ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে

ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে

ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২২. অধ্যায়ঃ ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে

২৮৪৭

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এলাম। তিনি বাত্বহা নামক স্থানে উট বসিয়ে যাত্রা বিরতি করছিলেন। তিনি আমাকে বলিলেন, তুমি কি হজ্জের নিয়্যাত করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি কী ধরনের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি বলিলেন, আমি বলেছি –লাব্বায়কা, নবী [সাঃআঃ] যে হজ্জের ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তদ্রূপ ইহরাম বাঁধলাম। তিনি বলিলেন, তুমি ভালই করেছ। এখন বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ কর ,অতঃপর ইহরাম খুলে ফেল। তিনি বলেন, আমি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করলাম, সাফা-মারওয়ার সাঈ করলাম, অতঃপর ক্বায়স গোত্রের এক স্ত্রীলোকের নিকট এলাম। সে আমার মাথার উকুন বেছে দিল। এরপর আমি হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমি লোকদেরকে এভাবেই ফাতাওয়া দিতে থাকলাম উমর [রাদি.]- এর খিলাফাত পর্যন্ত।

এ সময় এক ব্যক্তি তাকে বলিল, হে আবু মূসা অথবা [বলিল] আবদুল্লাহ ইবনি ক্বায়স! আপনার কিছু ফাতাওয়া আপাততঃ স্থগিত রাখুন। কারণ আমীরুল মুমিনীন [উমর] আপনার পরে হজ্জ সম্পর্কে যে নতুন বিধান প্রবর্তন করিয়াছেন, তা আপনি জ্ঞাত নন। তখন আবু মূসা [রাদি.] বলিলেন, হে লোক সকল! আমি যাদের ফাতাওয়া দিয়েছি [ইহরাম খোলা সম্পর্কে] তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ আমীরুল মুমিনীন অচিরেই তোমাদের নিকট আসছেন, অতএব তাহাঁর আনুগত্য করা তোমাদের কর্তব্য। রাবী বলেন, উমর [রাদি.] এলেন এবং আমি তাহাঁর সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করলাম। তিনি বলিলেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী চলি, তবে তা আমাদের নির্দেশ দেয় [হজ্জ ও উমরাহ্‌] পূর্ণ করার। আমরা যদি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সুন্নাতের উপর আমল করি, তবে কুরবানীর পশু তার [কুরবানীর] স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইহরাম খুলেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮২৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৮২২]

২৮৪৮

শুবাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮২৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৮২৩]

২৮৪৯

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এলাম। তিনি বাত্বহা নামক স্থানে উট বসিয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? আমি বললাম, আমি নবী [সাঃআঃ]-এর অনুরূপ ইহরাম বেঁধেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি কুরবানীর পশু এনেছ? আমি বললাম, না। তিনি বলিলেন, তাহলে তুমি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ এবং সাফা- মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেল। অতএব আমি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেললাম। এরপর আমার গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম, সে আমার মাথার চুল আঁচড়িয়ে দিল এবং আমার মাথা ধুয়ে দিল। আমি আবু বাক্‌র [রাদি.] ও উমর [রাদি.] – এর খিলাফাতকালে লোকদেরকে অনুরূপ ফাতাওয়া দিতাম। হজ্জের মৌসুম আগত, এ সময় এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলিল, আপনি হয়ত জানেন না , আমীরুল মুমিনীন [উমর] হজ্জের ব্যাপারে কী নতুন বিধান প্রবর্তন করিয়াছেন। আমি বললাম, হে জনগণ! আমি যাদেরকে কতগুলো বিষয় সম্পর্কে যে ফাতাওয়া দিয়েছি- তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই আমীরুল মুমিনীন তোমাদের মধ্যে এসে পৌঁছবেন। তোমরা তাহাঁর অনুসরণ করিবে। তিনি [উমর] এসে পৌঁছলে আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি হজ্জের ব্যাপারে নতুন কী বিধান দিচ্ছেন? তিনি বলিলেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে ধরি, তবে আল্লাহ বলেনঃ

 وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ‏

“তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে হজ্জ ও উমরাহ্ পূর্ণ কর”- [সুরা আল বাক্বারাহ্‌ ২ : ১৯৬]। আর আমরা যদি আমাদের নবী [সাঃআঃ]- এর সুন্নাতের অনুসরণ করি, তাহলে নবী [সাঃআঃ] সাথে করে নিয়ে আসা পশু যবাহ না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতেন না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮২৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৮২৪]

২৮৫০

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি যে বছর হজ্জ করেছিলেন, আমি সে বছর [হজ্জ] এসে তাহাঁর সঙ্গে মিলিত হলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, হে আবু মূসা! ইহরাম বাঁধার সময় তুমি কী নিয়্যাত করেছিলে? আমি বললাম, লাব্বায়কা! আমার ইহরাম নবী [সাঃআঃ]- এর ইহরামের অনুরূপ। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে যাও, বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ কর, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ কর, অতঃপর ইহরাম খুলে ফেল। … হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত শুবাহ্ ও সুফ্ইয়ানের হাদীস দুটির অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮২৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৮২৫]

২৮৫১

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তামাত্তু হজ্জের অনুকূলে ফাতাওয়া দিতেন। এক ব্যক্তি তাঁকে বলিল, আপনি আপনার ফাতাওয়া স্থগিত রাখুন। আপনি হয়ত জানেন না, আপনার পরে আমীরুল মুমিনীন হজ্জের ব্যাপারে কী বিধান প্রবর্তন করিয়াছেন। পরে তিনি [আবু মূসা] তাহাঁর সাথে সাক্ষাৎ করিলেন এবং [এ ব্যাপারে] তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন। উমর [রাদি.] বলিলেন, আমি অবশ্যই জানি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর সাহাবীগণ [তামাত্তু] করিয়াছেন। কিন্তু আমি এটা পছন্দ করি না যে, বিবাহিত লোকেরা গাছের ছায়ায় স্ত্রীদের সাথে যৌন সঙ্গম করিবে, অতঃপর এমন অবস্থায় হজ্জের জন্য রওনা হইবে যে, তাদের মাথার চুল দিয়ে পানি টপকে পড়ছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৮২৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৮২৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply