রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ভবিষ্যৎবাণী

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ভবিষ্যৎবাণী

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ভবিষ্যৎবাণী হাদীস নবুওয়তের মুজিযা

রাঃসাঃ কর্তৃক ভবিষ্যৎবাণী

হুযায়ফা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ [একদা] আমাদের মাঝে এমন একটি ভাষণ প্রদান করিলেন যাতে কিয়ামত পর্যন্ত যা সংঘটিত হবে এমন কোনো কথায় বাদ দেননি। এগুলি স্মরণ রাখা যার সৌভাগ্য সে স্মরণ রেখেছে আর যে ভুলে যাবার সে ভুলে গিয়েছে। আমি ভুলে যাওয়া কোনো কিছু যখন দেখতে পাই তখন তা চিনে নিতে পারি এভাবে যেমন, কোনো ব্যক্তি কাউকে হারিয়ে ফেললে আবার যখন তাকে দেখতে পায় তখন চিনতে পারে।[1]

আবু যায়িদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাঃসাঃ  আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করিলেন। অতঃপর মিম্বরে আরোহণ করে খুতবা দিলেন। অবশেষে যোহরের সালাতের সময় হল। তিনি মিম্বর হতে অবতরণ করতঃ নামায আদায় করিলেন। এরপর আবার মিম্বরে আরোহণ করতঃ তিনি খুতবা দিলেন। এবার আসরের সালাতের সময় হল। তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করে নামায আদায় করে পুনরায় মিম্বরে আরোহণ করিলেন এবং আমাদেরকে লক্ষ্য করে খূৎবা দিলেন। অতঃপর সূর্য অস্তমিত হলে তিনি আমাদেরকে যা হয়েছে এবং যা হবে ইত্যাকার বিষয়ে সংবাদ দিলেন। অতঃপর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এ কথাগুলো সর্বাধিক স্বরন রেখেছেন আমাদের মাঝে এ বিষয়ে তিনি সর্বাধিক জ্ঞাত।[2]

ঘটনাবলী উল্লেখের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় অনেক হাদীস ব্যাখ্যা ছাড়া ছেড়ে দিয়েছি।

এমনিভাবে শাহেদের স্থানে সতর্ক করিনি। সেক্ষেত্রে শুধু বাবের তরজমা উল্লেখ করেছি। এভাবে অনেক মুহাদ্দীসগণ করেছেন।

আবূ বকর রাদি. `আনহুর খলিফা হওয়ার ইশারা

আয়েশা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ  আমাকে তাহাঁর রোগ শয্যায় বলিলেন, তোমার আব্বা ও ভাইকে ডাক। আমি একটা পত্র লিখে দিই। কেননা আমি ভয় করছি যে, কোনো আশা পোষণকারী আশা করবে, আর কেউ বলবে, আমিই শ্রেষ্ঠ। অথচ আবু বকর ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহ অস্কীকার করেন এবং মুসলিমরাও অস্বীকার করে।[3]

জুবায়র ইবনু মুতঈম রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা নাবী রাঃসাঃ এর খেদমতে এলো। [আলোচনা শেষে যাওয়ার সময়] তিনি তাঁকে আবার আসার জন্য বলিলেন। মহিলা বলল, আমি এসে যদি আপনাকে না পাই তবে কি করব? একথা দ্বারা মহিলাটি নাবী রাঃসাঃ এর ওফাতের প্রতি ইঙ্গিত করেছিল। নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, যদি আমাকে না পাও তবে আবু বকরের নিকট আসবে। [4]  

আবু মূসা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ অসুস্থ্য হয়ে পড়লেন, ক্রমে তাহাঁর অসুস্থতা বেড়ে যায়। তখন তিনি বলিলেন, আবু বকরকে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করতে বল। আয়িশা রাদি. `আনহা বলিলেন তিনি তো কোমল হৃদয়ের লোক। যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে নামায আদায় করতে পারবেন না। নাবী রাঃসাঃ আবারো বলিলেন, আবু বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে নামায আদায় করে। আয়িশা রাদি. `আনহা আবার সে কথা বলিলেন। তখন তিনি আবার বলিলেন, আবু বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে নামায আদায় করে। তোমরা ইউসুফ আলাইহিস সালামের সাথী রমণীদেরই মত। [5]

আনাস ইবনু মালিক আনসারী রাদি. `আনহু যিনি নাবী রাঃসাঃ এর অনুসারী, খাদিম ও সাহাবী ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, রাঃসাঃ অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় আবু বকর রাদি. `আনহু সাহাবীগণকে নিয়ে নামায আদায় করতেন। অবশেষে যখন সোমবার এবং লোকেরা সালাতের জন্য কাতারে দাঁড়ালো, তখন নাবী রাঃসাঃ হুজরার পর্দা উঠিয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন তাহাঁর চেহারা যেন কোরআনের পৃষ্ঠা [এর ন্যায় ঝলমল করছিল]। তিনি মুচকি হাসলেন। নাবী রাঃসাঃকে দেখতে পেয়ে আমরা খুশিতে প্রায় আত্মহারা হয়ে গিয়ে ছিলাম এবং আবু বকর রাদি. `আনহু কাতারে দাঁড়ানোর জন্য পিছন দিকে সরে আসছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, নাবী রাঃসাঃ হয়তো সালাতে আসবেন। নাবী রাঃসাঃ আমাদেরকে ইশারায় বলিলেন যে, তোমরা তোমাদের নামায পূর্ণ করে নাও। এরপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন। সে দিনই তিনি ইনতিকাল করেন।[6]   

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, [রোগশয্যায় থাকার কারণে] তিনি দিন পর্যন্ত নাবী রাঃসাঃ বাইরে আসেন নি। এ সময় একবার সালাতের ইকামত দেওয়া হল। আবু বকর রাদি. `আনহু ইমামতি করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। এমন সময় নাবী রাঃসাঃ তাহাঁর ঘরের পর্দা ধরে উঠালেন। নাবী রাঃসাঃ এর চেহারা যখন আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তখন নাবী রাঃসাঃ হাতের ইশারায় আবু বকর রাদি. `আনহুকে [ইমামতির জন্য] এগিয়ে যেতে বলিলেন এবং পর্দা ফেলে দেন। তারপর মৃত্যুর পূর্বে তাঁকে আর দেখার সৌভাগ্য হয়নি। [7]

শাইখাইন তথা আবু বকর ও উমর রাদি. `আনহুমার খিলাফাতের ইঙ্গিত

আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ বলেন, একদা [স্বপ্নে] লোকজনকে একটি মাঠে সমবেত দেখতে পেলাম। তখন আবু বকর রাদি. `আনহু উঠে দাঁড়ালেন এবং [একটি] কুপ থেকে এক অথবা দুই [রাবির সন্দেহ] বালতি পানি উঠালেন। পানি উঠাতে তিনি দুর্বলতা বোধ করছিলেন। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। তারপর উমর রাদি. `আনহু বালতিটি হাতে নিলেন। বালতিটি তখন বৃহদাকার হয়ে গেল। আমি মানুষের মধ্যে পানি উঠাতে উমরের মত দক্ষ ও শক্তিশালী ব্যক্তি কখনো দেখিনি। অবশেষে উপস্থিত লোকেরা তাদের উটগুলোকে পানি পান করিয়ে উটশালায় নিয়ে গেল।[8]

রাঃসাঃ এর মৃত্যুর পরে যারা মুরতাদ হবে তাদের সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী

ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমরা হাশরের মাঠে খালি-পা, খালি-গা এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত হবে। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করিলেন, “যেভাবে আমি প্রথবার সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করবো। এটা আমার ওয়াদা। আমি তা অবশ্যই পুর্ণ করব”। [কোরআনের সুরা আম্বিয়া: ১০৪] এরপর [হাশরে] সর্বপ্রথম যাকে কাপড় পরানো হবে, তিনি হলেন ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম। তারপর আমার সাহাবীদের কিছু সংখ্যককে ডান দিকে [জান্নাতে] এবং কিছু সংখ্যককে বাম দিকে [জাহান্নামে] নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা তো আমার অনুসারী। তখন বলা হবে আপনি তাদের থেকে বিদায় নেওয়ার পর তারা মুরতাদ হয়ে গেছে। তখন আমি এমন কথা বলব, যেমন বলেছিল, পুণ্যবান বান্দা ঈসা ইবনু মারিয়াম আলাইহিস সালাম। তার উক্তিটি হলো এ আয়াত, “আর আমি যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি তাদের উপর সাক্ষী ছিলাম। এরপর আপনি যখন আমকে উঠিয়ে নিলেন তখন আপনিই তাদের হেফাযতকারী ছিলেন। আর আপনি তো সবকিছুর উপরই সাক্ষী। যদি আপনি তাদেরকে আযাব দেন, তবে এরা আপনারই বান্দা। আর যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন তবে আপনি নিশ্চয়ই পরাক্রমশীল ও প্রজ্ঞাময়। [কোরআনের সুরা মায়েদা: ১১৮] কাবীসা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এরা হলো ঐ সব মুরতাদ যারা আবূ বকর রাদি. `আনহুর খিলাফতকালে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। তখন আবু বকর রাদি. `আনহু তাদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন।[9]

আসমা রাদি. `আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন: আমি আমার হাউযের পাশে আগমনকারী লোকদের অপেক্ষায় থাকব। তখন আমার সম্মুখ থেকে কতিপয় লোককে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলব, এরা তো আমার উম্মত। তখন বলা হবে, আপনি জানেন না, এরা [আপনার পথ ছেড়ে] পিছনে চলে গিয়েছিল। [বর্ণনাকারী] ইবনু আবূ মুলায়কা বলেন: হে আল্লাহ! পিছনে ফিরে যাওয়া কিংবা ফিতনায় পতিত হওয়া থেকে আমরা আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।[10]

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন: আমি হাউযে কাউসারের নিকট তোমাদের আগেই উপস্থিত থাকব। তোমাদের থেকে কিছু লোককে আমার নিকট পেশ করা হবে।কিন্তু আমি যখন তাদের পান করাতে অগ্রসর হব, তখন তাদেরকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে। আমি বলব, হে রব! এরা তো আমার সাথী। তখন তিনি বলবেন, আপনার পর তারা নতুন কী ঘটিয়েছে তা আপনি জানেন না।[11]

সাহল ইবনু সা`দ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী রাঃসাঃকে বলতে শুনেছি যে, আমি হাউযের পাড়ে তোমাদের আগে উপস্থিত থাকব। যে সেখানে উপস্থিত হবে, সে সেখান থেকে পান করার সুযোগ পাবে। আর যে কেউবার সে হাউয থেকে পান করবে সে কখনই তৃষ্ণার্ত হবে না। অবশ্যই এমন কিছু দল আমার কাছে উপস্থিত হবে যাদেরকে আমি [আমার উম্মত বলে] চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। কিন্তু এর পরই তাদের ও আমার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেওয়া হবে।

আবূ হাযিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি হাদীস বর্ণনা করছিলাম, এমতাবস্থায় নু`মান ইবনু আয়াস আমার কাছ থেকে এ হাদীসটি শুনে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি কি সাহল থেকে হাদীসটি অনুরূপ শুনেছেন। আমি বলিলাম, হ্যাঁ। তখন সে বলল, আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আমি আবূ সাঈদ খুদরী রাদি. `আনহুকে এ হাদীসে অতিরিক্ত বলতে শুনেছি যে, নাবী রাঃসাঃ তখন বলবেন: এরা তো আমারই অনুসারী। তখন বলা হবে, আপনি নিশ্চয়ই অবহিত নন যে, আপনার পরে এরা দীনের মধ্যে কি পরিবর্তন করেছে। এশুনে আমি বলব, যারা আমার পরে পরিবর্তন করেছে, তারা দূর হোক, দূর হোক।[12]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী:

 তাবেঈগণ সাহাবীদের থেকে এবং তাবেতাবেঈনগন তাবেঈদের থেকে ইলম শুনবে ও শিখবে।

ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমরা আমার নিকট হতে শ্রবণ কর এবং লোকেরা তোমাদের নিকট হতে শ্রবণ করবে। আর যারা তোমাদের নিকট হতে শোনবে তাদের নিকট হতে অন্য লোকেরা শ্রবণ করবে।[13]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী:

অধিক ভূমিকম্প হবে।

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ বলিয়াছেন, কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভুমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। [হারজ অর্থ খুনখারাবী] তোমাদের সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে।[14]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী:

ছোটদের থেকে বাদশাহ হবে, বড়দের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে এবং অপাত্রে ইলম হবে।

আনাস ইবনে মালেক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা কখন ত্যাগ করবো? তিনি বলেন, যখন তোমাদের মাঝে সেইসব বিষয় প্রকাশ পাবে, যা তোমাদের পুর্ববর্তী উম্মাতদের মাঝে প্রকাশ পেয়েছিলো। আমরা বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের পূর্বেকার উম্মাতগণের যুগে কি কি বিষয় প্রকাশ পেয়েছিলো? তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যকার নিকৃষ্ট তরুণদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চলে যাবে। বয়স্ক লোক অশ্লীল কার্যকলাপে লিপ্ত হবে এবং নিকৃষ্ট লোক জ্ঞানের অধিকারী হবে। রাবী যায়েদ রাদি. `আনহু বলেন, নাবী রাঃসাঃ এর বাণী, “নিকৃষ্ট ও নীচ ব্যক্তিরা জ্ঞানের অধিকারী হবে“, এর তাৎপর্য হলো, পাপাচারীরা জ্ঞানের বাহক হবে।[15]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী:

মানুষের মাঝে মদপান ও যেনা ব্যভিচার বেড়ে যাবে।

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিয়াছেন যে, কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হল, ইলম লোপ পাবে, অজ্ঞাতার বিস্তৃতি ঘটবে, মদপান ব্যাপক হবে এবং ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে।[16]

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তোমাদের এমন একটি হাদীস বর্ণনা করব যা আমার পর তোমাদের কাছে আর কেউ বর্ণনা করবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃকে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হল, ইলম কমে যাবে, অজ্ঞতার প্রসার ঘটবে, ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, স্ত্রীলোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে, এমনকি প্রতি পঞ্চাশজন স্ত্রীলোকের জন্য মাত্র একজন পুরুষ হবে তত্ত্বাবধায়ক।[17]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী:

মুসলমানের বড় দু`টি দলের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হবে।

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত এমন দুটি দলের মধ্যে যুদ্ধ না হবে যাদের দাবী হবে এক অর্থাৎ উভয় পক্ষ নিজেদেরকে সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত বলে দাবী করবে।[18]

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ বলেন, কিয়ামতের সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত দুটি দলের মধ্যে যুদ্ধ না হবে। তাদের মধ্যে হবে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। তাদের দাবী হবে অভিন্ন। আর কিয়ামত কায়েম হবেনা যে পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব না হবে। এরা সবাই নিজ নিজকে আল্লাহ্‌র রাসূল বলে দাবী করবে।[19]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী:

সাহাবীরা রাঃসাঃ  এর মৃত্যুর পর তাঁকে দেখার আকাঙ্ক্ষা করবে

হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এটা আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু রাঃসাঃ  থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি কতকগুলো হাদীস উল্লেখ করিলেন। তার মধ্য থেকে একটি হাদীস হল এই যে, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, মুহাম্মদের প্রাণ যার হাতে, তাহাঁর কসম! তোমাদের কারো উপর এমন এক সময় আসবে যখন সে আমাকে দেখতে পাবে না আর আমার দর্শন লাভ তার কাছে তখন তার ধন-ঐশ্বর্য্য ও পরিবার-পরিজনের চেয়েও প্রিয় হবে। আবু ইসহাক বলেন: এর মধ্যে আমার নিকট অর্থ হলো নিশ্চয়ই আমাকে দেখা তাদের কাছে তার পরিবার ও ধন-সম্পদ থেকে অধিকতর প্রিয় হবে এবং ওটা আমার নিকট অগ্র-পশ্চাৎ করা হয়েছে।[20]

ওয়াইস করনী সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

উসায়র ইবনু জাবির রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, কুফার একটি প্রতিনিধি দল উমর রাদি. `আনহুর কাছে এলো। তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তিও ছিল, যে উওয়াস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে উপহাস করত। তখন উমর রাদি. `আনহু বলিলেন, এখানে করনী গোত্রের কোনো লোক আছে কি? তখন সেই লোকটি এলো। এরপর উমর রাদি. `আনহু বলিলেন, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, তোমাদের কাছে ইয়ামন থেকে এক ব্যক্তি আসবে, যে উওয়াস নামে পরিচিত। ইয়ামানে তাহাঁর মা ব্যতীত কেউ থাকবে না। তার শ্বেতরোগ হয়েছিল। সে আল্লাহর কাছে দূ`আ করার বদৌলতে আল্লাহ তাকে শ্বেত রোগ মুক্ত করে দেন। তবে কেবল মাত্র এক দীনার অথবা এক দিরহাম পরিমাণ স্থান বাকী থাকে। তোমাদের মধ্য থেকে যদি কেউ তাহাঁর সাক্ষাৎ পায় সে যেন নিজের জন্য তাহাঁর কাছে মাগফিরাতের দুআ কামনা করে।[21]

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাঃসাঃ কে বলতে শুনেছি যে, অবশ্যই তাবিঈনগণের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে উওয়াস নামে পরিচিত। তাহাঁর একমাত্র মা আছে এবং তার শ্বেত রোগ হয়েছিল। তোমরা তাহাঁর কাছে অনুরোধ করবে যেন সে তোমাদের মাগফিরাতের জন্য দো`আ করে।[22]

উসায়র ইবনু জাবির রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত । তিনি বলেন, উমার ইবনু খাত্তাব রাদি. `আনহুর অভ্যাস ছিল, যখন ইয়ামনের কোনো সাহায্যকারী দল তার কাছে আসত তখন তিনি তাহাঁদের জিজ্ঞাসা করতেন, তোমাদের মধ্যে কি উওয়াস ইবনু আমির আছে? অবশেষে তিনি উওয়াসকে পান। তখন তিনি বলিলেন, তুমি কি উওয়াস ইবনু আমির? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, মুরাদ গোত্রের কারান বংশের?  বলিলেন, হ্যাঁ। জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার কি শ্বেত রোগ ছিল এবং তা নিরাময় হয়েছে, কেবলমাত্র এক দিরহাম স্থান ব্যতীত? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার মা কি আছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তখন উমার রাদি. `আনহু বলিলেন, আমি রাঃসাঃ কে বলতে শুনেছি, তিনি বলিয়াছেন, “তোমাদের কাছে মুরাদ গোত্রের কারান বংশের উওয়াস ইবনু আমির ইয়ামানের সাহায্যকারী দলের সঙ্গে আসবে। তাহাঁর ছিল শ্বেত রোগ। পরে তা নিরাময় হয়ে গিয়েছে। কেবলমাত্র এক দিরহাম ব্যতিরেকে। তার মা রয়েছেন। সে তাহাঁর প্রতি অতি সেবাপরায়ন। এমন ব্যক্তি আল্লাহর উপর কসম করে নিলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন। কাজেই যদি তুমি তোমার জন্য তার কাছে মাগফিরাতের দো`আ কামনার সুযোগ পাও তাহলে তা করবে।” সুতরাং আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দো`আ করুন। তখন উওয়াস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার মাগফিরাতের জন্য দো`আ করিলেন। এরপর উমার রাদি. `আনহু তাকে বলিলেন, তুমি কোথায় যেতে চাও? তিনি বলিলেন, কুফা এলাকায়। উমার রাদি. `আনহু বলিলেন, আমি কি তোমার জন্য কুফার গভর্ণরের কাছে চিঠি লিখে দেব? তিনি বলিলেন, আমি অখ্যাত গরীব লোকদের মধ্যে থাকাই পছন্দ করি। বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তী বছরে তাদের অতিজাত লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি হাজ্জ করতে এলো এবং উমার রাদি. `আনহুর সংগে তার সাক্ষাৎ হল। তখন তিনি তাকে উওয়াস কারানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। সে বলল, আমি তাঁকে জীর্ণ গৃহে সম্পদহীন অবস্থায় রেখে এসেছি। তিনি বলিলেন, আমি রাঃসাঃ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলিয়াছেন, তোমাদের কাছে কারান বংশের মুরাদ গোত্রের উওয়াস ইবনু আমির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইয়ামানের একদল সাহায্যকারীর সঙ্গে আসবে। তার শ্বেত রোগ ছিল। সে তা থেকে আরোগ্য লাভ করে, এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ব্যতীত। তাহাঁর মা রয়েছেন, সে তার অতি সেবাপরায়ণ। যদি সে আল্লাহর নামে কসম খায় তবে আল্লাহ তা`আলা তা পূর্ণ করে দেন। তোমরা নিজের জন্য তাহাঁর কাছে মাগফিরাতের দো`আ চাওয়ার সুযোগ পেলে তা করবে। সে ব্যক্তি উওয়াসের কাছে এল এবং বলল, আমার জন্য মাগফিরাত-এর দো`আ করুন। তিনি বলিলেন, আপনি তো নেক সফর থেকে। অতএব, আমার জন্য দো`আ করুন। তিনি বলিলেন, আপনি আমার অন্য দো`আ করুন। তিনি বলিলেন, আপনি তো নেক সফর থেকে। অতএব, আমার জন্য দো`আ করুন। তিনি বলিলেন, আপনি আমার অন্য দো`আ করুন। তিনি বলিলেন, আপনি কি উমর রাদি. `আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তাহাঁর জন্য দো`আ করেছেন। ফলে মানুষ তাঁকে চিনে ফেলল। অতঃপর তিনি সেখান থেকে চলে গেলেন। উসাইর রহ. বলেন, আমি তাঁকে একখানা চাদর পড়িয়েছি। এরপর মানুষ যখনই তাঁকে দেখত তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করত চাদরখানি কোথা থেকে পেলে?[23]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

যেসব লোক কুরআনের মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করবে তাদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া।

আয়েশা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাঃসাঃ  তিলাওয়াত করিলেন, “তিনিই তোমার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কতক আয়াত সুম্পষ্ট দ্যর্থহীন; এইগুলো কিতাবের মূল অংশ আর অন্যগুলো রুপক। যাদের অন্তরে সত্য-লঙ্ঘন প্রবণতা রয়েছে, শুধু উভই ফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা রুপক তার অনুসরণ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না; আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, আমরা এতে বিশ্বাস করি, সমস্তই আমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে আগত এবং বোধশক্তি সস্পন্নরা ব্যতীত অপর কেউ শিক্ষা “গ্রহণ করে না।” [কোরআনের সুরা আলে ইমরান: ৭] তিনি [আয়েশা রাদি. `আনহা] বলিলেন, রাসুল রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমরা সে সব লোকদের দেখতে পাবে যারা সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতের অর্থের সন্ধ্যানে ব্যাপৃত, এরাই সে সব ব্যক্তি, যাদের কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, তখন আমরা তাদের থেকে দূরে থাকবো।[24]

আবু আব্দুর রহমান বলেন, রাঃসাঃ যেভাবে সংবাদ দিয়েছেন সেভাবেই তা প্রতিফলিত হয়েছে। বিদ`আতী ও আল্লাহদ্রোহীরা সর্বদা মুতাশাবিহাত আয়াত দ্বারাই দলিল দিয়ে থাকে।

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

প্রথম তিন শতাব্দীর লোকদের ইসতিকামাত তথা দীনের উপর অটল থাকার সংবাদ।

ইমরান ইবনু হুসাইন রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, আমার যুগের লোকেরাই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। তারপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা, এরপর নিকটবর্তী যুগের লোকেরা। ইমরান রাদি. `আনহু বলেন, আমি বলতে পারছি না, নাবী রাঃসাঃ [তার যুগের] পরে দুই যুগের কথা বলছিলেন, না তিন যুগের কথা। নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমাদের পর এমন লোকদের আগমন ঘটবে, যারা খিয়ানত করবে, আমানতদারী রক্ষা করবে না। সাক্ষ্য দিতে না ডাকলেও তারা সাক্ষ্য দিবে। তারা মান্নত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে, না। তাদের মধ্যে মেদ বৃদ্ধি পাবে।[25]

আবদুল্লাহ [ইবনু মাস`উদ] রাদি. `আনহু সূত্রে নাবী রাঃসাঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার যুগের লোকেরাই হচ্ছে সর্বোত্তম লোক, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী যুগের। এরপরে এমন সব লোক আসবে যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দিবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে। ইবরাহীম [নাখঈ] [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমাদেরকে সাক্ষ্য দিলে ও অংগীকার করলে মারতেন।[26]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

মুসলিমগণ কিছু দেশ জয়লাভ করবে এবং কিছু মানুষ মদিনা থেকে বেরিয়ে যাবে।

সুফিয়ান ইবনু আবূ যুহায়রা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাঃসাঃ কে বলতে শুনেছি, ইয়ামান বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী হাঁকিয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদের উঠিয়ে নিয়ে যাবে। অথচ মদীনাই তাহাঁদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তাঁরা বুঝত। সিরিয়া বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী হাঁকিয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদের উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মদীনাই ছিল তাহাঁদের জন্য কল্যাণকর, যদি তাঁরা জানত। এরপর ইরাক বিজিত হবে তখন, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী হাঁকিয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদের উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মদীনাই ছিল তাহাঁদের জন্য কল্যাণকর, যদি তাঁরা জানত।[27]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. `আনহুর শাহাদাতের সংবাদ

হুযাইফা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা উমর রাদি. `আনহুর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি বলিলেন, ফিতনা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে স্মরণ রেখেছ? হুযাইফা রাদি. `আনহু বলিলেন, `যেমনি তিনি বলেছিলেন হুবহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি`। উমর রাদি. `আনহু বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর বাণী স্মরণ রাখার ব্যপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছ। আমি বলিলাম, [রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলেছিলেন] মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফেতনায় পতিত হয়-নামায, সিয়াম, সাদাকা, [ন্যায়ের] আদেশ ও [অন্যায়ের] নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়। উমর রাদি. `আনহু বলিলেন, তা আমার উদ্দেশ্যে নয়। বরং আমি সেই ফিতনার কথা বলছি, যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হবে। হুযাইফা রাদি. `আনহু বলিলেন, হে আমীরুল মু`মিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোনো কারণ নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমর রাদি. `আনহু জিজ্ঞাসা করিলেন, সে দরজাটি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দওয়া হবে? হুযাইফা রাদি. `আনহু বলিলেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর রাদি. `আনহু বলিলেন, তাহলে তো আর কোনো দিন তা বন্ধ করা যাবে না। [হুযাইফা রাদি. `আনহুর ছাত্র শাকীক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিলেন], আমরা জিজ্ঞাসা করতে আমার ভয় পাছিলাম। তাই, আমরা মাসরূক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] – কে বলিলাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি বলিলেন, দরজাটি উমর রাদি. `আনহু নিজেই।[28]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

উসমান রাদি. `আনহুর শাহাদাতের সংবাদ

ইবনু উমর রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এতে উসমান রাদি. `আনহু মাজলুম হয়ে নিহত হবে। [29]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

ফাতিমা রাদি. `আনহা সর্বপ্রথম রাঃসাঃ  এর সাথে মিলিত হবেন।

আয়েশা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ এর চলার ভঙ্গিতে চলতে চলতে ফাতিমা রাদি. `আনহা আমাদের নিকট আগমন করিলেন। তাঁকে দেখে নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, আমার স্নেহের কন্যাকে অনেক অনেক মোবারকবাদ। তারপর তাঁকে তাহাঁর ডানপাশে অথবা বামপাশে [রাবির সন্দেহ] বসালেন এবং তাহাঁর সাথে চুপিচুপি [কি যেন] কথা বলিলেন। তখন তিনি [ফাতিমা রাদি. `আনহা] কেঁদে দিলেন। আমি [আয়েশা রাদি. `আনহা] বলিলাম কাঁদছেন কেন? নাবী রাঃসাঃ, পুনরায় চুপিচুপি তাহাঁর সাথে কথা বলিলেন। তিনি [ফাতিমা রাদি. `আনহা] এবার হেঁসে উঠলেন। আমি [আয়িশা রাদি. `আনহা] বলিলাম, আজকের মত দুঃখ ও বেদনার সাথে সাথে আনন্দ ও খুশী আমি আর কখনো দেখিনি। আমি তাঁকে [ফাতিমা রাদি. `আনহা] কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি [নাবী রাঃসাঃ] কি বলেছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, আমি রাঃসাঃ এর গোপন কথাকে প্রকাশ করবো না। পরিশেষে নাবী রাঃসাঃ এর ইন্তেকাল হয়ে যাওয়ার পর আমি তাঁকে আবার জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি বলেছিলেন? তিনি বলিলেন, তিনি [নাবী রাঃসাঃ] প্রথমবার আমাকে বলেছিলেন, জিবরীল আলাইহিস সালাম প্রতিবছর একবার আমার সঙ্গে পরস্পর কোরআন পাঠ করতেন, এ বছর দু`বার এরূপ পড়ে শুনিয়েছেন। আমার মনে হয় আমার বিদায় কাল ঘনিয়ে এসেছে এবং এরপর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে। তা শুনে আমি কেঁদে দিলাম। দ্বিতীয়বার বলেছিলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতবাসি মহিলাদের অথবা মু`মিন মহিলাদের তুমি সরদার [নেত্রী] হবে। এ কথা শুনে আমি হেসেছিলাম। [30]

আয়েশা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ এর অন্তিম রোগকালে তাহাঁর কন্য ফাতিমা রাদি. `আনহাকে ডেকে পাঠালেন। এরপর চুপিচাপি কি যেন বলিলেন। ফাতিমা রাদি. `আনহা তা শুনে কেঁদে ফেললেন। তারপর আবার ডেকে তাঁকে চুপিচাপি আরো কি যেন বলিলেন। এতে ফাতিমা রাদি. `আনহা হেঁসে উঠলেন। আয়েশা রাদি. `আনহা বলেন, আমি হাঁসি-কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলিলেন, [প্রথম বার] নাবী রাঃসাঃ আমাকে চুপে চুপে বলেছিলেন, যে রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন এ রোগেই তাহাঁর ওফাত হবে; তাই আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। এরপর তিনি চুপিচাপি আমাকে বলেছিলেন, তার পরিবার পরিজনের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তাহাঁর সাথে মিলিত হব, এতে আমি হেঁসে দিয়েছিলেন।[31]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

প্রথম তিন শতাব্দীতে ইসলামী বিজয় সাধিত হবে।

আবু সাঈদ খুদরী রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, জনগনের উপর এমন এক সময় আসবে যখন তাদের বিরাট সৈন্যবাহিনী জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিনি রাঃসাঃ এর সাহচার্য লাভ করেছেন? [অর্থাৎ সাহাবী] তাঁরা বলবেন, হ্যাঁ আছেন। তখন [ঐ সাহাবীর বরকতে] তাদেরকে জয়ী করা হবে। তারপর জনগনের উপর পুনরায় এমন এক সময় আসবে যখন তাদের বিরাট সৈন্যবাহিনী [শত্রুদের বিরুদ্ধে] যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিনি রাঃসাঃ এর সাহচার্য লাভে ধন্য কিংবা কোনো ব্যক্তির [সাহাবীর] সাহচার্য লাভ করেছেন? [অর্থাৎ তাবেয়ী] তখন তাঁরা বলবেন, হ্যাঁ আছেন। তখন [ঐ তাবেয়ীর বরকতে] তাদেরকে জয়ী করা হবে। এরপর লোকদের উপর এমন এক সময় আসবে, যখন তাদের বিরাট বাহিনী জিহাদে অংশগ্রহণ করবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কি কেউ আছেন, যিনি রাঃসাঃ এর সাহাবীগণের সাহচার্য লাভকারী কোনো বক্তির [তাবেয়ীর] সাহচার্য লাভ করেছেন? [অর্থাৎ তাবে-তাবেয়ী] বলা হবে আছেন। তখন তাদেরকে [ঐ তাবে-তাবেয়ীর বরকতে] জয়ী করা হবে। [32] 

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

যাইনাব রাদি. `আনহা রাঃসাঃ  এর স্ত্রীদের মধ্যে সর্বপ্রথম তাহাঁর সাথে মিলিত হবে।

উম্মুল মু`মিনীন আয়েশা রাদি. `আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সে-ই আমার সাথে মিলিত হবে যার হাত সর্বাধিক লম্বা। সুতরাং সব বিবিরা নিজ নিজ হাত মেপে দেখতে লাগলেন কার হাত বেশি লম্বা। আয়েশা রাদি. `আনহা বলেন, অবশেষে আমাদের মধ্যে যয়নবের হাতই সবচেয়ে লম্বা বলে স্হির হল। কারণ তিনি হাত দিয়ে কাজ করতেন এবং দান-খয়রাত করতেন।[33]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আলী ও মু`আবিয়া রাদি. `আনহুমার মধ্যকর বিবেদ ও আলী রাদি. `আনহু মু`আবিয়া রাদি. `আনহুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

আবু সাঈদ খুদরী রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাঃসাঃ  এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তিনি কিছু সম্পদ বন্টন করিলেন। সে সময় বনী তামীম গোত্রের যুল খুওসায়সিরা নামক এক ব্যক্তি রাঃসাঃ  এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল ইনসাফ করুন রাঃসাঃ  বলিলেন, তোমার ধবংস হোক কে ইনসাফ করবে যদি আমি ইনসাফ না করি! আমি যদি ইসনাফ না করি তবে তো আমি অকৃতকার্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদি. `আনহু বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাঃসাঃ  বলিলেন, তাকে ছেড়ে দাও। তার সঙ্গী সাহলরা তো এমন যে, তোমরা তোমাদের নামাযকে তাদের তুলনায় তুচ্ছ মনে করবে এবং তোমরা তোমাদের সিয়ামকে তাদের সিয়ামের তুলনায় নগণ্য মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে- যেমন বেরিয়ে যায় তীর তার লক্ষ্যস্হল অতিক্রম করে। তখন তীর নিক্ষেপকারী ব্যক্তি ধনুকের নাসল পরীক্ষা করে দেখবে এতেও কিছু পাওয়া যাবে না। এরপর সে এর রুসাফ পরীক্ষা করে দেখবে এতেও কিছু পাওয়া যাবে না। তারপর সে এর নায়িইও পরীক্ষা করে দেখবে এতে ও কিছুই পাওয়া যাবে না। কাদাহকেই নাযিই বলা হয়। তারপর সে এর কুযায পরীক্ষা করে দেখবে এতেও পাওয়া যাবে না। তীর এত তীব্র গতিতে বেরিয়ে যায় যে মল বা রক্তের গাদ এতে লাগতেই পারে না। এ সম্প্রদায়ের লোকদের পরিচয় এই যে, এক কাল ব্যক্তি যার উভয় বাহুহ-তে একটি বাবু হবে মহিলাদের স্তনের ন্যায় অথবা এক টূকরা বাড়তি গোশতের ন্যায়। এদের আবির্ভাব তখন হবে যখন লোকদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেবে। আবু সাঈদ রাদি. `আনহু বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি একথা রাঃসাঃ  থেকে শুনেছি। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী রাদি. `আনহু তাদের সাথে যুদ্ধ করেছেন, তখন আমি তার সাথে ছিলাম। আলী রাদি. `আনহু এ লোকটিকে খোজ করার নির্দেশ দেওয়ার পর তাকে তালাশ করে পাওয়া গেল। এরপর তাকে আনা হল। তখন রাঃসাঃ  তার যে নিদর্শন করেছেন সে বর্ণিত নিদর্শন মুতাবিক আমি তার দিকে তাকালাম।[34]

আবু সাঈদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ একদল লোক সম্পর্কে আলোচনা করিলেন যারা তাহাঁর উম্মাতের মাঝেই সৃষ্টি হবে। তারা আবির্ভুত হবে ঐ সময় যখন মানুষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিবে। তাদের নিদর্শন এই যে, তাদের মাথা মুন্ডান থাকবে। তারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট বা সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক হবে। তা-দেরকে দু`দলের এমন দলটি হত্যা করবে যারা সভ্যের দিকে অধিক নিকটবর্তী এরপর নাবী রাঃসাঃ তাদের একটি উপমা বর্ণনা করিলেন অথবা করিলেন, এক ব্যক্তি লক্ষ্যস্হল নিরুপন করে তীর নিক্ষেপ করে এরপর নাসল পরীক্ষা করে দেখে কিন্তু এতে বিব্দুমাত্র রক্তও সে দেখতে পায় না। এরপর এর নাযিই পরীক্ষা করে দেখে, এতেও বিন্দুমাত্র রক্ত সে দেখে না। তারপর সে এর ফুক পরীক্ষা করে দেখে কিন্তু এতেও সে বিন্দুমাত্র কোনো কিছু দেখতে পায় না। বর্ণনাকারী আবু সাঈদ রাদি. `আনহু বলেন, হে ইরাকবাসী! তোমরা তাদেরকে হত্যা করেছ।[35]

আবু সাঈদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, মুসলিমদের মতবিরোধের সময় একটি দল বের হবে, তাদেরকে হত্যা করবে, দু-দলের এমন দলটি যারা হকের অধিক নিকটবর্তী।[36]

আবু সাঈদ খূদরী রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, আমার উম্মাতে দুটি দল সৃষ্টি হবে। তখন তাদের থেকে অন্য আরেকটি দল সৃষ্টি হবে। এদলকে দুদলের ওই দলহ হত্যা করবে যারা হকের অধীক নিকটবর্তী।[37]

আবু সাঈদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, রাঃসাঃ  বলেন, মানুষের মধ্যে যখন মত বিরোধ দেখা দিবে তখন একদল লোক বের হবে। তাদেরকে হত্যা করবে দু”দলের যে দলটি হকের অধিক নিকটবর্তী।[38]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

মু`আবিয়া রাদি. `আনহুর সাথে হাসান রাদি. `আনহুর সমজোতা

আবু মূসা রহ. হাসান [বসরী] রহ. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, হাসান ইবনু আলী রাদি. `আনহু পর্বত সদৃস সেনাদল নিয়ে মু`আবিয়া রাদি. `আনহুর মুখোমুখি হলেন। আমার ইবনু আস রাদি. `আনহু বলিলেন, আমি এমন সেনাদল দেখতে পাচ্ছি যারা প্রতিপক্ষকে হত্যা না করে ফির যাবে না। মু`আবিয়া রাদি. `আনহু তখন বলিলেন, আল্লাহর কসম! [আর মু`আবিয়া ও আমর ইবনুল `আস] রাদি. `আনহু উভয়ের মধ্যে মু`আবিয়া রাদি. `আনহু ছিলেন উত্তম ব্যক্তি। `হে `আমর! এরা ওদের এবং ওরা এদের হত্যা করলে আমি কাকে দিয়ে লোকের সমস্যার সমাধান করব? তাদের নারীদের কে তত্ত্ববধান করবে? তাদের দূর্বল ও শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে? তারপর তিনি কুরায়শের বানূ আবদে শামস শাখার দু`জন আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ ও আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদি. `আনহুকে হাসান রাদি. `আনহুর কাছে পাঠালেন। তিনি তাদের বলিলেন, `তোমরা উভয়ে এই লোকটির কাছে যাও এবং তার কাছে [সন্ধির] প্রস্তাব পেশ করো, তাহাঁর সঙ্গে আরোচনা করো ও তার বক্তব্য জানতে চেষ্টা কর।` তারা তার কাছে গেলেন এবং তার সঙ্গে কখা বলিলেন, আলাপ-আলোচনা করিলেন এবং তার বক্তব্য জানলেন। হাসান ইবনু আলী রাদি. `আনহু তাদের বলিলেন, `আমরা আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান, এই সম্পদ [বায়তুল মালের] আমরা পেয়েছি। আর এরা রক্তপাতে লিপ্ত হয়েছে।` তারা উভয়ে বলিলেন, [মু`আবিয়া রাদি. `আনহু] আপনার কাছে এরূপ বক্তব্য পেশ করেছেন। আর আপনার বক্তব্যও জানতে চেয়েছেন ও সন্ধি কামনা করেছেন। তিনি বলিলেন, `এ দায়িত্ব কে নেবে? তারা বলিলেন, আমরা আপনার জন্য এ দায়িত্ব গ্রহণ করছি।` এরপর তিনি তাদের কাছে যে সব প্রশ্ন করিলেন, তারা [তার জওয়াবে] বলিলেন, `আমরা এ দায়িত্ব নিচ্ছি।` তারপর তিনি তার সাথে সন্ধি করিলেন। হাসান [বসরী] [র] বলেন, আমি আবু বাকরা রাদি. `আনহুকে বলতে শুনেছিঃ রাসূরুল্লাহ রাঃসাঃকে আমি মিম্বরের উপর দেখেছি, হাসান রাদি. `আনহু তাহাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার লোকদের দিকে আর একবার তাহাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, আমার এ সন্তান নেতৃস্থানীয়। সম্ভবত তাহাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তা`আলা মুসরমানের দু`টি বড় দলের মধ্যে মীমাংশাকরাবেন।` আবু আব্দুল্লাহ রাদি. `আনহু বলেন, আলী ইবনু আব্দুল্লাহ আমাকে বলিয়াছেন যে, এ হাদীসের মাধ্যমেই আবু বাকরা রাদি. `আনহু থেকে হাসানের শ্রুতি আমাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।[39]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

`আম্মার ইবনু ইয়াসির রাদি. `আনহুর শাহাদাত

ইকরিমা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস রাদি. `আনহু আমাকে ও তার ছেলে আলী রাদি. `আনহুকে বলিলেন, তোমরা উভয়ই আবূ সা`ঈদ রাদি. `আনহু কাছে যাও এবং তাহাঁর থেকে হদীস শুনে আস। আমরা গেলাম। তখন তিনি এক বাগানে কাজ করছেন। তিনি আমাদেরকে দেখে চাদরে হাঁটু মুড়ি দিয়ে বসলেন এবং পরে হাদিস বর্ণনা শুরু করিলেন। শেষ পর্যায়ে তিনি মসজিদে নববী নির্মাণ আলোচনায় আসলেন। তিনি বলিলেন: আমরা একটা একটা করে কাঁচা ইট বহন করছিলাম আর আম্মার রাদি. `আনহু দুটো দুটো করে কাঁচা ইট বহন করছিলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ তা দেখে তাহাঁর দেহ থেকে মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, আম্মারের জন্য আফসোস, তাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে। সে তাদেরকে আহবান করবে জান্নাতের দিকে আর তারা আহবান করবে জাহান্নামের দিকে। আবূ সা`ঈদ রাদি. `আনহু বলেন: তখন আম্মার রাদি. `আনহু বলিলেন: আমি ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।[40]

উম্মে সালামা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ  আম্মার রাদি. `আনহুকে বলিয়াছেন, তোমাকে রাষ্ট্রদ্রোহী লোকেরা হত্যা করবে।[41]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

খাইবার থেকে ইহুদীরা বিতাড়িত হবে।

ইবনু উমর রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন খায়বারবাসীরা আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদি. `আনহুর হাত, পা ভেঙ্গে দিল, তখন উমর রাদি. `আনহু ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন এবং বলিলেন, রাঃসাঃ খায়বারের ইয়াহূদীদের সাথে তাদের বিষয় সম্পত্তি সম্পর্কে চুক্তি করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আল্লাহ তাআলা যতদিন তোমাদের রাখেন, ততদিন আমরাও তোমাদের রাকব। এমতাবস্থায় আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদি. `আনহু তাহাঁর নিজ সম্পত্তি দেখাশুনা করার জন্য খায়বার গমন করলে এক রাতে তাহাঁর উপর আক্রমন করা হয় এবং তাহাঁর দুটি হাত পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়। সেখানে ইয়াহূদীরা ছাড়া আর কোনো শত্রু নেই। তারাই আমাদের দুশমন। তাদের উপর আমাদের সন্দেহ। অতএব আমি তাদের নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উমর রাদি. `আনহু যখন এ ব্যাপারে তাহাঁর দৃঢ় মত প্রকাশ করিলেন, তখন আবু হুকায়ক গোত্রের এক ব্যক্তি এসে বলল, `হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি কি আমাদের খায়বার থেকে বহিস্কার করবেন? অথচ মুহাম্মদ রাঃসাঃ আমাদেরকে এখানে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর উক্ত সম্পত্তির ব্যাপারে আমাদের সাথে বর্গাচাষের ব্যবস্থা করেন এবং আমাদের এ শর্তে দেন।` উমর রাদি. `আনহু বলেন, `তুমি কি মনে করেছ যে, আমি রাঃসাঃ এর সে উক্তি ভুলে গিয়েছি, তোমার কি অবস্থা হবে, যখন তোমাকে খায়বার থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং তোমার উটগুলো রাতের পর রাত তোমাকে নিয়ে ছুটবে।` সে বলল, `এ উক্তি তো আবুল কাসিম এর পক্স থেকে বিদ্রুপ স্বরূপ ছিল।` উমর রাদি. `আনহু বলিলেন, `হে আল্লাহর দুশমন! তুমি মিথ্যা বলছ।` তারপর উমর রাদি. `আনহু তাদের নির্বাসিত করেন এবং তাদের ফসলাদি, মালপত্র, উট, লাগাম রশি ইত্যাদি সামগ্রীর মূল্য দিয়ে দেন। রিওয়ায়াতটি হাম্মদ ইবনু সালামা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] উমর রাদি. `আনহু সূত্রে নাবী রাঃসাঃ থেকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেন।[42]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

এক ব্যক্তি রাঃসাঃ  এর সাথে জিহাদে শরিক হয়েছেন, অথচ সে জাহান্নামে যাবে।

সাহল ইবনু সা`দ সাঈদী রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, একবার রাঃসাঃ ও মুশরিকদের মধ্যে মুকাবিলা হয় এবং উভয় পক্ষ তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তারপর রাঃসাঃ নিজ সৈন্যদলের কাছে ফিরে এলেন, মুশরিকরাও নিজ সৈন্যদলে ফিরে গেল। সেই যুদ্ধে রাঃসাঃ এর সঙ্গীদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে কোনো মুশরিককে দেখলেই তার পশ্চাদ্ধবন করত এবং তাকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমন করত। বর্ণনাকরী [সাহল ইবনু সা`দ রাদি. `আনহু] বলেন, আজ আমাদের কেউ অমুকের মত যুদ্ধ করতে পারেনি। তা শুনে রাঃসাঃ বলিলেন, সে তো জাহান্নামের বাসিন্দা হবে। একজন সাহাবী বলে উঠলেন, আমি তার সঙ্গী হব। তারপর তিনি তার সাথে বেরিয়ে পড়লেন, সে দাঁড়ালে তিনিও দাঁড়াতেন এবং সে দ্রুত চললে সেও দ্রুত চলতেন। তিনি বলিলেন, এক সময় সে মারাত্মাকভাবে আহত হলো এবং সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করতে লাগল। এক সময় তলোয়ারের বাট মাটিতে লাগল এবং এর তীক্ষ্ণ দিক বুকে চেপে ধরে তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করল। অনুসরণকারী লোকটি রাঃসাঃ এর কাছে আসলেন এবং বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল। রাঃসাঃ বলিলেন, কি ব্যাপার? যে লোকটি সম্পর্কে, আপনি কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলেন যে, সে জাহান্নামী হবে। তা শুনে সাহাবীগণ বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করিলেন। আমি তাদের বলিলাম যে, আমি লোকটির সম্পর্কে খবর তোমাদের জানাবো। তারপর আমি তার পিছু পিছু বের হলাম এবং সে শীঘ্রই মৃত্যু কামনা করতে থাকল। তারপর তার তলোয়ারের বাট মাটিতে রেখে এর তীক্ষ্ণ ধার বুকে চেপে ধরল এবং তার উপরে ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করল। রাঃসাঃ তখন বলিলেন, `মানুষের বাহ্যিক বিচারে অনেক সময় কোনো ব্যক্তি জান্নাতবাসীর মত আমল করতে থাকে, প্রকৃতপক্ষে সে জাহান্নামী হয় এবং অনুরফভাবে মানুষের বাহ্যিক বিচারে কোনো ব্যক্তি জাহান্নামীর মতামল করলেও প্রকৃতপক্ষে সে জান্নাতবাসী হয়।[43]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর উম্মতের কিছু লোক জিহাদের জন্য সমুদ্রযানে আরোহণ করবে।

 আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ উম্মে হারাম বিন্‌ত মিলহান রাদি. `আনহার কাছে যাতায়াত করতেন এবং তিনি রাঃসাঃ কে খেতে দিতেন। উম্মে হারাম রাদি. `আনহা ছিলেন, উবাদা ইবনু সামিত রাদি. `আনহুর স্ত্রী। একদিন রাঃসাঃ তার ঘরে তাশরীফ নিয়ে গেলে তিনি তাঁকোহার করান এবং তাহাঁর মথার উকুন বাচতে থাকেন। এক সময় রসূলুল্লাহ রাঃসাঃ গুমিয়ে পড়েন। তিনি হাসতে হাসতে ঘুম থেকে জাগলেন। উম্মে হারাম রাদি. `আনহা বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাস করলাম, `ইয়া রাসূলুল্লাহ! হাসির কারণ কি?` তিনি বলিলেন, `আমার উম্মাতের কিছু লোককে আল্লাহর পথে জিহাদরত অবস্থায় আমার সামনে পেশ করা হয়। তারা এ সমুদ্রের মঝে এমনভাবে আরোহী যেমন বাদশাহ তখতের উপর অথবা বলিয়াছেন, বাদশাহর মত তখতে উপবিষ্ট।` এ শব্দ বর্ণনায় ইসহাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সন্দেহ করেছেন। উম্মে হারাম রাদি. `আনহা বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর কাছে দো`আ করুন যেন আমাকে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।` রাঃসাঃ তার জন্য দো`আ করিলেন। এরপর রাঃসাঃ আবার মাথা রাখেন [ঘুমিয়ে পড়েন]। তারপর হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, `ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার হাসার কারণ কি?` তিনি বলিলেন, আমার উম্মাতের মধ্যে থেকে আল্লাহর পথে জিহাদরত কিছু লোককে আমার সামনে পেম করা হয়।` পরবর্তী অংশ প্রথম উক্তির মত। উম্মে হারাম রাদি. `আনহা বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দো`আ করুন, যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলিলেন, তুমি তো প্রথম দলের মধ্যেই আছ। তারপর মু`আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান রাদি. `আনহুর সময় উম্মে হারাম রাদি. `আনহা জিহাদের উদ্দেশ্যে সামদ্রিক সফরে যান এবং সমুদ্র থেকে যখন অবতরণ করেন তখন তিনি তাহাঁর সওয়ারী থেকে ছিটকে পড়েন। আর এতে তিনি শাহাদত বরণ করেন।[44]

মিশর বিজয় সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আবদুর রাহমান ইবনে শুমাসাতান মিহরী হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু যার রাদি. `আনহুকে বলতে শুনেছি, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমরা অচিরেই এমন একটি ভূখন্ড জয় করবে যেখানে কীরাতের [দিরহাম বা দীনারের অংশবিশেষ] প্রচলন আছে। সেখানকার লোকদের সাথে সহানুভূতিপূর্ণ ব্যবহার করবে। কেননা তোমাদের ওপর তাদের অধিকার রয়েছে এবং তাদের সাথে তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে [অর্থাৎ ইসমাঈল আলাইহিস সালামের মাতা হাজেরার জন্মভূমি ছিল মিসরে। তিনি আরবদের আদি মাতা]। তোমরা যখন দুই ব্যক্তিকে সেখানে একটি ইটের জায়গায় দাঁড়িয়ে পরষ্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত দেখবে তখন সেখান থেকে চলে আসবে।[45]

আবু যার রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলছেন, তোমরা অচিরেই মিসর জয় করবে। সেখানে কীরাতের প্রচলন রয়েছে। তোমরা যখন সে দেশ জয় করবে তখন সেখানকার অধিবাসীদের সাথে সহানুভূতিপূর্ণ ব্যবহার করবে। কেননা তোমাদের ওপর তাদের ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের সাথে তোমাদের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। অথবা তিনি বলিয়াছেন, তাদের ব্যাপারে তোমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের সাথে তোমাদের শ্বশুর-জামাইয়ের সম্পর্ক রয়েছে [মহানাবী রাঃসাঃ স্ত্রী এবং তাহাঁর পুত্র ইবরাহীম রাদি. `আনহুর মাতা মারিয়ার রাদি. `আনহার জন্মভূমি ছিল মিসর]। তুমি যখন সেখানে দুই ব্যক্তিকে একই ইটের উপর পরস্পর বিবাদে লিপ্ত দেখবে তখন সে দেশ পরিত্যাগ করবে। রাবী বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনে শুরাহবিল ইবনে হাসান ও তার ভাই রবী`আকে সেখানে একটি ইটের স্থানে পরস্পর বিবাদে লিপ্ত দেখলাম। ফলে আমি সেখান থেকে প্রস্থান করে চলে আসলাম। [46]

আনসারগণ যেসব নিদর্শণ পাবে সে সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনায়নের দিবসে আল্লাহ যখন রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃকে গনীমতের সম্পদ দান করিলেন তখন তিনি ঐগুলো সেসব মানুষের মধ্যে বন্টন করে দিলেন যাদের হৃদয়কে ঈমানের উপর সুদৃঢ় করার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেছিলেন। আর আনসারগণকে কিছুই তিনি দেননি। ফলে তাঁরা যেন নাখোশ হয়ে গেলেন। কেননা অন্যান্য লোক যা পেয়েছে তাঁরা তা পান নি। অথবা তিনি বলিয়াছেন, তাঁরা যেন দুঃখিত হয়ে গেলেন। কেননা অন্যান্য লোক যা পেয়েছে তারা তা পাননি। কাজেই নাবী রাঃসাঃ তাদেরকে সম্বোধন করে বলিলেন, হে আনসারগণ! আমি কি তোমাদেরকে গুমরাহীর মধ্যে লিপ্ত পাইনি, যার পরে আল্লাহ্ আমার দ্বারা তোমাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন? তোমরা ছিলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন, যার পর আল্লাহ্ আমার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরকে জুড়ে দিয়েছেন। তোমরা ছিলে রিক্তহস্ত, যার পরে আল্লাহ্ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। এভাবে যখনই তিনি কোনো কথা বলিয়াছেন তখন আনসারগন জবাবে বলতেন, আল্লাহ্ এবং তাহাঁর রাসূলই আমাদের উপর অধিক ইহ্সানকারী। তিনি বলিলেন, আল্লাহর রাসূলের জবাব দিতে তোমাদেরক বাধা দিচ্ছে কিসে? তাঁরা তখনও তিনি যা কিছু বলছেন তার উত্তরে বলে গেলেন, আল্লাহ্ এবাং তাহাঁর রাসূলই আমাদের উপর অধিক ইহ্সানকারী। তিনি বলিলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে বলতে পার যে, আপনি আমাদের কাছে এমন এমন [সংকটময়] সময়ে এসেছিলেন [যেগুলোকে আমরা বিদূরিত করেছি এবং আপনাকে সাহায্য করেছি] কিন্তু তোমরা কি এ কথার সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোক বকরী ও উট নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের বাড়ি ফিরে যাবে আল্লাহর নাবীকে সাথে নিয়ে। যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে হিজরত করানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত না থাকত তা হলে আমি আনসারদের মধ্যকারই একজন থাকতাম। যদি লোকজন কোনো উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়ে চলে তা হলে আমি আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়েই চলব। আনসারগণ হলো [নববী] দেহ সংযুক্ত গেঞ্জি আর অন্যান্য লোক হল উপরের জামা। আমার বিদায়ের পর অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে অন্যদের অগ্রাধিকার। তখন ধৈর্য ধারণ করবে [দীনের উপর টিকে থাকবে] অবশেষে তোমরা হাউজে কাউসারে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।[47]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আল্লাহ্ তাহাঁর রাঃসাঃকে হাওয়াযিন গোত্রের সম্পদ থেকে গনীমত হিসেবে যতটুকু দান করতে চেয়েছেন দান করিলেন, তখন নাবী রাঃসাঃ কতিপয় লোককে এক একশ` করে উট দান করতে লাগলেন। [এ অবস্থা দেখে] আনসারদের কিছুসংখ্যক লোক বলে ফেললেন, আল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃকে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদেরকে বাদ দিয়ে কুরাইশদেরকে [গনীমতের মাল] দিচ্ছেন। অথচ আমাদের তরবারি থেকে এখনো তাদের তাজা রক্ত টপকাচ্ছে। আনাস রাদি. `আনহু বলেন, তাহাঁদের এ কথা রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃকে বর্ণনা করা হলে তিনি আনসারদের কাছে সংবাদ পাঠালেন এবং তাদেরকে একটি চামড়ার তৈরি তাঁবুতে জামায়েত করিলেন। এবং তাঁরা ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে উপস্থিত থাকতে অনুমতি দেননি। এরপর তাঁরা সবাই জমায়েত হলে নাবী রাঃসাঃ দাঁড়িয়ে বলিলেন, তোমাদের কাছ থেকে কি কথা আমার নিকট পৌঁছলো? আনসারদের বিজ্ঞ উলামাবৃন্দ বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের নেতৃস্থানীয় কেউ তো কিছু বলেনি, তবে আমাদের কতিপয় কমবয়সী লোকেরা বলেছে যে, আল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃকে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদেরকে বাদ দিয়ে কুরাইশদেরকে [গনীমতের মাল] দিচ্ছেন। অথচ আমাদের তরবারিগুলো থেকে এখনো তাদের তাজা রক্ত টপকাচ্ছে। তখন নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, আমি অবশ্য এমন কিছু লোককে [গনীমতের মাল] দিচ্ছি যারা সবেমাত্র কুফর ত্যাগ করে ইসলামে প্রবেশ করেছে। আর তা এ জন্যে যেন তাদের মনকে আমি ঈমানের উপর সুদৃঢ় করতে পারি। তোমরা কি এত সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোক ফিরে যাবে ধন-সম্পদ নিয়ে আর তোমরা বাড়ি ফিরে যাবে [আল্লাহর] নাবীকে সঙ্গে নিয়ে? আল্লাহর কসম, তোমরা যে জিনিস নিয়ে ফিরে যাবে তা অনেক উত্তম ঐ ধন-সম্পদ অপেক্ষা, যা নিয়ে তারা ফিরে যাচ্ছে। আনসারগন বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আমরা এতে সন্তুষ্ট থাকলাম। নাবী রাঃসাঃ তাদের বলিলেন, অচিরেই তোমরা [নিজেদের উপর] অন্যদের প্রাধান্য প্রবলভাবে অনুভব করতে থাকবে। অতএব, আমার মৃত্যুর পর আল্লাহ্এবং তাহাঁর রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত তোমরা সবর করে থাকবে। আমি হাউজে কাউসারের নিকট থাকন। আনাস রাদি. `আনহু বলেন, কিন্তু তাঁরা [আনসাররা] সবর করেননি।[48]

আনসারগণের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ অন্তিম রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর [একদিন বৃহস্পতিবার] একটি চাদর পরিধান করে এবং মাথায় একটি কাল কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে ঘর থেকে বের হয়ে সোজা মিম্বারের উপর গিয়ে বসলেন। আল্লাহ্ তা`আলার হামদ ও সানা পাঠ করার পর বলিলেন, আম্মা বাদ। লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, আর আনসারদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। ক্রমান্বয়ে তাদের অবস্থা লোকের মাঝে এ রকম দাঁড়াবে যেমন খাদ্যের মধ্যে লবণ। তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মানুষকে উপকার বা ক্ষতি করার মত ক্ষমতা লাভ করবে তখন সে যেন আনসারদের ভাল কার্যাবলি কবুল করে এবং তাদের ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমার চোখে দেখে। এটাই ছিল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লানের সর্বশেষ মজলিস।[49]

হাজ্জাজ ইবনু ইউসূফের অত্যাচার ও মুখতার ইবনু আবী উবাইদ আস-সাকাফীর মিথ্যাচার সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আবু নাওফাল রহ. হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর রাদি. `আনহুকে মদীনার উপত্যকায় দেখলাম। কুরাইশ বংশের লোকেরা তাকে অতিক্রম করে যেত এবং অপরাপর লোকও [অভিশপ্ত হাজ্জাজ তাকে ফাঁসী দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিল]। অবশেষে আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদি. `আনহুও তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার পাশে দাঁড়ালেন এবং বলিলেন, হে খুবাইরের পিতা! আসসালামু আলাইকা, হে খুবাইরের পিতা! আসসালামু আলাইকা! হে আবু খুবাইব। আসসালামু আলাইকা। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে এ [খিলাফতের দাবীদার হওয়া] থেকে নিষেধ করেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে এ থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে এ থেকে বারণ করেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি যতদূর জানি- তুমি ছিলে সাওম পালনকারী, রাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইবাদকারী এবং আত্মীয়ার সম্পর্ক সম্মিলনকারী। আল্লাহর শপথ! যারা তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে তাদের চেয়ে তুমি উত্তম। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদি. `আনহু চলে গেলেন। তার অবস্থান এবং মন্তব্য [ইবনু যুবাইর সম্পর্কে] হাজ্জাজের কানে পৌঁছলো। এই ইতর লোক পাঠিয়ে তার [ইবনে যুবাইরের] লাশ ফাঁসীকাষ্ঠ থেকে নামিয়ে ইহুদীদের কবরে তা নিক্ষেপ করায়। অতঃপর সে তার [আবদুল্লাহ] মা আসমা বিনতে আবু বাক্র রাদি. `আনহার কাছে তাকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠায়। কিন্তু তিনি হাজ্জাজের কাছে উপস্থিত হয়ে অস্বীকৃতি জানান। সে আবারো তাকে ডেকে নেওয়ার জন্য দূত পাঠায় এবং বলে যে, তুমি স্বেচ্ছায় আসলে আসো অন্যথায় আমি এমন লোক পাঠাবো, যে তোমার চুলের বেনী ধরে টেনে নিয়ে আসবে। রাবী বলেন, এবারও তিনি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে বলিলেন, তুমি যতক্ষণ এমন ব্যক্তিকে না পাঠাবে, যে আমার চুলের বেনী ধরে টেনে নিতে পারে- আমি ততক্ষণ তোমার কাছে যাব না। রাবী বলেন, হাজ্জাজ বলল, আমার জুতা আনো, সে জুতা পরল এবং সদর্পে রওনা হল। অবশেষে আসমার রাদি. `আনহা ঘরে এসে পৌঁছলো। সে বলল, তুমি দেখেছ আমি আল্লাহর দুশমনের সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছি। তিনি উত্তরে বলিলেন, আমি দেখেছি, তুমি তার পার্থিব জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছ আর সে তোমার আখরাতকে বরবাদ করে দিয়েছে। আমি জানতে পেরেছি তুমি তাকে বলেছ, হে দুটি কোমর-বন্ধনীর পুত্র। আল্লাহর শপথ! আমি নিশ্চিতই দুই কোমরবন্ধ ব্যবহারকারিনী। একটি কোমর বন্ধ হচ্ছে- আমি রাঃসাঃ এবং আবু বাকর রাদি. `আনহু খাদ্যদ্রব্য বেঁধে তুলে রাখাতাম যাতে পশু তা খেয়ে ফেলতে না পারে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সেই কোমরবন্ধ যা মহিলাদের প্রয়োজন। সাবধান! রাঃসাঃ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, “সাকীফ গোত্র থেকে এক মিত্যাবাদী এবং এক নরহত্যাকারীর আবির্ভাব হবে”। মিথ্যাবাদীকে আমরা অবশ্যই দেখেছি। আর গণহত্যাকারী তোমাকে ছাড়া আর কাউকে আমি মনে করি না। এ কথা শুনে হাজ্জাজ উঠে পড়ল এবং তার কথার কোনো প্রতিউত্তর করল না। [50]

আলী রাদি. `আনহুর হাতে খাইবার বিজয় সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

সালামা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রাদি. `আনহু নাবী রাঃসাঃ এর সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে যাননি। কেননা তাহাঁর চোখে অসুখ ছিল। এতে তিনি [মনে মনে] বলিলেন, আমি কি রাঃসাঃ এর সঙ্গে [জিহাদে] যাব না? তারপর তিনি বেড়িয়ে পড়লেন এবং নাবী রাঃসাঃ এর সাথে মিলিত হলেন। যেদিন সকালে আল্লাহ বিজয় দান করিলেন, তার পূর্ব রাত্রে [সান্ধ্যায়] রাঃসাঃ বলিলেন, আগামী কাল সকালে আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা প্রদান করব, অথবা বলেছিলেন যে এমন এক ব্যক্তি ঝান্ডা গ্রহণ করবে যাঁকে আল্লাহ এবং তার রাঃসাঃ ভালবাসেন, অথবা বলেছিলেন, সে আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলকে ভালবাসে। তাহাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তা`আলা বিজয় দান করাবেন। তারপর আমরা দখেতে পেলাম তিনি হলেন আলী রাদি. `আনহু, অথচ আমরা তাহাঁর সম্পর্কে এমনটি আশা করি নি। তাই সকলেই বলে উঠলেন, এই যে আলী রাদি. `আনহু। রাঃসাঃ দিলেন এবং তাহাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ তা`আলা বিজয় দিলেন।[51]

সাহল ইবনু সা`দ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ বলেন, আমি আগামীকাল এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দিব যাঁর হাতে আল্লাহ্ বিজয় দান করবেন। রাবী বলেন, তারা এই আগ্রহ ভরে রাত্রি যাপন করিলেন যে, কাকে ঐ পতাকা দেওয়া হবে। যখন সকাল হল তখন সকলেই রাঃসাঃ এর নিকট গিয়ে হাযির হলেন। তাদের প্রত্যেকেই এ আশা পোষণ করছিলেন যে, পতাকা তাকে দেওয়া হবে। তারপর তিনি বলিলেন, আলী ইব্ন আবূ তালিব কোথায়? তাঁরা বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ রাঃসাঃ তিনি চক্ষু রোগে আক্রান্ত। তিনি বলিলেন, কাউকে পাঠিয়ে তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এস। যখন তিনি এলেন, তখন রাঃসাঃ তাহাঁর দু`চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাহাঁর জন্য দু`আও করিলেন। এতে তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন যেন তাহাঁর চোখে কোনো রোগই ছিলনা। রাসূলে করীম রাঃসাঃ তাঁকে পতাকাটি দিলেন। আলী রাদি. `আনহু বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, তারা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মত না হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কি তাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। তিনি বলিলেন, তুমি সোজা অগ্রসর হতে থাক এবং তাদের আঙ্গিনায় উপনীত হয়ে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দাও। তাদের উপর আল্লাহর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তাবে তাও তাদেরকে জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম, তোমাদের দ্বারা যদি একটি মানুষও হিদায়েত প্রাপ্ত হয়, তা হবে তোমার জন্য লাল রঙ্গের উট প্রাপ্তির চেয়েও অধিক উত্তম।[52]

পারস্য বিজয় সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

জুবাইর ইবনু হাইয়্যাহ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রাদি. `আনহু মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন বড় বড় শহরে সেনাদল পাঠালেন। সে সময় হুরমযান [মাদায়েনের শাসক] ইসলা গ্রহণ করে। উমর রাদি. `আনহু তাঁকে বলিলেন, আমি এ সব ব্যাপারে তোমার পরামর্শ গ্রহণ করতে চাই। তিনি বলিলেন, ঠিক আছে। এ সকল দেশ এবং দেশে মুসলিমদের দুসমন যেসব লোক বাস করছে, তাদের উদাহরণ একটি পাখির ন্যায়, যার একটি মাথা, দু`টি পা রয়েছে। যদি একটি ডানা ভেঙ্গে দেওয়া হয়, তাহলে দু`টি পাও মাথার সাহায্যে উঠে দাঁড়াবে। আর যদি মাথা ভেঙ্গে দেওয়া হয়, তবে উভয় পা, উভয় ডানা ও মাথা সবই অকেজো হয়ে যাবে। কিসরা শত্রুদের হলো মাথা, কায়সার হলো একটি ডানা, আর পারস্য হলো অপর ডানা। কাজেই মুসলিমগণকে এ আদেশ করুন, তারা যেন কিসরার উপর আক্রমন করে। বকর ও যিয়াদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] উভয়ে জুবাইর ইবনু হাইয়া রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তারপর উমর রাদি. `আনহু আমাদের ডাকলেন আর আমাদের উপর নু`মান ইবনু মুকাররিনকে আমির নিযুক্ত করেন। আমরা যখন শত্রু দেশে পৌঁছলাম, কিসরা এক সেনাপতি চল্লিম হাজার সৈন্য নিয়ে আমাদের মুকাবিলায় আসল। তখন তার পক্ষ থেকে একজন দোভাষী দাঁড়িয়ে বলল, তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমার সঙ্গে আলোচনা করুক। তখন মুগীরা ইবনু [শু`বা] রাদি. `আনহু বলিলেন, যা ইচ্ছা প্রশ্ন করতে পার। সে বলল, তোমরা কারা? তিনি বলিলেন, আমরা আরবের লোক। দীর্ঘ দিন আমরা অতিশয় দুর্ভাগ্য [কুফরীতে] এবং কঠিন বিপদে [দারিদ্রে] ছিলাম। ক্ষুধার তাড়নায় আমরা চামড়া ও খেজুর গুটি চুষতাম। চুল ও পশম পরিধান করতাম বৃক্ষ ও পাথর পূজা করতাম। আমরা যখন এ অবস্থায় পতিত তখন আসমান ও যমীনের প্রতিপালক আমাদের মধ্য থেকে একজন নাবী প্রেরণ করেন। তাহাঁর পিতা-মাতাকে আমরা চিনি। আমাদের নাবী ও আমাদের রবের রাঃসাঃ আমাদেরকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ করেছেন, যে পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহ তা`আলার ইবাদত কর কিংবা জিযিয়া দাও। আর আমাদের নাবী রাঃসাঃ আমাদের রবের পক্ষ থেকে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, আমাদের মধ্য থেকে যে নিহত হবে, সে জান্নাতে এমন নিয়মত লাভ করবে, যা কখনো দেখা যায়নি। আর আমাদের মধ্য থেকে যারা জীবিত থাকবে তোমাদের গর্দানের মালিক হবে।[53]

হিরা বিজয় সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

`আদি ইবনু হাতিম রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী রাঃসাঃ এর মজলিসে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করল। তারপর আর এক ব্যক্তি এসে ডাকাতের উৎপাতের কথা বলে অনুযোগ করল। নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, হে `আদী, তুমি কি হীরা নামক স্থানটি দেখেছ? আমি বলিলাম, দেখি নাই, তবে স্থানটি আমার জানা আছে। তিনি বলিলেন, তুমি যদি দীর্ঘজীবি হও তবে দেখতে পাবে একজন উট সওয়ার হাওদানশীল মহিলা হীরা থেকে রওয়ানা হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে যাবে। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকেও ভয় করবেন না। আমি মনে মনে বলতে লাগলাম তাঈ গোত্রের ডাকাতগুলো কোথায় থাকবে যারা ফিতনা ফাসাদের আগুন জ্বালিয়ে দেশকে ছারখার করে দিচ্ছে। তিনি বলিলেন, তুমি যদি দীর্ঘজীবি হও, তবে নিশ্চয়ই দেখতে পাবে যে, কিসরার [পারস্য সম্রাট] ধনভাণ্ডার কবজা করা হয়েছে। আমি বলিলাম, কিসরা ইবনু হুরমুযের? নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, হ্যাঁ, কিসরা ইবনু হুরমুযের। তোমার আয়ু যদি দীর্ঘ হয় তবে অবশ্যই তুমি দেখতে পাবে, লোকজন মুষ্টিভরা যাকাতের স্বর্ণ-রৌপ্য নিয়ে বের হবে এবং এমন ব্যক্তিকে তালাশ করে বেড়াবে যে তাদের এ মাল গ্রহণ করে। কিন্তু গ্রহণকারী একটি মানুষও পাবেনা। তোমাদের প্রত্যেকটি মানুষ কিয়ামত দিবসে মহান আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে। তখন তার ও আল্লাহর মাঝে অন্য কোনো দোভাষী থাকবেনা যিনি ভাষান্তর করে বলবেন। আল্লাহ্ বলবেন, আমি কি [দুনিয়াতে] তোমার নিকট আমার বাণী পৌঁছানোর জন্য রাসূল প্রেরণ করিনি? সে বলবে, হ্যাঁ। প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ বলবেন, আমি কি তোমাকে ধন-সম্পদ, সন্তানসন্ততি দান করিনি এবং দয়া মেহেরবানী করিনি? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, দিয়েছেন। তারপর সে ডান দিকে নজর করবে, জাহান্নাম ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাবে না। আবার সে বাম দিকে নজর করবে, তখনো সে জাহান্নাম ব্যতীত কিছুই দেখবে না। `আদী রাদি. `আনহু বলেন, আমি নাবী রাঃসাঃকে বলতে শুনেছি, অর্ধেকটি খেজুর দান করে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা কর আর যদি তাও করার তৌফিক না হয় তবে মানুষের জন্য মঙ্গলজনক সৎ ও ভাল কথা বলে নিজেকে আগুন থেকে রক্ষা কর। `আদী রাদি. `আনহু বলেন, আমি নিজে দেখেছি, এক উট সাওয়ার মহিলা হীরা থেকে একাকী রওয়ানা হয়ে কা`বাহ শরীফ তাওয়াফ করেছে। সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকেও ভয় করে না। আর পারস্য সম্রাট কিসরা ইবনু হুরমুযের ধনভাণ্ডার যারা দখল করেছিল, তাদের মধ্যে আমি একজন ছিলাম। যদি তোমরা দীর্ঘজীবি হও, তবে নাবী রাঃসাঃ যা বলিয়াছেন, তা স্বচক্ষে দেখতে পাবে। [অর্থাৎ মুষ্টিভরা স্বর্ণ দিতে চাইবে কিন্তু কেউ নিতে চাইবে না।][54]

রোম ও পারস্য ধ্বংস ও তা মুসলিমগণের বিজয় সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, যখন কিসরা [পারস্য সম্রাটের উপাধি] ধ্বংস হবে, তারপর অন্য কোনো কিসরার আবির্ভাব হবে না। যখন কায়সার [রোম সম্রাটের উপাধি] ধ্বংস হবে তখন আর কোনো কায়সারের আবির্ভাব হবে না। নাবী রাঃসাঃ একথাও বলিয়াছেন, ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ নিশ্চয়ই এ দুই সাম্রাজ্যের ধনভাণ্ডার তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে।[55]

জাবির ইবনু সামুরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, কিসরা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো কিসরা আগমন হবে না এবং কায়সার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো কায়সারের আগমন হবে না। রাবী উল্লেখ করেন যে, [তিনি আরো বলিয়াছেন] নিশ্চয়ই তাদের ধনভাণ্ডার আল্লাহ্‌র রাস্তায় ব্যয় করা হবে। [56] 

মদীনায় যেসব ফিতনা সংঘটিত হবে সে সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

উসামা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ একদিন মদিনায় একটি উচু টিলায় আরোহণ করিলেন, তারপর [সাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ করে] বলিলেন, আমি যা দেখেছি, তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? আমি দেখছি বাড়ি ধারার ন্যায় ফাসাদ ঢুকে পড়ছে তোমাদের ঘরে ঘরে।[57]

একদল হকপন্থী বিজয়ী দল ও কিয়ামত পর্যন্ত টিকেথাকার ব্যাপারে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

মুগীরা ইবনু শু`বা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ বলেন, আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে। এমনকি কিয়ামত আসবে তখনো তারা বিজয়ী থাকবে।[58]

মু`আবিয়া রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী রাঃসাঃকে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর দীনের উপর অটল থাকবে। তাদেরকে যারা সাহায্য না করবে অথবা তাদের বিরোধীতা করবে, তারা তাদের কোনো প্রকার ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি কিয়ামত আসা পর্যন্ত তাঁরা তাদের অবস্থার উপর মজবুত থাকবে। উমাইর ইবনু হানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] মালিক ইবনু ইউখামিরের [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বরাত দিয়ে বলেন, মু`আয রাদি. `আনহু বলিয়াছেন, ঐ দলটি সিরিয়ায় অবস্থান করবে। মু`আবিয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর ধারণা যে, ঐ দলটি সিরিয়ায় অবস্থান করবে বলে মু`আয রাদি. `আনহু বলিয়াছেন।[59]

নবুওয়তের মিথ্যাদাবীদার কিছু দাজ্জাল সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

সাওবান রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ  বলেন, আল্লাহ সমন্ত পৃথিবীকে ভাজ করে আমার সামনে রেখে দিয়েছেন। অতঃপর আমি এর পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত দেখে নিয়েছি। পৃথিবীর যে পরিমাণ অংশ শুটিয়ে আমার সম্মুখে রাখা হয়েছিল সে পর্যন্ত আমার উম্মাতের রাজত্ব পৌছবে। আমাকে লাল ও সাদা দু-টি ধনাগার দেওয়া হয়েছে। আমি আমার উম্মাতের জন্য আমার প্রতিপালকের নিকট এ দুআ করেছি, যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংসনা করেন এবং যেন তিনি তাদের উপর নিজেদের ব্যতীত এমন কোনো শক্রকে চাপিয়ে না দেন যারা তাদের দলকে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করে দিবে। এ কথা শুনে আমার প্রতিপালক বলিলেন, হে মুহাম্মদ! আমি যা সিদ্ধান্ত করি তা কখনো প্রতিহত হয় না। আমি তোমার দুআ কবুল করেছি। আমি তোমার উম্মাতকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করবো না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য এমন কোন শক্রকে চাপিয়ে দেবো না যারা তাদের সমষ্টিকে বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। যদিও তিনি বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোক সমবেত হয়ে চেষ্টা করে না কেন। তবে মুসলিমগণ পরস্পর একে অপরকে ধ্বংস করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে।[60]

সাওবান রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, পৃথিবীকে গুটিয়ে আল্লাহ তায়ালা আমার সামনে পেশ করেছেন। আমি এর পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত দেখে নিয়েছি। আল্লাহ তা`আলা আমাকে লাল ও সাদা দুটি ধন-ভাণ্ডার দান করেছেন। অতঃপর কাতাদা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আইউবের সুত্রে আবু কেলাবা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[61]

মানুষ আল্লাহর শুরু সম্পর্কে সন্দেহ করবে এ ব্যাপারে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিয়াছেন, লোকেরা পরস্পরে প্রশ্ন করতে থাকবে যে, ইনি আল্লাহ সবকিছুরই স্রষ্টা, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করিলেন?

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমাদের কারো কাছে শংতান আসতে পারে এবং সে বলতে পারে, এ বস্তু সৃষ্টি করেছেন? ঐ বস্তু সৃষ্টি করেছে? এরূপ প্রশ্ন করতে করতে শেস পর্যণ্ত বলে বসবে, তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যখন বিষয়টি এ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে তখন সে যেন অবশ্যই আল্লাহর কাছে পানাহ চায় এবং বিরত হয়ে যায়।[62]

কিছু ফিতনা সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী, যা তাহাঁর ইন্তিকালের পরে সংঘটিত হয়েছিল।

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু বর্ণনা করেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, অচিরেই অসংখ্য সর্বগ্রাসী ফিতনা ফাসাদ আসতে থাকবে। ঐ সময় বসা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম [নিরাপদ], দাঁড়ানো ব্যক্তি চলমান ব্যক্তি হতে অধিক রক্ষিত আর চলমান ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে অধিক বিপদমুক্ত। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে চোখ তুলে তাকাবে ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। তখন যদি কোনো ব্যক্তি তাহাঁর দীন রক্ষার জন্য কোনো ঠিকানা ঠিকানা অথবা নিরাপদ আশ্রয় পায়, তবে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করাই উচিৎ হবে। ইবনু শিহাব যুহরী [র.] নাওফাল ইবনু মু`আবিয়া রাদি. `আনহু হতে আবু হুরাইরা রাদি. `আনহুর হাদীসের অনুরূপই বর্ণনা করেছেন। তবে অতিরিক্ত আর একটি কথাও বর্ণনা করেছেন যে এমন একটি নামায রয়েছে [আসর] যে ব্যক্তির ঐ নামায কাযা হয়ে গেল, তার পরিবার পরিজন ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল।[63]

মুসলিমগণ যখন সুদ ও দুনিয়াদারীতে পতিত হবে তখন তাদের অধঃপতন সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আবূ উমামা বাহিলী রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাঙ্গলের হাল এবং কিছু কৃষি যন্ত্রপাতি দেখে বলিলেন, আমি নাবী রাঃসাঃকে বলতে শুনেছি এটা যে সম্প্রদায়ের ঘরে প্রবেশ করে, আল্লাহ্সেখানে অপমান প্রবেশ করান।[64]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

সূদের দ্বারা সম্পদ বাড়ালে পরিণামে তার সম্পদ হ্রাসপ্রাপ্ত হবেই।

ইবনে মাসউদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ বলেন, যে ব্যক্তি সূদের দ্বারা সম্পদ বাড়িয়েছে, পরিণামে তার সম্পদ হ্রাসপ্রাপ্ত হবেই।[65]

জালিম শাসকদের সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ আমাদের বলিয়াছেন: আমার পরে তোমরা অবশ্যই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করবে। এবং এমন কিছু বিষয় দেখতে পাবে, যা তোমরা পছন্দ করবে না। তাঁরা জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাঃসাঃ! তাহলে আমাদের জন্য কি হুকুম করছেন? উত্তরে তিনি বলিলেন: তাদের হক পরিপূর্ণরূপে আদায় করবে, আর তোমাদের প্রাপ্য আল্লাহর কাছে চাইবে।[66]

কাব ইবনু উজরা রাদি. `আনহু বর্ণিত, তিনি বলেন: রাঃসাঃ  আমাদের নিকট আগমন করিলেন, তখন আমরা ছিলাম নয়জন। তিনি বলিলেন, দেখ, আমার পর শাসক হবে, যে ব্যক্তি তাদের মিথ্যাকে স্বীকার করবে, আর অত্যাচারে তাদের সাহায্য করবে, সে আমার দলভূক্ত নয় এবং আমার সাথে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। কিয়ামতের দিন সে আমার হাওযে আসবে না, আর যারা এ সকল শাসকের মিথ্যাকে সত্য বলবে না, আর জুলুমেও তাদের সাহায্য করবে না; সে আমার সাথী এবং আমিও তার সাথী আর এ ব্যক্তি আমার হাওযে আগমন করবে।[67]

কাব ইবনু উজরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নয় ব্যক্তি ছিলাম, রাঃসাঃ  আমাদের নিকট আগমন করিলেন। আমাদের পাচ ব্যক্তি আরবী, আর চার ব্যক্তি ছিল অনারব। রাঃসাঃ  বলিলেন, শুন, তোমরা শুনে থাকবে যে, আমার পরে শাসক হবে। যারা তাদের নিকট গিয়ে তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে প্রতিপাদন করবে, আর অত্যাচারে তাদের সাহায্য করবে আমি তার নই, আর সেও আমার নয়। সে আমার হাওযে আসতে পারবে না। আর যারা তাদের নিকট যাবে না তাদের মিথ্যাকে সত্য প্রতিপাদন করবে না এবং তাদের অত্যাচারে সাহায্য করবে না সে হবে আমার সাথী এবং আমিও হবো তার সাথী, আর সে আমার হাওযে আগমন করবে।[68]

আব্দুর রহমান ইবনু ইব্রাহীম আমর ইবনু মায়মূন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু`আয ইবনু জাবাল রাদি. `আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিনিধি হিসাবে আমাদের নিকট ইয়ামনে আগমন করেন। ফজরেব নামাযে তাহাঁর কন্ঠস্বর বড় ছিল। এবং তাহাঁর সাথে আমার প্রগাঢ় মহব্বত সৃষ্টি হওয়ায় আমি তাহাঁর সাথে অবস্থান করতাম। অতঃপর শামদেশে তিনি ইন্তেকাল করলে আমি তাঁকে সেখানে দাফন করি তাহাঁর ইন্তেকালের পর আমি অপর একজন জ্ঞান তাপস সাহাবীর অন্বেষণে বের হয়ে ইবনু মাসউদ রাদি. `আনহুর খিদমতে হাযির হই এবং তাহাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত তাহাঁর সাথে অবস্থান করি একদা হযরত ইবনু মাসউদ রাদি. `আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেন, যখন শাসকবর্গ বিলম্বে নামায আদায় করবে তখন তুমি কি করবে? আমি বলি- ইয়া রাসূল্লাল্লাহ্! এমতাবস্থায় আপনি আমাকে কি করার নির্দেশ দেন? তিনি বলেন, তুমি নির্ধারিত সময়ে একাকী নামায আদায় করবে। অতঃপর তাদের সাথে জামাআতে আদায়কৃত নামায পুনরায় নফল হিসাবে আদায় করবে।[69]

মুহাম্মদ ইবনু জুবায়ের ইবনু মুত্`ঈম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু`আবিয়া রাদি. `আনহুর নিকট কুরাইশ প্রতিনিধিদের সহিত তার উপস্থিতিতে সংবাদ পৌছলো যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদি. `আনহু বর্ণনা করেন, অচিরেই কাহতান বংশীয় একজন বাদশাহর আবির্ভাব ঘটবে। ইহা শুনে মু`আবীয়া রাদি. `আনহু ক্রোধান্বিত হয়ে খুত্বা দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য হামদ ও সানার পর তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি, তোমাদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক লোক এমন সব কথাবার্তা বলতে শুরু করেছ যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেও বর্ণিত হয়নি। এরাই মূর্খ, এদের থেকে সাবধান থাক এবং এরূপ কাল্পনিক ধারনা হতে সতর্ক থাক যা-এর পোষণকারীকে বিপথগামী করে। রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃকে আমি বলতে শুনেছি যে, যতদিন তারা দীন কায়েমে নিয়োজিত থাকবে ততদিন খিলাফত ও শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের হাতেই থাকবে। এ বিষয়ে যে-ই তাদের সহিত শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে অধঃমুখে নিক্ষেপ করবেন [অর্থাৎ লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন]।[70]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

মানুষ অজ্ঞ লোকদেরকে রাজা বাদশাহ বানাবে

আবদুল্লাহ্ ইবনু `আমর ইবনুল `আস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ্ তা`আলা বান্দার অন্তর থেকে ইলম বের করে উঠিয়ে নেবেন না; বরং আলিমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। যখন কোনো আলিম বাকী থাকবে না তখন লোকেরা জাহিলদেরই নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তারা না জেনেই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও গোমরাহ হবে, আর অপরকেও গোমরাহ করবে।[71]

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ মজলিসে লোকদের সামনে কিছু আলোচনা করছিলেন। ইতিমধ্যে তাহাঁর কাছে একজন বেদু্ঈন এসে প্রশ্ন করিলেন, `কিয়ামত কবে?` রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ তাহাঁর আলোচনায় রত রইলেন। এতে কেউ কেউ বলিলেন, লোকটি য বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা পছন্দ করেন নি। আর কেউ কেউ বলিলেন বরং তিনি শুনতেই পান নি। রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ আলোচনা শেষ করে বলিলেন, `কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথয়?` সে বলল, `এই যে আমি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্!` তিনি বলিলেন, `যখন আমানত নষ্ট করা হয় তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।` সে বলল, `কিভাবে আমানত নষ্ট করা হয়?` তিনি বলিলেন, `যখন কোনো কাজের দায়িত্ব অনুপযুক্ত লোকের প্রতি ন্যস্ত হয়, তখন তুমি কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।`[72]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

মহামারী মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না।

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, মদীনা নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না মাসীহ দাজ্জাল, আর না মহামারী।[73]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে।

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাঃসাঃ বলিয়াছেন, ইয়য়াহূদীরা একাত্তর বা বাহাত্তর ফিরকায় [দলে] বিভক্ত হয়েছে; নাসারারাও একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত, আর আমার উম্মাত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে।[74]

মু`আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাঃসাঃ আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেন, জেনে রাখ! তোমাদের আগের আহলে-কিতাব [ইয়াহূদ ও নাসারা]গণ বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছে, আর এ মিল্লাতের লোকগণ অদূর ভবিষ্যতে তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে। এক ফিরকা হবে জান্নাতী; আর তারা ঐ জামাআতভূক্ত, যারা আল্লাহর কিতাব এবং তাহাঁর রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী হবে। রাবী ইবনু ইয়াহ্ইয়া এবং আমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাদের হাদীসে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে অদূর ভবিষ্যতে এমন একদল লোক সৃষ্টি হবে, যাদের মাঝে গুমরাহী এভাবে বিস্তার লাভ করবে, যেমন ক্ষিপ্ত কুকুরের কাঁমড়ানোর ফলে সৃষ্ট রোগ [যা রোগীকে পাগল বানিয়ে দেয়]। রাবী আমার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন।, ক্ষিপ্ত কুকুরের দংশন জনিত রোগ – এমন একটা মারাত্নক ব্যাধি যার বিষাক্ত প্রভাব থেকে রোগীর দেহের রগ ও জোড় কিছুই রক্ষা পায় না।[75]

হাজার ইবনু হাজার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা ইরবাদ ইবনু সারিয়া রাদি. `আনহুর নিকট গমন করি, যার শানে এ আয়াত নাযিল হয়, “তাদের জন্য কোনো অসুবিধা নেই, যারা আপনার নিকট এ জন্য আসে যে, আপনি তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করবেন। আপনি বলেন, আমি তো তোমাদের জন্য কোনো বাহন পাই না”। [কোরআনের সুরা তাওবা: ৯২] রাবী বলেন, আমরা তাহাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম করি এবং বলি, আমরা আপনাকে দেখার জন্য, আপনার খিদমতের জন্য এবং আপনার কাছ থেকে কিছু সংগ্রহের জন্য এসেছি। তখন তিনি বলেন, একদা রাঃসাঃ আমাদের সঙ্গে নামায আদায়ের পর, আমাদের দিকে ফিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন, যাতে আমাদের চোখ অশ্রু ভারাক্রান্ত হয় এবং অন্তর ভীত-সন্ত্রস্থ হয়। আমাদের মধ্যে একজন বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! মনে হচ্ছে এ আপনার বিদায়ী ভাষণ, কাজেই আপনি আমাদের আরো কিছু অছীয়ত করুন। তখন তিনি রাঃসাঃ বলেন, আমি তোমাদের তাকওয়া অবলম্বনের জন্য বলছি এবং শোনা ও মানার জন্যও, যদিও তোমাদের আমীর হাবশী গোলাম হয়। কেননা, তোমাদের মাঝে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা বহু মতভেদ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমাদের উচিত হবে আমার ও আমার খুলাফায়ে-রাশেদার সুন্নাতের অনুসরণ করা, যারা সত্য ও ন্যায়ের অনুসারী। তোমরা তাদের দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করবে। তোমরা বিদ`আতের অনুসরণ ও অনুকরণ করা হতে দূরে থাকবে। কেননা, প্রত্যেক নতুন কথাই বিদ`আত এবং প্রত্যেক বিদ`আতই গুমরাহী।[76]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

ইলম উঠে যাবে এবং যিনা ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে।

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিয়াছেন যে, কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হল, ইলম লোপ পাবে, অজ্ঞাতার বিস্তৃতি ঘটবে, মদপান ব্যাপক হবে এবং ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে।[77]

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তোমাদের এমন একটি হাদীস বর্ণনা করব যা আমার পর তোমাদের কাছে আর কেউ বর্ণনা করবেন না। আমি রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃকে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হল, ইলম কমে যাবে, অজ্ঞতার প্রসার ঘটবে, ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, স্ত্রীলোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে, এমনকি প্রতি পঞ্চাশজন স্ত্রীলোকের জন্য মাত্র একজন পুরুষ হবে তত্ত্বাবধায়ক।[78]

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ বলেন, [শেষ যামানায়] `ইল্‌ম তুলে নেওয়া হবে, অজ্ঞতা ও ফিতনার প্রসার ঘটবে এবং `হারাজ` বেড়ে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ! `হারাজ` কি? তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বলিলেন, `এ রকম।` যেন তিনি এর দ্বারা `হত্যা` বুঝিয়েছিলেন।[79]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তুর্কীদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ হবে।

আম্‌র ইবনু তাগলিব রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন কিয়ামতের আলামতসমূহের একটি এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা পশমের জুতা পরিধান করবে। কিয়ামতের আর একটি আলামত এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের মূখ হবে চওড়া, যেন তাদের মুখমন্ডল পিটানো চামড়ার ঢাল।[80]

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, তোমরা এমন তুর্ক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চেপ্‌টা এবং মুখমন্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের।[81]

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষন না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমন্ডল হবে পিটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়। সুফিয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আ`রাজ সূত্রে আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু থেকে আবুযযিনাদ এই রেওয়ায়তে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; তাদের চোখ হবে ছোট, নাক হবে চেপ্টা, তাদের চেহারা যেন পিটানো ঢালের ন্যায়।[82]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর উম্মত দুনিয়ার ব্যাপারে অতিউৎসাহী হবে।

আবূ সাঈদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, আল্লাহ তা`আলা তোমাদের জন্যে যমীনের বরকতসমূহ প্রকাশিত করে দেবেন। আমি তোমাদের জন্যে এ ব্যাপারেই সর্বাধিক আশংকা করছি। জিজ্ঞাসা করা হলো, যমীনের বরকতসমূহ কি? তিনি বলিলেন, দুনিয়ার ঝাঁকজমক। তখন এক ব্যাক্তি তার কাছে বলিলেন, ভালো কি মন্দ নিয়ে আসবে? তখন নাবী রাঃসাঃ কিছুক্ষন নীরব থাকলেন, যদ্দরুন আমরা ধারণা করলাম যে, এখন তার উপর অহী নাযিল হচ্ছে। এরপর তিনি তার কপাল থেকে ঘাম মুছে জিজ্ঞাসা করিলেন, প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল, আমি, আবূ সাঈদ রাদি. `আনহু বলেন, যখন এটি প্রকাশ পেল, তখন আমরা প্রশ্নকারীর প্রশংসা করলাম। রাঃসাঃ বলিলেন, ভালো একমাত্র ভালোকেই বয়ে আনে। নিশ্চয়ই এ ধনেদৈালত সবুজ শ্যামল সুমিষ্ট। অবশ্য বসন্ত যে সবজি উৎপাদন করে, তা ভক্ষনকারী পশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় অথবা নিকটে করে দেয়, তবে প্রানী পেট ভরে খেয়ে সূর্য মুখী হয়ে জাবর কাটে, মল-মূত্র ত্যাগ করে এবং পুনঃখায় [এর অবস্থা ভিন্ন]। এ পৃথিবীর ধনদৈালত তদ্রুপ সুমিষ্ট, যে ব্যক্তি তা সৎভাবে গ্রহণ করবে এবং সৎকাজে ব্যায় করবে, তা তার খুবই সাহায্যকারী হবে। আর যে তা অন্যায়ভাবে গ্রহন করবে, তার অবস্থা হবে ঔ ব্যাক্তির মত যে খেতে থাকে আর পরিতৃপ্ত হয় না।[83]

`উকবা ইবনু আমির রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, একদিন রাঃসাঃ বের হলেন এবং উহুদের শহীদানের উপর নামায আদায় করিলেন, যেমন তিনি মুর্দার উপর নামায আদায় করে থাকেন। তারপর মিম্বরে আরোহন করে বললেনঃ আমি তোমাদের অগ্রণী, আমি তোমাদের সাক্ষী হব। আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি আমার —হাওয্` কে এখন দেখছি। আমাকে তো জমিনের ধনাগারের চাবিসমূহ অথবা জমিনের চাবিসমূহ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের উপর এ আশংকা করছি যে, তোমরা দুনিয়ার ধন সম্পদে আসক্ত হয়ে যাবে।[84]

আমর ইবনু আওফ রাদি. `আনহু, তিনি বনী আমর ইবনু লুওয়াই- এর সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন এবং রাঃসাঃ  এর সঙ্গে বদরের যুদ্ধে ও শরীক ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন, একবার রাঃসাঃ আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ্ কে জিজিয়া আদায় করার জন্য বাহরাইন পাঠালেন। রাঃসাঃ বাহরাইন বাসীদের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন এবং তাদের উপর আলা ইবনু হাযরামী রাদি. `আনহুকে আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। আবূ উবায়দা রাদি. `আনহু বাহরাইন থেকে মালামাল নিয়ে আসেন, আনসারগণ তার আগমনের সংবাদ শুনে ফজরের সালাতে রাঃসাঃ এর সঙ্গে শরীক হন। নামায শেষে তারা তার সামনে এলেন। তিনি তাহাঁদের দেখে হেসে বলিলেন, আমি মনে করি তোমরা আবূ উবায়দা রাদি. `আনহুর আগমনের এবং তিনি যে মাল নিয়ে এসেছেন সে সুসংবাদ শুনেছ। তাঁরা বলিলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ, তিনি বলিলেন, তোমরা এ সুসংবাদ গ্রহন করো এবং তোমরা আশা রেখো, যা তোমাদেরকে খুশি করবে, তবে, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের উপর দরিদ্রতার আশংকা করছি না বরং আশংকা করছি যে, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের উপর যেমন দুনিয়া প্রশস্ত করে দেওয়া হয়েছিল, তেমনি তোমাদের উপরও দুনিয়া প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। আর তোমরা যা নয় তা তোমাদের আখিরাত বিমুখ করে ফেলবে, যেমন তাদের জন্যে আখিরাত বিমুখ করেছিল।[85]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

কিছু লোক কুরাআন বেচে খাবে।

জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ্ রাদি. `আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা যখন আমরা কিরা`আত পাঠে মগ্ন ছিলাম, তখন হঠাৎ সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগমন করেন এবং এ সময় আমাদের মধ্যে আরব বেদুইন ও অনারব লোকেরা ছিল। তিনি রাঃসাঃ বলেন, তোমরা পাঠ কর, সকলেই উত্তম। কেননা অদুর ভবিষ্যতে এমন সম্প্রদায় নির্গত হবে, যারা কুরআনকে তীরের মত ঠিক করবে [অর্থাৎ তাজবীদ নিয়ে অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করবে], তা দ্রুত গতিতে পাঠ করবে, ধীরস্হিরভাবে পড়বে না।[86]

সাহল ইবনু সা`দ রাদি. `আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দিন আমরা কিরা`আত পাঠ করাকালীন নাবী রাঃসাঃ উপস্হিত হয়ে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! আলল্লাহর কিতাব- একই এবং তোমাদের কেউ লাল, কেউ সাদা এবং কেউ কাল রঙের। তোমরা ঐ সম্প্রদায়ের আবির্ভাবের পূর্বে কিরাআত পাঠ কর যারা কুরআনকে তীরের ন্যায় দৃঢ় করবে। তারা কুরআন পাঠের [বিনিময় দুনিয়াতে পেতে] তাড়াহুড়া করবে এবং [আখিরাতের] অপেক্ষা করবে না।[87]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

শাসকগোষ্ঠী ও আলেম ও ইসলামী দলের মাঝে পরস্পর শত্রুতা থাকবে।

`আমির ইবনু সা`দ তাহাঁর পিতা থেকে সা`দ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ  একদা আলিয়া হতে এসে বনূ মু`আবিয়ায় অবস্হিত মসজিদের নিকট গেলেন। অতঃপর তিনি উক্ত মসজিদে প্রবেশ করে দুরাকআত নামায আদায় করিলেন। আমরাও তার সাথে সালতি আদায় করলাম। এ সময় তিনি তার প্রতিপালকের নিকট দীর্ঘ দুআ করিলেন। এবং দো`আ শেষে আমাদের নিকট ফিরে এলেন। এরপর তিনি বলিলেন, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তিনটি জিনিস কামনা করেছি। তন্মধ্যে তিনি আমাকে দুটি প্রদান করেছেন এবং একটি প্রদান করেননি। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট কামনা করেছিলাম, যেন তিনি আমার উম্মাতকে দুর্ভিক্ষের দারা ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দো`আ কবুল করেছেন তাহাঁর নিকট এও প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমার উম্মাতকে পানিতে ড়ুবিয়ে ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দু`আও কবুল করেছেন। আমি তাহাঁর নিকট এ মর্মেও দো`আ করেছিলাম যে, যেন মুসলিম পরস্পর একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত না হয়। তিনি আমার এ দো`আ কবুল করেননি।[88]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর উম্মত ইসলামের শত্রুর অনুসরণ করবে।

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু নাবী রাঃসাঃ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না আমার উম্মাত পূর্বযুগীয়দের আচার-অভ্যাসকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে গ্রহণ না করবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ রাঃসাঃ! পারস্য ও রোমকদের মত কি? তিনি বলিলেন: লোকদের মধ্যে আর কারা? এরাই তো![89]

আবূ সাঈদ খুদরী রাদি. `আনহু নাবী রাঃসাঃ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলিয়াছেন: নিশ্চয় তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের আচার-আচরণকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে অনুকরণ করবে। এমনকি তারা যদি গুঁইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও এতে তাদের অনুকরণ করবে। আমরা বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরা কি ইহুদী ও নাসারা? তিনি বলিলেন: আর কারা? [90]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর উম্মতের কিছু লোক হালাল হারাম উপার্জনের ক্ষেত্রে পরোয়া করবে না।

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু সূত্রে রাসূলূল্লাহ্ রাঃসাঃ হইতে বর্ণিত, এমন এক যুগ আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করবেনা যে, সে কোথা থেকে অর্জন করল, হালাল থেকে না হারাম থেকে।[91]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

পথভ্রষ্ট আহলে কুরআনীদের সম্পর্কে সংবাদ।

মিকদাম ইবনু মা`দীকরাব রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, জেনে রাখ! আমাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে এবং এর সাথে অনুরূপ [হাদীস] দেওয়া হয়েছ। অদূর ভবিষ্যতে একজন অভাবহীন তৃপ্ত ব্যক্তি তার খাটের উপর অবস্থান করে বলবে, তোমরা এ কুরআনকে গ্রহণ কর এবং এতে যা হালাল বলা হয়েছে, তা হালাল হিসাবে গ্রহণ কর; আর যা হারাম বলা হয়েছে তা হারাম হিসাবে গ্রহণ কর। জেনে রাখ! গৃহ-পালিত গাধার গোশত তোমাদের জন্য হালাল নয়, কোনো হিংস্র জন্তুর গোশত ও হালাল নয়, কোনো যিম্মীর পরিত্যক্ত মাল হালাল নয়, তবে যদি তার মালিক তা থেকে বে-পরওয়া হয়, সে আলাদা ব্যাপার। আর যদি কেউ মেহমান হিসারে কোনো কাওমের কাছে যায়, তবে তাদের উচিত তার মেহমানদারী করা। তারা যদি সে ব্যক্তি মেহমানদারী না করে, তবে তাদের নিকট থেকে মেহমানের হক গ্রহণ করার অধিকার তার থাকবে।[92]

আবূ রাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, আমি তোমাদের মাঝে কাউকে এরূপ পাব না, যে তার খাটের উপর বালিশে হেলান দিয়ে থাকে। যদি তার কাছে আমার কোন আদেশ বা নিষেধ আসে, তখন সে বলেঃ আমি তো এ জানি না। বরং আমি আল্লাহ্র কিতাবে যে নির্দেশ পেয়েছি, তার অনুসরণ করি।[93]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

নিঃস্ব দরিদ্র লোকেরা বিরাট বিরাট অট্রালিকার মালিক হওয়ার প্রতিযোগিতায় গর্বিত হবে।

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন কর। সাহাবা কিরাম তার কাছে প্রশ্ন করতে ভয় পেলেন। [রাবী বলেন] তারপর একজন লোক এলেন এবং তাহাঁর কাছে বসে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ইসলাম কী? রাসুল রাঃসাঃ বলিলেন, ইসলাম হলো, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, নামায কায়েম করবে, যাকাত দিবে, রমাদানের সাওম পালন করবে। আগন্তুক বলিলেন, আপনি ঠিকই বলিয়াছেন। তারপর বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ঈমান কী? রাসুল রাঃসাঃ বলিলেন, আল্লাহর প্রতি, তাহাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাহাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাহাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি, উখানের বিষয়ে এবং পুরোপুরি তাকদীরে ঈমান রাখবে। আগন্তুক বলিলেন, আপনি ঠিকই বলিয়াছেন। তারপর বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ইহসান কী? রাসুল রাঃসাঃ বলিলেন, আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করবে, যেন তাঁকে দেখছ, যদি তাকে নাও দেখ; তাহলে ধারণা করবে যে তিনি তোমাকে দেখছেন। আগন্তুক বলিলেন, আপনি যথার্থ বলিয়াছেন। তারপর বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কিয়ামত কখন ঘটবে? রাঃসাঃ  বলিলেন, এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রশ্নকারীর চাইতে অধিক অবহিত নয়। তবে আমি কিয়ামতের কিছু আলামত বর্ণনা করছি। যখন দেখবে, দাসী তার মুনিবকে জন্ম দেবে, এটা কিয়ামতের একটি আলামত। আর যখন দেখবে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, বধির ও মূকেরা দেশের শাসক হয়েছে, এটিও কিয়ামতের একটি আলামত। আর যখন দেখবে, মেষপালক বিরাট বিরাট অট্রালিকার মালিক হওয়ার প্রতিযোগিতায় গর্বিত, এটিও কিয়ামতের একটি আলামত। পাঁচটি অদৃশ্য বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত কেউ কিছু জানে না। তারপর [তিনি কুরআনুল করীম-এর আয়াত] তিলাওয়াত করিলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাহাঁর কাছে রয়েছে কিয়ামতের মতের জ্ঞান। তিনি নাযিল করেন বৃষ্টি এবং তিনি জানেন, যা রয়েছে মাতৃগর্ভ জানে না কেউ, কি কামাই করবে সে আগামীকাল। আর জানে না কেউ, কোনো মাটিতে [দেশে] সে মারা যাবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব জানেন, সব খবর রাখেন। [কোরআনের সুরা লুকমান: ৩৪] তারপর আগন্তুক উঠে চলে গেলেন। রাঃসাঃ  সাহাবীদের বলিলেন, তাঁকে আমার কাছে ফিরিয়ে আন। তাঁকে তালাশ করা হলো, কিন্তু তাঁকে পাওয়া গেল না। তারপর রাঃসাঃ  বলিলেন, ইনি জিবরীল আলাইহিস সালাম তোমরা প্রশ্ন না করায়, তিনি চাইলেন যেন তোমরা দীন সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ কর।[94]

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া`মার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত, তিনি [ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া`মার] বলেন, সর্বপ্রথম `কাদর` সম্পর্কে বসরা শহরে মাবাদ আল জুহানী কথা তোলেন। আমি [ইয়াহইয়া ইবনু ইয়া`মার] এবং হুমায়দ ইবনু আব্দুর রহমান আল হিমায়রী হজ্জ অথবা উমরা আদায়ের জন্য মক্কায় আসলাম। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম যে, যদি রাঃসাঃ  এর কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ পাই তাহলে তাহাঁর কাছে এসব লোক তাকদীর সস্পর্কে যা বলে বেড়াচ্ছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করতাম। সৌভাগ্যক্রমে মসজিদে নববীতে আমরা আবদুল্লাহ ইবনু উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. `আনহুর দেখা পাই। আমরা তাহাঁর কাছে গিয়ে একজন তাহাঁর ডানপাশে এবং আর একজন বামপাশে বসলাম। আমার মনে হলো, আমার সাথী চান যে, আমিই কথা বলি। আমি আরয করলাম, হে আবু আবদুর রহমান! আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদি. `আনহুর কুনিয়াত ছিল আবু আবদুর রহমান। আমার দেশে এমন কতিপয় লোকের আবির্ভাব হয়েছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং ইলমে দীন সম্পর্কে গবেষণা করে। তিনি তাদের অবস্থা সস্পর্কে আরো কিছু উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, তারা মনে করে তাকদীর- বলতে কিছু নেই। সবকিছু তাৎক্ষনিকভাবে ঘটে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদি. `আনহু বলিলেন, তাদের সাথে তোমাদের দেখা হলে বলে দিও যে, তাদের সাথে আমার কোনো সস্পর্ক নেই এবং আমার সঙ্গে তাদেরও কোন সম্পর্ক নেই। আল্লাহর কসম! যদি এদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনার মালিক হয় এবং তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে, তাকদীরের প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত আল্লাহ তা কবুল করবেন না। তারপর তিনি বলিলেন, আমাকে আমার পিতা উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. `আনহু হাদীস শুনিয়েছেন যে, একদা আমরা রাঃসাঃ  এর খিদমতে ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাযির হলেন। তাহাঁর পরিধানের কাপড় ছিল সাদা ধবধবে, মাথার কেশ ছিল কাল কুচকুচে। তাহাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না। আমরা কেউ তাঁকে চিনি না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নাবী রাঃসাঃ এর দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নাবী রাঃসাঃ এর দুই উরুর উপর রাখলেন। তারপর তিনি বলিলেন, হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সস্পর্কে অবহিত করুন। রাঃসাঃ  বলিলেন, ইসলাম হলো, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ রাঃসাঃ আল্লাহর রাসুল, নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রামাদানের সাওম পালন করবে এবং বায়তুল্লাহ পৌছার সামর্থ্য থাকলে হজ্জ পালন করবে। আগন্তুক বলিলেন, আপনি ঠিকই বলিয়াছেন। তার কথা শুনে আমরা বিষ্মিত হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করেছেন আর তিনিই-তা সত্যায়িত করছেন। আগন্তুক বলিলেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল রাঃসাঃ বলিলেন, ঈমান হলো আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসুলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে, আর তাকদিরের ভালমন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। আগন্তুক বলিলেন,আপনি ঠিকই বলিয়াছেন। তারপর বলিলেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল রাঃসাঃ বলিলেন, ইহসান হলো, এমনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে ভাববে তিনি তোমাকে দেখছেন। আগন্তুক বলিলেন, আমাকে কিয়ামত সস্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল রাঃসাঃ বলিলেন, এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন। আগন্তুক বলিলেন, আমাকে এর আলামত সস্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল রাঃসাঃ বলিলেন, তা হলো এই যে, দাসী তার প্রভুর জননী হবে; আর নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ দরিদ্র মেষপালকদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে। উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. `আনহু বলিলেন যে, পরে আগন্তুক প্রস্থান করিলেন। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসুল রাঃসাঃ আমাকে বলিলেন, হে উমর! তুমি জান, এই প্রশ্নকারী কে? আমি আরয করলাম, আল্লাহ ও তাহাঁর রাসুলই সম্যক জ্ঞাত আছেন। রাসুল রাঃসাঃ বলিলেন, তিনি জিবরীল আলাইহিস সালাম। তোমাদের তিনি দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। [95]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

খাওয়ারিজদের আবির্ভাব ঘটবে।

আবু সাঈদ খুদরী রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামান থেকে আলী রাদি. `আনহু দাবাগাত করা চামড়ার থলিতে করে কিছু সোনা রাঃসাঃ  এর নিকট পাঠালেন। তখনো স্বর্নগুলো মাটি থেকে পৃথক করা হয়নি। রাঃসাঃ  এ গুলো চার ব্যক্তির মাঝে বণ্টন করে দিলেন। উয়ায়না ইবনু হিসন, আকরা ইবনু হাবিস, যায়িদ জাল-খায়ল, চতুর্থ ব্যক্তি হয় তো আলকামা ইবনু উলাসা অথবা আমির ইবনু তুফায়ল রাদি. `আনহু। তখন সাহাবাদের মধ্য থেকে একজন বলিলেন, তাদের থেকে আমরাই এ মালের অধিক হকদার ছিলাম। এ খবর নাবী রাঃসাঃ এর নিকট পৌঁছার পর তিনি বলিলেন, তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে কর না? অথচ যিনি আসমানে আছেন, তাহাঁর কাছে আমি আমানতদার। আমার কাছে সকাল সন্ধ্যায় আসমানের খবর আসে। রাবী বলেন, তখন কোটরাগত চোখ, ফোলাগাল, উঁচু ললাট, ঘন দাঁড়ি, মুন্ডিত মস্থক এবং লুঙ্গি কাঁচানো এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি আল্লাহকে ভয় করুন। তখন নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমার সর্বনাশ হোক। আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে পৃথিবীতে আমি কি সর্বাধিক যোগ্য নই? রাবী বলেন, অতঃপর লোকটি ফিরে চলে গেল। এ সময় খালিদ ইবনু ওয়ালীদ রাদি. `আনহু বলিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বলিলেন, না সম্ভবত সে নামায আদায় করে। খালিদ রাদি. `আনহু বলিলেন, অনেক মুসল্লী আছে যারা মুখ দিয়ে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। তখন রাঃসাঃ  বলিলেন, মানুষের হদয় অনুসন্ধানের এবং পেট বির্দিন্ন করার জন্য আমি আদিষ্ট হইনি। তারপর তিনি লোকটির দিকে তাকালেন, সে ঘাড় ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি বলিলেন, তার বংশে এমন লোক জন্মগ্রহণ করবে যারা অনায়াসে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দীন থেকে এভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন বেরিয়ে যায় তীর তার শিকার ভেদ করে। রাবী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এও বলিয়াছেন যদি আমি তাদের পাই তবে অবশ্যই আমি তাদের সামুদ সম্প্রদায়ের মত হত্যা করব।[96]

আবূ সাঈদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী কোনো কিছু বন্টন করছিলেন। ঘটনাক্রমে আবদুল্লাহ ইবনু যুলখুওয়ায়সিরা তামীমী এল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইনসাফ করুন। তিনি বলিলেন, আফসোস তোমার জন্য! আমি যদি ইনসাফ না করি তা হলে আর কে ইনসাফ করবে? উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. `আনহু বলিলেন, আমাকে অনুমতি দিন। তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বলিলেন, তাকে ছেড়ে দাও। তার জন্য সাথীবৃন্দ রয়েছে। যাদের সালাতের তুলনায় তোমরা তোমাদের নামাযকে তুচ্ছ মনে করবে। যাদের সিয়ামের তুলনায় তোমরা তোমাদের সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা দীন থেকে এরূপ বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তীরের পরে লক্ষ্য করলে তাতে কিছু পাওয়া যায় না। তীরের মুখের বেষ্টনীর প্রতি লক্ষ্য করলেও কিছু পাওয়া যায় না। তীরের কাঠের অংশের দিকে তাকালেও তাতে কিছু পাওয়া যায় না। বরং তীর তীব্র গতিতে বেরিয়ে যাওয়ার কালে তাতে মল ও রক্তের দাগ পর্যন্ত লাগে না। তাদের পরিচয় এই যে, তাদের একটি লোকের একটি হাত অথবা বলিয়াছেন, একটি স্তন্য হবে মহিলাদের স্তনের ন্যায়। অথবা বলিয়াছেন, বাড়তি গোশতের টুকরার ন্যায়। লোকদের মধ্যে বিরোধের সময় তাদের আবির্ভাব হবে। আবূ সা`ঈদ রাদি. `আনহু বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তা নাবী থেকে শুনেছি। এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী রাদি. `আনহু তাদেরকে হত্যা করেছেন। আমি তখন তাহাঁর সাথে ছিলাম। তখন নাবী প্রদত্ত বর্ণনার অনুরূপ ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল। তিনি বলেন, ওর সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে, ওদের মধ্যে এমন লোক আছে যে সাদকা সম্পর্কে তোমাকে দোষারোপ করে। [কোরআনের সুরা তাওবা: ৫৮] [97]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

মুশরিকরা বদরের যুদ্ধে পরাজিত হবে।

ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ বদরের দিন একটি গুম্বুরাজি তাঁবুতে অবস্থান কালে দো`আ করছিলেন, `ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার প্রতিজ্ঞা ও ওয়াদার দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি যদি চান, তাহলে আজকের পরে আর আপনার ইবাদাত করা হবে না`। এ সময় আবূ বকর রাদি. `আনহু তাহাঁর হাত ধরে বলিলেন, `ইয়া রাসূলাল্লাহ্, যথেষ্ট হয়েছে। আপনি বার বার মিনতির সঙ্গে আপনার রবের কাছে দো`আ করেছেন`। সে সময় নাবী রাঃসাঃ বর্ম পরিহিত ছিলেন। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করতে করতে বেরিয়ে এলেন: “শীঘ্রই দুশমনরা পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে অধিকন্তু কিয়ামত শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর। [কোরআনের সুরা আল-কামার: ৪৬] ওহাইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেন, `বদরের দিন`। [98]

বাইতুল মুকাদ্দিস বিজয়ের ব্যাপারে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আউফ ইবনু মালিক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাবুক যুদ্ধে রাঃসাঃ এর নিকট এলাম। তিনি তখন একটি চর্ম নির্মিত তাবুতে ছিলেন। রাঃসাঃ বলিলেন, কিয়ামতের পূর্বের ছয়টি আলামত গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, তারপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, তারপরও তোমাদের মাঝে ঘটবে মহামারী, বকরীর পালের মহামারীর মত, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ` দীনার দেওয়া সত্ত্বেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। তারপর এমন এক ফিতনা আসবে যা আরবের প্রতি ঘরে প্রবেশ করবে। তারপর যুদ্ধ বিরতির চুক্তি-যা তোমাদের ও রোমকদের [খৃষ্টানদের] মধ্যে সম্পাদিত হবে। এরপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকা উত্তোলন করে তোমাদের মোকাবিলায় আসবে; প্রত্যেক পতাকা তলে বার হাজার সৈন্য দল থাকবে।[99]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর পরে বারোজন আমীরেব আবির্ভাব হবে।

জাবির ইবনু সামুরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলূল্লাহ রাঃসাঃকে বলতে শুনেছি যে, বারোজন আমীর হবে। এরপর তিনি একটি কথা বলেছিলেন যা আমি শুনতে পারিনি। তবে আমার পিতা বলিয়াছেন যে, তিনি বলেছিলেন সকলেই কুরাইশ গোত্র থেকে হবে।[100]

রাঃসাঃ  এর পরে কিছু কল্যাণ ফিতনা সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী

উম্মে সালামা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে নাবী রাঃসাঃ ঘুম থেকে জেগে বলেন, সুবহানআল্লাহ! এ রাতে কতই না বিপদাপদ নেমে আসছে এবং কতই না ভাণ্ডার খুলে দেওয়া হচ্ছে! অন্য সব ঘরের মহিলাগণকেও জানিয়ে দাও, `বহু মহিলা যারা দুনিয়ায় বস্ত্র পরিহিতা, তারা আখিরাতে হবে বস্ত্রহীনা।`[101]

রাঃসাঃ  এর পরে যামানা পরিবর্তন হবে সে ব্যাপারে ভবিষ্যৎবাণী

যুবায়র ইবনু আদী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহুর নিকট গেলাম এবং হাজ্জাজের পক্ষ থেকে মানুষ যে নির্যাতন ভোগ করছে সে সম্পর্কে অভিযোগ পেশ করলাম। তিনি বলিলেন, ধৈর্য ধারণ কর। কেননা, মহান প্রতিপালকের সহিত মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত [মৃত্যুর পূর্বে] তোমাদের উপর এমন কোনো যুগ অতিবাহিত হবে না, যার পরবর্তী যুগ তার চেয়েও নিকৃষ্টতর নয়। তিনি বলেন, এ কথাটি আমি তোমাদের নাবী রাঃসাঃ থেকে শ্রবণ করেছি।[102]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর মৃত্যুর একশত বছর পরে তাহাঁর কোনো সাহাবী জীবিত থাকবেন না

`আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ তাহাঁর জীবনের শেষের দিকে আমাদের নিয়ে `ইশার নামায আদায় করিলেন। সালাম ফিরাবার পর তিনি দাঁড়িয়ে বলিলেন, তোমরা কি এ রাতের সম্পর্কে জান? বর্তমানে যারা পৃথিবীতে রয়েছে, একশ বছরের মাথায় তাদের কেউ আর বাকী থাকবে না।[103]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহুর হিফযের ব্যাপারে আল্লাহর বরকত।

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহুর হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বলিলাম, `ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আমি আপনার কাছ থেকে বহু হাদীস শুনি কিন্তু ভুলে যাই।` তিনি বলবেন তোমার চাদর খুলে ধর। আমি খুলে ধরলাম। তিনি দু`হাত অঞ্জলী করে তাতে কিছু ঢেলে দেওয়ার মত করে বলিলেন, এটা তোমার বুকের সাথে লাগিয়ে ধর। আমি তা বুকের সাথে লাগালাম। এরপর আমি আর কিছুই ভুলিনি। ইবরাহীম ইবনুল মুনযির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইবনু আবূ ফুদায়ক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন এবং তাতে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ তাহাঁর হাত দিয়ে সে চাদরের মধ্য [কিছু] দিলেন।[104]

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আপনারা বলে থাকেন, রাসূলূল্লাহ্ রাঃসাঃ থেকে আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু বেশী বেশী হাদীস বর্ণনা করে থাকে এবং আরো বলেন, মুহাজির ও আনসারদের কি হলো যে, তারা তো রাসূলূল্লাহ্ রাঃসাঃ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন না? [কিন্তু ব্যাপার হলো এই যে] আমার মুহাজির ভাইগন বাজারে কেনা-বেচায় ব্যাস্ত থাকতেন আর আমি কোনো প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে [খেয়ে না খেয়ে] রাসূলূল্লাহ্ রাঃসাঃ এর দরবারে পড়ে থাকতাম। তাঁরা যখন [কাজের ব্যাস্ততায়] অনুপস্থিত থাকতেন, আমি তখন উপস্থিত থাকতাম। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা সংরক্ষন করতাম। আর আমার আনসার ভাইয়েরা নিজেদের খেত-খামারের কাজে ব্যাপৃত থাকতেন। আমি ছিলাম আসহাবে সুফফার মিসকীনদের এক মিসকীন। তাঁরা যা ভুলে যেতেন, আমি তা সংরক্ষন করতাম। রাসূলূল্লাহ্ রাঃসাঃ তাহাঁর এক বর্ণনায় বলিলেন, আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দিবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তার কাপড় জড়িয়ে নেবে, আমি যা বলছি সে তা স্মরন রাখতে পারবে। [আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু বলেন] আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম, যতক্ষন না রাসূলূল্লাহ্ রাঃসাঃ তাহাঁর কথা শেষ করিলেন, পরে আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। ফলে আমি রাসূলূল্লাহ্ রাঃসাঃ এর সে কথার কিছুই ভুলিনি।[105]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

বৃষ্টির রাতে লাইলাতুল কদর হবে।

আবূ সালামা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ সায়ীদ খুদরী রাদি. `আনহুর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিলাম, আমাদের খেজুর বাগানে চলুন, [হাদীস সংক্রান্ত] আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন। আবূ সালাম রাদি. `আনহু বলেন, আমি তাকে বলিলাম, `লাইলাতুল কাদর` সম্পর্কে নাবী রাঃসাঃ থেকে যা শুনেছেন, তা আমার কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ রামযানের প্রথম দশ দিন ই`তিকাফ করিলেন। আমারও তাহাঁর সঙ্গে ই`তিকাফ করলাম। জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে বলিলেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর তিনি মধ্যবর্তী দশ দিন ই`তিকাফ করিলেন, আমরাও তাহাঁর সঙ্গে ই`তিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে বলিলেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর রামযানের বিশ তারিখ সকালে নাবী রাঃসাঃ খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বলিলেন, যারা আল্লাহ্ নাবীর সঙ্গে ই`তিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন [আবার ই`তিকাফ করেন] কেননা, আমাকে স্বপ্নে `লাইলাতুল কাদর` অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা [নির্ধারিত তারিখটি] ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোনো এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা করছি। তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোনো কিছুই [মেঘ] দেখিনি, এক বই হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর [বৃষ্টি] বর্ষিত হল। নাবী রাঃসাঃ আমাদের নিয়ে নামায আদায় করিলেন। এমন কি আমি রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাঁদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাহাঁর স্বপ্ন সত্যে পরিণত হলো।[106]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

সালেহীন তথা নেককার লোকেরা ক্রমান্বয়ে চলে যাবেন

মিরদাস আসলামী রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, নেককার লোকেরা ক্রমান্বয়ে চলে যাবেন। আর থেকে যাবে নিকৃষ্টরা- যব অথবা খেজুরের মত লোকজন। আল্লাহ্ তা`আলা এদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ ও করবেন না।[107]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তিনি তাহাঁর স্ত্রী আয়েশা রাদি. `আনহার আগে মারা যাবেন।

কাসিম ইবনু মুহাম্মদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা রাদি. `আনহা বলেছিলেন “হায় যন্ত্রনায় আমার মাথা গেল। তখন রাঃসাঃ বলিলেন, যদি এমনটি হয় আর আমি জীবিত থাকি তাহলে আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবো, তোমার জন্য দো`আ করবো। আয়েশা রাদি. `আনহা বলিলেন, হায় আফসুস, আল্লাহর কসম। আমার মনে হয় আপনি আমার মৃত্যুকে পছন্দ করেন। আর এমনটি হলে আপনি পরের দিনই আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীদের সংগে রাত যাপন করতে পারবেন। নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, বরং আমি আমার মাথা গেল বলার বেশী যোগ্য। আমি তো ইচ্ছা করেছিলাম কিংবা বলিয়াছেন, আমি ঠিক করেছিলাম, আবূ বকর রাদি. `আনহু ও তার ছেলের নিকট সংবাদ পাঠাবো এবং অসীয়ত করে যাবো, যেন লোকদের কিছু বলার অবকাশ না থাকে কিংবা আকাঙ্খাকারীদের কোনো আকাঙ্খা করার অবকাশ না থাকে। তারপর ভাবলাম। আল্লাহ [আবূ বকর রাদি. `আনহু ব্যতীত অন্য কেউ খিলাফতের আকাঙ্খা করুক] তা অপছন্দ করবেন, মু`মিনগন তা পরিহার করবেন। কিংবা তিনি বলিয়াছেন, আল্লাহ তা পরিহার করবেন এবং মু`মিনগন তা অপছন্দ করবেন।[108]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর উম্মতের কিছু লোক কিছু হারামকে হালাল মনে করবে।

আবদুর রহমান ইবনু গানাম আশ`আরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট আবূ আমের কিংবা আবূ মালেক আশ`আরী রাদি. `আনহু বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর কসম! তিনি আমার কাছে মিথ্যে কথা বলেননি। তিনি রাঃসাঃ কে বলতে শুনেছেন: আমার উম্মতের মাঝে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে। অনুরূপভাবে এমন অনেক দল হবে, যারা পর্বতের কিনারায় বসবাস করবে, বিকাল বেলায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে ফিরবে তখন তাদের কাছ কোনো অভাব নিয়ে ফকীর আসলে তারা উত্তর দেবে, আগামী দিন সকালে তুমি আমাদের নিকট এসো। এদিকে রাতের অন্ধকারেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন। পর্বতটি ধসিয়ে দেবেন, আর অবশিষ্ট লোকদের তিনি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বানর ও শূকর বানিয়ে রাখবেন।[109]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

মুশরিকরা খন্দকের যুদ্ধের পরে মদীনায় এসে যুদ্ধ করবে না, বরং মদীনাবাসিরাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।

সুলায়মান ইবনু সুরাদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন যে, এখন থেকে আমরাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তারা আর আমাদের প্রতি আক্রমণ করতে পারবে না।[110]

সুলায়মান ইব্ন সুরাদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনী মদীনা ছেড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হলে নাবী রাঃসাঃকে আমি বলতে শুনেছি যে, এখন থেকে আমরাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তারা আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে পারবেনা। আর আমরা তাদের এলাকায় গিয়েই আক্রমণ করব।[111]

 রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

সা`দ রাদি. `আনহুর দ্বারা কিছু লোক উপকৃত হবে এবং কিছু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মুসলমানেরা তাহাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং পারসিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সা`দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস রাদি. `আনহু বলেন, বিদায় হজ্জের বছর আমি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর নিকটবর্তী হয়ে পড়ি তখন রাঃসাঃ আমাকে দেখতে আসেন। তখন আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার রোগ কি পর্যায়ে পৌঁছেছে তা আপনি দেখতে পাচ্ছেন। আমি একজন বিত্তবান লোক। আমার ওয়ারিশ হচ্ছে একটি মাত্র কন্যা। আমি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ আল্লাহর রাস্তায় সাদকা দিব? তিনি বলিলেন না। আমি বলিলাম, তবে কি অর্ধেক? তিনি বলিলেন, হে সা`দ এক-তৃতীয়াংশ দান কর। এ তৃতীয়াংশই অনেক বেশী। তুমি তোমার সন্তান-সন্ততিদেরকে বিত্তবান রেখে যাও ইহাই উত্তম, এর চাইতে যে তুমি তাদেরকে নিঃস্ব রেখে গেলে যে তারা অন্যের নিকট হাত পেতে ভিক্ষা করে। তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের সম্পদশালী রেখে যাবে আর তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা ব্যয় করবে, আল্লাহ তার প্রতিদান তোমাকে দেবে। তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দিবে এর প্রতিদানও আল্লাহ তোমাকে দেবে। আমি বলিলাম, ইয়া আল্লাহ্! আমি কি আমার সাথী সঙ্গীদের থেকে পিছনে পড়ে থাকব? তিনি বলিলেন, তুমি কখনই পিছনে পড়ে থাকবেনা আর এ অবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তুমি যে কোনো নেক `আমল করবে তাহলে তোমার সম্মান ও মর্যাদা আরো বেড়ে যাবে। সম্ভবতঃ তুমি পিছনে থেকে যাবে এবং এর ফলে তোমার দ্বারা অনেক মানুষ উপকৃত এবং অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। হে আল্লাহ্! আমার সাহাবীদের হিজরতকে অক্ষুন্ন রাখুন। তাদেরকে পশ্চাৎমুখি করে ফিরিয়ে নিবেন না। কিন্তু অভাবগ্রস্থ সা`দ ইবনু খওলার মক্কায় মৃত্যুর কারণে রাঃসাঃ তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করিলেন। আহমদ ইবনু ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ও মূসা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইব্রাহীম সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তোমরা উত্তরাধিকারীদের রেখে যাওয়া…।[112]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর হায়াত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আবূ সাঈদ খুদরী রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, রাঃসাঃ মিম্বরে বসলেন এবং বলিলেন, আল্লাহ তাহাঁর এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটির ইখতিয়ার দিয়েছেন। তাহাঁর একটি হল- দুনিয়ার ভোগ-সম্পদ আর একটি হল আল্লাহ্‌র নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তাই পছন্দ করিলেন। একথা শুনে, আবূ বকর রাদি. `আনহু কেঁদে ফেললেন, এবং বলিলেন, আমাদের পিতা-মাতাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করলাম। তাহাঁর অবস্থা দেখে আমরা বিস্মিত হলাম। লোকেরা বলতে লাগল, এ বৃদ্ধের অবস্থা দেখ রাঃসাঃ এক বান্দার সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ পার্থিব ভোগ-সম্পদ দেওয়ার এবং তাহাঁর কাছে যা হয়েছে, এ দু`য়ের মধ্যে ইখতিয়ার দিলেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতাপিতা উৎসর্গ করলাম। [প্রকৃতপক্ষে] রাঃসাঃই হলেন সেই ইখতিয়ার প্রাপ্ত বান্দা। আর আবূ বকর রাদি. `আনহুই হলেন আমাদের মধ্যে সবচাইতে বিজ্ঞ ব্যাক্তি। রাঃসাঃ বলেন, যে ব্যক্তি তার সহচর্য ও মাল দিয়ে আমার প্রতি সর্বাধিক ইহসান করেছেন তিনি হলেন আবূ বকর রাদি. `আনহু। যদি আমি আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূ বকরকেই করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবূ বকর রাদি. `আনহুর দরজা ছাড়া অন্য কারো দরজা খোলা থাকবে না।[113]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আয়েশা রাদি. `আনহা তাহাঁর স্ত্রী হবেন।

আয়েশা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমাকে আমায় দু`বার স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম, এক ব্যক্তি তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বহন করে নিয়ে আসছে এবং বলছে ইনি আপনার স্ত্রী। আমি তার নিকাব উন্মোচন করে দেখতে পাই যে ঐ মহিলাটি তুমিই এবং আমি বলেছি, যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে তা হলে তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন।[114]

আয়েশা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমাকে [আয়েশাকে] শাদী করার পূর্বেই দু`বার আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি দেখেছি, একজন ফেরেশতা তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বহন করে নিয়ে আসছে। আমি বলিলাম, আপনি নিকাব উন্মোচন করুন। যখন সে নিকব উন্মোচন করল তখন আমি দেখতে পেলাম যে, উক্ত মহিলা তুমিই। আমি তখন বলিলাম, এটা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন। এরপর আবার আমাকে দেখানো হল যে, ফেরেশতা তোমাকে রেশমী এক টুকরা কাপড়ে জড়িয়ে বহন করে নিয়ে আসছে। আমি বলিলাম, আপনি [তার নিকাব] উন্মোচন করুন। সে তা উন্মোচন করলে আমি দেখতে পাই যে, উক্ত মহিলা তুমিই। তখন আমি বলিলাম: এটা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে তাহলে তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন।[115]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তিনি আবু বকর রাদি. `আনহুর আগে ইনতেকাল করবেন।

জুবায়র ইবনু মুতঈম রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা নাবী রাঃসাঃ এর খেদমতে এলো। [আলোচনা শেষে যাওয়ার সময়] তিনি তাঁকে আবার আসার জন্য বলিলেন। মহিলা বলল, আমি এসে যদি আপনাকে না পাই তবে কি করব? একথা দ্বারা মহিলাটি নাবী রাঃসাঃ এর ওফাতের প্রতি ইঙ্গিত করেছিল। নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, যদি আমাকে না পাও তবে আবু বকরের নিকট আসবে। [116]  

খাইবার বিজয় সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আনাস রাদি. `আনহু থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ যখনই আমাদের নিয়ে কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যেতেন, ভোর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করতেন না বরং লক্ষ্য রাখতেন, যদি তিনি তখন আযান শুনতে পেতেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকতেন। আর যদি আযান শুনতে না পেতেন, তাহলে অভিযান চালাতেন। আনাস রাদি. `আনহু বলেন, আমারা খায়বারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং রাতের বেলায় তাদের সেখানে পৌছলাম। যখন প্রভাত হল এবং তিনি আযান শুনতে পেলেন না; তখন রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ সাওয়ার হলেন। আমি আবূ তালহা রাদি. `আনহুর পিছনে সাওয়ার হলাম। আমার পা, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর কদম মুবারকের সাথে লেগে যাচ্ছিল। আনাস রাদি. `আনহু বলেন, তারা তাদের থলে ও কোদাল নিয়ে বেরিয়ে আমাদের দিকে আসল। হঠাৎ তারা যখন নাবী রাঃসাঃকে দেখতে পেল, তখন বলে উঠল, `এ যে মুহাম্মদ রাঃসাঃ, আল্লাহ্‌র শপথ! মুহাম্মদ রাঃসাঃ তাহাঁর পঞ্চ বাহিনী সহ!` আনাস রাদি. `আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ তাদের দেখে বলে উঠলেন, `আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, খায়বার ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোনো কাওমের আঙ্গিনায় অবতরণ করি, তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হবে কত মন্দ![117]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

উমাইয়্যাহ ইবনু খালফ নিহত হবে।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাদ ইবনু মু`আয রাদি. `আনহু [আনসারী] ওমরা আদায় করার জন্য [মক্কা] গমন করিলেন এবং সাফওয়ানের পিতা উমাইয়া ইবনু খালাফ এর বাড়িতে তিনি অতিথি হলেন। উমাইয়াও সিরিয়ায় গমনকালে [মদিনায়] সা`দ রাদি. `আনহুর বাড়িতে অবস্থান করত। উমাইয়া সা`দ রাদি. `আনহুকে বলল, অপেক্ষা করুন, যখন দুপুর হবে এবং যখন চলাফেরা কমে যাবে, তখন আপনি যেয়ে তাওয়াফ করে নিবেন। [অবসর মুহূর্তে] সা`দ রাদি. `আনহু তাওয়াফ করছিলেন। এমতাবস্থায় আবু জেহেল এসে হাজির হল। সা“দ রাদি. `আনহুকে দেখে জিজ্ঞাসা করল, এ ব্যক্তি কে? যে কা`বার তাওয়াফ করছে? সা`দ রাদি. `আনহু বলিলেন, আমি সা`দ। আবু জেহেল বলল, তুমি নির্বিঘ্নে কা`বার তাওয়াফ করছ? অথচ তোমরাই মুহাম্মদ রাঃসাঃ ও তাহাঁর সাথীদেরকে আশ্রয় দিয়েছে? সা`দ রাদি. `আনহু বলিলেন, হ্যাঁ। এভাবে দু`জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল। তখন উমাইয়া সা`দ রাদি. `আনহুকে বলল, আবুল হাকামের সাথে উচ্চস্বরে কথা বল না, কেননা সে মক্কাবাসীদের [সর্বজন মান্য] নেতা। এরপর সা`দ রাদি. `আনহু বলিলেন, আল্লাহ্‌র কসম! তুমি যদি আমাকে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে বাঁধা প্রদান কর, তবে আমিও তোমার সিরিয়ার সাথে ব্যবসা বানিজ্যের রাস্তা বন্ধ করে দিব। উমাইয়া সা`দ রাদি. `আনহুকে তখন বলতে লাগল, তোমার স্বর উচু করো না এবং সে তাঁকে বিরত করতে চেষ্টা করতে লাগল। তখন সা`দ রাদি. `আনহু ক্রোধান্বিত হয়ে বলিলেন, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি মুহাম্মদ রাঃসাঃকে বলতে শুনেছি, তারা তোমাকে হত্যা করবে। উমাইয়া বলল, আমাকেই? তিনি বলেলন, হ্যাঁ [তোমাকেই]। উমাইয়া বলল, আল্লাহর কসম মুহাম্মদ রাঃসাঃ কখনো মিথ্যা কথা বলেন না। এরপর উমাইয়া তাহাঁর স্ত্রীর কাছে ফিরে এসে বলল, তুমি কি জান, আমার ইয়াসরিবী ভাই [মদীনা] আমাকে কি বলেছে? স্ত্রী জিজ্ঞাসা করল কি বলছে? উমাইয়া বলল, সে মুহাম্মদ রাঃসাঃকে বলতে শুনেছে যে, তারা আমাকে হত্যা করবে। তার স্ত্রী বলল, আল্লাহ্‌র কসম, মুহাম্মদ রাঃসাঃ তো মিথ্যা বলেন না। যখন মক্কার মুশরিকরা বদরের উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হল এবং আহ্বানকারী আহ্বান চালাল। তখন উমাইয়ার স্ত্রী তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিল, তোমার ইয়াসরিবী ভাই তোমাকে যে কথা বলছিল সে কথা কি তোমার স্মরণ নেই? তখন উমাইয়া [বদরের যুদ্ধে] না যাওয়াই সিদ্ধান্ত নিল। আবু জেহেল তাকে বলল, তুমি এ অঞ্চলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। [তুমি যদি না যাও তবে কেউ-ই যাবে না] আমাদের সাথে দুই একদিনের পথ চলো। [এরপর না হয় ফিরে আসবে।] উমাইয়া তাদের সাথে চলল। আল্লাহ তা`আলার ইচ্ছায় [বদর প্রান্তে মুসলিমদের হাতে] সে নিহত হল।[118]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

জাবির রাদি. `আনহু ও তাহাঁর পরিবারে গালিচার কার্পেট হবে।

জাবির রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের নিকট আনমাত [গালিচার কার্পেট] আছে কি? আমি বলিলাম আমরা তা পাব কোথায়? তিনি বলিলেন, অচিরেই তোমরা আনমাত লাভ করবে।[আমার স্ত্রী যখন শয্যায় তা বিছিয়ে দেয়] তখন আমি তাকে বলি, আমার বিছানা থেকে এটা সরিয়ে নাও। তখন সে বলল, নাবী রাঃসাঃ কি তা বলেন নাই যে, অচিরেই তোমার আনমাত পেয়ে যাবে? তখন আমি তো [বিছান অবস্থায়] থাকতে দেই।[119]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর ইনতেকালের পরে মানুষ নিরাপত্তা লাভ করবে এবং বাস্তবে তা হয়েছে।

খাব্বার ইবনু আরত রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী রাঃসাঃ এর খেদমতে [কাফিরদের পক্ষ থেকে যে সব নির্যাতন ভোগ করছিলাম এসবের] অভিযোগ করলাম। তখন তিনি নিজের চাদরকে বালিশ বানিয়ে কা`বা শরীফের ছায়ায় বিশ্রাম করছিলেন। আমরা তাঁকে বলিলাম, আপনি কি আমাদের জন্য [আল্লাহর নিকট] সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের [দুঃখ দুর্দশা লাঘবের] জন্য আল্লাহর নিকট দো`আ করবেন না? তিনি বলিলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী [ঈমানদার] গণের অবস্থা ছিল এই, তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খনন করা হত এবং ঐ গর্তে তাকে পুঁতে রেখে করাত দিয়ে তাহাঁর মস্তক দ্বিখণ্ডিত করা হত। এ [অমানুষিক নির্যাতনেও] তাদেরকে দীন থেকে বিচ্যুত করতে পারত না। লোহার চিরুনী দিয়ে আঁছড়িয়ে শরীরের হাঁড় পর্যন্ত মাংস ও শিরা উপশিরা সব কিছু ছিন্নভিন্ন করে দিত। এ [লোমহর্ষক নির্যাতন] তাদেরকে দীন থেকে বিমুখ করতে পারেনি। আল্লাহর কসম, আল্লাহ এ দীনকে অবশ্যই পূর্ণতা দান করবেন [এবং সর্বত্র নিরাপদ ও শান্তিময় অবস্থা বিরাজ করবে।] তখনকার দিনের একজন উষ্ট্রারোহী সান`আ থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করবে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকেও ভয় করবে না। অথবা তাহাঁর মেঘপালের জন্য নেকড়ে বাঘের আশঙ্কাও করবে না। কিন্তু তোমরা [ঐ সময়ের অপেক্ষা না করে] তাড়াহুড়া করছ।[120]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি এমন এক দেশে হিজরত করবেন সেখানে খেজুর গাছ আছে।

আবূ মুসা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি মক্কা থেকে হিজরত করে এমন এক স্থানে যাচ্ছি যেখানে প্রচুর খেজুর গাছ রয়েছে। তখন আমার ধারণা হল, এ স্থানটি ইয়ামামা অথবা হাযর হবে। পরে বুঝতে পেলাম, স্থানটি মদীনা ছিল। যার পূর্বনাম ইয়াসরিব। স্বপ্নে আমি আরো দেখতে পেলাম যে আমি একটি তরবারী হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছি। হঠাৎ তার অগ্রভাগ ভেঙ্গে গেল। উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল এটা তা-ই। তারপর দ্বিতীয় বার তরবারীটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলাম তখন তরবারীটি পূর্বাবস্থার চেয়েও অধিক উত্তম হয়ে গেল। এর তাৎপর্য হল যে, আল্লাহ মুসলিমগনকে বিজয়ী ও একত্রিত করে দেবেন। আমি স্বপ্নে আরো দেখতে পেলাম, একটি গরু [যা জবাই করা হচ্ছে] এবং শুনতে পেলাম আল্লাহ যা করেন সবই ভালো। এটাই হল উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের শাহাদাত বরণ। আর খায়ের হল – আল্লাহ্‌র তরফ হতে আগত ঐ সকল কল্যাণই কল্যাণ এবং সত্যবাদিতার পুরষ্কার যা আল্লাহ্ আমাদেরকে বদর যুদ্ধের পর দান করেছেন।[121]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আল্লাহ তা`আলা তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন য, তাহাঁর মৃত্যু সন্নিকটে।

ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনু খাত্তাব রাদি. `আনহু [তাহাঁর সভাসদদের মধ্যে] ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহুকে বিশেষ মর্যাদা দান করতেন। একদিন আবদুর রহমান ইবনু আউফ রাদি. `আনহু তাঁকে বলিলেন, তাহাঁর মত ছেলে তো আমাদেরও রয়েছে। এতে তিনি বলিলেন, এর কারণ তো আপনি নিজেও জানেন। তখন উমর রাদি. `আনহু ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহুকে ডেকে “ইজা যা আ নাসরুল্লহি ওয়াল ফাতহ” আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করেন। ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহু উত্তর দিলেন, এ আয়াতে রাঃসাঃ কে তাহাঁর ওফাত নিকটবর্তী বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। উমর রাদি. `আনহু বলিলেন, আমিও এ আয়াতের ব্যাখ্যা জানি, যা তুমি জান।[122]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর মৃত্যুর পরে তাহাঁর উম্মতেরা তাহাঁর দ্বীনি ভাই হবে।

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, একবার রাঃসাঃ  একটি কবরস্থানে এসে বলিলেন, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটা মুমিনদের ঘর। ইনশা আল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে এসে মিলব। আমার বড় ইচ্ছা হয় আমাদের ভাইদেরকে দেখি। সাহাবায়ে কিরাম আরয করিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনিবলিলেন, তোমরা তো আমার সাহাবী। আর যারা এখনো [পৃথিবীতে] আসেনি তারা আমাদের ভাই। সাহাবীরা আরয করিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনার উম্মাতের মধ্যে যারা এখনো [পৃথিবীতে] আসেনি তাদেরকে আপনি কিভাবে চিনবেন? তিনি বলিলেন, “কেন, যদি কোনো ব্যক্তির কপাল ও হাত-পা সাদাযুক্ত ঘোড়া ঘোর কালো ঘোড়ার মধ্যে মিশে যায়তবে সে কি তার ঘোড়াকে চিনে নিতে পারে না? তাঁরা বলিলেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তিনি বলিলেন, তাঁরা [আমারউম্মাত] সেদিন এমন অবস্থায় আসবে যে, উযুর ফলে তাদের মুখমন্ডল হবে নূরানী এবং হাত-পা দীণ্ডিময়। আর হাউযের পাড়ে আমিহব তাদের অগ্রনায়ক। জেনে রাখ, কিছু সংখ্যক লোককে সেদিন আমার হাউয থেকে হটিয়ে দেওয়া হবে যেমনিভাবে পথহারা উটকে হটিয়ে দেওয়া হয়। আমি তাদেরকে ডাকব, এসো এসো। তখন বলা হবে, “এরা আপনার পরে [আপনারদীনকে] পরিবর্তন করে দিয়েছিল। তখন আমি বলব, দূর হও, দূর হও।[123]

আরব বিশ্বে যা হবে সে সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে নাযতক্ষন না প্রঢ়ুর ধন-সম্পদ ও বিপূল প্রাচুর্য প্রকাশ পায়। এমনকি তখন মানুষ তাহাঁর মালের যাকাত নিয়ে বের হবে, কিন্তু তা গ্রহণ করার মত কাউকে পাওয়া যাবে না। আরব দেশ চারণভূমি ও নদী-নালায় পরিণত হবে।[124]

কুরাইশ নেতাদের নিহত হওয়ার স্থান সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, রাঃসাঃ  এর কাছে যখন আবু সুফিয়ানের [মদীনায়] আগ্রাভিযানের সংবাদ পৌছল। তখন তিনি সাহাবীদের সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করিলেন। আবু বকর রাদি. `আনহু এ ব্যাপারে কথা বলিলেন, কিন্তু  তাহাঁর কথার উত্তর দিলেন না। এরপর উমর রাদি. `আনহু কথা বলিলেন। তিনি তার কথারও কোনো উত্তর দিলেন না। পরিশেষে সা`দ ইবনু উবাদা রাদি. `আনহু দন্ডায়মান হলেন। এরপর বলিলেন, ইয়া রাঃসাঃ ! আপনি কি আমাদের জবাব?-প্রত্যাশা করেন? সে আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন, যদি আপনি আমাদেরকে আমাদের ঘোড়া নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বলেন, তবে-নিশ্চয়ই আমরা যেখানে ঝাপ দিব। আর যদি আপনি আমাদেরকে নির্দেশ দেন, সাওয়ারী হাঁকিয়ে বারকুল গামাদ- পর্যন্ত পৌছার জন্য তবে আমরা তাই করবো। এরপর রাঃসাঃ  মুসলিমদেরকে আহবান করিলেন। তখন সকলে রওয়ানা হলেন এবং বদর নামক স্থানে সম্মিলীত হলেন। আর সাহাবীগণের সামনে সেখান কুরাইশের সাকীগণও উপনীত হল। তাদের মধ্যে বনী হাজ্জাজের একজন কৃষ্ণকায় দাস ছিল। সাহাবীগণ তাকে পাকড়াও করিলেন। তারপর তাকে আবু সুফিয়ান এবং তার সাথীদের সম্পর্কে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন, তখন সে বলতে লাগলো, আবু সুফিয়ান সম্পর্কে আমার কোনো কিছু জানা নেই। তবে আবু জাহল, উতবা, শায়বা এবং উমাইয়া ইবনু খালফ তো-উপাস্থিত আছে। যখন সে এরুপ বললো তখন তাঁরা তাকে প্রহার করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় সে বলল, হ্যাঁ, আমি আবু সুফিয়ান সম্পর্কে খবর দিচ্ছি। তখন তাঁরা তাকে ছেড়ে দিলেন। এরপর যখন তারা পুনরায় আবু সুফিয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন, তখন সে বলল, আবু সুফিয়ান জনগণের মাঝে উপস্তিত আছেন। যখন সে পুনরায় এ একই কথা বলল, তখন তাঁরা আবার তাকে প্রহার করতে লাগলেন। সে সময় রাঃসাঃ  সালাতে দন্ডায়মান ছিলেন। অতএব, যখন তিনি এ অবস্থা দেখলেন, তখন নামায সমাপ্ত করার পর বলিলেন, সে আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জান, যখন সে তোমাদের কাছে সত্য কথা বলে তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দাও। এরপর রাঃসাঃ  ভূমির উপর স্বীয় হাত রেখে বলিলেন, এ স্থান অমুক বিধর্মীর ধরাশায়ী হওয়ার স্থান বা মৃত্যুস্হল। বর্ণনাকারী বলেন যে, রাঃসাঃ  যে স্থানে যে বিধর্মীর নাম নিয়ে হাত রেখেছিলেন, সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে, এর বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম হয়নি।[125]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার রাদি. `আনহুর সাথে একদা আমরা মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম। তখন আমরা চাঁদ দেখাছিলাম। আমি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলম, তাই আমি চাঁদ দেখে ফেললাম। আমি ব্যতীত কেউ বলেনি যে, সে চাঁদ দেখেছে। তিনি বলেন, আমি উমার রাদি. `আনহুকে বলছিলাম, আপনি কি চাঁদ দেখছেন না? এ ই তো চাঁদ। কিন্তু তিনি দেখছিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমার রাদি. `আনহু বলছিলেন, অল্পক্ষণের মাঝেই আমি দেখতে পাব। আনাস রাদি. `আনহু বলেন, আমি বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আমাদের নিকট বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী কাফিরদের ঘটনা বর্ণনা করতে শুরু করিলেন। বলিলেন, গতকাল বদর যুদ্ধাদের ধরাশায়ী হবার স্থান রাঃসাঃ  আমাদেরকে দেখাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এটা অমুকের ধরাশায়ী হবার স্থান। বর্ণনাকারী বলেন, উমার রাদি. `আনহু বলিয়াছেন, শপথ সে সত্তার, যিনি তাকে সত্য বানী সহ প্রেরণ করেছেন, রাঃসাঃ  যে সীমারেখা বলে দিয়েছেন, তারা সে সীমারেখা একটুও অতিক্রম করেনি। অতঃপর তাদেরকে একটি কুপে এক জনের উপর অপর জনকে নিক্ষেপ করা হল। রাঃসাঃ  তাদের নিকট গিয়ে বলিলেন, হে অমুকের ছেলে অমুক, হে অমুকের ছেলে অমুক! আল্লাহ ও তাহাঁর রাসুল যে ওয়াদা তোমাদের সাথে করেছেন তোমরা কি তা সঠিক পেয়েছো? আমার প্রতিপালক আমার সাথে যে ওয়াদা করেছেন? আমি তা সঠিক পেয়েছি। তখন উমার রাদি. `আনহু বলিলেন, ইয়া রাঃসাঃ ! যে সব দেহে প্রাণ নেই, আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, আমি যা বলছি, তা তোমরা তাদের চেয়ে বেশী শুনছনা। তবে তারা এ কথার উত্তর দিতে সক্ষম নয়।[126]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তিনি গোপনে দাওয়াত দেওয়ার পরে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিবেন

ইকরামা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, শাদ্দাদ, আবু উমামা ও ওয়াসিলার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং সিরিয়া ভ্রমণকালেও আনাস রাদি. `আনহুর সহচর ছিলেন এবং তার প্রশংসা ও গুন বর্ণনা করেছেন। আবু উমামা রাদি. `আনহু বলেন, আমর ইবনু আবাসা সুলামী রাদি. `আনহু বলেন, আমি প্রাক ইসলাম যুগে সকল মানুষকে পথভ্রষ্ট বলে ধারণা করতাম। তারা কোনো ধর্মের উপর নেই। তারা সবাই মুর্তি পূঁজা, দেব-দেবীর পূঁজা করত। তিনি বলেন, তখন আমি মক্কায় এমন এক ব্যক্তির কথা শুনলাম যিনি বিভিন্ন সংবাদ বর্ণনা করেন। তখন আমি সাওয়ারীর উপর আরোহণ করে তাহাঁর নিকট এলাম এবং আমি জানতে পারলাম যে তিনি জনসমাবেশ থেকে নিজকে দুরে রাখেন। তাহাঁর কাওম তাহাঁর উপর নির্যাতন করে। আমি কৌশলে মক্কায় তার নিকট পৌছিলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার পরিচয় কি? তিনি বলিলেন, আমি নাবী। আমি বলিলাম, নাবী কি? তিনি বলিলেন, আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম আল্লাহ আপনাকে কি দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বলিলেন, আমাকে আত্মীয়তার বন্ধন সুদূঢ় করা, দেব-দেবী ও মূর্তি ভেঙ্গে দেওয়া, আল্লাহকে এক বলে জানা এবং তাহাঁর সঙ্গে কোনো কিছু শরীক না করা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কারা আছে? তিনি বলিলেন, একজন স্বাধীন ব্যক্তি ও একজন কৃতদাস। তিনি বলেন যে, তাহাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিলেন তাদের মধ্যে আবু বকর রাদি. `আনহু ও বিলাল রাদি. `আনহু ছিলেন। আমি বলিলাম, আমিও আপনার অনুসারী হাত চাই। তিনি বলিলেন, বর্তমান অবস্থায় তুমি তা পারবে না। তুমি আমার অবস্থা ও লোকজনের অবস্থা কি দেখছ না? তুমি বরং পরিজনদের কাছে ফিরে যাও। যখন আমি বিজয় লাভ করেছি বলে শুনতে পাবে তখন আমার কাছে এসো। তিনি বলিলেন, আমি পরিজনদের কাছে চলে গেলাম। ইতিমধ্যে রাঃসাঃ  হিজরত করে মদীনায় গমন করিলেন। তখন আমি পরিজনদের মাঝে অবস্থান করছিলাম। রাঃসাঃ  মদীনায় গমন করার পর থেকে আমি সর্বদা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর এবং মানুষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। মদীনাবাসীদের একদল লোক আমার কাছে এলেন। তাদেরকে আমি জিজ্ঞেস করলাম। যে ব্যক্তি মদীনায় আগমন করেছেন তিনি কি করছেন, তাহাঁর অবস্থা কি? তারা বলিলেন, লোকজন অতি দ্রুত তাহাঁর সাহচর্যে যাচ্ছে তাহাঁর কাওম তাঁকে হত্যা করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তারা সফলকাম হয়নি। আমি ও কথা শুলে মদীনায় গেলাম এবং তাহাঁর কাছে পৌহুলাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিনি বলিলেন হ্যাঁ, তুমি সে ব্যক্তি যে আমার সাথে মক্কায় সাক্ষাৎ করেছিলে। [বর্ণনাকারী] বলেন, আমি বলিলাম, হ্যাঁ। আমি আবার বলিলাম, ইয়া-নাবী আল্লাহ। আমি জানিনা, আল্লাহ পাক আপনাকে যা কিছু শিখিয়েছেন তা আমাকে শিক্ষা দিন। আমাকে নামায সম্পর্কে বলুন। তিনি বলিলেন, ফজরের নামায আদায় কর। এরপর সূর্য উদিত হয়ে পরিষ্কারভাবে উপরে না উঠা পর্যন্ত তুমি নামায থেকে বিরত থাক। কেননা সূর্য উদিত হয় তবে -সেটা উদয়ের সময় শয়তানের দু-শিং-এর মাঝখান দিয়ে। সে সময়ে কাফির তাকে সিজদা করে। এরপর নামায আদায় কর, তীরের ছায়া তার সমান না হওয়া পর্যন্ত। এরপর নামায থেকে বিরত থাকো কেননা এ সময়ে জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। এরপর যখন ছায়ায় পরিবর্তন শুরু হয় তখন নামায পড়তে থাক। ফিরিশতাগণ সালাতে উপস্থিত থাকেন। অর্থাৎ আসরের নামায আদায় করা পর্যন্ত, তারপর নামায হতে বিরত থাক সূর্য অস্তমিত না যাওয়া পর্যন্ত। কেননা সূর্য শয়তানের দু-শিং-এর মধ্যে দিয়ে অস্ত যায়। ঐ সময় কাফিররা তাকে সিজদা করে। রাবী বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অযূ সম্পর্কে আমাকে বলে দিন। রাঃসাঃ  বলিলেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তির [কাছে] অযুর পানি পেশ করা হয়, এরপর সে কুলি করে ও নাকে পানি দেয় ও তা পরিষ্কার করে। তখন তার মুখমন্ডলের মূখ গহব্বর ও নাকের সকল গুনাহ ঝরে যায়। তারপর যখন সে আল্লাহ পাকের নির্দেশ অনুসারে মুখমন্ডল ধোয় তখন মুখমন্ডলের চারিদিক থেকে সকল গুনাহ পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যখন দু- হাত ধোয় কুনূই পর্যন্ত, তখন তার উভয় হাতের গুনাহসমূহ আঙ্গুল দিয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর উভয় পা গোড়ালী পর্যন্ত ধৌত করলে উভয় পায়ের গুনাহগুলো আঙ্গুল দিয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর যদি সে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করে, তাহাঁর মহিমা বর্ণনা করে যথাযোগ্যভাবে ও তাহাঁর অন্তরে আল্লাহর জন্য মুক্ত করে নিল, তাহলে সে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে সেদিনের মত যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করোছিল। আমর ইবনু আবাসা রাদি. `আনহু ও হাদীসটি রাঃসাঃ  এর সাহাবী আবু উমামা রাদি. `আনহুর নিকট বর্ণনা করেন। তখন আবু উমামা রাদি. `আনহু তাঁকে বলিলেন, হে আমর ইবনু আবাসা! ভেবে দেখ, তুমি কি বলছ! একই স্থানে ঐ ব্যক্তিকে এত মর্যাদা দেওয়া হবে। তখন আমর রাদি. `আনহু বলিলেন, হে আবু উমামা রাদি. `আনহু! আমি বয়োবৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি। আমার হাড়গুলো নরম হয়ে গিয়েছে। আমার মৃত্যু কাল নিকটবর্তী হয়ে পড়েছে। আল্লাহ ও তাহাঁর রাঃসাঃ  এর উপর মিথ্যা আরোপের কোন প্রয়োজন আমার নেই। আমি যদি রাঃসাঃ  হতে না শুনতাম একবার দু-বার, তিনবার – এমনকি তিনি সাত বার পর্যন্ত গণনা করিলেন। তবে আমি কখনো এ হাদীস বর্ণনা করতাম না। আমি হাদীসটি সাত বারের চেয়েও অনেক বেশী বার শুনেছি।[127]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

হিজাজ থেকে আগুন বের হবে এবং তাতে বসরার উটের ঘাড় আলোকিত হয়ে যাবে।

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ রাঃসাঃ বলিয়াছেন: কিয়ামত কায়েম হবেনা যতক্ষন না হিজাযের যমীন থেকে আগুন বের হবে, যা বুসরার উটগুলোর গর্দান আলোকিত করে দেবে।[128]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর উম্মতেরা মসজিদ কারুকার্য করার ব্যাপারে গর্ব করবে

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ বলেন, লোকেরা মসজিদে পরস্পরের মধ্যে [নির্মাণ ও কারুকার্য নিয়ে] গর্ব না করা পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না।[129]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর পরে মুজাদ্দিদগণের আগমন হবে যারা দীনের সংস্কার করবে।

আবু হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, আল্লাহ এ উম্মতের জন্য প্রতি একশত বছর অন্তর একজন মুজাদ্দিদ পাঠাবেন, যিনি দীনের সংস্কার করবেন।[130]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

নবুওয়তের খিলাফতের সময়কাল হলো ত্রিশ বছর।

সাফিনা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ বলেন, নবুওয়তের খিলাফতের সময়কাল হলো ত্রিশ বছর। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করবেন, সুলতানাত [বাদশাহী] দান করবেন।[131]

সাফীনা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, নবুওয়তের খিলাফতের সময়কাল হলো ত্রিশ বছর। এরপর আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব বা বাদশাহী দান করবেন। রাবী সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সাফীনা রাদি. `আনহা আমাকে বলেন, তুমি হিসাব কর। আবূ বকর রাদি. `আনহুর শাসনকাল হবে দু` বছর; উমর রাদি. `আনহুর দশ বছর; উসমান রাদি. `আনহুর বার বছর এবং আলী রাদি. `আনহুর অর্থাৎ ছয় বছর। রাবী সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তখন আমি সাফীনা রাদি. `আনহাকে জিজ্ঞাসা করি যে, বনূ-মারওয়ান এরূপ ধারণা করে যে, আলী রাদি. `আনহু খলীফাদের অন্তর্ভুক্ত নন। তিনি বলেন, বনূ-মারওয়ানরা মিথ্যা বলেছে। [132]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

কিয়ামতের নিদর্শনাবলী হলো মালের প্রাচুর্য এবং আধিক্য, ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে আর বিদ্যা বিলুপ্ত হবে।

`আমর ইবনু তাগলিব রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, মালের প্রাচুর্য এবং আধিক্য হলো কিয়ামতের নিদর্শনাবলীর অন্তর্গত এবং ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে আর বিদ্যা বিলুপ্ত হবে। কোনো ব্যক্তি মাল বিক্রিদাতা বলবে: না, আমি অমুক গোত্রের ব্যবসায়ীর সাথে পরামর্শ করে নেই। আর বিরাট লোকালয়ে লেখক তালাশ করে পাওয়া যারে না।[133]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

শেষ যমানায় কিছু লোক হবে কালো খিযাব লাগাবে

ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, শেষ যমানায় কিছু লোক হবে, যারা কালো খিযাব লাগাবে কবুতরের বুকের মত, তারা বেহেশতের সুগন্ধও পাবে না।[134]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

পারস্যের উপর রোমের বিজয় সাধিত হবে।

ইবনু আববাস রাদি. আনহু থেকে

{الم غُلِبَتِ الرُّومُ فِي أَدْنَى الأَرْضِ} প্রসঙ্গে বলিয়াছেন: তিনি غُلِبَتْ وَغَلَبَتْ উভয় পাঠই রয়েছে। তিনি বলেন, মুশরিকরা রোমকদের উপর পারসিকদের বিজয় পছন্দ করতো। কেননা ওরা এবং এরা ছিল মূর্তি পূজারী। আর মুসলিমরা ভালবাসত পারস্যের উপর রোমের বিজয়। কেননা রোমকরা ছিল কিতাবী সম্প্রদায়। তারা আবূ বকর রাদি. আনহু-এর সঙ্গে এই কথা আলোচনা করে। এরপর আবূ আবূ বকর তা রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর কাছে উল্লেখ করেন। তখন তিনি বলিলেন: শুনে রাখ, রোমবাসী অবশ্যই অচিরেই জয়লাভ করবে। আবূ বকর রাদি. আনহু তখন তাদের এই কথা বলেন, তারা বলল, আমাদের এবং তোমার মাঝে এর একটা মেয়াদ নির্ধারণ কর। আমরা যদি জয়ী হই তবে আমাদের হবে অমুক অমুক জিনিস আর তোমরা জয়ী হলে তোমাদের হবে অমুক অমুক জিনিস। তিনি পাঁচ বছরের মেয়াদ নির্ধারণ করেন। কিন্তু এই সময়ে তাদের বিজয় হয়নি। নাবী রাঃসাঃ এর কাছে বিষয়টি আলোচনা করা হলে তিনি বলিলেন: তুমি কেন এর চাইতে বেশী মেয়াদ নির্ধারণ করলে না? সাঈদ [র] বলেন: وَالْبِضْعُ مَا دُونَ العَشْرِ হল দশ বছর থেকে কম। পরবর্তীতে রোমকরা বিজয় লাভ করে। এ প্রসঙ্গে হল আল্লাহর এই বাণী : {الم غُلِبَتِ الرُّومُ} সুফইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি শুনেছি যে, বদর যুদ্ধের দিন রোমকরা পারস্যের উপর বিজয় লাভ করে।[135]

নিয়ার ইবনু মুকাররাম রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন:

 {الم غُلِبَتِ الرُّومُ فِي أَدْنَى الأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ فِي بِضْعِ سِنِينَ}

“আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা[136] পরাজিত হয়েছে। নিকটবর্তী অঞ্চলে[137], আর তারা তাদের এ পরাজয়ের পর অচিরেই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যেই”[138]। [কোরআনের সুরা রূম: ১-৪]

আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার সময় পারসিকরা রোমকদের উপর বিজয়ী ছিল আর মুসলিমরা তাদের উপর রোমকদের বিজয় ভালবাসতেন। কেননা মুসলিমরা আর এরা উভয়েই ছিলেন আহলে কিতাব। এই প্রসঙ্গে ছিল আল্লাহ্ তা`আলার এই বাণী:

{وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ بِنَصْرِ اللهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ العَزِيزُ الرَّحِيمُ}

“আর সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে, আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু”। [কোরআনের সুরা রূম: ৪-৫]

আর কুরাইশরা ভালবাসত পারসিকদের বিজয়। কেননা এরা উভয়ই আহলে কিতাব ছিল না এবং [মৃত্যুর পর] উত্থানে বিশ্বাসী ছিল না। যা হোক, আল্লাহ্ তা`আলা এই আয়াত নাযিল করার পর আবূ বকর সিদ্দীক রাদি. আনহু মক্কার গলিতে গলিতে বের হয়ে পড়েছিলেন এবং চিৎকার করে পাঠ করছিলেন:

“আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে। নিকটবর্তী অঞ্চলে, আর তারা তাদের এ পরাজয়ের পর অচিরেই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যেই”। [কোরআনের সুরা রূম: ১-৪]

কুরাইশদের কতক লোক তখন আবূ বকর রাদি. আনহুকে বলল, এ হল আমাদের এবং তোমাদের একটি বিষয়। তোমার নাবী তো বলে থাকে যে, কয়েক বছরের মধ্যেই রোম পারস্যের উপর বিজয়ী হবে। আমরা এই বিষয়ে কি একটা বাজি ধরতে পারি না? আবূ বকর রাদি. আনহু বলিলেন: অবশ্যই। তখনও ইসলামে বাজি নিষিদ্ধ হয়নি! আবূ বকর রাদি. আনহু ও মুশরিকগণ পরস্পর বাজি ধরলেন। কুরাইশরা আবূ বকর রাদি. আনহুকে বলল, মেয়াদ কতদিন নির্ধারণ করবে? বিদ`আ শব্দটি তিন থেকে নয় বছর বুঝায় সুতরাং আমাদের এবং তোমার ক্ষেত্রে মাঝামাঝি একটি সময় নির্ধারণ করে নাও, যে সময়ে গিয়ে মেয়াদ শেষ হবে। অনন্তর তারা ছয় বছর সময় নির্ধারণ করেন। কিন্তু ছয় বছর অতিবাহিত হয়ে গেল এ দিকে রোমকদের বিজয় ঘটল না। মুশরিকরা আবূ বকর রাদি. আনহুর স্থিরীকৃত বাজির বস্তুটি নিয়ে নিল। সপ্তম বছরে রোমকরা পারসিকদের উপর বিজয় লাভ করে। তখন মুসলিমরা ছয় বছর সময় নির্ধারণের কারণে আবূ বকর রাদি. আনহুকে দোষারোপ করেন। কেননা আল্লাহ্ তা`আলা তো এই বিষয়ে فِي بِضْعِ سِنِينَ [তিন থেকে নয় বছর সময়] বলেছিলেন। নিয়ার ইবনু মুকাররাম রাদি. আনহু বলেন, এই সময় বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করে।[139]

বস্ত্র পরিহিত হয়েও বিবস্ত্রা স্ত্রীলোক সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

আবু হুরাইরা রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাঃসাঃ  বলিয়াছেন, জাহান্নামবাসী দু-ধরনের লোক, যাদের আমি [এখনো] দেখতে পাইনি। একদল লোক, যাদের সাথে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে, তা দিয়ে তারা লোকজনকে পিটাবে। আর এক দল স্ত্রীলোক, যারা বস্ত্র পরিহিত হয়েও বিবস্ত্রা, যারা অন্যদের আকর্ষণ কারিনা ও আকৃষ্টা, তাদের- মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কূঁজের ন্যায় ওরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তার খুশবুও পাবে না। অথচ এত এত দূর থেকে তার খুশবু পাওয়া যায়।[140]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

শেষ জামানায় মানুষের মধ্যে আমানতদারীতা কমে যাবে।

হুযায়ফা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ আমাদের দুটি হাদীস বর্ণনা করেছিলেন, যার একটি আমি দেখেছি [বাস্তবায়িত হয়েছে] আর অপরটির অপেক্ষায় আছি। তিনি আমাদের বলেন, আমানত মানুষের অন্তর্মূলে প্রবিষ্ট হয়। এরপর তারা কুরআন শিখে, তারপর তারা সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করে। তিনি আমাদের আমানত বিলুপ্তি সম্পর্কেও বর্ণনা করেছেন। তিনি বলিয়াছেন, মানুষ এক সময় ঘুমাবে। তার অন্তর থেকে আমানত উঠিয়ে নেওয়া হবে। তখন একটি বিন্দুর ন্যায় চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে। এরপর সে আবার ঘুমাবে। তারপর আবার তুলে নেওয়া হবে, তখন ফোসকার ন্যায় তার চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে। যেমন একটা জ্বলন্ত অঙ্গারকে যদি তুমি পায়ের উপর রেখে দাও এতে পায়ে ফোসকা পড়ে, তখন তুমি সেটাকে ফোলা দেখবে। অথচ তার মধ্যে কিছুই নেই। [এ সময়] মানুষ বেচাকেনা করবে বটে কিন্তু কেউ আমানত আদায় করবে না। তখন বলা হবে, অমুক গোত্রে একজন আমানতদার ব্যক্তি আছেন। কোনো কোন লোক সম্পর্কে বলা হবে যে, লোকটি কতই না বুদ্ধিমান, কতই না বিচক্ষণ, কতই না বীর, অথচ তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান নেই। [এরপর হুযায়ফা রাদি. `আনহু বলিলেন] আমার উপর দিয়ে এমন একটি যুগ অতিবাহিত হয়েছে তখন আমি তোমাদের কার সাথে লেনদেন করছি এ সম্পর্কে মোটেও চিন্তা-ভাবনা করতাম না। কেননা সে যদি মুসলিম হয় তাহলে তার দীনই [হক আদায়ের জন্য] তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে। আর যদি সে খৃষ্টান হয়, তাহলে তার অভিভাবকরাই [হক আদায়ের জন্য] তাকে আমার কাছে ফিরে আসতে বাধ্য করবে। কিন্তু বর্তমানে আমি অমুক অমুক কে ছাড়া কারো সঙ্গে বেচাকেনা করি না।[141]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

তাহাঁর কিছু সাহাবী পরীক্ষায় পতিত হবেন।

হুযায়ফা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা একবার রাঃসাঃ  এর সঙ্গে ছিলাম। রাঃসাঃ  তখন আমাদেরকে বলিলেন, গণনা কর তো, কতজন মানুষ ইসলামের কথা স্বীকার করে। আমরা বলিলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি আমাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করেছেন? আমরা তো প্রায় ছয়শত থেকে সাতশ” লোক আছি। রাঃসাঃ  বলিলেন?, তোমরা জান না, অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হবে। সাহাবী বলেন, পরবর্তীকালে সত্যিই আমরা পরীক্ষার সম্মুখীন হই, এমন কি আমাদের কোনো কোন ব্যক্তিকে গোপনে নামায আদায় করতে হতো।[142]

রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে তাহাঁর শাস্তি।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِتْلاَفَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ».

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি মানুষের মাল [ধার] নেয় পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা`আলা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে তা নেয় বিনষ্ট করার নিয়্যাতে আল্লাহ তা`আলা তাকে ধ্বংস করেন।[143]

সিরিয়া বিজয় সম্পর্কে রাঃসাঃ  এর ভবিষ্যৎবাণী

ইবনু `আব্বাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ ইহ্‌রাম বাঁধার স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, মদীনাবাসীদের জন্য যুল-হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফা, নজদবাসীদের জন্য কারনুল-মানাযিল, ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম। হজ্জ ও `উমরা নিয়্যাতকারী সেই অঞ্চলের অধিবাসী এবং ঐ সীমারেখা দিয়ে অতিক্রমকারী অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসী সকলের জন্য উক্ত স্থানগুলো মীকাতরূপে গণ্য এবং যারা এ সব মীকাতের ভিতরে [অর্থাৎ মক্কার নিকটবর্তী] স্থানের অধিবাসী, তারা যেখান হতে হজ্জের নিয়্যাত করে বের হবে [সেখান হতে ইহরাম বাঁধবে]। এমন কি মক্কাবাসী মক্কা থেকেই [হজ্জের] ইহরাম বাঁধবে।[144]

ইবনু `উমর রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, রাঃসাঃ বলেন, মদীনাবাসীগণ যুল-হুলাইফা থেকে, সিরিয়াবাসীগণ জুহফা থেকে ও নজদবাসীগণ কারণ থেকে ইহরাম বাঁধবে। `আবদুল্লাহ রাদি. `আনহু বলেন, আমি [অন্যের মাধ্যমে] জানতে পেরেছি, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, ইয়ামেনবাসীগণ ইয়ালামলাম থেকে ইহ্‌রাম বাঁধবে।[145]

সুফিয়ান ইবনু আবূ যুহায়রা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাঃসাঃ কে বলতে শুনেছি, ইয়ামেন বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী হাঁকিয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদের উঠিয়ে নিয়ে যাবে। অথচ মদীনাই তাহাঁদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তাঁরা বুঝত। সিরিয়া বিজিত হবে, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী হাঁকিয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদের উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মদীনাই ছিল তাহাঁদের জন্য কল্যাণকর, যদি তাঁরা জানত। এরপর ইরাক বিজিত হবে তখন, তখন একদল লোক নিজেদের সওয়ারী হাঁকিয়ে এসে স্বীয় পরিবার-পরিজন এবং অনুগত লোকদের উঠিয়ে নিয়ে যাবে; অথচ মদীনাই ছিল তাহাঁদের জন্য কল্যাণকর, যদি তাঁরা জানত।[146]

পরিসমাপ্তি

আলহামদুলিল্লাহ

“সহীহ হাদীসের আলোকে রাঃসাঃ  এর নবুওয়তের প্রমাণ” কিতাবখানা শেষ করলাম। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন বইখানা দ্বারা ইসলামের উপকার সাধন করেন। তিনি যেন এ কাজকে একমাত্র তাহাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন।

        আল্লাহ সুবহানাহু ওতা`আলার কাছে দো`আ করছি তিনি যেন যারা এ কিতাবটি প্রকাশে সর্বাত্বক সহযোগীতা করেছেন তাদেরকে জাযা খাইর দান করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, প্রিয় ভাই, আলী মাগরিবী, যিনি বইটি কম্পিউটারে লেখার কাজটি করেছেন। আরেকজন হলেন, প্রিয় ভাই, আব্দুল্লাহ ইবনু `আয়েদ, যিনি সন্নিবেশনের কাজে সাহায্য করেছে। আরেকজন হলেন, প্রিয় ভাই, মুহাম্মদ সুরুর, যিনি প্রকাশনার কাজ সম্পন্ন করেছেন।

        “সহীহ হাদীসের আলোকে রাঃসাঃ  এর নবুওয়তের প্রমাণ” বইটি সহীহ হাদীসের কিতাব থেকে সংকলিত ও সন্নিবেশিত একখানা কিতাব, আল্লাহ তা`আলা আমাকে জমা করতে যতটুকু সহজ ও সাহায্য করেছেন।

        দাওয়াত ও শিক্ষার কাজে নিয়োজিত অন্যান্য লেখকেরও এ বিষয়ে অনেক গবেষণাপত্র ও বই রয়েছে, যা দাওয়াতের পথের শত্রু কবরপূজারী, স্বজনপ্রিয় ও বাতিলের মোকাবিলা করে। মুসলিমদের এ সব জামা`আত যা আমরা সঠিক ধারণা করি, কিন্তু তারা আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামা`আতের দাওয়াতের মোকাবিলা করতে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে হলেও। কিন্তু আল্লাহ তা`আলা আহলে সুন্নত ওয়াল জামা`আতের দাওয়াতকে বিজয়ী করবেনই যদিও তাদের শত্রুর সংখ্যা অনেক। সব অনুগ্রহ ও দয়া মহান আল্লাহর। সব প্রশংসা আল্লাহর।

[1] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৬০৪।

[2] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৮৯২।

[3] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৩৮৭।

[4] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৫৯।

[5] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৮২।

[6] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৮০।

[7] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৮১।

[8] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৩৩।

[9] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৪৪৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৮৬০।

[10] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭০৪৮।

[11] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭০৪৯।

[12] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭০৫০।

[13] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৩৬৫৯। হাদীসটি সহিহ, এর রিজাল রিজালুস সহিহ, তবে আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ আবু জাফর আর-রাযী হলেন সিকাহ। ইমাম আহমদ তাকে সিকাহ বলেছেন।

[14] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১০৩৬।

[15] ইবন মাজাহ, হাদিস নম্বর ৪০১৫। হাদীসটি হাসান।

[16] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৮০।

[17] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৮১।

[18] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬০৮।

[19] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬০৯।

[20] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৩৬৪।

[21] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৫৪২।

[22] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৫৪২।

[23] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৫৪২।

[24] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৬৬৫।

[25] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৬৫১, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৫৩৫।

[26] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৬৫২।

[27] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১৮৭৫।

[28] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫২৫।

[29] তিরমিযী, হাদিস নম্বর ৩৭০৮। হাদীসটি হাসান।

[30] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬২৩-৩৬২৪।

[31] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬২৫-৩৬২৬।

[32] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৪৯।

[33] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৪৫২।

[34] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০৬৪।

[35] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০৬৪।

[36] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০৬৪।

[37] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০৬৪।

[38] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০৬৪।

[39] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৭০৪।

[40] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪৪৭।

[41] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৯১৬।

[42] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৭৩০।

[43] বুখ, হাদিস নম্বর ২৮৯৮।

[44] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৭৮৮।

[45] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৫৪৩।

[46] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৫৪৩।

[47] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪৩৩০।

[48] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪৩৩১।

[49] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬২৮।

[50] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৫৪৫।

[51] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৭০২।

[52] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৭০১।

[53] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩১৫৯।

[54] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৯৫।

[55] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬১৮।

[56] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬১৯।

[57] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৯৭।

[58] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৪০।

[59] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৪১।

[60] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৮৮৯।

[61] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৮৮৯।

[62] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩২৭৬।

[63] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬০১-৩৬০২।

[64] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৩২১।

[65] ইবন মাজাহ, হাদিস নম্বর ২২৭৯।

[66] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭০৫২।

[67] নাসায়ী, হাদিস নম্বর ৪২০৭।

[68] নাসায়ী, হাদিস নম্বর ৪২০৮।

[69] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৩২। হাদীসটি সহিহ।

[70] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫০০।

[71] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১০০।

[72] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৯।

[73] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৭৩১।

[74] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৫৯৫।

[75] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৫৯৭।

[76] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৬০৭।

[77] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৮০।

[78] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৮১।

[79] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৮৫।

[80] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯২৭।

[81] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯২৮।

[82] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯২৯।

[83] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৪২৭।

[84] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৪২৬।

[85] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৪২৫।

[86] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৮৩০। হাদীসটি সহিহ।

[87] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৮৩১। হাদীসটি হাসান সহিহ।

[88] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৮৯০।

[89] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭৩১৯।

[90] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭৩২০।

[91] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২০৫৯।

[92] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৬০৪। হাদীসটি সহিহ।

[93] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৬০৫। হাদীসটি সহিহ।

[94] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫০, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৯।

[95] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৮।

[96] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪৩৫১। সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০৬৪।

[97] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৯৩৩।

[98] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯১৫।

[99] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩১৭৬।

[100] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭২২২।

[101] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১১৫।

[102] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭০৬৮।

[103] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১১৬।

[104] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১১৯।

[105] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২০৪৭।

[106] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৮১৩।

[107] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৪৩৪।

[108] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৬৬৬।

[109] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৫৯০।

[110] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪১০৯।

[111] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪১১০।

[112] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৯৩৬।

[113] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৯০৪।

[114] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭০১১।

[115] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭০১২।

[116] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৫৯।

[117] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬১০।

[118] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৩২।

[119] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬৩১।

[120] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬১২।

[121] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬২২।

[122] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৬২৭।

[123] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৪৯।

[124] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৫৭।

[125] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৭৭৯।

[126] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৮৭৩।

[127] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৮৩২।

[128] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭১১৮।

[129] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৪৯।

[130] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪২৯১। হাদীসটি সহিহ।

[131] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৬৪৭। হাদীসটি হাসান সহিহ।

[132] আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৬৪৬। হাদীসটি হাসান সহিহ।

[133] নাসায়ী, হাদিস নম্বর ৪৪৫৬। হাদীসটি সহিহ।

[134] নাসায়ী, হাদিস নম্বর ৫০৭৫। হাদীসটি সহিহ।

[135] তিরমিযী, হাদিস নম্বর ৩১৯৩। হাদীসটি হাসান গরীব।

[136] . ৩৯৫ খৃস্টাব্দে রোমক সাম্রাজ্য থেকে পৃথক হয়ে বায়যানটাইন নামে যে সাম্রাজ্যটি পরিচিত হয়েছিল, এখানে الرومবলতে তাকে বুঝানো হয়েছে। সিরিয়া ও প্যালেস্টাইন এ সাম্রাজ্যের অধীন ছিল।

[137] . হিজাযের উত্তর পশ্চিম সীমানা সংলগ্ন আযরুয়াত ও বুসরার মধ্যবর্তী স্থান। সম্রাট হিরাক্লিয়াস ও খসরু পারভেজের মধ্যে এখানে যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে খসরু পারভেজ বিজয় লাভ করে। ফলে মক্কার পৌত্তলিকরা খুশি হয়ে বলতে শুরু করে, আমরা মুসলিমদেরকে পরাজিত করব। তখন উক্ত আয়াতগুলো নাযিল হয়।

[138] . بضع سنين তিন থেকে দশ বছর। এ আয়াতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় যে, অনধিক নয় বছরের মধ্যে রোমানরা পারসিকদের উপর বিজয় লাভ করবে। ৬২৩-২৪ খৃ এ ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হয়। আর সে বছরই বদর যুদ্ধে মুসলিমরা মুশরিকদেরকে পরাজিত করে।

[139] তিরমিযী, হাদিস নম্বর ৩১৯৪। হাদীসটি হাসান সহিহ গরীব।

[140] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২১২৮।

[141] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭০৮৬।

[142] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৪৯।

[143] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৩৮৭।

[144] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১৫২৪।

[145] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১৫২৫।

[146] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১৮৭৫।

Leave a Reply