নতুন লেখা

তাহলীল [ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ বলা], তাসবীহ্ [সুবহা-নাল্লা-হ বলা]

তাহলীল [ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ বলা], তাসবীহ্ [সুবহা-নাল্লা-হ বলা]

তাহলীল [ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ বলা], তাসবীহ্ [সুবহা-নাল্লা-হ বলা] >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১০. অধ্যায়ঃ তাহলীল [ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ বলা], তাসবীহ্ [সুবহা-নাল্লা-হ বলা] ও দুআর ফযিলত

৬৭৩৫ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ

اَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়্যিন কদীর ( অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই; তাহাঁরই রাজত্ব, তাহাঁরই যাবতীয় প্রশংসা; তিনিই সব বিষয়ের উপর শক্তিধর)

যে লোক এ দুআ প্রতিদিনে একশ বার পাঠ করে সে দশজন গোলামমুক্ত করার পুণ্য অর্জন হয়, তার [আমালনামায়] একশ নেকী লেখা হয় এবং তার হইতে একশ পাপ মিটিয়ে দেয়া হয়। আর তা ঐ দিন বিকাল পর্যন্ত শাইতান [তার কুমন্ত্রণা] হইতে তার জন্যে রক্ষাকারী হয়ে যায়। সেদিন সে যা পুণ্য অর্জন করেছে তার চেয়ে বেশি পুণ্যবান কেউ হইবে না। তবে কেউ তার চাইতে বেশি আমাল করলে তার কথা আলাদা। আর যে লোক দিনে একশ বার

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হাম্দিহী (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর সপ্রশংসা সহ তার পরিবত্রতা বর্ণনা করছি)

পাঠ করিবে, তার সমস্ত পাপ মিটিয়ে দেয়া হইবে, যদি ও তা সমুদ্রের ফেনার সম পরিমাণ হয়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫০]

৬৭৩৬ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক সকালে ও সন্ধ্যায়

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী, (অর্থাৎ- আল্লাহ পবিত্র ও সমস্ত প্রশংসা তাহাঁরই)

একশ বার পড়ে আখিরাতের দিবসে তার তুলনায় উত্তম আমাল নিয়ে কেউ আসবে না। তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে লোক তার সমান আমাল করে অথবা তার তুলনায় বেশি আমাল করে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫১]

৬৭৩৭ :আমর ইবনি মাইমূন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

যে ব্যক্তি দশবার

اَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়্যিন কদীর (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মাবূদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব তাহাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাহাঁরই, তিনি-ই সব বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ শক্তিধর)

পাঠ করিবে সে যেন ইসমাঈল [আঃ]-এর বংশের চারজন গোলামকে মুক্তি করে দিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫২]

৬৭৩৮ : সুলাইমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] রাবী ইবনি খুসায়ম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, আমি রাবীকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কার কাছ হইতে তা শুনেছেন? তিনি বলিলেন, আম্‌র ইবনি মাইমূন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে। তিনি বলেন, তখন আমি আম্‌র ইবনি মাইমূন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর নিকট গেলাম এবং বললাম, আপনি কার কাছ হইতে শুনেছেন? তিনি বলেন, [শাবী বলেন] অতঃপর আমি ইবনি লাইলার কাছে গিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কার থেকে শুনেছেন? তিনি বলিলেন, আবু আইয়ূব আল আনসারী [রাদি.] হইতে, তিনি প্রত্যক্ষভাবে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৩]

৬৭৩৯ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুটি কালিমাহ্ জিহ্বার উপর [উচ্চারণে] খুবই হাল্কা, মীযানের পাল্লায় খুবই ভারী, রহ্মান [পরম দয়ালু আল্লাহ]-এর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। তা হলো

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী সুবহা-নাল্ল-হিল আযীম (অর্থাৎ- আমি আল্লাহ তাআলার সমস্ত প্রশংসা, পরিবত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা জ্ঞপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৪]

৬৭৪০ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি বলি-

سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদু লিল্লা-হি ওয়ালা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার (অর্থাৎ- “আল্লাহর পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ভিন্ন কোন মাবূদ নেই, আল্লাহ মহান” পড়া আমার নিকট বেশি প্রিয়- সে সব বিষয়ের চেয়ে, যার উপর সূর্য উদিত হয়।)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৫]

৬৭৪১ : মুসআব ইবনি সাদ [রাদি.] তাহাঁর পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট জনৈক গ্রাম্য লোক এসে বলিল, আমাকে একটি কালাম শিক্ষা দিন, যা আমি নিয়মিত পাঠ করব। তিনি বলিলেন, তুমি বলো-

اَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহু আল্ল-হু আকবার কাবীরা ওয়াল হামদু লিল্লা-হি কাসীরা সুবহানাল্ল-হি রাব্বিল আ-লামীনা লা- হাওলা ওয়ালা- কুও্ওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল আযীযিল হাকীম (অর্থাৎ- “আল্লাহ ভিন্ন কোন মাবূদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই, আল্লাহ মহান, সবচেয়ে মহান, আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং আমি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ভাল কাজ করার এবং খারাপ কাজ হইতে বিরত থাকার সাধ্য কারো নেই।”)

সে বলিল, এসব তো আমার রবের জন্য। আমার জন্যে কি? তিনি বলিলেন, বলো,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي

আল্লাহুম্মাগফেরলি ওয়ার হামনি ওয়া দিনি ওয়ার জুকনি (হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন)

মূসা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, [আমার মনে হয়] তিনি [আরবী] [আ-ফিনী] “আমাকে মাফ করুন” কথাটি বলেছেন। তবে আমি তাতে সংশয় আছি এবং আমি জানি না। আর ইবনি আবু শাইবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার হাদীসে মূসার উক্তি বর্ণনা করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৬]

৬৭৪২ : আবু মালিক আল আশজাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর পিতার সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন লোক ইসলাম কবূল করলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে এ দুআ বলিতে শিখিয়ে দিতেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي

আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী ওয়ার্হাম্নী ওয়াহ্দিনী ওয়ার্যুক্নী (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৭]

৬৭৪৩ : আবু মালিক আল আশজাঈ-এর পিতার সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষা গ্রহণ করত তখন নবী [সাঃআঃ] তাকে প্রথমে নামাজ আদায়ের শিক্ষা দিতেন। তারপর তিনি তাকে এ কালিমাসমূহ পাঠ করার নির্দেশ দিতেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي

আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্লী ওয়ার্হাম্নী ওয়াহ্দিনী ওয়াআ-ফিনী ওয়ার্যুক্নী (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সুস্থতা দান করুন এবং আমার জীবিকা উপকরণ দান করুন।)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৮]

৬৭৪৪ : আবু মালিক [রাদি.]-এর পিতা সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] থেকে শুনেছেন যে, তাহাঁর নিকট এক লোক এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! আমি যখন আমার প্রতিপালকের নিকট দুআ করব তখন কিভাবে তা প্রকাশ করব? তিনি বলিলেন, তুমি বলো,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي

আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্লী ওয়ার্হাম্নী ওয়াআ-ফিনী ওয়ার্যুক্নী (অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করে দিন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে মাফ করে দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন।”)

আর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ছাড়া সব আঙ্গুল একত্র করে বলিলেন, এ শব্দগুলো তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টাকে একসাথে করে দিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৯]

৬৭৪৫ : মুসআব ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা [সাদ] আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে [বসা] ছিলাম। তখন তিনি বলিলেন, তোমাদের মাঝে কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করিতে অপারগ হয়ে যাবে? তখন সেখানে বসে থাকদের মধ্য থেকে এক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করিল, আমাদের কেউ কিবাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করিবে, তিনি বলিলেন, সে একশ তাসবীহ্

[সুবহানাল্ল-হ]

পাঠ করলে তার জন্য এক হাজার পুণ্য লিখিত হইবে এবং তার [আমালনামা হইতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হইবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬০]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: