মহান আল্লাহর বাণী : “ যারা ঈমান এনেছে , আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত

মহান আল্লাহর বাণী : “ যারা ঈমান এনেছে , আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি”

মহান আল্লাহর বাণী : “ যারা ঈমান এনেছে , আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি” >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী : “ যারা ঈমান এনেছে , আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি”

৭৪১৩ আবূ হুরাইরাহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) হতে কয়েকটি হাদিস আলোচনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদিস হচ্ছে এই যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ বানী ইসরাঈলদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সময় সাজ্দাহ্বনতঃ হয়ে প্রবেশ কর এবং বলো ……… আমাদেরকে ক্ষমা কর। তাহলে আমি তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিব। কিন্তু তারা এ কথার পরিবর্তন করতঃ পাছার উপর ভর করে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে দরজা দিয়ে প্রবেশ করল এবং (ক্ষমা মার্জনার স্থলে) ……… অর্থাৎ- যবের শীষে দানা দাও বলতে থাকল।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪২, ইসলামিক সেন্টার ৭২৯৭)

৭৪১৪ আনাস ইবনি মালিক (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইন্তিকালের পূর্বে ও ইন্তিকাল পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর উপর ধারাবাহিকাভাবে ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। যেদিন রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইন্তিকাল করেন সেদিনও তার প্রতি অনেক ওয়াহী অবতীর্ণ হয়।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৩, ইসলামিক সেন্টার ৭২৯৮)

৭৪১৫ তারিক ইবনি শিহাব (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইয়াহূদী লোকেরা উমার (রাঃ)-কে বলল, তোমরা এমন একটি আয়াত পাঠ করে থাকো তা যদি আমাদের সম্বন্ধে অবতীর্ণ হত, তবে এ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসবের দিন হিসেবে পালন করতাম। উমার (রাঃ) বললেন, আমি জানি, ঐ আয়াতটি কখন, কোথায় ও কোন্ দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আর যখন তা অবতীর্ণ হয়েছিল তখন রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কোথায় অবস্থান করছিলেন তাও জানি। আয়াতটি আরাফার দিন অবতীর্ণ হয়েছিল, রসূলুল্লাহ(সাঃআঃ) তখন আরাফাতেই অবস্থান করছিলেন। রাবী সুফ্ইয়ান (রঃ) বলেন,

 الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي

“আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং আমার নিআমাত তোমাদের প্রতি পূর্ণ করে দিলাম”- (সূরা আল মায়িদাহ ৫:৩)। এ আয়াতটি যেদিন অবতীর্ণ হয়েছিল তা জুমুআর দিন ছিল কি-না, এ বিষয়ে আমি সন্দিহান।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৪, ইসলামিক সেন্টার ৭২৯৯)

৭৪১৬ তারিক ইবনি শিহাব (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহূদী উমার (রাঃ)-কে বলল,

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا‏

অর্থাৎ “আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম”- (সূরা আল মায়িদাহ ৫:৩) এ আয়াতটি আমাদের ইয়াহূদী সম্প্রদায় সম্বন্ধে অবতীর্ণ হলে এ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসব দিবস হিসেবে পালন করতাম। আমরা জানি, কোন্ দিন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হইয়াছে। রাবী বলেন, এ কথা শুনে উমার (রাঃ) বললেন, কোন্ দিন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হইয়াছে, কোন্ সময়ে অবতীর্ণ হইয়াছে এবং এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কোথায় ছিলেন, তাও আমি সম্যক অবগতি আছি। এ আয়াতটি মুযদালিফার রাতে অবতীর্ণ হইয়াছে। তখন আমরা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সাথে আরাফার মাঠে ছিলাম।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৫, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০০)

৭৪১৭ তারিক ইবনি শিহাব (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহূদী ব্যক্তি উমার (রাঃ) –এর কাছে এসে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনাদের কিতাবের মধ্যে এমন একটি আয়াত আপনারা তিলওয়াত করে থাকেন। যদি তা আমাদের ইয়াহূদী সম্প্রদায় সম্পর্কে অবতীর্ণ হত তাহলে ঐ দিনটিকে আমরা আনন্দোৎসব দিবস হিসেবে পালন করতাম। উমার (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, আয়াতটি কি? সে বলল, আয়াতটি হলো,

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا

অর্থাৎ “আজ আমি তোমাদের দীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম”-(সূরা আল মায়িদাহ ৫ :৩)। এ কথা শুনে উমার (রাঃ) বললেন, যে দিন, যে স্থানে আয়াতটি অবতীর্ণ হইয়াছে অবশ্যই আমি তা জানি। আয়াতটি জুমুআর দিন আরাফাতের মাঠে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৬, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০১)

৭৪১৮ উরওয়াহ ইবনি যুবায়র (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আয়িশা (রাঃ)-কে মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করলেনঃ “তোমরা যদি ভয় করো যে, ইয়াতীমদের মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করবে স্ত্রীলোকদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয়। (সূরা আন্ নিসার) দু , তিন অথবা চার” –এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, হে ভাগ্নে! যেসব ইয়াতীম মেয়েরা তাদের তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবকদের সম্পদের অংশীদার হত তার সম্পদের লালসা ও রূপ-যৌবনের সৌন্দর্যের প্রতি উক্ত অভিভাবক তাকে অন্যরা যে পরিমান মুহরানা দিয়ে বিয়ে করতে প্রস্তুত ইনসাফের নীতি অনুযায়ী উক্ত পরিমান মুহরানা দিয়ে বিয়ে করতে চাইতো না। এ আয়াতে তাদেরকে ঐসব ইয়াতীমদের বিয়ে করতে বারণ করা হইয়াছে। তবে তাদের মুহরানা প্রদানের ব্যাপারে সর্বোত্তম রীতি-নীতি অনুসরণ করলে তা স্বতন্ত্র কথা। অন্যথায় তাদের পছন্দমত অন্য মেয়েদের বিয়ে করতে নির্দেশ দেয়া হইয়াছে।

উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর কতিপয় লোক বিষয়টি সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ arbi “এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন এবং ইয়াতীম নারী সম্পর্কে-যাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান করো না অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে চাও ও নিপীড়িত শিশুদের বিষয়ে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায়বিচার সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শুনানো হয়, তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। আর যে সৎকাজ তোমরা করো আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত”- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১২৭)।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী- (আরবী)- এর দ্বারা প্রথম আয়াতটিকে বুঝানো হইয়াছে, যার মধ্যে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা যদি আশঙ্কা করো যে ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তবে বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে দু , তিন অথবা চার।

আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী- (আরবী)- এর মানে হচ্ছে, অর্থ-সম্পদ ও রূপ-যৌবন কম থাকার কারণে তোমাদের কেউ ইয়াতীম মেয়েদের বিবাহ করতে অপছন্দ করলে-তাদেরকে অর্থ সম্পদ ও রূপ যৌবনবতী ইয়াতীম স্ত্রীলোককে পছন্দ হলেও বিয়ে করতে বারণ করা হইয়াছে। তবে অর্থ-সম্পদ ও রূপ-যৌবন না থাকার কারণে পছন্দনীয় না হলেও যদি ইনসাফের ভিত্তিতে মুহরানা পরিশোধ করে তবে বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হইয়াছে।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৭, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০২)

৭৪১৯ উরওয়াহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আয়িশা (রাঃ) –কে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেনঃ

‏وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ، تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى

“তোমরা যদি শঙ্কিত হও যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না”- (সূরা আন্ নিসা ৪:৩) এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। অতঃপর রাবী ইউনু্সের সানাদে যুহরী (রঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসের শেষাংশে তিনি (আরবী)-এর পরিবর্তে (আরবী) অর্থাৎ “যখন তারা সামান্য সম্পদ ও কম সৌন্দর্যের অধিকারী হয় তখন আর তাদের তত্ত্বাবধায়করা এদেরকে বিয়ে করতে সম্মত হয়না”- কথাটি বর্ণনা করেছেন।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৮, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০৩)

৭৪২০ আয়িশাহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার বাণী,

 وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى

“তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না”- (সূরা আন্ নিসা ৪:৩) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ পুরুষ সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছে; যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে ইয়াতীম মহিলা এবং এ পুরুষই হচ্ছে তাঁর ওলী ও অভিভাবক। আর এ মেয়েটির আছে কিছু ধন-সম্পদ। কিন্তু তার পক্ষ সমর্থন করার জন্য সে ব্যতীত আর কেউই নেই। ওলী এ ধরনের মেয়েকে তার সম্পদের উদ্দেশে বিয়ে করে তাকে কষ্ট দিতে এবং তার সাথে নিষ্ঠুরভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে না। এ ব্যক্তি সম্পর্কেই আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ

 إِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ‏

তোমরা যদি শঙ্কা করো যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না তবে বিবাহ করবে নারীদের মাঝে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় দু, তিন অথবা চার। অর্থাৎ- যে মহিলাদেরকে আমি তোমাদের জন্য হালাল করেছি তাদেরকে বিবাহ করো এবং যে ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তুমি নিষ্ঠুর আচরণ করছ তাদের থেকে দূরে থাকো।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৪৯, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০৪)

৭৪২১ আয়িশাহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বানীঃ

 وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ فِي يَتَامَى النِّسَاءِ اللاَّتِي لاَ تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ

“এবং ইয়াতীম মেয়ে সম্পর্কে যাদের অধিকার তোমরা দান করো না, অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে চাও ও অসহায় শিশুদের বিষয়ে এবং ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায় বিচার সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শুনানো হয়, তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়”-(সূরা আন্ নিসা ৪:১২৭) বিষয়ে বলেন, এ আয়াতটি ঐ ইয়াতীম মেয়েদের সম্বন্ধে নাযিল হইয়াছে, যে এমন এক পুরুষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যার সাথে সে সম্পদের মধ্যে শারীক আছে। কিন্তু সে তাকে বিয়ে করা অপছন্দ করছে এবং অপর কোন লোকের সঙ্গে তার বিয়ে হোক এটাও অপছন্দ করছে এ আশঙ্কায় যে, সে তার সম্পদের শারীক হয়ে যাবে। পরিশেষে সে তাকে এমনিই ছেড়ে রাখছে; নিজেও তাকে বিবাহ করছে না এবং অন্য কারো কাছে বিবাহও দিচ্ছে না।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫০, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০৫)

৭৪২২ আয়িশাহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার বাণী:

 ويَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ‏

“এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের সম্পর্কে বিধান জানতে চায়, বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের ব্যাপারে বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন”- (সূরা আন্ নিসা ৪:১২৭) এর ব্যাখ্যায় বলেন, আয়াতটি ঐ ইয়াতীম মেয়েদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হইয়াছে, যে রয়েছে এমন এক পুরুষের তত্ত্বাবধানে যার সম্পদে এমনকি খেজুর বাগানেও উক্ত নারী অংশীদার। সে তাকে বিয়ে করতেও আগ্রহী নয় এবং অন্যের কাছে বিয়ে দিতেও আগ্রহী নয়। কেননা তাহলে সে তার সম্পদের শারীক হয়ে যায়। ফলে সে তাকে বিয়ের ব্যবস্থা না করে এমনিই ফেলে রাখে।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫১, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০৬)

৭৪২৩ আয়িশাহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী: “

‏ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ

এবং যে গরীব সে যেন ন্যায়ানুগ পন্থায় আহার করে”- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৬)।

তিনি বলেন, এ আয়াতটি ইয়াতীমের ধন-সম্পদের ঐ তত্ত্বাবধায়ক সম্বন্ধে অবতীর্ণ হইয়াছে, যে তার সম্পদের তত্ত্বাবধান করছে এবং সেটা রক্ষণাবেক্ষণ করছে। যদি তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি গরীব হয় তবে সে ন্যায়ানুগ পরিমাণ তা হতে পারিশ্রমিক হিসেবে আহার করতে পারবে।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫২, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০৭)

৭৪২৪ য়িশাহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বানীঃ

 وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ

“যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত থাকে এবং যে গরীব সে যেন ন্যায়ানুগ পরিমাণ ভোগ করে”- (সূরা আন্ নিসা ৪:৬) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তির ব্যাপারে নাযিল হইয়াছে, সে যদি নিতান্তই গরীব হয় তবে সে যেন তার সম্পদ হতে ন্যায়ানুগ পন্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক গ্রহণ করে।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৩, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০৮)

৭৪২৫ হিশাম (রঃ)-এর সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

এ সানাদে অবিকল হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৪, ইসলামিক সেন্টার ৭৩০৯)

৭৪২৬ আয়িশাহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার বাণী:

 إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ

“যখন তারা তোমাদের (বিপক্ষে) উপর হতে ও নীচ হতে সমাগত হয়েছিল- (ভয়ের কারণে) তোমাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে গিয়েছিল, তোমাদের প্রাণ হয়েছিল কন্ঠাগত এবং তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে নানা রকম বিরূপ ধারণা পোষণ করছিলে”- (সূরা আল আহযাব ৩৩:১০)এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি খন্দক যুদ্ধের দিন অবতীর্ণ হইয়াছে।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৫, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১০)

৭৪২৭ আইশাহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর বাণীঃ

 وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا

“কোন সহধর্মিণী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে স্বামী-স্ত্রী যদি সমঝোতা করতে চায় তাদের কোন দোষ নেই এবং সমঝোতা (সন্ধি) সর্বাবস্থায়ই উত্তম”- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১২৮) তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ মহিলাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হইয়াছে, যে এমন একজন পুরুষের কাছে ছিল, যার সাহচর্যে সে দীর্ঘদিন ছিল। এখন সে তাকে তালাক দিতে চায়। আর মহিলা বলে, আমাকে তালাক দিও না বরং আমাকে তোমার সাথে থাকতে দাও। তবে তোমার জন্য আমার পক্ষ হতে অন্য স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি থাকল। এ প্রসঙ্গে উপরোল্লিখিত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৬, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১১)

৭৪২৮ আয়িশাহ (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর বাণীঃ

‏ وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا

“কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর অসদাচরণ ও উপেক্ষার আশঙ্কা করে তবে তারা আপোষ-মীমাংসা করতে চাইলে তাদের কোন দোষ নেই বরং সমঝোতাই (সন্ধিই) উত্তম”- (সূরা আন্ নিসা ৪:১২৮) তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ মহিলা সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছে, যে এমন একজন পুরুষের কাছে ছিল, সম্ভবতঃ সে তার প্রতি ভালবাসা ও আকর্ষণ অনুভব করে না। অথচ সে তার দীর্ঘ সাহচর্যে ছিল এবং তার সন্তান-সন্ততিও রয়েছে। ফলে সে তার স্বামী হতে পৃথক হওয়া অপছন্দ করছে। তখন উক্ত মহিলা তাকে বলছে, তুমি আমার পক্ষ হতে মুক্ত (অন্য স্ত্রী গ্রহণে অনুমতি থাকল)।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৭, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১২)

৭৪২৯ উরওয়াহ (রাদি) তার পিতা হইতে বর্ণিতঃ

তিনি (উরওয়াহ) বলেন, আয়িশাহ (রাদি) আমাকে বলেছেনঃ হে ভাগ্নে! লোকদেরকে নবী (সাঃআঃ)-এর সহাবাদের জন্য মাফ চাইতে আদেশ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তাদের গাল-মন্দ করেছে।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৮, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১৩)

৭৪৩০ হিশাম (রঃ)-এর সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

এ সানাদে অবিকল হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৫৯, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১৪)

৭৪৩১ সাঈদ ইবনি জুবায়র (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কুফাবাসী লোকেরা মহান আল্লাহর এ বাণীকে কেন্দ্র করে মতভেদে লিপ্ত হলঃ

وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ

“কেউ স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে কোন মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লানত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করবেন”- (সূরা আন্ নাস ৪:৯৩) এ আয়াত সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করলে আমি ইবনি আব্বাস (রাদি)-এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত শেষ পর্যায়ে নাযিল হইয়াছে। সুতরাং অন্য কোন আয়াত সেটাকে মানসুখ করতে পারেনি।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬০, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১৫)

৭৪৩২ শুবাহ (র:) থেকে এ সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

অবিকল হাদিস বর্ণনা।

কিন্তু মুহাম্মাদ ইবনি জাফর-এর বর্ণনায় আছে —আর-বী—। ঐ আয়াত সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।

আর নায্র-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে —আরবী—। নিশ্চয় ঐ আয়াত সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬১, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১৬)

৭৪৩৩ সাঈদ ইবনি জুবায়র (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবদুর রহ্মান ইবনি আবযা আমাকে নিম্নোক্ত দুটি আয়াতের ব্যাপারে ইবনি আব্বাস (রাদি)-কে জিজ্ঞেস করার জন্য আদেশ দিলেন। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো ,

 وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا‏

“কেউ স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করলে”-(সূরা আন্ নিসা ৪:৯৩) এর হুকুম সম্বন্ধে আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, কোন আয়াত এ আয়াতটিকে রহিত করেনি। আর দ্বিতীয় আয়াতটি হচ্ছে,

وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ

“এবং তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন মাবূদকে আহ্বান করে না। আল্লাহ যার হত্যা বারণ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না”- (সূরা আল ফুরকান ২৫:৬৮)। এ সম্পর্কে আমি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, এ আয়াতটি মুশরিকদের বিষয়ে নাযিল হয়েছিল।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬২, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১৭)

৭৪৩৪ ইবনি আব্বাস (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, arbi

“এবং তারা আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদকে ডাকে না। আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামাতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে স্থায়ী হবে লাঞ্ছিত অবস্থায়”- (সূরা আল ফুরকান ২৫:৬৮)। উক্ত আয়াতটি মক্কায় অবতীর্ণ হবার পর মুশরিকরা বলতে আরম্ভ করল যে, ইসলাম গ্রহণ করলে আমাদের কি উপকার হবে, আমরা তো আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করেছি, যাদেরকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাদের হত্যা করেছি এবং অশ্লীল কাজ-কর্মে লিপ্ত হয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন, “তারা নয় যারা তাওবাহ করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আল্লাহ তাদের পাপরাশি পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” – (সূরা আল ফুরকান ২৫:৭০)। অতঃপর ইবনি আব্বাস (রাদি) বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল এবং ইসলাম সম্বন্ধে যথাযথ উপলব্ধি অর্জন করল তারপর হত্যা করল, তার তাওবাহ কবূলযোগ্য নয়।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৩, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১৮)

৭৪৩৫ সাঈদ ইবনি জুবায়র (রাদি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি আব্বাস (রাদি)-কে বললাম, যে লোক স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার তাওবাহ গ্রহণযোগ্য হবে কি? তিনি বললেন, না গ্রহণযোগ্য হবে না। এরপর আমি তার কাছে সূরাহ আল ফুরকানে বর্ণিত উল্লেখিত আয়াতটি পাঠ করলাম,

‏ وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ‏

“যারা আল্লাহর সঙ্গে কোন মাবূদকে ডাকে না। আল্লাহ যার হত্যা বারণ করেছেন যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যাভিচারও করে না। যে এগুলো করে যে শাস্তি ভোগ করবে” – (সূরা আল ফুরকান ২৫:৬৮)। তিনি বললেন, এটা তো হচ্ছে মাক্কী আয়াত। মাদানী আয়াত সেটাকে মানসুখ করে দিয়েছে। আর তা হলো, “

‏ وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا

যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার আযাব জাহান্নাম” –(সূরাহ আন্ নিসা ৪:৯৬)

কিন্তু ইবনি হাশিম-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, অতঃপর আমি তার কাছে সূরা আল ফুরকানে উল্লেখিত –

 إِلاَّ مَنْ تَابَ

(সূরা আল ফুরকান ২৫:৭০) আয়াতটি তিলাওয়াত করলাম।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৪, ইসলামিক সেন্টার ৭৩১৯)

৭৪৩৬ উবাইদুল্লাহ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উতবাহ্‌ (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাকে ইবনি আব্বাস (রাদি) বললেন, তোমার কি জানা আছে? হারূন (রঃ) বলেন, তিনি বলেছেন, কুরআনের সর্বশেষ নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা কোনটি? আমি বললাম, হ্যাঁ, তা হলো

 إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ‏

। তিনি বললেন, তুমি সত্য বলেছ। ইবনি আবূ শাইবার বর্ণনায় —আরবী— (সর্বশেষ)-এর পরিবর্তে —আরবী— কথাটি উল্লেখ রয়েছে।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৫, ইসলামিক সেন্টার ৭৩২০)

৭৪৩৭ আবূ উমায়স (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

উপরের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তিনি তার বর্ণনায় — বলেছেন। আর তিনি ইবনি সুহায়ল না বলে শুধু আবদুল মাজীদ বাক্যটি উল্লেখ করেছেন।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৬, ই.সে ৭৩২১)

৭৪৩৮ ইবনি আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক লোক একটি ছোট্ট বকরীর পাল চরাচ্ছিল, এমতাবস্থায় কতক মুসলিম তার কাছে আগমন করলে সে বলল, আসসালামু আলাকুম। এতদসত্ত্বেও তারা তাকে পাকড়াও করল। অতঃপর তারা তাকে হত্যা করতঃ তার এ ছোট্ট বকরীর পালটি নিয়ে নিল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হলো :

 وَلاَ تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَمَ لَسْتَ مُؤْمِنًا‏

“যারা তোমাদেরকে সালাম করে, ইহ-জীবনের সম্পদের লালসায় তাকে বলো না, তুমি ঈমানদার নও”-(সুবাহু আননিসা ৪৯৪)। ইবনি আব্বাস (রাঃ) — বলেছেন, তবে কেউ কেউ – আলিফ ছাড়া পাঠ করেছেন।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৭, ইসলামিক সেন্টার ৭৩২২)

৭৪৩৯ বারা (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আনসারী লোকেরা হাজ্জ সমাপ্তি শেষে বাড়ী ফেরার পর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে পেছন দিক থেকে ঘরে প্রবেশ করত। অতঃপর এক আনসারী সহাবা দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে এ ব্যাপারে তাকে কিছু (ভাল-মন্দ) বলা হলে

‏وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِهَا

“পেছন দিক দিয়ে তোমাদের বাড়ীতে ঢুকাতে কোন সাওয়াব নেই” (সূরা আল বাকারাহ ২ : ১৮৯) এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলো।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৮, ইসলামিক সেন্টার ৭৩২৩)

৭৪৪০ ইবনি মাসউদ (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাদের ইসলাম গ্রহণ করা ও নিম্নোক্ত আয়াত তথা-

 أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ

“যারা ঈমান আনে আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর কি ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি “- (সূরাহ আল হাদীদ ৫৭ : ১৬) এর দ্বারা আমাদেরকে উপহাস করার মধ্যে চার বছরের ব্যবধান ছিল।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭২৬৯,ইসলামিক সেন্টার ৭৩২৪)

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply