রমযানের রোযা ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী

রমযানের রোযা ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী

রমযানের রোযা ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী  >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

রমযানের রোযা ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী

পরিচ্ছেদ – ২১৭ঃ রমযানের রোযা ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়াবলী
পরিচ্ছেদ – ২১৮ঃ মাহে রমযানে অধিকাধিক সৎকর্ম ও দান খয়রাত করা তথা এর শেষ দশকে আরো বেশী সৎকর্ম করা প্রসঙ্গ
পরিচ্ছেদ – ২১৯ঃ অর্ধ শা’বানের পর রমযানের এক-দু’দিন আগে থেকে রোযা রাখা নিষেধ। তবে সেই ব্যক্তির জন্য অনুমতি রয়েছে যার রোযা পূর্বের রোযার সাথে মিলিত হয়ে অথবা সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতে অভ্যস্ত হয়ে ঐ দিনে পড়ে
পরিচ্ছেদ – ২২০ঃ নতুন চাঁদ দেখলে যা বলিতে হয়
পরিচ্ছেদ – ২২১ঃ সেহরী খাওয়ার ফযীলত। যদি ফজর উদয়ের আশংকা না থাকে, তাহলে তা বিল করে খাওয়া উত্তম
পরিচ্ছেদ – ২২২ঃ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন্ খাদ্য দ্বারা ইফতার করিবে ও তার পরের দুআ
পরিচ্ছেদ – ২২৩ঃ রোযাদার নিজ জিভ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে রোযার পরিপন্থী ক্রিয়াকলাপ তথা গালি-গালাজ ও অনুরূপ অন্য অপকর্ম থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।
পরিচ্ছেদ – ২২৪ঃ রোযা সম্পর্কিত কিছু জ্ঞাতব্য বিষয়

পরিচ্ছেদ – ২১৭: রমযানের রোযা ফরয, তার ফযীলত ও আনুষঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়াবলী

১২২৩

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “মহান আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকর্ম তার জন্যই; কিন্তু রোযা স্বতন্ত্র, তা আমারই জন্য, আর আমিই তার প্রতিদান দেব।’ রোযা ঢাল স্বরূপ অতএব তোমাদের কেউ যেন রোযার দিনে অশ্লীল না বলে এবং হৈ-হট্টগোল না করে। আর যদি কেউ তাকে গালি-গালাজ করে অথবা তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, ‘আমি রোযা রেখেছি।’ সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন আছে, নিঃসন্দেহে রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা বেশী উৎকৃষ্ট। রোজাদারের জন্য দু’টি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে, তখন সে আনন্দিত হয়; (১) যখন সে ইফতার করে (ইফতারের জন্য সে আনন্দিত হয়)। আর (২) যখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, স্বীয় রোযার জন্য সে আনন্দিত হবে।”

(সহীহুল বুখারী ১৯০৪, ১৮৯৪, ৫৯২৭, ৭৪৯২, ৭৫৩৮, মুসলিম ১১৫১, তিরমিজি ৭৬৪, ৭৬৬, নাসায়ী ২২১৫-২২১৯, আবু দাউদ ২৩৬৩, ইবনু মাজাহ ১৬৩৮, ১৬৯১, ৩৮২৩, আহমাদ ৭২৯৫, ৭৪৪১, ৭৬৩৬, ৭৭৮১, ৭৯৯৬, ৮১৩৮, ৮৯৭২, ৯৬২৭, ৯৬৩১, মুওয়াত্তা মালিক ৬৮৯)

বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, ‘সে (রোজাদার) পানাহার ও যৌনাচার বর্জন করে একমাত্র আমারই জন্য। রোযা আমার জন্যই। আর আমি নিজে তার পুরস্কার দেব। আর প্রত্যেক নেকী দশগুণ বর্ধিত হয়।’

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “আদম সন্তানের প্রত্যেক সৎকর্ম কয়েকগুণ বর্ধিত করা হয়। একটি নেকী দশগুণ থেকে নিয়ে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু রোযা ছাড়া। কেননা, তা আমার উদ্দেশ্যে (পালিত) হয়। আর আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব। সে পানাহার ও কাম প্রবৃত্তি আমার (সন্তুষ্টি অর্জনের) উদ্দেশ্যেই বর্জন করে।’ রোজাদারের জন্য দু’টি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে। একটি আনন্দ হল ইফতারের সময়, আর অপরটি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎকালে। আর নিশ্চয় তার মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা অধিক উৎকৃষ্ট।”

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২২৪

উক্ত রাবী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া বস্তু ব্যয় করে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে, ‘হে আল্লাহর বান্দাহ! এ দরজাটি উত্তম (এদিকে এস)।’ সুতরাং যে নামাযীদের দলভুক্ত হবে, তাকে নামাযের দরজা থেকে ডাক দেওয়া হবে। আর যে মুজাহিদদের দলভুক্ত হবে। তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে রোযাদারদের দলভুক্ত হবে, তাকে ‘রাইয়ান’ নামক দরজা থেকে আহ্বান করা হবে। আর দাতাকে দানের দরজা থেকে ডাকা হবে।” এ সব শুনে আবু বাক্‌র (রাদি.) বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, যাকে ডাকা হবে, তার ঐ সকল দরজার তো কোন প্রয়োজন নেই। (কেননা মুখ্য উদ্দেশ্য হল, কোনভাবে জান্নাতে প্রবেশ করা।) কিন্তু এমন কেউ হবে কি, যাকে উক্ত সকল দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ। আর আশা করি, তুমি তাদের দলভুক্ত হবে।”

(সহীহুল বুখারী ১৮৯৭, ২৮৪১, ৩২১৬, ৩৬৬৬, মুসলিম ১০২৭, তিরমিজি ৩৬৭৪, নাসায়ী ২৪৩৯, ৩১৩৫, ৩১৮৩, ৩১৮৪, আহমাদ ৭৩৯৩, ৭৫৭৭, ৮৫৭২, মুওয়াত্তা মালিক ১০২১)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২২৫

সাহল ইবনে সা’দ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে এমন একটি দরজা আছে, যার নাম হল ‘রাইয়ান’; সেখান দিয়ে কেবল রোযাদারগণই কিয়ামতের দিনে প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউ সেদিক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে, ‘রোযাদাররা কোথায়?’ তখন তারা দণ্ডায়মান হবে। (এবং ঐ দরজা দিয়ে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে) তারপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর সেখান দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।” (বুখারী ও মুসলিম)

(সহীহুল বুখারী ১৮৯৬, ৩২৫৭, মুসলিম ১১৫২, তিরমিজি ৭৬৫, নাসায়ী ২২৩৬, ২২৩৭, ইবনু মাজাহ ১৬৪০, আহমাদ ২২৩১১, ২২৩৩৫)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২২৬

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (অর্থাৎ, জিহাদকালীন বা প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনকল্পে) একদিন রোযা রাখবে, আল্লাহ ঐ একদিন রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হতে সত্তর বছর (পরিমাণ পথ) দূরে রাখবেন।”

(সহীহুল বুখারী ২৮৪০, মুসলিম ১১৫৩, তিরমিজি ১৬২৩, নাসায়ী ২২৫১-২২৫৩, ইবনু মাজাহ ১৭১৭, আহমাদ ১০৮২৬, ১১০৪, ১১১৬৬, ১১৩৮১, দারেমী ২৩৯১)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২২৭

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে নেকীর আশায় রমযানের রোযা পালন করে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”

(সহীহুল বুখারী ৩৫, ৩৭, ৩৮, ১৯০১, ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪, মুসলিম ৭৬০, তিরমিজি ৬৮৩, নাসায়ী ২১৯৮, ২১৯৯, ২২০০, ২২০১-২২০৭, ৫০২৭, আবু দাউদ ১৩৭১, ১৩৭২, আহমাদ ৭১৩০, ৭২৩৮, ৭৭২৯, ৭৮২১, ৭৮৭৫, ৯১৮২, ৯৭৬৭, ৯৯৩১, ১০১৫৯, ১০৪৬২, ২৭৬৭৫, ২৭৫৮৩, দারেমী ১৭৭৬)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২২৮

উক্ত রাবী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেন, “মাহে রমযানের আগমন ঘটলে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়।”

(সহীহুল বুখারী ১৮৯৮, ১৮৯৯, ৩২৭৭, মুসলিম ১০৭৯, তিরমিজি ৬৮২, নাসায়ী ২০৯৭, ২১০৬, ইবনু মাজাহ ১৬৪২, আহমাদ ৭১০৮, ৭৭২৩, ৭৮৫৭, ৮৪৬৯, ৮৬৯২, ৮৭৬৫, ৮৯৫১, ৯২১৩, মুওয়াত্তা মালিক ৬৯১, দারেমী ১৭৭৫)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২২৯

উক্ত রাবী হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোযা ছাড়। যদি (কালক্রমে) তোমাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় (এবং চাঁদ দেখতে না পাওয়া যায়), তাহলে শা’বান (মাসের) গুণতি ত্রিশ পূর্ণ করে নাও।”

(সহীহুল বুখারী ১৯০৯, মুসলিম ১০৮১, তিরমিজি ৬৮৪, নাসায়ী ২১১৭-২১১৯, ২১২৩, ইবনু মাজাহ ১৬৫৬, আহমাদ ৭৪৬৪, ৭৫২৭, ৭৭২১, ৭৮০৪, ৯১১২, ৯১৭৬, ৯২৭১, ৯৫৪৩, ৯৫৭৫, ২৭২১১, ২৭২৬৫, ২৭৩১৭, দারেমী ১৬৮৫)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ – ২১৮: মাহে রমযানে অধিকাধিক সৎকর্ম ও দান খয়রাত করা তথা এর শেষ দশকে আরো বেশী সৎকর্ম করা প্রসঙ্গে

১২৩০

ইবনে আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সমস্ত লোকের চেয়ে অধিক দানশীল ছিলেন। আর মাহে রমযানে যখন জিব্রাঈল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরো বেশী বদান্যতা প্রদর্শন করতেন। জিব্রাঈল মাহে রমযানের প্রত্যেক রজনীতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর কাছে কুরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) জিব্রাঈলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অবশ্যই কল্যাণবহ মুক্ত বায়ু অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন।’

(সহীহুল বুখারী ৬, ১৯০২, ৩২২০, ৩৪৫৪, ৪৯৯৭, মুসলিম ২৩০৮, নাসায়ী ২০৯৫, আহমাদ ২৬১১, ৩৪১৫, ৩৪৫৯, ৩৫২৯)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৩১

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘(রমযানের) শেষ দশক প্রবেশ করলে আল্লাহর রসূল (সাঃআঃ) স্বয়ং রাতে জাগতেন এবং পরিবার-পরিজনদেরকেও জাগাতেন। আর (ইবাদতের জন্য) কোমর বেঁধে নিতেন।’

(সহীহুল বুখারী ২০২৪, মুসলিম ১০৭৪, তিরমিজি ৭৯৬, নাসায়ী ১৬৩৯, আবু দাউদ ১৩৭৬, ইবনু মাজাহ ১৭৫৭, ১৭৬৮, আহমাদ ২৩৬১১, ২৩৮৫৬, ২৩৮৬৯, ২৪৩৯২, ২৫৬৫৬)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ – ২১৯: অর্ধ শা’বানের পর রমযানের এক-দু’দিন আগে থেকে রোযা রাখা নিষেধ। তবে সেই ব্যক্তির জন্য অনুমতি রয়েছে যার রোযা পূর্বের রোযার সাথে মিলিত হয়ে অথবা সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতে অভ্যস্ত হয়ে ঐ দিনে পড়ে

১২৩২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন রমযান মাসের এক বা দু’দিন আগে (শা’বানের শেষে) রোযা পালন শুরু না করে। অবশ্য সেই ব্যক্তি রোযা রাখতে পারে, যে ঐ দিনে রোযা রাখতে অভ্যস্ত।”

(সহীহুল বুখারী ১৯১৪, মুসলিম ১০৮২, তিরমিজি ৬৮৪, ৬৮৫, নাসায়ী ২১৭২, ২১৭৩, আবু দাউদ ২৩৩৫, ইবনু মাজাহ ১৬৫০, আহমাদ ৭১৫৯, ৭৭২২, ৮৩৭০, ৯০৩৪, ৯৮২৮, ১০২৮৪, ১০৩৭৬, ২৭২১১, ২৭৩১৭, দারেমী ১৬৮৯)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৩৩

ইবনে আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “তোমরা রমযানের পূর্বে রোযা রেখো না। তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোযা ছাড়। আর যদি তার সামনে কোন মেঘ আড়াল করে, তবে (মাসের) ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।”

(তিরমিজি, হাসান সহীহ) (তিরমিজি ২৮৮, নাসায়ী ২১২৪, ২১২৫, ২১২৯, ২১৩০, আবু দাউদ ২৩২৭, আহমাদ ১৯৩২, ১৯৮৬, ২৩৩১, ২৭৮৫, ৩৪৬৪, ইবনু মাজাহ ৬৩৫, দারেমী ১৫৬৩, ১৬৮৬)

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

১২৩৪

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “যখন শা’বান মাসের অর্ধেক বাকী থাকবে, তখন তোমরা রোযা রাখবে না।”

(তিরমিজি, হাসান সহীহ) (তিরমিজি ৭৩৮, ৬৮৪, ৬৮৫, সহীহুল বুখারী ১৯১৪, মুসলিম ১০৮২, নাসায়ী ২১৭২, ২১৭৩, আবু দাউদ ২৩৩৫, ২৩৩৭, ইবনু মাজাহ ১৬৫০, ১৬৫১, ১৬৫৫, আহমাদ ৯৪১৪, ২৭২১১, ২৭৩১৭, দারেমী ১৬৮৯, ১৭৪০)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৩৫

আবু ইয়াক্বাযান আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে রোযা রাখল, সে অবশ্যই আবুল কাসেম (সাঃআঃ)-এর নাফরমানী করল।’

(আবু দাউদ, তিরমিজি, হাসান সহীহ) (তিরমিজি ৬৮৬, নাসায়ী ২১৮৮, আবু দাউদ ২৩৩৪, ইবনু মাজাহ ১৬৪৫, দারেমী ১৬৮২)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ – ২২০: নতুন চাঁদ দেখলে যা বলতে হয়

১২৩৬

ত্বালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন এই দু‘আ পড়তেন,

“আল্লা-হুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি অলঈমা-নি অসসালা-মাতি অলইসলা-ম, রাববী অরাববুকাল্লা-হ, (হিলালু রুশ্‌দিন অখায়র) ।”

অর্থ- হে আল্লাহ! তুমি ঐ চাঁদকে আমাদের উপর উদিত কর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। (হেদায়াত ও কল্যাণময় চাঁদ!)

(তিরমিজি-হাসান, কিন্তু বন্ধনী-ঘেরা শব্দগুলি তিরমিজিতে নেই।) (তিরমিজি ৩৪৫১, আহমাদ ১৪০০, দারেমী ১৬৮৮)

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ – ২২১: সেহরী খাওয়ার ফযীলত। যদি ফজর উদয়ের আশংকা না থাকে, তাহলে তা বিলম্ব করে খাওয়া উত্তম

১২৩৭

আনাস ইবনে মালেক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “তোমরা সেহরী খাও। কেননা, সেহরীতে বরকত নিহিত আছে।”

(সহীহুল বুখারী ১৯২৩, মুসলিম ১০৯৫, তিরমিজি ৭০৮, নাসায়ী ২১৪৬, ইবনু মাজাহ ১৬৯২, আহমাদ ১১৫৩৯, ১২৮৩৩, ১২৯৭৭, ১৩১৩৯, ১৩২১৩, ১৩৫৮১, দারেমী ১৬৯৬)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৩৮

যায়েদ ইবনে সাবেত (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে সেহরী খেয়েছি, অতঃপর নামাযে দাঁড়িয়েছি।’ তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘ওই দুয়ের (নামাজ ও সেহরীর) মাঝখানে ব্যবধান কতক্ষণ ছিল?’ তিনি বললেন, ‘(প্রায়) পঞ্চাশ আয়াত পড়ার মত সময়।’

(সহীহুল বুখারী ৫৭৫, ১৯২১, মুসলিম ১০৯৭, তিরমিজি ৭০৩, নাসায়ী ২১৫৫, ২১৫৬, ইবনু মাজাহ ১৬৯৪, আহমাদ ২১০৭৫, ২১১০৬, ২১১২৮, ২১১৬৩, দারেমী ১৬৯৫)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৩৯

ইবনে উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর দু’জন মুআয্‌যিন ছিলেন; বিলাল ও ইবনে উম্মে মাকতূম। একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেন, “বিলাল যখন রাতে আযান দেবে, তখন তোমরা পানাহার (সেহরী ভক্ষণ) কর; যতক্ষণ পর্যন্ত না ইবনে উম্মে মাকতূম আযান দেবে।” (ইবনে উমার) বলেন, ‘আর তাঁদের উভয়ের আযানের মাঝে এতটুকু ব্যবধান ছিল যে, উনি নামতেন, আর ইনি চড়তেন।’

(সহীহুল বুখারী ৬১৭, ৬২৩, ১৯১৯, ২৬৫৬, ৭২৪৮, মুসলিম ১০৯২, তিরমিজি ২০৩, নাসায়ী ৬৩৭, ৬৩৮, আহমাদ ৪৫৩৭, ৫১৭৩, ৫২৬৩, ৬২৯৪, ৫৪০১, ৫৪৭৪, ৫৬৫৩, ৫৮১৮, ৬০১৪, ইবনু মাজাহ ১৬৩, ১৬৪, দারেমী ১১৯০)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৪০

আম্‌র বিন আস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “আমাদের রোযা ও কিতাবধারীদের (ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের) রোযার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, সেহরী খাওয়া।”

(মুসলিম ১০৯৬, তিরমিজি ৭০৯, নাসায়ী ২১৬৬, আবু দাউদ ২৩৪৩, আহমাদ ১৭৩০৮, ১৭৩৪৫, দারেমী ১৬৯৭)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ – ২২২: সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরী না করে ইফতার করার ফযীলত, কোন্‌ খাদ্য দ্বারা ইফতার করবে ও তার পরের দু’আ

১২৪১

সাহ্‌ল ইবনে সা’দ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রসূল (সাঃআঃ) বলেছেন, “যতদিন পর্যন্ত মুসলমানেরা শীঘ্র ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।”

(সহীহুল বুখারী ১৯৫৭, ১০৯৮, তিরমিজি ৬৯৯, ইবনু মাজাহ ১৬৯৭, আহমাদ ২২২৯৮, ২২৩২১, ২২৩৩৯, ২২৩৫২, ২২৩৬৩, মুওয়াত্তা মালিক ৬৩৮, দারেমী ১৬৯৯)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৪২

আবু আত্বিয়্যাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক আয়েশা (রাদি.) নিকট উপস্থিত হলাম। মাসরুক তাঁকে বললেন, ‘মুহাম্মাদ (সাঃআঃ)-এর সহচরদের মধ্যে দু’জন সহচর কল্যাণের ব্যাপারে আদৌ ত্রুটি করেন না। তাঁদের একজন মাগরিব ও ইফতার সত্বর সম্পাদন করেন এবং অপরজন মাগরিব ও ইফতার দেরীতে সম্পাদন করেন।’ এ কথা শুনে আয়েশা (রাদি.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কে মাগরিব ও ইফতার সত্বর করেন?’ তিনি বললেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাদি.)।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাঃআঃ) এরূপই করতেন।’

(মুসলিম ১০৯৯, তিরমিজি ৭০২, নাসায়ী ২১৫৮, ২১৫৯-২১৬১, আবু দাউদ ২৩৫৪, আহমাদ ২৩৬৯২, ২৪৮৭১)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৪৩

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন: সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে যারা দ্রুত ইফতার করে তারাই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয়।

হাদিসটি যঈফ (তিরমিজি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন) (আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাসান আখ্যা দেয়ার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ এ সনদটির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে কুর্‌রা ইবনু আব্দির রহমান। আর তিনি হচ্ছেন দুর্বল তার মন্দ হেফযের কারণে। তার সম্পর্কে আমি “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থে দ্বিতীয় নম্বর হাদীসে আলেমদের উক্তিগুলো উল্লেখপূর্বক বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ইবনু মা‘ঈন বলেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। আবু যুর‘য়াহ্ বলেনঃ তিনি যেসব হাদীস বর্ণনা করেছেন সেগুলো মুনকার। আবু হাতিম ও নাসাঈ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।)

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

১২৪৪

উমার ইবনে খাত্তাব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “যখন রাত্রি এ (পূর্ব) দিক থেকে আগমন করবে এবং দিন এ (পশ্চিম) দিক থেকে প্রস্থান করবে এবং সূর্য ডুবে যাবে, তখন অবশ্যই রোযাদার ইফতার করবে।”

(সহীহুল বুখারী ১৯৫৪, মুসলিম ১১০০, তিরমিজি ৬৯৮, আবু দাউদ ২৩৫১, আহমাদ ১৯৩, ২২২, ৩৪০, ৩৮৫, দারেমী ১৭০০)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৪৫

আবু ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (একবার) আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সাহচর্যে পথ চলছিলাম, তখন তিনি রোযাদার ছিলেন। অতঃপর যখন সূর্য অস্ত গেল, তখন তিনি সফররত সঙ্গীদের একজনকে বললেন, “হে অমুক! বাহন থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।” সে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি আর একটু সন্ধ্যা করতেন (তাহলে ভাল হত।)’ তিনি বললেন, “তুমি বাহন থেকে নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।” সে বলল, ‘এখনো দিন হয়ে আছে।’ তিনি আবার বললেন, “তুমি নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু ঘুলে দাও।” বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং সে নেমে তাঁদের জন্য ছাতু ঘুলে দিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) পান করলেন এবং বললেন, “যখন তোমরা প্রত্যক্ষ করবে যে, রাত্রি এ (পূর্ব) দিক থেকে এসে পড়েছে, তখন অবশ্যই রোযাদার ইফতার করবে।” আর সেই সাথে তিনি পূর্বদিকে ইঙ্গিত করলেন।

(সহীহুল বুখারী ১৯৪১, ১৯৫৫, ১৯৫৬, ১৯৫৮, ৫২৯৮, মুসলিম ১১০১, আবু দাউদ ২৩৫২, আহমাদ ১৮৯০৫, ১৮৯২১)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৪৬

সালমান ইবনু আমির আয-যাব্বী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন ইফতার করে তখন তার উচিত খুরমা-খেজুর দিয়ে ইফতার করা। তবে সে যদি খুরমা-খেজুর না পায় তাহলে পানি দিয়ে যেন ইফতার করে, কেননা পানি হচ্ছে পাক-পবিত্র।

(তিরমিযি) হাদীসটি যয়ীফ। দেখুনঃ যয়ীফ আবু দাউদ, তিরমিজি)

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

১২৪৭

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজ পড়ার আগে কতিপয় টাটকা পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি টাটকা পাকা খেজুর না পেতেন, তাহলে শুকনো কয়েকটি খেজুর যোগে ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুরও না হত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।’

(আবু দাউদ, তিরমিজি হাসান) (আবু দাউদ ২৩৫৬, তিরমিজি ৬৯৪, আহমাদ ১২২৬৫)

ইমাম নাওয়াবী শিরোনামায় দু’আর কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তার হাদীসটি উল্লেখ করেননি। হাদীসটি নিম্নরূপ:-

ইবনে উমার (রাদি.) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাঃআঃ) যখন ইফতার করতেন, তখন এই দু‘আ বলতেন,

“যাহাবায যামা-উ অবতাল্লাতিল উরুক্বু অষাবাতাল আজরু ইন শা-আল্লাহ।”

অর্থাৎ, পিপাসা দূরীভূত হল, শিরা-উপশিরা সতেজ হল এবং ইন শা আল্লাহ সওয়াব সাব্যস্ত হল। (আবু দাউদ)

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ – ২২৩: রোযাদার নিজ জিভ ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে রোযার পরিপন্থী ক্রিয়াকলাপ তথা গালি-গালাজ ও অনুরূপ অন্য অপকর্ম থেকে বাঁচিয়ে রাখবে।

১২৪৮

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, “যখন তোমাদের কারো রোযার দিন হবে, সে যেন অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ না করে ও হৈ-হট্টগোল না করে। আর যদি কেউ গালাগালি করে অথবা তার সাথে লড়াই ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে যে, ‘আমি রোযাদার।”

(সহীহুল বুখারী ১৮৯৪, ১৯০৪, মুসলিম ১১৫১, তিরমিজি ৭৬৪, ৭৬৬, নাসায়ী ২২১৩-২২১৯, আবু দাউদ ২৩৬৩, ইবনু মাজাহ ১৬৩৮, ১৬৯১, আহমাদ ৭১৫৪, ৭৪৪১, ৭৫৫২, ৭৬৩৬, ৭৭৩০, ৭৭৮১, ৮৩৪৫, ৮৩৬৬, ৮৮৬৮, ৮৮৯৩, ৮৯৩৮, ৮৯৭২, ৯০২২, ৯০৬৭, মুওয়াত্তা মালিক ৬৮৯, ৬৯০, দারেমী ১৭৬৯, ১৭৭০)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৪৯

উক্ত রাবী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাঃআঃ) বলেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও তার উপর আমল করা পরিহার না করল, তখন আল্লাহর কোন দরকার নেই যে, সে তার পানাহার ত্যাগ করুক।”

(সহীহুল বুখারী ১৯০৩, ৬০৫৭, তিরমিজি ৭০৭, আবু দাউদ ২৩৬২, ইবনু মাজাহ ১৬৮৯, আহমাদ ১৫২৯, ১০১৮৪)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ – ২২৪: রোযা সম্পর্কিত কিছু জ্ঞাতব্য বিষয়

১২৫০

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি ভুলবশত: কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলবে, তখন সে যেন তার রোযা (না ভেঙ্গে) পূর্ণ করে নেয়। কেননা, আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন এবং পান করিয়েছেন।”

(সহীহুল বুখারী ১৯৩৩, ৬৬৬৯, মুসলিম ১১৫৫, তিরমিজি ৭২১, আবু দাউদ ২৩৯৮, ইবনু মাজাহ ১৬৭৩, আহমাদ ৮৮৯১, ৯২০৪, ৯২০৫, ৯৯৭৫, ৯৯৯৬, ১০০২০, ১০২৮৭, দারেমী ১৭২৬, ১৭২৭)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৫১

লাক্বীত্ব ইবনে সাবেরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! ওযূ সম্পর্কে আমাকে বলুন।’ তিনি বললেন, “পূর্ণাঙ্গরূপে ওযূ কর। আঙ্গুলগুলোর মধ্যবর্তী জায়গাগুলো খিলাল কর। সজোরে নাকে পানি টেনে (নাক ঝাড়ো); তবে রোযার অবস্থায় নয়।” (অর্থাৎ, রোযার অবস্থায় বেশি জোরে নাকে পানি টানা চলবে না।)

(আবু দাউদ ১৪২, তিরমিজি ৩৮, ৭৮৮, নাসায়ী ৮৭, ১১৪, ইবনু মাজাহ ৪০৭, ৪৪৮৮, আহমাদ ১৫৯৪৫, ১৫৯৪৬, ১৭৩৯০, দারেমী ৭৯৪)

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

১২৫২

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘(কখনো কখনো) রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর ভোর এভাবে হত যে, তিনি স্ত্রী-মিলন হেতু অপবিত্র অবস্থায় থাকতেন। অতঃপর তিনি গোসল করতেন এবং রোযা করতেন।’

(সহীহুল বুখারী ১৯২৬, ১৯৩০, ১৯৩২, মুসলিম ১১০৯, তিরমিজি ৭৭৯, আবু দাউদ ১৯৮৪, ১৯৮৫, ২৩৮৮, ২৩৮৯, আহমাদ ২৩৫৪২, ২৩৫৫৪, ২৩৫৮৪, ২৩৫৮৪, ২৩৮৬৪, ২৩৯০৮, ২৪১৮৪, ২৪২৮৫, ২৪২৯৫, ২৪৭০০, মুওয়াত্তা মালিক ৬৪১, ৬৪২, ৬৪৩, ৬৪৪, দারেমী ১৭২৫)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

১২৫৩

আয়েশা (রাদি.) ও উম্মে সালামাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বিনা স্বপ্নদোষে (স্ত্রী সহবাসজনিত) অপবিত্র অবস্থায় ভোর করতেন, তারপর রোযা পালন করতেন।

(সহীহুল বুখারী ১৯২৬, ১৯৩০, ১৯৩২, মুসলিম ১১০৯, তিরমিজি ৭৭৯, আবু দাউদ ১৯৮৪, ১৯৮৫, ২৩৮৮, ২৩৮৯, আহমাদ ২৩৫৪২, ২৩৫৫৪, ২৩৫৮৪, ২৩৫৮৪, ২৩৮৬৪, ২৩৯০৮, ২৪১৮৪, ২৪২৮৫, ২৪২৯৫, ২৪৭০০, মুওয়াত্তা মালিক ৬৪১, ৬৪২, ৬৪৩, ৬৪৪, দারেমী ১৭২৫)

হাদিসের মানঃ সহীহ হাদিস

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply