রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ক্ৰন্দন । নামাযে ক্ৰন্দন করিতেন

রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ক্ৰন্দন

রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ক্ৰন্দন , এই অধ্যায়ে হাদীস ৬ টি ( ২৪৭-২৫২ পর্যন্ত ) << শামায়েলে তিরমিযী হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৪৫ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ক্ৰন্দন

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজ আদায়কালে ক্ৰন্দন করিতেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কুরআন শ্রবণ করেও ক্ৰন্দন করিতেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সিজদাতে গেলেও ক্ৰন্দন করিতেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কন্যার মৃত্যুশোকে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন
পরিচ্ছদঃ উসমান ইবনি মাযউন [রাদি.] এর মৃত্যুতেও রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কেঁদেছিলেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর কন্যাকে কবরের শোয়োনোর সময়ও কেঁদেছিলেন

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজ আদায়কালে ক্ৰন্দন করিতেন

২৪৭. আবদুল্লাহ ইবনি শিখখীর হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে উপস্থিত হয়ে দেখিতে পেলাম যে, তিনি নামাজ আদায় করছেন। এমতাবস্থায় তাহাঁর বক্ষদেশ হতে কান্নার এমন শব্দ বের হচ্ছে, যেমন চুলার উপর রাখা পাত্র হতে টগবগ শব্দ শোনা যায়।{১}

{১} সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/১২১৪; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৬৩৫৫; সহিহ ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/৯০০; মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস নং/৯৭১; শুআবুল ঈমান, হাদিস নং/১৮৮৯; সহিহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস নং/৩৩২৯। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ক্ৰন্দন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কুরআন শ্রবণ করেও ক্ৰন্দন করিতেন

২৪৮. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে বলিলেন, আমাকে কুরআন পাঠ করে শুনাও। আমি বললাম, আমি আপনাকে পাঠ করে শুনাব, যা আপনার উপর নাযিল হয়েছে! তিনি বলিলেন, আমি তা অপরের কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করি। ফলে আমি সূরা নিসা পাঠ করিতে শুরু করলাম। অতঃপর যখন আমি এ আয়াত পর্যন্ত পৌছলাম-

অর্থাৎ আপনাকে ডাকব তাহাদের উপর সাক্ষীরূপে।{১}

তখন আমি দেখিতে পেলাম যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।{2}

{১} সূরা নিসা- ৪১। {2} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৪৬৮২ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৯০৩; আবু দাউদ, হাদিস নং/৩৬৭০; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/৩৬০৬; বায়হাকী, হাদিস নং/২০৪৮৬; মুসান্নাফে ইবনি আবি শাইবা, হাদিস নং/৩৫৫৬০; শুআবুল ঈমান, হাদিস নং/১৮৯০। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ক্ৰন্দন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সিজদাতে গেলেও ক্ৰন্দন করিতেন

২৪৯. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর যুগে একবার সূর্য গ্রহণ হয়। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তখন সালাতে দণ্ডায়মান হন। এতে তিনি এত বিলম্ব করিলেন যে, মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর রুকূতে যাবেন না। যখন রুকূতে গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল, তিনি যেন আর মাথা তুলবেন না। তারপর যখন মাথা উঠালেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর সিজদায় যাবেন না। তারপর তিনি যখন সিজদায় গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর মাথা উঠাবেন না। তারপর যখন মাথা উঠালেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর সিজদায় যাবেন না। তারপর যখন সিজদায় গেলেন। তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর মাথা উঠবেন না। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন আর ক্ৰন্দন করছিলেন এবং দুআ পাঠ করছিলেন যে, হে আমার রব! তুমি কি এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, আমার উপস্থিতিতে আমার উম্মতকে শাস্তি দেবে না? আমরা তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। রসূলুল্লাহ যখন ২ রাকআত নামাজ শেষ করিলেন, তখন সূর্যও বের হয়ে আসল। অতঃপর তিনি কিছু বলার জন্য দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর হামদ ও ছানার পর বলিলেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। কারো জন্ম বা মৃত্যুর সঙ্গে চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের কোন সম্পর্ক নেই। যখন চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণ হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিকর-এ লিপ্ত হও।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/২১৪০; আবু দাউদ, হাদিস নং/১১৯৬; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/১৪৮২ সহিহ ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/১৩৯২ মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস নং/১২২৯; বায়হাকী, হাদিস নং/১৩৭৯। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ক্ৰন্দন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কন্যার মৃত্যুশোকে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন

২৫০. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর। এক কন্যা মূমুর্ষ অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাকে কোলে তুলে সামনে রাখলেন। তারপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর সামনেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। তখন উম্মে আয়মান [রাদি.] চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে বলিলেন, আল্লাহর রাসূলের সামনেই তুমি ক্ৰন্দন করছ? উম্মে আয়মান বলিলেন, আমি আপনাকেও কি অশ্রুসিক্ত দেখিতে পাচ্ছি না? রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, আমি যে কান্না করছি তা নিষেধ নয়, তা আল্লাহর রহমত। অতঃপর তিনি বলিলেন, একজন মুমিন সর্বাবস্থায় মঙ্গলজনক অবস্থায় থাকে। এমনকি তাহাঁর জীবন নিয়ে যাওয়ার সময়ও আল্লাহর প্রশংসা করে।{১}

{১} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৪৭৫; সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস নং/১৬৩২। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ক্ৰন্দন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ উসমান ইবনি মাযউন [রাদি.] এর মৃত্যুতেও রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কেঁদেছিলেন

২৫১. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উসমান ইবনি মাযউন [রাদি.] মারা গেলে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর কপালে চুম্বন দিলেন। তিনি কাদছিলেন অথবা [রাবী] বলেন, তখন তাহাঁর চোখ হতে অশ্রু পড়ছিল।{১}

{১} মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস নং/১৩৩৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/১৪৭০। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ক্ৰন্দন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর কন্যাকে কবরের শোয়োনোর সময়ও কেঁদেছিলেন

২৫২. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর কন্যার কবরের পার্শ্বে উপস্থিত হন। তিনি সেখানে বসেন। আমি দেখিতে পেলাম, তাহাঁর চোখ হতে অশ্রু বেরোচ্ছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে গত রাতে স্ত্রীর নিকটবর্তী হওনি? আবু তালহা [রাদি.] বলিলেন, আমি। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে বলিলেন, তুমি কবরে অবতরণ করো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর নির্দেশে আবু তালহা [রাদি.] কবরে অবতরণ করিলেন।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/১২৮৫; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১২২৯৭; মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস নং/৬৮৫৩; বায়হাকী, হাদিস নং/৬৮৩৮; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/১৫১৩; মুসনাদুল বাযযার, হাদিস নং/৬২২৫। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ক্ৰন্দন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply