মোহরানা নিয়ম , গায়ে হলুদ, দুআ এবং বাসর ঘর

মোহরানা নিয়ম , গায়ে হলুদ, দুআ এবং বাসর ঘর

মোহরানা নিয়ম , গায়ে হলুদ, দুআ এবং বাসর ঘর >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ২৬, নিকাহ, হাদীস (৩৩৪৬-৩৩৮৮)

১.পরিচ্ছেদঃ মোহরের ব্যাপারে ইনসাফ করা
২.পরিচ্ছেদঃ [খেজুরের] দানা পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে বিবাহ
৩.পরিচ্ছেদঃ মোহর ব্যতীত বিবাহ
৪.পরিচ্ছেদঃ মোহর ব্যতীত কোন মহিলার নিজকে কোন পুরুষকে দান করা
৫.পরিচ্ছেদঃ লজ্জাস্থান হালাল করা
৬.পরিচ্ছেদঃ মুত”আ {১} হারাম হওয়া সম্পর্কে
৭.পরিচ্ছেদঃ আওয়াজ করে এবং দফ বাজিয়ে বিবাহের প্রচার করা
৮.পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পড় বিবাহকারীকে কীরূপে দুআ করিবে
৯.পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি উপস্থিত হয়নি তার দুআ
১০.পরিচ্ছেদঃ বিবাহে হলুদ জাতীয় রংয়ের অনুমতি
১১.পরিচ্ছেদঃ নির্জনবাসের [বাসরের] উপঢৌকন
১২.পরিচ্ছেদঃ শাওয়াল মাসে [নববধূকে] তুলে নেয়া
১৩.পরিচ্ছেদঃ নয় বছরের কনের সংগে বাসর যাপন
১৪.পরিচ্ছেদঃ সফরে বাসর যাপন
১৫.পরিচ্ছেদঃ বিবাহ অনুষ্ঠানে সংগীত ও আমোদ-ফুর্তি করা
১৬.পরিচ্ছেদঃ কন্যাকে গৃহস্থালীর আসবাবপত্র [জাহীয] দেয়া
১৭.পরিচ্ছেদঃ বিছানাপত্র
১৮.পরিচ্ছেদঃ গালিচা
১৯.পরিচ্ছেদঃ বাসর ঘরে হাদিয়া

১.পরিচ্ছেদঃ মোহরের ব্যাপারে ইনসাফ করা

৩৩৪৬. উরওয়া ইবৃন যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আয়েশা [রাঃ]-কে আল্লাহ্ এ বাণীঃ

—- অর্থ ; তোমরা যদি আশংকা কর যে, তোমরা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করিতে পারবে না, তবে বিবাহ করিবে নারীদের থেকে যাকে তোমাদের ভাল লাগে…..। [৪ঃ ৩] সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেনঃ হে আমার ভাগ্লে। আয়াতে ঐ ইয়াতীম সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তার অভিভাবক ক্রোড়ে পালিত হচ্ছে, এবং সে তাকে তার মালে শরীক করে নেয়। এরপর তার মাল ও সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করে এবং অভিভাবক তাকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করে। তার মাহরে ইনসাফ করা ব্যতীত এবং তাকে ঐ মাহ্রই দিতে চায় না, যা তাকে অন্যরা দিতে চায়। অতএব তাহাদের প্রতি ইনসাফ করা ব্যতীত এবং মোহরের সর্বোচ্চ হার তাহাদেরকে আদায় করা ব্যতীত, তাহাদেরকে বিবাহ করিতে নিষেধ করা হয়েছে। আর তাহাদের ব্যতীত অন্য যে মহিলা তাহাদের পছন্দ হয়, তাহাদেরকে বিবাহ করিতে আদেশ করা হয়েছে। উরওয়া [রাঃ] বলেন, আয়েশা [রাঃ] বলেছেনঃ এরপর লোকেরা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]- কে তাহাদের ব্যাপারে সমাধান দিতে বললে, আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ

অর্থঃ লোকেরা আপনার নিকট নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানিতে চায়। বলুনঃ আল্লাহ্ তোমাদেরকে তাহাদের সম্বন্ধে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন…অথচ তোমরা তাহাদের বিবাহ করিতে চাও…..। [৪ঃ ১২৭] আয়েশা [রাঃ] বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা যা উল্লেখ করিয়াছেন তা তিলাওয়াত করা হয় আল্লাহর কিতাবে;

আয়েশা [রাঃ] বলেন, অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলার বাণী হলো ঃ — তোমাদের কারও ক্রোড়ে যে ইয়াতীম রহিয়াছে যখন সে স্বল্প মাল ও স্বল্প সৌন্দর্যশীলা হয়, তাহাদের প্রতি তোমাদের মন আকৃষ্ট হয় না, তখন ইয়াতীমদের মালের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাহাদেরকে বিবাহ করিতে নিষেধ করা হয়েছে, ইনসাফ ব্যতীত।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৪৭. আবু সালাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশা [রাঃ]-কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেন ঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সাড়ে বার আওকিয়ায় বিবাহ করিয়াছেন, আর এর পরিমাণ পাচশ দিরহাম।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৪৮। আবু হুরায়রা [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যখন আমাদের মধ্যে ছিলেন, তখনকার মোহর ছিল দশ আওকিয়া।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৪৯। আবুল আজফা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাঃ] বলেছেন ; হুঁশিয়ার! তোমরা নারীর মোহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, কেননা যদি তা দুনিয়ায় উত্তম কার্য হতো, তাহলে তোমাদের চেয়ে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তার অধিক উপযুক্ত ছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তার কোন স্ত্রীকে বা তার কন্যাদের কারও বার আওকিয়ার অধিক মোহর দেননি। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অধিক মোহর দান করে, শেষ পর্যন্ত ঐ স্ত্রীলোকের প্রতি ঐ ব্যক্তির অন্তরে বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়। এমন কি সে বলে, তোমার জন্য আমি কাঁধে মশক বহনে বাধ্য হইয়াছি [অনেক কষ্ট সহ্য করেছি]। রাবী বলেন, আমি ছিলাম জন্ম সূত্রে আরবী, বংশ ধারায় অ-আরবী। তাই [আরবি] কথাটির মর্ম তা আমি বুঝতে পারলাম না। আর একটি বিষয় ঃ তোমাদের যুদ্ধে যারা নিহত হয়, অথবা মারা যায়। লোকেরা বলে যে, সে শহীদ হিসাবে মারা গেছে, অথচ সম্ভবত সে তার বাহনের পিঠে অথবা হাওদা এক প্রান্তে স্বর্ণ ও চাদির বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে। তাই তোমরা ঐ কথা [শহীদি মৃত্যু হয়েছে] না বলে এরূপ বল, যেরূপ নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, তা হলো এইঃ যে আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় অথবা মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৫০। উম্মু হাবীব [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যখন তাঁকে বিবাহ করেন, তখন তিনি ছিলেন হাবশায়। [হাবশার বাদশাহ] নাজ্জাশী তাকে বিবাহ দেন এবং তার মোহর আদায় করেন চার হাজার দিরহাম এবং তার নিজের পক্ষ হইতে বিবাহ উপটৌকন প্রদান করেন। আর তাকে ঐ সকল দিয়ে শুরাহবীল ইবনি হাসান [রাঃ]-এর সাথে পাঠিয়ে দেন। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তার নিকট কিছুই পাঠাননি। আর তার অন্যান্য স্ত্রীদের মোহর ছিল চারশত দিরহাম।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২.পরিচ্ছেদঃ [খেজুরের] দানা পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে বিবাহ

৩৩৫১। মালিক [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাঃ] রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর খেদমতে উপস্থিত হলেন, তখন তাহাঁর শরীরে বিবাহের সুগন্ধির চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি জানালেন যে, তিনি এক আনসারী রমণীকে বিবাহ করিয়াছেন। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন ঃ তাকে কত মোহর দান করেছ। তিনি বলিলেন ঃ একদানা পরিমাণ স্বর্ণ। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ঃ বললেনঃ একটা ছাগল দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৫২. আব্দুল আযীয ইবনি সুহায়ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আনাস [রাঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাঃ] বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যখন আমাকে দেখলেন, তখন আমার মধ্যে ছিল বিবাহের খুশি। আমি বললাম ; আমি এক আনসারী রমণীকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেনঃ তাকে কত মোহর দিয়েছ ? আমি বললাম ঃ একদানা পরিমাণ স্বর্ণ।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

. ৩৩৫৩আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন ঃ যে রমণীকে বিবাহ দেয়া হয়েছে মোহরের বিনিময়ে অথবা দানে অথবা বিবাহের আকদের পূর্বে কোন প্রতিশ্রুতিতে তা তারই; আর যা আকদের পরে দেয়া হয়, তা যে দান করেছে তার এবং পুরুষকে যা দ্বারা সম্মানিত করা হয়, তার কন্যা বা বোন তার হকদার।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

৩.পরিচ্ছেদঃ মোহর ব্যতীত বিবাহ

৩৩৫৪. আলকামা এবং আসওয়াদ [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তারা বলেন ঃ আবদুল্লাহ [রাঃ] -এর নিকট এ মর্মে একটা মামলা আনা হলো যে, এক ব্যক্তি জনৈক রমণীকে বিবাহ করেছে, অথচ সে তার কোন মোহর ধার্য করেনি। আর সে ব্যক্তি সহবাস করার পূবেই মারা গেছে। আবদুল্লাহ [রাঃ] বলিলেন, তোমরা [লোকদের] জিজ্ঞাসা কর এ বিষয় সম্পর্কে। তোমরা কি কোন উদ্ধিতি [হাদীস] পাচ্ছ? তারা বললোঃ হে আবু আবদুর রহমান! আমরা এ বিষয়ে কোন হাদীস পাচ্ছি না। তিনি বললেনঃ আমি আমার জ্ঞান অনুযায়ী বলছি, যদি তা সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ হইতে। আর তার মোহর হলো তার মত রমণীদের মোহরের অনুরূপ। তা হইতে বেশীও হইবে না এবং কমও হইবে না। সে মীরাছ পাবে, এবং তার ইদ্দত পালন করিতে হইবে। তখন আশজা গোত্রের এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললো ; আমাদের এক মহিলার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এমনই ফয়সালা দেন যাহার নাম ছিল বিরওয়া বিনত ওয়াশিক। সে এক পুরুষকে বিবাহ করেছিল এবং সহবাসের পূর্বেই তার স্বামী ইনতিকাল করে। তার জন্যও রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তার মত নারীদের অনুরূপ করেন। আর তার জন্য মীরাছ এবং ইদ্দত পালনও ধার্য করেন। একথা শুনে আবদুল্লাহ [রাঃ] হস্তদ্বয় উত্তোলন করে তাকবীর অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলেন। আবু আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ এ হাদীসে যায়দ ব্যতীত আর কাউকেও আসওয়াদের নাম উল্লেখ করিতে শুনিনি।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৫৫. আবদুল্লাহ [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তার নিকট এক মহিলার বিষয়ে উপস্থাপন করা হলো, যাকে একজন পুরুষ বিবাহ করে ইনতিকাল করে। আর তার জন্য কোন মোহরও ধার্য করেনি এবং তার সাথে সহবাসও করেনি। লোকেরা তার নিকট প্রায় একমাস যাবত যাতায়াত করিতে লাগলো। তিনি তাকে কোন সমাধান দিচ্ছিলেন না। এরপর তিনি বলিলেন, আমার মতে তার জন্য তার মত রমণীর মোহর হইবে; বেশীও না এবং কমও না। আর সে মীরাছ পাবে এবং তাকে ইন্দত পালন করিতে হইবে। তখন মাকিল ইবনি সিনান আশজঈ [রাঃ] সাক্ষ্য দিলেন যে, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ঃ বিরওয়া বিনত ওয়াশিক-এর ব্যাপারে আপনার মতই ফায়সালা দিয়েছিলেন।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৫৬. আবদুল্লাহ [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি কোন এক মহিলাকে বিবাহ করে মৃত্যুবরণ করে, সে তার জন্য কোন মোহরও ধার্য করেনি এবং তার সাথে সহবাসও করেনি। এ মহিলা সম্পর্কে তিনি বলেনঃ তাকে মোহর দিতে হইবে এবং তাকে ইদ্দত পালন করিতে হইবে এবং সে মীরাছও পাবে। মাকিল ইবনি সিনান [রাঃ] বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বিরওয়া বিনত ওয়াশিকের ব্যাপারে এরূপ ফয়সালা দিতে শুনিয়াছি।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৫৭. আলকামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ [রাঃ] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত রহিয়াছে।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৫৮. আবদুল্লাহ [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তার নিকট একদল লোক এসে বললো ; আমাদের এক ব্যক্তি কোন মোহর ধার্য না করে এক রমণীকে বিবাহ করে মৃত্যুবরণ করলো এবং সে তার সাথে সহবাসও করেনি। আবদুল্লাহ [রাঃ] বললেনঃ রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর ইনতিকালের পরে এর চাইতে কোন কঠিন ব্যাপারে আমাকে প্রশ্ন করা হয়নি। তোমরা আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কারও নিকট যাও। তারা একমাস যাবত এ ব্যাপারে তার নিকট যাতায়াত করিতে রইলো। এরপর তারা তাঁকে বললোঃ আপনাকে জিজ্ঞাসা না করে আর কাকে জিজ্ঞাসা করবো? আপনি হলেন এ শহরে- মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর নেতৃস্থানীয় সাহাবীদের অন্যতম। আপনাকে ব্যতীত আর কাউকেও আমরা পাচ্ছি না। তিনি বলিলেন, আচ্ছা এ ব্যাপারে আমার চিন্তায় যা আসে, তা আমি বলছি; যদি তা সঠিক হয় তবে তা এক আল্লাহর পক্ষ হইতে, যিনি এক ও একক, যাহার কোন শরীক নেই, আর যদি ভুল হয়, তবে তা আমার পক্ষ হইতে, আর শয়তানের পক্ষ হইতে। আল্লাহ্ এবং তার রাসূল এ ব্যাপারে দায়মুক্ত। আমার মতে, তার জন্য তার সমপর্যায়ের নাবীদের অনুরূপ মোহর [মাহরে মীছাল] হইবে, কোন প্রকার কম ও বেশী ব্যতীত, সে মীরাছ পাবে এবং তাকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করিতে হইবে। তিনি বলিলেনঃ এ ফয়সালা আশজা গোত্রের কয়েকজন লোক শুনলো এবং তারা দাড়িয়ে বললোঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি এমন ফয়সালা দিলেন, যেমন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বিরওয়া বিনত ওয়াশিক নামী এক মহিলার ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছিলেন। আবদুল্লাহ [রাঃ]-কে সেদিন যেমন আনন্দিত দেখা গিয়েছিল, তার ইসলাম গ্রহণের দিন ব্যতীত আর কোন দিন এত আনন্দিত দেখা যায়নি।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪.পরিচ্ছেদঃ মোহর ব্যতীত কোন মহিলার নিজকে কোন পুরুষকে দান করা

. ৩৩৫৯সাহল ইবনি সাদ [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর নিকট এক মহিলা এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহু! আমি আমাকে আপনার জন্য হিবা [দান] করলাম। এ কথা বলে সে, অনেক্ষণ দাড়িয়ে রইলো। তখন এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললোঃ যদি আপনার তার প্রয়োজন না থাকে, তবে তাকে আমার নিকট বিবাহ দিন। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃ তোমার নিকট কি কিছু আছে? সে বললো ; আমার নিকট কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তালাশ করে দেখ যদি একটা লোহার আংটিও পাও; সে ব্যক্তি তালাশ করে কিছুই পেল না, তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাকে বললেনঃ তোমার কি কুরআনের কিছু অংশ জানা আছে? সে ব্যক্তি কয়েকটি সূরার নাম নিয়ে বললোঃ এ সূরা, এ সূরা। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃ তোমাকে তার সাথে বিবাহ দিলাম তোমার কুরআনের যা জানা আছে, তার উপর।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫.পরিচ্ছেদঃ লজ্জাস্থান হালাল করা

৩৩৬০. নুমান ইবনি বশীর [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] থেকে বর্ণনা করেন ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সহবাস করেছিল। তিনি বলিলেন; যদি সে তাকে তার জন্য হালাল করে থাকে, তবে আমি তাকে একশত চাবুক লাগাব। আর যদি সে তা তার জন্য হালাল না করে থাকে, তবে আমি তাকে রজম করব।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

৩৩৬১. নুমান ইবনি বশীর [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনি হুনায়ন- যাহার ব্যাঙ্গ নাম ছিল কুরকুর- তার স্ত্রীর বাদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হলে নুমান ইবনি বশীর [রাঃ]-এর নিকট তার বিচার আনা হলে-তিনি বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর ফয়সাল অনুযায়ী তোমার ফয়সাল করবো। যদি সে তোমার জন্য তা বৈধ করে থাকে, তবে তোমাকে বেত্ৰাঘাত করবো, আর যদি সে তোমার জন্য তা বৈধ না করে থাকে, তবে তোমাকে প্রস্তরাঘাতে [রজম করে] মেরে ফেলবো। দেখা গেল, সে তা তার জন্য বৈধ করেছিল। সে জন্য তিনি একশত কোড়া লাগালেন। কাতাদা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ আমি এ ব্যাপারে হাবীব ইবনি সালিম-এর নিকট লিখলে, তিনিও আমার নিকট এরূপই লিখেন।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

৩৩৬২. নুমান ইবনি বশীর [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়, তার সম্বন্ধে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]ঃ বলেছেনঃ যদি সে [স্ত্রী] তাকে [বাঁদীকে] তার জন্য বৈধ করে থাকে, তবে তাকে একশত কোড়ার আঘাত কর, আর যদি সে তা তার জন্য বৈধ না করে থাকে, তবে তাকে রজম কর।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

৩৩৬৩. সালামা ইবনি মুহাব্বাক [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছিলেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে, যদি সে ব্যক্তি তার প্রতি বল প্রয়োগ করে থাকে, তবে এ বাদী আযাদ হয়ে যাবে এবং ঐ ব্যক্তির উপর ঐ বৗ

বাদীর মালিককে এর মত আর একটি [বাদীর মূল্য] দিতে হইবে। আর যদি ঐ বাদী, ঐ ব্যক্তির অনুগত হয়ে থাকে তা হলে ঐ বাদী ঐ ব্যক্তিরই হয়ে যাবে। সে ব্যক্তির উপর ঐ বাদীর মালিককে অনুরূপ একটা বাদী [মূল্য] দেয়া ওয়াজিব হইবে।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

৩৩৬৪. সালামা ইবনি মুহাব্বাক [রাঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বাদীর সাথে সহবাস করলো। এ বিষয়টি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর নিকট উত্থাপন করা হলে তিনি বলিলেন ঃ যদি ঐ ব্যক্তি তাকে বল প্রয়োগ করে থাকে, তবে ঐ বাদী ঐ ব্যক্তির মাল দ্বারা মুক্ত হয়ে যাবে, এবং তার উপর অনুরূপ [সমপরিমাণ] জরিমানা, আর যদি সে [বাদী] তার আনুগত্য করে [স্বেচ্ছায় করে] থাকে তবে সে তার মালিকের থাকিবে এবং তার অনুরূপ এ [পুরুষের] সম্পর্ক থেকে দেয়া হইবে।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

৬.পরিচ্ছেদঃ মুত”আ {১} হারাম হওয়া সম্পর্কে

৩৩৬৫. আমর ইবনি আলী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

হাসান এবং আবদুল্লাহ নামক মুহাম্মদের দুইপুত্র তাহাদের পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, আলী [রাঃ]-এর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে, এক ব্যক্তি মুতআয় [অস্থায়ী বিয়েতে] কোন প্রকার ক্ষতি [অবৈধতা] মনে করে না। তখন তিনি বলিলেনঃ তুমি একজন পথভ্রষ্ট লোক। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] খায়বরের দিন আমাকে তা হইতে নিষেধ করিয়াছেন এবং গৃহপালিত গাধার গোশত হইতে।

১. কোন নারীকে কিছু মালের বিনিময়ে নির্ধারিত সময়ের জন্য ভোগের উদ্দেশ্যে [বিবাহ] করা। এরূপ বিবাহ হারাম।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৬৬. আলী ইবনি আবু তালিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] খায়বরের দিন নারীদের সাথে মুত্আ করা এবং পালিত গাধার গোশত নিষেধ করিয়াছেন।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৬৭. মালিক ইবনি আনাস অবহিত করিয়াছেন হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাঁকে অবহিত করিয়াছেন, মুহাম্মাদ ইবনি আলীর দুই ছেলে আবদুল্লাহ এবং হাসান তাকে অবহিত করিয়াছেন যে, তাহাদের পিতা মুহাম্মাদ ইবনি আলী তাহাদের অবহিত করেছেনঃ আলী ইবনি আবু তালিব [রাঃআঃ] বলেছেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] খায়বরের দিন মেয়েদের সাথে মুত্আ করা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। ইবনি মুসান্না [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেনঃ হুনায়নের দিন। তিনি বলেন, আবদুল ওয়াহহাব তার কিতাব থেকে আমাদের নিকট এমনই বর্ণনা করিয়াছেন।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৮. রবী ইবনি সাবরা জুহানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] মুত্আর অনুমতি দিলে আমি এবং এক ব্যক্তি বনূ আমরের এক মহিলার কাছে গেলাম এবং তার নিকট নিজেদের উপস্থাপন করলাম। সে বললঃ আমাকে কি দিবে? আমি বললামঃ আমার চাদর। আমার সাথীও বললেনঃ আমার চাদর দিব। আর আমার সাথীর চাদরখানা ছিল আমার চাদর হইতে উত্তম। আর আমি ছিলাম আমার সাথী হইতে অধিক যুবক। যখন সে আমার সাথীর চাদরের প্রতি লক্ষ্য করলো, তখন ঐ চাদর তার নিকট ভালো লাগলো। আর যখন আমার দিকে লক্ষ্য করলো, তখন আমি তার চোখে ভালবোধ হলাম। এরপর সে বললেনঃ তুমি এবং তোমার চাদরই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি তার সঙ্গে তিন রাত অবস্থান করলাম, পরবর্তী সময়ে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, যাহার নিকট এ মুতআর নারী আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয় [মুক্ত করে দেয়]।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭.পরিচ্ছেদঃ আওয়াজ করে এবং দফ বাজিয়ে বিবাহের প্রচার করা

৩৩৬৯. মুহাম্মাদ ইবনি হাতিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ হালাল এবং হারাম-এর মধ্যে ব্যবধান হলো দফ বাজান এবং বিবাহের সংবাদ প্রচার করা।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৩৩৭০. মুহাম্মাদ ইবনি হাতিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ইরশাদ করেছেনঃ হালাল এবং হারাম-এর মধ্যে ব্যবধান হলো আওয়ায— [বিবাহের প্রচার]

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৮.পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পড় বিবাহকারীকে কীরূপে দুআ করিবে

৩৩৭১. হাসান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আকীল ইবনি আবু তালিব [রাঃআঃ] জুছম গোত্রের এক নারীকে বিবাহ করলে মিল মহব্বত এবং সন্তানের জন্য তাঁকে দুআ করা হলো। আকীল [রাঃআঃ] বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যেমন বলেছেন, তোমরা তেমন বলঃ

للهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَارَكَ اللَّهُ فِيكُمْ، وَبَارَكَ لَكُمْ

অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের মাঝে বরকত দান করুন এবং তোমাদের জন্য বরকত দান করুন [জীবন প্রাচুর্যময় করুন]।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯.পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি উপস্থিত হয়নি তার দুআ

৩৩৭২. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আবদুর রহমান [রাঃআঃ]-এর শরীরে হলুদাভা দেখিতে পেয়ে বললেনঃ এটা কি? তিনি বললেনঃ আমি একদানা পরিমাণ স্বর্ণের উপর [মোহর দিয়ে] এক মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি [রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সাঃ] বললেনঃ আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন। একটা বকরী দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০.পরিচ্ছেদঃ বিবাহে হলুদ জাতীয় রংয়ের অনুমতি

৩৩৭৩. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাঃআঃ] আগমন করিলেন, তখন তাহাঁর গায়ে যাফরানের চিহ্ন ছিল। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃ কী খবর? তিনি বললেনঃ আমি এক নারীকে বিবাহ করেছি। তিনি [রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সাঃ] বললেনঃ মোহর কত দিয়েছ? তিনি বললেনঃ একদানা ওজনের স্বর্ণ। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, একটি বকরী দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৭৪. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাঃআঃ] এর দেহে হলুদ রংয়ের চিহ্ন দেখে বলিলেন, কী খবর? তিনি বললেনঃ আমি এক আনসারী নারীকে বিবাহ করেছি। তিনি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃ একটি বকরী দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১.পরিচ্ছেদঃ নির্জনবাসের [বাসরের] উপঢৌকন

৩৩৭৫. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আলী [রাঃআঃ] বলেছেন, আমি ফাতিমা [রাঃআঃ] কে বিবাহ করার পর বললামঃ ইয়া রাসূলআল্লাহ! তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তাকে কিছু দাও। আমি বললামঃ আমার কাছে কিছু নেই। তিনি বললেনঃ তোমার হতামী বর্মটি কোথায়? আমি বললামঃ তা আমার নিকট রয়েছে। তিনি বললেনঃ তাকে তাই দাও।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৩৭৬. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন আলী [রাঃআঃ] ফাতিমা [রাঃআঃ]-কে বিবাহ করিলেন, তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাকে বললেনঃ তাকে কিছু দাও। তিনি বললেনঃ আমার কাছে কিছু নেই। তিনি বললেনঃ তোমার হতামী বর্মটি কোথায়?

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২.পরিচ্ছেদঃ শাওয়াল মাসে [নববধূকে] তুলে নেয়া

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাকে বিবাহ করেন শাওয়াল মাসে, আর আমাকে তাহাঁর কাছে পাঠানো হয় শাওয়াল মাসেই। তাহাঁর কোন স্ত্রী আমার চেয়ে অধিক ভাগ্যবতী?

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩.পরিচ্ছেদঃ নয় বছরের কনের সংগে বাসর যাপন

৩৩৭৮. আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাকে আমার ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং আমার সংগে নির্জনবাস করেন আমার নয় বছর বয়সে, তখন আমি পুতুল দিয়ে খেলা করতাম।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৭৯. আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাকে বিবাহ করেন তাহাঁর ছয় বছর বয়সে। আর তিনি তাহাঁর সাথে বাসর করেন তাহাঁর নয় বছর বয়সে।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪.পরিচ্ছেদঃ সফরে বাসর যাপন

৩৩৮০. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] খায়বারের যুদ্ধাভিযান করিলেন, আমরা তাহাঁর সাথে ফজরের নামায আদায় করলাম কিছু অন্ধকার থাকতে। এরপর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সওয়ার হলেন, এবং আবু তালহাও আরোহণ করিলেন। আমি ছিলাম আবু তালহার পিছনে উপবিষ্ট। তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] খায়বরের [সরুগলি] পথ ধরলেন। রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে আমার দুই হাঁটু রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর দুই উরু স্পর্শ করছিল। আর আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] উরুর শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করছিলাম। তিনি যখন সেখানকার জনপদে প্রবেশ করিলেন, তখন “আল্লাহু আকবার” বলিলেন, এবং তিনবার বললেনঃ [আরবি লিখা]

অর্থঃ খায়বর ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের আঙ্গীনায় অবতরণ করি, তখন [সে] সতর্কীকৃতদের প্রভাত কতই না মন্দ হইয়া থাকে।

বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর যখন লোকেরা তাহাদের কাজে বের হল, আবদুল আযীয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] [তার বর্ণনায়] বলেন, তখন তারা বললেনঃ মুহাম্মাদ। আবদুল আযীয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ আমাদের কোন সাথী [তার বর্ণনায়] বলেছেনঃ আর সেনাবাহিনীও। যেহেতু আমরা যুদ্ধ করে খায়বর জয় করেছিলাম, তাই কয়েদীদের একত্রিত করা হলো। দাহিয়া [রাঃআঃ] এসে বললেনঃ ইয়া নাবী আল্লাহ! আমাকে একটি বাঁদী দান করুন। তিনি বললেনঃ যাও, একটা নিয়ে নাও। তিনি সাফিয়্যা বিনত হুয়াই [রাঃআঃ] কে নিয়ে নিলেন। এক ব্যক্তি নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর খিদমতে এসে বললঃ ইয়া নাবী আল্লাহ ! [বনী] নযীরও [বনী] কুরায়যাহার সরদার [শীর্ষস্থানীয়রা] সাফিয়্যা বিনত হুরায়কে দাহিয়া [রাঃআঃ] কে দিলেন? সে তো আপনার জন্য ব্যতীত কারও জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি বললেনঃ তাকে [দাহইয়াকে] ডাক। ফলে তিনি তাকে নিয়ে আসলেন। যখন নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাহাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করিলেন, তখন তিনি [রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সাঃ] বললেনঃ তুমি একে ব্যতীত অন্য একটা বাঁদী কয়েদীদের মধ্য হইতে বেছে নাও। রাবী বলেন, নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাকে মুক্ত করে দিয়ে বিবাহ করিলেন। সাবিত [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাকে বললেনঃ হে আবু হামযা! তাকে কি মোহর দেয়া হইয়াছিল? তিনি বললেনঃ তার নিজেকেই। কেননা, তিনি তাকে আযাদ করেন এবং পড়ে তাকে বিবাহ করেন। তিনি বলেনঃ এমনকি, পথেই উম্মু সুলায়ম [রাঃআঃ] তাকে নব বধূর সাজে সজ্জিত করে তাহাঁর [রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সাঃ]-এর] নিকট উপস্থিত করেন। তাঁরা বর কনে হিসেবে ভোরে বের হলেন। তিনি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃ যাহার নিকট কিছু আছে সে যেন তা নিয়ে আসে এবং তিনি একটি চামড়ার দস্তরখান বিছিয়ে দিলেন, তখন কেউ পনীর নিয়ে আসলো, কোন ব্যক্তি খুরমা নিয়ে আসলো, কেউ ঘি আনলো। এটা দ্বারা হায়স১ তৈরি করিলেন। এর দ্বারা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর ওয়ালীমা করা হল।

{১} উল্লিখিত উপকরণসমূহ মিশ্রিত করে প্রস্তুতকৃত সুস্বাদু খাবার।বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৮১. হুমায়দ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আনাস [রাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] খায়বরের পথে হুরাই ইবনি আখতাবের কন্যা সাফিয়্যা [রাঃআঃ]-এর সাথে তিন দিন অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি ঐ সকল লোকের মধ্যে পরিগণিত হন, যাদের ব্যাপারে পর্দা করা হতো।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৮২. হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] খায়বর এবং মদীনার মধ্যস্থলে তিনদিন সাফিয়্যা বিনত হুয়াই [রাঃআঃ]-এর সংগে কাটান। আমি তাহাঁর ওয়ালীমার জন্য মুসলমানদের দাওয়াত দিলাম। তাতে গোশত ও রুটি কিছুই ছিল না। তিনি চামড়ার দস্তরখান বিছাতে আদেশ করিলেন। লোকেরা তার উপর খেজুর, পনীর, ঘি রাখতে লাগলো। এটাই ছিল তাহাঁর ওয়ালীমা। মুসলমানগণ বলিতে লাগলো, তিনি উম্মাহাতুল মুমীনের একজন, না তাহাঁর দাসীদের একজন? তারা বললেনঃ যদি তাঁকে পর্দায় রাখা হয়, তবে তিনি উম্মাহাতুল মুমিনীনের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি পর্দা না করা হয়, তবে তিনি বাঁদীদের একজন। যখন প্রত্যাবর্তনের সময় হলো, তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর সওয়ারীর হাওদার পেছনে তাহাঁর বসার ব্যবস্থা করিলেন এবং অন্যান্য লোক ও তাহাঁর মধ্যে পর্দার ব্যবস্থা করিলেন।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫.পরিচ্ছেদঃ বিবাহ অনুষ্ঠানে সংগীত ও আমোদ-ফুর্তি করা

৩৩৮৩. আমির ইবনি সাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এক বিবাহ মজলিসে আমি কুরজা ইবনি কাব এবং আবু মাসউদ [রাঃআঃ] আনসারীর নিকট গেলাম, হঠাৎ দেখা গেল ছোট ছোট বালিকারা গান গাচ্ছে। আমি বললামঃ আপনারা উভয়ে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর বদরী সাহাবী। অথচ আপনাদের সামনে এমন করা হচ্ছে। তাঁরা বললেনঃ যদি ইচ্ছা হয় আমাদের সঙ্গে বসে শোন, আর যদি চাও চলে যাও। আমাদেরকে বিবাহে আমোদ-ফুর্তি করার অনুমতি দেয়া হইয়াছে।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদীস

১৬.পরিচ্ছেদঃ কন্যাকে গৃহস্থালীর আসবাবপত্র [জাহীয] দেয়া

৩৩৮৪. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ফাতিমা [রাঃআঃ] কে জাহীয [যৌতুক] দান করেছিলেন- একখানা চাদর, একটা পানির পাত্র [মশক] আর একটা বালিশ, যাহার ভিতরে ছিল ইযখির নামক তৃণ।১

{১} কন্যার পিতা-অভিভাবক কন্যার গৃহস্থালী প্রয়োজনের জন্য যা কিছু প্রদান করে তা জাহীয; এটি বর্তমানে প্রচলিত [ও জামাইকে প্রদত্ত] যৌতুক নয়।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

১৭.পরিচ্ছেদঃ বিছানাপত্র

৩৩৮৫. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, পুরুষের [নিজের] জন্য একখানা চাদর, তার স্ত্রীর জন্য একখানা চাদর এবং তৃতীয়টি অতিথির জন্য। আর চতুর্থটি শয়তানের জন্য।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮.পরিচ্ছেদঃ গালিচা

৩৩৮৬. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাকে বলিলেন ঃ তুমি কি বিবাহ করেছ ? আমি বললাম ঃ হ্যাঁ। তিনি বলেন ঃ তোমরা কি গালিচা বানিয়েছ ? আমি বললাম ঃ আর আমাদের জন্য গালিচা কিভাবে হইবে। তিনি বলিলেন ঃ তা অচিরেই হইয়া যাবে।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৯.পরিচ্ছেদঃ বাসর ঘরে হাদিয়া

৩৩৮৭. আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] একবার বিবাহ করে স্ত্রী নিকট গেলেন [বাসর যাপন করিলেন]। আনাস [রাঃআঃ] বলেন, আমার মা উম্মু সুলায়ম [রাঃআঃ] হায়স তৈরি করিলেন। তিনি বলেন, আমি তা নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর নিকট যেয়ে বললামঃ আমার মা আপনাকে সালাম বলেছেন এবং বলেছেন, এ আপনার জন্য আমাদের পক্ষ হইতে কিঞ্চিত হাদিয়া। তিনি বলিলেন, রাখ। এরপর তিনি কয়েকজন লোকের নাম নিয়ে বলিলেন, অমুক অমুক ব্যক্তিকে ডেকে আন, আর যাহার সাথে তোমার দেখা হয়, সকলকে ডেকে আন। তারপর তিনি যাদের নাম বলেন, এবং যাদের সাথে আমার দেখা হয়, তাহাদের আমি ডেকে আনি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস [রাঃআঃ] কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাহাদের সংখ্যা কত ছিল ? তিনি বললেনঃ তিনশত লোকের মত। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃ দশ দশ জন করে হালকা বেঁধে [ গোল হইয়া ] বস এবং প্রত্যেকে তার নিকটস্ত স্থান হইতে খেতে থাক। তারা সকলে তৃপ্তি সহকারে আহার করিলেন। একদল যাচ্ছিল আর একদল প্রবেশ করছিল। তিনি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাকে বল্লেনঃ হে আনাস। উঠিয়ে নাও। আমি খাবার উঠিয়ে নিলাম আমি বুঝতে পারলাম না, যখন আমি তা উঠিয়ে নিলাম তখন অধিক ছিল, না যখন রেখেছিলাম।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৮৮. হুমায়দ তাবীল [লম্বা হুমায়দ] [রঃ] আনাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাকে বলিতে শুনেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কুরায়শ [মুহাজির] এবং আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বধ্নন করে দিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সাদ ইবনি রাবী এবং আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাঃআঃ]- এর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রতিষ্ঠা করিলেন। তখন সাদ [রাঃআঃ]আবদুর রহমান [রাঃআঃ]- কে বললেনঃ আমার অনেক ধন-সম্পদ রয়েছে, তা আপনার এবং আমার মধ্যে আধা-আধি হিসাবে ভাগ হইবে। আর আমার দুজন স্ত্রী রয়েছে। অতএব আপনি দেখুন, তাহাদের কোনজন অধিক পছন্দ হয় আমি তাকে তালাক দিয়ে দেব, তার ইদ্দত পূণ হলে তাকে আপনি বিবাহ করবেন। আবদুর রহমান [রাঃআঃ]- বললেনঃ আল্লাহ তাআলা আপনার ধনে ও পরিবারে বরকত দান করুক। আমাকে রাস্তা বলে দিন অথাৎ বাজারের। তিনি যখন ফিরে আসলেন তখন কিছু ঘি এবং পনীর সহ ফিরে আসলেন, যা তাহাঁর লাভ হইয়াছিল। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমার হলুদ রং দেখে জিজ্ঞাসা করলেনঃ এ কি? আমি বললামঃ আমি এক আনসারী নারীকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেনঃ একটা বকরী দ্বারা হলেও ওয়ালীমা কর।

বিবাহ আইন হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply