রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর বার্ধক্য

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর বার্ধক্য

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর বার্ধক্য >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৯. অধ্যায়ঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর বার্ধক্য

৫৯৬৭. আবু বাকর ইবনি আবু শাইবাহ্, ইবনি নুমায়র ও আমর আন্ নাকিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আনাস [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি খিযাব [কলপ] লাগাতেন? তিনি বললেনঃ এতটুকু বার্ধক্য তাহাঁর মধ্যে লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু ইবনি ইদ্রীস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তিনি যেন সামান্য করছিলেন। তবে আবু বকর ও উমর [রাদি.] মেহেদী এবং কাতাম দ্বারা কলপ লাগিয়েছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০০]

৫৯৬৮. ইবনি সীরীন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি খিযাব লাগিয়েছিলেন? উত্তরে আনাস [রাদি.] বললেনঃ তিনি [সাঃআঃ] খিযাব লাগানোর বয়সে পৌঁছাননি। এরপর তিনি বলিলেন, তাহাঁর [সাঃআঃ-এর] দাড়িতে কিছু সাদা লোম ছিল মাত্র। ইবনি সীরীন [রাদি.] বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু বকর [রাদি.] লাগাতেন কি? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। মেহেদী ও কাতাম দ্বারা খিযাব লাগাতেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০১]

৫৯৬৯. ইবনি সীরীন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি কলপ দিতেন? তিনি বলিলেন, তাহাঁর মধ্যে কিছু মাত্র বার্ধক্য দেখা দিয়েছিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০২]

৫৯৭০. আবু রাবী আতাকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে নবী [সাঃআঃ]-এর কলপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বলেন, আমি যদি ইচ্ছা করতাম তাহলে তাহাঁর মাথার শুভ্র চুল গুনে ফেলতে পারতাম। তিনি বলেন, তিনি কলপ দেননি। তবে আবু বকর [রাদি.] মেহেদী এবং কাতাম [ঘাস জাতীয় এক ধরনের উদ্ভিদ] দ্বারা কলপ মেখেছেন এবং উমর [রাদি.] কেবল মেহেদী দ্বারা কলপ লাগিয়েছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০৩]

৫৯৭১. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কারো চুল ও দাড়ির সাদা চুল উঠিয়ে ফেলা মাকরূহ এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কক্ষনো কলপ দেননি। কিছু সাদা তাহাঁর অধরের৩৬ নীচের ছোট দাড়িতে ছিল, তাহাঁর কানপট্টিতে কিছু আর মাথায় কিছু ছিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০৪]

৩৬নিচের ঠোঁট ও চিবুকের মধ্যবর্তী ক্ষুদ্র কেশগুচ্ছকে [আরবি] [অধর] বলা হয়।

৫৯৭২. মুহাম্মাদ ইবনিল মুসান্না [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রেই হাদীসটি রিওয়ায়াত করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০৫]

৫৯৭৩. মুহাম্মাদ ইবনিল মুসান্না, ইবনি বাশ্শার, আহ্মাদ ইবনি ইব্রাহীম দাওরাকী ও হারূন ইবনি আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এঁরা সবাই রিওয়ায়াত করেন যে, নবী [সাঃআঃ]-এর বার্ধক্যের ব্যাপারে আনাস [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলিলেন, আল্লাহ তাঁকে বার্ধক্য দিয়ে সৌন্দর্যহীন করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০৫]

৫৯৭৪. আবু জুহাইফাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এতটুকু সাদা হইতে দেখেছি। আর যুহায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ কথা বলার সময় তাহাঁর কতক অঙ্গুলি ছোট দাড়ির উপর রাখলেন। পরে লোকেরা আবু জুহাইফাহ্‌কে বলিল, আপনি তখন কেমন বয়সের ছিলেন? তিনি বলিলেন, আমি তীর তৈরী করা ও তাতে পাখা লাগানোর বয়সে উপনীত হয়েছি

। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০৬]

৫৯৭৫.আবু জুহাইফাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখেছি, তাহাঁর রং ছিল শুভ্র, তিনি প্রায় বার্ধক্যেই উপনীত হয়েছিলেন, হাসান ইবনি আলী [রাদি.] দেখিতে তাহাঁর মতোই ছিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০৭]

৫৯৭৬. আবু জুহাইফাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করিয়াছেন; তবে এর বর্ণনাকারীরা “ফর্সা এবং প্রায় বৃদ্ধি হয়ে গিয়েছিলেন” এ কথাগুলো বর্ণনা করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৭২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০৮]

৫৯৭৭. সিমাক ইবনি হার্‌ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ]-এর বার্ধক্যের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলিলেন, যখন তিনি মাথায় তেল মাখতেন তখন সাদা বর্ণ দেখা যেত না। কিন্তু যখন তেল মাখতেন না তখন দেখা যেত।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯০৯]

৫৯৭৮. জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর চুল এবং দাড়ির সামনের অংশ সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন তেল দিতেন [সাদা] চুল তখন দেখা যেত না, আর যখন চুল অগোছালো হত তখন [সাদা] দেখা যেত। তাহাঁর দাড়ি প্রচুর ঘন ছিল। জনৈক লোক বলিল, তাহাঁর চেহারা ছিল তরবারির ন্যায়। জাবির [রাদি.] বলিলেন, না, তাহাঁর চেহারা ছিল সূর্য ও চন্দ্রের ন্যায় [উজ্জ্বল] গোলাকার। আমি তাহাঁর পিঠের উপরিভাগে কবুতরের ডিম সদৃশ নুবূওয়াতের মোহর দেখেছি। এটির রং ছিল তাহাঁর গায়ের রংয়ের মতো।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৯১০]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply