রাতের নামাজ নবী [সাঃ] এর রাতের নামাজের রাকআত সংখ্যা

রাতের নামাজ নবী [সাঃ] এর রাতের নামাজের রাকআত সংখ্যা

রাতের নামাজ নবী [সাঃ] এর রাতের নামাজের রাকআত সংখ্যা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৭. অধ্যায়ঃ রাতের নামাজ , নবী [সাঃ] এর রাতের নামাজের রাকআত সংখ্যা, বিত্‌র নামাজ এক রাকআত এবং এক রাকআত নামাজ আদায় সহীহ্ সাব্যস্ত

১৬০২

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতের বেলা এগার রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। তার মধ্যে এক রাকআত বিত্‌র আদায় করিতেন। নামাজ শেষ করে তিনি ডান পাশে ফিরে শুতেন। অতঃপর ভোরে মুয়ায্‌যিন আসলে তিনি [উঠে] সংক্ষিপ্তভাবে দু রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৯৪]

১৬০৩

নবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজ ও ফাজ্‌রের নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে এগার রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। এর মধ্যে এক রাকআত বিত্‌র আদায় করিতেন এবং প্রতি দুরাকআতে সালাম ফিরাতেন। ইশার নামাজ কে লোকজন ঐ সময়ে আতামাহ্ বলত। মুয়ায্‌যিন আযান দিয়ে শেষ করলে এবং ফাজ্‌রের সময় স্পষ্ট হয়ে উঠলে মুয়ায্‌যিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে আসত। তখন তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দু রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। এরপর ডান কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন। পরে মুয়ায্‌যিন পুনরায় ইক্বামাতের জন্য আসত [তখন উঠে তিনি নামাজ আদায় করিতেন]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৮৮, ই. সে ১৫৯৫]

১৬০৪

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তবে হারমালাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসে- “ফজরের সময় স্পষ্ট হয়ে উঠলে মুয়াজ্জিন তাহাঁর কাছে আসত” কথাটি উল্লেখ করেননি। আর তিনি ইক্বামাতের কথাও উল্লেখ করেননি। এছাড়া হাদীসের অবশিষ্ট অংশ তিনি আম্‌র ইবনি হারিস বর্ণিত হাদীসের মতো হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৯৬]

১৬০৫

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] রাতের বেলা তের রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। এর মধ্যে পাঁচ রাকআত আদায় করিতেন বিত্‌র এবং এতে একেবারে শেষে ছাড়া কোন বৈঠক করিতেন না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯০, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৯৭]

১৬০৬

আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্ এবং আবু কুরায়ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. সকলে হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯১, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৯৮]

১৬০৭

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] রাতের বেলা ফাজ্‌রের দুরাকআত সুন্নাতসহ তের রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯২, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৯৯]

১৬০৮

আবু সালামাহ্ ইবনি আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আয়িশা [রাদি.]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর রমাযান মাসের [রাতের] নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রমাযান মাসে কিংবা অন্য কোন সময়ে রাতের বেলা এগার রাকআতের বেশী নামাজ আদায় করিতেন না। প্রথম চার রাকআত তিনি এমনভাবে আদায় করিতেন যে, তার সৌন্দর্য সম্পর্কে আর কি জিজ্ঞেস করিবে? তারপর চার রাকআত তিনি এত সুন্দর করে আদায় করিতেন যে, তার সৌন্দর্য সম্পর্কে ও দীর্ঘতা সম্বন্ধে আর কি জিজ্ঞেস করিবে? এরপর তিনি আরো তিন রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। আয়িশা [রাদি.] বলেন, এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম যে, হে আল্লাহর রসূল! আপনি বিত্‌র নামাজ আদায়ের পূর্বেই ঘুমাতেন? জবাবে তিনি বলিলেন, হে আয়েশাহ! আমার চোখ দুটি ঘুমায় কিন্তু আমার হৃদয়-মন ঘুমায় না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০০]

১৬০৯

আবু সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.] -কে রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এর [রাতের] নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ তের রাকআত আদায় করিতেন। প্রথমে তিনি আট রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। তারপর বিত্‌র আদায় করিতেন। সবশেষে বসে বসে আরো দু রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। পরে রুকু করার সময় উঠে দাঁড়িয়ে রুকু করিতেন। অতঃপর ফাজ্‌রের নামাজের আযান ও ইক্বামাতের মধ্যবর্তী সময়েও দু রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০১]

১৬১০

আবু সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আয়িশা [রাদি.] কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। ….. পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিলেন। তবে তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে দাঁড়িয়ে নয় রাকআত নামাজ আদায় করার কথা উল্লেখ আছে এবং তার মধ্যে বিতরের নামাজ ও অন্তর্ভূক্ত আছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০২]

১৬১১

আবু সালামাহ্ [রাদি.} হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-এর কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আম্মাজান! আমাকে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর নামাজ সম্পর্কে অবহিত করুন তো। তিনি বললেনঃ রমাযান ও অন্যান মাসে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] ফাজ্‌রের দু রাকআত [সুন্নাত] নামাজ সহ রাতের বেলা মোট তের রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০৩]

১৬১২

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাতের এক বেলা রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] দশ রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। আর এক রাকআত বিত্‌র এবং দু রাকআত ফাজ্‌রের সুন্নাতসহ মোট তের রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০৪]

১৬১৩

আবু ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-কে আস্‌ওয়াদ ইবনি ইয়াযীদ-এর কাছে বর্ণিত রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] রাতের প্রথমভাগে ঘুমাতেন এবং শেষভাগে জাগতেন। এ সময় যদি স্ত্রীদের সাহচর্য লাভের প্রয়োজন হত তাহলে তা পূরণ করিতেন এবং এরপর আবার ঘুমাতেন। ফাজ্‌রের আযানের সময় [তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে] তিনি ত্বরিতে উঠতেন। আল্লাহর শপথ! তিনি {আয়েশাহ [রাদি.]} বলেননি যে, তিনি গোসল করিতেন। তার উদ্দেশ্য আকাঙ্খা আমি ভাল করেই জানতাম। তিনি নাপাক না হয়ে থাকলে কোন লোক শুধু নামাজের জন্য যেভাবে ওযূ করে থাকে সেভাবে ওযূ করিতেন এবং তারপর ফাজ্‌রের দু রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০৫]

১৬১৪

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতের বেলা যে নামাজ আদায় করিতেন তাতে সর্বশেষে আদায় করিতেন বিত্‌র নামাজ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০৬]

১৬১৫

মাসরূক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এর আমাল সম্পর্কে আয়িশা [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিয়মিত আমালকে পছন্দ করিতেন। মাসরূক্ব বলেন, আমি তাঁকে আবার জিজ্ঞেস করলাম : তিনি নামাজ আদায় করিতেন কোন্‌ সময়? আয়িশা [রাদি.] বললেনঃ তিনি যখন মোরগের ডাক শুনতেন তখন উঠে নামাজ আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬০০, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০৭]

১৬১৬

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার ঘরে অথবা আমার কাছে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় সব সময় সুবহে কাযিব [সাহরীর শুরু] এর সময় হয়ে যেত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬০১, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০৮]

১৬১৭

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ফাজ্‌রের দু রাকআত নফল [নামাজ] আদায় করার পর আমি জাগ্রত থাকলে নবী [সাঃআঃ] আমার সাথে কথাবার্তা বলিতেন। অন্যথায় শুয়ে পড়তেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬০২, ইসলামিক সেন্টার- ১৬০৯]

১৬১৮

আয়িশাহ্ [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬০৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৬১০]

১৬১৯

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাতের বেলা নামাজ আদায় করিতেন। তাহাঁর বিত্‌র পড়া শেষ হয়ে গেলে তিনি আয়িশা [রাদি.] কে লক্ষ্য করে বলিতেন : হে আয়েশাহ! ওঠো এবং বিত্‌র পড়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬০৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৬১১]

১৬২০

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন রাতের বেলা নামাজ আদায় করিতেন তখন আয়িশা [রাদি.] তাহাঁর সামনে তাড়াতাড়ি শুয়ে থাকতেন। নামাজ শেষে যখন তাহাঁর শুধুমাত্র বিত্‌র পড়া বাকি থাকত তখন তিনি আয়েশাহ কে জাগিয়ে দিতেন। আর তিনি {আয়েশাহ [রাদি.]} তখন উঠে বিত্‌র আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬০৫,ইসলামিক সেন্টার-১৬১২]

১৬২১

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সারা রাতের যে কোন সময় রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বিত্‌র আদায় করিয়াছেন। এমন কি কোন কোন সময় রাতের শেষভাগেও তিনি [সাঃআঃ] বিত্‌র নামাজ আদায় করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬০৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৬১৩]

১৬২২

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সারা রাতের যে কোন অংশে রসূলূল্লাহ্ [সাঃআঃ] বিত্‌র নামাজ আদায় করিয়াছেন। তিনি রাতের প্রথমভাগে, মধ্যভাগে, শেষভাগে এবং এমনি ভোরে বিত্‌র আদায় করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬০৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৬১৪]

১৬২৩

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সারা রাতের মধ্যে যে কোন সময় রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বিত্‌রের নামাজ আদায় করিয়াছেন। এমনকি তিনি শেষ রাতেও বিত্‌র আদায় করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬০৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৬১৫]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply