লায়লাতুল কদর এর ফযিলত, এর অনুসন্ধানের প্রতি উৎসাহ প্রদান

লায়লাতুল কদর এর ফযিলত, এর অনুসন্ধানের প্রতি উৎসাহ প্রদান

লায়লাতুল কদর এর ফযিলত, এর অনুসন্ধানের প্রতি উৎসাহ প্রদান >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪০. অধ্যায়ঃ লায়লাতুল কদর এর ফযিলত, এর অনুসন্ধানের প্রতি উৎসাহ প্রদান, তা কখন হইবে তার বর্ণনা এবং তার অনুসন্ধানের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক সময়

২৬৫১

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ]-এর কতিপয় সহাবীকে স্বপ্ন দেখানো হল যে, [রমাযানের] শেষ সাত দিনের মধ্যে ক্বদরের রাত নিহিত রয়েছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি মনে করি যে, শেষের সাতদিন সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব যে ব্যক্তি তা অন্বেষণ করিবে, সে যেন রমাযানের শেষ সাতদিনের রাতগুলোতে তা অন্বেষণ করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬২৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৬২৭]

২৬৫২

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.]-এর সূত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [রমাযানের] শেষ সাতদিনের রাতগুলোতে লায়লাতুল ক্বদ্র অন্বেষণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬২৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৬২৮]

২৬৫৩

সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীত তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [পিতা] বলেন, এক ব্যক্তি [রমাযানের] ২৭তম রাতে লায়লাতুল ক্বদ্র দেখিতে পেল। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, আমাকেও তোমাদের মত স্বপ্ন দেখানো হয়েছে যে, তা রমাযানের শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব এর বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩০, ইসলামিক সেন্টার- ২৬২৯]

২৬৫৪

সালিম ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাহাঁর পিতা {আবদুল্লাহ [রাদি.]} বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে লায়লাতুল ক্বদ্র সম্পর্কে বলিতে শুনেছি, তোমাদের কতিপয় লোককে দেখানো হল যে, তা রমাযানের প্রথম সাতদিনের মধ্যে, আবার কতিপয় লোককে দেখানো হয়েছে যে, তা শেষ সাতদিনের মধ্যে। অতএব [রমাযানের] শেষ দশকের মধ্যে তা অন্বেষণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩১, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩০]

২৬৫৫

উক্ববাহ্ ইবনি হুরায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমর [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা [রমাযানের] শেষ দশ দিনে লায়লাতুল কদর এর রাত অনুসন্ধান কর। তোমাদের কেউ যদি দূর্বল অথবা অপরাগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষের সাত রাতে অলসতা না করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩২, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩১]

২৬৫৬

জাবালাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমর [রাদি.]-কে নবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিতে শুনেছি যে, তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি লায়লাতুল কদর এর রাত অনুসন্ধান করিতে চায়, সে যেন [রমাযানের] শেষ দশকে তা অনুসন্ধান করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩২]

২৬৫৭

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা [রমাযানের] শেষ দশকে লায়লাতুল কদর এর রাত অনুসন্ধান কর অথবা তিনি বলেছেন, শেষের সাত রাতে।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩৩]

২৬৫৮

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আমাকে স্বপ্নে লায়লাতুল কদর এর রাত দেখানো হয়েছিল। অতঃপর আমার পরিবারের কেউ আমাকে ঘুম থেকে জাগানোর ফলে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা তা শেষ দশকে অন্বেষণ কর।

রাবী হারমালাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেনঃ “আমি তা ভুলে গেছি” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩৪]

২৬৫৯

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [রমাযানের] মাঝের দশকে ইতিকাফ করেন। অতঃপর ২০ তম দিন অতিবাহিত হবার পর এবং ২১ তম দিনের সূচনাতে তিনি নিজ বাসস্থানে ফিরে আসেন এবং তাহাঁর সঙ্গে যারা ইতিকাফ করেন, তারাও নিজ নিজ আবাসে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর একবার রমজান মাসের মাঝের দশকে তিনি ইতিকাফ করিলেন- যে রাতে তাহাঁর ইতিকাফ হইতে ফিরে আসার কথা, সে রাতে [পুনরায়] ইতিকাফ আরম্ভ করিলেন ও লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বলিলেন, আমি সাধারণত এ [মধ্যম] দশকে ইতিকাফ করতাম। এরপর শেষ দশকেও ইতিকাফ করা আমার কাছে সমীচীন মনে হল। অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে ইতিকাফ করিতে চায়, যেন নিজ ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করে। আমি এ [ক্বদ্রের] রাত স্বপ্নে দেখেছিলাম, কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর। আমি স্বপ্নে নিজেকে পানি ও কাদার মধ্যে সাজ্দাহ্ করিতে দেখেছি। আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] বলেন, ২১ তম রাতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়। তিনি যখন ফজরের নামাজ থেকে ফিরলেন, তখন আমি তাহাঁর মুখমণ্ডল কাদা ও পানিতে সিক্ত দেখলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩৬,ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩৫]

২৬৬০

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রমজান মাসের মাঝের দশকে ইতিকাফ করিতেন। অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, “সে যেন তার ইতিকাফের স্থানে অবস্থান করে।” তিনি আরো বলেন, “তাহাঁর কপাল মুবারক কাদা ও পানিতে সিক্ত ছিল।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩৬]

২৬৬১

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রমজান মাসের প্রথম দশকে ইতিকাফ করিলেন। এরপর তিনি মাঝের দশকেও একটি তুকী তাঁবুর মধ্যে ইতিকাফ করলেনে এবং তাঁবুর দরজায় একটি চাটাই ঝুলানো ছিল। রাবী বলেন, তিনি নিজ হাতে চাটাই ধরে তা তাঁবুর কোণে রাখলেন, এরপর নিজের মাথা বাইরে এনে লোকদের সাথে কথা বলিলেন এবং তারাও তাহাঁর নিকট এগিয়ে এলো। তিনি বলিলেন, এ রাতের অনুসন্ধানকল্পে আমি [রমাযানের] প্রথম দশকে ইতিকাফ করলাম। অতঃপর মাঝের দশকে ইতিকাফ করলাম। এরপর আমার নিকট একজন আগন্তুক [লোক] এসে আমাকে বলিল, লায়লাতুল ক্বদর্ শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করিতে চায় সে যেন ইতিকাফ করে। লোকেরা তাহাঁর সঙ্গে [শেষ দশকে] ইতিকাফ করিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরও বলিলেন, স্বপ্নে আমাকে তা কোন এক বেজোড় রাতে দেখানো হয়েছে এবং আমি যেন সে রাতে কাদা ও পানির মধ্যে ফজরের সাজ্দাহ্ করছি। [রাবী বলেন], তিনি ২১ তম রাতের ভোরে উপনীত হয়ে ফাজ্‍রের সলাতে দাঁড়ালেন এবং আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হল। ফলে ছাঁদ থেকে মাসজিদে পানি বর্ষিত হল এবং আমি স্বচক্ষে কাদা ও পানি দেখিতে পেলাম। তিনি ফজরের নামাজ শেষে যখন বের হয়ে এলেন, তখন তাহাঁর কপাল ও নাকের ডগা সিক্ত ও কর্দমাক্ত ছিল। আর তা ছিল রমাযানের শেষ দশকের ২১তম রাত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩৭]

২৬৬২

আবু সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা পরস্পর লায়লাতুল কদর এর রাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। এরপর আমি আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.]-এর নিকট এলাম এবং তিনি ছিলেন আমার বন্ধু। আমি তাকে বললাম, আপনি কি আমাদের সাথে খেজুরের বাগানে যাবেন না? তিনি একটি চাদর পরিহিত অবস্থায় বের হলেন। আমি তাকে বললাম, আপনি কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে লায়লাতুল ক্বদ্র সম্পর্কে কিছু বলিতে শুনেছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আমরা রমজান মাসের মাঝের দশকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ইতিকাফ করলাম। আমরা ২১তম দিন ভোরে [ইতিকাফ থেকে] বের হলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বলিলেন, আমাকে স্বপ্নযোগে লায়লাতুল কদর এর রাত দেখানো হয়েছিল, কিন্তু আমি তা ভুলে গেছি অথবা আমাকে ভুলানো হয়েছে। তোমরা শেষ দশ দিনের প্রতিটি বেজোড় রাতে তা অন্বেষণ কর। আমি আরও দেখেছি যে, আমি কাদা ও পানির মধ্যে সাজ্দাহ্ করছি। অতএব যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ইতিকাফ করেছে, সে যেন পুনরায় তার ইতিকাফে ফিরে যায়। আবু সাঈদ [রাদি.] বলেন, আমরা [ইতিকাফের অবস্থায়] ফিরে গেলাম। আমরা আকাশে কোন মেঘ দেখিতে পাইনি। ইতিমধ্যে একখণ্ড মেঘ এলো এবং আমাদের উপর বৃষ্টি হল, এমন কি মাসজিদের ছাদ হইতে পানি প্রবাহিত হল। মাসজিদের ছাদ খেজুর ডাটার ছাউনিযুক্ত ছিল। ফজরের নামাজ আদায় করা হল এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে কাদা ও পানির মধ্যে সাজ্‌দাহ দিতে দেখলাম, এমনকি কি আমি তাহাঁর কপালে কাদার চিহ্ন দেখিতে পেলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৩৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩৮]

২৬৬৩

ইয়াহ্ইয়া ইবনি আবু কাসীর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সানাদ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে উভয়ের [মামার ও আল আওযাঈ] বর্ণনায় আছেঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন নামাজ শেষ করে ফিরলেন তখন আমি তাহাঁর কপালে ও নাকের ডগায় কাদার চিহ্ন দেখিতে পেলাম।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৪০, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৩৯]

২৬৬৪

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লায়লাতুল কদর এর রাত অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তা তাহাঁর কাছে সুস্পষ্ট হবার পূর্বে রমাযানের মধ্যেই দশদিন ইতিকাফ করিলেন। দশদিন অতিবাহিত হবার পর তিনি তাঁবু তুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। অতএব তা গুটিয়ে ফেলা হল। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, তা শেষ দশ দিনের মধ্যে আছে। তাই তিনি পুনরায় তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন। তা খাঁটানো হল। এরপর তিনি লোকদের নিকট উপস্থিত হয়ে বলিলেন, হে লোক সকল! আমাকে লায়লাতুল কদর এর রাত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল এবং আমি তোমাদের তা জানানোর জন্য বের হয়ে এলাম। কিন্তু দু ব্যক্তি পরস্পর ঝগড়া করিতে করিতে উপস্থিত হল এবং তাদের সাথে ছিল শাইত্বান। তাই আমি তা ভুলে গেছি। অতএব তোমরা রমজান মাসের শেষ দশ দিনে অন্বেষণ কর। তোমরা তা ৯ম, ৭ম ও ৫ম রাতে অন্বেষণ কর। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবু সাঈদ! আপনি সংখ্যা সম্পর্কে আমাদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী। তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, আমরাই এ বিষয়ে তোমাদের চেয়ে অধিক হাক্বদার। আমি বললাম ৯ম, ৭ম, ৫ম সংখ্যাগুলো কী? তিনি বলিলেন, যখন ২১তম রাত অতিবাহিত হয়ে যায় এবং ২২তম রাত শুরু হয়-তখন তা হচ্ছে ৯ম তারিখ, ২৩তম রাত অতিক্রান্ত হবার পরবর্তী রাত হচ্ছে ৭ম তারিখ এবং ২৫তম রাত অতিবাহিত হবার পরের দিনটি হচ্ছে ৫ম তারিখ।

ইবনি খাল্লাদের বর্ণনায়……. [আরবি]………-এর শব্দের স্থলে …… [আরবি]……শব্দের উল্লেখ আছে [অর্থ একই, অর্থাৎ তারা ঝগড়া করে]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৪১, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৪০]

২৬৬৫

আবদুল্লাহ ইবনি উনায়স [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, আমাকে লায়লাতুল কদর এর রাত দেখানো হয়েছিল। অতঃপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে ঐ রাতের ভোর সম্পর্কে স্বপ্ন আরও দেখানো হয়েছে যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সাজ্দাহ্ করছি। রাবী বলেন, অতএব ২৩ তম রাতে বৃষ্টি হল এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের সাথে [ফজরের] নামাজ আদায় করে যখন ফিরলেন, তখন আমরা তাহাঁর কপাল ও নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন দেখিতে পেলাম। রাবী আবদুল্লাহ ইবনি উনায়স [রাদি.] বলিতেন, তা ছিল ২৩ তম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৪২, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৪১]

২৬৬৬

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রমজান মাসের শেষ দশ দিনে তোমরা লায়লাতুল কদর এর রাত [ইবনি নুমায়রের বর্ণনায়] অন্বেষণ কর এবং [ওয়াকী-এর বর্ণনায়] সন্ধানে সচেষ্ট হও।[ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৪৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৪২]

২৬৬৭

যির ইবনি হুবায়শ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনি কাব [রাদি.]-কে বললাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] বলেন, যে ব্যক্তি গোটা বছর রাত জাগরণ করে- সে ক্বদ্রের রাতের সন্ধান পাবে। তিনি [উবাই] বলিলেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন, এর দ্বারা তিনি এ কথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, লোকেরা যেন কেবল একটি রাতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, তা রমজান মাসে শেষের দশ দিনের মধ্যে এবং ২৭ তম রজনী। অতঃপর তিনি দৃঢ় শপথ করে বলিলেন, তা ২৭ তম রজনী। আমি [যির] বললাম, হে আবুল মুনযির! আপনি কিসের ভিত্তিতে তা বলেছেন? তিনি বলিলেন, বিভিন্ন আলামত ও নিদর্শনের ভিত্তিতে-যে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে অবহিত করিয়াছেন। যেমন, সেদিন সূর্য উদয় হইবে। কিন্তু তাতে আলোকরশ্নি থাকিবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৪৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৬৪৩]

২৬৬৮

উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ক্বদরের রাত সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর শপথ! ক্বদরের রাত সম্পর্কে আমি খুব ভাল করেই জানি। শুবাহ্ বলেন, আমার জানামতে তা হচ্ছে, সে রাত যে রাতে জেগে ইবাদাত করার জন্য রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তা হচ্ছে রমাযানের ২৭তম রজনী। “তা হচ্ছে সে রাত, যে রাতে ইবাদাত করার জন্য রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।” এ বাক্যটুকু সম্পর্কে শুবাহ্ সন্দেহে পতিত হয়েছেন এবং বলেছেন, আমার এক বন্ধু তার শায়খের সূত্রে আমার নিকট ঐ কথা বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা.২৬৪৫, ইসলামিক সেন্টার-২৬৪৪]

২৬৬৯

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সামনে ক্বদরের রাত সম্পর্কে আলাপ আলোচনা করছিলাম। তিনি বলিলেন, তোমাদের মধ্যে কে সে [রাত] স্মরণ রাখবে, যখন চাঁদ উদিত হইবে থালার একটি টুকরার ন্যায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৬৪৬, ই.সে ২৬৪৫]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply