রোজা ওযু মুয়াজ্জিন ও সালাতের ফযীলত

রোজা ওযু মুয়াজ্জিন ও সালাতের ফযীলত

রোজা ওযু মুয়াজ্জিন ও সালাতের ফযীলত >> হাদীসে কুদসী এর মুল সুচিপত্র দেখুন

রোজা ওযু মুয়াজ্জিন ও সালাতের ফযীলত

সালাত ফরয হওয়া ও মি‘রাজের হাদীস
‘আরাফার দিনের ফযীলত ও হাজীদের নিয়ে আল্লাহর গর্ব করা
সিয়ামের ফযীলত
সন্তান মারা যাওয়ার পর সাওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করার ফযীলত
আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা ও উৎসাহ প্রদানের ফযীলত
রাতে ওযু করার ফযীলত
শেষ রাতে দো‘আ ও সালাত আদায়ের ফযীলত
দুই ব্যক্তিকে দেখে আমাদের রব আশ্চর্য হন
নফল সালাতের ফযীলত
মুয়াজ্জিনের ফযীলত
আসর ও ফজর সালাতের ফযীলত
মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত মসজিদে থাকার ফযীলত

৫১. অনুচ্ছেদঃ সালাত ফরজ হওয়া ও মেরাজের হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯৯ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমার নিকট বোরাক নিয়ে আসা হল, বোরাক হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তু সাদা, লম্বা, গাধার চেয়ে বড় ও খচ্চর থেকে ছোট, তার দৃষ্টির শেষ প্রান্তে সে তার পা রাখে, তিনি বলেনঃ আমি তাতে সওয়ার হলাম, অবশেষে আমাকে বায়তুল মাকদিস নিয়ে আসা হল, তিনি বলেনঃ আমি তাকে সে খুঁটির সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবীগণ বাঁধেন। তিনি বলেনঃ অতঃপর আমি মসজিদে প্রবেশ করি, তাতে দু’রাকাত সালাত আদায় করি, অতঃপর বের হই। অতঃপর জিবরিল আমার নিকট মদের ও দুধের পাত্র নিয়ে আসেন, আমি দুধের পাত্র গ্রহণ করি, জিবরিল আমাকে বলেনঃ তুমি ফিতরাত (স্বভাব) গ্রহণ করেছ, অতঃপর আমাদের নিয়ে আসমানে চড়েন …”। তিনি হাদিস উল্লেখ করেন, তাতে রয়েছেঃ “আমি আমার রব ও মুসা আলাইহিস সালামের মাঝে যাওয়া-আসা করতে ছিলাম, অবশেষে তিনি বলেনঃ হে মুহাম্মদ, প্রতি রাত-দিনে এ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, প্রত্যেক সালাতের জন্য দশ, এভাবে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। যে নেক কাজ করার ইচ্ছা করিল কিন্তু তা করেনি, আমি তার জন্য একটি নেকি লেখি, যদি সে তা করে তার জন্য দশটি লেখা হয়। যে পাপ করার ইচ্ছা করে কিন্তু সে তা করে নি, তার জন্য কিছু লেখা হয় না, যদি সে তা করে তবে তার জন্য একটি পাপ লেখা হয়। তিনি বলেনঃ অতঃপর আমি অবতরণ করে মুসা আলাইহিস সালামের নিকট পৌঁছলাম এবং তাকে সংবাদ দিলাম, তিনি আমাকে বললেনঃ তোমার রবের নিকট ফিরে যাও, তার নিকট হ্রাসের দরখাস্ত কর, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ আমি বললাম আমি আমার রবের নিকট বারবার গিয়েছি এখন লজ্জা করছি”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসটি সহিহ।

আবু যর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রহিয়াছে, নবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “এ হচ্ছে পাঁচ, অথচ তা পঞ্চাশ , আমার নিকট কথার (সিদ্ধান্তের) কোন পরিবর্তন নেই”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসটি সহিহ। অর্থাৎ কর্মে পাঁচ কিন্তু সাওয়াবে পঞ্চাশ।

 কার্যত পাঁচ ওয়াক্ত, কিন্তু সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫২. অনুচ্ছেদঃ আরাফার দিনের ফযিলত ও হাজিদের নিয়ে আল্লাহর গর্ব করা

হাদীসে কুদসী ১০০  – আয়েশা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আরাফার দিন ব্যতীত কোন দিন নেই যেখানে আল্লাহ তাআলা অধিক বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেন। তাতে তিনি নিকটবর্তী হন অতঃপর ফেরেশতাহাদের সাথে গর্ব করেন ও বলেনঃ তারা কি চায়?” (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০১ – জাবের (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যিলহজ মাসের দশ দিন থেকে উত্তম আল্লাহর নিকট কোন দিন নেই”। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি বলেঃ হে আল্লাহর রাসূল, এ দিনগুলোই উত্তম, না এ দিনগুলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদসহ উত্তম? তিনি বললেনঃ “জিহাদ ছাড়াই এগুলো উত্তম। আল্লাহর নিকট আরাফার দিন থেকে উত্তম কোন দিন নেই, আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন অতঃপর জমিনে বাসকারীদের নিয়ে আসমানে বাসকারীদের সাথে গর্ব করেন। তিনি বলেনঃ আমার বান্দাদের দেখ, তারা হজ্জের জন্য এলোমেলো চুল ও ধূলিময় অবস্থায় দূর-দিগন্ত থেকে এসেছে। তারা আমার রহমত আশা করে, অথচ তারা আমার আযাব দেখে নি। সুতরাং এমন কোনো দিন দেখা যায় না যাতে আরাফার দিনের তুলনায় জাহান্নাম থেকে অধিক মুক্তি পায়”। (ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান লিগাইরিহি

হাদীসে কুদসী ১০২ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা আরাফার লোকদের নিয়ে আসমানের ফেরেশতাহাদের সাথে গর্ব করেন, তিনি বলেনঃ আমার বান্দাদের দেখ তারা এলোমেলো চুল ও ধূলিময় অবস্থায় আমার কাছে এসেছে”। (ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ লিগাইরিহি

৫৩. অনুচ্ছেদঃ সিয়ামের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১০৩ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ সিয়াম ব্যতীত বনি আদমের প্রত্যেক আমলই তার জন্য, কারণ তা আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫৪. অনুচ্ছেদঃ সন্তান মারা যাওয়ার পর সওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করার ফজিলত

হাদীসঃ ১০৪ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদান নেই যখন আমি দুনিয়া থেকে তার কলিজার টুকরা  গ্রহণ করি, আর সে তার জন্য সওয়াবের আশা করে ধৈর্য ধারণ করে”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০৫ – শুরাহবিল ইব্‌ন শুফআহ থেকে বর্ণিতঃ তিনি নবী (সাঃআঃ)ের এক সাহাবি সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছেনঃ “কিয়ামতের দিন বাচ্চাদের বলা হইবে জান্নাতে প্রবেশ কর”। তিনি বলেনঃ “তারা বলবেঃ যতক্ষণ না আমাদের পিতা-মাতা প্রবেশ না করেন”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর তারা আসবে”। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলবেনঃ “কি ব্যাপার তাহাদেরকে কেন নারাজ দেখছি, জান্নাতে প্রবেশ কর”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর তারা বলবেঃ হে আমার রব, আমাদের পিতা-মাতা”! তিনি বলেনঃ “অতঃপর তিনি বলবেনঃ “তোমরা ও তোমাদের পিতা-মাতা জান্নাতে প্রবেশ কর”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০৬ – আবু উমামা থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ হে বনি আদম, যদি তুমি ধৈর্যধারণ কর ও প্রথম দুঃখের সময় অধৈর্য না হয়ে তাতে সওয়াবের আশা কর, তাহলে আমি তোমার জন্য জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদানে সন্তুষ্ট হব না”। (ইব্‌ন মাজাহ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০৭ – আবু মুসা আশআরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “বান্দার যখন সন্তান মারা যায় আল্লাহ তার ফেরেশতাহাদের বলেনঃ তোমরা আমার বান্দার সন্তান কব্জা করেছ? তারা বলেঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তোমরা আমার বান্দার অন্তরের নির্যাস গ্রহণ করেছ? তারা বলেঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলেঃ আপনার প্রশংসা করেছে ও ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজেউন পড়েছে। (অর্থাৎ আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা তার কাছেই ফেরৎ যাব এটা বলেছে।) অতঃপর আল্লাহ বলেনঃ তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর, তার নাম রাখ বায়তুল হামদ”। (সুনান তিরমিযি ও ইব্‌ন হিব্বান) হাদিসটি শায়খ আলবানি হাসান বলেছেন।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৫৫. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা ও উৎসাহ প্রদানের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১০৮ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে বনি আদম, তুমি খরচ কর, আমি তোমার ওপর খরচ করব”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০৯ -আদি ইব্‌ন হাতেম (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, তিনি বলেনঃ “… অতঃপর তোমাদের প্রত্যেকে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হইবে, তার ও আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকিবে না, দুভাষীও না যে তার জন্য অনুবাদ করিবে। অতঃপর তিনি বলবেনঃ আমি কি তোমাকে সম্পদ দেই নাই? সে বলবেঃ অবশ্যই, অতঃপর বলবেনঃ আমি কি তোমার নিকট রাসূল প্রেরণ করিনি? সে বলবেঃ অবশ্যই, সে তার ডানে তাকাবে আগুন ব্যতীত কিছুই দেখবে না, অতঃপর তার বামে তাকাবে আগুন ব্যতীত কিছুই দেখবে না, অতএব তোমাদের প্রত্যেকের উচিত জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষা গ্রহণ করা, যদিও সেটা একটি খেজুরের অংশের বিনিময়ে হয়, যদি তার সামর্থ্য না থাকে তাহলে সুন্দর বাক্য দ্বারা”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১১০ – আবু ওয়াকেদ লাইসি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা নবী (সাঃআঃ)ের নিকট আসতাম, যখন তার ওপর কিছু নাযিল হত তিনি আমাদের বলিতেন, একদা তিনি আমাদের বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ আমি সম্পদ নাযিল করেছি সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করার জন্য, যদি বনি আদম একটি উপত্যকার মালিক হয়, সে পছন্দ করিবে তার জন্য দ্বিতীয়টি হোক। যদি তার দু’টি উপত্যকা হয়, সে চাইবে তার জন্য তৃতীয়টি হোক। মাটি ব্যতীত কোন বস্তু বনি আদমের উদর পূর্ণ করিবে না, অতঃপর যে তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসঃ ১১১ – বুসর ইব্‌ন জাহাশ আল-কুরাশি থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “নবী (সাঃআঃ) তার হাতের তালুতে থু থু ফেললেন, অতঃপর তাতে শাহাদাত আঙ্গুল রাখলেন ও বললেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে বনি আদম তুমি আমাকে কিভাবে অক্ষম করিবে, অথচ আমি তোমাকে এরূপ বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছি, যখন তোমার রূহ এখানে পৌঁছে, (গলার দিকে ইশারা করিলেন), বলঃ আমি সদকা করবঃ আর কখন সদকা করার সময়”! (ইব্‌ন মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৫৬. অনুচ্ছেদঃ রাতে ওযু করার ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১২ – উকবা ইব্‌ন আমের (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি আজ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সম্পর্কে বলব না যা তিনি বলেননি, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “যে আমার ওপর স্বেচ্ছায় মিথ্যা বলে, সে যেন জাহান্নামে ঘর বানিয়ে নেয়”। তাকে আরো বলিতে শুনেছিঃ “আমার উম্মতের কোন ব্যক্তি রাতে উঠে, অতঃপর নিজেকে পবিত্রতার জন্য প্রস্তুত করে, তার ওপর থাকে অনেক গিরা, যখন সে দু’হাত ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে চেহারা ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে তার মাথা মাসেহ করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে তার পা ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়। আল্লাহ তাআলা পর্দার আড়ালে অবস্থানকারীদের বলেনঃ আমার বান্দাকে দেখ, সে আমার নিকট প্রার্থনারত হয়ে নিজ নফসকে কষ্ট দিচ্ছে, আমার এ বান্দা যা চাইবে তা তার জন্যই”। (ইব্‌ন হিব্বান ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫৭. অনুচ্ছেদঃ শেষ রাতে দোআ ও সালাত আদায়ের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১৩ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমাদের রব প্রত্যেক রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তিনি বলেনঃ কে আমাকে আহ্বান করিবে আমি তার ডাকে সাড়া দিব, কে আমার নিকট প্রার্থনা করিবে আমি তাকে প্রদান করব, কে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করব”। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান তিরমিযি,ইবনু মাজাহ ও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫৮. অনুচ্ছেদঃ দুই ব্যক্তিকে দেখে আমাদের রব আশ্চর্য হন

হাদীসে কুদসী ১১৪ – ইব্‌ন মাসউদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমাদের রব দুই ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হনঃ এক ব্যক্তি যে তার বিছানা ও লেপ ছেড়ে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে ওঠে সালাতে দাঁড়াল, আমাদের রব বলেনঃ হে আমাদের ফেরেশতারা, আমার বান্দাকে দেখ বিছানা ও লেপ ছেড়ে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে তার সালাতের জন্য ওঠেছে, আমার নিকট যা রহিয়াছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে। অপর ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করিল, তবে তারা পরাস্ত হল, সে মনে করিল পলায়নে কি শাস্তি ও ফিরে যাওয়ায় কি পুরষ্কার, অতঃপর সে ফিরে গেল অবশেষে তার রক্ত ঝরানো হল, আমার নিকট যা রহিয়াছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে, আল্লাহ তার ফেরেশতাহাদের বলেনঃ আমার বান্দাকে দেখ, আমার নিকট যা রহিয়াছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে ফিরে এসেছে, অবশেষে তার রক্ত প্রবাহিত করা হল”। (মুসনাদে আহমদ ও আবু দাউদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৫৯. অনুচ্ছেদঃ নফল সালাতের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১৫ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “বান্দাকে যে বিষয়ে সর্বপ্রথম জবাবদিহি করা হইবে তার সালাত, যদি সে তা পূর্ণ করে থাকে, অন্যথায় আল্লাহ বলবেনঃ আমার বান্দার নফল দেখ, যদি তার নফল পাওয়া যায়, বলবেনঃ এর দ্বারা ফরয পূর্ণ কর”। (নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬০. অনুচ্ছেদঃ মুয়াজ্জিনের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১৬ – উকবা ইব্‌ন আমের (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “তোমাদের রব পাহাড়ের চুড়ায় বকরির রাখালকে দেখে আশ্চর্য হন, যে সালাতের আযান দেয় ও সালাত আদায় করে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার এ বান্দাকে দেখ আযান দেয় ও সালাত কায়েম করে, আমাকে ভয় করে, আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম”। (সুনান আবু দাউদও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬১. অনুচ্ছেদঃ  আসর ও ফজর সালাতের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১৭ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “পালাবদল করে রাত ও দিনের ফেরেশতাগণ তোমাদের নিকট আগমন করে এবং তারা ফজর ও আসর সালাতে একত্র হয়। অতঃপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারীগণ ওপরে ওঠে, আল্লাহ তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি তাহাদের চেয়ে বেশী জানেন, আমার বান্দাদের কিভাবে রেখে এসেছে? তারা বলেঃ আমরা তাহাদেরকে সালাত পড়া অবস্থায় রেখে এসেছি, যখন গিয়েছি তারা সালাত আদায় করছিল”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬২. অনুচ্ছেদঃ মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত মসজিদে থাকার ফযিলত

হাদীসঃ ১১৮ – আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাগরিব আদায় করলাম, অতঃপর যারা ফিরে যাবার ফিরে গেল এবং যারা থাকার থাকল, পরক্ষণেই রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) দ্রুত ফিরে আসলেন, তার নিশ্বাস জোরে পড়ছিল, তার হাঁটুর কাপড় উঠে যাচ্ছিল, তিনি বললেনঃ “তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর, তোমাদের রব আসমানের একটি দরজা খুলে তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাহাদের সাথে গর্ব করছেন, তিনি বলছেনঃ আমার বান্দাদের দেখ, তারা এক ফরয শেষ করে অপর ফরযের অপেক্ষা করছে”। (ইব্‌ন মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

Leave a Reply