রমজান মাস ব্যতীত অন্য মাসে নবী [সাঃ] এর রোজা পালন

রমজান মাস ব্যতীত অন্য মাসে নবী [সাঃ] এর রোজা পালন

রমজান মাস ব্যতীত অন্য মাসে নবী [সাঃ] এর রোজা পালন >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৪. অধ্যায়ঃ রমজান মাস ব্যতীত অন্য মাসে নবী [সাঃ] এর রোজা পালন করার বর্ণনা, প্রত্যেক মাসেই কিছু রোজা পালন করা উত্তম

২৬০৭

আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-কে বললাম, নবী [সাঃআঃ] কি রমজান মাস ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ মাস রোজা পালন করিতেন? তিনি বলিলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি আজীবন রমজান ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ এক মাস রোজা পালন করেননি। আর এমন কোন মাসও অতিবাহিত হয়নি যাতে তিনি অন্তত কিছু রোজা পালন করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৮৩]

২৬০৮

আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]- কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী [সাঃআঃ] কি কখনও একটি পূর্ণ মাস [নাফ্‌ল] রোজা পালন করিতেন? তিনি বলিলেন, আমার জানা মতে তাহাঁর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি রমজান মাস ছাড়া অন্য কোন সময়ে পূর্ণ মাস রোজা পালন করেননি। আর এমন কোন মাসও কাটেনি যে মাসে তিনি [দু একটি] রোজা পালন করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৮৪]

২৬০৯

আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-কে নবী [সাঃআঃ]-এর রোজা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, তিনি একাধারে রোজা পালন করে যেতেন যাতে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি অনেক রোজা পালন করিয়াছেন। আর কখনো তিনি একাধারে পানাহার [রোজা পালন না করে] কাটিয়ে দিতেন। যাতে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি অনেক দিন যাবৎ রোজা পালন করেননি, তিনি অনেক দিন রোজা পালন করেননি। আয়িশা [রাদি.] আরো বলেন, তিনি মাদীনায় আসার পর আমি তাঁকে রমজান মাস ছাড়া কখনো পূর্ণ একটি মাস রোজা পালন করিতে দেখিনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৮৫]

২৬১০

আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম… উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সানাদে অধঃস্তন রাবী হিশাম ও মুহাম্মাদের নাম উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৮৭, ইসলামিক সেন্টার-২৫৮৬]

২৬১১

উম্মুল মুমিনীন আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একাধারে রোজা পালন করিতে থাকতেন। ফলে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর রোজা ভঙ্গ করবেন না। আবার এমনভাবে তিনি ক্রমাগত রোজা ছাড়তে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর [এ মাসে] রোজা পালন করবেন না। আমি তাঁকে কখনো রমজান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে অধিক রোজা পালন করিতেও দেখিনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৮৭]

২৬১২

আবু সালামাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, কখনো কখনো একাধারে রোজা পালন করে যেতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি রোজা পালন করে যাচ্ছেন [হয়ত আর বিরত হইবেন না]। আবার তিনি কখনো কখনো একাধারে রোজা পালন না করে অতিবাহিত করিতেন যে, আমরা বলতাম, হয়ত তিনি আর রোজা পালন করবেন না। আমি তাকে শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোন মাসে এত অধিক [নাফ্‌ল] রোজা পালন করিতে দেখিনি। তিনি পুরো শাবান মাসেই রোজা পালন করিতেন। [অর্থাৎ কয়েক দিন ছাড়া পূর্ণ শাবান মাস রোজা পালন করিতেন]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৮৮]

২৬১৩

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শাবান মাসে যত রোজা পালন করিতেন, সারা বছরে অন্য কোন মাসে তিনি এত অধিক রোজা পালন করিতেন না। আর তিনি [লোকদের উদ্দেশ্য] বলিতেন, “তোমরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যত বেশী পার আমাল কর।” কেননা, আল্লাহ তাআলা [তোমাদেরকে সাওয়াব দানে] ক্লান্ত বা বিরক্ত হইবেন না যতক্ষণ তোমরা অক্ষম হয়ে না পড়বে। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমাল হচ্ছে যা কোন বান্দা অব্যাহতভাবে করে থাকে- যদিও তা পরিমাণে কম হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৯০, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৮৯]

২৬১৪

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রমজান মাস ছাড়া আর কখনো পূর্ণ মাস রোজা পালন করিতেন না। তিনি যখন রোজা পালন করিতেন তখন ক্রমাগত রোজা পালন করে যেতেন। ফলে লোকেরা বলত, আল্লাহর ক্বসম! হয়ত তিনি আর রোজা ভঙ্গ করবেন না। আবার যখন তিনি রোজা ছেড়ে দিতেন একাধারেই বিরতি দিতে থাকতেন। এমনকি লোকেরা বলত আল্লাহর ক্বসম! তিনি হয়ত আর রোজা পালন করবেন না। {১০} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৯১, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৯০]

{১০} এসব বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, বছরের বারো মাস ধরেই সওম পালন সুন্নাতের খেলাফ এবং একে ভাল মনে করা বিদআত এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হিদায়াতের বিপরিত। মুসলিমদেরকে কেবল পূর্ণ রমজান মাসে সওম পালন করিতে বলা হয়েছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রতি মাসেই কিছু কিছু সওম পালন করিতেন, বিশেষ করে শাবান মাসে তুলনামূলক বেশি কেননা এটা রমাযানের পূর্ব প্রস্তুতি। আর এখানে যে কসম খাওয়া হয়েছে তা স্বভাবগত কসম, যে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, অর্থাৎ এ ধরনের কসমের কারণে পাকড়াও হইবে না।

২৬১৫

আবু বিশর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আছে, নবী [সাঃআঃ] মাদীনাতে আসার পর কখনো একাধারে এক মাস [নাফ্ল] রোজা পালন করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৯২, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৯১]

২৬১৬

উসমান ইবনি হাকীম আল আনসারী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রজব মাসের রোজা সম্পর্কে সাঈদ ইবনি জুবায়র [রাদি.]- কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, আমি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একাধারে রোজা পালন করিতে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি হয়ত আর রোজা ছাড়বেন না। আবার তিনি এমনভাবে ক্রমাগত রোজা না রেখে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর [এ মাসে] রোজা পালন করবেন না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৯২]

২৬১৭

উসমান ইবনি হাকীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৯৪, ইসলামিক সেন্টার-২৫৯৩]

২৬১৮

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রোজা পালন করে যেতেন, এমনকি বলা হত তিনি অনেক রোজা পালন করিয়াছেন, তিনি অনেক রোজা পালন করিয়াছেন। আবার তিনি রোজা থেকে এমনভাবে বিরত থাকতেন যে, বলা হত তিনি অনেক দিন রোজা থেকে বিরত রয়েছেন, অনেক দিন বিরত রয়েছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৫৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৫৯৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply