নতুন লেখা

যুহার নামাজ মুস্তাহাব আর তার সর্বনিম্ন হচ্ছে দু রাকআত..

যুহার নামাজ মুস্তাহাব আর তার সর্বনিম্ন হচ্ছে দু রাকআত

যুহার নামাজ মুস্তাহাব আর তার সর্বনিম্ন হচ্ছে দু রাকআত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৩. অধ্যায়ঃ যুহার নামাজ মুস্তাহাব আর তার সর্বনিম্ন [রাকআতের পরিমান] হচ্ছে দু রাকআত, আর সম্পুর্ন হচ্ছে আট রাকআত, মধ্যম পরিমান হচ্ছে চার অথবা ছয় রাকআত এবং এগুলো রক্ষনাবেক্ষন করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান

১৫৪৫

আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশাহকে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী [সাঃআঃ] কি চাশ্‌তের নামাজ আদায় করিতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ না, তিনি সলাতুয্‌ যুহা আদায় করিতেন না। তবে যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩০, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৩৭]

১৫৪৬

আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশাহকে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী [সাঃআঃ] কি যুহা বা চাশ্‌তের নামাজ আদায় করিতেন। জবাবে তিনি বললেনঃ না, তবে তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩১, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৩৮]

১৫৪৭

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি কখনো রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে যুহা বা চাশ্‌তের নামাজ আদায় করিতে দেখিনি। তবে আমি নিজে চাশ্‌তের নামাজ আদায় করে থাকি। অনেক কাজ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পছন্দ করা সত্বেও এ আশংকায় তা করিতেন না যে, লোকজন সে অনুযায়ী কাজ করলে তা ফরয করে দেয়া হইতে পারে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩২, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৩৯]

১৫৪৮

মুআযাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আয়িশা [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যুহা বা চাশ্‌তের নামাজ কয় রাকআত আদায় করিতেন? জবাবে আয়িশা [রাদি.] বলিলেন, তিনি যুহা বা চাশতের নামাজ সাধারণতঃ চার রাকআত আদায় করিতেন এবং অনেক সময় ইচ্ছামত আরো বেশী আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৪০]

১৫৪৯

মুহাম্মাদ ইবনি জাফার ও শুবাহ্ হইতে বর্ণীতঃ

ইয়াযীদ থেকে একই সানাদে অনুরুপ হাদীস বর্ননা করিয়াছেন। তবে ইয়াযীদ তার বর্ননায় “মা-শা-আল্ল-হু” [আল্লাহ যা চান] কথাটি উল্লেখ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৪১]

১৫৫০

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যুহা বা চাশ্‌তের নামাজ চার রাকআত আদায় করিতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বেশীও আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৪২]

১৫৫১

আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৪৩]

১৫৫২

আবদুর রহমান ইবনি আবু লায়লা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একমাত্র উম্মু হানী ছাড়া আর কেউ-ই আমাকে এ কথা বলেন নি যে, সে নবী [সাঃআঃ]-কে যুহা বা চাশতের নামাজ আদায় করিতে দেখেছে। উম্মু হানী বর্ণনা করিয়াছেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর ঘরে গিয়ে আট রাকআত নামাজ আদায় করিয়াছেন। [তিনি এ কথাও বলেছেন যে,] আমি নবী [সাঃআঃ]-কে আর কখনো এত সংক্ষিপ্ত করে নামাজ আদায় করিতে দেখিনি। তবে তিনি রুকু ও সাজদাহ্‌গুলো পূর্ণরূপে আদায় করছিলেন। ইবনি বাশ্‌শার তার বর্ণিত হাদীসে কাত্‌তু [কখনো] শব্দটি উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৪৪]

১৫৫৩

আবদুল্লাহ ইবনি হারিস ইবনি নাওফাল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এমন কোন লোকের সন্ধান পেতে আমি খুবই আকাঙ্ক্ষী ছিলাম এবং এ ব্যাপারে লোকদের জিজ্ঞেসও করতাম যে, এমন কেউ আমাকে এ মর্মে জ্ঞাত করিতে পারবে যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সলাতুয যুহা বা চাশ্‌তের নামাজ আদায় করিয়াছেন। তবে একমাত্র আবু ত্বলিবের কন্যা উম্মু হানী ছাড়া আর কাউকেই এমন পাইনি যে, আমাকে এ ব্যাপারে কিছু অবহিত করিতে পেরেছে। তিনি [উম্মু হানী] আমাকে জানিয়েছেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন সুর্যোদয়ের পর বেলা কিছু বাড়লে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার কাছে আসলেন। একটি কাপড় আনা হল এবং তা দিয়ে পর্দা করে দিলে তিনি গোসল করিলেন। তারপর সলাতে দাড়ালেন এবং আট রাকআত আদায় করিলেন। উম্মু হানী [রাদি.] বলেছেন- এ সলাতে তার ক্বিয়াম [দাঁড়ানো] দীর্ঘতর ছিল, না রুকু দীর্ঘতর ছিল, না সাজদাহ্‌ দীর্ঘতর ছিল তা আমি জানিনা। তবে ক্বিয়াম, রুকু ও সাজদাহ্‌ সবগুলোই মনে হয় এক রকমের দীর্ঘ ছিল। উম্মু হানী [রাদি.] বলেছেনঃ এর আগে কিংবা পরে আর কখনো আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে সলাতুয্‌ যুহা বা চাশ্‌তের নামাজ আদায় করিতে দেখিনি। হাদীসটির বর্ণনাকারী মুরাদী এটি ইউনুস থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি আখবারানী অর্থাৎ ইউনুস আমাকে বলেছেন কথাটি উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৪৫]

১৫৫৪

উম্মু হানী [রাদি.]-এর আযাদকৃত দাস আবু মুর্‌রাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তিনি আবু ত্বলিবের কন্যা উম্মু হানী [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন। [তিনি বলেছেন] মক্কা বিজয়ের বছরে আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে গিয়ে দেখলাম, তিনি গোসল করছেন আর তাহাঁর কন্যা ফাত্বিমাহ্‌ একটি কাপড় দিয়ে তাঁকে পর্দা করে রেখেছেন। উম্মু হানী বলেন- আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তখন তিনি জানতে চাইলেন, কে? আমি বললামঃ আমি আবু ত্বলিবের কন্যা উম্মু হানী। তিনি [খুশীতে] বললেনঃ উম্মু হানীকে স্বাগতম। অতঃপর গোসল শেষ করে তিনি সলাতে দাড়াঁলেন এবং একটি মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়ে আট রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। নামাজ শেষে আমি তাঁকে বললামঃ হে আল্লাহর রসুল! আমার ভাই আলী ইবনি আবু ত্বলিব বলেছেনঃ তিনি আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.]-এর পুত্র অমুককে হত্যা করে ছাড়বেন অথচ আমি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। সব শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে উম্মু হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দান করেছ আমিও তাকে নিরাপত্তা দান করেছি। উম্মু হানী বর্ণনা করেছেনঃ এ ঘটনা ছিল যুহা বা চাশ্‌তের সময়ের। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৩৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৪৬]

১৫৫৫

উম্মু হানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মক্কা বিজয়ের বছর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর ঘরে একটি কাপড় গায়ে জড়িয়ে তার দু প্রান্ত দু দিকে উঠিয়ে আট রাকআত নামাজ আদায় করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৪০, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৪৭]

১৫৫৬

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রতিটি দিন শুরু হওয়ার সাথে সাথে তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি অস্থি-বন্ধনী ও গিঁটের উপর সদাক্বাহ্‌ ওয়াজিব হয়। সুতরাং প্রতিটি তাসবীহ্‌ অর্থাৎ সুবহানাল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্‌ হিসেবে গন্য হয়। প্রতিটি তাহমীদ অর্থাৎ আলহম্‌দুলিল্লা-হ বলা তার সদাক্বাহ্‌ হিসেবে গন্য হয়। প্রতিটি আল্ল-হু আকবর তার জন্য এবং নাহী আনিল মুনকার অর্থাৎ খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখার প্রতিটি প্রয়াসও তার জন্য অনুরুপ সদাক্বাহ বলে গন্য হয়। তবে যুহা বা চাশ্‌তের মাত্র দু রাকআত নামাজ যদি সে আদায় করে তাহলে তা এ সবগুলোর সমকক্ষ হইতে পারে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৪১, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৪৮]

১৫৫৭

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু {অর্থাৎ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]} আমাকে তিনটি কাজ করিতে উপদেশ দিয়েছেন। সেগুলো হল – প্রতি মাসে তিনটি করে সওম [রোযা] পালন করিতে, যুহা বা চাশ্‌তের দু রাকআত নামাজ আদায় করিতে এবং ঘুমানোর পূর্বে বিত্‌র নামাজ আদায় করিতে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৪২, ইসলামিক সেন্টার-১৫৪৯]

১৫৫৮

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] -এর মাধ্যমে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৪৩, ইসলামিক সেন্টার-১৫৫০]

১৫৫৯

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু আবুল ক্বাসিম [সাঃআঃ] আমাকে তিনটি কাজ করিতে আদেশ করিয়াছেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি আবু হুরায়রাহ্ থেকে আবু উসমান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা.১৫৪৪, ইসলামিক সেন্টার-১৫৫১]

১৫৬০

আবুদ্ দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে তিনটি কাজ করিতে আদেশ করিয়াছেন। আমার জীবদ্দশায় তা কখনো পরিত্যাগ করব না। [তিনি আমাকে আদেশ করিয়াছেন] প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম পালন করিতে যুহা বা চাশ্‌তের নামাজ আদায় করিতে আর বিত্‌র নামাজ আদায় করার আগে না ঘুমাতে। [ই.ফা.১৫৪৫, ইসলামিক সেন্টার-১৫৫২]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: