রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দৈহিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দৈহিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দৈহিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য << নবুওয়তের মুজিযা হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে নবুওয়তের প্রমাণ

এ পরিচ্ছেদটি আলাদা একটি পূর্ণ অধ্যায়, কিন্তু আমি এখানে কিছু নির্বাচিত হাদীস উল্লেখ করেছি, কেননা এটি নবুওয়তের আলামতের অন্তর্ভুক্ত।

বারা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর চেহারা মুবারক ছিল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি অতিরিক্ত লম্বাও ছিলেন না এবং বেমানান বেঁটেও ছিলেন না। [1]

বারা ইবনু `আযিব রাদি. `আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাহাঁর উভয় কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল। তাহাঁর মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। আমি তাঁকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তাহাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর কাউকে আমি কখনো দেখিনি। ইউসুফ ইবনু আবূ ইসহাক তাহাঁর পিতা থেকে হাদীস বর্ণনায় বলেন, নাবী রাঃসাঃ এর মাথার চুল কাঁধ পর্যন্ত প্রসারিত ছিল।[2]

আবূ ইসহাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারা রাদি. `আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা্মের চেহারা মুবারক কি তরবারীর ন্যায় [চকচকে] ছিল? তিনি বলেন, না, বরং চাঁদের মত [স্নিগ্ধ ও মনোরম] ছিল। [3]

হাকাম রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি আবূ জুহাইফা রাদি. `আনহুকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, একদিন নাবী রাঃসাঃ দুপুর বেলায় বাতহার দিকে বেরিয়ে গেলেন। সে স্থানে অজু করে যোহরের দু`রাকাত ও আসরের দু`রাকাত নামায আদায় করেন। তাহাঁর সম্মুখে একটি বর্শা পোতা ছিল। বর্শার বাহির দিক দিয়ে নারীগণ যাতায়াত করছিল। নামায শেষে লোকজন দাঁড়িয়ে গেল এবং নাবী রাঃসাঃ এর উভয় হাত ধরে তারা নিজেদের মাথা ও চেহারায় বুলাতে লাগলেন। আমিও নাবী রাঃসাঃ এর হাত মুবারক ধারণ করত, আমার চেহারায় বুলাতে লাগলাম। তাহাঁর হাত তুষার চেয়ে স্নিগ্ধ শীতল ও কস্তুরীর চেয়ে অধিক সুগন্ধ ছিল।[4]

আবূ জুহাইফা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, [একদা] আমাকে নাবী রাঃসাঃ এর দরবারে নেওয়া হল। নাবী রাঃসাঃ তখন আবতাহ নামক স্থানে দুপুর বেলায় একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। বেলাল রাদি. `আনহু তাঁবু থেকে বেরিয়ে এসে যোহরের সালাতের আযান দিলেন এবং [তাঁবুতে] পুনঃপ্রবেশ করে নাবী রাঃসাঃ এর অযুর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বেরিয়ে এলেন। লোকজন তা নেওয়ার জন্য ঝাপিয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি আবার তাঁবুতে ঢুকে একটি ছোট্ট বর্শা নিয়ে বেরিয়ে এলেন। নাবী রাঃসাঃ ও [এবার] বেরিয়ে আসলেন। আমি যেন তাহাঁর পায়ের গোছার ঔজ্জ্বল্য এখনো দেখতে পাচ্ছি। বর্শাটি সম্মুখে পুতে রাখলেন। এরপর যোহরের দু`রাকাত এবং পরে আসরের দু`রাকাত নামায আদায় করিলেন। বর্শার বাহির দিয়ে গাধা ও মহিলা চলাফেরা করছিল। [5]

ইব্‌ন `আব্বাস রাদি. `আনহুমা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। রমাদানে তিনি আরো বেশী দানশীল হতেন, যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম তাহাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাদানের প্রতি রাতেই জিবরীল আলাইহিস সালাম তাহাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন তেলওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ রহমতের বাতাস থেকেও অধিক দানশীল ছিলেন”। [6]

আয়েশা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, একদিন নাবী রাঃসাঃ অত্যন্ত আনন্দিত ও প্রফুল্ল চিত্তে তাহাঁর কাছে প্রবেশ করিলেন। খুশীর আমেজে তাহাঁর চেহারার খুশীর চিহ্ন ঝলমল করছিল। তিনি তখন আয়েশাকে বলিলেন, হে আয়েশা! তুমি শুননি, মুদলাজী ব্যক্তিটি [চেহারার ও আকৃতির গননায় পারদর্শী] যায়েদ ও উসামা সম্পর্কে কি বলেছে? পিতা-পুত্রের শুধু পা দেখে [শরীরের বাকী অংশ ঢাকা ছিল] বলল, এ পাগুলো একটা অন্যটির অংশ [অর্থাৎ তাদের সম্পর্ক পিতা-পুত্রের]।[7]

আবদুল্লাহ ইবনু কা`ব রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা`ব ইবনু মালিক রাদি. `আনহুকে তার তাবূক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি নাবী রাঃসাঃকে সালাম করলাম, খুশী ও আনন্দে তাহাঁর চেহারা ঝলমল করে উঠলো। তাহাঁর চেহারা এমনিই খুশী ও আনন্দে ঝলমল করতো। মনে হতো যেন চাদেঁর একটি টুকরা। তাহাঁর চেহারা মুবারকের এ অবস্থা থেকে আমরা তা বুঝতে সক্ষম হতাম। [8]

আবদুল্লাহ ইবন্ আমর রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ অশ্লীল ভাষী ও অসদাচারী ছিলেন না। তিনি বলতেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সর্বশ্রেষ্ঠ যে চরিত্রের দিক থেকে সর্বোত্তম। [9]

আয়েশা রাদি. `আনহা হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃকে [জাগতিক বিষয়ে] যখনই দু`টি জিনিসের একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দেওয়া হত, তখন তিনি সহজ সরলটি গ্রহণ করতেন যদি তা গোনাহ না হত। যদি গোনাহ হত তবে তা থেকে তিনি অনেক দূরে সরে থাকতেন। নাবী রাঃসাঃ ব্যক্তিগত কারণে কারো থেকে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেন নি। তবে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে আল্লাহকে রাযী ও সন্তুষ্ট করার মানসে প্রতিশোধ করতেন। [10]

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ এর হাতের তালু অপেক্ষা মোলায়েম কোনো রেশম ও গরদকেও স্পর্শ করি নাই। আর নাবী রাঃসাঃ এর শরীর মোবারকের খুশবু অপেক্ষা অধিকতর সুঘ্রাণ আমি কখনো পাই নি। [11]

আবূ সাইদ খুদরী রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ অন্তপুরবাসিনী পর্দানশীন কুমারীদের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন।

শু`বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে অনুরূপ রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে [তবে এ বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছে যে,] যখন নাবী রাঃসাঃ কোনো কিছু অপছন্দ করতেন তখর তাহাঁর চেহারা মুবারকে তা [বিরক্তি ভাব] দেখা যেত। [12]

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, নাবী রাঃসাঃ কখনো কোনো খাদ্যবস্তুকে মন্দ বলতেন না। রুচি হলে খেয়ে নিতেন নতুবা ত্যাগ করতেন। [13]

আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রাহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত যে, তিনি আয়েশা রাদি. `আনহা জিজ্ঞাসা করিলেন, রমাদান মাসে [রাতে] রাঃসাঃ এর নামায কিভাবে ছিল? আয়েশা রাদি. `আনহা বলেন, নাবী রাঃসাঃ রমাদান মাসে ও অন্যান্য সব মাসের রাতে এগারো রাক`আতের বেশী নামায আদায় করতেন না। প্রথমে চার রাক`আত নামায আদায় করতেন। এ চার রাক`আত আদায়ের সৌন্দর্য ও দৈর্ঘের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না [তা বর্ণনাতীত]। তারপর আরো চার রাক`আত নামায আদায় করতেন। তারপর তিন রাক`আত [বিতর] আদায় করতেন। তখন আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাঃসাঃ আপনি বিতর নামায আদয়ের পূর্বে ঘুমিয়ে পড়েন? নাবী রাঃসাঃ বলিলেন, আমার চক্ষু ঘুমায় তবে আমার অন্তর ঘুমায় না।[14]

তারিক ইবনু আব্দুল্লাহ আল-মুহারেবী বলেন, “আমি রাঃসাঃ কে যিল মাজায বাজারে দেখেছি, তার গায়ে ছিল লাল পোষাক, তিনি বলছিলেন, `হে মানুষগণ তোমরা বল, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ তথা আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মা`বুদ নেই, এতে তোমরা সফলকাম হবে`। আর একজন ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে পাথর নিক্ষেপ করছে এবং এতে তার পায়ের গোড়ালি ও হাটুর পিছন দিক রক্তাক্ত হয়ে গেছে; সে বলছিল, `হে মানুষ, তোমরা তার অনুসরণ কর না; সে মিথ্যাবাদী। আমি বলিলাম: কে সে? বলা হলো, `এটি বনু আব্দুল মুত্তালিবের একজন ছেলে। আমি বলিলাম, `তবে যে লোকটি তাকে অনুসরণ করে পাথর নিক্ষেপ করছে সে কে? বলা হলো, `এটি তার চাচা আব্দুল উয্‌যা আবু লাহাব। অতঃপর যখন আল্লাহ ইসলামকে সমুন্নত করিলেন তখন আমরা একটি যাত্রী দল হিসেবে বের হলাম এবং মদিনার নিকটবর্তী স্থানে নামলাম আর আমাদের সাথে ছিল এক আরোহী মহিলা। আমরা যখন বসা ছিলাম তখন আমাদের কাছে দুটি সাদা চাদর পরিহিত একজন লোক আসলেন এবং সালাম দিলেন ও বলিলেন, `কোথা থেকে সম্প্রদায়ের আগমন?` আমরা বলিলাম, `রাবযা থেকে`। তিনি [বর্ণনাকারী] আরও বলেন, আমাদের সাথে ছিল একটি উট। তিনি বলিলেন, তোমরা কি এ উট বিক্রি করবে? আমরা বলিলাম, `হ্যাঁ`। তিনি বলিলেন, `কত দামে?` আমরা বলিলাম, `এত এত সা` খেজুরের পরিবর্তে। তিনি বলিলেন, `তিনি তা নিলেন এবং আমাদেরকে কমালেন না। তিনি বলিলেন, `আমি নিয়েছি।` এরপর তিনি মদিনার দেয়ালসমূহের পিছনে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তখন আমরা পরস্পরকে দোষারোপ করতে লাগলাম এবং বলতে লাগলাম যে এমন এক লোককে উট দিলে যাকে তোমরা কেউ চিন না? তখন আমাদের সে আরোহী বলতে লাগল `তোমরা পরস্পরকে দোষারোপ কর না কেননা আমি এমন ব্যক্তির মুখ দেখেছি যে তোমাদের সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করবে না; পূর্ণিমার রাতের চাঁদের সাথে তার মুখের সাদৃশ্যের দিক থেকে আমি আর কাউকে বেশি দেখি নি। তিনি [রাবী] বলেন, অতঃপর যখন রাত হয়ে এলো তখন এক ব্যক্তি আমাদের কাছে এসে সালাম দিলেন এবং বলিলেন, `আমি রাঃসাঃ এর প্রতিনিধি। তোমরা ক্ষুধা মেটা পর্যন্ত খাও এবং পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেপে নাও। তিনি [রাবী] বলেন, আমরা ক্ষুধা মেটা পর্যন্ত খেলাম এবং পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেপে নিলাম। অতঃপর আমরা মদিনায় পরের দিন আসলাম তখন রাঃসাঃ মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, `দানকারীর হাত উর্ধ্বে; আর আত্মীয়দের দ্বারা শুরু কর —তোমার মা, বাবা, বোন, ভাই অতঃপর তোমার নিকটজন। তখন একজন লোক দাঁড়িয়ে বলিলেন, `হে আল্লাহর রাসূল, এরা হলো বনু সা`লাবা ইবনু ইয়ারবু যারা জাহেলিয়াতে আমাদের লোকদের হত্যা করেছে; সুতরাং আপনি তাদের থেকে আমাদের জন্য প্রতিশোধ নিন। তখন রাঃসাঃ তাহাঁর দু`হাত উপরে উঠালেন এমনটি আমরা তার দু`বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি বলিলেন, সাবধান! কোনো মা তার সন্তানের উপর অপরাধ করবে না, সাবধান! কোনো মা তার সন্তানের উপর অপরাধ করবে না”।

আর এ হাদীসটি হাসান।

আবূ হুরাইরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, “তোমরা কি মনে কর যে, আল্লাহর দৃষ্টি কেবল কিবলার দিকে? আল্লাহর কসম! আমার কাছে তোমাদের খুশূ [বিনয়] ও রুকু কিছুই গোপন থাকে না। অবশ্যই আমি আমার পেছন থেকেও তোমাদের দেখি। [15]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তোমরা তোমাদের রুকু এবং সিজদা যথাযথভাবে আদায় করবে। আল্লাহর শপথ! তোমরা যখন রুকু-সিজদা কর, তখন তা আমি পিছন দিক হতে [রাবী কখনও বলিয়াছেন] আমি পৃষ্ঠদেশের দিক হতে দেখে থাকি।[16]

ইমাম নাওয়াওয়ী রহ. বলেন, আলেমগণ বলিয়াছেন, এ হাদীসের অর্থ হলো আল্লাহ রাঃসাঃ  এর পিঠে এমন শক্তি দিয়েছেন যে, তিনি তাহাঁর পিছনের দিক দেখতে পেতেন। রাঃসাঃ  এর এর চেয়েও আশ্চর্যজনক মু`জিযা আছে। এমনটা হওয়া বিবেক ও শরি`য়াত নিষেধ করে না। বরং শরি`য়াতে সরাসরি এটাকে সমর্থন করে, অতএব, এভাবেই বলা ওয়াজিব। কাদী `ইয়াদ রহ. বলিয়াছেন, ইমাম আহমদ রহ. বলেন: জমহুর আলেম এ দেখাকে প্রকৃত চোখে দেখা বলিয়াছেন।

আবূ ইসহাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বারা ইবনু আযিব রাদি. `আনহুকে বলল, আপনারা কি হুনাইনের যুদ্ধে রাঃসাঃ কে ময়দানে রেখে পলায়ন করেছিলেন? বারা ইবনু আযিব রাদি. `আনহু বলেন, কিন্তু রাঃসাঃ পলায়ন করেননি। হাওয়াযিনরা ছিল সুদক্ষ তীরন্দাজ। আমরা সামনা সামনি যুদ্ধে তাদেরকে পরাস্ত করলে তারা পালিয়ে যেতে লাগল। এমতাবস্থায় মুসলিমরা তাদের পিছু ধাওয়া না করে গনীমাতের মাল সংগ্রহে মনোনিবেশ করল। এই সুযোগ শত্রুরা তীর বর্ষনের মাধ্যমে আমাদের আক্রমন করে বসল। তবে রাঃসাঃ স্থান ত্যাগ করেননি। আমি তাঁকে তাহাঁর সাদা খচ্চরটির উপর উপবিষ্ট অবস্থায় দেখেছি। আবূ সুফিয়ান তাহাঁর বাহনের লাগাম ধরে টানছেন; আর রাঃসাঃ বলছেন, `আমি নাবী তা মিথ্যা নয়, আমি আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর।[17]

আব্বাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হুনাইনের যুদ্ধের দিন রাঃসাঃ এর সঙ্গে ছিলাম। আমি এবং আবু সুফিয়ান ইবনু হারেস ইবনু আবদুল মুত্তালিব রাঃসাঃ এর একেবারে সঙ্গেই ছিলাম। আমরা কখনও তাহাঁর থেকে পৃথক হইনি। রাঃসাঃ একটি সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর আরোহণ করেছিলেন। সে খচ্চরটি ফারওয়া ইবনু নূফাসা আল-জুযামী তাঁকে হাদিয়াস্বরূপ দিয়েছিলেন। যখন মুসলিম এবং কাফির পরস্পর সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হল তখন মুসলিমগণ [যুদ্ধের এক পর্যায়ে] পশ্চাৎ-দিকে পলায়ন করতে লাগলেন। আর রাঃসাঃ স্বীয় পায়ের গোড়ালী দিয়ে নিজের খচ্চরকে আঘাত করে কাফিরদের দিকে ধাবিত করছিলেন। আব্বাস রাদি. `আনহু বলেন, আমি তার খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলাম এবং একে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম যেন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হতে না পারে। আর আবু সুফিয়ান রাদি. `আনহু তাহাঁর খচ্চরের `রেকাব` [হাউদাজের বন্ধনের পটি] ধরে রেখেছিলেন। তখন রাঃসাঃ বলিলেন, হে আব্বাস! আসহাবে সামুরাকে [হুদায়বিয়ার গাছের নীচে বাই`আতকারী লোকদেরকে] আহ্বান কর। আব্বাস রাদি. `আনহু বলেন, আর তিনি ছিলেন উচ্চ কণ্ঠের অধিকারী ব্যক্তি। তখন আমি উচ্চস্বরে আওয়াজ দিয়ে বলিলাম, হে আসহাবে সামুরা! তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তা শোনামাত্র তাঁরা এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করতে] শুরু করিলেন যেমনভাবে গাভী তার বাচ্চার আওয়াজ শুনে দ্রুত দৌড়ে আসে এবং তারা বলতে লাগলো, আমরা আপনার নিকট হাযির, আমরা আপনার নিকট হাযির। রাবী বলেন, এরপর তারা কাফিরদের সাথে পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি আনসারদেরকেও এমনিভাবে আহ্বান করিলেন যে, হে আনসারগণ! রাবী বলেন, এরপর আহ্বান সমাপ্ত করা হল বনী হারেস ইবনু খাযরাযের মাধ্যমে [তাঁরা আহ্বান করিলেন, হে বনী হারেস ইবনুল খাযরাজ] রাঃসাঃ স্বীয় খচ্চরের উপর আরোহণ অবস্থায় আপন গর্দান উচু করে তাদের যুদ্ধের অবস্থা অবলোকন করে। তখন রাঃসাঃ বলিলেন, এটাই হল যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ চরম মুহূর্ত। রাবী বলেন, এরপর রাঃসাঃ কয়েকটি পাথরের টুকরা হাতে নিলেন এবং এগুলি তিনি বিধর্মীদের মুখের উপর ছুড়ে মারলেন। এরপর বলিলেন, মুহাম্মাদ রাঃসাঃ এর রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে। আব্বাস রাদি. `আনহু বলেন, আমি যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধের অবস্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখলাম যে, যথারীতি যুদ্ধ চলছে। এমন সময় তিনি পাথরের টুকরোগুলো নিক্ষেপ করিলেন। আল্লাহর শপথ! তখন হঠাৎ দেখি যে, কাফিরদের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেল এবং তাদের যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল। [18]

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, নাবী রাঃসাঃ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সবার চাইতে অধিক দানশীল এবং লোকদের মধ্যে সর্বাধিক সাহসী ছিলেন। একদা রাতের বেলায় [একটি বিকট আওয়ায শুনে] মদীনাবাসীরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তাই লোকেরা সেই শব্দের দিকে রওয়ানা হয়। তখন তারা নাবী রাঃসাঃকে সামনা সামনি পেলেন, তিনি সেই আওয়াযের দিকে লোকদের আগেই বের হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলতে লাগলেন, তোমরা ঘাবড়িওনা, তোমরা ঘাবড়িওনা, [আমি দেখে এসেছি, কিছুই নেই]। এ সময় তিনি আবূ তালহা রাদি. `আনহুর জিন বিহীন ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিলেন। আর তাহাঁর কাঁধে একখানা তলোয়ার ঝুলছিল। এরপর তিনি বলিলেন, অবশ্য এ ঘোড়াটিকে আমি সমুদ্রের মত [দ্রুতগামী] পেয়েছি। অথবা বলিলেন, এ ঘোড়াটিতো একটি সমুদ্র।[19]

আনাস রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ সকল লোকের চাইতে সুন্দর ও সাহসী ছিলেন। একরাতে মদীনার লোকেরা আতংকিত হয়ে উত্থিত শব্দের দিকে বের হলো। তখন নাবী রাঃসাঃ তাদের সামনে এলেন এমন অবস্থায় যে, তিনি শব্দের যথার্থতা অন্বেষণ করে ফেলেছেন। তিনি আবূ তালহার জিনবিহীন ঘোড়ার পিঠে সাওযার ছিলেন এবং তার কাঁধে তরবারী ঝুলানো ছিল। তিনি বলছিলেন, তোমরা ভীত হয়ো না। তারপর তিনি বলিলেন, আমি ঘোড়াটিকে সমুদ্রের ন্যায় গতিশীল পেয়েছি, অথবা তিনি বলিলেন, এটি সমুদ্র অর্থাৎ অতি বেগবান।[20]

সাহল রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, তাকে উহুদের দিনে রাঃসাঃ এর আঘাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বলিলেন, নাবী রাঃসাঃ এর মূখমন্ডল আহত হল এবং তাহাঁর সামনের দু`টি দাঁত ভেঙ্গে গেল, তাহাঁর মাথার শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে গেল। ফাতিমা রাদি. `আনহা রক্ত ধুইতে ছিলেন আর আলী রাদি. `আনহু পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। তিনি যখন দেখতে পেলেন যে, রক্তক্ষরণ বাড়ছেই, তখন একটি চাটাই নিয়ে তা পুড়িয়ে ছাই করিলেন এবং তা ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিলেন। তারপর রক্তক্ষরণ বন্ধ হল।[21]

ইবনু মাস`উদ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মিকদাদ ইবনু আসওয়াদকে এমন একটি ভূমিকায় পেয়েছি যে, সে ভূমিকায় যদি আমি হতাম, তবে যা দুনিয়ার সব কিছুর তুলনায় আমার নিকট প্রিয় হত। তিনি নাবী রাঃসাঃ এর কাছে আসলেন, তখন তিনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে দু`আ করছিলেন। এতে তিনি [মিকদাদ ইবনু আসওয়াদ] বলিলেন, মূসা আলাইহিস সালামের কাওম যেমন বলেছিল যে,

“তুমি [মূসা] আর তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর”। [কোরআনের সুরা মায়েদা : ২৪] আমরা তেমন বলব না, বরং আমরাতো আপনার ডানে, বামে, সম্মুখে, পেছনে সর্বদিক থেকে যুদ্ধ করব। ইবনু মাসউদ রাদি. `আনহু বলেন, আমি দেখলাম, নাবী রাঃসাঃ এর মুখমন্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং [একথা] তাঁকে খুব আনন্দিত করল। [22]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনজনের একটি দল রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর বিবিগণের গৃহে আগমন করল। যখন তাহাঁদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করা হলো, তখন তারা এ ইবাদতের পরিমাণ যেন কম মনে করল এবং বলল, আমরা রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর সমকক্ষ হতে পারি না। কারণ, তার আগে ও পরের সব গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হয়েছে। এমন সময় তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, আমি সারা জীবন রাতে নামায আদায় করতে থাকব। অপর একজন বলল, আমি সারা বছর সাওম পালন করব এবং কখনও বিরতি দিব না। অপরজন বলল, আমি নারী বিবর্জিত থাকব-কখনও শাদী করব না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ তাদের নিকট এলেন এবং বলিলেন, “তোমরা ঐ সকল ব্যক্তি যারা এরূপ কথাবার্তা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশী ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাহাঁর প্রতি আমি বেশ আনুগত্যশীল; অথচ আমি সাওম পালন করি, আবার সাওম থেকে বিরতও থাকি। নামায আদায় করি এবং ঘুমাই ও বিয়ে-শাদী করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নতের প্রতি বিরাগ ভাব পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়। [23]

জুবাইর ইবনু মুত`য়ীম রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত যে, তিনি রাঃসাঃ এর সঙ্গে ছিলেন, আর তখন তাহাঁর সঙ্গে আরো লোক ছিল। রাঃসাঃ তখন হুনাইন থেকে আসছিলেন। বেদুঈন লোকেরা তাহাঁর কাছে গনীমতের মাল চাইতে এসে তাঁকে আঁকড়ে ধরল। এমনকি তারা তাঁকে একটি বাবলা গাছের সাথে ঠেকিয়ে দিল এবং কাঁটা তার চাঁদরটাকে ধরল। তখন রাঃসাঃ থামলেন। তারপর বলিলেন, `আমার চাঁদরখানি দাও। আমার নিকট যদি এ সব কাঁটাদার বন্য বৃক্ষের সমপরিমাণ পশু থাকত, তবে সেগুলো তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে দিতাম। এরপরও আমাকে তোমরা কখনো কৃপণ, মিথ্যাবাদী এবং দুর্বল চিত্ত পাবে না।` [24]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী রাঃসাঃ এর সঙ্গে রাস্তায় চলছিলাম। তখন তিনি মোটা পাড়ের নাজরানে প্রস্তুত চাঁদর পরিহিত ছিলেন। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে খুব জোড়ে টেনে ধরল। অবশেষে আমি লক্ষ্য করলাম, তার জোরে টানার কারণে নাবী রাঃসাঃ এর কাঁধে চাঁদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। তারপর বেদুঈন বলল, `আল্লাহর যে সম্পদ আপনার নিকট রয়েছে তা থেকে আমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিন।` রাঃসাঃ তার দিকে তাকিয়ে একটি মুচকি হাসি দিলেন, আর তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। [25]

আব্দুল্লাহ রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিনে নাবী রাঃসাঃ কোনো কোন লোককে বন্টনে অন্যদের উপর প্রাধান্য দেন। তিনি আকরা` ইবনু হাসিবকে একশ` উট দিলেন। উয়াইনাকেও এ পরিমাণ দেন। সম্ভ্রান্ত আরব ব্যক্তিদের দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম। এখানে সুবিচার করা হয়নি। অথবা সে বলল, এতে আল্লাহ তা`আলার সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়নি। [রাবী বলেন], তখন আমি বলিলাম, আল্লাহর কসম! আমি নাবী রাঃসাঃকে অবশ্যই জানিয়ে দিব। তখন আমি তাহাঁর কাছে এলাম এবং তাঁকে একথা জানিয়ে দিলাম। রাঃসাঃ বলিলেন, `আল্লাহ তা`আলা ও তাহাঁর রাঃসাঃ যদি সুবিচার না করেন, তবে কে সুবিচার করবে? আল্লাহ তা`আলা মূসা [আলাইহিস সালাম]-এর প্রতি রহমত নাযিল করুন, তাঁকে এর চাইতেও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি সবর করেছেন।` [26]

সালমান ইবনু রাবি`আহ রহ. হইতে বর্ণিত, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদি. `আনহু বলেন, রাঃসাঃ  বিশেষ ক্ষেত্রে বন্টন করিলেন। তখন আমি বলিলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এদের ছাড়া অন্যেরা এদের চাইতে অধিক হকদার ছিল। তিনি বলিলেন, এরা দু`টি কাজের একটির মধ্যে পতিত হতে আমাকে বাধ্য করেছে। এরা হয় খারাপ শব্দ প্রয়োগ করে আমার কাছে চাইবে অথবা আমার প্রতি কৃপণতার অভিযোগ আনবে। অথচ আমি কৃপণ হতে রাজী নই। [27]

মুগীরা রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ রাত্রি জাগরণ করতেন অথবা রাবী বলিয়াছেন, নামায আদায় করতেন; এমনকি তাহাঁর পদযুগল অথবা তাহাঁর দু`পায়ের গোছা ফুলে যেত। তখন এ ব্যাপারে তাঁকে বলা হল, এত কষ্ট কেন করছেন? তিনি বলতেন, তাই বলে আমি কি একজন শুকর আদায়কারী বান্দা হব না? [28]

`উকবা ইবনু `আমির রাদি. `আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আট বছর পর নাবী রাঃসাঃ উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য [কবরস্থানে গিয়ে] এমনভাবে দো`আ করিলেন যেমন কোনো বিদায় গ্রহনকারী জীবিত ও মৃতদের জন্য দো`আ করেন। তারপর তিনি [সেখান থেকে ফিরে এসে] মিম্বরে উঠে বলিলেন, আমি তোমাদের অগ্রে প্রেরিত এবং আমিই তোমাদের সাক্ষীদাতা। এরপর হাউযে কাউসারের পাড়ে তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে। আমার এ জায়গা থেকেই আমি হাউযের স্থান দেখতে পাচ্ছি। তোমরা শির্কে লিপ্ত হয়ে যাবে আমি এ আশংকা করি না। তবে আমার আশংকা হয় যে, তোমরা দুনিয়াদার হবে, তাতে প্রতিযোহগিতায় লিপ্ত হবে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমার এ দেখাই ছিল রাসুলুল্লাহ্ রাঃসাঃকে শেষবারের মত দেখা। [29]

যুরারা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সুত্রে বর্ণনা করেন যে, সা`দ ইবনু হিশাম ইবনু আমির রাদি. `আনহু আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার ইচ্ছা করে মদীনায় এলেন এবং সেখানে তাহাঁর একটি সম্পত্তি বিক্রি করে তা যুদ্ধাস্ত্র ও ঘোড়া সংগ্রহে ব্যয় করার এবং মৃত্যু পর্যন্ত রোমানদের বিরুদ্ধে জিহাদে আত্মনিয়োগ করার সংকল্প করিলেন। মদীনায় আসার পর মদীনাবাসী কিছু লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলে তাঁরা ঐ কাজ করতে নিষেধ করিলেন এবং তাঁকে জানালেন যে, ছয় জনের একটি দল নাবী রাঃসাঃ এর জীবদ্দশায় এরূপ ইচ্ছা করেছিল। তখন নাবী রাঃসাঃ তাদের নিষেধ করেন এবং বলেন, “আমার মধ্যে তোমাদের জন্য কি কোনো আদর্শ নেই”? মদীনাবাসীরা তাঁকে এ ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি নিজের স্ত্রীর সাথে রাজ`আত [পুনরায় স্ত্রীকে বরণ] করিলেন। কেননা তিনি তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন এবং তিনি তাহাঁর এ রাজ`আতের ব্যাপারে সাক্ষীও রাখলেন। এরপর তিনি ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহুর কাছে গিয়ে তাঁকে রাঃসাঃ  এর ওয়িতর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহু বলিলেন, রাঃসাঃ  এর ওয়িতর সম্পর্কে পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক বিজ্ঞ ব্যক্তি সম্পর্কে কি তোমাকে বলে দিব না? তিনি বলিলেন, তিনি কে? ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহু বলিলেন, তিনি আয়িশা রাদি. `আনহা, তাহাঁর কাছে গিয়ে তুমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করবে পরে আমার কাছে এসে তোমাকে দেওয়া তার জবাব সম্পর্কে অবহিত করবে। আমি তখন তাহাঁর কাছে রওয়ানা হলাম। আর হাকীম ইবনু আফলাহ রাদি. `আনহুর কাছে গিয়ে আমার সঙ্গে আয়িশা রাদি. `আনহার কাছে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। তিনি বলিলেন, আমি তো তাহাঁর নিকট যাই না। কেননা [বিবাদমান] দু`দল সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তিনি তাতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে অস্বীকার করেন। সা`আদ রাদি. `আনহু বলেন, তখন আমি তাঁকে কসম দিলাম। তখন তিনি তৈয়ার হলেন। আমরা আয়েশা রাদি. `আনহার উদ্দেশ্যে চললাম এবং তাহাঁর কাছে গিয়ে অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাদের অনুমতি দিলেন। আমরা তাহাঁর ঘরে প্রবেশ করলে তিনি বলিলেন, হাকীম না কি? তিনি তাঁকে চিনে ফেলেছিলেন। উত্তরে হাকীম রাদি. `আনহু বলিলেন, হ্যাঁ। আয়িশা রাদি. `আনহা বলিলেন, তোমার সঙ্গে কে? হাকীম রাদি. `আনহু বলিলেন, সা`দ ইবনু হিশাম। আয়িশা রাদি. `আনহা বলিলেন, কোন হিশাম? হাকীম রাদি. `আনহু বলিলেন, ইবনু আমির। তখন আয়িশা রাদি. `আনহা তাহাঁর জন্য রহমতের দো`আ করিলেন এবং তাহাঁর সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করিলেন। রাবী কাতাদা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেন, আমির রাদি. `আনহু উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। আমি [সা`দ] বলিলাম, হে, উম্মুল মু`মিনীন! আমাকে রাঃসাঃ  এর আখলাক সস্পর্কে অবহিত করুন! তিনি বলিলেন, তুমি কি কুরআন পাঠ কর না? আমি বলিলাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, আল্লাহর নাবী রাঃসাঃ এর চরিত্র তো ছিল আল-কুরআনই। সা`দ রাদি. `আনহু বলেন, তখন আমার ইচ্ছে ছিল যে, উঠে যাই এবং মৃত্যু পর্যন্ত কাউকে কোনো বিষয় জিজ্ঞাসা করব না। পরে আবার মনে হল [আরো কিছু জিজ্ঞাসা করি] তাই আমি বলিলাম, রাঃসাঃ  এর রাতের ইবাদত সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন! তিনি বলিলেন, তুমি কি কোরআনের সুরা “ইয়া আয়্যুহাল মুযযামিল পড় না? আমি বলিলাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, মহান আল্লাহ এ কোরআনের সুরার প্রথমাংশ [ইবাদত] রাত্রি জাগরণ ফরয করে দিয়েছিলেন। তখন আল্লাহর নাবী রাঃসাঃ এবং তাহাঁর সাহাবীগণ এক বছর যাবত [তাহাজ্জুদের জন্য] রাত্রি জাগরণ করিলেন। আর আল্লাহ তা`আলা এ কোরআনের সুরার শেষ অংশ বার মাস পর্যন্ত আসমানে রুখে রাখেন। অবশেষে এ কোরআনের সুরার শেষ অংশ নাযিল করে সহজ করে দিলেন। ফলে রাত্রি জাগরণ ফরয হওয়ার পরে নফলে পরিণত হয়। সা`দ রাদি. `আনহু বলেন, আমি বলিলাম, হে উম্মুল মুমিনীন! আমাকে রাঃসাঃ  এর ওয়িতর নামায সম্পর্কে অবহিত করুন! তিনি বলিলেন, আমরা তাহাঁর জন্য তাহাঁর মিসওয়াক ও অযুর পানি প্রস্তুত রাখতাম। রাতের যে সময় আল্লাহর ইচ্ছা হত তাকে জাগিয়ে দিতেন। তিনি তখন মিসওয়াক ও অযু করতেন এবং নয় রাক`আত নামায আদায় করতেন। তিনি এর মাঝে আর বসতেন না, অষ্টম রাক`আত ব্যতীত। তখন তিনি আল্লাহর যিকর করতেন, তাহাঁর হামদ করতেন এবং তাহাঁর কাছে দো`আ করতেন। তারপর সালাম না করেই উঠে পড়তেন এবং নবম রাক`আত আদায় করে বসতেন এবং আল্লাহর যিকির ও তাহাঁর হামদ ও তাহাঁর কাছে দো`আ করতেন। পরে এমনভাবে সালাম করতেন যা আমরা শুনতে পেতাম। সালাম করার পরে বসে দু`রাক`আত নামায আদায় করতেন। বৎস, এ হল মোট এগার রাক`আত। পরে যখন আল্লাহর নাবী রাঃসাঃ এর বয়োঃবৃদ্ধ হয়ে গেলেন এবং তিনি স্থুলদেহী হয়ে গেলেন, তখন সাত রাক`আত দিয়ে বিতর আদায় করতেন। আর শেষ দু` রাক`আতে তাহাঁর আগের আমলের অনুরূপ আমল করতেন। বৎস, এভাবে হল নয় রাক`আত। নাবী রাঃসাঃ যখন কোনো নামায আদায় করতেন তখন তাতে স্থায়িত্ব রক্ষা করা পছন্দ করতেন। আর কখনো নিদ্রা বা কোন ব্যাধি তাহাঁর রাত জেগে ইবাদতের ব্যাপারে তাঁকে সংঘাত ঘটালে দিনের বেলা বার রাক`আত নামায আদায় করে নিতেন। আর আল্লাহর নাবী রাঃসাঃ একই রাতে পূর্ণ কুরআন পড়েছেন বলে আমার জানা নেই এবং তিনি ভোর পর্যন্ত সারা রাত নামায আদায় করেন নি এবং রমাদান ব্যতীত অন্য কোনো পূর্ণ মাস সাওম পালন করেন নি। সা`দ রাদি. `আনহু বলেন, পরে আমি ইবনু আব্বাস রাদি. `আনহুর কাছে গেলাম এবং আয়িশা রাদি. `আনহার বর্ণিত হাদীস তাহাঁর কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বলিলেন, ঠিকই বলিয়াছেন। আমি যদি তাহাঁর নিকটবর্তী হতাম, অথবা বলিলেন, আমি যদি তাহাঁর সঙ্গে যেতাম তাহলে অবশ্যই আমি তাহাঁর কাছে গিয়ে সরাসরি তার মুখে এ হাদীস শুনতাম। সা`দ রাদি. `আনহু বলেন, আমি বলিলাম, আমি যদি জানতাম যে, তাহাঁর কাছে যান না, তবে তাহাঁর হাদীস আমি আপনাকে শোনাতাম না। [30]

আবু যোবায়ের রহ. হইতে বর্ণিত, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদি. আনহু তাকে এ হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাঃসাঃ দশ বছর মক্কায় হজ্জের মৌসুমে মক্কার অলিতে গলিতে, ওকাযমেলা ও মিনায় হাজীদের সাথে দেখা করতেন এবং তাদেরকে বলতেন, কে আমাকে সাহায্য করবে? কে আমাকে সহযোগিতা করবে যাতে আমি আমার রবের রিনামায পৌঁছাতে পারি, বিনিময়ে তাহাঁর জন্য রয়েছে জান্নাত। তিনি কাউকেই তাহাঁর সাহায্যকারী পাননি। এমনকি মুদার, ইয়ামেন ও যুর সামাদ প্রভৃতি অঞ্চল থেকে লোকজন আসত তারা জাতির কাছে ফিরে গিয়ে বলত, তোমরা কুরাইশের এক যুবক থেকে সাবধান হও, তাহাঁর দিকে ফিরেও তাকাবে না। তিনি হজ্জযাত্রীদের মাঝে ঘুরে বেড়াতেন ও তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেন, কিন্তু লোকজন তাহাঁর দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে উপহাস করত। পরে আল্লাহ ইয়াসরিব [মদিনা] থেকে আমাদেরকে পাঠালেন, ফলে তার কাছে মদীনার কোনো লোক আসত এবং ইসলাম গ্রহণ করতো। তাকে কুরআন পড়ে শোনানো হতো, সে তার জাতির কাছে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিত, তারা তার ইসলামের কারণে ইসলাম গ্রহণ করে নিতো, ফলে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, মদীনায় এমন কোনো ঘর বাকী ছিল না যেখানে একদল ইসলাম গ্রহণ করে নি [অর্থাৎ বিরাট সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করল]। অতঃপর আমাদেরকে আল্লাহ পাঠালেন, আমরা পরস্পর পরামর্শ করলাম, আর আমাদের মধ্য থেকে সত্তরজন লোক শি`আবে `আকাবাতে একত্রিত হলাম এবং বলিলাম, আর কতদিন আমরা রাঃসাঃ কে মক্কার মানুষদের দ্বারা তাদের পাহাড়সমূহে নিগৃহীত হতে ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছেড়ে রাখব? সুতরাং আমরা রাঃসাঃ এর কাছে প্রবেশ করলাম, হজ মওসুমে তাই আমরা তার কাছে আসলাম। তাকে আমরা আকাবার পাহাড়ে পেলাম। তখন রাঃসাঃ  এর চাচা আব্বাস রাদি. আনহু বলিলেন, হে ভাতিজা আমি জানিনা কারা তোমার কাছে এসেছে? আমি তো ইয়াসরিবের লোকদেরকে জানি। ফলে আমরা একজন দু`জন করে একত্রিত হলাম। অতঃপর আব্বাস রাদি. আনহু আমাদের দেখে বলিলেন, এদেরকে আমি চিনি না। এরা নতুন লোক। আমরা বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা কিসের উপর বাই`আত গ্রহণ করব? তিনি বলিলেন, তোমরা বাই`আত গ্রহণ করবে যে, সর্বাবস্থায় আমার কথা শোনবে, আনুগত্য করবে, সুখে দুঃখে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে, আল্লাহর ব্যাপারে নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবে না এবং আমি ইয়াসরেবে আগমন করলে আমাকে সাহায্য করবে, আমার পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করবে যেভাবে তোমাদের পরিবার-পরিজন থেকে প্রতিরোধ করে থাক। বিনিময়ে তোমাদের জন্য জান্নাত থাকবে। তখন আমরা তাহাঁর হাত ধরলাম বাই`আত করার জন্য, তখন আমাদের সত্তরজনের মধ্যকার ছোটজন আস`আদ ইবনু যুরারা তাহাঁর হাত ধরলেন এবং বলিলেন, থাম, হে ইয়াসরিববাসী আমরা উট চালিয়ে এখানে এসেছে এটা ভালো করেই জেনে যে তিনি আল্লাহর রাসূল। আজ তাকে নিয়ে বের হয়ে আসার অর্থ হচ্ছে তোমাদের সকল আরবদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ, তাদের উত্তম লোকদের হত্যা করা, আর তোমরা তরবারীর দ্বারা কর্তিত হওয়া। এমতাবস্থায় হয় তোমরা যখন তরবারীর সম্মুখীন হবে তখন তাতে ধৈর্য ধারণ করবে, তোমাদের উত্তম লোকদের মৃত্যু মেনে নিবে, সকল আরবদের বিপক্ষে দাঁড়াবে, সুতরাং সেটা তোমরা গ্রহণ করতে পার, আর তার প্রতিদান তোমরা আল্লাহর কাছে পাবে, নতুবা তোমরা নিজেদের ব্যাপারে ভীত এক জাতিতে পরিণত হয়ে তাকে ছেড়ে দিতে পার, আর তা আল্লাহর কাছে ওযর পেশ করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণীয় হবে। তখন তার সাথীরা বলল, হে আস`আদ ইবনু যুরারা, তোমার হাত সরাও, আল্লাহর শপথ, আমরা এ বাই`আত কখনো পরিত্যাগ করবো না, তা থেকে মুক্তিও চাইবো না, তখন আমরা একজন একজন করে আব্বাসের পাহারায় তার হাতে বাই`আত নিয়েছলাম আর তিনি তার জন্য আমাদের জান্নাত দিচ্ছিলেন[31]


[1] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৪৯।

[2] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৫১।

[3] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৫২।

[4] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৫৩।

[5] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৬৬।

[6] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৩০৮।

[7] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৫৫।

[8] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৫৬।

[9] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৫৯।

[10] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৬০।

[11] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৬১।

[12] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৬১-৩৫৬২।

[13] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৬৩।

[14] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৬৯।

[15] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪১৮।

[16] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৪২৫।

[17] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৮৬৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৭৭৬।

[18] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৭৭৫।

[19] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬০৩৩।

[20] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯০৮।

[21] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯১১, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৭৯০।

[22] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৯৫২।

[23] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫০৬৩।

[24] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩১৪৮।

[25] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩১৪৯। এ হাদীসটি ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বাব আদদিহক ওয়াতাবাসসুম অধ্যয়ে উল্লেখ করেছেন, হাদিস নম্বর ৬০৮৮। সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০৫৭।

[26] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩১৫০, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০৬২।

[27] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ১০৫৬।

[28] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ১১৩০, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৮১৯।

[29] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪০৪২, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২২৯৬।

[30] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৭৪৬।

[31] মুসনাদে আহমদ, হাদিস নম্বর ১৪৬৫৩। আর হাদীসটি বাইহাকী তার দালায়েলুন নাবুওয়াত গ্রন্থে বর্ণনা করেন, (২/৪৩২)।

Leave a Reply