রসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো না বলেননি

রসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো না বলেননি

রসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো না বলেননি

১৪. অধ্যায়ঃ রসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কক্ষনো না বলেননি এবং তাহাঁর বদান্যতা প্রসঙ্গ

৫৯১২

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট কেউ কিছু কামনা করলে কোন দিন তিনি না বলেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৮৪৬]

৫৯১৩

মুহাম্মাদ ইবনি মুনকাদিরের সানাদে জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হুবহু রিওয়ায়াত করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৮৪৭]

৫৯১৪

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করার পর কেউ কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তা দিয়ে দিতেন। আনাস [রাদি.] বলেন, জনৈক লোক নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলো। তিনি তাকে এত বেশী ছাগল দিলেন যাতে দুউপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর সে লোক তার গোত্রের নিকট গিয়ে তাদের বলিল, হে আমার জাতি ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম কবূল কর। কারণ মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] অভাবের আশঙ্কা না করে দান করিতেই থাকেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৮৪৮]

৫৯১৫

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে দু পাহাড়ের মাঝামাঝি ছাগলগুলো চাইলে তিনি তাকে তা দিয়ে দিলেন। অতঃপর সে লোক তার গোত্রের নিকট প্রত্যাবর্তন শেষে বলিল, হে আমার জাতি ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম কবূল কর। আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] অভাবের আশঙ্কা না করে দান করেন।

আনাস [রাদি.] বলেন, যদিও মানুষ শুধু ইহকালের উদ্দেশ্যেই ইসলাম গ্রহণ করে তবুও ইসলাম গ্রহণ করিতে না করিতেই ইসলাম তার কাছে পৃথিবী এবং পৃথিবীর সকল প্রাচুর্যের চাইতে অধিকতর প্রিয় হয়ে যায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৮৪৯]

৫৯১৬

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাক্কাহ্ বিজয়ের যুদ্ধ করেন। এরপর তাহাঁর সাথে যে সব মুসলিম ছিলেন তাদের নিয়ে তিনি বের হন। আর তাঁরা সবাই হুনায়নের যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধে মহান আল্লাহ তাআলা তাহাঁর দ্বীনের এবং মুসলিমদের সাহায্য করেন। সেদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাফ্ওয়ান ইবনি উমাইয়াহ্কে একশ উট দান করেন। এরপর একশ উট, পুনরায় আরও একশ উট প্রদান করেন।

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সাঈদ ইবনি মুসাইয়্যিব [রাদি.] আমাকে বলেছেন যে, সাফ্ওয়ান [রাদি.] বলেন, আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে দান করিলেন এবং এমন পরিমাণে আমাকে দান করিলেন যে, তিনি আমার কাছে সবচেয়ে নিম্নপ্রকৃতির লোক ছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে অবিরাম দান করিতে থাকলেন এমনকি আমার নিকটে সবচেয়ে পছন্দের লোক হয়ে গেলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৮৫০]

৫৯১৭

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমাদের নিকট যদি বাহরাইন হইতে মাল আসে তাহলে তোমাকে এই, এই, এই পরিমাণ দিব এবং তিনি উভয় হাত একত্র করিলেন। এরপর বাহরাইন থেকে মাল আসার আগেই রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] পরলোক গমন করেন। তারপর আবু বকর [রাদি.]-এর কাছে বাহরাইন হইতে মাল আসে। তিনি একজন ঘোষককে এ মর্মে ঘোষণা দেয়ার আদেশ দিলেন যে, নবী [সাঃআঃ]-এর উপর যার কিছু ওয়াদা অথবা ঋণ রয়েছে সে যেন [আমার] নিকট আসে। তখন আমি দাঁড়িয়ে বললাম, নবী [সাঃআঃ] আমাকে বলেছিলেন যে, বাহরাইন থেকে যদি আমাদের কাছে মাল আসে তবে তোমাকে এই, এই, এই পরিমাণ দিব। এ কথা শুনে আবু বকর [রাদি.] এক অঞ্জলি উঠালেন এবং বলিলেন, গুনে দেখো। আমি তা গুনে দেখলাম তাতে পাঁচশ আছে। অতঃপর তিনি বলিলেন, এর চেয়ে আরো দ্বিগুণ তুমি নিয়ে নাও। [ই.ফা.৫৮১৬, ইসলামিক সেন্টার-৫৮৫১]

৫৯১৮

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন নবী [সাঃআঃ] ইন্তিকাল করিলেন এবং আবু বকর [রাদি.]-এর নিকট আলা ইবনি হাযরামীর তরফ হইতে মাল আসলো। তখন আবু বকর [রাদি.] ঘোষণা দিলেন, যার জন্য রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর উপর ঋণ রয়েছে কিংবা তাহাঁর তরফ হইতে কোন ওয়াদা রয়েছে, সে যেন আমার কাছে চলে আসে। অবশিষ্টাংশ হাদীস ইবনি উয়াইনার অবিকল। [ই.ফা.৫৮১৭, ইসলামিক সেন্টার-৫৮৫২]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply