রোগীকে দেখিতে যাওয়া ও তালক্বীন দেয়া

রোগীকে দেখিতে যাওয়া ও তালক্বীন দেয়া

রোগীকে দেখিতে যাওয়া  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১. অধ্যায়ঃ লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ বলে মাইয়্যিতকে তালক্বীন দেয়া
২. অধ্যায়ঃ বিপদাপদের সময় যা বলিতে হইবে
৩. অধ্যায়ঃ রোগী ও মৃতের নিকট যা বলিতে হয়
৪. অধ্যায়ঃ মাইয়্যিতের দৃষ্টি বন্ধ করা এবং মৃত্যু উপস্থিত হলে তার জন্য দুআ করা
৫. অধ্যায়ঃ [রূহ ক্ববয হওয়ার পর] রূহের দিকে মাইয়্যিতের অপলক দৃষ্টিতে তাকানো
৬. অধ্যায়ঃ মৃতের নিকট কাঁদা
৭. অধ্যায়ঃ রোগীকে দেখিতে যাওয়া

১. অধ্যায়ঃ লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ বলে মাইয়্যিতকে তালক্বীন দেয়া

২০০৮

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি উমারাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা মুমূর্ষ ব্যক্তিকে

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”

[আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই]

তাল্‌ক্বীন দাও [পড়াও]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯২, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯৯]

২০০৯

কুতায়বাহ্ ইবনি সাঈদ, আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. সুলায়মান ইবনি বিলাল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

সকলে ঐ সানাদে বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ২০০০]

২০১০

আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তোমরা মুমূর্ষু ব্যক্তিকে

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

“লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”

[আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই]

তাল্‌ক্বীন করো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ২০০১]

২. অধ্যায়ঃ বিপদাপদের সময় যা বলিতে হইবে

২০১১

উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ কোন মুসলিমের ওপর মুসীবাত আসলে যদি সে বলেঃ আল্লাহ যা হুকুম করিয়াছেন-

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ

“ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না-ইলায়হি র-জিউন”

[অর্থাৎ- আমরা আল্লাহরই জন্যে এবং তাহাঁরই কাছে ফিরে যাব]

বলে এবং এ দুআ পাঠ করে-

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ

আল্ল-হুম্মা জুর্‌নী ফী মুসীবাতী ও আখলিফ লী খয়রাম্‌ মিনহা- ইল্লা- আখলাফাল্ল-হু লাহূ খয়রাম্‌ মিনহা-

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে আমার মুসীবাতে সাওয়াব দান কর এবং এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর, তবে মহান আল্লাহ তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করে থাকেন]।

উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] বলেন, এরপর যখন আবু সালামাহ্‌ ইনতিকাল করেন, আমি মনে মনে ভাবলাম, কোন্‌ মুসলিম আবু সালামাহ্‌ থেকে উত্তম? তিনি সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যিনি হিজরাত করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট পৌছে গেছেন। এতদসত্বেও আমি এ দুআগুলো পাঠ করলাম। এরপর মহান আল্লাহ আবু সালামার স্থলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মতো স্বামী দান করিয়াছেন।

উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] বলেন, আমার নিকট রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিয়ের পয়গাম পৌঁছাবার উদ্দেশে হাত্বিব ইবনি আবু বাল্‌তাআহ্‌ কে পাঠালেন। আমি বললাম, আমার একটা কন্যা আছে আর আমার জিদ বেশী। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তার কন্যা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে দুআ করব যাতে তিনি তাকে তাহাঁর কন্যার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন। আর [তার সম্পর্কে] দুআ করব যেন আল্লাহ তার জিদ দূর করে দেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ২০০২]

২০১২

নবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ কোন বান্দার ওপর মুসীবাত আসলে যদি সে বলে

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ أَجَرَهُ اللَّهُ فِي مُصِيبَتِهِ وَأَخْلَفَ لَهُ خَيْرًا مِنْهَا 

“ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলায়হি র-জিউন, আল্লা-হুম্মা জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খয়রাম্‌ মিনহা-ইল্লা- আজারাহুল্ল-হু ফী মুসীবাতিহী ওয়া আখলা ফা লাহূ খয়রাম্‌ মিনহা-

[অর্থাৎ- আমরা আল্লাহর জন্যে এবং আমরা তাহাঁরই কাছে ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে এ মুসীবাতের বিনিময় দান কর এবং এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর। তবে আল্লাহ তাকে তার মুসীবাতের বিনিময় দান করবেন এবং তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করবেন।]।

উম্মু সালামাহ [রাদি.] বলেন, এরপর যখন আবু সালামাহ্‌ ইনতিকাল করিলেন, আমি ঐরূপ দুআ করলাম যেরূপ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আদেশ করিয়াছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ আমাকে তাহাঁর চেয়েও উত্তম নিআমাত অর্থাৎ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে স্বামীরূপে দান করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯৬, ইসলামিক সেন্টার- ২০০৩]

২০১৩

নবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি, ….. পরবর্তী বর্ণনা উসামাহ্‌-এর হাদীস সদৃশ। তবে এ কথাটুকু বাড়িয়েছেনঃ উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] বলেন, এরপর যখন আবু সালামাহ্‌ [রাদি.] ইনতিকাল করিলেন, আমি মনে মনে বললামঃ আবু সালামাহ্‌ [রাদি.]-এর চেয়ে উত্তম মানুষ কে আছেন যিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর বিশিষ্ট সহাবী? অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাকে দৃঢ়তা দান করিলেন এবং আমি ঐরূপ দুআ করলাম। উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] বলেন, এরপর আমার বিয়ে হল রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ২০০৪]

৩. অধ্যায়ঃ রোগী ও মৃতের নিকট যা বলিতে হয়

২০১৪

উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন তোমরা পীড়িত ব্যক্তি অথবা মৃত ব্যক্তির নিকট হাজির হও তখন তার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য কর। কেননা তোমরা যেরূপ বল তার ওপর মালাকগণ [ফেরেশতামন্ডলী] আমীন বলেন। উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] বলেন, এরপর যখন আবু সালামাহ্‌ ইনতিকাল করিলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বললাম। হে আল্লাহর রসূল! আবু সালামাহ্‌ [রাদি.] ইনতিকাল করিয়াছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, “তুমি বল,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَلَهُ وَأَعْقِبْنِي مِنْهُ عُقْبَى حَسَنَةً

আল্লাহুম্মাগফির লী অলাহু, অআ‘ক্বিবনী মিনহু উক্ববা হাসানাহ।

হে আল্লাহ! আমাকে ও তাঁকে ক্ষমা কর এবং তাহাঁর পরে আমাকে উত্তম পরিণাম দান কর।”

উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] বলেন, অতঃপর আমি তা বললাম। আল্লাহ আমাকে তার [আবু সালামাহ্‌-এর] চেয়ে উত্তম প্রতিদান হিসেবে মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-কে দান করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ২০০৫]

৪. অধ্যায়ঃ মাইয়্যিতের দৃষ্টি বন্ধ করা এবং মৃত্যু উপস্থিত হলে তার জন্য দুআ করা

২০১৫

উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ], আবু সালামাহ্‌কে দেখিতে এলেন, তখন চোখ খোলা ছিল। তিনি তার চোখ বন্ধ করে দিলেন এবং বলিলেন, যখন রূহ্‌ ক্ববয করা হয়, তখন চোখ তার অনুসরণ করে। আবু সালামাহ্‌-এর পরিবারের লোকেরা কান্না শুরু করে দিল। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা তোমাদের নিজেদের ব্যাপারে ভাল কথা ছাড়া কোন খারাপ কিছু বলাবলি করো না। কেননা, তোমরা যা কিছু বল তার স্বপক্ষে মালায়িকাহ্‌ আমীন বলে থাকে। এরপর তিনি এভাবে দুআ করিলেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لأَبِي سَلَمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِينَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ وَافْسَحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ ‏.‏ وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ 

আল্লা-হুম্মাগফির লি আবী সালামাহ অরফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিইয়্যীন, ওয়াখলুফহু ফী আক্বিবিহী ফিল গা-বিরীন, অগফির লানা অলাহু ইয়া রাববাল ‘আ-লামীন, ওয়াফসাহ লাহু ফী ক্বাবরিহী অ নাউওয়িরলাহু ফীহ

“হে আল্লাহ! আবু সালামাহ্‌-কে ক্ষমা কর এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তাহাঁর মর্যাদাকে উঁচু করে দাও, তুমি তাহাঁর বংশধরদের অভিভাবক হয়ে যাও। হে রব্বুল আলামীন! তাকে ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও। তার ক্ববরকে প্রশস্ত কর এবং তা জ্যোতির্ময় করে দাও।”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ২০০৬]

২০১৬

খালিদ আল হায্‌যা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। ব্যতিক্রম এই যে, এ সূত্রে বলেছেন, “তাহাঁর পরিবার পরিজনদের অভিভাবক হও।” এছাড়া বলেছেন, তার ক্ববরকে প্রশস্ত করে দাও কিন্তু “আফসিহ” শব্দটি এ বর্ণনায় নেই। খালিদ আল হায্যা এ কথাটুকুও বর্ণনা করিয়াছেন, সপ্তম অন্য আরেকটি দুআ আছে যা আমি ভুলে গেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০০, ইসলামিক সেন্টার- ২০০৭]

৫. অধ্যায়ঃ [ রূহ ক্ববয হওয়ার পর] রূহের দিকে মাইয়্যিতের অপলক দৃষ্টিতে তাকানো

২০১৭

আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা কি দেখ না, মানুষ যখন মারা যায় তার চোখ খোলা থেকে যায়? লোকেরা বলিল, হ্যাঁ দেখেছি। তিনি বলেনঃ যখন তার চোখ তার রূহকে অনুসরণ করে তখন এ অবস্থা হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০১, ইসলামিক সেন্টার- ২০০৮]

২০১৮

আলা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০২, ইসলামিক সেন্টার- ২০০৯]

৬. অধ্যায়ঃ মৃতের নিকট কাঁদা

২০১৯

উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন আবু সালামাহ্‌ [রাদি.] ইনতিকাল করিলেন আমি [আক্ষেপ করলাম] বললাম, আহ! নির্বাসিত ব্যক্তি! আহ! বিদেশ ভূমিতে মারা গেল! আমি তাহাঁর জন্য এমনভাবে [বুক ফাটিয়ে] কান্নাকাটি করব যা মানুষের মাঝে চর্চা হইতে থাকিবে। আমি কান্নার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এমন সময় একজন মহিলা আমাকে সঙ্গ দেয়ার মনোভাব নিয়ে মাদীনায় উঁচু এলাকা থেকে আসলেন এমন সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সামনে এগিয়ে এসে বললেনঃ আরে! তুমি কি শাইত্বনকে ঐ ঘরে ঢুকাতে চাচ্ছ যেখান থেকে মহান আল্লাহ তাকে দুবার তাড়িয়ে দিয়েছেন? [উম্মু সালামাহ্‌ বলেন] এ কথা শুনামাত্র আমি কান্না বন্ধ করলাম এবং আর কাঁদলাম না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০৩, ইসলামিক সেন্টার- ২০১০]

২০২০

উসামাহ্‌ ইবনি যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] এর নিকটে ছিলাম। এমন সময় তাহাঁর এক কন্যা তাহাঁর কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, তাহাঁর একটা শিশু অথবা ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, তিনি যেন এখানে আসেন। নবী [সাঃআঃ] সংবাদ বাহককে বলিলেন, তুমি গিয়ে তাকে বল, আল্লাহ যা নিয়ে গেছেন তা তাহাঁরই আর যা দান করিয়াছেন তাও তাহাঁরই। আর প্রত্যেক বস্তুর জন্য তাহাঁর কাছে একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। তাকে বলে দাও যেন সে সবর করে এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা করে। সংবাদদাতা ফিরে এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি আল্লাহর কসম দিয়ে বলেছেন, যাতে আপনি একটু আসেন। উসামাহ্‌ [রাদি.] বলেন, এরপর নবী [সাঃআঃ] উঠে রওয়ানা হলেন। সাদ ইবনি উবাদাহ্‌ [রাদি.] ও মুআয্‌ ইবনি জাবাল [রাদি.] তার সাথে গেলেন আমিও তাদের সাথে গেলাম। সেখানে পৌছলে শিশুটিকে তাহাঁর কাছে উঠিয়ে আনা হল। বাচ্চাটির রূহ এমনভাবে ধড়ফড় করছে যেন পুরাতন মশকের মধ্যে ঝনঝন শব্দ হচ্ছে। এ করুণ অবস্থা দেখে তাহাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। সাদ [রাদি.] নবী [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করিলেন, একি হে আল্লাহর রসূল? তিনি উত্তরে বলিলেন, এ হচ্ছে দয়া, যা আল্লাহ তাআলা তাহাঁর বান্দাদের অন্তঃকরণে সৃষ্টি করে রেখেছেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাহাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালু ও স্নেহপরায়ণদের প্রতি দয়া করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০৪, ইসলামিক সেন্টার- ২০১১]

২০২১

মুহাম্মাদ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি নুমায়র, আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. সকলেই আসিম আল আহ্ওয়াল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে হাম্মাদের বর্ণিত হাদীসটি অপেক্ষাকৃত পূর্ণাঙ্গ ও লম্বা। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০৫, ইসলামিক সেন্টার- ২০১২]

২০২২

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাদ ইবনি উবাদাহ্‌ [রাদি.] কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবদুর রহমান ইবনি আওফ , সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস ও আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.]-কে সঙ্গে নিয়ে তাকে দেখিতে গেলেন। তিনি সেখানে পৌছে তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, অবস্থা কি শেষ? লোকেরা বলিল, না হে আল্লাহর রসূল! অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাঁদতে লাগলেন। উপস্থিত লোকেরা তাহাঁর কান্না দেখে কাঁদতে শুরু করিল। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা কি শোননি যে, আল্লাহ তাআলা চোখের অশ্রুর কারণে ও হৃদয়ের অস্থিরতার জন্যে বান্দাকে শাস্তি দিবেন না? বরং তিনি এ কারণে আযাব করবেন বা করুণা প্রদর্শন করবেন, তিনি জিহ্ববার দিকে ইঙ্গিত করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০৬, ইসলামিক সেন্টার- ২০১৩]

৭. অধ্যায়ঃ রোগীকে দেখিতে যাওয়া

২০২৩

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে বসা ছিলাম। এমন সময় আনসারদের জনৈক ব্যক্তি তাহাঁর নিকট এসে তাঁকে সালাম করিল। অতঃপর সে ফিরে যাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে আনসারদের ভাই! আমার ভাই সাদ ইবনি উবাদাহ্‌ কেমন আছে? সে বলিল, ভাল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন, তোমাদের মধ্যে কে কে তাঁকে দেখিতে যাবে? এই বলে তিনি উঠলেন। আমরাও তাহাঁর সাথে উঠে রওয়ানা হলাম। আমাদের সংখ্যা দশের অধিক ছিল। আমাদের পায়ে জুতা-মোজাও ছিল না। গায়ে জামাও ছিল না। মাথায় টুপিও ছিল না। আমরা পায়ে হেঁটে কঙ্করময় পথ অতিক্রম করে সেখানে গিয়ে পৌছলাম। তার পাশে উপস্থিত লোকেরা সরে গেল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর সাথী সাহাবীগণ সাদ এর কাছে গেলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০৭, ইসলামিক সেন্টার- ২০১৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply