মোজার উপর মাসাহ করা

মোজার উপর মাসাহ করা

মোজার উপর মাসাহ করা  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২২. অধ্যায়ঃ মোজার উপর মাসাহ করা

৫১০

হাম্মাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা জারীর [রাদি.] একবার প্রসাব করিলেন, অতঃপর ওযু করিলেন এবং তার উভয় মোজার উপর মাসাহ করিলেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কি এ রকম করে থাকেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখেছি তিনি প্রস্রাব করিয়াছেন, তারপর ওযু করিয়াছেন এবং তাহাঁর উভয় মোযার উপর মাসাহ করিয়াছেন।

আমাশ বলেন, ইব্‌রাহীম বলেছেন যে, এ হাদীসটি [হাদীস বিশারদ] লোকেরা আগ্রহের সাথে গ্রহণ করিয়াছেন। কারণ জারীর [রাদি.] সুরা আল মায়িদাহ্‌ নাযিলের পর ইসলাম গ্রহণ করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫২৯]

৫১১

আমাশ হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদেই আবু মুআবিয়ায় হাদীসের অর্থের অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে ঈসা ও সুফ্‌ইয়ানের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্‌র সঙ্গী-সাথীদের নিকট অত্র হাদীসটি পছন্দনীয় মনে হত। কারণ জারীর [রাদি.] ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন সুরা আল মায়িদাহ্‌ অবতীর্ণ হবার পর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩০]

৫১২

হুযাইফাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি [কোন এক সফরে] রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে ছিলাম। তিনি কোন এক জাতির ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা এসে পৌছলেন। অতঃপর সেখানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিলেন, আমি তখন দূরে সরে গেলাম। তিনি বলিলেন, কাছে এসো। আমি তাহাঁর নিকটে গেলাম এমনকি একেবারে তাহাঁর পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি ওযু করিলেন। অতঃপর তাহাঁর উভয় মোজার উপর মাসাহ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩১]

৫১৩

আবু ওয়াযিল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু মুসা [রাদি.] প্রস্রাবের ব্যপারে খুবই কঠোরতা অবলম্বন করিতেন। তিনি একটি বোতলে প্রস্রাব করিতেন এবং বলিতেন, বানী ইসরাঈলদের কারো চামড়ায় [পরিধেয় বস্ত্রে] যদি প্রস্রাব লাগত তখন কাঁচি দিয়ে সে স্থান কেটে ফেলত। অতঃপর হু্যাইফাহ্‌ [রাদি.] এ কথা শুনে বলিলেন, আমি চাই যে, তোমাদের সঙ্গী [আবু মুসা] এ ব্যপারে এত কঠোরতা না করলেই ভাল হত। [কারণ] একবার আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে পথে চলছিলাম। তিনি একটি দেয়ালের পিছনে জনৈক জাতির আবর্জনা ফেলার জায়গায় পৌছলেন। অতঃপর তোমরা যেমনভাবে দাঁড়াও, তেমনি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিলেন। আমি তাহাঁর থেকে দূরে সরে ছিলাম। তিনি আমার দিকে ইশারা করিলেন। অতঃপর আমি বললাম এবং একেবারে তাহাঁর পিছনে এসে দাঁড়ালাম। তিনি তাহাঁর প্রয়োজন শেষ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩২]

৫১৪

মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাজাত [প্রাকৃতিক প্রয়োজন] পূরণের জন্যে বের হলেন। তারপর মুগীরাহ [রাদি.] একটি পানি ভর্তি বদনা নিয়ে তাহাঁর অনুসরণ করিলেন। রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাজাত শেষ করলে তিনি তাঁকে পানি ঢেলে দিলেন। এরপর তিনি ওযূ করিলেন এবং উভয় মোজার ওপর মাসাহ করিলেন। ইবনি রুম্‌হ-এর বর্ণনায় [আরবী] যখন শব্দের স্থলে যে পর্যন্ত [আরবী] শব্দের উল্লেখ রয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৩]

৫১৫

মুহাম্মাদ ইবনি আল মুসান্না [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি তাহাঁর মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধুলেন এবং মাথা মাসাহ করিলেন। তারপর উভয় মোজার ওপর মাসাহ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৪]

৫১৬

মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ[সাঃআঃ]-এর সাথে ছিলাম। হঠাৎ তিনি এক স্থানে থেকে হাজাত পূরণ করিলেন। এরপর ফিরে এলেন এবং আমার কাছে রাখা একটি বদনা থেকে আমি তাহাঁর দিকেও পানি ঢেলে দিলাম। তিনি ওযূ করিলেন এরপর তাহাঁর উভয় মোজার উপর মাসাহ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫]

৫১৭

মুগীরাহ ইবনি শুবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এর সাথে ছিলাম। তিনি বলিলেন, মুগীরাহ! বদনা [সঙ্গে] নাও। আমি বদনা [সঙ্গে] নিলাম। তারপর তাহাঁর সাথে বেরিয়ে পড়লাম। রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]হাঁটতে হাঁটতে আমার থেকে আড়ালে চলে গেলেন। তারপর তিনি তাহাঁর হাজাত পূরণ করিলেন ও ফিরে এলেন। তখন তাহাঁর গায়ে ছিল একটি শামী জুব্বাযার আস্তিন ছিল চাপা [অপ্রশস্ত]। তিনি আস্তিন থেকে তাহাঁর হাত বের করার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু [অপ্রশস্ত হবার কারণে] তা আটকে গেল। অতঃপর তিনি জুব্বার নিচ থেকে তাহাঁর হাত বের করিলেন। আমি তাহাঁর ওপর পানি ঢেলে দিলাম। তিনি সালাতের জন্যে যেমন ওযূ করা হয়- তেমনি ওযূ করিলেন। তারপর তাহাঁর উভয় মোজার ওপর মাসাহ করে নামাজ আদায় করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২০. ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬]

৫১৮

মুগীরাহ ইবনি শুবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]হাজাত পূরণের জন্যে বের হলেন। [হাজাত শেষে] তিনি যখন ফিরে এলেন তখন লোটা নিয়ে আমি তাহাঁর কাছে গেলাম। আমি তাঁকে পানি ঢেলে দিলাম। তিনি তাহাঁর উভয় হাত ধুলেন। তারপর মুখমন্ডল ধুলেন। তারপর উভয় বাহু ধোয়ার ইচ্ছা করিলেন; কিন্তু জুব্বায় [অপ্রশস্ততার কারণে] তা আটকে গেল। তিনি জুব্বার নিচ দিয়ে বের করে উভয় বাহু ধুয়ে ফেললেন এবং মাথা মাসাহ করিলেন ও উভয় মোজার উপর মাসাহ করিলেন এবং আমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭]

৫১৯

মুগীরাহ্ [রা] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন এক সফরে এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এর সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বলিলেন, “তোমার সাথে কি পানি আছে”? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তাহাঁর সওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন। তারপর হাঁটতে হাঁটতে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেন। কিছুক্ষন পর ফিরে এলেন। তখন আমি বদনা থেকে তাঁকে পানি ঢেলে দিলাম। তিনি তাহাঁর মুখমন্ডল ধুলেন তখন তার গায়ে ছিল একটি পশমের জুব্বা। তিনি তা থেকে বের করিতে না পেরে জুব্বার নীচ দিয়ে বের করিলেন। তারপর তাহাঁর উভয় বাহু ধুলেন এবং মাথা মাসাহ করিলেন। আমি তাহাঁর উভয় মোজা খুলে দিতে চাইলাম। কিন্তু [বাধা দিয়ে] তিনি বলিলেন. ওভাবেই থাকতে দাও। কারণ আমি ও দুটি পবিত্র অবস্থায় পায়ে দিয়েছি। [এই বলে] তিনি তার উভয়ে মোযার ওপর মাসাহ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৮]

৫২০

মুগীরাহ্ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] কে ওযূ করালেন। তিনি ওযূ করিলেন এবং উভয় মোজার উপর মাসাহ করিলেন। মুগীরাহ্ [রাদি.] বলেন, তাহাঁরপর তিনি [রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি এ দুটিকে পবিত্রাবস্থায় পরেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৯]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply