ঝঞ্ঝাবায়ু ও মেঘ দেখে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা

ঝঞ্ঝাবায়ু ও মেঘ দেখে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা

ঝঞ্ঝাবায়ু ও মেঘ দেখে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ ঝঞ্ঝাবায়ু ও মেঘ দেখে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা আর বৃষ্টি বর্ষনে খুশি হওয়া

১৯৬৯

আত্বা ইবনি আবু রবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী আয়িশা [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর অবস্থা এরূপ ছিল যে, যখন কোন সময় দমকা হাওয়া ও মেঘের ঘনঘটা দেখা দিত, তাহাঁর চেহারায় একটা আতঙ্কের ভাব ফুটে উঠত এবং তিনি আগে পিছনে উদ্বিগ্ন হয়ে চলাফেরা করিতেন। এরপর যখন বৃষ্টি হতো খুশি হয়ে যেতেন, আর তাহাঁর থেকে এ অস্থিরতা দূর হয়ে যেত। আয়িশা [রাদি.] বলেন, আমি এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার আশঙ্কা হয় যে, আমার উম্মাতের ওপর কোন আযাব এসে পতিত হয় নাকি। তিনি বৃষ্টি দেখলে বলিতেন, এটা [আল্লাহর] রহমাত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৫৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৬১]

১৯৭০

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যখন বাতাস প্রবল আকার ধারণ করত, তখন নবী [সাঃআঃ] এভাবে দুআ করিতেন :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

“আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্‌আলুকা খয়রাহা- ওয়া খয়রা মা- ফীহা- ওয়া খয়রা মা- উর্‌সিলাত বিহী, ওয়া আঊযুবিকা মিন্‌ শার্‌রিহা- ওয়া শার্‌রি মা- ফীহা- ওয়া শার্‌রি মা- উর্‌সিলাত বিহী”– [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে মেঘের কল্যাণ কামনা করছি ও এর মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত আছে এবং যে কল্যাণের সাথে প্রেরিত হয়েছে তাও এবং তোমার কাছে এর অকল্যাণ ও এর মধ্যে যে অকল্যাণ নিহিত আছে এবং যে অকল্যাণ নিয়ে এসেছে তা থেকে আশ্রয় চাই।]

আয়িশা [রাদি.] বলেন, যখন আসমানে মেঘ বিদ্যুৎ ছেয়ে যেত তাহাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেত এবং তিনি ভিতরে বাইরে আগে পিছনে ইতস্ততঃ চলাফেরা শুরু করে দিতেন। এরপর যখন বৃষ্টি হতো তাহাঁর এ অবস্থা দূর হয়ে যেত। আয়িশা [রাদি.] বলেনঃ এ অবস্থা বুঝতে পেরে আমি তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিতেন, হে আয়েশাহ ! আমার আশঙ্কা এরূপ হয় নাকি যেরূপ আদ সম্প্রদায় বলেছিল। যেমন কুরআনে উদ্ধৃত হয়েছে, “যখন তারা এটাকে তাদের প্রান্তর অভিমুখে মেঘের আকারে এগিয়ে আসতে দেখল, তারা বলিল, এ মেঘ আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষাবে [পক্ষান্তরে তা ছিল আসমানী গজব]”- [সুরা আল আহ্‌ক্বা-ফ ৪৬:২৪]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৫৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৬২]

১৯৭১

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি কখনও নবী [সাঃআঃ] কে এরূপ পুরোপুরি হাসতে দেখিনি যাতে কণ্ঠনালী দেখা যায়। বরং তিনি [সাঃআঃ] মুচ্‌কী হাসতেন। আয়িশা [রাদি.] বলেন, যখন কালোমেঘ বা দমকা হাওয়া দেখিতেন, তাহাঁর চেহারায় অস্থির ভাব ফুটে উঠত। আয়েশাহ [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি দেখি লোকেরা মেঘ দেখে বেশ খুশী হয়ে যায় এ আশায় যে এতে বৃষ্টি হইবে। আর আপনাকে দেখি, আপনি যখন মেঘ দেখেন, আপনার চেহারায় আশঙ্কার ছাপ পরিলক্ষিত হয়। উত্তরে তিনি বলেন, হে আয়েশাহ! আমি এ কারণে নিরাপদ ও নিশ্চিন্তবোধ করি না যে, হইতে পারে এর মধ্যে কোন আযাব থাকতে পারে। এক সম্প্রদায়কে দমকা হাওয়ার মাধ্যমে আযাব দেয়া হয়েছে। আরেক সম্প্রদায় আসমানী আযাব দেখে বলেছিল- এই যে মেঘ তা আমাদের ওপর বর্ষিত হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৬৩]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply