নতুন লেখা

অবৈধ নয় এমন কাজে রমজান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা ..

অবৈধ নয় এমন কাজে রমজান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা

অবৈধ নয় এমন কাজে রমজান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৫. অধ্যায়ঃ অবৈধ নয় এমন কাজে রমজান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম

২৪৯৪

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

১১১৩] ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি ইয়াহ্‌ইয়া, মুহাম্মাদ ইবনি রুম্‌হ ও কুতায়বাহ্‌ ইবনি সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীত। তিনি বলেছেন, [মাক্কাহ] বিজয়ের বছর রমজান মাসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সওমরত অবস্থায় সফরে বের হলেন। অতঃপর কাদীদ নামক স্থানে পৌঁছাবার পর তিনি সওম ভেঙ্গে ফেললেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে যখনই কোন নতুন বিষয় প্রকাশ পেত, তাহাঁর সাহাবীগণ তা অনুসরণ করিতেন। {৬} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৭১, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭০]

{৬} রমজান মাসে সফর তথা ভ্রমণ করা অবস্থায় সওম পালন করা বিষয়ে বিভিন্নভাবে রিওয়ায়াতে আছে এবং ঈমামদের মাঝেও মতবিরোধ আছে। তবে সঠিক কথা হলো- কোন অসুবিধার আশংকা না থাকলে সওম পালন উত্তম এবং সমস্যা হলে সওম না রাখাই উত্তম। কেননা সওম পালনের দ্বারা বান্দার উপর যে দায়িত্বের বোঝা চেপেছিল তা দূর হয়ে যায়।

২৪৯৫

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। ইয়াহ্ইয়া বলেন, সুফ্ইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন যে, আমি জানি না এ কার কথা অর্থাৎ তারা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর শেষোক্ত কথাটি গ্রহণ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৭২, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭১]

২৪৯৬

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদের সাথে বর্ণনা করিয়াছেন। যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সওম পালন না করা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সর্বশেষ কাজ। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর শেষোক্ত কাজকেই গ্রহণ করা হতো। তিনি বলেন, রমাযানের তের দিন অতিবাহিত হবার পর ভোরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাক্কাহ্ প্রবেশ করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭২]

২৪৯৭

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে লায়স-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সাহাবীগণ প্রত্যেক নতুন বিষয়ের অনুসরণ করিতেন। যে বিষয়টি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছ থেকে পেতেন সাহাবীগণ একে রহিতকারী ও অধিকতর বলিষ্ঠ মনে করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭৩]

২৪৯৮

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক সময় রমজান মাসে সওমরত অবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সফরে বের হলেন। যখন তিনি উসফান নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি পানি ভর্তি পাত্র আনার জন্য বলিলেন এবং লোকদেরকে দেখাবার জন্য দিনেই তা পান করে সওম ভেঙ্গে ফেললেন এবং এ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করিলেন। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, যেহেতু রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [সফরে কখনো] সওম পালন করিয়াছেন আবার কখনো ইফত্বার করিয়াছেন, তাই কেউ ইচ্ছা করলে সওম পালন করিতে পারে আবার কেউ ইচ্ছা করলে সওম ছেড়ে দিতে পারে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭৪]

২৪৯৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সওম পালন করে তার প্রতি দোষারোপ করো না এবং তার প্রতিও না যে সওম ছেড়ে দেয়। কেননা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সফরের অবস্থায় [কখনো] সিয়াম পালন করিয়াছেন [আবার কখনও] সওম ছেড়ে দিয়েছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭৫]

২৫০০

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণিত। মাক্কাহ বিজয়ের বছর রমজান মাসে সওমরত অবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাক্কার উদ্দেশে বের হলেন। এরপর যখন তিনি “কুরাউল গামীম” নামক স্থান পৌঁছলেন, তখন লোকেরাও সওমরত ছিল। এরপর তিনি একটি পানির পাত্র চাইলেন। এমনকি লোকেরা তাহাঁর দিকে তাকাতে লাগল। এরপর তিনি পানি পান করিলেন। তখন তাঁকে বলা হল, কতিপয় লোক সওমরত রয়েছে। তিনি বলিলেন, তারা অবাধ্য, তারা অবাধ্য। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭৬]

২৫০১

জাফার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন যে, অতঃপর তাঁকে বলা হল, মানুষের সওম পালন করা কষ্টাতীত হয়ে পড়েছে। আপনি কী করেন, তারা সেদিকে তাকিয়ে আছে। এ কথা শুনে তিনি আসরের পর এক পাত্র পানি চাইলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭৭]

২৫০২

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন এক সফরে ছিলেন। এ সময় তিনি এক ব্যক্তিকে দেখিতে পেলেন, লোকেরা তার কাছে জটলা করে আছে এবং তাকে ছায়া করে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তার কী হয়েছে? তারা বলিলেন, লোকটি সিয়াম পালনকারী। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, সফরে তোমাদের সওম পালন করা কোন নেকীর কাজ নয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭৮]

২৫০৩

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে দেখলেন। এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৮০, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৭৯]

২৫০৪

শুবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। শুবাহ্ বলেন, এ সানাদে ইয়াহ্ইয়া ইবনি আবু কাসীরের মাধ্যমে অতিরিক্ত এ কথাও আমার নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে যে সুবিধা দিয়েছেন তা গ্রহণ করা তোমাদের জন্য অপরিহার্য। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন সে মুখস্থ বলিতে পারেনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৮১, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৮০]

২৫০৫

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রমাযানের ষোল দিন অতিবাহিত হবার পর আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এ সময় আমাদের কেউ সিয়াম পালন করছিলেন, আবার কেউ তা ছেড়ে দিচ্ছিলন। কিন্তু এতে সওম পালনকারী সওম ভঙ্গকারীকে কোন দোষারোপ করেনি এবং সওম ভঙ্গকারীও সওম পালনকারীকে কোন প্রকার দোষারোপ করেনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৮২, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৮১]

২৫০৬

ক্বাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে হাম্মামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।

তবে আত্ তায়মী, উমর উবনু আমির ও হিশামের বর্ণনায় রমাযানের আঠার দিন অতিবাহিত হয়েছে কথাটি বর্ণিত আছে। সাঈদের বর্ণনায় বারোই রমজান এবং শুবার বর্ণনায় সতের অথবা ঊনিশ রমাযানের কথা উল্লেখ রয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৮২]

২৫০৭

আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে রমজান মাসে সফর করতাম কিন্ত সওম পালনকারীকে তার রোজার কারণে দোষারোপ করা হতো না এবং সওম ভঙ্গকারীকেও তার সওম ভঙ্গের কারণে দোষারোপ করা হতো না। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৮৩]

২৫০৮

আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রমজান মাসে আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহন করতাম। এ সময় আমাদের কেউ সওম পালন করিয়াছেন, আবার কেউ সওম ছেড়েও দিয়েছেন। কিন্ত সওম পালনকারী সওম ভঙ্গকারীকে খারাপ মনে করিতেন না এবং সওম ভঙ্গকারীও সওম পালনকারীকে খারাপ মনে করিতেন না। তারা মনে করিতেন যার সামর্থ্য আছে সে-ই সওম পালন করছে, এটা তার জন্য উত্তম। আর যে দুর্বল সে সওম ছেড়ে দিয়েছে, এটা তার জন্য উত্তম। [ই. ফা.২৪৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৮৪]

২৫০৯

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] ও জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাঁরা উভয়ই বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে সফর করেছি। এমতাবস্থায় সওম পালনকারী সওম পালন করিয়াছেন এবং সওম যারা ছাড়তে চেয়েছেন, তারা ছেড়ে দিয়েছেন কিন্ত এতে কেউ একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করেননি। [ই.ফা.২৪৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৮৫]

২৫১০

হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রমজান মাসে সফরকালে রোজার বিধান কী? এ সম্বন্ধে আনাস [রাদি.] কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বলিলেন, রমজান মাসে আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে সফর করেছি। এ সময় সওম পালনকারী ব্যক্তি সওম ভঙ্গকারী ব্যক্তির কোন নিন্দা করেনি এবং সওম ভঙ্গকারী ব্যক্তিও সওম পালনকারীর কোন নিন্দা করেনি। [ই. ফা.২৪৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৮৬]

২৫১১

হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সফরের উদ্দেশে বের হলাম এবং সিয়াম পালন করলাম। লোকেরা আমাকে বলিল, তুমি পুনরায় সওম পালন কর। তখন আমি বললাম, আনাস [রাদি.] আমাকে বলেছেন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাহাবীগন সফরকালে সওম পালনকারী সওম ভঙ্গকারীকে কোন দোষারোপ করেনি। অনুরূপভাবে সওম ভঙ্গকারীও সওম পালনকারীকে কোন প্রকার দোষারোপ করেনি। অতঃপর আমি ইবনি আবু মুলায়কাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আয়িশাহ্ [রাদি.] থেকে আমাকে অনুরূপ হাদীস শুনালেন। [ই. ফা.২৪৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৪৮৭]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: