যিকর, আল্লাহর নাম, দোয়া ও ইসতিগফার করা

যিকর, আল্লাহর নাম, দোয়া ও ইসতিগফার করা

যিকর, আল্লাহর নাম, দোয়া ও ইসতিগফার করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার যিক্‌রের প্রতি অনুপ্রাণিত করা
২. অধ্যায়ঃ আল্লাহর নামসমূহের বর্ণনা এবং যারা এগুলো সংরক্ষণ করে তার মর্যাদা প্রসঙ্গে
৩. অধ্যায়ঃ দুআতে দৃঢ়তা অবলম্বন করা এবং আল্লাহ তুমি যদি চাও এ কথা না বলার বর্ণনা
৪. অধ্যায়ঃ বিপদে পড়লে মৃত্যু আকাঙ্ক্ষা পোষণ অপছন্দনীয়
৫. অধ্যায়ঃ যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন আল্লাহ তাদের সাক্ষাৎ ভালোবাসেন আর যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না আল্লাহও তাদের সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না
৬. অধ্যায়ঃ যিকর, দুআ ও আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করার মর্যাদা
৭. অধ্যায়ঃ দুনিয়াতে শাস্তি কার্যকরের জন্য দুআ করা অপছন্দনীয়
৮. অধ্যায়ঃ আল্লাহর স্মরণ সভার মর্যাদা
৯. অধ্যায়ঃ হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করো এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করো আর জাহান্নাম হইতে আমাদের মুক্তি দাও- এ দুআর মর্যাদা
১০. অধ্যায়ঃ তাহলীল [লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ বলা], তাসবীহ্ [সুবহা-নাল্লা-হ বলা] ও দুআর ফযিলত
১১. অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ ও যিক্‌রের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা
১২. অধ্যায়ঃ বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা বা ইসতিগ্‌ফার করা মুস্তাহাব
১৩. অধ্যায়ঃ যিক্‌র নিম্নস্বরে করা মুস্তাহাব

১. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার যিকরের প্রতি অনুপ্রাণিত করা

৬৬৯৮ :আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আল্লাহ জাল্লা শানুহু বলেন, আমি বান্দার ধারণা অনুযায়ী নিকটে আছি। যখন সে আমার যিকির [স্মরণ] করে সে সময় আমি তার সাথে থাকি। বান্দা আমাকে একাকী স্মরণ করলে আমিও তাকে এককী স্মরন করি। আর যদি সে আমাকে কোন সভায় আমার কথা স্মরণ করে তাহলে আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম সভায় স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয় তাহলে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে আসি। যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়িয়ে আসি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬১৫]

৬৬৯৯ : আমাশ [রাদি.] হইতে এ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন। যদি সে আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে তাহলে আমি তার দিকে এক গজ অগ্রসর হই তিনি এ কথাটি বর্ননা করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬১৬]

৬৭০০ :হাম্মাম ইবনি মুনাব্বিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এগুলো আমাদের নিকট রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে আবু হুরায়রা্ [রাদি.] হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তারপর তিনি কিছু হাদীস উল্লেখ করেন। তম্মধ্যে একটি হাদীস এই, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন কোন বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসহর হয় তখন আমি তার পানে এক হাত অগ্রসহর হই। আর যখন সে একহাত অগ্রসহর হয় আমি তখন একগজ অগ্রসর হই। যখন সে দুহাত অগ্রসহর হয় তখন আমি তার কাছে অতি তাড়াতাড়ি আসি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬১৭]

৬৭০১ :আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মক্কার পথে চলতে থাকেন। অতঃপর জুমদন নামে একটি পর্বতের কাছে গেলেন। এরপর তিনি বলিলেন, তোমরা এ জমদান পর্বতে সফর করো। মুফার্রিদগণ অগ্রগামী হয়েছে। মানুষেরা প্রশ্ন করিল, মুফার্রিদ কারা! হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]? তিনি বলিলেন, বেশি বেশি আল্লাহর যিকিরে নিয়োজিত পুরুষ ও নারী।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬১৮]

২. অধ্যায়ঃ আল্লাহর নামসমূহের বর্ণনা এবং যারা এগুলো সংরক্ষণ করে তার মর্যাদা প্রসঙ্গে

৬৭০২ :আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে। যে লোকে এ নামগুলো সংরক্ষণ করিবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বেজোড়। তিনি বেজোড় ভালবাসেন। ইবনি আবু উমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বর্ণনায় [আরবী] [সংরক্ষণ করে]-এর স্থলে [আরবী] [যে তা আয়ত্ত করে] বর্ণিত আছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬১৯]

৬৭০৩ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি নাম অর্থাৎ- এক কমে একশটি নাম রয়েছে। যে লোক তা আয়ত্ত করিবে সে জান্নাতে গমন করিবে। হাম্মাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবু হুরায়রা্ [রাদি.]-এর সূত্রে নবী [সাঃআঃ] থেকে এটুকু বাড়িয়ে বলেছেন যে, তিনি বেজোড় এবং তিনি বেজোড় পছন্দ করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২০]

৩. অধ্যায়ঃ দুআতে দৃঢ়তা অবলম্বন করা এবং আল্লাহ তুমি যদি চাও এ কথা না বলার বর্ণনা

৬৭০৪ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন দুআ করে সে যেন দৃঢ়তা প্রকাশের সাথে দুআ করে। আর সে যেন না বলে, arbi

اللَّهُمَّ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন সি,তা ফা,তিনি

“হে আল্লাহ! যদি তুমি ইচ্ছা কর তবে আমাকে দান কর”। কেননা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য কোন বাধ্যকারী নেই।

দুআতে দৃঢ়তা অবলম্বন করা -হাদিস [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২১]

৬৭০৫ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন দুআ করে তখন সে যেন না বলে

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাগ ফিরলি ইন সি,তা

[হে আল্লাহ! আপনি যদি চান আমাকে মাফ করুন]। কিন্তু সে যেন দৃঢ়তার সাথে দুআ করে। সে যেন আগ্রহ নিয়ে দুআ করে। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে যা দান করেন তা আল্লাহ তাআলার নিকট তেমন কোন বিশাল জিনিস নয়।

দুআতে দৃঢ়তা অবলম্বন করা-হাদিস [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২২]

৬৭০৬ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যেন কখনো এ কথা না বলে যে,

 اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাগ ফিরলি ইন সি,তা , আল্লাহুম্মার হামনি ইন সি,তা

“হে আল্লাহ! আপনি যদি চান আমাকে মাফ করুন, হে আল্লাহ! আপনি যদি চান আমার প্রতি রহ্মাত করুন।” সে যেন অবশ্যই দৃঢ়তার সাথে দুআ প্রার্থনা করে। কেননা, আল্লাহ তাআলা মহান কারিগর, তিনি যা চান তাই করেন। তার উপর বাধ্যবাধকতা করার কেউ নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২৩]

৪. অধ্যায়ঃ বিপদে পড়লে মৃত্যু আকাঙ্ক্ষা পোষণ অপছন্দনীয়

৬৭০৭ : আনাস [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যেন বিপদে পড়ার কারণে মৃত্যু আকাঙ্ক্ষা না করে। তবে মৃত্যু তার কামনা হয় তা হলে সে যেন বলে-

اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আহইয়ানি মা কানাতিল হায়াতু খইরান লি ওয়া তাওয়াক্কানি ইজা কনাতিল ওয়া ফাতু খয়রান লি

“হে আল্লাহ! আপনি আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত আমার হায়াত আমার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর হয়, তবে আমাকে মৃত্যু দিয়ে দিন।”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২৪]

৬৭০৮ : আনাস [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

আনাস [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তাছাড়া তিনি لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ (তার উপর আপতিত বিপদের কারণে) এর স্থলে مِنْ ضُرٍّ أَصَابَهُ (যে বিপদ তার উপর পতিত হয়েছে) বলেছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২৫]

৬৭০৯ : নায্‌র ইবনি আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আনাস তখন জীবিত ছিলেন। তিনি [নায্র] বলেন, আনাস [রাদি.] বলেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যদি না বলিতেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ কখনো মৃত্যুর আশা করিবে না”। তাহলে অবশ্যই আমি মৃত্যু কামনা করতাম।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২৬]

৬৭১০ : কায়স ইবনি আবু হাযিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব [রাদি.]-এর নিকটে প্রবেশ করলাম। তিনি তার উদরে সাতবার লোহা গরম করে সেক দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলিলেন, যদি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের মৃত্যু কামনা করে দুআ করিতে বারণ না করিতেন তাহলে অবশ্যই আমি মৃত্যুর জন্য দুআ করতাম।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২৭]

৬৭১১ : ইসহাক্ ইবনি ইব্রাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. অপর সানাদে ইবনি নুমায়র, উবাইদুল্লাহ ইবনি মুআয ও ইয়াহ্ইয়া ইবনি হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবনি রাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইসমাঈল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ অবিকল হাদীস আলোচনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২৮]

৬৭১২ : হাম্মাম ইবনি মুনাব্বিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবু হুরায়রা্ [রাদি.]-এর সূত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে আমাদের নিকট যা বর্ণনা করিয়াছেন, অতঃপর তিনি কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করিলেন। তার অন্যতম একটি এই যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং মৃত্যু আসার আগে যেন মৃত্যুর জন্য দুআ না করে। কেননা তোমাদের কেউ মারা গেলে তার আমাল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিন লোকের বয়স তার কল্যাণই বাড়িয়ে থাকে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬২৯]

৫. অধ্যায়ঃ যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন আল্লাহ তাদের সাক্ষাৎ ভালোবাসেন আর যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না আল্লাহও তাদের সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না

৬৭১৩ :উবাদাহ্ ইবনি সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন আল্লাহ তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন। আর যে লোক আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩০]

৬৭১৪ ;উবাদাহ্ ইবনি সামিত [রাদি.]-এর সূত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩১]

৬৭১৫ ;আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন। আর যে লোক আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন তো আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী [সাঃআঃ]! এটা কি মরণকে অপছন্দ করা আমরা সবাই তো তা অপছন্দ করি? তিনি বলেন, বিষয়টি এরূপ নয়। তবে যখন একজন মুমিনকে আল্লাহর রহ্মাত, তাহাঁর রিযামন্দির ও জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন এবং আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন। আর যখন কাফিরকে আল্লাহর আযাব ও তার অসন্তুষ্টির সংবাদ দেয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না এবং আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩২]

৬৭১৬ : কাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

হুবহু হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩৩]

৬৭১৭ : আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন। আর যে লোক আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না। আর মৃত্যু আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের পূর্বে [সংঘটিত হয়]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩৩]

৬৭১৮ : শুরায়াহ্ ইবনি হানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আয়িশা [রাদি.] তাকে অবহিত করিয়াছেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার হাদীসের হুবহু বলেছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩৪]

৬৭১৯ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ভালোবাসেন আল্লাহ তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন। আর যে লোক আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না। তিনি [শুরায়াহ্] বলেন, অতঃপর আমি আয়িশা [রাদি.]-এর নিকট আসলাম এবং বললাম, হে মুমিনদের জননী! আমি আবু হুরায়রা্ [রাদি.]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে একটি হাদীস বর্ণনা করিতে শুনেছি। যদি বিষয়টি এমন হয় তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তখন তিনি {আয়িশা [রাদি.]} বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কথা অনুযায়ী যে লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে প্রকৃতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি কী? তিনি [রাবী] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসে না আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন না আর আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে মৃত্যুকে অপছন্দ করে না। তখন তিনি {আয়িশা [রাদি.]} বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ কথাই বলেছেন। তবে তুমি যা বুঝেছ বিষয়টি ঠিক তা নয়। মূলতঃ যখন অপলক দৃষ্টিতে তাকাবে, শ্বাস বুকে থমকে যাবে, শরীরের পশম খাড়া হয়ে যাবে এবং আঙ্গুলগুলো খিচে যাবে ঐ সময় যে লোক আল্লাহর সাক্ষাৎ ভালোবাসে আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালোবাসেন এবং সে সময় যে আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করিবে না আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করবেন না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩৫]

৬৭২০ : মুতার্রিফ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

আবসার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩৬]

৬৭২১ : আবু মূসা [রাদি.] সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, যে লোক আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে লোক আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে না আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩৬]

৬. অধ্যায়ঃ যিকর, দুআ ও আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করার মর্যাদা

৬৭২২ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি আছি। আর যখন সে আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩৭]

৬৭২৩ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ জাল্লা শানুহু বলেন, যখন আমার বান্দা আমার প্রতি এক বিঘত এগিয়ে আসে তখন আমি তার প্রতি এক হাত এগিয়ে আসি। আর যখন সে আমার প্রতি এক হাত অগ্রসহর হয় তখন আমি তার প্রতি এক গজ অগ্রসর হই। আর যখন সে আমার প্রতি হেঁটে আসে তখন আমি তার প্রতি দৌড়ে আসি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩৮]

৬৭২৪ :মুতামির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার পিতার সানাদে এ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় إِذَا أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً (যখন সে পায়ে হেঁটে আসে তখন আমি তার দিকে দৌড়ে আসি] উল্লেখ করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৩৯]

৬৭২৫ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেনঃ আমি আমার বান্দার নিকট তার ধারণা অনুযায়ী থাকি। যখন সে আমার স্মরণ করে তখন আমি তার সাথী হয়ে যাই। যখন সে একাকী আমার স্মরণ করে তখন আমি একাকী তাকে স্মরণ করি। যখন সে কোন সভায় আমার স্মরণ করে তখন আমি তাকে তার চেয়েও উত্তম সভায় স্মরণ করি। যদি সে আমার প্রতি এক বিঘত অগ্রসর হয় আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে আসি। যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয় তাহলে আমি তার দিকে এক গজ [দুহাত] অগ্রসর হই। যদি সে আমার প্রতি পায়ে হেঁটে আসে আমি তার প্রতি দৌড়ে আসি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪০]

৬৭২৬ : আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন, যে লোক একটি নেক কাজ করিবে তার জন্য রয়েছে দশগুণ প্রতিদান; আর আমি তাকে আরও বৃদ্ধি করে দিব। আর যে লোক একটি খারাপ কর্ম করিবে তার প্রতিদান সে কর্মের সমান অথবা আমি তাকে মাফ করে দিব। যে লোক আমার প্রতি এক বিঘত এগিয়ে আসে আমি তার প্রতি এক হাত অগ্রসর হই। আর যে লোক আমর প্রতি এক হাত এগিয়ে আসে আমি তার দিকে দুহাত [এক গজ] অগ্রসর হই। যে লোক আমার নিকট পায়ে হেঁটে আসে আমি তার প্রতি দৌড়িয়ে আসি। যে লোক আমার সাথে কাউকে কোন বিষয়ে অংশীদার স্থাপন ব্যতীত পৃথিবী তুল্য গুনাহ নিয়েও আমার সাথে সাক্ষাৎ করে তাহলে আমি তার সাথে অনুরূপ পৃথিবী তুল্য মার্জনা নিয়ে সাক্ষাৎ করি।

ইব্রাহীম বলেন, হাসান ইবনি বিশ্‌র হাদীসটি ওয়াকী সানাদে অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪১]

৬৭২৭ : আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সানাদে এ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে পার্থক্য এই যে, তিনি বলেছেন, তার জন্যে রয়েছে দশগুণ প্রতিদান কিংবা আমি আরও বৃদ্ধি করে দিব।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪২]

৭. অধ্যায়ঃ দুনিয়াতে শাস্তি কার্যকরের জন্য দুআ করা অপছন্দনীয়

৬৭২৮ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একজন মুসলিম রোগীকে সেবা করিতে গেলেন। সে [অসুখে কাতর হয়ে] অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল, এমনকি সে পাখির ছানার মতো হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বলিলেন, তুমি কি কোন বিষয় প্রার্থনা করছিলে অথবা আল্লাহর নিকট বিশেষভাবে কিছু চেয়েছিলে? সেবলিল, হ্যাঁ। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহ! আপনি পরকালে আমাকে যে সাজা দিবেন তা এ ইহকালেই দিয়ে দিন। সে সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, সুবহানাল্লাহ্! তোমার এমন সামর্থ্য নেই যে, তা বহন করিবে? অথবা তুমি তা সহ্য করিতে পরবে না। তুমি এমনটি বললে না কেন? হে আল্লাহ! আমাদের কল্যাণ দাও পৃথিবীতে এবং কল্যাণ দান করো পরকালেও। আর জাহান্নাম হইতে আমাদেরকে রক্ষা করো। তিনি [রাবী] বলেন, তখন তিনি তার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করেন। আর আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪৩]

৬৭২৯ : হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে জাহান্নাম থেকে আমাদের রক্ষা কর পর্যন্ত বর্ণনা করিয়াছেন। এর অতিরিক্ত অংশ তিনি উল্লেখ করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪৪]

৬৭৩০ ; আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সহাবাদের মধ্য থেকে এক রোগীকে সেবা করিতে যান। সে ভীষণ কাতর হয়ে পাখির ন্যায় হয়ে গিয়েছিল। হুমায়দ-এর হাদীসের অর্থানুযায়ী বর্ণনা করেন। কিন্তু তার হাদীসে আছে যে, “আল্লাহর সাজা সহ্য করার মতো সামর্থ্য তোমার নেই” আর এরপর “তিনি আল্লাহর নিকট দুআ করিলেন এবং আল্লাহ তাকে সুস্থ করিলেন” কথাটি তিনি উল্লেখ করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪৫]

৬৭৩১ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আনাস [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে এ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪৬]

৮. অধ্যায়ঃ আল্লাহর স্মরণ সভার মর্যাদা

৬৭৩২ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার এক গ্রুপ ভ্রাম্যমান বর্ধিত ফেরেশ্তা রয়েছে। তারা যিকিরের বৈঠক সমূহ সন্ধান করে বেড়ায়। তাঁরা যখন কোন যিকিরের বৈঠক পায় তখন সেখানে তাদের [যিকিরকারীদের] সাথে বসে যায়। আর পরস্পর একে অপরকে বাহু দ্বারা ঘিরে ফেলেন। এমনকি তাঁরা তাদের মাঝে ও নিকটতম আকাশের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে ফেলে। আল্লাহর যিকিরকারীগণ যখন পৃথক হয়ে যায় তখন তাঁরা আকাশমণ্ডলীতে আরোহণ করে। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোত্থকে আসছো? অথচ তিনি তাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী অবহিত। তখন তাঁরা বলিতে থাকেন, আমরা ভূমণ্ডলে অবস্থানকারী আপনার বান্দাদের কাছ হইতে আসছি, যারা আপনার তাসবীহ্ পড়ে, তাকবীর পড়ে, তাহ্লীল বলে [লা-ইলা-হাইল্লাল্লা-হ-এর] যিকির করে, আপনার প্রশংসা করে এবং আপনার নিকট তাদের প্রত্যাশিত বিষয় প্রার্থনা করে। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দারা আমার নিকট কি প্রার্থনা করে? তাঁরা বলেন, তারা আপনার নিকট আপনার জান্নাত প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, তারা কি আমার জান্নাত প্রত্যক্ষ করেছে? তাঁরা বলেন, না; হে আমাদের প্রভু! তিনি বলেন, তারা যদি আমার জান্নাত প্রত্যক্ষ করত তাহলে তারা কি করত? তাঁরা বলেন, তাঁরা আপনার নিকট আশ্রয় চায়। তিনি বলেন, কি বিষয় হইতে তাঁরা আমার নিকট আশ্রয় চায়? তাঁরা বলেন, হে আমাদের প্রভু! আপনার জাহান্নাম হইতে [মুক্তির জন্য]। তিনি বলেন, তারা কি আমার জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেছে? তারা বলেন, না; তারা প্রত্যক্ষ করেনি। তিনি বলেন, তারা যদি আমার জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করত তাহলে কী করত? তারা বলেন, তারা আপনার নিকট ক্ষমা প্রর্থনা করে। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাদের মার্জনা করে দিলাম এবং তারা যা প্রার্থনা করছিল আমি তা তাদের প্রদান করলাম। আর তারা যা হইতে আশ্রয় চেয়েছিল আমি তা থেকে তাদের মুক্তি দিলাম। অতঃপর তারা বলবে, হে আমাদের রব! তাদের মাঝে তো অমুক পাপী বান্দা ছিল, যে তাদের সাথে বৈঠকের নিকট দিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে বসেছিল। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাকেও মাফ করে দিলাম। তারা তো এমন একটি কওম যাদের সঙ্গীরা দুর্ভাগা হয়না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪৭]

৯. অধ্যায়ঃ হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করো এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করো আর জাহান্নাম হইতে আমাদের মুক্তি দাও- এ দুআর মর্যাদা

৬৭৩৩ : আবদুল আযীয ইবনি সুহায়ব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কাতাদাহ্ আনাস [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করিলেন, নবী [সাঃআঃ] কোন্ দুআ সর্বাধিক পড়তেন? তিনি বলিলেন, তিনি যে দুআ দ্বারা সর্বাধিক দুআ করিতেন তাতে বলিতেন :

اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণঃ আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতাও ওয়াফিল আ-খিরতি হাসানাতাও ওয়াকিনা- আযা-বান্ না-র। (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দান কর এবং আখিরাতে কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হইতে বাঁচিয়ে রাখো)

রাবী বলেন, আনাস [রাদি.] যখনই কোন দুআ করার সংকল্প করিতেন তখন তিনি {নবী [সাঃআঃ]-এর ন্যায়} দুআ করিতেন। তারপর যখন তিনি কোন ব্যাপারে দুআ করার সংকল্প করিতেন তখন তাতে এ দুআ পড়তেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪৮]

৬৭৩৪ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ দুআ পাঠ করিতেন :

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণঃ রব্বনা- আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাও ওয়াফিল আ-খিরতি হাসানাতাও ওয়াকিনা- আযা-বান্ না-র। (অর্থাৎ- হে আমাদের রব! আমাদের পার্থিব জীবনে কল্যাণ দান করো, আখিরাতে কল্যাণ দান করো। আর জাহান্নামের শাস্তি হইতে আমাদের বাঁচাও)।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৪৯]

১০. অধ্যায়ঃ তাহলীল [ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ বলা], তাসবীহ্ [সুবহা-নাল্লা-হ বলা] ও দুআর ফযিলত

৬৭৩৫ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়্যিন কদীর ( অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই; তাহাঁরই রাজত্ব, তাহাঁরই যাবতীয় প্রশংসা; তিনিই সব বিষয়ের উপর শক্তিধর)

যে লোক এ দুআ প্রতিদিনে একশ বার পাঠ করে সে দশজন গোলামমুক্ত করার পুণ্য অর্জন হয়, তার [আমালনামায়] একশ নেকী লেখা হয় এবং তার হইতে একশ পাপ মিটিয়ে দেয়া হয়। আর তা ঐ দিন বিকাল পর্যন্ত শাইতান [তার কুমন্ত্রণা] হইতে তার জন্যে রক্ষাকারী হয়ে যায়। সেদিন সে যা পুণ্য অর্জন করেছে তার চেয়ে বেশি পুণ্যবান কেউ হইবে না। তবে কেউ তার চাইতে বেশি আমাল করলে তার কথা আলাদা। আর যে লোক দিনে একশ বার

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হাম্দিহী (অর্থাৎ- আমি আল্লাহর সপ্রশংসা সহ তার পরিবত্রতা বর্ণনা করছি)

পাঠ করিবে, তার সমস্ত পাপ মিটিয়ে দেয়া হইবে, যদি ও তা সমুদ্রের ফেনার সম পরিমাণ হয়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫০]

৬৭৩৬ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক সকালে ও সন্ধ্যায়

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী, (অর্থাৎ- আল্লাহ পবিত্র ও সমস্ত প্রশংসা তাহাঁরই)

একশ বার পড়ে আখিরাতের দিবসে তার তুলনায় উত্তম আমাল নিয়ে কেউ আসবে না। তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে লোক তার সমান আমাল করে অথবা তার তুলনায় বেশি আমাল করে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫১]

৬৭৩৭ :আমর ইবনি মাইমূন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

যে ব্যক্তি দশবার

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়্যিন কদীর (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মাবূদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব তাহাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাহাঁরই, তিনি-ই সব বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ শক্তিধর)

পাঠ করিবে সে যেন ইসমাঈল [আঃ]-এর বংশের চারজন গোলামকে মুক্তি করে দিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫২]

৬৭৩৮ : সুলাইমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] রাবী ইবনি খুসায়ম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, আমি রাবীকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কার কাছ হইতে তা শুনেছেন? তিনি বলিলেন, আম্‌র ইবনি মাইমূন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে। তিনি বলেন, তখন আমি আম্‌র ইবনি মাইমূন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর নিকট গেলাম এবং বললাম, আপনি কার কাছ হইতে শুনেছেন? তিনি বলেন, [শাবী বলেন] অতঃপর আমি ইবনি লাইলার কাছে গিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কার থেকে শুনেছেন? তিনি বলিলেন, আবু আইয়ূব আল আনসারী [রাদি.] হইতে, তিনি প্রত্যক্ষভাবে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৩]

৬৭৩৯ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুটি কালিমাহ্ জিহ্বার উপর [উচ্চারণে] খুবই হাল্কা, মীযানের পাল্লায় খুবই ভারী, রহ্মান [পরম দয়ালু আল্লাহ]-এর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। তা হলো

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী সুবহা-নাল্ল-হিল আযীম (অর্থাৎ- আমি আল্লাহ তাআলার সমস্ত প্রশংসা, পরিবত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা জ্ঞপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৪]

৬৭৪০ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি বলি-

سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদু লিল্লা-হি ওয়ালা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার (অর্থাৎ- “আল্লাহর পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ভিন্ন কোন মাবূদ নেই, আল্লাহ মহান” পড়া আমার নিকট বেশি প্রিয়- সে সব বিষয়ের চেয়ে, যার উপর সূর্য উদিত হয়।)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৫]

৬৭৪১ : মুসআব ইবনি সাদ [রাদি.] তাহাঁর পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট জনৈক গ্রাম্য লোক এসে বলিল, আমাকে একটি কালাম শিক্ষা দিন, যা আমি নিয়মিত পাঠ করব। তিনি বলিলেন, তুমি বলো-

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহু লা- শারীকা লাহু আল্ল-হু আকবার কাবীরা ওয়াল হামদু লিল্লা-হি কাসীরা সুবহানাল্ল-হি রাব্বিল আ-লামীনা লা- হাওলা ওয়ালা- কুও্ওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল আযীযিল হাকীম (অর্থাৎ- “আল্লাহ ভিন্ন কোন মাবূদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই, আল্লাহ মহান, সবচেয়ে মহান, আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং আমি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ভাল কাজ করার এবং খারাপ কাজ হইতে বিরত থাকার সাধ্য কারো নেই।”)

সে বলিল, এসব তো আমার রবের জন্য। আমার জন্যে কি? তিনি বলিলেন, বলো,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي

আল্লাহুম্মাগফেরলি ওয়ার হামনি ওয়া দিনি ওয়ার জুকনি (হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন)

মূসা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, [আমার মনে হয়] তিনি [আরবী] [আ-ফিনী] “আমাকে মাফ করুন” কথাটি বলেছেন। তবে আমি তাতে সংশয় আছি এবং আমি জানি না। আর ইবনি আবু শাইবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার হাদীসে মূসার উক্তি বর্ণনা করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৬]

৬৭৪২ : আবু মালিক আল আশজাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর পিতার সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন লোক ইসলাম কবূল করলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে এ দুআ বলিতে শিখিয়ে দিতেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي

আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী ওয়ার্হাম্নী ওয়াহ্দিনী ওয়ার্যুক্নী (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৭]

৬৭৪৩ : আবু মালিক আল আশজাঈ-এর পিতার সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষা গ্রহণ করত তখন নবী [সাঃআঃ] তাকে প্রথমে নামাজ আদায়ের শিক্ষা দিতেন। তারপর তিনি তাকে এ কালিমাসমূহ পাঠ করার নির্দেশ দিতেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي

আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্লী ওয়ার্হাম্নী ওয়াহ্দিনী ওয়াআ-ফিনী ওয়ার্যুক্নী (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সুস্থতা দান করুন এবং আমার জীবিকা উপকরণ দান করুন।)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৮]

৬৭৪৪ : আবু মালিক [রাদি.]-এর পিতা সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] থেকে শুনেছেন যে, তাহাঁর নিকট এক লোক এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! আমি যখন আমার প্রতিপালকের নিকট দুআ করব তখন কিভাবে তা প্রকাশ করব? তিনি বলিলেন, তুমি বলো,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي

আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্লী ওয়ার্হাম্নী ওয়াআ-ফিনী ওয়ার্যুক্নী (অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করে দিন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে মাফ করে দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন।”)

আর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ছাড়া সব আঙ্গুল একত্র করে বলিলেন, এ শব্দগুলো তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টাকে একসাথে করে দিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৫৯]

৬৭৪৫ : মুসআব ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা [সাদ] আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে [বসা] ছিলাম। তখন তিনি বলিলেন, তোমাদের মাঝে কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করিতে অপারগ হয়ে যাবে? তখন সেখানে বসে থাকদের মধ্য থেকে এক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করিল, আমাদের কেউ কিবাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করিবে, তিনি বলিলেন, সে একশ তাসবীহ্

سُبْحَانَ اللهِ

[সুবহানাল্ল-হ]

পাঠ করলে তার জন্য এক হাজার পুণ্য লিখিত হইবে এবং তার [আমালনামা হইতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হইবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬০]

১১. অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ ও যিকরের জন্য একত্রিত হওয়ার মর্যাদা

৬৭৪৬ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক কোন ঈমানদারের দুনিয়া থেকে কোন মুসীবাত দূর করে দিবে, আল্লাহ তাআলা বিচার দিবসে তার থেকে মুসীবাত সরিয়ে দিবেন। যে লোক কোন দুঃস্থ লোকের অভাব দূর করিবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়াও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে লোক কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাই-এর সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করিতে থাকেন। যে লোক জ্ঞানার্জনের জন্য রাস্তায় বের হয়, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর গৃহসমূহের কোন একটি গৃহে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে মিলে [কুরআন] অধ্যয়নে লিপ্ত থাকে তখন তাদের উপর শন্তিধারা অবতীর্ণ হয়। রহ্মাত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং ফেরেশ্তাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নিকটবর্তীদের [ফেরেশ্তাগণের] মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন। আর যে লোককে আমালে পিছনে সরিয়ে দিবে তার বংশ [মর্যাদা] তাকে অগ্রসর করে দিবে না। {৭}

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬১] {৭} যে ব্যক্তিকে তার আমালে দূর সরিয়ে রাখে। তাকে তার সমৃদ্ধ বংশ মর্যাদা এগেয়ে নিতে পারবে না। সুতরাং যার আমাল কম সে কখনো অধিক সৎকর্মশীল লোকের মর্যাদায় উন্নীত হইতে পারবে না। সেক্ষেত্রে তার উচিত হইবে যে, স্বল্প আমাল, বাপ-দাদাদের কৃতিত্ব ও বংশমর্যাদার উপর ভরসা না করে সর্বদা নেক আমালে জড়িয়ে থাকা।

৬৭৪৭ : আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ….. আবু মুআবিয়াহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের অবিকল। তবে আবু উসামার হাদীসে “দুঃস্থ লোকের অভাব লাঘব করার” বর্ণনা নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬২]

৬৭৪৮ : আগার আবু মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আবু হুরায়রা্ ও আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] তারা উভয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন জাতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার যিকির করিতে বসলে একদল ফেরেশ্তা তাদেরকে ঘিরে ফেলে এবং রহ্মাত তাদেরকে ঢেকে নেয়। আর তাদের উপর শান্তি নাযিল হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নিকটস্থ ফেরেশ্তাগণের মধ্যে তাদের আলোচনা করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬৩]

৬৭৪৯ : শুবাহ্ [রাদি.] হইতে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

হুবহু হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬৪]

৬৭৫০ : আবু সাঈদ আল খুদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুআবিয়াহ্ [রাদি.] মাসজিদে একটি হাল্কার উদ্দেশে বের হলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, কিসে তোমাদেরকে এখানে বসিয়েছে [তোমরা এখানে বসেছ কেন]? তারা বলিল, আমরা আল্লাহর যিকির করিতে বসেছি। তিনি বলিলেন, আল্লাহর শপথ! এছাড়া আর কোন বিষয় তোমাদেরকে বসায়নি? [তোমরা কি শুধু এ জন্যই বসেছ?] তারা বলিল, আল্লাহর শপথ! এছাড়া অন্য কোন বিষয় আমাদেরকে বসায়নি। তিনি বলিলেন, আমি তোমাদেরকে অপবাদ দেয়ার উদ্দেশে শপথ প্রার্থনা করিনি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর দৃষ্টিতে আমার যে সম্মান ছিল সে অনুযায়ী আমার চেয়ে কম হাদীস বর্ণনাকারী কেউ নেই। একবার রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সহাবাদের একটি হালকার নিকটে গিয়ে বলিলেন, কিসে তোমাদের বসিয়েছে? তারা বলিল, আমরা বসেছি আল্লাহর স্মরণ ও তাহাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। যেহেতু তিনি আমাদেরকে ইসলামের দিকে পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের উপর তিনি ইহসান করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, আল্লাহর শপথ! তোমাদেরকে কি শুধু এ বিষয়েই বসিয়েছে?

তারা বলিল, আল্লাহর শপথ! আমাদেরকে একমাত্র ঐ বিষয় বসিয়েছে। তিনি বলিলেন, আমি তোমাদেরকে অপবাদ দেয়ার জন্যে শপথ করিতে বলিনি; বরং আমার নিকট জিব্রীল [আঃ] এসে আমাকে অবহিত করিয়াছেন যে, আল্লাহ সুবাহাহু ওয়াতাআলা ফেরেশ্তাগণের নিকট তোমাদের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৬৫]

১৩. অধ্যায়ঃ যিকর নিম্নস্বরে করা মুস্তাহাব

৬৭৫৫ : আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবী [সাঃআঃ]-এর সাথে ছিলাম। তখন মানুষেরা উচ্চৈঃস্বরে তাক্বীর পাঠ করিতেছিল। নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ হে মানবজাতি! তোমরা জীবনের উপর সদয় হও। কেননা তোমরা তো কোন বধির অথবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। নিশ্চয়ই তোমরা ডাকছো সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী সত্তাকে যিনি তোমাদের সাথেই আছেন। আবু মূসা [রাদি.] বলেন, আমি তাহাঁর পিছে ছিলাম। তখন আমি বলছিলাম, আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কোন ভাল কাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এবং মন্দ কর্ম থেকে ফিরে আসার সামর্থ্য নেই। তখন তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, হে আবদুল্লাহ ইবনি কায়স! আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের মধ্যে কোন একটি গুপ্তধনের কথা জানিয়ে দিব? আমি বললাম, অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল! অতঃপর তিনি বলিলেন, তুমি বলো, [আরবী] “লা- হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”, অর্থাৎ- আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কারো [ভাল কর্মের দিকে] এগিয়ে যাওয়া এবং [খারাপ কর্ম থেকে] ফিরে আসার সামর্থ্য নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৭০]

৬৭৫৬ : আসিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে তার হুবহু হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৭১]

৬৭৫৭ : আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তারা [সহাবাগণ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে ছিলেন এবং তারা একটি উঁচু টিলায় আরোহণ করতিছিলেন। তিনি বলেন, লোক যখনই কোন টিলার উপরে উঠত তখন উচ্চকণ্ঠে

لاَ إِلَهَ إِلاَ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার” [আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ্ নেই এবং আল্লাহ মহান]

বলত। তিনি [রাবী] বলেন, তখন নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা তো অবশ্যই কোন বধির কিংবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। তিনি বলেন, এরপর নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ হে আবু মূসা অথবা হে আবদুল্লাহ ইবনি কায়স! আমি কি তোমাকে এমন এক কালিমাহ্ সম্পর্কে জানিয়ে দিব না যা জান্নাতের গুপ্তধন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! তা কি? তিনি বলিলেন,

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

লা- হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ (অর্থাৎ- আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কারো ভাল কর্ম করার এবং খারাপ কর্ম থেকে বিরত থাকার সামর্থ্য নেই)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৭২]

৬৭৫৮ : আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট আগমন করিলেন। এরপর তিনি তার হুবহু হাদীস উল্লেখ করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬১৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৭১]

৬৭৫৯ : আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কোন এক যুদ্ধে আমরা রসূল [সাঃআঃ]-এর সাথে ছিলাম। তারপর তিনি আসিম-এর হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৭৪]

৬৭৬০ : আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে কোন এক যুদ্ধাভিযানে ছিলাম। তারপর তিনি সম্পূর্ন হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি তার বর্ণনায় বলেছেন, “ঐ সত্তার শপথ, তোমরা যাকে ডাকছো তিনি তোমাদের উটের গর্দানের চেয়েও অতি নিকটবর্তী।” তবে তার হাদীসে

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

“লা- হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ” কথাটির উল্লেখ নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৭৫]

৬৭৬১ : আবু মূসা আল আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলেছেনঃ আমি কি তোমাকে এমন একটি কালিমাহ্ সম্পর্কে জানিয়ে দিব না যা জান্নাতের গুপ্তধন? কিংবা তিনি বলেছেন, জান্নাতের গুপ্ত ধনসমূহের মধ্য হইতে একটি গুপ্তধনের কথা কি বলব না? তখন আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর তিনি বলিলেন,

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّ

লা- হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ (অর্থাৎ- [আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কারো ভাল কর্ম করার এবং খারাপ কর্ম থেকে ফিরে আসার সামর্থ্য নেই)

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৭৬]

৬৭৬২ : আবু বাক্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট বলিলেন, আপনি আমাকে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দিন, যা দ্বারা আমি আমার সলাতে দুআ করব। তিনি বলিলেন, তুমি বলো,

اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَبِيرًا

আল্ল-হুম্মা ইন্নী যলাম্তু নাফ্সী যুলমান কাবীরা (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর বড় যুল্ম করেছি)

কুতাইবাহ্ [রাদি.] বলেন,

كَثِيرًا – وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

কাসীরা, ওয়ালা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা- আন্তা ফাগফির্লী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ার হামনী ইন্নাকা আন্তাল গফূরুর রহীম (অর্থাৎ- অনেক। আপনি ছাড়া কেউ পাপরাশি মার্জনা করিতে পারে না। সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে মাফ করুন এবং আমার উপর দয়া করুন। অবশ্যই আপনি একমাত্র ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু )

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৭৭]

৬৭৬৩ : আবুল খায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র ইবনিল আস [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন যে, আবু বকর সিদ্দীক [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! আপনি আমাকে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দিন যার সাহায্যে আমি আমার সলাতে ও গৃহে নিয়মিত দুআ পড়তে পারি। তারপর তিনি লায়স-এর হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তাছাড়া হাদীসে রয়েছে যে, তিনি [আরবী] বলেছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬২৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৭৮]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply