রোগ ও রোগীদের দেখতে যাওয়া ও বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্দতি

রোগ ও রোগীদের দেখতে যাওয়া

রোগ ও রোগীদের দেখতে যাওয়া

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৭৫২ঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক দিন নবী (সাঃআঃ) আমাদের নিকট আসলেন এবং বললেনঃ আমার সামনে (পূর্ববর্তী নবীগণের) উম্মতদের পেশ করা হল। (আমি দেখলাম) একজন নবী যাচ্ছেন, তাহাঁর সাথে আছে মাত্র একজন লোক এবং আর একজন নবী যার সঙ্গে আছে দু’জন লোক। অন্য এক নবীকে দেখলাম, তাহাঁর সঙ্গে আছে একটি দল, আর একজন নবী তাহাঁর সাথে কেউ নেই। আবার দেখলাম, একটি বিরাট দল যা দিগন্ত জুড়ে আছে। আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম যে, এ বিরাট দলটি যদি আমার উম্মত হত। বলা হলঃ এটা মূসা (আঃ) ও তাহাঁর কওম। এরপর আমাকে বলা হলঃ দেখুন। দেখলাম, একটি বিশাল জামাআত দিগন্ত জুড়ে আছে। আবার বলা হলঃ এ দিকে দেখুন। ও দিকে দেখুন। দেখলাম বিরাট বিরাট দল দিগন্ত জুড়ে ছেয়ে আছে। বলা হলঃ ঐ সবই আপনার উম্মত এবং ওদের সাথে সত্তর হাজার লোক এমন আছে যারা বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। এরপর লোকজন এদিক ওদিক চলে গেল। নবী (সাঃআঃ) আর তাহাদের (সত্তর হাজারের) ব্যাখ্যা করে বলেননি। নবী (সাঃআঃ) -এর সাহাবীগণ এ নিয়ে নানান কথা শুরু করে দিলেন। তাঁরা বলাবলি করলেনঃ আমরা তো শির্‌কের মাঝে জন্মেছি, পরে আল্লাহ্‌ ও তাহাঁর রসূলের উপর ঈমান এনেছি। বরং এরা আমাদের সন্তানরাই হইবে। নবী (সাঃআঃ) -এর কাছে এ কথা পৌঁছালে তিনি বলেনঃ তাঁরা (হইবে) ঐ সব লোক যারা অবৈধভাবে মঙ্গল অমঙ্গল নির্ণয় করে না, ঝাড়-ফুঁক করে না এবং আগুনে পোড়ানো লোহার দাগ লাগায় না, আর তাঁরা তাহাদের প্রতিপালকের উপর একমাত্র ভরসা রাখে। তখন উকাশাহ বিন মিহসান (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলিলঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি কি তাহাদের মধ্যে আছি? তিনি বলিলেন হ্যাঁ। তখন আর একজন দাঁড়িয়ে বলিলঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি কি তাহাদের মধ্যে আছি? তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে উকাশাহ তোমাকে ছাড়িয়ে গেছে।

(আধুনিক প্রঃ- ৫৩৩২, ইঃ ফাঃ- ৫২২৮)

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৬৭৮ঃ আবূ হুরাইরা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ এমন কোন রোগ পাঠাননি যার আরোগ্যের ব্যবস্থা দেননি।

(আধুনিক প্রঃ- ৫২৬৭, ইঃ ফাঃ- ৫১৬৩)

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৬৭৯ঃ রুবায়ঈ বিন্‌ত মুআওয়ায ইবনু আফরা (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমরা নবী (সাঃআঃ) -এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতাম। তখন আমরা লোকজনকে পানি পান করাতাম, তাহাদের সেবা-শুশ্রুষা করতাম এবং নিহত ও আহতদের মদীনায় নিয়ে যেতাম।

(আধুনিক প্রঃ- ৫২৬৮, ইঃ ফাঃ- ৫১৬৪)

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৭০৯ঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও আয়িশা (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আবূ বকর (রাঃ) নবী (সাঃআঃ) -এর মৃতদেহে চুমু দিয়েছেন।

(আধুনিক প্রঃ- ৫২৯৪, ইঃ ফাঃ- ৫১৯০)

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৭১০ঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও আয়িশা (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আবূ বকর (রাঃ) নবী (সাঃআঃ) -এর মৃতদেহে চুমু দিয়েছেন।

(আধুনিক প্রঃ- ৫২৯৪, ইঃ ফাঃ- ৫১৯০)

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৭১১ঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও আয়িশা (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আবূ বকর (রাঃ) নবী (সাঃআঃ) -এর মৃতদেহে চুমু দিয়েছেন।

(আধুনিক প্রঃ- ৫২৯৪, ইঃ ফাঃ- ৫১৯০)

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৭১৪ঃ নবী (সাঃআঃ) -এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃআঃ) -এর বয়স বেড়ে গেল এবং রোগ-যন্ত্রনা তীব্র আকার ধারণ করিল, তখন তিনি তাহাঁর স্ত্রীদের কাছে অনুমতি চাইলেন যে, তিনি যেন আমার গৃহে অসুস্থ কালীন সময় অবস্থান করিতে পারেন। এরপর তাঁরা অনুমতি দিলে তিনি দু’ব্যাক্তি অর্থাৎ আব্বাস (রাঃ) ও আরেকজনের সাহায্যে এভাবে বেরিয়ে আসলেন যে, মাটির উপর তাহাঁর দু’পা হেঁচড়াতে ছিল। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) -কে হাদিসটি জানালে তিনি বলেনঃ আপনি কি জানেন, আরেক ব্যাক্তি যার নাম আয়িশা (রাঃ) উল্লেখ করেননি, তিনি কে ছিলেন? আমি উত্তর দিলামঃ না। তিনি বললেনঃ তিনি হলেন আলী (রাঃ)। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ যখন তাহাঁর রোগ-যন্ত্রণা আরো তীব্র হল তখন তিনি বলিলেন, যে সব মশ্‌কের মুখ এখনো খোলা হয়নি এমন সাত মশ্‌ক পানি আমার গায়ে ঢেলে দাও। আমি লোকজনের কাছে কিছু অসীয়ত করে আসার ইচ্ছে পোষণ করেছি। তিনি বলেন, তখন আমরা তাঁকে তাহাঁর স্ত্রী হাফসা (রাঃ) -এর একটি কাপড় কাচার জায়গায় নিয়ে গিয়ে বসালাম। এরপর তাহাঁর পায়ের উপর সেই মশকগুলো থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। অবশেষে তিনি আমাদের দিকে ইশারা দিলেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ করেছ। তিনি বলেনঃ এরপর তিনি লোকজনের দিকে বেরিয়ে গেলেন। আর তাহাদের নিয়ে সলাত আদায় করিলেন এবং তাহাদের সম্মুখে খুত্‌বা দিলেন।

(আধুনিক প্রঃ- ৫২৯৬, ইঃ ফাঃ- ৫১৯২)

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৭৬১ঃ আবূ মাসঊদ (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) কুকুরের মূল্য, যিনাকারিণীর পারিশ্রমিক ও গণকের পারিশ্রমিক দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

(আধুনিক প্রঃ- ৫৩৪০, ইঃ ফাঃ- ৫২৩৬)

হাদিসঃ সুনান আত তিরমিজি – ৯৭৬. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মাঝে অন্তিম সময়ের ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে

لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পাঠ করে শুনাও।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৪৪৪, ১৪৪৫], মুসলিম। আবু হুরাইরা, উম্মু সালামা, আইশা, জাবির ও তালহা ইবনি উবাইদুল্লাহ [রাদি.]-এর স্ত্রী সুদা আল-মুরিয়্যা [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব সহিহ বলেছেন। মৃত্যু যন্ত্রনা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

আদাবুল মুফরাদ – ৪৯৩ঃ গুদাইফ ইবনুল হারিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আদাবুল মুফরাদ – ৪৯৩ঃ গুদাইফ ইবনুল হারিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক ব্যক্তি আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ [রাঃআঃ]-এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তার নিকট আসলো। সে বললো, আপনি কেমন আছেন? আমীর পুরস্কৃত হোন! তিনি বলেন, তোমরা কি জানো, কিসের বিনিময়ে তোমরা পুরস্কার লাভ করো? সে বললো, আমাদের উপর অবাঞ্ছিত কিছু আপতিত হলে তার বিমিনয়ে। তিনি বলেন, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় যা ব্যয় করো এবং তোমাদের জন্য যা ব্যয় করা হয় তোমরা তার বিনিময় পাবে। অতঃপর তিনি হাওদা থেকে শুরু করে ঘোড়ার লাগাম পর্যন্ত অনেক কিছুর উল্লেখ করিলেন। অতঃপর বলেন, কিন্তু তোমাদের দেহে যেসব অসুখ-বিসুখ হয় তার বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করেন

[আহমাদ, তাবারানি]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

আদাবুলমুফরাদ -৪৯৪ঃ আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ মুসলিম বান্দার উপর রোগ-শোক, দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভাবনা যাই আসুক, এমনকি যে কাঁটা তার গায়ে বিধে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন

[বোখারী, মুসলিম, তিরমিজী, আবু দাউদ]। হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুলমুফরাদ -৪৯৫ঃ আবদুর রহমান ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি সালমান [রাঃআঃ]-এর সাথে ছিলাম। তিনি কিন্দায় এক রোগীকে দেখিতে গেলেন। তিনি তার নিকট প্রবেশ করে বলেন, তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা আল্লাহ মুমিন বান্দার রোগকে তার গুনাহসমূহের কাফফারা ও অনুশোচনাস্বরূপ গ্রহণ করেন। আর পাপাচারীর রোগ হলো এমন উটতুল্য যাকে তার মালিক বেঁধে রাখলো, অতঃপর ছেড়ে দিলো। অথচ সে জানে না যে, তারা কেন তাকে বাঁধলো এবং কেনই বা তাকে ছেড়ে দিলো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুলমুফরাদ -৪৯৬ঃ আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ ঈমানদার পুরুষ ও নারীর জান-মাল ও পরিবার-পরিজনের উপর বালা-মুসীবত লেগেই থাকে। অতঃপর সে মহামহিম আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করে যে, তার কোন গুনাহই অবশিষ্ট থাকে না

[তিরমিজী, আহমাদ]। হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৪৯৮ঃ খালিদ ইবনুর রবী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

হুযায়ফা [রাঃআঃ] মুমূর্ষ অবস্থায় উপনীত হলে তা তার পরিবারের লোকজন ও আনসারগণ শুনতে পেলেন। তারা গভীর রাতে বা ভোর রাতের দিকে তার নিকট আসলেন। তিনি তাহাদের জিজ্ঞেস করেন, এটা কোন সময়? আমরা বললাম, মধ্যরাত বা ভোরের কাছাকাছি সময়। তিনি বলেন, আমি জাহান্নামের প্রভাত হইতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। তিনি বলেন, তোমরা কি আমার কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছো? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, তোমরা কাফনের ব্যাপারে বেশি খরচ করো না। কেননা আল্লাহর কাছে যদি আমার জন্য কল্যাণ থেকে থাকে, তবে তার পরিবর্তে আমি এর চেয়ে উত্তম বস্ত্রই লাভ করবো। আর যদি তা না হয় তবে এই কাফনও অচিরেই ছিনিয়ে নেয়া হইবে

[হাকেম, সিফাতুস সাফওয়া]। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৪৯৯ঃ আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে আল্লাহ তাকে [গুনাহ থেকে] এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করেন, যেমন হাপড় লোহাকে পরিচ্ছন্ন করে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫০০ঃ আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন মুসলমান ব্যথা-বেদনা বা রোগ-ব্যাধির দ্বারা বিপদগ্রস্ত হলে তা তার গুনাহর কাফফারা হয়, এমনকি তার দেহে কাঁটা বিধলে বা লাগলে বা সে হোঁচট খেলে তাও।

[বোখারী, মুসলিম, নাসায়ী] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫০১ঃ সাদ [রাঃআঃ]-এর কন্যা আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তার পিতা বলেছেন, আমি মক্কায় রোগগ্ৰস্ত হলাম। নাবী [সাঃআঃ] আমাকে দেখিতে এলেন। আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি অনেক সম্পত্তি এবং একটি মাত্র কন্যা সন্তান রেখে যাচ্ছি। আমি কি আমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করে এক-তৃতীয়াংশ রেখে যেতে পারি? তিনি বলেনঃ না। তিনি [পিতা] বলেন, তাহলে আমি কি অর্ধেক সম্পত্তি ওসিয়াত করে বাকী অর্ধেক তার জন্য রেখে যেতে পারি? তিনি বলেনঃ না। আমি বললাম, তবে কি আমি এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করে দুই-তৃতীয়াংশ তার জন্য রেখে যেতে পারি? তিনি বলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ। তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। অতঃপর তিনি তাহাঁর হাত আমার কপালে রাখলেন, অতঃপর আমার মুখমণ্ডলে ও পেটে হাত বুলালেন। অতঃপর বলেনঃ “হে আল্লাহ! সাদকে রোগমুক্ত করো এবং তার হিজরতকে পূর্ণ করো”। সাদ [রাঃআঃ] বলেন, তিনি আমার এখান থেকে বিদায়ের পর হইতে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমি তাহাঁর হাতের শীতলতা আমার হৃদপিণ্ডে অনুভব করছি

[বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজী, নাসায়ী, ইবনি মাজাহ]। হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫০২ঃ আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে সেই অবস্থায় সে তার সুস্থাবস্থায় যেরূপ আমল করতো সেরূপ সওয়াব তার জন্য লেখা হয়।

[আহমাদ, বাযযার, হাকিম] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫০৩ঃ আনাস ইবনি মালেক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে কোন মুসলমানকে আল্লাহ যখন দৈহিকভাবে পরীক্ষায় ফেলেন, তার সুস্থাবস্থায় সে যেরূপ আমল করতো ঠিক তদ্রুপ সওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হইতে থাকে, যতক্ষণ সে রোগাক্রান্ত থাকে। অতঃপর যদি তিনি তাকে

রোগমুক্ত করেন তবে তাকে [গুনাহ থেকে] ধৌত করে দেন, আর যদি তাকে মৃত্যু দান করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দেন

[আহমাদ, মুশকিলুল আছার]। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

আদাবুল মুফরাদ -৫০৪ঃ আবু হুরাইরা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

একদা জ্বর নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আপনি আমাকে আপনার একান্ত প্রিয়জনদের কাছে প্রেরণ করুন। তিনি তাকে আনসারদের বসতিতে পাঠান। তা তাহাদেরকে ছয় দিন ছয় রাত আক্রান্ত রাখে এবং মারাত্মক পর্যায়ে পৌছে। নাবী [সাঃআঃ] তাহাদের বসতিতে এলে তারা তাহাঁর নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করিলেন। তাই নাবী [সাঃআঃ] তাহাদের বাড়ি বাড়ি ও ঘরে ঘরে গিয়ে তাহাদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করিলেন। তিনি ফিরে এলে এক আনসার মহিলা তার অনুসরণ করেন এবং বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছেন তাহাঁর শপথ! অবশ্যই আমি একজন আনসার মহিলা এবং আমার পিতাও একজন আনসার। অতএব আপনি আনসারদের জন্য যেরূপ দোয়া করে এসেছেন, আমার জন্যও অনুরূপ দোয়া করুন। তিনি বলেনঃ তুমি কি চাও? তুমি চাইলে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করিতে পারি। আর যদি তুমি চাও তবে ধৈর্য ধারণ করিতে পারো, তোমার জন্য হইবে জান্নাত। সে বললো, বরং আমি ধৈর্য ধারণ করবো, তবুও জান্নাত প্রাপ্তিকে বিঘ্নিত করবো না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫০৭ঃ আতা ইবনি আবু রাবাহ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, আমি কি তোমাকে একজন বেহেশতী নারী দেখাবো না? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, ঐ কৃষ্ণকায় মহিলা। সে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললো, আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত এবং [অচৈতন্য অবস্থায়] আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তিনি বলেনঃ তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করিতে পারো এবং তোমার জন্য হইবে জান্নাত। আর যদি চাও তবে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করিতে পারি। সে বললো, আমি ধৈর্য ধারণ করবো। সে পুনরায় বললো, আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, যেন আমি বিবস্ত্র না হই। তিনি তার জন্য দোয়া করিলেন।

[বোখারী, মুসলিম, নাসায়ী] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫১০ঃ জাবের [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যে কোন মুমিন পুরুষ বা নারী এবং কোন মুসলিম পুরুষ বা নারী রোগগ্রস্ত হলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন

[আহমাদ, মুশকিলুল আছার]। হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ ৫১৩ঃ জাবের ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আমি রোগাক্রান্ত হলে নাবী [সাঃআঃ] আবু বাকর [রাঃআঃ]-কে সাথে নিয়ে পদব্রজে আমাকে দেখিতে এলেন। তারা আমাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। নাবী [সাঃআঃ] উযু করিলেন এবং তার উযুর অবশিষ্ট পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমি হুঁশ ফিরে পেলাম। দেখি নাবী [সাঃআঃ] উপস্থিত। আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ। আমার সম্পত্তির কি করবো, আমার মাল সম্পর্কে কিরূপ সিদ্ধান্ত নিবো? ওয়ারিসী স্বত্ব সংক্রান্ত আয়াত নাযিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমার কথার কোন জবাব দেননি

[বোখারী, মুসলিম, নাসায়ী]। হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ ৫১৪ঃ উসামা ইবনি যায়েদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর এক মেয়ের শিশু পুত্র মুমূর্ষ অবস্থায় উপনীত হলো। তার মা নাবী [সাঃআঃ]-কে বলে পাঠান, আমার সন্তান মুমূর্ষ অবস্থায় আছে। তিনি বার্তাবাহককে বলেনঃ “তাকে গিয়ে বলো, যা আল্লাহ নিয়ে যান এবং যা তিনি দান করেন সবই তার এবং প্রত্যেক বস্তুর জন্যই তার নিকট মেয়াদ নির্ধারিত রহিয়াছে”। সুতরাং সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং তার জন্য সওয়াবের আশা করে। বার্তাবাহক ফিরে গিয়ে তাকে তা জানালে তিনি পুনরায় তাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে আসার জন্য বলে পাঠান। নাবী [সাঃআঃ] কয়েকজন সঙ্গীসহ রওনা হলেন। সাদ ইবনি উবাদা [রাঃআঃ]-ও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নাবী [সাঃআঃ] মুমূর্ষ শিশুকে তার দুই বাহুর উপর রাখলেন। ছেলেটির বুকে পুরান কলসীর অনুরূপ শব্দ হচ্ছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুপূর্ণ হলো। সাদ [রাঃআঃ] বলেন, আপনিও কাঁদছেন, অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেনঃ আমি তার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে কাঁদছি। আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়ার্দ্র হৃদয় বান্দার প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন

[বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনি মাজাহ]। হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ – ৫১৭ঃ আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ রোযা রেখেছে? আবু বাকর [রাঃআঃ] বলেন, আমি। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ রোগী দেখিতে গেছে? আবু বাকর [রাঃআঃ] বলেন, আমি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ জানাযায় অংশগ্রহণ করেছে? আবু বাকর [রাঃআঃ] বলেন, আমি । তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ দরিদ্রকে আহার করিয়েছে? আবু বাকর [রাঃআঃ] বলেন, আমি। মারওয়ান বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ এক দিনে যার মধ্যে এতগুলো সৎ কাজের সমাবেশ ঘটে, তাকে আল্লাহ অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

[মুসলিম, নাসায়ী] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ – ৫১৯ঃ আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আল্লাহ [হাশরের মাঠে] বলবেন, আমি তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাওনি। বান্দা বলবে, হে প্রভু! তুমি কিভাবে আমার নিকট খাদ্য চেয়েছিলে, আর আমি তোমাকে আহার করাইনি! অথচ তুমিই তো বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার নিকট খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে আহার করাওনি। তুমি কি জানতে নাসায়ী, যদি তুমি তাকে আহার করাতে তবে তা আমার নিকট পেতে? আদম সন্তান! আমি তোমার নিকট পিপাসার্ত হয়ে পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। বান্দা বলবে, হে প্ৰভু! কেমন করে আমি তোমাকে পানি পান করাতাম, অথচ তুমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক! আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পানি পান করাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে, তবে তা আমার নিকট পেতে? আদম সন্তান! আমি রোগাক্রান্ত হয়েছিলাম, তুমি আমার সেবা করোনি। বান্দা বলবে, হে প্ৰভু! আমি কিভাবে তোমার সেবা করিতে পারি, তুমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। তিনি বলবেন, তুমি কি জানতে নাসায়ী, আমার অমুক বান্দা রোগাক্রান্ত হয়েছিল? তুমি যদি তার সেবা করিতে, তবে তা আমার নিকট পেতে অথবা তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে।

[মুসলিম, মুসনাদ আবু আওয়া নাসায়ী] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ – ৫২০ঃ আবু সাঈদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা রুগ্নকে দেখিতে যাও এবং জানাযার অনুসরণ করো। তা তোমাদেরকে আখেরাত স্মরণ করিয়ে দিবে

[মুসনাদ আহমাদ, ইবনি হিব্বান]। হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫২১ঃ আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তিনটি বিষয়, তার প্রতিটিই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য করণীয়। রুগ্নকে দেখিতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা এবং যে ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করে তার জবাব দেয়া [ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা] [ইবনি হিব্বান]।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫২২ঃ হুমাইদ ইবনি আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

সাদ [রাঃআঃ]-এর গোত্রের তিনজন নিজ নিজ পিতার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মক্কায় রোগাক্রান্ত সাদ [রাঃআঃ]-কে দেখিতে গেলেন। সাদ [রাঃআঃ] কেঁদে দিলেন। তিনি বলেন, তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বলেন, আমার আশংকা যে, আমি যে স্থান থেকে হিজরত করেছি, সাদ ইবনি খাওলার মত সেই স্থানেই বুঝি মারা যাবো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ হে আল্লাহ! সাদকে আরোগ্য দান করুন। তিনি তিনবার দোয়া করিলেন। সাদ [রাঃআঃ] বলেন, আমার প্রচুর সম্পদ আছে এবং আমার একমাত্র কন্যা আমার ওয়ারিস। আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ ওসিয়াত করিতে পারি? তিনি বলেনঃ না। সাদ [রাঃআঃ] বলেন, তবে দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বলেনঃ না। সাদ [রাঃআঃ] বলেন, তবে অর্ধেক? তিনি বলেনঃ না। সাদ [রাঃআঃ] বলেন, তবে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ, তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয় তোমার মালের যাকাতও দানরূপে গণ্য। তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য তুমি যা খরচ করো তাও দানরূপে গণ্য। তোমার স্ত্রী তোমার খাদ্য থেকে যা আহার করে তাও তোমার জন্য দানরূপে গণ্য। তোমার পরিবার-পরিজনকে তোমার সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া, তাহাদেরকে দ্বারে দ্বারে হাত পেতে বেড়ানোর মত অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম, [একথা বলে] তিনি হাত দ্বারা ইঙ্গিত করেন [মুসলিম]।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫২৩ঃ আবু আসমা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

যে ব্যক্তি তার রুগ্ন ভাইকে দেখিতে যায়, সে বেহেশতের খুরফার মধ্যে থাকে। আমি আবু কিলাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বেহেশতের খুরফা কি? তিনি বলেন, বেহেশতের কুড়ানো ফল। আমি আবু কিলাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু আসমা এই হাদিস কার সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন? তিনি বলেন, সাওবান [রাঃআঃ]-রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূত্রে।

[মুসলিম, তিরমিজী, আহমাদ, ইবনি হিব্বান] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫২৪ঃ আবদুল হামীদ ইবনি জাফর [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমার পিতা আমাকে অবহিত করেন যে, আবু বাকর ইবনি হাযম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির [রাহিমাহুল্লাহ] মসজিদের কতক লোকসহ অসুস্থ উমার ইবনি হাকাম ইবনি রাফে আনসারীকে দেখিতে গেলেন। তারা বলেন, হে আবু হাফস! আমাদেরকে হাদিস শুনান। তিনি বলেন, আমি জাবের ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখিতে যায়, সে রহমাতের মধ্যে ডুব দেয়, এমনকি সে যখন সেখানে বসে পড়ে, তখন তো রহমাতের মধ্যেই অবস্থান করে।

[মুয়াত্তা মালিক, আহমাদ, হাকিম, ইবনি হিব্বান, বাযযার] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫২৫ঃ আতা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

উমার ইবনি সাফওয়ান [রাহিমাহুল্লাহ] আমার রুগ্ন অবস্থায় আমাকে দেখিতে এলেন। নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেলে ইবনি উমার [রাঃআঃ] তাহাদেরকে নিয়ে দুই রাকাআত নামায পড়েন এবং বলেন, আমরা সফরে আছি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫২৬ঃ আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক ইহুদী বালক নাবী [সাঃআঃ]-এর খেদমত করতো। সে অসুস্থ হলে নাবী [সাঃআঃ] তাকে দেখিতে যান। তিনি তার শিয়রে বসে বলেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। সে তার শিয়রে বসা তার পিতার দিকে তাকালো। সে তাকে বললো, আবুল কাসিমের অনুসরণ করো। ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এই কথা বলিতে বলিতে বেরিয়ে এলেনঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করিয়াছেন”।

[বোখারী, আবু দাউদ, নাসায়ী] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ – ৫২৮ঃ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) এক রুগ্ন বেদুইনকে দেখিতে গেলেন। রাবী বলেন, নবী (সাঃ) কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখিতে গেলে বলিতেনঃ ক্ষতি হইবে নাসাঈ, ইনশাআল্লাহ পাক-পবিত্র হয়ে যাবে। সে বললো, তা কি পবিত্র? কখনো নয়, বরং তা তো এক প্রবীণ বৃদ্ধের উপর আপতিত টগবগে জ্বর। তা তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। নবী (সাঃ) বলেনঃ তা তো আরো উত্তম।

(বুখারী) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫৩০ঃ ইসহাক ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

হাজ্জাজ হযরত ইবনি উমার [রাঃআঃ]-এর নিকট প্রবেশ করলো। আমি তখন তার নিকট উপস্থিত ছিলাম। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলো, তিনি কেমন আছেন? তিনি বলেন, ভালো। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলো, কে আপনাকে কষ্ট দিলো? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এমন দিনে অস্ত্ৰধারণ করিতে আদেশ করেছিল, যেদিন অস্ত্ৰধারণ করা নিষিদ্ধ অর্থাৎ স্বয়ং হাজ্জাজ।

[বোখারী] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫৩১ঃ আবদুল্লাহ ইবনি আমর ইবনুল আস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

মদ্যপ রোগাক্রান্ত হলে তোমরা তাকে দেখিতে যেও না [বোখারী]।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫৩২ঃ হারিস ইবনি উবায়দুল্লাহ আনসারী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমি উম্মু দারদা [রাঃআঃ]-কে একটি অনাবৃত উটে চড়ে মসজিদবাসী এক অসুস্থ আনসারীকে দেখিতে যেতে দেখেছি [বোখারীর তারীখ]।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

আদাবুল মুফরাদ -৫৩৩ঃ আবদুল্লাহ ইবনি আবুল হুযাইল [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাঃআঃ] একদল লোকসহ এক রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখিতে গেলেন। ঘরের মধ্যে ছিল এক মহিলা। দলের এক ব্যক্তি সেই নারীর দিকে তাকাতে থাকে। আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] তাকে বলেন, যদি তোমার চোখ ফুড়ে দেয়া হতো তবে তা তোমার জন্য উত্তম হতো।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

ইবন মাজা – ৩৪৬৬ঃ আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন ব্যক্তি চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন না করেই চিকিৎসা করলে সে দায়ী হবে।

তাহকীক আলবানীঃ হাসান। [৩৪৬৬] নাসায়ী ৪৮৩০, আবূ দাউদ ৪৫৮৬। সহীহাহ ৬৩৫। হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

ইবন মাজা – ৩৫৩১ঃ ইমরান ইবনুল হুসায়ন (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তির হাতে পিতলের বালা পরিহিত দেখে জিজ্ঞেস করেনঃ এই বালাটা কী? সে বললো, এটা অবসন্নতাজনিত রোগের জন্য ধারণ করেছি। তিনি বলেনঃ এটা খুলে ফেলো। অন্যথায় তা তোমার অবসন্নতা বৃদ্ধিই করবে।

তাহকীক আলবানীঃ দুর্বল। [৩৫৩১] আহমাদ ১৯৪৯৮। দঈফাহ ১০২৯, (সহীহ আবূ দাউদ ৪৬৯ নং হাদীসের অনুরূপ)। হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

ইবন মাজা – ৩৫৩২ঃ উম্মু জুনদুব (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে কোরবানীর দিন উপত্যকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। তারপর তিনি ফিরে এলেন। তখন খাছআম গোত্রের এক মহিলা তাঁর পিছনে পিছনে আসলো এবং তার কোলে ছিলো তার এক শিশু সন্তান। সে কোন অসুখের কারণে কথা বলতে পারতোনা। মহিলা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার পুত্র, আমার পরিবারের একমাত্র অধস্তন বংশধর। কিন্তু সে একটি বিপদে লিপ্ত, যার ফলে সে কথা বলতে পারে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা আমার নিকট একটু পানি আনো। পানি আনা হলে তিনি তাঁর হস্তদ্বয় ধৌত করলেন এবং কুলি করলেন। অতঃপর অবশিষ্ট পানি ঐ মহিলাকে দিয়ে বলেনঃ এই পানি তাকে পান করাও, তার গায়ে ছিটাও এবং আল্লাহর নিকট তার জন্য আরোগ্য প্রার্থনা করো। উম্মু জুনদুব (রাঃ) বলেন, আমি মহিলার সাথে দেখা করে বললাম, আমাকে যদি এ পানির কিছুটা দান করতেন। সে বললো, এটা তো এই বিপদগ্রস্তের জন্য নিয়েছি। তিনি বলেন, বছর শেষে সেই মহিলার সাথে সাক্ষাত করে আমি তাকে শিশুটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। সে বললো, সে সুস্থ হয়েছে এবং তার মেধাশক্তি সাধারণ মানুষের মেধাশক্তির তুলনায় অধিক বেড়েছে।

তাহকীক আলবানীঃ দুর্বল। ৩৫৩২] আবূ দাউদ ১৯৬৬। সহীহ আবূ দাউদ ১৭১৫। হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

ইবন মাজা – ৩৪৬৩ঃ আনাস বিন মালিক (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ পাছার বাতরোগের চিকিৎসায় দুম্বার নিতম্ব গলিয়ে নিয়ে তা তিন ভাগ করতে হবে, অতঃপর প্রতিদিন এক ভাগ পান করতে হবে।

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

Leave a Reply