রাসূল সাঃআঃ এর বংশধর প্রতি শ্রদ্ধা – রিয়াদুস সালেহীন

রাসূল সাঃআঃ এর বংশধর প্রতি শ্রদ্ধা – রিয়াদুস সালেহীন

রাসূল সাঃআঃ এর বংশধর প্রতি শ্রদ্ধা – রিয়াদুস সালেহীন  >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ৪৩ : রাসূল সাঃআঃ এর বংশধর প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং তাঁদের মাহাত্ম্যের বিবরণ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذۡهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجۡسَ أَهۡلَ ٱلۡبَيۡتِ وَيُطَهِّرَكُمۡ تَطۡهِيرٗا ﴾ [الاحزاب: ٣٣] 

অর্থাৎ “হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল তোমাদের মধ্য থেকে অপবিত্রতা দূর করিতে চান এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করিতে চান।” [সূরা আহযাব ৩৩ আয়াত]

তিনি আরো বলেন,

﴿ ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ٣٢ ﴾ [الحج: ٣٢] 

অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর [দ্বীনের] প্রতীকসমূহের সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের সংযমশীলতারই বহিঃপ্রকাশ।” [সূরা  হজ্জ্ব ৩২ আয়াত]

1/350. وَعَن يَزِيدَ بنِ حَيَّانَ، قَالَ : انْطَلَقْتُ أنَا وحُصَيْنُ بْنُ سَبْرَة، وَعَمْرُو ابنُ مُسْلِم إِلَى زَيْدِ بْنِ أرقَمَ رضي الله عنه، فَلَمَّا جَلسْنَا إِلَيْهِ قَالَ لَهُ حُصَيْن : لَقَدْ لقِيتَ يَا زَيْدُ خَيْراً كَثِيراً، رَأيْتَ رَسُولَ اللهِ ﷺ، وَسَمِعتَ حَدِيثَهُ، وغَزوْتَ مَعَهُ، وَصَلَّيْتَ خَلْفَهُ : لَقَدْ لَقِيتَ يَا زَيْدُ خَيْراً كَثيراً، حَدِّثْنَا يَا زَيْدُ مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ : يَا ابْنَ أخِي، وَاللهِ لقد كَبِرَتْ سِنِّي، وَقَدُمَ عَهدِي، وَنَسِيتُ بَعْضَ الَّذِي كُنْتُ أعِي مِنْ رَسُولِ الله ﷺ، فَمَا حَدَّثْتُكُمْ، فَاقْبَلُوا، وَمَا لاَ فَلاَ تُكَلِّفُونيهِ . ثُمَّ قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَوماً فِينَا خَطِيباً بمَاءٍ يُدْعَى خُمَّاً بَيْنَ مَكَّةَ وَالمَدِينَةِ، فَحَمِدَ الله، وَأثْنَى عَلَيهِ، وَوعظَ وَذَكَّرَ، ثُمَّ قَالَ: «أمَّا بَعدُ، ألاَ أَيُّهَا النَّاسُ، فَإنَّمَا أنَا بَشَرٌ يُوشِكَ أنْ يَأتِي رَسُولُ ربِّي فَأُجِيبَ، وَأنَا تَارِكٌ فِيكُم ثَقَلَيْنِ : أوَّلُهُمَا كِتَابُ اللهِ، فِيهِ الهُدَى وَالنُّورُ، فَخُذُوا بِكِتَابِ الله، وَاسْتَمْسِكُوا بِهِ»، فَحَثَّ عَلَى كِتَابِ الله، وَرَغَّبَ فِيهِ، ثُمَّ قَالَ: «وَأهْلُ بَيْتِي أُذكِّرُكُمُ اللهَ في أهلِ بَيْتي، أُذَكِّرُكُمُ الله في أَهلِ بَيتي»فَقَالَ لَهُ حُصَيْنٌ : وَمَنْ أهْلُ بَيتهِ يَا زَيْدُ، أَلَيْسَ نِسَاؤُهُ مِنْ أهْلِ بَيْتِهِ ؟ قَالَ : نِسَاؤُهُ مِنْ أهْلِ بَيتهِ، وَلكِنْ أهْلُ بَيتِهِ مَنْ حُرِمَ الصَّدَقَةَ بَعدَهُ، قَالَ : وَمَنْ هُمْ ؟ قَالَ : هُمْ آلُ عَلِيٍّ وَآلُ عَقِيلٍ وَآلُ جَعفَرَ وآلُ عَبَّاسٍ . قَالَ : كُلُّ هَؤُلاَءِ حُرِمَ الصَّدَقَةَ ؟ قَالَ : نَعَمْ. رواه مسلم ،  وفي رواية: «ألاَ وَإنّي تَارِكٌ فِيكُمْ ثَقَليْنِ : أحَدُهُما كِتَابُ الله وَهُوَ حَبْلُ الله، مَنِ اتَّبَعَهُ كَانَ عَلَى الهُدَى، وَمَنْ تَرَكَهُ كَانَ عَلَى ضَلالَة».

১/৩৫০। ইয়াযীদ ইবনি হাইয়ান বলেন, আমি, হুস্বাইন ইবনি সাবরাহ ও ‘আমর ইবনি মুসলিম যায়দ ইবনি আরক্বাম রাঃআঃর নিকট গেলাম। যখন আমরা তাহাঁর পাশে বসলাম, তখন হুস্বাইন তাঁকে বলিলেন, ‘হে যায়দ! আপনি প্রভূত কল্যাণপ্রাপ্ত হয়েছেন; আপনি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-কে দেখেছেন, তাহাঁর হাদীস শুনেছেন, তাহাঁর সাথে থেকে যুদ্ধ করিয়াছেন এবং তাহাঁর পিছনে নামায পড়েছেন। হে যায়দ! আপনি প্রভূত কল্যাণপ্রাপ্ত হয়েছেন। আপনি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর কোন কথা শুনান, যা আপনি [স্বয়ং] তাহাঁর নিকট থেকে শুনেছেন।’ তিনি বলিলেন, ‘হে ভাতিজা! আল্লাহর কসম! আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি এবং [নবী সাঃআঃ-এর সাথে] আমার যে যুগটা কেটেছে, তাও যথেষ্ট পুরানো হয়ে গেছে। [ফলে] রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর যে কথা আমার স্মরণে ছিল, তার কিছু ভুলে গেছি। সুতরাং আমি যা বলব, তা গ্রহণ কর এবং যা বর্ণনা করব না, তার জন্য আমাকে বাধ্য করো না।’ অতঃপর তিনি বলিলেন, ‘একদিন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ আমাদের মাঝে মক্কা ও মদীনার মধ্যে ‘খুম’ নামক ঝর্ণার নিকটে খুতবাহ দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তিনি সর্বাগ্রে আল্লাহর প্রশংসা করিলেন এবং ওয়ায করিলেন ও উপদেশ দিলেন। অতঃপর বলিলেন, ‘‘আম্মা বা‘দ। হে লোকেরা! শোনো, আমি একজন মানুষ মাত্র, শীঘ্রই [আমার নিকট] আমার প্রতিপালকের দূত আসবেন এবং আমি [আল্লাহর নিকট যাওয়ার জন্য] তাহাঁর ডাকে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী [গুরুত্বপূর্ণ] বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি। তার মধ্যে একটি আল্লাহর কিতাব, যাতে হিদায়াত ও আলো রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ কর এবং তা মযবুত করে ধারণ কর।’’ সুতরাং তিনি আল্লাহর কিতাবের উপর [আমল করার প্রতি] উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করিলেন। অতঃপর বলিলেন, ‘‘[আর দ্বিতীয় বস্তুটি হচ্ছে,] আমার পরিবার; আমি তোমাদেরকে আমার পরিবারের ব্যাপারে আল্লাহর স্মরণ দিচ্ছি। আমি তোমাদেরকে আমার পরিবারের ব্যাপারে আল্লাহর স্মরণ দিচ্ছি।’’ তারপর হুস্বাইন তাঁকে বলিলেন, ‘রাসূল সাঃআঃএর পরিবার কারা? হে যায়দ! তাহাঁর স্ত্রীরা কি তাহাঁর পরিবারভুক্ত নন?’ তিনি [যায়দ] বলিলেন, ‘[নিঃসন্দেহে] স্ত্রীরা তাহাঁর পরিবারভুক্ত। কিন্তু তাহাঁর পরিবার [বলিতে] তাঁরা, যাঁদের উপর তাহাঁর [মৃত্যুর] পর সাদকাহ হারাম করা হয়েছে।’ হুস্বাইন জিজ্ঞেস করিলেন, ‘তাঁরা কারা?’ যায়দ জবাব দিলেন, ‘তাঁরা হচ্ছেন আলীর পরিবার, আক্বীলের পরিবার, জা‘ফরের পরিবার এবং আব্বাসের পরিবার।’ হুস্বাইন বলিলেন, ‘এদের সকলের প্রতি সাদকাহ হারাম করা হয়েছে?’ তিনি বলিলেন, ‘হ্যাঁ।’

অন্য এক বর্ণনায় আছে, শোনো, ‘‘আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী [গুরুত্বপূর্ণ] জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি। তার মধ্যে একটি হল আল্লাহর কিতাব; আর তা আল্লাহর রশি। যে ব্যক্তি তার অনুসরণ করিবে, সে সঠিক পথে থাকবে এবং যে তা পরিহার করিবে, সে ভ্রষ্টতায় থাকবে।’’[মুসলিম] [1]

2/351. وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَن أَبي بَكرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه – مَوقُوفاً عَلَيهِ – أنَّهُ قَالَ : «ارْقَبُوا مُحَمداً في أهْلِ بَيْتِهِ» . رواه البخاري

২/৩৫১। ইবনি উমার রাঃআঃ আবূ বকর সিদ্দীক রাঃআঃ থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ‘‘তোমরা মুহাম্মাদ সাঃআঃ-এর প্রতি তাহাঁর পরিবারবর্গের মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন কর।’’ [বুখারী][2]

* [অর্থাৎ তাঁদেরকে শ্রদ্ধা করলে তাঁকে শ্রদ্ধা করা হবে।]


[1] মুসলিম ২৪০৮, আহমাদ ১৮৭৮০, ১৮৮২৬, দারেমী ৩৩১৬

[2] সহীহুল বুখারী ৩৭১৩, ৩৭৫১

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply