রাতের নফল নামাজ । ফজরের ২ রাকাত ও বেতের নামাজ

রাতের নফল নামাজ । ফজরের ২ রাকাত ও বেতের নামাজ

রাতের নফল নামাজ । ফজরের ২ রাকাত ও বেতের নামাজ, এই অধ্যায়ে হাদীস =৩৩ টি ( ২৪৮-২৮০ পর্যন্ত ) >> মুয়াত্তা ইমাম মালিক এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ৭ঃ রাত্রে নফল নামায

  • পরিচ্ছেদঃ ১ – রাত্রে নফল নামায আদায় করা
  • পরিচ্ছেদঃ ২ – নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিতরের নামাযের বর্ণনা
  • পরিচ্ছেদঃ ৩ – বেতের নামাজ -এর নির্দেশ
  • পরিচ্ছেদঃ ৪ – ফজর-এর [সুবহে সাদিক] পর বিতর আদায় করা
  • পরিচ্ছেদঃ ৫ – ফজরের দুই রাকআত [সুন্নত নামায]-এর বর্ণনা

পরিচ্ছেদঃ ১ – রাত্রে নফল নামায আদায় করা

২৪৭ আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে কোন নফল নামায আদায়ে অভ্যস্ত কিন্তু তার উপর ঘুমের প্রভাববশত সে নামায আদায় করিতে পারেনি, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে তার নামাযের সওয়াব প্রদান করিবেন, আর নিদ্রা হইবে তার জন্য সদকা

[অর্থাৎ নামাযের জন্য তাকে হিসাব দিতে হইবে না, উপরন্তু নিয়ত করার সওয়াবও পাবে]। [সহীহ, আবু দাঊদ ১৩১৪, নাসাঈ ১৭৮৪, হাদীসটি আল্লামা আলবানী সহীহ বলেছেন সহীহ আল জামে ৫৬৯১] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৪৮ আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সামনে ঘুমিয়ে থাকতাম, আমার দুপা তাঁর কিবলার স্থলে থাকত। [অবস্থা এই ছিল] তিনি যখন সিজদায় যেতেন আমাকে চাপ দিতেন, তখন আমি আমার পা দুটিকে গুটিয়ে নিতাম; যখন তিনি দাঁড়াতেন আমার পা দুটিকে আবার লম্বা করে দিতাম। তিনি আয়েশা [রাদি.] বলেন, সেকালে ঘরগুলোতে বাতি ছিল না।

[বুখারি ৩৮২, মুসলিম ৫১২] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৪৯ আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, তোমাদের কেউ নামাযে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন বসে পড়ে, যতক্ষণ তন্দ্রা ছুটে না যায়। কেননা তোমাদের কেউ তন্দ্রাবস্থায় নামায আদায় করলে, বলা যায় না, হয়তো সে ইস্তিগফার [ক্ষমা প্রার্থনা] করিতে গিয়ে নিজের নফসকে মন্দ বলে ফেলবে।

[বুখারি ২১২, মুসলিম ৭৮৬] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫০ ইসমাইল ইবনি আবী হাকিম [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তাঁর নিকট খবর পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ জনৈকা স্ত্রীলোককে রাত্রিবেলা নামায আদায় করিতে শুনলেন। তিনি বলেন, ইনি [স্ত্রীলোকটি] কে? [উত্তরে] তাহাকে বলা হল স্ত্রীলোকটি হাওলা বিনতে তুয়াইত। সে সারারাত্রি ঘুমায় না। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এতে অসন্তুষ্ট হলেন, এমন কি তাঁর চেহারা [মুবারক]-এর উপর নারাজি ভাব প্রকাশ পেল। অতঃপর তিনি ফরমালেন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পরিশ্রান্ত হন না, যতক্ষণ তোমরা পরিশ্রান্ত না হও। ততটুকু আমলই কর যতটুকু করার সামর্থ্য রাখ।

[বুখারি ৪৩, আয়েশা [রাদি.] থেকে বর্ণনা করেন, মুসলিম ৭৮৫] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫১ যায়েদ বিন আসলাম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] রাত্রে যতক্ষণ আল্লাহ তাওফীক দিতেন নামায আদায় করিতেন। অতঃপর যখন প্রত্যুষের সময় হত তিনি ঘরের লোকজনকে জাগিয়ে দিতেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলিতেন, الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ [নামায, নামায]। অতঃপর কুরআন মজীদের এই আয়াতটি তিলাওয়াত করিতেন

এবং তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও ও উহাতে অবিচলিত থাক, আমি তোমার নিকট কোন জীবনোপকরণ চাই না; আমিই তোমাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য। [সূরা: ত্বোয়াহা, ১৩২]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৫২ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলিতেন, ইশা [নামায]-এর পূর্বে নিদ্রা এবং পরে আলাপ করা মাকরূহ।

[ঈমাম বুখারি মারফু সনদে আবু বারযা থেকে বর্ণনা করেন ৫৬৮, মুসলিম ৬৪৫] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৩ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলিতেন, দিনের কি রাত্রের [নফল] নামায দুই-দুই রাকআতই। প্রতি দুই রাকআত পর সালাম ফিরাবে। [সহীহ, তিরমিজি ৪৩৭, আল্লামা আল বানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন সহীহ আল জামে, ৩৮২৯, তবে ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] কর্তৃক উল্লেখিত সনদটির মধ্যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে]

ইয়াহইয়া [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন, এই বিষয়ে আমার সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদঃ ২ – নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিতরের নামাযের বর্ণনা

২৫৪ আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ রাত্রে এগার রাকআত নামায আদায় করিতেন, তন্মধ্যে এক রাকআত বিতর আদায় করিতেন, নামায শেষ করলে তিনি ডান কাতে শয়ন করে বিশ্রাম করিতেন।

[বুখারি ৬৩১০, মুসলিম ৭৩৬] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৫ আবু সালমা ইব্নু আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী সাঃআঃ-এর নিকট প্রশ্ন করেন, রমাযানে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ [রাত্রের নামায] এগার রাকআতের উপর বর্ধিত করিতেন না। তিনি চার রাকআত আদায় করিতেন, তুমি সেটার দৈর্ঘ ও সৌন্দর্য সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিন রাকআত আদায় করিতেন।

আয়েশা [রাদি.] বলিলেন, অতঃপর আমি জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রসূল, আপনি যে বিতরের পূর্বে ঘুমান? [উত্তরে] তিনি ফরমালেন হে আয়েশা, [মনে রেখো] আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমায় বটে কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না। [বুখারি ১১৪৭, মুসলিম ৭৩৮]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৬ আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ রাত্রেবেলা তের রাকআত নামায আদায় করিতেন। অতঃপর যখন ফজরের আযান শুনতেন, তখন হালকা দুরাকআত নামায আদায় করিতেন।

[বুখারি ১১৬৪, মুসলিম ৭৩৭] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫৭ আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাঁর খালা নাবী সাঃআঃ-এর সহধর্মিনী মায়মুনা [রাদি.]-এর নিকট রাত্রি যাপন করিতেছিলেন। তিনি বলেছেন, আমি বিছানার প্রস্থে শুয়েছিলাম আর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ ও তাঁর পরিবার শুয়েছিলেন বিছানার দৈর্ঘ্য। অতঃপর নবী সাঃআঃ ঘুমিয়ে পড়লেন। তারপর অর্ধ রাত্র অতিবাহিত হওয়ার কিছু পূর্বে অথবা পরে নবী সাঃআঃ জাগ্রত হলেন এবং বসলেন, তারপর চেহারা [মুবারক]-এ হাত সঞ্চালন করে ঘুমের আমেজ দূর করলেন। অতঃপর সূরা আল্-ইমরানের শেষের দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। পরে একটি ঝুলানো পুরাতন মশক বা পাত্রের দিকে দণ্ডায়মান হলেন, সেখান থেকে পানি নিয়ে ওযূ করলেন। এবং উত্তমরূপে ওযূ করলেন, অতঃপর নামায আদায় করিতে দাঁড়ালেন। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, [এটা দেখে] আমিও দাঁড়াইলাম এবং নবী সাঃআঃ যে [রকম] ওযূ করিয়াছিলেন সেই [রকম] ওযূ করলান। অতঃপর তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে তাকে মলিতে শুরু করলেন, অতঃপর তিনি দুরাকআত আদায় করলেন, তারপর দুরাকআত, আবার দুরাকআত, আবার দুরাকআত, আবার দুরাকআত, আবার দুরাকআত, আদায় করলেন। তারপর বিতর আদায় করে বিশ্রাম করলেন মুয়াযযিন আসা পর্যন্ত। [মুয়াযযিন আযান দিলেন] তিনি সংক্ষিপ্ত দুরাকআত [নামায] আদায় করলেন, তারপর বের হয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন।

[বুখারি ১৮৩, মুসলিম ৭৬৩] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৫৮ যায়দ ইবনি খালিদ জুহানি [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

[একবার মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করলাম] অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নামায কেমন হয় অন্য রাত্রে আমি তা অবলোকন করব। আমি তাঁর দরজায় অথবা তাঁবুতে ঠেস দিয়ে বসে রইলাম; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ দাঁড়ালেন, আর দীর্ঘ- অনেক দীর্ঘ দুরাকআত নামায আদায় করলেন, তারপর পূর্বের দুরাকআতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত দুরাকআত আদায় করলেন। তারপর দুরাকআত আদায় করলেন দুরাকআত হইতে সংক্ষিপ্ত, তারপর দুরাকআত আদায় করলেন, এই দুরাকআত পূর্বের দুরাকআত অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত [সর্বশেষ বিতর আদায় করলেন এই হল তের রাকআত]। তারপর পূর্বের দুরাকআতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত দুরাকআত আদায় করলেন।

[সহীহ, মুসলিম ১৮৩] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদঃ ৩ – বেতের নামাজ -এর নির্দেশ

২৫৯ আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-কে সালাতুল লায়ল [তাহাজ্জুদের নামায] সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন সালাতুল-লায়ল দুই-দুই রাকআত। অতঃপর যদি প্রভাত হওয়ার আশংকা হয় তবে এক রাকআত আদায় করিবে, এটা আদায়কৃত নামাযগুলোকে তার জন্য বিতর-এ [বিজোড়] পরিণত করিবে।

[বুখারি ৯৯১, মুসলিম ৭৪৯] বেতের নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬০ আবদুল্লাহ ইবনি মুহায়রীয [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

কেনানা গোত্রের এক ব্যক্তি, যাকে মুখদাজী বলা হত, তিনি শাম দেশের এক ব্যক্তিকে [যার উপনাম আবু মুহাম্মাদ] বলিতে শুনেছেন যে, বিতর-এর নামায ওয়াজিব। মুখদাজী বলিলেন, আমি উবাদা ইবনি সামিত [রাদি.]-এর কাছে গেলাম, তিনি তখন মসজিদে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁর পথ আটকে দাঁড়ালাম। অতঃপর আবু মুহাম্মাদ যা বলেছেন তাহাকে উহার খবর দিলাম। উবাদা [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ তাআলা বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন। যে ব্যক্তি তা আদায় করিবে এবং তুচ্ছ ধারণা করে তার কোন প্রকার হক নষ্ট করিবে না, তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট এই প্রতিজ্ঞা রইল যে, তিনি তাহাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন। আর যে তা আদায় করিবে না, তাঁর প্রতি আল্লাহর কোন অঙ্গীকার থাকিবে না। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে জান্নাতেও দাখিল করিতে পারেন।

[সহীহ, আবু দাঊদ ৪২৫, নাসাঈ ৪৬১, ইবনি মাজাহ ১৪০১, আহমাদ ২২৭৪৫, আল্লামা আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন সহীহ আল জামে, ৩২৪৩] বেতের নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬১ সাঈদ ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-এর সাথে মক্কার পথে ভ্রমণ করছিলাম। সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] বর্ণনা করলেন যখন প্রভাত হওয়ার আশংকা করলাম, তখন বিতর আদায় করলাম এবং [তাড়াতাড়ি] এসে তাঁর সাথে একত্র হলাম। আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] প্রশ্ন করলেন তুমি [এতক্ষণ] কোথায় ছিলে? আমি তাহাকে বললাম ভোর হচ্ছে আশংকা করে নিচে নেমে বিতর আদায় করেছি। এটা [শুনে] আবদুল্লাহ [রাদি.] বলিলেন, তোমার জন্য রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর [কাজের মধ্যে] আদর্শ নাই কি? আমি বললাম আল্লাহর কসম, হ্যাঁ আছে। তিনি বলিলেন, [মনে রেখ] রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ উটের উপর বিতর আদায় করিতেন।

[বুখারি, ৯৯৯, মুসলিম ৭০০] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

২৬২ সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবু বাকর সিদ্দীক [রাদি.] শয্যা গ্রহণের ইচ্ছা করলে বিতর আদায় করে নিতেন। আর উমার [রাদি.] শেষ রাত্রে বিতর আদায় করিতেন। সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব বলেন, [আমার অভ্যাস হল এই] আমি যখন শয্যা গ্রহণ করিতে আসি তখন বিতর আদায় করে নেই। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৬৩ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট বর্ণনা পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবনি উমর [রাদি.]-কে বিতর [নামায] ওয়াজিব কিনা জানতে চাইলেন। [উত্তরে] তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বিতর আদায় করিয়াছেন এবং মুসলমানগণও বিতর আদায় করিয়াছেন। বর্ণনাকারী বলেন, [প্রশ্নকারী] সে ব্যক্তিটি বারবার তাকে জিজ্ঞেস করছিলেন বিতর ওয়াজিব কি না? [উত্তরে] আবদুল্লাহ [রাদি.] বারবার বলেছেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৬৪ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী সাঃআঃ-এর সহধর্মিণী আয়েশা [রাদি.] বলেছেন, যার এ আশংকা থাকে যে, সে ভোর হওয়া পর্যন্ত ঘুমাবে, তবে সে ঘুমের পূর্বেই বিতর আদায় করে নিবে। আর যে ব্যক্তি শেষ রাত্রে উঠবার ভরসা রাখে সে বিতর পরে [শেষ রাত্রে] আদায় করিবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৬৫ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন, তিনি মক্কার পথে আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-এর সাথে ছিলেন। তখন আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাই আবদুল্লাহ [ইবনি উমার] [রাদি.] ভোর হওয়ার আশংকা করলেন এবং এক রাকআত বিতর আদায় করে নিলেন। অতঃপর মেঘ দূরীভূত হলে তিনি দেখলেন এখনও রাত্র কিছু অবশিষ্ট আছে। তখন তিনি আর এক রাকআত দ্বারা জোড় [নামায] করে নিলেন। অতঃপর দুই-দুই রাকআত করে আরও নামায আদায় করলেন। যখন প্রভাত নিকটবর্তী মনে করলেন তখন এক রাকআত বিতর আদায় করে নিলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৬৬ নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] বিতর-এর এক রাকআত এবং তৎপূর্বের দু রাকআতের মাঝখানে সালাম ফিরাতেন। এমন কি তাঁর প্রয়োজনীয় বিষয়ে নির্দেশও প্রদান করিতেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৬৭ ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সাদ ইবনি আবি ওয়াককাস [রাদি.] ইশার পর এক রাকআত বিতর আদায় করিতেন। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এর [এক রাকআত বিতরের] উপর আমাদের আমল নাই। বরং সর্বনিম্ন বিতর-এর সংখ্যা তিন রাকআত। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৬৮ আবদুল্লাহ ইবনি দীনার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] বলিতেন, মাগরিবের নামায হল দিনের বিতর। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রের প্রথমভাগে বিতর আদায় করে ঘুমিয়েছেন, অতঃপর জেগেছেন, তখন তাঁর নামায পড়বার ইচ্ছা হল। তবে তিনি দুই দুই রাকআত করে আদায় করিবেন। আমি [এই নামায সম্বন্ধে] যা শুনিয়াছি তন্মধ্যে এটাই আমার পছন্দনীয়।

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ৪ – ফজর-এর [সুবহে সাদিক] পর বিতর আদায় করা

২৬৯ সাঈদ ইবনি যুবায়র [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] এক রাত্রে ঘুমালেন। জাগ্রত হওয়ার পর খাদিমকে বলিলেন, দেখে আস লোকজন কি করেছে। সে সময় তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল। খাদিম গেল এবং ফিরে এসে বলল, লোকজন ফজরের নামায হইতে প্রত্যাবর্তন করেছে। তারপর আবদুল্লাহ [রাদি.] দাঁড়িয়ে বিতর আদায় করলেন, তারপর ফজর-এর নামায আদায় করলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৭০ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস, উবাদা ইবনি সামিত [রাদি.], কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ [রাদি.], আবদুল্লাহ ইবনি আমির ইবনি রাবীআ [রাহিমাহুল্লাহ] [তাঁরা প্রত্যেকেই] ভোর হওয়ার পর বিতর আদায় করিয়াছেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৭১ আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

যদি ফজরের নামায আরম্ভ হয়ে যায় এবং আমি তখন বিতর আদায় করিতেছি, এতে আমি উৎকণ্ঠা বোধ করি না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৭২ ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উবাদা ইবনি সামিত [রাহিমাহুল্লাহ] এক সম্প্রদায়ের ঈমামতি করিতেন। একদিন ফজর আদায়ের জন্য গেলেন, তখন মুয়াযযিন ফজরের নামায-এর ইকামত বলিতে শুরু করলেন, উবাদা তাকে বিরত করলেন, অতঃপর [প্রথমে] বিতর নামায আদায় করলেন। [তারপর] তাদের ফজরের নামায আদায় করালেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৭৩ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আবদুল্লাহ্ ইবনি আমীর ইবনি রবীআ [রাহিমাহুল্লাহ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, [অনেক সময় এমনও হয়] আমি বিতর আদায় করি, এমতাবস্থায় আমি ইকামত শুনতে পাচ্ছি অথবা [তিনি বলেছেন] ফজরের পর। আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] কোনটি বলেছেন সে বিষয়ে রবীআ [রাহিমাহুল্লাহ] দ্বিধা প্রকাশ করেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৭৪ আবদুর রহমান ইবনি কাসিম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি ফজরের পর বিতর আদায় করি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ইয়াহইয়া [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন, যে ব্যক্তি ঘুমের কারণে বিতর আদায় করিতে পারেনি, সে-ই ফজরের পর বিতর আদায় করিতে পারে। ইচ্ছাপূর্বক কারো পক্ষে এরূপ করা ঠিক নয় যে, সে বিতরের নামায রেখে দেবে এবং ফজরের পরে আদায় করিবে।

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদঃ ৫ – ফজরের দুই রাকআত [সুন্নত নামায]-এর বর্ণনা

২৭৫ হাফসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-এর নিকট বর্ণনা করেন যে, যখন মুয়াযযিন ফজরের নামাযের জন্য আযান দিয়ে নীরব হইতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ সংক্ষিপ্ত দুরাকআত নামায আদায় করিতেন। আর এটা হতো ফজরের নামায শুরু হবার পূর্বে।

[বুখারি ৬১৮, মুসলিম ৭২৩] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৭৬ ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম সাঃআঃ-এর সহধর্মিণী আয়েশা [রাদি.] বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ ফজরের দুই রাকআত [সুন্নত] খুবই সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করিতেন, এমন কি আমি [মনে মনে] বলতাম, তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করিয়াছেন, না পাঠ করেননি।

[বুখারি ১১৬৫, মুসলিম ৭২৪, তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের সনদে ====== বিচ্ছিন্নতা রয়েছে] রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

২৭৭ আবু সালমা ইবনি আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

এক সম্প্রদায় ইকামত শুনলেন, [শোনার পর] তাঁরা [ফজরের সুন্নত] নামায আদায় করিতে দাঁড়িয়ে গেলেন। এমন সময় তাঁদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এলেন। তিনি [এটা দেখে] বলিলেন, দুই নামায এক সাথে! দুই নামায এক সাথে! এটা ফজরের নামাযের ঘটনা, ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সম্পর্কে এটা বলা হয়েছে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৭৮ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] ফজরের দুরাকআত [সুন্নত] আদায় করিতে পারেননি। তিনি উক্ত দুই রাকআত নামায সূর্যোদয়ের পর কাযা আদায় করলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৭৯ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

যেরূপ [দুই রাকআত সুন্নত কাযা] করিয়াছেন কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ [রাদি.]-ও সেরূপ কাযা আদায় করিয়াছেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

রাতের নফল নামাজ -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

By বুখারী শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply