যে সকল ওয়াক্তে নামাজ আদায় করা নিষেধ

যে সকল ওয়াক্তে নামাজ আদায় করা নিষেধ

যে সকল ওয়াক্তে নামাজ আদায় করা নিষেধ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৯. অধ্যায়ঃ যে সকল ওয়াক্তে নামাজ আদায় করা নিষেধ

১৮০৫

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৯} [ই.ফা, ১৭৯০.ইসলামিক সেন্টার- ১৭৯৭]

{৩৯} এ সময়ে ফার্যের ক্বাযা আদায় করা যাবে এ মর্মে উলামাদের ঐকমত্য রয়েছে। কারণগত নামাজ যেমন তাহ্ইয়্যাতুল মাসজিদ, তিলাওয়াতের সাজদাহ্ ও শুক্রের সাজদাহ্, চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের নামাজ, জানাযাহ্ আদায় করার ব্যাপারে আবু হানীফা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বিপরীত মত পোষণ করলেও অধিকাংশ উলামাগণ এ সময়ে এ সকল নামাজ আদায়ের পক্ষে জোরালো মত পোষণ করিয়াছেন। আর ছুটে যাওয়া ফাজ্রের সুন্নাতও আদায় করা যাবে যেমনটি নবী [সাঃআঃ]-যুহরের পরের দু রাকআত সুন্নাত আসরের পরে আদায় করেছিলেন-যার স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। [মুসলিম শারহে নাবাবী-১ম খণ্ড ২৭৫ পৃষ্ঠা]

১৮০৬

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর একাধিক সহাবীর নিকট শুনেছি, যাদের মধ্যে আমার প্রিয়তম উমর ইবনিল খাত্ত্বাব [রাদি.]- ও অন্তর্ভুক্ত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন। [ই.ফা, ১৭৯১.ইসলামিক সেন্টার- ১৭৯৮]

১৮০৭

যুহায়র ইবনি হারব, আবু গাস্সান মিসমাঈ, ইসহাক্ব ইবনি ইব্রাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]…সকলে ক্বাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে সাঈদ ও হিশাম [রাদি.]- এর বর্ণনায় আছে : ফজরের নামাজের পর সূর্য আলোকজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত।  [ই.ফা, ১৭৯২.ইসলামিক সেন্টার- ১৭৯৯] [আরবী]

১৮০৮

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-বলেছেনঃ আসরের নামাজের পর থেকে সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত কোন নামাজ নেই এবং ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত। [ই.ফা, ১৭৯৩.ইসলামিক সেন্টার- ১৮০০]

১৮০৯

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন: কেউ যেন সূর্যোদয়কালে এবং সূর্যাস্তের সময় নামাজ আদায় করার সঙ্কল্প না করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৮০১]

১৮১০

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় তোমাদের নামাজের সঙ্কল্প করো না। কারণ সূর্য শাইত্বনের দু শিং –এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয়। {৪০} [ই.ফা, ১৭৯৫.ইসলামিক সেন্টার- ১৮০২]

{৪০} “দু শিং” অর্থ হল মাথার দু প্রান্ত। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তকালে শাইত্বন তার মাথা সূর্যের নিকটবর্তী করে দেয় যাতে সূর্য ও মূর্তি পূজারী কাফিরদের সাজদাহ্গুলো শাইত্বনের জন্যে হয়। [মুসলিম শারহে নাবাবী-১ম খণ্ড ২৭৫ পৃষ্ঠা]

১৮১১

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সূর্যের কিনারা যখন প্রকাশিত হয় তখন সম্পূর্ণ প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা নামাজ বিলম্বিত কর। আবার সূর্যের কিনারা যখন অদৃশ্য হয়ে যায় তখন সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা নামাজ বিলম্বিত কর। [ই.ফা, ১৭৯৬.ইসলামিক সেন্টার- ১৮০৩]

১৮১২

আবু বাস্‌রাহ্‌ আল গিফারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুখাম্মাস নামক স্হানে আমাদের নিয়ে আসরের নামাজ আদায় করিলেন। তিনি বললেনঃ এ নামাজ তোমাদের পূর্ববর্তীদের নিকট পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা এ নামাজ ধ্বংস করে দিল। যে ব্যক্তি এ নামাজের প্রতি যত্নবান হইবে তাকে দ্বিগুণ সাওয়াব দেয়া হইবে। এ নামাজের পর শাহিদ অর্থাৎ তারকা উদিত না হওয়া পর্যন্ত কোন নামাজ নেই। [ই.ফা, ১৭৯৭.ইসলামিক সেন্টার- ১৮০৪]

১৮১৩

আবু বাস্‌রাহ্‌ আল গিফারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের সাথে আসরের নামাজ আদায় করিলেন ….পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। [ই.ফা, ১৭৯৮.ইসলামিক সেন্টার- ১৮০৫]

১৮১৪

উলাইয়্যি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি উক্ববাহ্ ইবনি আমির আল জুহানী [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তিনটি সময়ে আমাদেরকে নামাজ আদায় করিতে এবং আমাদের মৃতদেরকে দাফন করিতে নিষেধ করিয়াছেন : [১]সূর্য যখন আলোকোদ্ভাসিত হয়ে উদয় হইতে থাকে তখন থেকে তা পরিস্কারভাবে উপরে উঠা পর্যন্ত, [২] সূর্য যখন ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত, [৩] সূর্য ক্ষীণ আলোক হওয়া থেকে তা সম্পুর্ণ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৮০৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply