রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিদ্রা বিষয়ক হাদিস সমূহ

রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিদ্রা

রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিদ্রা , এই অধ্যায়ে হাদীস ৬ টি ( ১৮৯-১৯৪ পর্যন্ত ) << শামায়েলে তিরমিযী হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৩৯ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিদ্রা

১।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ডান হাত গালের নিচে রেখে শয্যা যেতেন এবং এ দুআ পাঠ করিতেন
২।পরিচ্ছদঃ নিদ্রায় যাওয়া এবং নিদ্রা থেকে উঠার সময় এ দুআ পাঠ করিতেন
৩।;পরিচ্ছদঃ নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করিতেন
৪।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) শয্যা গ্রহণকালে এ দুআটিও পাঠ করিতেন
৫।পরিচ্ছদঃ তিনি ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন

১।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ডান হাত গালের নিচে রেখে শয্যা যেতেন এবং এ দুআ পাঠ করিতেন

১৮৯. বারা ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন শয্যা গ্রহণ করিতেন তখন ডান হাত ডান গালের নিচে রাখতেন এবং বলিতেনঃ

“রাব্বি কিনী আযাবাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবা-দাক”

অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে বাঁচিয়ে দিন সে দিনের আযাব থেকে যেদিন আপনার বান্দাদের পুনরুথিত করা হইবে।{১}

{১} আবু দাউদ, হাদিস নং/৫০৪৭; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/৩৮৭৭; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং/১৮৬৫৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/১৩১০; শুআবুল ঈমান, হাদিস নং/৪৩৮৪ সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৫৫২২ঃ সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস নং/২৭৫৪।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২।পরিচ্ছদঃ নিদ্রায় যাওয়া এবং নিদ্রা থেকে উঠার সময় এ দুআ পাঠ করিতেন

১৯০. হুযায়ফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) যখন শোয়ার জন্য বিছানায় আসতেন তখন বলিতেনঃ

“আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহইয়া”

অর্থ্যাৎ হে আল্লাহ! তোমার নামেই মৃত্যুলাভ [নিদ্রা] করছি এবং তোমার নামেই জীবিত [জাগ্রত] হব।

অতঃপর আবার যখন নিদ্রা ভঙ্গ করিতেন তখন বলিতেন,

“আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহইয়ানা-বাদা মা-আমা-তানা-ওয়া ইলায়হিন নুশূর”

অর্থ্যাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর! যিনি মৃত্যুর পর জীবন দিয়েছেন আর তাহাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৬৩১২; আবু দাউদ, হাদিস নং/৫০৫১; আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং/১২০৫; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৩৩১৯; শুআবুল ঈমান, হাদিস নং/৪৩৮৩; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৫৫৩৯।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩।পরিচ্ছদঃ নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করিতেন

১৯১. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) যখন শোয়ার জন্য বিছানায় যেতেন তখন দুহাত মিলিয়ে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করিতেন। তারপর ফুঁ দিয়ে যথাসম্ভব মাথা থেকে পা পর্যন্ত সারা শরীরে তিনবার হাত বুলিয়ে দিতেন। তারপর মুখমন্ডল ও শরীরের সামনের অংশেও অনুরূপ বুলাতেন।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৫০১৭; আবু দাউদ, হাদিস নং/৫০৫৮; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৪৮৯৭।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৯২.ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একবার রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নিদ্রায় গেলেন এমনকি তাহাঁর নাক ডাকতে আরম্ভ করে। আর যখন তিনি নিদ্রা যেতেন তখন নাক ডাকতেন। অতঃপর বিলাল [রাদি.] এসে তাকে সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানান। তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করিলেন; কিন্তু ওযু করিলেন না। হাদীসে আরো ঘটনা রহিয়াছে।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৮২৪; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/৩১৯৪; আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং/৬৯৫; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/২৬৩৬; বায়হাকী, হাদিস নং/১৩১৬৩৷ হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) শয্যা গ্রহণকালে এ দুআটিও পাঠ করিতেন

১৯৩. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন শয্যা গ্রহণ করিতেন তখন [নিম্নোক্ত দুআ] পাঠ করিতেনঃ

“আলহামদু লিল্লা-হিল্লায়ী আত্বআমানা- ওয়াসাক্বা-না- ওয়াকাফা-না- ওয়া আ-ওয়া-না- ফাকাম মিম্মান লা- কা-ফিয়া লাহু ওয়ালা- মুবী”

অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের আহার করান ও পান করান। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই নিদ্রা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এমন অনেক লোক রহিয়াছে যাদের কোন যথেষ্টকারী নেই এবং কোন আশ্রয়দাতাও নেই।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৭০৬৯; আবু দাউদ, হাদিস নং/৫০৫৫; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১২৫৭৪; আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং/১২০৬; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৫৫৪০। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫।পরিচ্ছদঃ তিনি ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন

১৯৪. আবু কাতাদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী (সাঃআঃ) [সফরে] যখন রাতে বিশ্রাম নিতেন তখন ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন। আর যদি ভোর হওয়ার উপক্রম হতো তাহলে ডান হাত দাঁড় করে হাতের তালুর উপর মাথা রাখতেন।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৫৯৭; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২২৬৮৫; মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস নং/১৬৩১; বায়হাকী, হাদিস নং/১০১২৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৩৫৯; সহিহ ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/২৫৫৮। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply