মৃত ব্যক্তির গোসল পদ্ধতি এবং জানাযার সংবাদ পৌছানো

মৃত ব্যক্তির গোসল এবং জানাযার সংবাদ পৌছানো

মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর নিয়ম এবং জানাযার সংবাদ পৌছানো >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ২৩, জানাযা, অধ্যায়ঃ (১-১৩)=১৩টি

২৩/১. অধ্যায়ঃ জানাযা সম্পর্কিত এবং যার শেষ কথা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।
২৩/২. অধ্যায়ঃ জানাযায় অনুগমনের আদেশ।
২৩/৩. অধ্যায়ঃ কাফন পরানোর পর মৃত ব্যক্তির নিকট গমন করা
২৩/৪. অধ্যায়ঃ মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের নিকট তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছানো।
২৩/৫. অধ্যায়ঃ জানাযার সংবাদ পৌছানো।
২৩/৬. অধ্যায়ঃ সন্তানের মৃত্যুতে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণের ফযীলত।
২৩/৭. অধ্যায়ঃ কবরের নিকট কোন মহিলাকে বলা, ধৈর্য ধর।
২৩/৮. অধ্যায়ঃ বরই পাতার পানি দিয়ে মৃতকে গোসল ও উযূ করানো।
২৩/৯. অধ্যায়ঃ বিজোড় সংখ্যায় গোসল দেয়া মুস্‌তাহাব
২৩/১০. অধ্যায়ঃ মৃত ব্যক্তির (গোসল) ডান দিক হইতে আরম্ভ করা।
২৩/১১. অধ্যায়ঃ মৃত ব্যক্তির উযূর স্থানসমূহ
২৩/১২. অধ্যায়ঃ পুরুষদের ইযার দিয়ে মহিলার কাফন দেয়া যাবে কি?
২৩/১৩. অধ্যায়ঃ গোসলে শেষবারের কর্পূর ব্যবহার করা।

২৩/১. অধ্যায়ঃ জানাযা সম্পর্কিত এবং যার শেষ কথা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।

ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-কে জিজ্ঞেস করা হল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কি জান্নাতের চাবি নয়? উত্তরে তিনি বলিলেন, অবশ্যই। তবে যে কোন চাবির দাঁত থাকে। তুমি দাঁত যুক্ত চাবি [১] আনতে পারলে তোমার জন্য (জান্নাতের) দরজা খুলে দেয়া হইবে। অন্যথায় তোমার জন্য খোলা হইবে না।

[১] দাঁত বিশিষ্ট চাবি বলিতে যাবতীয় সৎকর্মকে বুঝানো হয়েছে।

১২৩৭. আবু যার্‌ (গিফারী) (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেনঃ একজন আগন্তুক [জিবরীল (আঃ)] আমার প্রতিপালকের নিকট হইতে এসে আমাকে খবর দিলেন অথবা তিনি বলেছেন, আমাকে সুসংবাদ দিলেন, আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে? তিনি বললেনঃ যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে। [২]

[২] কৃত কর্মের শাস্তি ভোগ অথবা ক্ষমা লাভের পরই সে জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে। কারণ কবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হলেই মানুষ ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় না। হাদীসটি মুসলিম নামধারী চরমপন্থী দল খারিজীদের আকীদার প্রতিবাদে একটি মযবুত দলীল। ওদের ধারনা মানুষ কবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হলেই কাফির হয়ে যায় (নাউযুবিল্লাহ)।

১২৩৮. আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন; আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যে আল্লাহর সঙ্গে শির্‌ক করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে। আমি বললাম, যে আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুর শির্‌ক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।

২৩/২. অধ্যায়ঃ জানাযায় অনুগমনের আদেশ।

১২৩৯. বারাআ ইবনু আযিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) সাতটি বিষয়ে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে আমাদের নিষেধ করিয়াছেন। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন- ১. জানাযার অনুগমন করিতে, ২. রুগ্ন ব্যক্তির খোঁজ-খবর নিতে, ৩. দাওয়াত দাতার দাওয়াত গ্রহণ করিতে, ৪. মাযলূমকে সাহায্য করিতে, ৫. কসম হইতে দায়মুক্ত করিতে, ৬. সালামের জবাব দিতে এবং ৭. হাঁচিদাতাকে (ইয়ারহামুকাল্লাহু বলে) সন্তুস্ট করিতে। আর তিনি নিষেধ করিয়াছেন- ১. রৌপ্যের পাত্র [১] ,২. স্বর্ণের আংটি, ৩. রেশম, ৪. দীবাজ, ৫. কাস্‌সী (কেস্‌ রেশম), ৬. ইস্‌তিবরাক (তসর জাতীয় রেশম) [২] ব্যবহার করিতে। [৩]

[১] স্বর্ণের অলংকার ও রেশমের পোশাক পুরুষদের জন্য হারাম, নারীদের জন্যে বৈধ। তবে শরীরে চুলকানী বা ঘা ইত্যাদির কারণে পুরুষদের জন্যেও রেশমের পোশাক ব্যবহার বৈধ।

[২] স্বর্ণ-রৌপ্যের পাত্র সকল মুসলমানদের জন্য হারাম। তবে কোন পাত্র ভেঙ্গে গেলে তা সোনা-রূপার তার দিয়ে জোড়া ও ঝালাই দেয়া জায়িয।

[৩] এ হাদীসে নিষেধকৃত ছয়টির উল্লেখ করা আছে। সপ্তম বিষয়টি এই কিতাবের সোনার আংটি অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।

১২৪০. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি যে, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক্‌ পাঁচটিঃ

১. সালামের জবাব দেয়া,

২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেয়া,

৩. জানাযার পশ্চাদানুসরণ করা,

৪. দাওয়াত কবূল করা এবং

৫. হাঁচিদাতাকে খুশী করা (আল-হামদুলিল্লাহর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা)।

আবদুর রায্‌যাক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমর ইবনু আবু সালামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর অনুসরণ করিয়াছেন। আবদুর রায্‌যাক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমাকে মামার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) -এরূপ অবহিত করিয়াছেন এবং এ হাদীস সালামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উকাইল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে রিওয়ায়াত করিয়াছেন।

২৩/৩. অধ্যায়ঃ কাফন পরানোর পর মৃত ব্যক্তির নিকট গমন করা

১২৪১. আবু সালামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাদি.) আমাকে বলেছেন, (রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর মৃত্যুর খবর পেয়ে) আবু বকর (রাদি.) সুন্হ -এ অবস্থিত তাহাঁর বাড়ি হইতে ঘোড়ায় চড়ে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করিলেন। সেখানে লোকজনদের সঙ্গে কোন কথা না বলে আয়েশা (রাদি.)-এর ঘরে প্রবেশ করে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি হিবারাহ ইয়ামানী চাদরে আবৃত ছিলেন। আবু বকর (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ)-এর মুখমন্ডল উন্মুক্ত করে তাহাঁর উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, অতঃপর ক্রন্দন করিতে লাগলেন এবং বলিলেন, হে আল্লাহর নাবী ! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্র করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য অবধারিত ছিল তা তো আপনি কবূল করিয়াছেন।

আবু সালামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) আমাকে খবর দিয়েছিলেন যে, (তারপর) আবু বকর (রাদি.) বাহিরে এলেন। তখন উমর (রাদি.) লোকজনের সাথে বাক্যালাপ করছিলেন। আবু বকর (রাদি.) তাঁকে বলিলেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবু বকর (রাদি.) তাঁকে বলিলেন, বসে পড়ুন, তিনি তা মানলেন না। তখন আবু বকর (রাদি.) কালিমা-ই-শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করিলেন। লোকেরা উমর (রাদি.)-কে ছেড়ে তাহাঁর দিকে আকৃষ্ট হন। আবু বকর (রাদি.) বলিলেন…..আমমা বাদু , তোমাদের মাঝে যারা মুহাম্মাদ (সাঃআঃ)-এর ইবাদত করিতে, মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) সত্যই মারা গেছেন। আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করিতে, নিশ্চয় আল্লাহ চিরঞ্জীব, অমর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ

وَمَا مُحَمَّدٌ الَّا رَسُوْلُ اِلى الشَّاكِرِينَ

(যার অর্থ) মুহাম্মাদ একজন রাসুল মাত্র আর কিছু নন। তার পূর্বেও অনেক রাসুল চলে গেছেন। অতএব যদি তিনি মারা যান অথবা নিহত হন তাহলে কি তোমরা পায়ের গোড়ালিতে ভর করে পেছনে ফিরে যাবে? আর যদি কেউ সেরূপ পেছনে ফিরেও যায়, তবে সে কখনও আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করিতে পারবে না। আল্লাহ অতি সত্বর কৃতজ্ঞদের পুরস্কার দিবেন-(আল-ইমরানঃ ১৪৪)। আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবু বকর (রাদি.)-এর তিলওয়াত করার পূর্বে লোকদের জানাই ছিল না যে, আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করিয়াছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াতখানি তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলায়াত করিতে শোনা গেল।

১২৪২. See previous Hadith. আবু সালামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাদি.) আমাকে বলেছেন, (রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর মৃত্যুর খবর পেয়ে) আবু বকর (রাদি.) সুন্হ -এ অবস্থিত তাহাঁর বাড়ি হইতে ঘোড়ায় চড়ে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করিলেন। সেখানে লোকজনদের সঙ্গে কোন কথা না বলে আয়েশা (রাদি.)-এর ঘরে প্রবেশ করে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি হিবারাহ ইয়ামানী চাদরে আবৃত ছিলেন। আবু বকর (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ)-এর মুখমন্ডল উন্মুক্ত করে তাহাঁর উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, অতঃপর ক্রন্দন করিতে লাগলেন এবং বলিলেন, হে আল্লাহর নাবী ! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্র করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য অবধারিত ছিল তা তো আপনি কবূল করিয়াছেন।

আবু সালামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) আমাকে খবর দিয়েছিলেন যে, (তারপর) আবু বকর (রাদি.) বাহিরে এলেন। তখন উমর (রাদি.) লোকজনের সাথে বাক্যালাপ করছিলেন। আবু বকর (রাদি.) তাঁকে বলিলেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবু বকর (রাদি.) তাঁকে বলিলেন, বসে পড়ুন, তিনি তা মানলেন না। তখন আবু বকর (রাদি.) কালিমা-ই-শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করিলেন। লোকেরা উমর (রাদি.)-কে ছেড়ে তাহাঁর দিকে আকৃষ্ট হন। আবু বকর (রাদি.) বলিলেন…..আমমা বাদু , তোমাদের মাঝে যারা মুহাম্মাদ (সাঃআঃ)-এর ইবাদত করিতে, মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) সত্যই মারা গেছেন। আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করিতে, নিশ্চয় আল্লাহ চিরঞ্জীব, অমর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ وَمَا مُحَمَّدٌ الَّا رَسُوْلُ——– اِلى الشَّاكِرِينَ (যার অর্থ) মুহাম্মাদ একজন রাসুল মাত্র আর কিছু নন। তার পূর্বেও অনেক রাসুল চলে গেছেন। অতএব যদি তিনি মারা যান অথবা নিহত হন তাহলে কি তোমরা পায়ের গোড়ালিতে ভর করে পেছনে ফিরে যাবে? আর যদি কেউ সেরূপ পেছনে ফিরেও যায়, তবে সে কখনও আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করিতে পারবে না। আল্লাহ অতি সত্বর কৃতজ্ঞদের পুরস্কার দিবেন-(আল-ইমরানঃ ১১৪)। আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবু বকর (রাদি.)-এর তিলওয়াত করার পূর্বে লোকদের জানাই ছিল না যে, আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করিয়াছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াতখানি তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলায়াত করিতে শোনা গেল।

১২৪৩. আনসারী মহিলা ও নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট বাইআতকারী উম্মুল আলা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

(মদীনায় হিজরতের পর) লটারীর মাধ্যমে মুহাজিরদের বন্টন করা হচ্ছিল। তাতে উসমান ইবনু মাযউন (রাদি.) আমাদের অংশে পড়লেন, আমরা (সাদরে) তাঁকে আমাদের গৃহে স্থান দিলাম। এক সময়ে তিনি সেই রোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে তাহাঁর মৃত্যু হল। যখন তাহাঁর মৃত্যু হল এবং তাঁকে তাঁকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হল, তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) প্রবেশ করিলেন। তখন আমি বললাম, হে আবাস্-সায়িব! আপনার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক! আপনার ব্যাপারে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করিয়াছেন। তখন নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করিয়াছেন? আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান, হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে আল্লাহ আর কাকে সম্মানিত করবেন? আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বললেনঃ তার ব্যাপার তো এই যে, নিশ্চয় তাহাঁর মৃত্যু হচ্ছে এবং আল্লাহর কসম! আমি তার জন্য কল্যাণ কামনা করি। আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হইবে, অথচ আমি আল্লাহর রাসুল। সেই আনসারী মহিলা বলেন, আল্লাহর কসম! অতঃপর এরপর হইতে কোন দিন আমি কোন ব্যক্তিকে সম্বন্ধে পবিত্র বলে মন্তব্য করব না।

১২৪৩/১. সাঈদ ইবনু উফাইর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) লায়স (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সুত্রে ঐরূপ বর্ণনা করেন। আর নাফি ইবনু ইয়াযীদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উকাইল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সূত্রে বলেন। তার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হইবে? [১] শুয়াইব, আমর ইবনু দীনার ও মামার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উকাইল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-কে সমর্থন করিয়াছেন। (২৬৮৭, ৩৯২৯, ৭০০৩, ৭০০৪, ৭০১৮) (ই.ফা. ১১৭১)

[১] অর্থাৎ প্রথম বর্ণনায় রয়েছে  مَا يُفْعَلُ بِلىْ- আমর সংগে কি ব্যবহার করা হইবে ? আর দ্বিতীয় বর্ণনায় রয়েছে مَا يُفْعَلُ بِهِ – তাহাঁর সংগে কি ব্যবহার করা হইবে ?

১২৪৪. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (আঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (উহুদ যুদ্ধে) আমার পিতা আব্দুল্লাহ (রাদি.) শহীদ হয়ে গেলে আমি তাহাঁর মুখমন্ডল হইতে কাপড় সরিয়ে ক্রন্দন করিতে লাগলাম। লোকজন আমাকে নিষেধ করিতে লাগল। কিন্তু নাবী (সাঃআঃ) আমাকে নিষেধ করেননি। আমার ফুফী ফাতিমা (রাদি.) ও ক্রন্দন করিতে লাগলেন। এতে নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তুমি কাঁদ বা না-ই কাঁদ (উভয় সমান) তোমরা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তাঁদের ডানা দিয়ে ছায়া বিস্তার করে রেখেছেন। ইবনু জুরাইজ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সূত্রে জাবির (রাদি.) হইতে হাদীস বর্ণনায় শুবা (রাদি.) এর অনুসরণ করিয়াছেন।

২৩/৪. অধ্যায়ঃ মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের নিকট তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছানো।

১২৪৫. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাজাশী যেদিন মারা যান সেদিন-ই আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর মৃত্যুর খবর দেন এবং জানযার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবন্দী করে চার তাকবীর আদায় করিলেন।

১২৪৬. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) (মূতা যুদ্ধের অবস্থা বর্ণনায়) বললেনঃ যায়দ (রাদি.) পতাকা বহন করেছে অতঃপর শহীদ হয়েছে। অতঃপর জাফর (রাদি.) (পতাকা) হাতে নিয়েছে, সেও শহীদ হয়। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাদি.) (পতাকা) ধারণ করে এবং সেও শহীদ হয়। এ খবর বলছিলেন এবং আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাদি.) পরামর্শ ছাড়াই (পতাকা) হাতে তুলে নেন এবং তাহাঁর দ্বারাই বিজয় লাভ হয়।

২৩/৫. অধ্যায়ঃ জানাযার সংবাদ পৌছানো।

আবু রাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমরা আমাকে কেন খবর দিলে না?

১২৪৭. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মারা গেল। যার অসুস্থতার সময় আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) খোঁজ-খবর রাখতেন। তার মৃত্যু হয় এবং রাতেই লোকেরা তাঁকে দাফন করেন। সকাল হলে তাঁরা (এ বিষয়ে) নাবী (সাঃআঃ)-কে খবর দেন। তিনি বললেনঃ আমাকে খবর দিতে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তাঁরা বলিল, তখন ছিল রাত এবং গাঢ় অন্ধকার। তাই আপনাকে কস্ট দেয়া আমরা পছন্দ করিনি। তিনি ঐ ব্যক্তির কবরের নিকট গেলেন এবং তাহাঁর জন্য সালাতে জানাযা আদায় করিলেন। [৬]

[৬] হাদীসটিতে কেউ সালাতে জানাযা সময়মত আদায় করিতে না পারলে পরবর্তীতে কবরকে সামনে নিয়ে তা আদায় করিতে পারবে বলে প্রমানিত হলো। অনুরূপভাবে গায়িবানা জানাযা পড়ার বৈধতারও সমর্থন পাওয়া গেল।

২৩/৬. অধ্যায়ঃ সন্তানের মৃত্যুতে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণের ফযীলত।

আল্লাহ তাআলার বাণীঃ “আর সবরকারীদের সুসংবাদ প্রদান করুন” (আল-বাক্‌রাহ ১৫৫)

১২৪৮. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান সাবালিগ হবার পূর্বে মারা গেলে তাদের প্রতি তাহাঁর রহমত সরূপ অবশ্যই আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। [৭]

[৭] আমল ভাল থাকলে প্রবেশ করিতে পারবে। নতুবা ক্ষমার পরে অথবা জাহান্নামে গিয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার পরে প্রবেশ করিবে।

১২৪৯. আবু সাঈদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

মহিলাগণ আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) –এর নিকট নিবেদন করিলেন, আমাদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিন। অতঃপর তিনি একদা তাদের ওয়ায-নসীহত করিলেন এবং বললেনঃ যে স্ত্রীলোকের তিনটি সন্তান মারা যায়, তারা তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হইবে। তখন এক মহিলা প্রশ্ন করিলেন, দুটি সন্তান মারা গেলে? তিনি বলিলেন, দুটি সন্তান মারা গেলেও।

১২৫০. See previous Hadith. আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরা (রাদি.) সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা (রাদি.) বলেন, যারা বালিগ হয়নি।

১২৫১. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি (নাবালিগ) সন্তান মারা গেল, তবুও জাহান্নামে প্রবেশ করিবে,এমন হইবে না। তবে কেবল কসম পূর্ণ হবার পরিমাণ পর্যন্ত। আবু আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ وَاِنْ مِنْكُمْ الَّا وَارِدْهَا “তোমাদের প্রত্যেককেই তা অতিক্রম করিতে হইবে।”

২৩/৭. অধ্যায়ঃ কবরের নিকট কোন মহিলাকে বলা, ধৈর্য ধর।

১২৫২. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) একটি কবরের নিকট উপস্থিত এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্য ধর।

২৩/৮. অধ্যায়ঃ বরই পাতার পানি দিয়ে মৃতকে গোসল ও উযূ করানো।

ইবনু উমর (রাদি.) সাঈদ ইবনু যায়দ (রাদি.) এক (মৃত) পুত্রকে সুগন্ধি মাখিয়ে দিলেন, তাকে বহন করিলেন এবং জানাযার সালাত আদায় করিলেন অথচ তিনি (নতুন) উযূ করেননি। ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, জীবিত ও মৃত কোন অবস্থায়ই মুসলিম অপবিত্র নয়। সাদ (রাদি.) বলেন, (মৃতদেহ) অপবিত্র হলে আমি তা স্পর্শ করতাম না। আর নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ মুমিন অপবিত্র হয় না।

১২৫৩. উম্মু আতিয়্যা আনসারী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর কন্যা যায়নাব (রাদি.) ইনতিকাল করলে তিনি আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাঁকে তিনবার বা পাঁচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তাহাঁর চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবারে কর্পূর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করিবে। তোমরা শেষ করে আমাকে খবর দাও। আমারা শেষ করার পর তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাহাঁর চাদরখানি আমাদেরকে দিয়ে বললেনঃ এটি তাহাঁর শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও।

২৩/৯. অধ্যায়ঃ বিজোড় সংখ্যায় গোসল দেয়া মুস্‌তাহাব

১২৫৪. উম্মু আতিয়্যা আনসারী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর কন্যা যায়নাব (রাদি.) ইনতিকাল করলে তিনি আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাঁকে তিনবার বা পাঁচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। শেষবার কর্পূর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করিবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাহাঁর চাদরখানি আমাদের দিকে দিয়ে বললেনঃ এটি তাহাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও। আইয়ুব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, হাফসা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে মুহাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের ন্যায় হাদীস শুনিয়েছেন। তবে তাহাঁর হাদীসে আছে যে, তাকে বিজোড় সংখ্যায় গোসল দিবে। আরও আছে, তিনবার, পাঁচবার অথবা সাতবার কর; তাতে আরো আছে, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তোমরা তার ডান দিক হইতে এবং তার উযূর স্থানগুলো থেকে আরম্ভ করিবে।” তাতে, এ কথাও আছে। (বর্ণনাকারিণী) উম্মু আতিয়্যা (রাদি.) বলেছেন, আমরা তার চুলগুলো আঁচড়ে তিনটি গোছা করে দিলাম।

২৩/১০. অধ্যায়ঃ মৃত ব্যক্তির (গোসল) ডান দিক হইতে আরম্ভ করা।

১২৫৫. উম্মু আতিয়্যা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর কন্যার গোসলের ব্যাপারে ইরশাদ করেনঃ তোমরা তাহাঁর ডান দিক হইতে এবং উযূর অঙ্গসমূহ হইতে শুরু করিবে।

২৩/১১. অধ্যায়ঃ মৃত ব্যক্তির উযূর স্থানসমূহ

১২৫৬. উম্মু আতিয়্যা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাঃআঃ)-এর কন্যা [যায়নাব (রাদি.)]-এর গোসল দিতে যাচ্ছিলাম, গোসল দেয়ার সময় তিনি আমাদের বলেনঃ তোমরা তাহাঁর ডান দিক হইতে এবং উযূর স্থানগুলো হইতে শুরু করিবে।

২৩/১২. অধ্যায়ঃ পুরুষদের ইযার দিয়ে মহিলার কাফন দেয়া যাবে কি?

১২৫৭. উম্মু আতিয়্যা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)–এর কন্যার ইন্তিকাল হলে তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা তাকে তিনবার, পাঁচবার অথবা তোমরা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাকে জানালাম। তখন তিনি তার কোমর হইতে চাদর খুলে দিয়ে বললেনঃ এটি তার ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও।

২৩/১৩. অধ্যায়ঃ গোসলে শেষবারের কর্পূর ব্যবহার করা।

১২৫৮. উম্মু আতিয়্যা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর কন্যাগণের একজনের ইনতিকাল হল। নাবী (সাঃআঃ) সেখানে গেলেন এবং বললেনঃ তোমরা তাঁকে তিনবার, পাঁচবার অথবা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। শেষবারে কর্পূর (অথবা তিনি বলেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করিবে। গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। উম্মু আতিয়্যা (রাদি.) বলেন, আমরা শেষ করে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাহাঁর চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেনঃ এটি তাহাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরাও। আইয়ুব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হাফসা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সূত্রে উম্মু আতিয়্যা (রাদি.) একইভাবে বর্ণনা করেন।

১২৫৯. See previous Hadith. উম্মু আতিয়্যা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি ইরশাদ করেছিলেনঃ তাঁকে তিন, পাঁচ, সাতবার প্রয়োজনে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। হাফসা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, উম্মু আতিয়্যা (রাদি.) বলেন, আমরা তাহাঁর মাথার চুলে তিনটি গোছা (বেনী) [৮] বানিয়ে দিলাম।

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply