মেশকাত শরীফ বাংলা Meskat Sharif Bangla – যাকাত

মেশকাত শরীফ বাংলা Meskat Sharif Bangla – যাকাত

মেশকাত শরীফ বাংলা Meskat Sharif Bangla – যাকাত >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৬, অধ্যায়ঃ যাকাত

পরিচ্ছদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

১৭৭২. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.]-কে ইয়ামানে পাঠাবার সময় বললেন,মুআয! তুমি আহলে কিতাবদের [ইয়াহূদী ও খৃস্টান] নিকট যাচ্ছো। প্রথমতঃ তাদেরকে এ লক্ষ্যে দ্বীনের প্রতি আহবান করিবে,এক আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই,আর মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আল্লাহর রসূল। যদি তারা এটা মেনে নেয় তাহলে তাদের সামনে এই ঘোষণা দেবে যে,নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দিনরাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফার্‌য করিয়াছেন। তারা এটা মেনে নিলে তাদেরকে জানাবে,নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর যাকাত ফার্‌য করিয়াছেন। তাদের ধনীদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করে তাদের গরীবদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যদি তারা এ হুকুমের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তাহলে তুমি [তাদের] ভাল ভাল মাল গ্রহণ থেকে বিরত থাকিবে,মাযলূমের ফরিয়াদ হইতে বাঁচার চেষ্টা করিবে। কেননা মাযলূমের ফরিয়াদ আর আল্লাহ তাআলার মধ্যে কোন আড়াল থাকে না। [বোখারী,মুসলিম] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ২১৪৯৬, মুসলিম ১৯, আবু দাউদ ১৫৮৪, আত তিরমিজি ৬২৫, নাসায়ী ২৫২২, ইবনি মাজাহ ১৭৮৩, সহীহ ইবনি খুযায়মাহ্ ২২৭৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭২৭৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৫৭, ইরওয়া ৭৮২, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ২২৯৮। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৭৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সোনা রূপার [নিসাব পরিমাণ] মালিক হবে অথচ তার হাক্ব [যাকাত] আদায় করিবে না তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন [তা দিয়ে] আগুনের পাত বানানো হবে। এগুলোকে জাহান্নামের আগুনে এমন ভাবে গরম করা হবে যেন তা আগুনেরই পাত। সে পাত দিয়ে তার পাঁজর,কপাল ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। তারপর এ পাত পৃথক করা হবে। আবার আগুনে উত্তপ্ত করে তার শরীরে লাগানো হবে। আর লাগানোর সময়ের মেয়াদ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। [এ অবস্থা চলবে] বান্দার [জান্নাত জাহান্নামের] ফায়সালা হওয়া পর্যন্ত। তারপর তাকে নেয়া হবে জান্নাত অথবা জাহান্নামে। সহাবীগণ আরয করিলেন,হে আল্লাহর রসূল! উটের বিষয়টি [যাকাত না দেবার পরিণাম] কি? রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ উটের মালিক যদি এর হাক্ব [যাকাত] আদায় না করে- যেদিন উটকে পানি খাওয়ানো হবে সেদিন তাকে দুহানোও তার একটা হাক্ব – ক্বিয়ামাতের দিন ওই ব্যক্তিকে সমতল ভূমিতে উটের সামনে মুখের উপর উপুড় করে ফেলা হবে। তার সবগুলো উট গুণে গুণে [আনা হবে] মোটা তাজা একটি বাচ্চাও কম হবে না। এসব উট মালিককে পায়ের নিচে ফেলে পিষতে থাকিবে, দাঁত দিয়ে কামড়াবে। এ উটগুলো চলে গেলে,আবার আর একদল উট আসবে। যে দিন এমন ঘটবে,সে দিনের মেয়াদ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। এমনকি বান্দার হিসাব-নিকাশ শেষ হয়ে যাবে। তারপর ঐ ব্যক্তি জান্নাত অথবা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হবে। সহাবীগণ আরয করিলেন,হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের যাকাত আদায় না করলে [মালিকদের] কি অবস্থা হবে? তিনি বললেন,যে ব্যক্তি গরু-ছাগলের মালিক হয়ে এর হাক্ব [যাকাত] আদায় করে না ক্বিয়ামাতের দিন তাকে সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলা হবে। তার সব গরু ও ছাগলকে [ওখানে আনা হবে] একটুও কম-বেশি হবে না। গরু-ছাগলের শিং বাঁকা কিংবা ভঙ্গ হবে না। শিং ছাড়াও কোনটা হবে না। এসব গরু ছাগল শিং দিয়ে মালিককে গুতো মারতে থাকিবে,খুর দিয়ে পিষবে। এভাবে একদলের পর আর একদল আসবে। এ সময়ের মেয়াদও হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। এর মধ্যে বান্দার হিসাব-নিকাশ হয়ে যাবে। তারপর ঐ ব্যক্তি জান্নাত অথবা জাহান্নামে তার গন্তব্য দেখিতে পাবে।

সহাবীগণ আরয করিলেন,হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়ার অবস্থা কি হবে? রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ ঘোড়া তিন প্রকারের। প্রথমতঃ যা মানুষের জন্য গুনাহের কারণ হয়। দ্বিতীয়তঃ যা মানুষের জন্য পর্দা। আর তৃতীয়তঃ মানুষের জন্য সাওয়াবের কারণ।

গুনাহের কারণ ঘোড়া হলো ঐ মালিকের,যেগুলোকে সে মুসলিমদের ওপর গৌরব,অহংকার ও শৌর্যবীর্য দেখাবার জন্য পালন করে। আর যেগুলো মালিক-এর জন্য পর্দা হবে,সেগুলো ঐ ঘোড়া,যে সবের ঘোড়ার মালিক আল্লাহর পথে লালন পালন করে। সেগুলোর পিঠ ও গর্দানের ব্যাপারে আল্লাহর হাক্ব ভুলে যায় না। মানুষের জন্য সাওয়াবের কারণ ঘোড়া ব্যক্তির যে মালিক আল্লাহর পথের মুসলিমদের জন্য তা পালে। এদেরকে সবুজ মাঠে রাখে। এসব ঘোড়া যখন আসে ও চারণ ভুমিতে ঘাস খায়,তখন ওই [ঘাসের সংখ্যার সমান] সাওয়াব তার মালিক-এর জন্য লিখা হয়। এমনকি এদের গোবর ও পেশাবের পরিমাণও তার জন্য সাওয়াব হিসেবে লিখা হয়। সেই ঘোড়া রশি ছিঁড়ে যদি এক বা দুটি ময়দান দৌড়ে ফিরে,তখন আল্লাহ তায়ালা এদের কদমের চিহ্ন ও গোবরের [যা দৌড়াবার সময় করে] সমান সাওয়াব তার জন্য লিখে দেন। এসব ঘোড়াকে পানি পান করাবার জন্য নদীর কাছে নেয়া হয়,আর নদী হইতে পানি পান করে,তাহলে আল্লাহ তাআলা ঘোড়াগুলোর পান করা পানির পরিমাণ সাওয়াব ওই ব্যক্তির জন্য লিখে দেন। যদি মালিক-এর পানি পান করাবার ইচ্ছা নাও থাকে। সহাবীগণ আরয করিলেন,হে আল্লাহর রসূল! গাধার ব্যাপারে কি হুকুম? তিনি বললেন গাধার ব্যাপারে আমার ওপর কোন হুকুম নাযিল হয়নি। সকল নেক কাজের ব্যাপারে এ আয়াতটিই যথেষ্ট “যে ব্যক্তি এক কণা পরিমাণ নেক আমাল করিবে তা সে দেখিতে পাবে। আর যে ব্যক্তি এক কণা পরিমাণ বদ আমাল করিবে তাও সে দেখিতে পাবে”- [সূরাহ্ আয্ যিলযাল ৯৯ : ৭-৮]।{১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৯৮৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৪১৮, সহীহ আত তারগীব ৭৫৪, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৫৭২৯। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৭৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা ধন-সম্পদ দান করিয়াছেন,অথচ সে ঐ ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করেনি,সে ধন-সম্পদকে ক্বিয়ামাতের দিন টাকমাথা সাপে পরিণত হবে। এ সাপের দুচোখের উপর দুটি কালো দাগ থাকিবে [অর্থাৎ বিষাক্ত সাপ]। এরপর ঐ সাপ গলার মালা হয়ে ব্যক্তির দুচোয়াল আঁকড়ে ধরে বলবে,আমিই তোমার সম্পদ,আমি তোমার সংরক্ষিত ধন-সম্পদ। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করিলেন,অর্থাৎ “যারা কৃপণতা করে,তারা যেন মনে না করে এটা তাদের জন্য উত্তম বরং তা তাদের জন্য মন্দ। ক্বিয়ামতের দিন অচিরেই যা নিয়ে তারা কৃপণতা করছে তা তাদের গলায় বেড়ী করে পরিয়ে দেয়া হবে”। [সূরাহ্ আল ইমরান ৩ : ১৮০] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [বোখারী] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৪০৩, আহমাদ ৮৬৬১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩১১৩, সহীহ আত তারগীব ৭৬১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৬০। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৭৫. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তির উট,গরু ও ছাগল থাকিবে,আর সে এসবের হাক্ব [যাকাত] আদায় করিবে না। ক্বিয়ামাতের দিন এসব জন্তু খুব তরতাজা মোটাসোটা করে আনা হবে এবং তারা তাদের পা দিয়ে তাদের পিষবে। তাদের শিং দিয়ে গুতোবে। শেষ দলটি পিষে যাবার পর আবার প্রথম দলটি আসবে হিসাব-নিকাশ হওয়া পর্যন্ত [এভাবে চলতে থাকিবে]। [বোখারী,মুসলিম] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৪৬০, মুসলিম ৯৯০, আত তিরমিজি ৬১৭, নাসায়ী ২৪৪০, আহমাদ ২১৪৯১। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৭৬. জারীর ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাকাত আদায়কারী যখন তোমাদের নিকট যাকাত আদায় করিতে আসে তখন যেন তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে [যাকাত উসূল করে] ফিরে যায়। আর তোমরাও যেন সন্তুষ্ট ও খুশী থাকো। [মুসলিম] {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৯৮৯, নাসায়ী ২৪৬১, আহমাদ ১৯১৮৭। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৭৭. আবদুল্লাহ ইবনি আবু আওফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,কোন ক্বওম নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে তাদের যাকাত নিয়ে এলে তিনি বলিতেন,“আল্ল-হুম্মা স-ল্লি আলা- আ-লি ফুলা-ন” [অর্থাৎ হে আল্লাহ! অমুকের ওপর রহ্‌মাত বর্ষণ করো]। আমার পিতাও যখন তার নিকট যাকাত নিয়ে এলেন তিনি বললেন,“আল্ল-হুম্মা সল্লি আলা- আ-লি আবী আওফা” [অর্থাৎ হে আল্লাহ! আবু আওফা ও তার বংশধরদের ওপর রহ্‌মাত বর্ষণ করো]। [বোখারী,মুসলিম] {১}

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে,যখন কোন ব্যক্তি তার নিজের যাকাত নিয়ে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে আসতেন,তিনি বলিতেন,“হে আল্লাহ! এ ব্যক্তির ওপর রহ্‌মাত বর্ষণ করো।”{১} সহীহ : বোখারী ১৪৯৭, ৬৩৫৯, মুসলিম ১০৭৮, আবু দাউদ ১৫৯০, নাসায়ী ২৪৫৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৬৫৭, ইরওয়া ৮৫৩, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৪৬৪৩। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৭৮.আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যাকাত আদায়ের জন্য উমার [রাদি.]-কে পাঠালেন। কেউ এসে খবর দিলো যে,ইবনি জামিল,খালিদ ইবনি ওয়ালীদ আর আব্বাস [রাদি.] যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে। [এ কথা শুনে] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ ইবনি জামিল এজন্য যাকাত দিতে অস্বীকার করিয়াছেন যে,[প্রথম দিকে] গরীব ছিল। এরপর আল্লাহ ও তাহাঁর রসূল তাকে সম্পদশালী করিয়াছেন। আর খালিদ ইবনি ওয়ালীদ-এর ব্যাপার হলো,তোমরা তার ওপর যুল্‌ম করছ। সে তো তার যুদ্ধসামগ্রী আল্লাহর পথে ওয়াক্‌ফ করে দিয়েছে [কাজেই তোমরা তার শুধু এ বছরই নয় বরং] এ রকম [আগামী বছর]ও। এরপর থাকে আব্বাস-এর বিষয়। তার এ বছরের যাকাত এবং এর সমপরিমাণ আমার দায়িত্বে। অতঃপর তিনি বললেন,হে উমার! তুমি কি জানো না কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার মতই। [বোখারী,মুসলিম] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৪৬৮, মুসলিম ৯৮৩, নাসায়ী ২৪৬৪, ইবনি খুযায়মাহ্ ২৩৩০, ইবনি হিব্বান ৩২৭৩, আহমাদ ৮২৮৪, দারাকুত্বনী ২০০৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১১৯১৬। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৭৯. আবু হুমায়দ আস্ সাইদী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,একবার নবী [সাঃআঃ] আয্‌দ গোত্রের ইবনুল লুত্‌বিয়াহ্‌ নামক ব্যক্তিকে যাকাত আদায় করার জন্য কর্মকর্তা নিযুক্ত করিলেন। সে [যাকাত উসূল করে] মাদীনায় ফিরে এসে [মুসলিমদের নিকট] বলিতে লাগল,এ পরিমাণ সম্পদ তোমাদের [যাকাত হিসেবে উসূল হয়েছে,তোমরা এর হাক্বদার]। আর এ পরিমাণ সম্পদ তুহফা হিসেবে আমাকে দেয়া হয়েছে [এটা আমার হাক্ব]। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [এসব কথা শুনে] লোকদের উদ্দেশে হাম্‌দ ও সানা পড়ে খুতবাহ্‌ দিলেন। তিনি [খুতবায়] বললেন,তোমাদের কিছু লোককে আমি ওসব কাজের জন্য নিয়োগ দিয়েছি যেসব কাজের জন্য আল্লাহ আমাকে হাকিম বানিয়েছেন। এখন তোমাদের এক ব্যক্তি এসে বলছে,এটা [যাকাত] তোমাদের জন্য,আর এটা হাদিয়্যাহ্‌। এ হাদিয়্যাহ্‌ আমাকে দেয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করো,সে ব্যক্তি তার পিতা অথবা মাতার বাড়িতে বসে রইল না কেন? তখন সে দেখত [তুহফা দানকারীরা] তাকে তার বাড়ীতেই তুহফা পৌঁছে দিয়ে যেত কিনা? ঐ মহান সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন। তোমাদের যে ব্যক্তি যে কোন জিনিস তদ্রুপ করিবে তা ক্বিয়ামাতের দিন তার গর্দানের উপর বহন করে নিয়ে আসবে। যদি তা উট হয় তাহলে তার আওয়াজ উটের আওয়াজ হবে। যদি তা গরু হয় তাহলে তার আওয়াজ গরুর আওয়াজ হবে। যদি তা বকরী হয় তাহলে বকরীর আওয়াজ হবে। [অর্থাৎ দুনিয়ার কোন জিনিস অন্যায়ভাবে গ্রহণ করলে,তা ক্বিয়ামাতের দিন তার ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কথা বলিতে থাকিবে]। এরপর রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার দুহাত এত উপরে উঠালেন যে,আমরা তার বগলের নিচের শুভ্রতা দেখিতে পেলাম। এরপর তিনি বললেন,হে আল্লাহ! আমি মানুষের কাছে কি তা পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি [তোমার কথা] কি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি? [বোখারী,মুসলিম] {১}

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বাণী,“তাকে জিজ্ঞেস করো,সে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার বাড়িতে বসে থাকল না কেন? তখন সে দেখত তুহফা তার বাড়ীতে পৌঁছে দিয়ে যায় কিনা?” এ সম্পর্কে খাত্ত্বাবী [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন,এ বাণী এ কথারই দলীল যে,কোন হারাম কাজের জন্য যে জিনিসকে উপায় বা ওয়াসিলা বানানো হয় সে উপায়ে বা ওয়াসিলাও হারাম। আরো বলা যায়,কোন একটি ব্যাপারকে অন্য একটি ব্যাপারের সাথে [যেমন-বেচাকেনা,বিয়ে-শাদী ইত্যাদি] সম্পর্কিত করলে দেখিতে হবে,সে ব্যাপারগুলোর কোন পৃথক পৃথক হুকুম এদের এক সাথে সম্পর্কিত হুকুমের সদৃশ কি-না। হলে তা জায়িয। আর না হলে না জায়িয। [শারহুস্‌ সুন্নাহ্‌]

{১} সহীহ : বোখারী ৭১৭৪, মুসলিম ১৮৩২, আবু দাউদ ২৯৪৬, মুসান্নাফ ইবনি আবী শায়বাহ্ ২১৯৬২, আহমাদ ২৩৫৯৮, ইবনি খুযায়মাহ্ ২৩৩৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৬৬৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৬৮। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৮০. আদী ইবনি উমায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি তোমাদের কাউকে কোন কাজের জন্য [যাকাত ইত্যাদি উসূল করার জন্য] নিয়োগ করলে,সে যদি একটি সূঁচ সমান বা এর চেয়ে ছোট বড় কোন জিনিস গোপন করে তা খিয়ানাত হবে। ক্বিয়ামাতের দিন তা [লাঞ্ছনা সহকারে] আনা হবে। [মুসলিম] {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ১৮৩৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৪৭৫, ইবনুর আবী শায়বাহ্ ২১৯৬৩, সহীহ আত তারগীব ৭৮১, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৬০২৪। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৭৮১. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,যখন এ আয়াত,অর্থাৎ “যেসব লোক সোনা-রূপা জমা করে রাখে”-[সূরাহ্‌ আত্‌ তাওবাহ্‌ ৯ : ৩৪] আয়াতের শেষ পর্যন্ত নাযিল হল তখন সহাবীগণ চিন্তিত হয়ে পড়ল। উমার [রাদি.] বলেন,আমি তোমাদের এ দুশ্চিন্তা নিরসন করে দিচ্ছি। তিনি নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট গেলেন। তাঁকে বললেন,হে আল্লাহর নবী! এ আয়াত তো আপনার সাথীদের জন্য ভারি বোঝা হয়েছে। [এ কথা শুনে] নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ আল্লাহ তাআলা [সকল ব্যয় নির্বাহের পর] অবশিষ্ট মাল পবিত্র করার ব্যবস্থা স্বরূপ তোমাদের ওপর যাকাত ফার্‌য করিয়াছেন। আল্লাহ তাআলা এজন্যই ওয়ারিস ঠিক করে দিয়েছেন। এরপর তিনি এ বাক্য উল্লেখ করিলেন,যেন তোমাদের পরবর্তীরা যাতে এ মালের মালিক হয়ে যায়। আব্বাস [রাদি.] বলেন,এ কথা শুনে উমার আল্ল-হু আকবার বলে উঠলেন। তারপর তিনি [সাঃআঃ] উমারকে বললেন,আমি কি তোমাকে মানুষের সবচেয়ে উত্তম গচ্ছিত বস্তু সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হলো চরিত্রবান স্ত্রী। স্বামী যখন তার প্রতি দৃষ্টিপাত করিবে খুশী হয়ে যাবে,তাকে কোন হুকুম করলে পালন করিবে,সে ঘরে না থাকলে তার ধন-সম্পদের সুরক্ষা করিবে। [আবু দাউদ] {১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ১৬৬৪, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৪৮৭। শায়খ আলবানী [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, হাদিসটির সানাদ বাহ্যিকভাবে সহীহ হলেও মূলত তা মালুল। কারণ গায়লান এবং জাফার ইবনি ইয়াস-এর মধ্যে অনুল্লোখিত একজন রাবী রয়েছে তিনি উসমান আবুল ইয়াক্বযান যিনি একজন দুর্বল রাবী। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৭৮২. জাবির ইবনি আতীক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কাছে একটি ছোট কাফিলা [যাকাত আদায়কারী প্রশাসক] আসবেন। এরা লোকদের কাছে অযাচিত বিবেচিত হবে। তাই যখন তারা তোমাদের কাছে আসবে তখন স্বাগত জানাবে। তাদের কাছে যাকাতের মাল এনে জমা করিবে। যদি তারা যাকাত উসূলে ইনসাফ করে তা তাদের উপকার করিবে। আর যদি যুল্‌ম করে তাহলে তার পরিণাম ভোগ করিবে। তোমরা যাকাত উসূলকারীদেরকে সন্তুষ্ট রাখবে। তোমাদের সকল সম্পদের যাকাত আদায় করাই হবে তাদের সন্তুষ্টির কারণ। যাকাত আদায়কারীদের উচিত হবে তোমাদের জন্য দুআ করা। [আবু দাউদ]{১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ১৫৮৮, ইবনি আবী শায়বাহ্ ৯৮৩৯, জইফ আত তারগীব ৪৭৯, জইফ আল জামি আস্ সগীর ৩২৯৭। শায়খ আলবানী [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন, এর সানাদে তিনটি ত্রুটি রয়েছে। প্রথমতঃ আবদুর রহমান ইবনি জাবির একজন মাজহূল রাবী যেমনটি হাফিয ইবনি হাজার [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন। দ্বিতীয়তঃ সখর ইবনি ইসহক একজন মাজহূল রাবী। তৃতীয়তঃ আবুল গুসন সম্পর্কে হাফিয ইবনি হাজার [রাহিমাহুল্লাহ] বলেনঃ সে সত্যবাদী তবে ধারণা প্রবণ। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৭৮৩. জারীর ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,[একবার] গ্রাম্য আরাবদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তারা জানান যে,যাকাত আদায়কারী কিছু লোক তাদের কাছে যায় এবং তারা তাদের ওপর যুল্‌ম করে। [এ কথা শুনে] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাদেরকে খুশী রাখো। তোমাদের সাথে যুল্‌ম করলেও তাদের খুশী করো। [আবু দাউদ] {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৯৮৯, আবু দাউদ ১৫৮৯, নাসায়ী ২৪৬০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৫৩০। সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৯০১। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৮৪. বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে সবিনয়ে জানালাম যে,যাকাত আদায়কারীরা যাকাতের ব্যাপারে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করে। [এ অবস্থায়] পরিমাণের চেয়ে যে মাল তারা বেশী নেয়,আমরা কি তা গোপন রাখতে পারি? তিনি বললেন,না। [আবু দাউদ] {১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ১৫৮৬। কারণ এর সানাদে দায়সাম একজন অপরিচিত রাবী। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৭৮৫. রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে প্রশাসক যথাযথভাবে যাকাত উসূল করে সে গাযীর মতো যতক্ষণ না সে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে। [আবু দাউদ ও [তিরমিজি] {১}

{১} হাসান সহীহ : আবু দাউদ ৭৭৩, আত তিরমিজি ৬৪৫, ইবনি মাজাহ ১৮০৯, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১০৭১৬, ইবনি খুযায়মাহ্ ২৩৩৪, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৪৭৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩১৭৬, সহীহ আত-তারগী ৭৭৩। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান সহীহ

১৭৮৬. আমর ইবনি শুআয়ব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তাহাঁর পিতার মাধ্যমে তাহাঁর দাদা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] ইরশাদ করেনঃ যাকাত উসূলকারীর কাছে চতুষ্পদ পশুকে টেনে আনবে না। কিংবা চতুষ্পদ পশুর মালিকগণও দূরে সরে থাকিবে না। এসব পশুর যাকাত তাদের অবস্থানে বসেই উসূল করিবে। [আবু দাউদ] {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ১৫৯১, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৭৪৮৪। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৮৭. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি কোন ধন-সম্পদ লাভ করিবে,এক বছর অতিবাহিত হবার আগে এ ধন-সম্পদের উপর তাকে যাকাত দিতে হবে না। [তিরমিজি;একদল লোক বলেছেন,এ হাদিসটির সানাদ ইবনি উমার পর্যন্ত পৌঁছেছে,রসূল [সাঃআঃ] পর্যন্ত নয়।] {১}

{১} সহীহ : আত তিরমিজি ৬৩১, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক্ব ৭০৩০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৩১৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৭৬। তবে আত তিরমিজি ব্যতীত বাকীরা অনেকে হাদিসটি মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৮৮. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,[একবার] এক বছর পরিপূর্ণ হবার আগে নিজের যাকাত দিতে পারা যাবে কিনা আব্বাস [রাদি.] তা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞাসা করিলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তখন তাকে অনুমতি দিলেন। [আবু দাউদ,তিরমিজি,ইবনি মাজাহ, দারিমী] {১}

{১} হাসান : আবু দাউদ ১৬২৪, আত তিরমিজি ৬৭৮, ইবনি মাজাহ ১৭৯৫, আহমাদ ৮২২, দারিমী ১৬৭৬, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৫৪৩১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৯৬৬। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

১৭৮৯. আমর ইবনি শুআয়ব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তাহাঁর পিতার মাধ্যমে তাহাঁর দাদা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে,নবী [সাঃআঃ] [একদিন] লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,সাবধান! যে ব্যাক্তি কোন ইয়াতীমের অভিভাবক হবে,[আর সে ইয়াতীমের যাকাত দেবার মতো ধন-সম্পদ হবে] সে যেন এই সম্পদকে ফেলে না রেখে ব্যবসায় খাটায়। কারণ ব্যবসা ছাড়া মাল আটকে রাখলে যাকাত দিতে দিতে তা শেষ হয়ে যাবে।[তিরমিযীঃ তিনি বলেন,এ হাদিসের সানাদের ব্যাপারে কথা আছে। কারণ এর একজন বর্ণনাকারী দুর্বল।] {১}

{১} জইফ : আত তিরমিজি ৬৪১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৩৩৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৮৯, জইফ আল জামি আস্ সগীর ২১৭৯। কারণ এর সানাদে আল মুসান্না ইবনি আস্ সববাহ একজন দুর্বল রাবী। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৭৯০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,নবী [সাঃআঃ]-এর ইন্তিকালের পর আবু বকর সিদ্দীক [রাদি.] খলীফাহ হন তখন আরাবের কিছু লোক যাকাত প্রদান করিতে অস্বীকৃতি জানায়। [আবু বকর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুনে] উমার [রাদি.] আবু বকর [রাদি.]-কে বললেন আপনি কীভাবে যুদ্ধ করিবেন? অথচ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে,মানুষ যে পর্যন্ত লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ [অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই-এ কথার] ঘোষণা না দিবে ততক্ষণ তাদের সাথে যুদ্ধ করিবে,যে ব্যক্তি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ বলিল সে নিজের ধন-সম্পদ ও জীবন আমার থেকে নিরাপদ করে নিলো। তবে ইসলামের কারণে হলে ভিন্ন কথা। আর এর হিসাব আল্লাহর কাছে। তখন আবু বকর [রাদি.] বললেন,আল্লাহর কসম যে ব্যক্তি নামাজ ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করিবে,আমি অবশ্য অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। কারণ নিঃসন্দেহে যাকাত সম্পদের হক। আল্লাহর কসম! তারা [যাকাত অস্বীকারকারীরা] যদি আমাকে একটি ছাগলের বাচ্চা দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সময় দিতো,তাহলেও আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। [তখন] উমার বললেন,আল্লাহর শপথ! যুদ্ধের এই সিদ্ধান্ত আল্লাহর তরফ থেকে আবু বকর-এর অন্তর্চক্ষু খুলে দেওয়া ছাড়া আর কিছু বলে আমি মনে করি না। [বোখারী,মুসলিম] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৯২৪-২৫, মুসলিম ২০, আবু দাউদ ১৫৫৬, আত তিরমিজি ২৬০৭, নাসায়ী ২৪৪৩, আহমাদ ১১৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৬৭। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৭৯১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন তোমাদের ধন-সম্পদ বিষধর সাপের রূপ ধারণ করিবে। মালিক এর থেকে পালিয়ে থাকিবে,আর সে মালিককে খুঁজতে থাকিবে। পরিশেষে সে মালিককে পেয়ে যাবে এবং তার আঙ্গুলগুলোকে লুকমা বানিয়ে মুখে পুরবে। [আহমাদ] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৯৫৮, আহমাদ ১০৮৫৫, ইবনি খুযায়মাহ্ ২২৫৪। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৯২. ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার মালের যাকাত আদায় করিবে না,কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা তার গলায় সাপ লটকিয়ে দেবেন। তারপর তিনি কালামে পাক থেকে এ অর্থের তিলাওয়াত করিলেন,অর্থাৎ “যারা আল্লাহর দেয়া মাল ব্যয়ে কৃপণতা করে,তারা যেন মনে না করে এ কাজ তাদের জন্য কল্যাণকর হয়েছে”-[সূরাহ আ-ল ইমরান ৩: ১৮০] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [তিরমিজি, নাসায়ী,ইবনি মাজাহ] {১}

{১} সহীহ : আত তিরমিজি ৩০১২, নাসায়ী ২৪৪১, ইবনি মাজাহ ১৭৮৪, সহীহুল জামি আস্ সগীর ৫৭১৯। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৭৯৩. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি,যে ধন-সম্পদের সাথে যাকাত মিশে যাবে নিশ্চয় তা তাকে ধ্বংস করে ছাড়বে। শাফিঈ,বোখারী,হুমায়দী; হুমায়দী বেশী এমন বর্ণনা করিয়াছেন যে,ঈমাম বোখারী বলেছেন,মালের উপর যাকাত ওয়াজিব হবার পর তোমরা যদি তা আদায় না করো তাহলে এ যাকাত সম্পদের সাথে মিশে যায়। তাই হারাম মাল হালাল মালকে ধ্বংস করে দেয়। যেসব সম্মানিত ব্যক্তিগণ এ কথা বলেন যে,যাকাত মূল মালের সাথে সম্পর্কিত। তারা এ হাদিসকে তাদের স্বপক্ষে দলীল মনে করেন। [মুনতাকা]{১}

শুআবুল ঈমানে ঈমাম বায়হাকী এ হাদিসটিকে ঈমাম আহমাদ ইবনি হাম্বাল হইতে আয়িশাহ [রাদি.] পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করিয়াছেন। বস্তুত ঈমাম আহমাদ [রাহিমাহুল্লাহ] এ হাদিসের শব্দ “কোন ব্যক্তির যাকাত গ্রহণের” ব্যাপারে এ দিয়েছেন যে, কেউ ধনী ও সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও যদি যাকাত গ্রহণ করে। প্রকৃতপক্ষে যাকাত ফকির-মিসকীন ও অন্যান্যদের হক।

{১} জইফ : মুসনাদ আশ্ শাফিঈ ৬০৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৬৬৬, শুআবুল ঈমান ৩২৪৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৬৩, জইফ আল জামি আস্ সগীর ৫০৫৭। মেশকাত শরীফ বাংলা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

By মিশকাত মুহিউস সুন্নাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply