাইমান ইবনি ইয়াসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

সুলাইমান ইবনি ইয়াসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে হাদীসখানা বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি তাহাঁর বর্ণনায় তাফাররাকা-এর স্থলে তাফাররাজা এবং নাতিল আহলিশ শাম-এর স্থলে নাতিলুশ শাম বলে উল্লেখ করিয়াছেন। অবশিষ্ট হাদীস খালিদ ইবনি হারিস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৪৭৭২]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply