নতুন লেখা

রুকু ও সিজদার দোয়া – মাথা তুলে রাফউল ইয়াদাইন করা

রুকু ও সিজদার দোয়া – মাথা তুলে রাফউল ইয়াদাইন করা

রুকু ও সিজদার দোয়া – মাথা তুলে রাফউল ইয়াদাইন করা >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৫, অধ্যায়ঃ (১৫-২৩)=৯টি, হাদীসঃ (৮৫৮-৮৯৮)=৪১টি

  • ৫/১৫. অধ্যায়ঃ রুকূতে যেতে ও রুকূ থেকে মাথা তুলতে রাফউল ইয়াদাইন করা।
  • ৫/১৬ অধ্যায়ঃ সলাতে রুকূ
  • ৫/১৭. অধ্যায়ঃ দু হাঁটুর উপর দু হাত রাখা।
  • ৫/১৮. অধ্যায়ঃ রুকূ থেকে মাথা তোলার সময় যা বলবে।
  • ৫/১৯. অধ্যায়ঃ সিজদা করা।
  • ৫/২০. অধ্যায়ঃ রুকূ ও সিজদার তাসবীহ।
  • ৫/২১. অধ্যায়ঃ সুষ্ঠুভাবে সিজদা করা।
  • ৫/২২. অধ্যায়ঃ দু সাজদাহ্‌র মাঝখানে বসা।
  • ৫/২৩. অধ্যায়ঃ দু সাজদাহ্র মাঝখানে পড়ার দুআ।

৫/১৫. অধ্যায়ঃ রুকূতে যেতে ও রুকূ থেকে মাথা তুলতে রাফউল ইয়াদাইন করা।

৮৫৮. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দেখেছি যে, তিনি নামাজ শুরু করিতে তাহাঁর দু হাত তাহাঁর দু কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করিতেন, তিনি রুকূতে যেতে এবং রুকূ থেকে মাথা তুলতেও তাই করিতেন, কিন্তু দু সাজদাহর মাঝখানে হাত উত্তোলন করিতেন না। {৮৫৬}

{৮৫৬} বোখারি ৭৩৫-৩৬, ৭৩৮-৩৯; মুসলিম ৩৯০/১-২, তিরমিজি ২৫৫, নাসায়ি ৮৭৬-৭৮, ১০২৫, ১০৫৯, ১০৮৮, ১১৪৪; আবু দাউদ ৭২১-২২, ৭৪১; আহমাদ ৪৫২৬, ৪৬৬০, ৫০৬১, ৫২৫৭; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৬৫, দারিমি ১২৫০, ১৩০৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭১২, ৭১৩। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৫৯. মালিক ইবনিল হুয়াইরিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন তাকবীরে তাহরীমা বলিতেন তখন তাহাঁর দু হাত তাহাঁর উভয় কানের কাছাকাছি পর্যন্ত উঠাতেব। তিনি তিনি রুকূতে যেতেন তাই করিতেন এবং রুকূ থেকে মাথা তুলতেও অনুরূপ করিতেন। {৮৫৭}

{৮৫৭} বোখারি ৭৩৭, মুসলিম ৩৯১-২, নাসায়ি ৮৮০-৮১, ১০২৪, ১০৫৬, ১০৮৫; আবু দাউদ ৭৪৫, আহমাদ ১৫১৭২, ২০০০৭; দারিমি ১২৫১। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওযা ৬৭ সহিহ আবু দাউদ ৭৩০। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৬০. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দেখেছি যে, তিনি নামাজ শুরু করিতে, রুকূতে যেতে এবং সিজদায় যেতে তাহাঁর দু হাত তাহাঁর দুকাঁধ বরাবর উত্তোলন করিতেন। {৮৫৮}

{৮৫৮} বোখারি ৭৮৫, ৭৮৯, ৮০৩; মুসলিম ৩৯১-২, তিরমিজি ২৫৪, নাসায়ি ১০২৩, আবু দাউদ ৮৩৬, আহমাদ ৭১৭৯, ৭১৬০১, ১০১৪১, ১০৪৪০; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৬৮, দারিমি ১২৩৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭২৪। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৬১. আবদুল্লাহ ইবনি উবায়দ বিন উমায়র এর দাদা উমায়র বিন হাবীব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি [দাদা] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফরয নামাজের প্রতিটি তাকবীরের সাথে তাহাঁর দুহাত উপরে উঠাতেন। {৮৫৯}

{৮৫৯} সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭২৪। উক্ত হাদিসের রাবি রিফাদাহ বিন কুদআহ আল গাসসানী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বোখারি বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আল উকায়লী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৬২. আবু হুমায়দ আস-সাইদী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আবু কাতাদাহ [রাঃআঃ] সহ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নামাজ সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অধিক অবগত। তিনি যখন সলাতে দাঁড়াতেন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন এবং তাহাঁর দু হাত তাহাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন, অতঃপর আল্লাহু আকবার বলিতেন। তিনি যখন রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করিতেন তখনও তাহাঁর দু হাত তাহাঁর দু কাঁধ বরাবর উঠাতেন। অতঃপর তিনি যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলিতেন, তাহাঁর দু হাত উত্তোলন করিতেন এবং সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি দ্বিতীয় রাক্‌আতে দু সাজাদাহ থেকে যখন দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলিতেন এবং তাহাঁর দু হাত তাহাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন, যেমনটি তিনি নামাজ শুরু করার সময় করিতেন। {৮৬০}

{৮৬০} বোখারি ৮২৮, তিরমিজি ২৬০, ৩০৪; নাসায়ি ১০৩৯, ১১৮১; আবু দাউদ ৭৩০, ৯৬৩; আহমাদ ২৩০৮৮, দারিমি ১৩০৭, ১৩৫৬; মাজাহ ৮৬৩, ১০৬১। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৬৩. আব্বাস বিন সাহল আস-সাইদী বলেন, আবু হুমায়দ, আবু উসাইদ আস-সাইদী, সাহল বিন সাদ ও মুহাম্মাদ বিন মাসলামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আব্বাস বিন সাহল আস-সাইদী বলেন, আবু হুমায়দ, আবু উসাইদ আস-সাইদী, সাহল বিন সাদ ও মুহাম্মাদ বিন মাসলামা [রাঃআঃ] একত্র হয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নামাজ সম্পর্কে আলোচনা করেন। আবু হুমায়দ [রাঃআঃ] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নামাজ সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অধিক অবগত। রসূলুল্লাহ্ যে সলাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলিতেন এবং তাহাঁর উভয় হাত উপরে উঠাতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকূতে যাওয়ার সময়ও উপরে উঠাতেন, অতঃপর দাঁড়াতেন এবং তাহাঁর দু হাত উপরে উঠাতেন ও সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, যাতে সকল প্রত্যঙ্গ যথাস্থানে এসে স্থির হয়।” {৮৬১}

{৮৬১} বোখারি ৮২৮, তিরমিজি ২৬০, ৩০৪; নাসায়ি ১০৩৯, ১১৮১; আবু দাউদ ৭৩০, ৯৬৩; আহমাদ ২৩০৮৮, দারিমি ১৩০৭, ১৩৫৬; মাজাহ ৮৬২, ১০৬১। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭২৩। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৬৪. আলী বিন আবু তালিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] যখন ফার্‌দ নামাজ আদায় করিতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলিতেন এবং তাহাঁর দু হাত তাহাঁর দু কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করিতেন, তখনও অনুরূপ করিতেন, যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন, তখনও অনুরূপ করিতেন। যখন তিনি দু রাকআত শেষ করে দাঁড়াতেন তখনও অনুরূপ করিতেন। {৮৬২}

{৮৬২} মুসলিম ৭৭১, তিরমিজি ৩৪২৩, নাসায়ি ৮৯৭, আবু দাউদ ৭৬০, আহমাদ ৭৩১, ৮০৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৬৬, দারিমি ১২২৮। তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭২৯।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৮৬৫. ইবনি আব্বাস[রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রতি তাকবীরের সময় তাহাঁর দু হাত উপরে উঠাতেন। {৮৬৩}

{৮৬৩} সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭২৪। উক্ত হাদিসের রাবি উমার বিন রিয়াহ সম্পর্কে ইমাম নাসাঈ তাকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। আস-সাজী বলেন, তার হাদিস বাতিল। ইবনি আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আল উকায়লী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৬৬. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ শুরু করার সময় এবং রুকূ যাওয়ার সময় তাহাঁর দুহাত [উপরে] উঠাতেন।

সহিহ। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৬৭. ওয়ায়িল বিন হুজর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিভাবে নামাজ পড়েন আমি তা অবশ্যই দেখবো। তিনি দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হলেন এবং তাহাঁর দু হাত তাহাঁর দু কান বরাবর উঠালেন। তিনি রুকূতে যাওয়ার সময়ও তার দু হাত অনুরূপভাবে উঠালেন। তিনি যখন রুকু থেকে তাহাঁর মাথা উঠালেন তখনও তাহাঁর উভয় হাত অনুরূপভাবে উঠালেন। {৮৬৫}

{৮৬৫} মুসলিম ২৭৪, ৪০১; তিরমিজি ৯৮, নাসায়ি ৮৭৯, ৮৮২, ৮৮৭, ৮৮৯, ৯৩২, ১১৫৯; আবু দাউদ ৭২৩-২৬, ৭২৮, ৭৩০, ৭৩৭, ৯৩৩, ৯৫৭, ৯৯৭; আহমাদ ১৮৩৬৫, ১৮৩৭৮, ১৮৩৮৮, ১৮৩৯৮; দারিমি ১২৪১, ১২৪৭, ১২৫২, ১২৫৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭১৬-৭১৮। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৬৮. আবুয-যুবায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] যখন নামাজ শুরু করিতেন, তখন তার উভয় হাত উপরে উঠাতেন। তিনি যখন রুকূ করিতেন এবং রুকূ থেকে তার মাথা উঠাতেন, তখনও অনুরূপ করিতেন। তিনি বলিতেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে এরূপ করিতে দেখেছি। অধস্তন রাবি ইবরাহীম বিন তাহমান [রহঃ] তার দু হাত তার দু কান পর্যন্ত উঠালেন।

সহিহ। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫/১৬ অধ্যায়ঃ সলাতে রুকূ

৮৬৯. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন রুকূ করিতেন, তখন তাহাঁর মাথা উঁচুও করিতেন না, নিচুও করিতেন না, বরং সোজা রাখতেন। {৮৬৭}

{৮৬৭} মুসলিম ৪৯৮, আবু দাউদ ৭৮৩, আহমাদ ২৩৫১০, ২৫০৮৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭৬২। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৭০. আবু মাসউদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি রুকূও সাজদাহ করে তার পিঠ সোজা করে না, তার নামাজ পূর্ণাঙ্গ হয় না। {৮৬৮}

{৮৬৮} তিরমিজি ২৬৫, নাসায়ি ১০২৭, ১১০১১; আবু দাউদ ৮৫৫, আহমাদ ১৬৬২৫, ১৬৬৫৪; দারিমি ১৩২৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৮৭৮, সহিহ আবু দাউদ ৮০১। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৭১. আলী বিন শায়বান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি ছিলেন প্রতিনিধি দলের সদস্য। তিনি বলেন, আমরা রওনা হয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট এলাম, তাহাঁর হাতে বাইআত গ্রহণ করলাম এবং তার পিছনে নামাজ পড়লাম। তিনি এক ব্যক্তির দিকে হালকা দৃষ্টিতে তাকান যে রুকূ ও সাজদা্হয় তার পিঠ সোজা রাখেনি। নবী [সাঃআঃ] নামাজ শেষ করে বলেন, হে মুসলিম সমাজ! যে ব্যক্তি রুকূ ও সাজদাহয় তার পিঠ সোজা করে না তার নামাজ হয় না। {৮৬৯}

{৮৬৯} আহমাদ ১৫৮৬২ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহা ২৫৩৬। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৭২. ওয়াবিসাহ বিন মাবাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে নামাজ আদায় করিতে দেখেছি। তিনি যখন রুকূ করিতেন তখন তাহাঁর পিঠ এমনভাবে সোজা করিতেন যে, তার উপর পানি ঢাললে অবশ্যি তা স্থির থাকতো। {৮৭০}

সহিহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবদুল্লাহ বিন উসমান ইবনি আতা সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে তেমন কোন সমস্যা নেই। ২. রাশিদ সম্পর্কে ইমামগন বলেন, তিনি অপরিচিত। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫/১৭. অধ্যায়ঃ দু হাঁটুর উপর দু হাত রাখা।

৮৭৩. মুসআব বিন সাদ হইতে বর্ণিতঃ

আমি আমার পিতা [সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস [রাঃআঃ] এর পাশে রুকূতে গেলাম এবং উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো একত্র করে তা দু হাঁটুর মাঝখানে রাখলাম। তিনি আমার হাতে আঘাত করে বলেন, আমরা [প্রথমে] এরূপ করতাম, অতঃপর আমাদেরকে হাঁটুর উপর হাত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। {৮৭১}

{৮৭১} বোখারি ৭৯০, মুসলিম ৫৩১-৩, তিরমিজি ২৫৯, নাসায়ি ১০৩২-৩৩, আবু দাউদ ৮৬৭, আহমাদ ১৫৭৪, ১৫৮০; দারিমি ১৩০৩। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৮১৩। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৭৪. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – রুকূ করার সময় তাহাঁর দু হাত তাহাঁর দু হাঁটুতে রাখতেন এবং তাহাঁর বাহুদ্বয় তাহাঁর বগল থেকে আলাদা রাখতেন। {৮৭২}

{৮৭২} সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭২৩। উক্ত হাদিসের রাবি হারিসাহ বিন আবু রিজাল সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বোখারি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী ও আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫/১৮. অধ্যায়ঃ রুকূ থেকে মাথা তোলার সময় যা বলবে।

৮৭৫. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

“সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ বলার পর বলিতেন

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

“রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দহ্”। {৮৭৩}

{৮৭৩} বোখারি ৭৯৬, ৩২২৮; মুসলিম ৪০৯, তিরমিজি ২৬৭, নাসায়ি ১০৬৩, আবু দাউদ ৪৪৮, আহমাদ ৮৭৮৮, ৯১২১, ৯৬০৫, ২৭২১৫,২৭৬০৬; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৯৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭৮৭। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৭৬. আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, ইমাম যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” বলেন তখন তোমরা বলবে

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

“রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্‌দ” [হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা তোমার জন্য]। {৮৭৪}

{৮৭৪} বোখারি ৬৮৯, ৭৩২-৩৩, ৮০৫, ১১১৪; মুসলিম ৪১১, তিরমিজি ৩৬১, নাসায়ি ৭৯৪, ৮৩২, ১০৬১; আবু দাউদ ৬০১, আহমাদ ১১৬৬৪, ১২২৪১; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩০৬, দারিমি ১২৫৬, মাজাহ ১২৩৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ লিগাইরিহী। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৭৭. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছেনঃ ইমাম যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ

বলে তখন তোমরা বলবে,

اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হাম্‌দ। {৮৭৫}

{৮৭৫} মুসলিম ৪৭৭, নাসায়ি ১০৬৮, আবু দাউদ ৮৪৭, আহমাদ ১১৪১৮, দারিমি ১৩১৩। তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭৯৩, ৭৯৪। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৮৭৮. বিন আবু আওফা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] যখন রুকূ থেকে মাথা তুলতেন তখন বলিতেন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

“ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র প্রশংসা করে আল্লাহ তা শুনেন। আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা, আকাশমণ্ডলী, যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও সব কিছুই তোমার প্রশংসায় পূর্ণ”। {৮৭৬}

{৮৭৬} মুসলিম ৪৭৬, আবু দাউদ ৮৪৬, আহমাদ ১৮৬২৫, ১৮৬৩৯, ১৮৬৫৭-৫৮, ১৮৯১১। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭৯২। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৭৯. আবু জুহাইফা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজরত থাকা অবস্থায় তাহাঁর নিকটেই ধন-সম্পদ সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। এক ব্যক্তি বলেন, অমুকের অনেক ঘোড়া আছে। আরেকজন বলেন, অমুকের অনেক উট আছে। আর একজন বলেন, অমুকের অনেক বক্‌রী আছে। অন্যজন বলেন অনেক দাস-দাসী আছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শেষ রাক্‌আতের রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে বলেনঃ

اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

“হে আল্লাহ্‌! আমাদের প্রভূ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা, আসমান, যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও সব কিছুই তোমার প্রশংসায় পূর্ণ। হে আল্লাহ্‌! তুমি কাউকে দান করলে তাহাঁর কোন প্রতিরোধকারী নাই এবং তুমি কাউকে দান না করলে কেউ তাকে দান করিতে পারে না। সম্পদশালীকে তাহাঁর সম্পদ তোমার বিপরীতে উপকৃত করিতে পারে না।”

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সম্পদ শব্দটি উচ্চৈঃস্বরে বলিলেন, যাতে লোকেরা বুঝতে পারে যে, তারা যা বলছে তা তেমন নয়। {৮৭৭}

তাহকিক আলবানিঃ দঈফ, কিন্তু উল্লেখিত দুআটি সহিহ, সিফাতুস নামাজ ৩১৩৭। {৮৭৭} জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ জইফ, কিন্তু উল্লেখিত দুআটি সহিহ, সিফাতুস নামাজ ৩১৩৭। উক্ত হাদিসের রাবি উমার সম্পর্কে ইমামগন বলেন, তিনি অপরিচিত।হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৫/১৯. অধ্যায়ঃ সিজদা করা।

৮৮০. মায়মূনাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর সাজদাহ্‌তে তাহাঁর দু হাত [বগল থেকে] এতটা বিস্তার [ফাঁকা] করে রাখতেন যে, বকরীর বাচ্চা যেতে চাইলে তাহাঁর দু হাতের মাঝখানের ফাঁক দিয়ে চলে যেতে পারতো। {৮৭৮}

{৮৭৮} মুসলিম ৪৯৬, ৪৯১-২; নাসায়ি ১১০৯, ১১৪৭; আবু দাউদ ৮৯৮, আহমাদ ২৬২৬৯, ২৬২৭৮, ২৬২৯১, ২৬৩০৪; দারিমি ১৩৩০। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৮৩৫। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৮১. আকরাম আল-খুযাঈ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

[উবায়দুল্লাহ্‌] বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে নামিরা এলাকায় এক সমতল ভূমিতে ছিলাম। আমাদের নিকট দিয়ে কতক আরোহী অতিক্রম করে এবং তারা রাস্তার এক প্রান্তে তাহাদের উট বসায়। আমার পিতা আমাকে বলেন, তুমি তোমার বকরীর পালের সাথে থাকো যাবত না আমি তাহাদের জিজ্ঞেস করে আসি যে, তারা কারা। রাবি বলেন, এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং আমিও তার কাছে পৌছলাম। তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। ইত্যবসরে নামাজের ওয়াক্‌ত হলো। আমি তাহাদের সাথে নামাজ পড়লাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখনই সাজদাহ্‌ করিয়াছেন, আমি তাহাঁর দু বগলের শুভ্রতার দিকে দৃষ্টিপাত করেছি। {৮৭৯}

{৮৭৯} তিরমিজি ২৭৪, আহমাদ ১৫৯৬৬। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৮২. ওয়ায়িল বিন হুজর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] কে দেখেছি যে, তিনি সাজদা্‌য় দু হাতের আগে দু হাঁটু রাখতেন। তিনি সাজদাহ্‌ থেকে দাঁড়াতে তাহাঁর দু হাঁটুর আগে দু হাত উঠাতেন। {৮৮০}

{৮৮০} তিরমিজি ২৬৮, নাসায়ি ১০৮৯, ১১৫৪; আবু দাউদ ৮৩৮, দারিমি ১৩২০। তাহকিক আলবানিঃ জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৩৫৭, মিশকাত ৮৯৮, জইফ আবু দাউদ ১৫১। উক্ত হাদিসের রাবি আসিম বিন কুলায়ব সম্পর্কে আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তার এককভাবে হাদিস বর্ণনায় দলীল হিসেবে তা গ্রহণযোগ্য হইবে না। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৮৮৩. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, আমি সাত অঙ্গে সিজদা করিতে আদিষ্ট হয়েছি। {৮৮১}

{৮৮১} বোখারি ৮০৯-১০, ৮১২, ৮১৫-১৬; মুসলিম ৪৯০/১-৫, তিরমিজি ২৭৩, নাসায়ি ১০৯৩, ১০৯৬-৯৮, ১১১৩, ১১১৫; আবু দাউদ ৮৮৯-৯০, আহমাদ ২৫২৩, ২৫৭৯, ২৫৮৩, ২৬৫৩, ২৭৭৩, ২৯৭৬; দারিমি ১৩১৮-১৯, মাজাহ ৮৮৪, ১০৪০। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৮২৯, ইরওয়াহ ৩১০। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৮৪. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি সাত অঙ্গে সিজদাহ্‌ করিতে এবং চুল ও পরিধেয় বস্ত্র না গুটাতে আদিষ্ট হয়েছি। বিন তাউস [রাঃআঃ] বলেন, আমার পিতা বলিতেন, [সাত অঙ্গ হলো] দু হাত, দু হাঁটু, দু পা এবং কপাল ও নাক। তিনি নাক ও কপালকে একটি অঙ্গ গণ্য করিতেন। {৮৮২}

{৮৮২} বোখারি ৮০৯-১০, ৮১২, ৮১৫-১৬; মুসলিম ৪৯০/১-৫, তিরমিজি ২৭৩, নাসায়ি ১০৯৩, ১০৯৬-৯৮, ১১১৩, ১১১৫; আবু দাউদ ৮৮৯-৯০, আহমাদ ২৫২৩, ২৫৭৯, ২৫৮৩, ২৬৫৩, ২৭৭৩, ২৯৭৬; দারিমি ১৩১৮-১৯, মাজাহ ৮৮৩, ১০৪০। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৩১০, সহিহ আবু দাউদ। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৮৫. আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছেনঃ বান্দা যখন সিজদা করে তখন তার সাথে তার সাতটি অঙ্গ সিজদা করে- তার মুখমণ্ডল, তার দু হাতের তালু, তার দু হাঁটু ও তার দু পা। {৮৮৩}

{৮৮৩} মুসলিম ৪৯১, তিরমিজি ২৭২, নাসায়ি ১০৯৪, ১০৯৯; আবু দাউদ ৮৯১, আহমাদ ১৭৮৩। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৮৩০। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৮৬. রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাহাবী আহমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সিজদারত অবস্থায় তাহাঁর বাহুদয় [বগল থেকে] এতটা পৃথক করে রাখতেন যে, তাহাঁর অত্যধিক কষ্টে আমাদের মনে সহানুভূতি জাগতো। {৮৮৪}

{৮৮৪} আবু দাউদ ৯০০, আহমাদ ১৮৫৩৩, ১৯৮২৫। তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৮৩৭। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৫/২০. অধ্যায়ঃ রুকূ ও সিজদার তাসবীহ।

৮৮৭. উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন নাযিল হয় [অনুবাদ] , “অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো।” [সূরা ওয়াকিয়াঃ ৭৪ ও ৯৬ এবং আল-হাক্কাহ ৫২] , তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বলেন, একে তোমাদের রুকূতে স্থাপন করো। আবার যখন নাযিল হয় [অনুবা-দ] ঃ “তুমি তোমার মহান প্রভুর নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো” [সূরা আল-আলাঃ ১] , তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বলেন, একে তোমাদের সাজদা্‌হয় স্থাপন করো।” {৮৮৫}

{৮৮৫} আবু দাউদ ৮৬৯, আহমাদ ১৬৯৬১, দারিমি ১৩০৫। তাহকিক আলবানিঃ জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ আবু দাউদ ৮৬৯ জইফ, মিশকাত ৮৭৯ হাসান, ইরওয়াহ ৩৩৪। উক্ত হাদিসের রাবি মুসা বিন আইয়্যুব আল গাফিকী সম্পর্কে ইবনি হিব্বান ও ইমাম যাহাবী তাকে সিকাহ বললেও আল উকায়লী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৮৮৮. হুযাইফাহ ইবনিল ইয়ামান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে রুকূতে

 سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ

“সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” তিনবার বলিতে এবং সাজদা্‌হয়

 سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى

“সুবহানা রব্বিয়াল আলা” তিনবার বলিতে শুনেছেন। {৮৮৬}

{৮৮৬} মুসলিম ৭৭২, তিরমিজি ২৬২, নাসায়ি ১০০৮, ১০৪৬, ১০৬৯, ১১৩৩, ১১৪৫, ১৬৬৪-৬৫; আবু দাউদ ৮৭১, ৮৭৪; আহমাদ ২২৭৫০, ২২৮৫৮, ২২৮৬৬, ২২৮৯০; দারিমি ১৩০৬। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৩৩৩, সহিহ আবু দাউদ ৮২৮। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৮৯. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর রুকূ ও সিজদায় প্রায়ই বলিতেনঃ

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي

“সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফির লী” [হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! তুমি আমায় ক্ষমা করো]। তিনি কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী তা করিতেন। {৮৮৭}

{৮৮৭} বোখারি ৭৯৪, ৮১৭, ৪২৯৩, ৪৯৬৭-৬৮; মুসলিম ৪৮১-২, নাসায়ি ১০৪৭, ১১২২-২৩; আবু দাউদ ৮৭৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৮২১। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৯০. বিন মাসউদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের যে কেউ রুকূতে গিয়ে যেন তাহাঁর রুকূতে

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ

“সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” তিনবার বলে। সে তাই করলে তাহাঁর রুকূ পূর্ণ হলো। তোমাদের যে কেউ তাহাঁর সিজদায় গিয়ে যেন

سُجُودِهِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى

“সুবহানা রব্বিয়াল আলা” তিনবার বলে। সে তাই করলে তাহাঁর সিজদা পূর্ণ হলো। আর এটা হল তাহাঁর ন্যূনতম সংখ্যা। {৮৮৮}

{৮৮৮} তিরমিজি ২৬১, আবু দাউদ ৮৮৬। তাহকিক আলবানিঃ জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ জামি সগীর ৫২৫ জইফ, মিশকাত ৮৮০ লাম তাতিম্মা, তিরমিজি ২৬১ জইফ, জইফ আবু দাউদ ১৫৫। উক্ত হাদিসের রাবি ইসহাক বিন ইয়াযীদ আল-হুযালী সম্পর্কে ইমামগন মাজহুল বা অপরিচিত বলেছেন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫/২১. অধ্যায়ঃ সুষ্ঠুভাবে সিজদা করা।

৮৯১. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন সুষ্ঠুভাবে তাহাঁর সিজদা করে। সে যেন কুকুরের ন্যায় তাহাঁর বাহুদ্বয় মাটিতে বিছিয়ে না দেয়। {৮৮৯}

{৮৮৯} তিরমিজি ২৭৫ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৯১, সহিহ আবু দাউদ ৮৩৪। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৯২. আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, তোমরা সুষ্ঠুভাবে সিজদা করো। তোমাদের কেউ যেন কুকুরের ন্যায় তাহাঁর বাহুদ্বয় মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে সিজদা না করে। {৮৯০}

{৮৯০} বোখারি ৫৩২, ৮২২; মুসলিম ৪৯৩, তিরমিজি ২৭৬, নাসায়ি ১০২৮, ১১০৩, ১১১০; আবু দাউদ ৮৯৭, আহমাদ ১১৬৫৫, ১১৭৩৮, ১২৪০১, ১২৪২৯, ১২৫৭৯, ১২৮২০, ১৩০০৭, ১৩৪৮৩, ১৩৫৬১, ১৩৬৮৩; দারিমি ১৩২২। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৩৭২। নামাজের নিয়ম হা সের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫/২২. অধ্যায়ঃ দু সাজদাহ্‌র মাঝখানে বসা।

৮৯৩. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রুকূ থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত সিজদায় যেতেন না। তিনি এক সাজদাহ্‌ থেকে তাহাঁর মাথা তুলে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত দ্বিতীয় সাজা্‌হয় যেতেন না এবং তিনি তাহাঁর বাম পা বিছিয়ে বসতেন। {৮৯১}

{৮৯১} মুসলিম ৪৯৮, আবু দাউদ ৭৮৩, আহমাদ ২৩৫১০, ২৫০৮৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭৫২। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৯৪. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, হে আলী! তুমি কুকুরের ন্যায় বসো না। {৮৯২}

{৮৯২} তিরমিজি ২৮২ তাহকিক আলবানিঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি হারিস [বিন আবদুল্লাহ] সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বললেও আলী ইবনিল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৮৯৫. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, হে আলী! তুমি কুকুরের ন্যায় বসো না। {৮৯৩}

{৮৯৩} তিরমিজি ২৮২ তাহকিক আলবানিঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ১. মুহাম্মাদ বিন সাওয়াব সম্পর্কে ইবনি আবু হাতিম ও ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনি হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও মুসলিম বিন কাসিম তাকে দুর্বল বলেছেন। ২. আবু মালিক সম্পর্কে আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন ও তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে না। ৩. হারিস [বিন আবদুল্লাহ] সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বললেও আলী ইবনিল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৮৯৬. আনাস ইবন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] আমাকে বলেছেন, তুমি সিজদা থেকে তোমার মাথা তুলে কুকুরের মত বসো না। তোমার উভয় নিতম্ব তোমার দু পায়ের পাতার মাঝখানে রাখো এবং তোমার দু পায়ের পিঠ মাটির সাথে স্থাপন করো। {৮৯৪}

{৮৯৪} নাই তাহকিক আলবানিঃ মাওযু। তাখরিজ আলবানিঃ জামি সগীর ৫২২ মাউযূ, যঈফা ২৬১৫। উক্ত হাদিসের রাবি আল আলা আবু মুহাম্মাদ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার ব্যপারে সমালোচনা রয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তিনি হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ইমাম বোখারি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। হাদিসের তাহকিকঃ জাল হাদিস

৫/২৩. অধ্যায়ঃ দু সাজদাহ্র মাঝখানে পড়ার দুআ।

৮৯৭. হুযায়ফা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] দু সাজদাহ্‌র মাঝখানে বসে বলিতেন

‏ رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي

“রাব্বীগফির লী রাব্বীগফির লী” [“প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন”] {৮৯৫}

{৮৯৫} নাসায়ি ১০৬৯, ১১৪৫; আবু দাউদ ৮৭৪, আহমাদ ২২৮৬৬, দারিমি ১৩২৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৩৩৫। রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৯৮. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতের সলাতে দুসাজদাহ্‌র মাঝখানে [বসে] বলিতেনঃ

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَارْزُقْنِي وَارْفَعْنِي

“রাব্বিগফির লী ওয়ারহামনী ওয়াজবুরনী ওয়ারযুকনী ওয়ারফানী [হে প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, আমায় দয়া করুন, আমার বিপদ দূর করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন]। {৮৯৬}

{৮৯৬} তিরমিজি ২৮৪, আবু দাউদ ৮৫০। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭৯৬।রুকু ও সিজদার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

শিষ্টাচার

শিষ্টাচার শিষ্টাচার পর্বঃ ৩৩- শিষ্টাচার, অধ্যায়ঃ (১-৫৯)=৫৯টি, হাদীস (৩৬৫৭-৩৮২৬) কন্যা সন্তান প্রতিবেশী দাস মেহমান ও …

Leave a Reply

%d bloggers like this: