যিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও উৎসাহ দান

যিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও উৎসাহ দান

যিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও উৎসাহ দান  >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২৪৪: যিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান

মহান আল্লাহ বলেছেন,

﴿وَلَذِكۡرُ ٱللَّهِ أَكۡبَرُۗ﴾ [العنكبوت: ٤٥] 

“অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ।” [সূরা আনকাবূত ৪৫ আয়াত]

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ فَٱذۡكُرُونِيٓ أَذۡكُرۡكُمۡ ﴾ [البقرة: ١٥٢] 

“তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব।” [সূরা বাকারা ১৫২ আয়াত]

তিনি অন্যত্র বলেন,

﴿ وَٱذۡكُر رَّبَّكَ فِي نَفۡسِكَ تَضَرُّعٗا وَخِيفَةٗ وَدُونَ ٱلۡجَهۡرِ مِنَ ٱلۡقَوۡلِ بِٱلۡغُدُوِّ وَٱلۡأٓصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ ٱلۡغَٰفِلِينَ ٢٠٥ ﴾ [الاعراف: ٢٠٥] 

“তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং তুমি উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।” [সূরা আ‘রাফ ২০৫ আয়াত]

তিনি অন্য জায়গায় বলেন,

﴿ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ﴾ [الجمعة: ١٠] 

“আল্লাহকে অধিক-রূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।” [সূরা জুমআ ১০ আয়াত]

তিনি আরও বলেছেন,

﴿إِنَّ ٱلۡمُسۡلِمِينَ وَٱلۡمُسۡلِمَٰتِ﴾ إِلَى قَوْله تَعَالَى: ﴿وَٱلذَّٰكِرِينَ ٱللَّهَ كَثِيرٗا وَٱلذَّٰكِرَٰتِ أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُم مَّغۡفِرَةٗ وَأَجۡرًا عَظِيمٗا ٣٥ ﴾ [الاحزاب: ٣٥]

“নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী [মুসলিম] পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী [মুসলিম] নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী [সংযমী] পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী [সংযমী] নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী—এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহা প্রতিদান রেখেছেন।” [সূরা আহযাব ৩৫ আয়াত]

তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ ذِكۡرٗا كَثِيرٗا ٤١ وَسَبِّحُوهُ بُكۡرَةٗ وَأَصِيلًا ٤٢ ﴾ [الاحزاب: ٤١،  ٤٢] 

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।” [সূরা আহযাব ৪১-৪২ আয়াত]

এ মর্মে আরও অনেক বিদিত আয়াত রয়েছে।

1/1416 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي المِيزَانِ، حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَانِ: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللهِ العظيمِ» . متفقٌ عَلَيْهِ

১/১৪১৬। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “দু’টি কলেমা [বাক্য] রয়েছে, যে দু’টি দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, জবানে [উচ্চারণে] খুবই সহজ, আমলের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। তা হচ্ছে, সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযীম। অর্থাৎ আমরা আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা সহকারে তাহাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করেছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র।” [বুখারী ও মুসলিম][1]

2/1417 وَعَنْه رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لأَنْ أَقُولَ: سُبْحَانَ اللهِ، وَالحَمْدُ للهِ، وَلاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أكْبَرُ، أَحَبُّ إلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ» . رواه مسلم

২/১৪১৭। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “আমার এই বাক্যমালা [সুবহানাল্লাহি অলহামদুলিল্লাহি অলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অল্লাহু আকবার। [অর্থাৎ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ ছাড়া [সত্যিকার] কোনো ইলাহ নেই এবং আল্লাহ সব চাইতে মহান] পাঠ করা সেই সমস্ত বস্তু অপেক্ষা অধিক প্রিয়, যার উপর সূর্যোদয় হয়।” [মুসলিম] [2]

3/1418 وَعَنْه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ قَالَ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ ؛ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، فِي يَوْمٍ مِئَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وكُتِبَتْ لَهُ مِئَةُ حَسَنَةٍ، وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِئَةُ سَيِّئَةٍ، وَكَانَتْ لَهُ حِرْزاً مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِي، وَلَمْ يَأتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ» . وَقَالَ: «مَنْ قَالَ سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ، فِي يَوْمٍ مِئَةَ مَرَّةٍ، حُطَّتْ خَطَايَاهُ، وَإنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ البَحْرِ» . متفقٌ عَلَيْهِ

৩/১৪১৮। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুলি শাইয়িন ক্বাদীর।’

অর্থাৎ এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাহাঁর কোনো শরীক নেই। [বিশাল] রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাহাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান।

যে ব্যক্তি এই দো‘আটি দিনে একশবার পড়বে, তার দশটি গোলাম আজাদ করার সমান নেকী অর্জিত হইবে, একশ’টি নেকী লিপিবদ্ধ করা হইবে, তার একশ’টি গুনাহ মোচন করা হইবে, উক্ত দিনের সন্ধ্যা অবধি তা তার জন্য শয়তান থেকে বাঁচার রক্ষামন্ত্র হইবে এবং তার চেয়ে সেদিন কেউ উত্তম কাজ করিতে পারবে না। কিন্তু যদি কেউ তার চেয়ে বেশী আমল করে তবে।”

তিনি আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি দিনে একশবার সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ পড়বে তার গুনাহসমূহ মোচন করা হইবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা বরাবর হয়।” [বুখারী-মুসলিম] [3]

4/1419 وَعَنْ أَبي أَيُّوبَ الأَنصَارِيِّ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ قَالَ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ ؛ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، عَشْرَ مَرَّاتٍ . كَانَ كَمَنْ أَعْتَقَ أَرْبَعَةَ أَنْفُسٍ منْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ» . متفقٌ عَلَيْهِ

৪/১৪১৯। আবূ আইয়ূব আনসারী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহ্দাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুলি শায়ইন ক্বাদীর’ দিনে দশবার পাঠ করিবে, সে ব্যক্তি ইসমাইলের বংশধরের চারজন দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব লাভ করিবে।” [বুখারী-মুসলিম][4]

5/1420 وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «أَلاَ أُخْبِرُكَ بِأَحَبِّ الكَلاَمِ إِلَى اللهِ ؟ إِنَّ أَحَبَّ الكَلاَمِ إِلَى اللهِ: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ» . رواه مسلم

৫/১৪২০। আবু যর রাঃআঃ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রসূল সাঃআঃ আমাকে বলিলেন, “ আমি কি তোমাকে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কথা কি তা জানাব? আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কথা হল, ‘সুবহানাল্লা-হি অবিহামদিহ’ [অর্থাৎ আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি।]” [মুসলিম] [5]

6/1421 وَعَنْ أَبي مَالِكٍ  الأَشعَرِي رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمانِ، وَالحَمْدُ للهِ تَمْلأُ المِيزَانَ، وَسُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ للهِ تَمْلآنِ – أَوْ تَمْلأُ – مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ». رواه مسلم

৬/১৪২১। আবূ মালেক আশআরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেন, “পবিত্রতা অর্ধেক ঈমান। আর ‘আলহামদু লিল্লাহ’ [কিয়ামতে নেকীর] দাঁড়িপাল্লাকে ভরে দেবে এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আলহামদু লিল্লাহ’ আসমান ও জমিনের মধ্যস্থিত শূন্যতা পূর্ণ করে দেয়।” [মুসলিম][6]

7/1422  وَعَنْ سَعدِ بنِ أَبِي وَقَّاصٍ رضي الله عنه قَالَ: جَاءَ أَعْرَابيٌّ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: عَلِّمْنِي كَلاَماً أَقُولُهُ. قَالَ: «قُلْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيراً، وَالحَمْدُ للهِ كَثيراً، وَسُبْحَانَ اللهِ رَبِّ العَالِمينَ، وَلاَ حَولَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ العَزِيزِ الحَكِيمِ» قَالَ: فَهَؤُلاَءِ لِرَبِّي، فَمَا لِي ؟ قَالَ: قُلْ:  اَللهم اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَارْزُقْنِي» . رواه مسلم

৭/১৪২২। সায়াদ ইবনি আবী অক্কবাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন বেদুঈন আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-এর সমীপে এসে নিবেদন করিল, ‘আমাকে একটি কথা শিখিয়ে দিন, আমি তা বলব।’ তিনি বলিলেন, “বল,

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহ্দাহু লা শারীকা লাহ, আল্লাহু আকবারু কাবীরা, অলহামদু লিল্লাহি কাসীরা, অসুবহানাল্লাহি রাবিবল আলামীন, অলা হাউলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আযীযিল হাকীম।

অর্থাৎ এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত সত্য উপাস্য নেই, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই। আল্লাহ সর্বাধিক মহান, আল্লাহর অতীব প্রশংসা, বিশ্বচরাচরের পালনকর্তা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া নাড়া-চড়া করার [পাপ ও অশুভ জিনিস থেকে বেচে থাকা এবং পুণ্যার্জন ও মঙ্গল সাধন করার] ক্ষমতা নেই।”

লোকটি বলিল, ‘এ সব কথাগুলি আমার প্রভুর জন্য হল, আমার জন্য কি?’ তিনি বলিলেন, “তুমি বল,আল্লা-হুম্মাগফিরলী অরহামনী অহদিনী অরযুক্বনী।

অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর। আমার প্রতি দয়া কর। আমাকে সৎপথ প্রদর্শন কর ও আমাকে জীবিকা দাও।” [মুসলিম][7]

8/1423 وَعَنْ ثَوبَانَ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلاَتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاثَاً، وَقَالَ: «اَللهم أَنْتَ السَّلاَمُ، وَمِنْكَ السَّلاَمُ، تَبَارَكْتَ يَاذَا الجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ». قِيلَ لِلأَوْزَاعِيِّ – وَهُوَ أَحَدُ رُوَاةِ الحَدِيثِ -: كَيْفَ الاِسْتِغْفَارُ ؟ قَالَ: يَقُولُ: أَسْتَغْفِرُ الله، أَسْتَغْفِرُ الله . رواه مسلم

৮/১৪২৩। সাওবান রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাঃআঃ যখন নামায থেকে সালাম ফিরার পর ঘুরে বসতেন, তখন তিনবার ‘ইস্তিগফার’ [ক্ষমা প্রার্থনা] করিতেন আর পড়তেন, আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু অমিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালি অল-ইকরাম। অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময়, তোমার নিকট থেকেই শান্তি আসে। তুমি বরকতময় হে মহিমান্বিত ও মহানুভব।

এ হাদিসটির অন্যতম বর্ণনাকারী আওযায়ী [রহঃ]কে প্রশ্ন করা হল, ‘ইস্তিগফার’ কিভাবে হইবে? উত্তরে তিনি বলিলেন, বলবে, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।’ [অর্থাৎ আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।] [মুসলিম] [8]

9/1424 وَعَنِ المُغِيرَةِ بنِ شُعبَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنَ الصَّلاَةِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ،  اَللهم لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ» . متفقٌ عَلَيْهِ

৯/১৪২৪। মুগীরাহ ইবন শু‘বাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ যখন নামাযান্তে সালাম ফিরতেন, তখন এই দো‘আ পড়তেন:

লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুলি শাইয়িন ক্বাদীর। আল্লা-হুম্মা লা মা-নিয়া লিমা আত্বাইতা, অলা মুত্বিয়া লিমা মানাতা অলা য়্যানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ্।

অর্থাৎ এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য উপাস্য নেই। তাহাঁর কোন শরীক নেই। [বিশাল] রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাহাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর তা রোধ করার এবং যা রোধ কর তা দান করার সাধ্য কারো নেই। আর ধনবানের ধন তোমার আযাব থেকে মুক্তি পেতে কোন উপকারে আসবে না। [বুখারী-মুসলিম] [9]

10/1425 وَعَنْ عَبدِ الله بنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ الله تَعَالَى عَنهُمَا أَنَّه كَانَ يَقُولُ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ، حِيْنَ يُسَلِّمُ: «لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ . لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إيَّاهُ، لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الحَسَنُ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الكَافِرُونَ». قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ: وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يُهَلِّلُ بِهِنَّ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ . رواه مسلم

১০/১৪২৫। আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি প্রতিটি নামাযের পশ্চাতে যখন সালাম ফিরতেন, তখন এই দো‘আটি পড়তেন,

“লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুলি শাইয়িন ক্বাদীর। লা হাউলা অলা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অলা না‘বুদু ইল্লা ইয়্যা-হু লাহুন্নি’মাতু অলাহুল ফাযবলু অলাহুস সানা-উল হাসান, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুখলিস্বীনা লাহুদ্দীনা অলাউ কারিহাল কা-ফিরূন।”

অর্থাৎ এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য উপাস্য নেই। তাহাঁর কোন শরীক নেই। [বিশাল] রাজ্যের তিনিই সার্বভৌম অধিপতি। তাহাঁরই যাবতীয় স্তুতিমালা এবং সমস্ত বস্তুর উপর তিনি ক্ষমতাবান। আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার [নড়া-চড়ার] শক্তি নেই। আল্লাহ ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই। তাহাঁর ছাড়া আমরা আর কারো ইবাদত করিনা, তাহাঁরই যাবতীয় সম্পদ, তাহাঁরই যাবতীয় অনুগ্রহ, এবং তাহাঁরই যাবতীয় সু-প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমরা বিশুদ্ধ চিত্তে তাহাঁরই উপাসনা করি, যদিও কাফের দল তা অপছন্দ করে।

ইবনি যুবাইর রাঃআঃ বলেন, আল্লাহর রসূল সাঃআঃ উক্ত দো‘আটি প্রত্যেক নামাযের পর পড়তেন। [মুসলিম] [10]

11/1426 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ فُقَراءَ المُهَاجِرِينَ أَتَوْا رَسُولَ اللهِ، فَقَالُوا: ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثورِ بِالدَّرَجَاتِ العُلَى، وَالنَّعِيمِ المُقِيمِ، يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي، وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَلَهُمْ فَضْلٌ مِنْ أَمْوَالٍ، يَحُجُّونَ، وَيَعْتَمِرُونَ، وَيُجَاهِدُونَ، وَيَتَصَدَّقُونَ . فَقَالَ: «أَلاَ أُعَلِّمُكُمْ شَيْئاً تُدْرِكُونَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ، وَتَسْبِقُونَ بِهِ مَنْ بَعْدَكُمْ، وَلاَ يَكُونُ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِنْكُمْ إِلاَّ مَنْ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُمْ؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: تُسَبِّحُونَ، وَتَحْمَدُونَ، وَتُكَبِّرُونَ، خَلْفَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاثاً وَثَلاثِينَ». قَالَ أَبُو صَالِحٍ الرَّاوِي عَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، لَمَّا سُئِلَ عَنْ كَيْفِيَّةِ ذِكْرِهِنَّ قَالَ: يَقُول: سُبْحَان اللهِ، وَالحَمْدُ للهِ، واللهُ أكْبَرُ، حَتَّى يَكُونَ مِنهُنَّ كُلُّهُنَّ ثَلاثاً وَثَلاثِينَ. متفقٌ عَلَيْهِ

وَزَادَ مُسلِمٌ فِي رِوَايَتِهِ: فَرَجَعَ فُقَرَاءُ المُهَاجِرِينَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: سَمِعَ إِخْوَانُنَا أَهْلُ الأَمْوَالِ بِمَا فَعَلْنَا فَفَعَلُوا مِثْلَهُ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «ذَلِكَ فَضْلُ الله يُؤتِيهِ مَنْ يَشَاءُ» .

১১/১৪২৬। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ কর্তৃক বর্ণিত, একদা গরীব মুহাজির [সাহাবিগণ] রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর নিকট এসে বলিলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! ধনীরাই তো উঁচু উঁচু মর্যাদা ও চিরস্থায়ী সম্পদের অধিকারী হয়ে গেল। তারা নামায পড়ছে, যেমন আমরা নামায পড়ছি, তারা রোযা রাখছে, যেমন আমরা রাখছি। কিন্তু তাহাদের উদ্বৃত্ত মাল আছে, ফলে তারা হজ্জ করছে, উমরাহ করছে, জিহাদ করছে ও সদকা করছে, [আর আমরা করিতে পারছি না]।’ এ কথা শুনে তিনি বলিলেন, “আমি কি তোমাদেরকে এমন জিনিস শিখিয়ে দেব না, যার দ্বারা তোমরা তোমাদের অগ্রবর্তীদের মর্যাদা লাভ করিবে, তোমাদের পরবর্তীদের থেকে অগ্রবর্তী থাকিবে এবং তোমাদের মত কাজ যে করিবে, সে ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের চাইতে শ্রেষ্ঠতর হইতে পারবে না?” তাঁরা বলিলেন, ‘অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল! [আমাদেরকে তা শিখিয়ে দিন।]’ তিনি বলিলেন, “প্রত্যেক [ফরয] নামাযের পরে ৩৩ বার তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পাঠ করিবে।”

আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণনাকারী আবূ সালেহ বলেন, ‘কিভাবে পাঠ করিতে হইবে, তা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলিলেন, ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ ও ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ বলবে। যেন প্রত্যেকটি বাক্য ৩৩ বার করে হয়। [বুখারী-মুসলিম][11]

মুসলিমের বর্ণনায় এ কথা বাড়তি আছে যে, অতঃপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-এর নিকট এসে বলিলেন, ‘আমরা যে আমল করছি, সে আমল আমাদের ধনী ভাইয়েরা শোনার পর তারাও আমল শুরু করে দিয়েছে? [এখন তো তারা আবার আমাদের চেয়ে অগ্রবর্তী হয়ে যাবে।]’ আল্লাহর রসূল সাঃআঃ বলিলেন, “এ হল আল্লাহর অনুগ্রহ; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।”

12/1427 وَعَنْه، عَن رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ سَبَّحَ اللهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثاً وَثَلاَثِينَ، وحَمِدَ اللهَ ثَلاثاً وَثَلاَثِينَ، وَكَبَّرَ الله ثَلاَثاً وَثَلاَثِينَ، وَقَالَ تَمَامَ المِئَةِ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ البَحْرِ». رواه مسلم

১২/১৪২৭। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক [ফরয] নামায বাদ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং একশত পূর্ণ করিতে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুলি শায়ইন ক্বাদীর’ পড়বে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হইবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়। [মুসলিম] [12]

13/1428 وَعَنْ كَعْبِ بنِ عُجْرَةَ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مُعَقِّبَاتٌ لاَ يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ ـ أَوْ فَاعِلُهُنَّ ـ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ: ثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ تَسْبِيحَةً. وَثَلاَثٌ وثَلاَثُونَ تَحْمِيدَةً، وَأَرْبَعٌ وَثَلاَثُونَ تَكْبِيرَةً» . رواه مسلم

১৩/১৪২৮। কা‘ব ইবনি উজরাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “নামাযান্তে কিছু বাক্য রয়েছে বা কিছু কর্ম রয়েছে, সেগুলি যে পড়বে বা [পাঠ] করিবে, সে আদৌ ব্যর্থ হইবে না। তা হচ্ছে প্রত্যেক ফরয নামায বাদ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া।” [মুসলিম][13]

14/1429 وَعَنْ سَعدِ بنِ أَبي وَقَّاصٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ دُبُرَ الصَّلَواتِ بِهؤُلاَءِ الكَلِمَاتِ: «اَللهم إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الجُبْنِ وَالبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ العُمُرِ، وَأعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ القَبْرِ» . رواه البخاري

১৪/১৪২৯। সায়াদ ইবনি আবী ওয়াক্কাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ নামাযসমূহের শেষাংশে এই দো‘আ পড়ে আশ্রয় প্রার্থনা করিতেন,

‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল বুখলি অ আঊযু বিকা মিনাল জুবনি অ আঊযু বিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা আরযালিল উমুরি অ আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিদ্দুন্য়্যা অ আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল ক্বাব্র।’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট কার্পণ্য ও ভীরুতা থেকে পানাহ চাচ্ছি, স্থবিরতার বয়সে কবলিত হওয়া থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আর দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের ফিতনা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। [বুখারী][14]   

15/1430 وَعَنْ  مُعَاذٍ رضي الله عنه:أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، أَخَذَ بِيَدِهِ، وَقَالَ: «يَا مُعَاذُ، وَاللهِ إنِّي لأُحِبُّكَ» فَقَالَ: «أُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لاَ تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَة تَقُولُ:  اَللهم أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ» . رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

১৫/১৪৩০। মু‘আয রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, একদা রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ তাহাঁর হাত ধরে বলিলেন, “হে মুআয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি।” অতঃপর তিনি বলিলেন, “হে মুআয! আমি তোমাকে অসিয়ত করছি যে, তুমি প্রত্যেক নামাযের শেষাংশে এ দো‘আটি পড়া অবশ্যই ত্যাগ করিবে না, আল্লা-হুম্মা আইন্নী আলা যিকরিকা ওয়াশুকরিকা অহুসনি ইবা-দাতিক।

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার যিকির [স্মরণ], শুকর [কৃতজ্ঞতা] এবং সুন্দর ইবাদত করিতে সাহায্য দান কর।”  [আবূ দাউদ, সহীহ সানাদ][15]

16/1431 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِذَا تَشَهَّدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللهِ مِنْ أَرْبَعٍ، يَقُولُ:  اَللهم إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ» . رواه مسلم

১৬/১৪৩১। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ [নামাযের মধ্যে] তাশাহহুদ [অর্থাৎ আত্-তাহিয়্যাত] পড়বে, তখন সে এ চারটি জিনিস হইতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করিবে; বলবে,

‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম, অমিন আযা-বিল ক্বাব্র, অমিন ফিতনাতিল মাহয়্যা অলমামা-ত, অমিন শার্রি ফিতনাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জা-ল।’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং কানা দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [মুসলিম][16]

17/1432 وَعَنْ عَليٍّ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ يَكُونُ مِنْ آخِرِ مَا يَقُولُ بَيْنَ التَّشَهُّدِ وَالتَّسْلِيمِ:  «اَللهم اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ، وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ» . رواه مسلم

১৭/১৪৩২। আলী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাঃআঃ যখন নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হইতেন, তখন তাশাহহুদ ও সালাম ফিরার মধ্যখানে শেষ বেলায় অর্থাৎ সালাম ফিরবার আগে] এই দো‘আ পড়তেন, “আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু অমা আখ্খারতু অমা আসরারতু অমা আ‘লানতু অমা আসরাফতু অমা আন্তা আ‘লামু বিহী মিন্নী, আন্তাল মুক্বাদ্দিমু অ আন্তাল মুআখখিরু লা ইলা-হা ইল্লা আন্ত্।”

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি, যা অতিরিক্ত করেছি এবং যা তুমি আমার চাইতে অধিক জান। তুমি আদি, তুমিই অন্ত। তুমি ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই। [মুসলিম][17]

18/1433 وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ أَنْ يَقُوْلَ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ: «سُبْحَانَكَ  اَللهم رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ،  اَللهم اغْفِرْ لِي». متفقٌ عَلَيْهِ

১৮/১৪৩৩। হাদিসের রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাঃআঃ স্বীয় [নামাযের] রুকু ও সিজদাতে এই তাসবীহটি অধিক মাত্রায় পড়তেন, ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাববানা অবিহামদিক, আল্লাহুম্মাগফিরলী।’ অর্থাৎ হে আমাদের প্রভু আল্লাহ! তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর। [বুখারী ও মুসলিম] [18]

19/1434 وَعَنْها: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ: «سبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ المَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ» . رواه مسلم

১৯/১৪৩৪। উক্ত রাবী রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  রাঃআঃ স্বীয় [নামাযের] রুকু ও সিজদাতে পড়তেন, ‘সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি অর্রূহ।’ অর্থাৎ অতি নিরঞ্জন, অসীম পবিত্র ফেরেশতামন্ডলী ও জিবরীল عليه السلام -এর প্রভু [আল্লাহ]। [মুসলিম][19]

20/1435 وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ – عَزَّ وَجَلَّ -، وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ، فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ» . رواه مسلم

২০/১৪৩৫। ইবনি আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “রুকুতে তোমরা রবের বড়াই বর্ণনা কর [অর্থাৎ ‘সুবহানা রাবিবয়্যাল আযীম’ পড়]। আর সিজদায় দো‘আ করিতে সচেষ্ট হও। কারণ, তোমাদের জন্য সে দো‘আ কবূল হওয়ার উপযুক্ত।” [মুসলিম][20]

21/1436 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «أَقْرَبُ مَا يَكُونُ العَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ، فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ» . رواه مسلم

২১/১৪৩৬। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “বান্দা স্বীয় প্রভুর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয় তখন, যখন সে সেজদার অবস্থায় হয়। সুতরাং [ঐ সময়] তোমরা বেশি মাত্রায় দো‘আ কর।” [মুসলিম] [21]

22/1437 وَعَنْه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ:  «اَللهم اغْفِرْ لي ذَنْبِي كُلَّهُ: دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ» . رواه مسلم

২২/১৪৩৭। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ সিজদা করার সময় এই দো‘আ পড়তেন,  ‘আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলী  যামবী  কুল্লাহ,  দিক্কবাহু অজিল্লাহ, অআউওয়ালাহু অ আ-খিরাহ, অ আলা-নিয়্যাতাহু অসির্রাহ।’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার কম ও বেশী, পূর্বের ও পরের, প্রকাশিত ও গুপ্ত সকল প্রকার পাপকে মাফ করে দাও। [মুসলিম] [22]

23/1438 وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: افْتَقَدْتُ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم، ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَتَحَسَّسْتُ، فَإِذَا هُوَ رَاكِعٌ – أَوْ سَاجِدٌ – يَقُولُ: «سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنتَ» وَفِي رِوَايَةٍ: فَوَقَعَتْ يَدِيْ عَلَى بَطْنِ قَدَمَيْهِ، وَهُوَ فِي المَسْجِدِ وَهُمَا مَنْصُوبَتَانِ، وَهُوَ يَقُولُ: «اَللهم إنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ». رواه مسلم

২৩/১৪৩৮। হাদিসের রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাত্রে নবী সাঃআঃ-কে [বিছানায়] নিখোঁজ পেলাম। কাজেই আমি হাতড়াতে হাতড়াতে তাকে রুকু বা সিজদার অবস্থায় পেলাম। তিনি তাতে পড়ছিলেন, ‘সুবহানাকা অবিহামদিকা লা ইলা-হা ইল্লা আন্ত্।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি তাহাঁর নামাযের স্থানে [সিজদায়] ছিলেন। তাহাঁর দু’টি পায়ের চেটোয় আমার হাত পড়ল। তাহাঁর পায়ের পাতা দুটো খাড়া ছিল এবং তিনি এই দো‘আ পড়ছিলেন, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিরিদ্বা-কা মিন সাখাত্বিক, অবিমুআফা-তিকা মিন উক্বূবাতিক, অ আঊযু বিকা মিন্কা লা উহ্স্বী সানা-আন ‘আলাইকা আন্তা কামা আসনাইতা আলা নাফসিক্।’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার সন্তুষ্টির অসীলায় তোমার ক্রোধ থেকে, তোমার ক্ষমাশীলতার অসীলায় তোমার শাস্তি থেকে এবং তোমার সত্তার অসীলায় তোমার আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার উপর তোমার প্রশংসা গুনে শেষ করিতে পারি না, যেমন তুমি নিজের প্রশংসা নিজে করেছ। [মুসলিম][23]

24/1439 وَعَنْ سَعدِ بنِ أَبي وَقَّاصٍ رضي الله عنه قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَيَعجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ فِي كُلِّ يَومٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ !» فَسَأَلَهُ سَائِلٌ مِنْ جُلَسائِهِ: كَيْفَ يَكْسِبُ أَلفَ حَسَنَةٍ ؟ قَالَ: «يُسَبِّحُ مِئَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ، أَوْ يُحَطُّ عَنْهُ أَلفُ خَطِيئَةٍ» . رواه مسلم

২৪/১৪৩৯। সায়াদ ইবনি আবূ ওয়াক্কাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলিলেন, “তোমাদের কোন ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকী অর্জন করিতে অপারগ হইবে কি?” তাহাঁর সাথে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের একজন জিজ্ঞাসা করিল, ‘কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করিবে?’ তিনি বলিলেন, “একশ’বার তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ] পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হইবে অথবা এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হইবে।” [মুসলিম][24]

হুমাইদী বলেন, মুসলিম গ্রন্থে এ রকম أَوْ يُحَطُّ [অথবা — মিটিয়ে দেওয়া হইবে] এসেছে। বারক্বানী বলেন, এটিকে শু’বাহ, আবূ আওয়ানাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তান সেই মুসা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, যার সূত্রে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করিয়াছেন। এঁরা বলেছেন, وَيُحَطُّ [এবং — মিটিয়ে দেওয়া হইবে।] অর্থাৎ তাতে ‘ওয়াও’-এর পূর্বে ‘আলিফ’ বর্ণ নেই। [আর তার মানে হল, তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হইবে এবং এক হাজার গুনাহও মিটিয়ে দেওয়া হইবে।]

25/1440 وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم،  قَالَ: «يُصْبحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقةٌ: فَكُلُّ تَسْبيحَةٍ صَدَقةٌ، وَكُلُّ تَحْميدَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَهْلِيلةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ، وأَمْرٌ بِالمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ، وَنَهْيٌ عَنِ المُنْكَرِ صَدَقَةٌ، وَيُجْزِئُ مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَانِ يَرْكَعُهُمَا مِنَ الضُّحَى». رواه مسلم

২৫/১৪৪০। আবূ জর রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেন, “তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকের প্রত্যেক [হাড়ের] জোড়ের পক্ষ থেকে প্রাত্যহিক [প্রদেয়] সদকা রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেক তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ বলা] সদকা, প্রত্যেক তাহমীদ [আলহামদু লিল্লাহ বলা] সদকা, প্রত্যেক তাহলীল [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা] সদকা, প্রত্যেক তাকবীর [আল্লাহু আকবার বলা] সদকা এবং ভাল কাজের আদেশ প্রদান ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সদকা। এ সব কাজের পরিবর্তে চাশতের দু’রাক্আত নামায যথেষ্ট হইবে।” [মুসলিম][25]

26/1441 وَعَنْ أُمِّ المُؤمِنِينَ جُوَيْرِيَةَ بِنتِ الحَارِثِ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةً حِيْنَ صَلَّى الصُّبْحَ وَهِيَ فِي مَسْجِدِهَا، ثُمَّ رَجَعَ بَعدَ أَنْ أَضْحَى وَهِيَ جَالِسَةٌ، فَقَالَ: «مَا زِلْتِ عَلَى الحَالِ الَّتي فَارَقَتُكِ عَلَيْهَا ؟» قَالَتْ: نَعَمْ، فَقَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلاثَ مَرَّاتٍ، لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ اليَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ: سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ» . رواه مسلم

وفي روايةٍ لَهُ: «سُبْحانَ الله عَدَدَ خَلْقِهِ، سُبْحَانَ الله رِضَا نَفْسِهِ، سُبْحَانَ اللهِ زِنَةَ عَرْشِهِ، سُبْحَانَ الله مِدَادَ كَلِمَاتِهِ».

وفي رواية الترمذي: «ألاَ أُعَلِّمُكِ كَلِمَاتٍ تَقُولِينَهَا؟ سُبحَانَ الله عَدَدَ خَلْقِهِ؛ سُبحَانَ الله عَدَدَ خَلْقِهِ، سُبحَانَ الله عَدَدَ خَلْقِهِ، سُبْحَانَ اللهِ رِضَا نَفْسِهِ، سُبْحَانَ اللهِ رِضَا نَفْسِهِ، سُبْحَانَ الله رِضَا نَفْسِهِ، سُبْحَانَ الله زِنَةَ عَرْشِهِ، سُبْحَانَ اللهِ زِنَةَ عَرْشِهِ، سُبْحَانَ الله زِنَةَ عَرْشِهِ، سُبْحَانَ اللهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ، سُبْحَانَ الله مِدَادَ كَلِمَاتِهِ، سُبْحَانَ الله مِدَادَ كَلِمَاتِهِ» .

২৬/১৪৪১। মুমিন জননী জুয়াইরিয়াহ বিনতে হারেস রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ সকাল ভোরে ফজরের নামায সমাপ্ত করে তাহাঁর নিকট থেকে বাইরে গেলেন। আর তিনি [জুয়াইরিয়াহ] স্বীয় জায়নামাজে বসেই রইলেন। তারপর চাশতের সময় তিনি যখন ফিরে এলে, তখনও তিনি সেখানেই বসেছিলেন। এ দেখে তিনি তাঁকে বলিলেন, “আমি যে অবস্থায় তোমাকে ছেড়ে বাইরে গেলাম, সে অবস্থাতেই তুমি রয়েছ?” তিনি বলিলেন, ‘হ্যাঁ।’ নবী সাঃআঃ বলিলেন, “তোমার নিকট থেকে যাবার পর আমি চারটি বাক্য তিনবার পড়েছি। যদি সেগুলিকে তোমার সকাল থেকে [এ যাবৎ] পঠিত দো‘আর মুকাবিলায় ওজন করা যায়, তাহলে তা ওজনে সমান হয়ে যাবে। আর তা হচ্ছে এই যে,

‘সুবহা-নাল্লা-হি অবিহামদিহী আদাদা খালক্বিহী, অরিযা নাফসিহী, অযিনাতা আরশিহী, অমিদা-দা কালিমা-তিহ্।’ অর্থাৎ আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করি; তাহাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, তাহাঁর নিজ মর্জি অনুযায়ী, তাহাঁর আরশের ওজন বরাবর ও তাহাঁর বাণীসমূহের সমান সংখ্যক প্রশংসা।” [মুসলিম][26]

মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, ‘সুবহা-নাল্লা-হি আদাদা খালক্বিহ, সুবহা-নাল্লা-হি রিযা নাফসিহ, সুবহা-নাল্লা-হি যিনাতা আরশিহ, সুবহা-নাল্লা-হি মিদা-দা কালিমা-তিহ।’

আর তিরমিযীর বর্ণনায় আছে, [নবী সাঃআঃ তাঁকে বলিলেন,] “আমি কি তোমাকে এমন বাক্যাবলী শিখিয়ে দেব না, যা তুমি বলিতে থাকিবে? তা হচ্ছে এই যে, ‘সুবহানাল্লাহি আদাদা খালকিহী—।” [প্রত্যেক বাক্য তিনবার করে।]

[জ্ঞাতব্য যে, আল্লাহর বাণীর কোন শেষ নেই।]

27/1442 وَعَنْ أَبي مُوسَى الأَشعَرِي رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لاَ يَذْكُرُهُ مَثَلُ الحَيِّ وَالمَيِّتِ» . رواه البخاري . ورواه مسلم فَقَالَ: «مَثَلُ البَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ، وَالبَيْتِ الَّذِي لاَ يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ، مَثَلُ الحَيِّ والمَيِّتِ» .

২৭/১৪৪২। আবূ মুসা আশ‘আরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “যে আল্লাহর যিকির করে আর যে যিকির করে না, উভয়ের উদাহরণ মৃত ও জীবন্ত মানুষের মত।” [বুখারী] [27]

মুসলিম এটি এভাবে বর্ণনা করিয়াছেন যে, “যে ঘরে আল্লাহর যিকির করা হয় এবং যে ঘরে আল্লাহর যিকির করা হয় না, উভয়ের দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃতের ন্যায়।”

28/1443 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِيْ بِيْ، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ، ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلأٍ ذَكَرتُهُ فِي مَلأٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ». متفق عَلَيْهِ

২৮/১৪৪৩। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি। [অর্থাৎ সে যদি ধারণা রাখে যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন, তার তওবা কবুল করবেন, বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করবেন, তাহলে তাই করি।] আর আমি তার সাথে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। সুতরাং সে যদি তার মনে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি, সে যদি কোন সভায় আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে তাহাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের [ফিরিশতাহাদের] সভায় স্মরণ করি।” [বুখারী ও মুসলিম][28] 

29/1444 وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «سَبَقَ المُفَرِّدُونَ» قَالُوا: وَمَا المُفَرِّدُونَ ؟ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: «الذَّاكِرُونََ اللهَ كَثِيراً وَالذَّاكِرَاتِ» . رواه مسلم

২৯/১৪৪৪। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “মুফার্রিদগণ অগ্রগমন করেছে।” সাহাবীগণ প্রশ্ন করিলেন, ‘মুফার্রিদ’ কারা, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বলিলেন, “অতিমাত্রায় আল্লাহকে স্মরণকারী নর ও নারী।” [মুসলিম][29]

30/1445. وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «أَفْضَلُ الذِّكْرِ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ» . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

৩০/১৪৪৫। জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, “সর্বশ্রেষ্ঠ যিকির হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।” [তিরমিযী হাসান] [30]

31/1446 وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ بُسْرٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلاً قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ شَرَائِعَ الإِسْلاَمِ قَدْ كَثُرَتْ عَلَيَّ، فَأَخْبِرْنِي بِشَيءٍ أَتَشَبَّثُ بِهِ، قَالَ: «لاَ يَزالُ لِسَانُكَ رَطباً مِنْ ذِكْرِ اللهِ» . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

৩১/১৪৪৬। আব্দুল্লাহ ইবনি বুসার রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! ইসলামী বিধান তো আমার ক্ষেত্রে অনেক বেশী। সুতরাং আপনি আমাকে এমন একটি কাজ বলে দিন, যেটাকে আমি দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারি।’ তিনি বলিলেন, “আল্লাহর যিকিরে তোমার রসনা যেন সর্বদা সিক্ত থাকে।” [তিরমিযী হাসান] [31]

32/1447 وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمدِهِ، غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الجَنَّةِ» . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

৩২/১৪৪৭। জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ’ পড়ে, তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি খেজুর বৃক্ষ রোপণ করা হয়।” [তিরমিযী হাসান] [32]

33/1448 وَعَنِ ابنِ مَسعُود رضي الله عنه  قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «لَقِيْتُ إِبْرَاهِيمَ لَيلَةَ أُسْرِيَ بِي، فَقَالَ: يَا مُحَمّدُ أَقْرِئْْ أُمَّتَكَ مِنِّي السَّلاَمَ، وَأَخْبِرْهُمْ أنَّ الجَنَّةَ طَيَّبَةُ التُّرْبَةِ، عَذْبَةُ المَاءِ، وَأنَّهَا قِيعَانٌ وَأَنَّ غِرَاسَهَا: سُبْحَانَ اللهِ، وَالحَمْدُ للهِ، وَلاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

৩৩/১৪৪৮। ইবনি মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “মি’রাজের রাতে ইব্রাহীম عليه السلام -এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটে। তিনি বলিলেন, ‘হে মুহাম্মদ! তুমি তোমার উম্মতকে আমার সালাম পেশ করিবে এবং তাহাদেরকে বলে দেবে যে, জান্নাতের মাটি পবিত্র ও উৎকৃষ্ট, তার পানি মিষ্ট। আর তা বৃক্ষহীন একটি সমতলভূমি। আর ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ হল তার রোপিত বৃক্ষ।” [তিরমিযী-হাসান] [33]

34/1449 وَعَنْ أَبي الدَّردَاءِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ، وَأَزْكَاهَا عِنْدَ مَلِيكِكُمْ، وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ، وَخَيرٍ لَكُمْ مِنْ إِنْفَاقِ الذَّهَبِ والفِضَّةِ، وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ أَن تَلْقَوا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ ؟» قَالَوا: بَلَى، قَالَ: ذِكرُ الله تَعَالَى» . رواه الترمذي، قَالَ الحاكم أَبُو عبد الله: إسناده صحيح

৩৪/১৪৪৯। আবূ দরদা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ একদা বলিলেন, “আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম কাজের সন্ধান দেব না? যা তোমাদের প্রভুর নিকট সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের মর্যাদা সবার চেয়ে বেশি বৃদ্ধিকারী, সোনা-চাঁদি দান করার চেয়ে উত্তম এবং শত্রুর সম্মুখীন হয়ে গর্দান কাটা ও কাটানোর চেয়ে শ্রেয়।” সকলে বলিল, ‘অবশ্যই বলে দিন।’ তিনি বলিলেন, “আল্লাহ তা‘আলার যিকির।” [তিরমিযী, আবূ আব্দুল্লাহ হাকেম বলেছেন, এর সানাদ সহীহ] [34]

35/1450 وعن سعْدِ بنِ أَبي وقَّاصٍ رضي الله عنه أَنَّهُ دَخَل مع رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم على امْرأَةٍ وبيْنَ يديْهَا نَوىً ­ أَوْ حصىً ­ تُسبِّحُ بِه فقال: «أَلا أُخْبِرُك بما هُو أَيْسرُ عَليْكِ مِنْ هذا ­ أَوْ أَفْضَلُ» فقالَ: «سُبْحانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ في السَّماءِ، وَسُبْحانَ اللهِ عَدَدَ ما خَلَقَ في الأَرْضِ، سُبحانَ اللهِ عَدَدَ مَا بيْنَ ذلك، وسبْحانَ اللهِ عدد ما هُوَ خَالِقٌ . واللهُ أَكْبرُ مِثْلَ ذلكَ، والحَمْد لِلهِ مِثْل ذلِكَ، ولا إِلٰهَ إِلاَّ الله مِثْل ذلِكَ، ولا حوْل ولا قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ مِثْلَ ذَلِكَ» . رواه الترمذي وقال: حديثٌ حسنٌ.

৩৫/১৪৫০। সায়াদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি রসুলুল্লাহ র সাঃআঃ সাথে জনৈক মহিলার নিকট গেলেন। তার সম্মুখে তখন খেজুরের বিচি বা কাঁকর ছিল। সেগুলোর সাহায্যে তিনি তাসবীহ গণনা করছিলেন। রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলিলেন, তোমাকে আমি কি এমন বিষয়ের কথা জানাবো যা তোমার জন্য এর চেয়ে সহজ বা এর চেয়ে উত্তম? তা হচ্ছে, “সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা খালাক্বা ফিস্ সামায়ি” [আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই সব জিনিসের সমসংখ্যক যা তিনি আকাশে সৃষ্টি করিয়াছেন] “ওয়া সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা খালাক্বা ফিল আরযি” [আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেসব বস্তুর সমসংখ্যক যা তিনি দুনিয়াতে সৃষ্টি করিয়াছেন] “ওয়া সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা বাইনা যালিক” [পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই সকল জিনিসের সমান যা ঐ দু‘টির মাঝে রয়েছে] “ওয়া সুবহানাল্লাহি ‘আদাদা মা হুয়া খালিকুন” [পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই সব জিনিসের সমসংখ্যক তিনি যার স্রষ্টা] আর “আল্লাহু আকবার বাক্যটিও এভাবেই পাঠ করো, “আল-হামদু লিল্লাহি” বাক্যটিও এভাবেই পাঠ কর, “লা- ইলা- হা ইল্লাল্লাহু” বাক্যটিও এভাবেই পাঠ কর, “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি” বাক্যটিও এরূপেই পাঠ কর। [তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন][35]

36/1451 وَعَنْ أَبي مُوسَى رضي الله عنه قَالَ: قَالَ لِي  رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم :«أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الجَنَّةِ ؟» فَقُلتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: «لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ». متفق عَلَيْهِ

৩৬/১৪৫১। আবূ মুসা আশআরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ আমাকে বলিলেন, “তোমাকে জান্নাতের অন্যতম ধনভাণ্ডারের কথা বলে দেব না কি?” আমি বললাম, ‘অবশ্যই বলে দিন, হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বলিলেন, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ  [বুখারী ও মুসলিম] [36]


[1] সহীহুল বুখারী ৬৪০৬, ৬৬৮২, ৭৫৬৩, মুসলিম ২৬৯৪, তিরমিযী ৩৪৬৭, ইবনু মাজাহ ৩৮০৬, আহমাদ ৭১২৭

[2] সহীহুল বুখারী ৬৪০৬, ৬৬৮২, ৭৫৬৩, মুসলিম ২৬৯৪, তিরমিযী ৩৪৬৭, ইবনু মাজাহ ৩৮০৬, আহমাদ ৭১২৭

[3] সহীহুল বুখারী ৩২৯৩, ৬৪০৫, তিরমিযী ৩৪৬৬, ৩৪৬৮, ৩৪৬৯, আবূ দাউদ ৫০৯১, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৮, ৩৮১২, আহমাদ ৭৯৪৮, ৮৫০২, ৮৬১৬, ৮৬৫৬, ৯৮৯৭, ১০৩০৫, মুওয়াত্তা মালিক ৪৮৬, ৪৮৭

[4] সহীহুল বুখারী ৬৪০৪, মুসলিম ২৬৯৩, তিরমিযী ৩৫৫৩, তিরমিযী ৩৫৫৩, আহমাদ ২৩০০৫, ২৩০০৭, ২৩০৩৪, ২৩০৫৬, ২৩০৭১

[5] মুসলিম ২৭৩১, তিরমিযী ৩৫৯৩, আহমাদ ২০৮১৩, ২০৯১৯, ২১০১৯

[6] মুসলিম ২২৩, তিরমিযী ৩৫১৭, ইবনু মাজাহ ২৮০, আহমাদ ২৩৯৫, ২২৪০১, দারেমী ৬৫৩

[7] মুসলিম ২৬৯৬, আহমাদ ১৫৬৪, ১৬১৪

[8] মুসলিম ৫৯১, তিরমিযী ৩০০, আবূ দাউদ ১৫১২, ইবনু মাজাহ ৯২৮, আহমাদ ২১৯০২, দারেমী ১৩৪৮

[9] সহীহুল বুখারী ৮৪৪, ১৪৭৭, ২৪০৮, ৫৯৭৫, ৬৩৩০, ৬৪৭৩, ৬৬১৫, ৭২৯২, মুসলিম ৫৯৩, নাসায়ী ১৩৪১-১৩৪৩, আবূ দাউদ ১৫০৫, ৩০৭৯, আহমাদ ১৭৬৭৩, ১৭৬৮১, ১৭৬৯৩, ১৭৭১৪, ১৭৭১৮, ১৭৭৩৪, ১৭৭৬৬, দারেমী ১৩৪৯, ২৭৫১

[10] মুসলিম ৫৯৪, নাসায়ী ১৩৩৯, ১৩৪০, আবূ দাউদ ১৫০৬, আহমাদ ১৫৬৭৩, ১৫৬৯০

[11] সহীহুল বুখারী ৮৪৩, মুসলিম ৫৯৫, আবূ দাউদ ১৫০৪, আহমাদ ৭২০২, দারেমী ১৩৫৩

[12] মুসলিম ৫৯৭, আবূ দাউদ ১৫০৪, আহমাদ ৮৬১৬, ৯৮৯৭, মুওয়াত্তা মালিক ৮৪৪

[13] মুসলিম ৫৯৬, তিরমিযী ৩৪১২, নাসায়ী ১৩৪৯

[14] সহীহুল বুখারী ৬৩৬৫, ৬৩৭০, ৬৩৭৪, ৬৩৯০, তিরমিযী ৩৫৬৭, নাসায়ী ৫৪৪৫, ৫৪৪৭, ৫৪৭৮, ৫৪৭৯, ৫৪৮২, ৫৪৮৩, আহমাদ ১৫৮৯, ১৬২৪

[15] আবূ দাউদ ১৫২২, ৫৪৮২, ৫৪৮৩, আহমাদ ২১৬২১

[16] সহীহুল বুখারী ১৩৭৭, মুসলিম ৫৮৮, তিরমিযী ৩৬০৪, নাসায়ী ১৩১০, ৫৫০৫, ৫৫০৬, ৫৫০৯, ৫৫১১, ৫৫১৩-৫৫১৮, ৫৫২০, আবূ দাউদ ৯৮৩, ইবনু মাজাহ ৯০৯, আহমাদ ৭১৯৬, ৭৮১০, ৭৯০৪, ৯০৯৩, ৯১৮৩, ৯৫৪৬, ৯৮২৪, ১০৩৮৯, ২৭৮৯০, ২৭৬৭৪, ২৭২৮০, দারেমী ১৩৪৪

[17] মুসলিম ৭৭১, তিরমিযী ৩৪২২, ৩৪২৩, আবূ দাউদ ৭৬০, ১৫০৯, নাসায়ী ১৬১৯, ইবনু মাজাহ ১৩৫৫

[18] সহীহুল বুখারী ৭৯৪, ৮১৭, ৪২৯৪, ৪৯৬৭, ৪৯৬৮, মুসলিম ৪৮৪, নাসায়ী ১০৪৭, ১১২২, ১১২৩, আবূ দাউদ ৮৭৭, ইবনু মাজাহ ৮৮৯৯, আহমাদ ২৩৬৪৩, ২৩৭০৩, ২৪১৬৪, ২৫০৩৯, ২৫৩৯৭

[19] মুসলিম ৪৮৭, নাসায়ী ১০৪৮, ১১৩৪, আবূ দাউদ ৮৭২, আহমাদ ২৩৫৪৩, ২৪১০৯, ২৪৩২২, ২৪৬২২, ২৪৬৩৮, ২৪৯০৬, ২৫০৭৮, ২৫১১০, ২৫৫৩৯, ২৫৭৬১

[20] মুসলিম ৪৭৯, নাসায়ী ১০৪৫, ১১২০, আবূ দাউদ ৮৭৬, ইবনু মাজাহ ৩৮৯৯, আহমাদ ১৯০৩, দারেমী ১৩২৫, ১৩২৬

[21] মুসলিম ৪৮২, নাসায়ী ১১৩৭, আবূ দাউদ ৮৭৫, আহমাদ ৯১৬৫

[22] মুসলিম ৪৮৩, আবূ দাউদ ৮৭৮

[23] মুসলিম ৪৮৬, তিরমিযী ৩৪৯৩, নাসায়ী ১১০০, ১১৩০, ৫৫৩৪, আবূ দাউদ ৮৭৯, ইবনু মাজাহ ৩৮৪১, আহমাদ ২৩৭৯১, মুওয়াত্তা মালিক ৪৯৭

[24] মুসলিম ২৬৯৮, তিরমিযী ৩৪৬৩, আহমাদ ১৪৯৯, ১৫৬৬, ১৬১৫

[25] মুসলিম ৭২০, আবূ দাউদ ১২৮৫, ১২৮৬

[26] মুসলিম ২৭২৬, তিরমিযী ৩৫৫৫, নাসায়ী ১৩৫২, ইবনু মাজাহ ৩৮০৮, আহমাদ ২৬২১৮, ২৬৮৭৫

[27] সহীহুল বুখারী ৬৪০৭, মুসলিম ৭৭৯

[28] সহীহুল বুখারী ৭৪০৫, ৭৫০৫, ৭৫৩৬, ৭৫৩৬, ৭৫৩৭, মুসলিম ২৬৭৫, তিরমিযী ২৩৮৮, ৩৬০৩, ইবনু মাজাহ ৩৮২২, আহমাদ ৭৩৭৪, ৮৪৩৬, ৮৮৩৩, ৯০০১, ৯০৮৭, ৯৩৩৪, ৯৪৫৭, ১০১২০, ১০২৪১, ১০৩০৬, ১০৩২৬, ১০৪০৩, ১০৫২৬, ১০৫৮৫, ২৭২৭৯, ২৭২৮৩

[29] মুসলিম ২৬৭৬, আহমাদ ৮০৯১, ৯০৭৭

[30] তিরমিযী ৩৩৮৩, ইবনু মাজাহ ৩৮০০

[31] তিরমিযী ৩৩৭৫, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৩

[32] তিরমিযী ৩৪৬৪, ৩৪৬৫

[33] তিরমিযী ৩৪৬২

[34] তিরমিযী ৩৩৭৭, ইবনু মাজাহ ৩৭৯০, আহমাদ ২১১৯৫, ২৬৯৭৭, ইবনু মাজাহ ৪৯০

[35] আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম তিরমিযী এরূপ বলেছেন, অথচ এর সনদে অজ্ঞতা রয়েছে যেমনটি আমি “আত্তা‘লীকু আলাল কালিমিত তাইয়্যিব” গ্রন্থে বর্ণনা করেছি (পৃ ২৭) এবং শাইখ হাবাশীর প্রতিবাদ করতে গিয়েও আমি আলোচনা করেছি। ‘নাওয়া’ অথবা ‘হাসা’র সাথে সম্পৃক্ত অংশ উল্লেখ করা ছাড়া হাদীসটির মূল অংশ সহীহ্। এটিকে ইমাম মুসলিম তার সহীহ্ গ্রন্থে (২৭২৬) জুওয়াইরিয়ার হাদীস হতে বর্ণনা করেছেন।

((যদিও ভাষায় ভিন্নতা রয়েছে)। ভিন্ন ভাষায় তিরমিযীতেও (১৫৭৪) সহীহ্ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে)। আবূ দাউদ ১৫০০, তিরমিযী ৩৫৬৮।

[36] সহীহুল বুখারী ২৯৯২, ৪২০৫, ৬৩৮৪, ৬৪০৯, ৬৬১০, মুসলিম ২৭০৪, তিরমিযী ৩৩৭৪, ৩৪৬১, আবূ দাউদ ১৫২৬, ইবনু মাজাহ ৩৮২৪, আহমাদ ১৯০২৬, ১৯০৭৮, ১৯০৮২, ১৯১০২, ১৯১০৮, ১৯১৫১, ১৯২৪৬, ১৯২৫৬

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply