যাকাত । যাকাত প্রদান ওয়াজিব হওয়ার দলীল

যাকাত । যাকাত প্রদান ওয়াজিব হওয়ার দলীল

যাকাত । যাকাত প্রদান ওয়াজিব হওয়ার দলীল  >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় ০ঃ যাকাত

পরিচ্ছেদ ০১. যাকাত প্রদান ওয়াজিব হওয়ার দলীল

৫৯৯ – ইবনু`আব্বাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মু’আয [রাঃআঃ]-কে ইয়ামান দেশে [শাসক হিসেবে] প্রেরণ করেন। অতঃপর পূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছে, আল্লাহ্‌ তা‘য়ালা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সদাকাহ [যাকাত] ফরয করিয়াছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহিত হইবে আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হইবে। {৬৩৫} শব্দ বিন্যাশ বুখারীর। {৬৩৬}

{৬৩৫} বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, নাবী [সাঃআঃ] মু’আয [রাঃআঃ]-কে ইয়ামান দেশে [শাসক হিসেবে] প্রেরণ করেন। অতঃপর বলিলেন, সেখানকার অধিবাসীদেরকে এ সাক্ষ্য দানের প্রতি আহবান করিবে যে, আল্লাহ্‌ ব্যতিত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। যদি সেটা তারা মেনে নেয় তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সদাকাহ [যাকাত] ফারয করিয়াছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহিত হইবে আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হইবে। যদি সেটা তারা মেনে নেয় তবে তুমি তাদের কেবল ভাল ভাল সম্পদ যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা থেকে সাবধান থেকো। আর মাযলুমের ফরিয়াদকে [রাঃআঃ] য় করিবে। কেননা, তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।

{৬৩৬} বুখারী ১৪৫৮, ১৪৯৬, ২৪৪৮, মুসলিম ১৯, তিরমিজি ৬২৫, ২০১৪, নাসায়ি হাদিস ২৪২৫, আবূ দাউদ ১৫৮৪, ইবনু মাজাহ ১৭৮৩, আহমাদ ২০৭২, দারেমী ১৬১৪। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০২. উট ও ছাগলের যাকাত

৬০০ – আনাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

আবূ বাকর [রাঃআঃ] আনাস [রাঃআঃ]-এর কাছে রসূল [সাঃআঃ]-কে আল্লাহ্‌ তা’আলা যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন সে সম্পর্কে লিখে জানালেন, যা আল্লাহ্‌ তা’আলা তাহাঁর রসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। তা হচ্ছে, চব্বিশ ও তার চেয়ে কম সংখ্যক উটের যাকাত বকরী দ্বারা আদায় করা হইবে। প্রতিটি পাঁচটি উটে একটি বকরী এবং উটের সংখ্যা পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত হলে একটি মাদী বিনতে মাখায। {৬৩৭} ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি মাদী বিনতে লাবূন। {৬৩৮} ছয়চল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য একটি হিককা {৬৩৯}, একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযা’আ {৬৪০}, ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দু’টি বিনতে লাবূন, একানব্বইটি হতে একশ’ বিশ পর্যন্ত ষাঁড়ের পালনযোগ্য দু’টি হিককা আর একশ’ বিশের অধিক হলে [অতিরিক্ত] প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে বিনতে লাবূন এবং [অতিরিক্ত] প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি করে হিককা। যার চারটির বেশি উট নেই, সেগুলোর উপর কোন যাকাত নেই, তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে দিতে পারবে। {৬৪১}

আর বকরীর যাকাত সম্পর্কেঃ গৃহপালিত বকরী চল্লিশটি হতে একশ’ বিশটি পর্যন্ত একটি বকরী। এর বেশি হলে দু’শটি পর্যন্ত দু’টি বকরী। দু’শর অধিক হলে তিনশ’ পর্যন্ত তিনটি বকরী। তিনশ’র অধিক হলে প্রতি একশ’-তে একটি করে বকরী। কারো গৃহপালিত বকরীর সংখ্যা চল্লিশ হতে একটিও কম হলে তার উপর যাকাত নেই। তবে স্বেচ্ছায় দান করলে তা করিতে পারে।

যাকাতের [রাঃআঃ] য়ে বিচ্ছিন্ন পশুকে [পালের বকরীকে] একত্র করা যাবে না আর [যাকাত না দেয়ার বা কম দেয়ার উদ্দেশে] একত্রিত দলকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। পশুপালের শরীকদের মধ্যে হলে নায্যভাবে যাকাত আদায়ের হিসাব আপোষে মিল করে নিবে। যাকাতে দাঁত পড়া {৬৪২}, বয়স্ক পশু দেয়া চলবে না। ত্রুটিযুক্ত পশু ও পাঠা যাকাত দেয়া যাবে না, তবে যদি সদাকাহ গ্রহণকারী সেচ্ছায় নেয় তবে ভিন্ন কথা। চাঁদির জন্য ওশরের চারভাগের একভাগ [অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের একভাগ]। যদি একশত নব্বই দিরহাম বা তার কম থাকে তবে-তবে যাকাত দিতে হইবে না, তবে মালিক ইচ্ছা করে দিতে পারে।

যদি কারো উট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যাকে একটি জাযা’আহ [পঞ্চম বর্ষে পতিত উটনী] সদাকাহ দিতে হইবে, আর যদি তার নিকট না থাকে বরং হিক্কা থাকে তাহলে তার নিকট হতে হিক্কা নেওয়া হইবে আর তার সাথে দুটি ছাগল গ্রহণ করা হইবে। যদি কারো উট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যাকে একটি হিক্কা [চতুর্থ বর্ষে পতিত উটনী] সদাকাহ দিতে হইবে, অথচ যদি তার নিকট না থাকে বরং জাযা’আহ থাকে তাহলে তার নিকট হতে জাযা’আহ নেয়া হইবে আর আদায়কারী তাকে কুড়িটি দিরহাম অথবা দুটি ছাগল ফিরিয়ে দিবে। {৬৪৩}

{৬৩৭} যে উটনীর বয়স এক বছর পূর্ণ হয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে। {৬৩৮} যে উটনীর দু’বছর পূর্ণ হয়ে তৃতীয় বছরে পড়েছে। {৬৩৯} হিক্কাহ বলা হয় এমন উটনীকে যার তিন বছর পূর্ণ হয়ে চতুর্থ বছরে উপনীত হয়েছে। {৬৪০} যে উটনীর চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে তাকে “জাযায়া” বলা হয়। {৬৪১} এর অর্থ হচ্ছেঃ এখানে এর দ্বারা যাকাতদাতাকে বুঝানো হচ্ছে। {৬৪২} শব্দের অর্থ যার দাঁত পড়ে যায়। অর্থাৎ শেষ বয়সে উপনীত হওয়া জন্তু যাকাতের মাল হিসেবে দেয়া যাবে না। {৬৪৩} বুখারী ১৪৪৮, ১৪৫০, নাসায়ি হাদিস ২৪৪৭, ২৪৫৫, ৫২০১, আবূ দাউদ ১৫৬৭, ইবনু মাজাহ ১৮০০, আহমাদ ১১৬৭৮, ১২২২৬, ১২২০৯। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৩. গরুর যাকাত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

৬০১ – মু’আয্ বিন জাবাল থেকে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাঁকে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁকে প্রতি ৩০টি গরুর জন্য ১টি তাবী’ [১ বছর বয়সের বকনা বাছুর] গ্রহণ করিতে আর প্রতি ৪০টি গরুতে একটি মুসিন্না বা দু-বছরের গাভী অথবা বলদ গ্রহণ করিতে বলেছেন। আর প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক অমুসলিমের নিকট হতে এক দিনার বা তার সমমূল্যের মু’আফিরী কাপড় নিতে আদেশ দিয়েছেন। -পাঁচজনে [আহমাদ, আবূ দাউদ, নাসায়ি হাদিস, তিরমিজি, ইবনু মাজাহ], শব্দ বিন্যাস আহমাদের, তিরমিজি এটিকে হাসান বলেছেন এবং এর মাওসুল হওয়ার ব্যাপারে মতভেদের কথা ইঙ্গিত করিয়াছেন; ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ্ বলেছেন। {৬৪৪}

{৬৪৪} ইবনু মাজাহ ২০২৭, তিরমিজি ৬২৩, নাসায়ি হাদিস ২৪৫০, ২৪৫১, ২৪৫৩, ইবনু মাজাহ ১৮০৩, আহমাদ ২১৫০৫, ২১৫২২, ২১৫৭৯, মুওয়াত্তা মালেক ৫৯৮, দারেমী ১৬২৩, ১৬২৪।হাদিসের তাহকীকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৪. যাকাত গ্রহণের জন্য দূত পাঠানো শরীয়তসম্মত

৬০২ – ‘আমর বিন শুয়াইব তাহাঁর পিতার মাধ্যমে তাহাঁর দাদা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি [তার দাদা] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন-“মুসলমানের [পশু সম্পদের] সদাকাহ আদায় করা হইবে পশুর পানি পানের স্থান থেকে। {৬৪৫}

{৬৪৫} আহমাদ ৬৭৪১, ৬৭৪২, ৬৮৯৩, তিরমিজি ১১৮১, নাসায়ি হাদিস ৩৭৯৪, আবূ দাউদ ২১৯০, ইবনু মাজাহ ২০৪৭। হাদিসের তাহকীকঃ হাসান হাদিস

৬০৩ – বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

আর আবূ দাউদে আছে “মুসলমানদের যাকাত তাদের ঘর থেকেই গ্রহণ করা হইবে। {৬৪৬}

{৬৪৬} আবূ দাউদ ১৫৯১, আহমাদ ৬৬৯১, ৬৯৭৩, ৫৯৮৫। হাদিসের তাহকীকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৫. গোলাম ও ঘোড়ার যাকাতের বিধান

৬০৪ – আবূ হুরাইয়া [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মুসলিমের উপর তাহাঁর গোলাম ও ঘোড়ার কোন যাকাত নেই। {৬৪৭}

{৬৪৭} বুখারী ১৪৬৩, ১৪৬৪, মুসলিম ৬১৯, ৯৮২, তিরমিজি ৬২৮, নাসায়ি হাদিস ২৪৬৭, ২৪৬৮, আবূ দাউদ ১৫৯৪, ১৫৯৫, ইবনু মাজাহ ১৮১২, আহমাদ ৭২৫৩, ৭২৪৯, ৭৪০৫, দারেমী ১৬৩২। মুসলিমে আছেঃ সদাকাতুল্ ফিতর ব্যতিত দাসের কোন সদাকাহ [যাকাত] নেই। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৬. যাকাত অস্বীকারকারীর বিধান

৬০৫ – বাহয ইবনু হাকীম তাহাঁর পিতার মাধ্যমে তাহাঁর দাদা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, মাঠে প্রতিপালিত প্রতি ৪০টি উটের জন্য একটি দু’বছরের উটনী [বিনতু লাবুন]। যাকাতের হিসাবের সময় কোন উট পৃথক করা যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় যাকাত দিবে তাহাঁর জন্যে রয়েছে নেকী। আর যে অস্বীকৃতি জানাবে তার নিকট হতে আমরা অবশ্যই তা আদায় করে নেব এবং তার সম্পদের একটি বিশেষ অংশও নিব যা আমাদের প্রতিপালকের সম্পদ বলে পরিগণিত। মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর বংশধরের জন্য সে সম্পদ হতে বিন্দুমাত্রও হালাল করা হয়নি। আহমাদ, আবূ দাউদ ও নাসায়ি হাদিস। হাকীম একে সহিহ বলেছেন। শাফি’ঈ [রহঃ] বিষয়টিকে প্রামাণিকতা ভিত্তিতে তার পক্ষাবলম্বন করবেন বলে বলেছেন। {৬৪৮}

{৬৪৮} আবূ দাউদ ১৫৭৫, নাসায়ি হাদিস ২৪৪৪, ২৪৪৯, দারেমী ১৬৭৭। আবূ দাউদ সুনানু আবী দাঊদে [১৫৭৫] সাকাতা আনহু বলেছেন, এবং তিনি বলেন প্রত্যেক সাকাতু আনহু সহিহ। ইবনু হাযাম মুহাল্লা [৬/৫৭] গ্রন্থে সহিহ নয় বলেছেন। আল খাতীবুল বাগদাদী তারীখুল বাগদাদ [৯/৪৫৪] গ্রন্থে তাতে আব্দুল্লাহ ইবনু হাযির রয়েছেন, দারাকুতনী বলেন, শক্তিশালী নয়। যাহাবী তানকীহুত তাহকীক [১/৩৫৭] গ্রন্থে বাহায নামক রাবীকে মুনকার বলেছেন। আল আইনী উমদাতুল কারী [৯/১৯] গ্রন্থে তাহাঁর সানাদ সহিহ বলেছেন। শাওকানী নাইলুল আওতার [৪/১৭৯] গ্রন্থে তাতে বাহায নামে একজন রাবী আছে, তার মধ্যে ইখতিলাফ রয়েছে। আহমাদ শাকির মুহাল্লা [৬/৫৭] গ্রন্থে বলেন, তাতে বাহায ইবনু হাকীম রয়েছে, তার পিতা হতে বর্ণনা করিয়াছেন, ইবনু হাযাম বলেন, বাহায ইবনু হাকীম আদালতের ক্ষেত্রে মাশহুর নয় এবং তার পিতা হাকীম অনুরূপ, [আমি বলছি] বরং বাহয ও তার পিতা সিকাহ। আলবানী নাকদুন নুসূস [৫৯] গ্রন্থে বলেছেন তার সানাদ হাসান। আলবানী সহিহ আল জামি’ [৪২৬৫] গ্রন্থে হাসান বলেছেন। হাদিসের তাহকীকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৭. যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য একবছর অতিক্রম হওয়া শর্ত

৬০৬ – ‘আলী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন-তোমার নিকট দুইশত দিরহাম জমা হবার পর গচ্ছিত থাকার মেয়াদ বছর পূর্ণ হলে তার জন্য-পাঁচ দিরহাম [যাকাত]। আর বিশটি দিনার এক বছর যাবত জমা থাকলে তার জন্য অর্ধ দিনার [যাকাত]। তার চেয়ে কম যাকাত নেই। আর বেশি হলে তার হিসাব অনুপাতে [যাকাত] দিতে হইবে। নিসাব পরিমাণ কোন সম্পদের [গচ্ছিত থাকার] মেয়াদ এক বছর অতিবাহিত না হলে যাকাত নেই। -এটার সানাদ হাসান। এর সানাদের মারফূ‘ হওয়া সম্বন্ধে ইমামগনের মতানৈক্য রয়েছে। {৬৪৯} [স্বর্ণমুদ্রা হচ্ছে দিনার আর রৌপ্যমুদ্রা হচ্ছে দিরহাম] {৬৫০}

{৬৪৯} হাদিসটি ইমাম দারাকুতনী স্থগিত করার দ্বারা দুর্বল বলে আখ্যায়িত করলেও ইমাম বুখারী তা সহিহ বলেছেন। {৬৫০} আবূ দাউদ ১৫৭৩, ১৫৭৪, তিরমিজি ৬২০, নাসায়ি হাদিস ২৪৭৭, ২৪৭৮, ইবনু মাজাহ ১৭৯০, আহমাদ ৭১৩, ৯১৫, ১২৭০, দারেমী ১৬২৯। হাদিসের তাহকীকঃ হাসান হাদিস

৬০৭ – ইবনু`উমার [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিরমিজিতে আছে-কারো কোন সম্পদ সঞ্চিত হলে তার গচ্ছিত অবস্থার উপর একটি বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য যাকাত ফরজ হয় না। এর সানাদের মাওকুফ হওয়াটাই অগ্রগণ্য। {৬৫১}

{৬৫১} তিরমিজি ৬৩১, ৬৩২, মুওয়াত্তা মালেক ৬৫৭। হাদিসের তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৮. যে সকল গৃহপালিত পশু দ্বারা কাজ করানো হয় তাতে কোন যাকাত নেই

৬০৮ – ‘আলী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন-কাজে নিয়োজিত গরুর কোন যাকাত নেই। -আবূ দাউদ, দারাকুৎনী। এরও মাওকূফ হওয়াটা অগ্রগণ্য। {৬৫২}

{৬৫২} আবূ দাউদ ১৫৭৩, ১৫৭৪, তিরমিজি ৬২০, নাসায়ি হাদিস ২৪৭৭, ২৪৭৭৮, ইবনু মাজাহ ১৭৯০, আহমাদ ৯১৩, ৯১৫, দারেমী ১৬২৯। হাদিসের তাহকীকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ০৯. ইয়াতিমের সম্পদের যাকাত

৬০৯ – আবদুল্লাহ্ বিন`আমর [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যদি কেউ সম্পদশালী ইয়াতীমের তত্বাবধায়ক হয় তবে সে যেন তা ব্যবসায় খাটায়। উক্ত সম্পদকে এমনি ফেলে রাখবে না যাতে সদাকাহ [যাকাত] উক্ত মালকে খেয়ে [নিঃশেষ করে দেয়] ফেলে। তিরমিজি ও দারাকুৎনী দুর্বল সানাদে। {৬৫৩}

{৬৫৩} তিরমিজি ৬৪১, দারাকুতনী ২/১০৯-১১০। ইবনু কাসীর ইরশাদুল ফাকীহ [১/২৪৩], ইবনু হাজার আসকালানী দিরায়্যাহ [১/২৪৯] গ্রন্থে বলেন, তাতে দুর্বলতা রয়েছে।বায়ী ফাতহুল গাফফার [২/৮১৭] গ্রন্থে বলেছেন, তার সানাদ দুর্বল। আলবানী যঈফুত তিরমিজি [৬৪১] গ্রন্থে বলেন, দুর্বল। ইমাম তিরমিজি সুনানুত তিরমিজি [৬৪১] গ্রন্থে তার সানাদে সমালোচনা রয়েছে। ইবনু হাজার আসকালানী বুলুগুল মারাম [১৭১] গ্রন্থে বলেন, তার সানাদ দুর্বল। আল আইনী উমদাতুল কারী [৮/৩৪১] গ্রন্থে বলেন দুর্বল। আলবানী যঈফুল জামি’ [২১৭৯] গ্রন্থে বলেন, জঈফ। হাদিসের তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

৬১০ – বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

এর সমার্থক একটি হাদিস শাফি’ঈ মুরসালরূপে বর্ণনা করিয়াছেন। {৬৫৪}

{৬৫৪} ইমাম শাফিঈ এটি ইবনু জুরাইজ সূত্রে ইউসুফ বিন মাহিক থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। এখানে ইবনু জুরাইজ মুদাল্লিস। শাইখ সুমাইর আয যুহাইরী বলেন, এর অন্য শাহেদ রয়েছে। আর সেখানেও দুর্বল রাবী থাকায় হাদিসটির হুকুম দুর্বল হিসেবেই বহাল থাকল। হাদিসের তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদ ১০. যাকাত প্রদানকারীদের জন্য দু’আ করা মুস্তাহাব

৬১১ – ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, লোকজন যখন নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট নিজেদের সদাকাহ নিয়ে উপস্থিত হতো তখন তিনি বলিতেনঃ হে আল্লাহ্‌! তুমি তাদের উপর রহমত বর্ষণ কর। {৬৫৫}

{৬৫৫} বুখারী ১৪৯৭, ৪১৬৬, ৬৩৫৯, মুসলিম ১০৭৮, মুসলিম নাসায়ি হাদিস ২৪৫৯, মুসলিম আবূ দাউদ ১৫৯০, ইবনু মাজাহ ১৭৯৬, মুসলিম আহমাদ ১৮৬৩২। বুখারী এবং মুসলিমে রয়েছে,`আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন যখন নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট নিজেদের সদাকাহ নিয়ে উপস্থিত হতো তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌! অমুকের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। একদা আমার পিতা সদাকাহ নিয়ে হাজির হলে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্‌! আবূ আওফা’র বংশধরের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১১. ওয়াজিব হওয়ার পূর্বে যাকাত আদায় করার বিধান

৬১২ – ‘আলী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

‘আব্বাস [রাঃআঃ] তাহাঁর মালের বর্ষপূর্তির পূর্বে যাকাত প্রদানের ব্যাপারে নাবী [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি তাকে এ ব্যাপারে অনুমতি দেন। {৬৫৬}

{৬৫৬} তিরমিজি ৬৭৮, মুসলিম ৬৭৯, আবূ দাউদ ১৬২৪, ইবনু মাজাহ ১৭৯৫, আহমাদ ৮২৪, দারেমী ১৬২৬। হাদিসের তাহকীকঃ হাসান হাদিস

By najmulislam

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply