নতুন লেখা

মৃত্যুকে স্মরণ করা ও মৃত্যু কামনা করা

মৃত্যুকে স্মরণ করা ও মৃত্যু কামনা করা

মৃত্যুকে স্মরণ করা ও মৃত্যু কামনা করা >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৫, অধ্যায়ঃ ২

  • অধ্যায়ঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ

১৫৯৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারন সে নেক্কার হলে আরো বেশী নেক কাজ করার সুযোগ পাবে। আর বদকার হলে, [সে তাওবাহ করে] আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও রেযামন্দি হাসিল করার সুযোগ পাবে। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৭২৩৩, দারিমী ২৮০০, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১৯৫৮, সহীহ আত তারগীব ৩৩৬৯, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৭৬১০। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৫৯৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে আর তা আসার পূর্বে তাকে যেন আহ্বান না জানায়, কারন সে যখন মৃত্যুবরণ করিবে তার আমাল বন্ধ হয়ে যাবে। আর মুমিনের হায়াত বাড়লে তার ভাল কাজই বৃদ্ধি পায়। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ২৬৮২, আহমাদ ৮১৮৯, ইবনি হিব্বান ৩০১৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬৪, সহীহ আত তারগীব ৩৩৬৯, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৭৬১২। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬০০. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কোন দুঃখ-কষ্টের কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। যদি এ ধরনের আকাঙ্ক্ষা করিতেই হয় তাহলে যেন সে বলে,

اللّهُمَّ أَحْيِنِىْ مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِّيْ وَتَوَفَّنِىْ إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِّىْ

“আল্ল-হুম্মা আহয়িনী মা-কা-নাতিল হায়া-তু খায়রাল লী ওয়াতা ওয়াফফানী ইযা-কা-নাতিল ওয়াফা-তু খায়রাল লী” [অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার জীবনে আমার জন্য যতক্ষণ কল্যাণকর হয়, আমাকে বাঁচিয়ে রেখ। আর আমাকে মৃত্যুদান করো যদি মৃত্যুই আমার জন্য কল্যাণকর হয়।] {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৫৬৭১, মুসলিম ২৬৮০, আবু দাউদ ৩১০৮, আত তিরমিজি ৯৭০, নাসায়ী ১৮২০, ইবনি মাজাহ ৪২৬৫, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৩৪৭, আহমাদ ১১৯৭৯, ১৩০২০, ইবনি হিব্বান ৯৬৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬৫, শুআবুল ঈমান ৯৬৭৩, সহীহ আত তারগীব ৩৩৭০, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৭৬১১। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬০১. উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সান্নিধ্য পছন্দ করে, আল্লাহও তার সান্নিধ্য পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সান্নিধ্য অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সান্নিধ্য অপছন্দ করেন। [এ কথা শুনে] আয়িশাহ অথবা তাহাঁর স্ত্রীদের কেউ জিজ্ঞেস করিলেন, আমরাতো মৃত্যুকে অপছন্দ করি। তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ ব্যাপারটি তা নয়। বরং এর অর্থ হল। যখন মুমিনের মৃত্যু আসে তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সুসংবাদ দেয়া হয়। তখন সামনে তার এসব মর্যাদা হইতে বেশী পছন্দনীয় জিনিস আর কিছু থাকে না। তাই সে আল্লাহর সান্নিধ্য পছন্দ করে। আল্লাহও তার সান্নিধ্য পছন্দ করেন। আর কাফির ব্যক্তির মৃত্যু হাযির হলে, তাকে আল্লাহর আযাব ও তার পরিণতির খোশ খবর দেয়া হয়। তখন এ কাফির ব্যক্তির সামনে এসব খোশ খবরের চেয়ে বেশী অপছন্দনীয় জিনিস আর কিছু থাকে না। তাই সে যেমন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকে অপছন্দ করে আল্লাহ তাআলাও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। {১}

1] সহীহ : বোখারী ৬৫০৭, মুসলিম ২৬৪৩, আত তিরমিজি ২৩০৯, নাসায়ী ১৮৩৬, ১৮৩৭, আহমাদ ২২৭৪৪, দারিমী ২৭৯৮, ইবনি হিব্বান ৩০০৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৪৯, সহীহ আত তারগীব ৩৪৮৪, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৫৯৬৪। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬০২. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

“মৃত্যু হলো আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাতের অগ্রবর্তী”। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ২৬৮৪, আহমাদ ২৪১৭২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫০। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬০৩. আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক দিন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সামনে দিয়ে একটি জানাযাহ্‌ বহন করা হচ্ছিল তিনি [সাঃআঃ] [জানাযাহ্‌ দেখে] বললেন, এ ব্যক্তি শান্তি পাবে, অথবা এর থেকে অন্যরা শান্তি পাবে। সাহাবীগণ নিবেদন করিলেন, হে আল্লাহর রসুল! শান্তি পাবে কে, অথবা ওই ব্যক্তি কে যার থেকে অন্যরা শান্তি পাবে? তিনি[সাঃআঃ] বললেনঃ আল্লাহর মুমিন বান্দা মৃত্যুর দারা দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট হইতে আল্লাহর রহমাতের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে সে শান্তি পায়। আর গুনাহগার বান্দা মারা গেলে তার অনিষ্ট ও ফাসাদ হইতে মানুষ, শহর-বন্দর গাছ-পালা ও জন্তু – জানোয়ার সবকিছুই শান্তি লাভ করে। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৫১২, মুসলিম ৯৫০, নাসায়ী ১৯৩০, মুয়াত্ত্বা মালিক ২৮০, আহমাদ ২২৫৭৬, সহীহ ইবনি হিব্বান ৩০১২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৭৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫৩, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৫৮৭২। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬০৪. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদা হাত দিয়ে আমার দুকাঁধ ধরলেন। তারপর বললেন, দুনিয়ায় তুমি এমনভাবে থাকো, যেমন-তুমি একজন গরীব অথবা পথের পথিক। [এরপর থেকে] ইবনি উমার [মানুষদেরকে] বলিতেন, “সন্ধ্যা হলে আর সকালের অপেক্ষা করিবে না। আর যখন সকাল হবে, সন্ধার অপেক্ষা করিবে না। নিজের সুস্থতার সুযোগ গ্রহন করিবে অসুস্থতার আগে ও জীবনের সুযোগ গ্রহন করিবে মৃত্যুর আগে। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৪১৬, আত তিরমিজি ২৩৩৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫১২, শুআবুল ঈমান ৯৭৬৪, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ১১৫৭, সহীহ আত তারগীব ৩৩৪১, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৪৫৭৯। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬০৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে মৃত্যুর তিনদিন আগে এ কথা বলিতে শুনিয়াছি। তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর ভাল ধারণা পোষণ করা ছাড়া তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুবরণ না করে। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ২৮৭৭, আবু দাউদ ৩১১৩, ইবনি মাজাহ ৪১৬৭, ইবনি হিব্বান ৬৩৮, সহীহ আত তারগীব ৩৩৮৫, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৭৭৯২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫৫। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৬০৬. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] [আমাদেরকে উদ্দেশ করে] বললেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের দিন মুমিনদেরকে সর্বপ্রথম যে কথাটি বলবেন, তোমরা চাইলে আমি তা তোমাদের বলে দিতে পারি। আমরা বললাম, অবশ্যই বলবেন, হে আল্লাহর রসুল! তিনি বললেন, আল্লাহ মুমিনদেরকে বলবেন, তোমরা কি আমার সাক্ষাৎকে ভালবাসতে? মুমিনগণ আরয করিবেন, হে আমাদের রব অবশ্যই [আমরা আপনার সাক্ষাতকে ভালবাসতাম]! আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমরা কেন আমার সাক্ষাতকে ভালবাসতে? মুমিনরা বলবে, আমরা আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা করেছি, তাই। এ কথা শুনে আল্লাহ বলবেন, তোমাদের জন্য মাগফিরাত মঞ্জুর করা আমার উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। {১}

{১} জইফ : আহমাদ ২২০৭২, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫২, সিলসিলাহ্ আয্ যঈফাহ্ ৬১২৫, জইফ আত তারগীব ১৯৭৩, জইফ আল জামি আস্ সগীর ১২৯৪। শায়খ আলবানী [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এর সানাদে উবায়দুল্লাহ বিন যাহার রয়েছে যাকে ঈমাম আহমাদ, ইবনি হিব্বান [রাহিমাহুল্লাহ]-সহ আরো অনেকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করিয়াছেন। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬০৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ বলেছেনঃ তোমরা দুনিয়ার ভোগবিলাস বিনষ্টকারী জিনিস, মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করো। {১}

{১} হাসান সহীহ : আত তিরমিজি ২৩০৭, নাসায়ী ১৮২৪, ইবনি আবী শায়বাহ্ ৩৪৩২৭, আহমাদ ৭৯২৫, ইবনি হিব্বান ২৯১২, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৯০৯, আত তিরমিজি ৩৩৩৩, সহীহু আল জামি আস্ সগীর ১২১০।এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান সহীহ

১৬০. ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার নবী [সাঃআঃ] সহাবীদের উদ্দেশ্যে বললেন, আল্লাহর সাথে লজ্জা করার মত লজ্জা করো। সহাবীগণ বললেন, আমরা আল্লাহর সাথে লজ্জা করছি, হে আল্লাহর রসূল! সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেন, লজ্জার মতো লজ্জা এটা নয় যা তোমরা বলছ। বরং প্রকৃত লজ্জা এমন যে, যখন ব্যক্তি লজ্জার হাক্ব আদায় করে সে যেন মাথা ও মাথার সাথে যা কিছু আছে তার হিফাযত করে। পেট ও পেটের সাথে যা কিছু আছে তারও হিফাযত করে। তার উচিৎ মৃত্যু ও তার হাড়গুলো পঁচে গলে যাবার কথা স্মরন করে। যে ব্যক্তি পরকালের কল্যান চায়, সে যেন দুনিয়ার চাকচিক্য ও জৌলুশ ছেড়ে দেয়। অতএব, যে ব্যক্তি এসব কাজ করিল, সে ব্যক্তিই আল্লাহ সাথে লজ্জার হাক্ব আদায় করিল। {১}

{১} হাসান লিগায়রিহী : আত তিরমিজি ২৪৫৮, ইবনি আবী শায়বাহ্ ৩৪৩২০, আহমাদ ৩৬৭১, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৯১৫, সহীহ আত তারগীব ১৭২৪, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৯৩৫।এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান লিগাইরিহি

১৬০৯. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত্যু হল মুমিনের উপহার। {১}

{১} জইফ : মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৯০০, শুআবুল ঈমান ৯৭৩০, ৯৪১৮, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৫৪, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৬৮৯০, জইফ আত তারগীব ২০৪৪, জইফ আল জামি আস্ সগীর ২৪০৪। কারণ এর সানাদে আবদুর রহমান বিন যিয়াদ আল ইফরিক্বী রয়েছে যিনি একজন দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬১০. বুরায়দাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, মুমিন কপালের ঘামের সাথে মৃত্যুবরণ করে।{১}

{১} সহীহ : আত তিরমিজি ৯৪২, নাসায়ী ১৮২৯, ইবনি মাজাহ ১৪৫২, আহমাদ ২২৯২৪, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৬৬৬৫। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬১১. উবায়দুল্লাহ ইবনি খালিদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আকস্মিক মৃত্যু [আল্লাহর গযবের] পাকড়াও। {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ৩১১০, আহমাদ ১৭৯২৪, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৬৬৩১। তবে রযীনের অংশটুকু জইফ। আহমাদ ২৪৬২১, জইফ আল জামি আস্ সগীর ৫৮৯৬। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৬১২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদিন এক যুবকের কাছে গেলেন। যুবকটি সে সময়ে মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিল। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বললেন, এখন তোমার মনের অবস্থা কী? যুবকটি উত্তর দিলো, আমি আল্লাহর রহমাতের প্রত্যাশী হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু এরপরও আমি আমার গুনাহখাতার জন্য ভয় পাচ্ছি। তখন তিনি [সাঃআঃ] বলেন, এ সময়ে এ যুবকের মতো যে আল্লাহর বান্দার মনে ভয় ও আশার সঞ্চার হয় আল্লাহ তাআলা তাকে তাই দান করেন, সে গুনাহকে ভয় করে এবং আশা পোষন করে। {১}

{১} হাসান : আত তিরমিজি ৯৮৩, ইবনি মাজাহ ৪২৬১, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১০৮৩৪। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

অধ্যায়ঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৬১৩. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা মৃত্যু কামনা করো না। কেননা মৃত্যু যন্ত্রনা খুবই কঠিন জিনিস। মানুষের জীবন দীর্ঘ হওয়া নিশ্চয় সৌভাগ্যেরই ব্যাপার। আল্লাহ তাআলা তাকে তাহাঁর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে নেন। {১}

{১} জইফ : আহমাদ ১৪৫৬৪, শুআবুল ঈমান ১০১০৫, সিলসিলাহ্ আয্ যঈফাহ্ ৪৯৭৯, জইফ আত তারগীব ১৯৬৩। শায়খ আলবানী [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, এর সানাদে কাসীর বিন যায়দ স্মৃতিশক্তি ত্রুটিজনিত কারণে একজন দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬১৪. আবু উমামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলাম। তিনি আমাদের অনেক নসীহাত করিলেন। আখিরাতের ভয় দেখিয়ে আমাদের মনকে বিগলিত করে ফেললেন। এ অবস্থায় সাদ ইবনি আবী ওয়াক্কাস কাঁদতে লাগলেন এবং বেশ কতক্ষন কাঁদলেন। তারপর বললেন, হায়! আমি যদি [শিশুকালেই] মারা যেতাম [তাহলে তো গুনাহ করতাম না আখিরাতের আযাব হইতেও মুক্ত থাকতাম]। এ কথা শুনে নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ হে সাদ! তুমি আমার সামনে মৃত্যু কামনা করলে? এ বাক্যটি তিনি তিনবার বললেন। তারপর তিনি বললেন, সাদ! তোমাকে যদি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, তাহলে তোমার বয়স যত দীর্ঘ হবে এবং যত ভাল আমাল তুমি করিবে ততই তোমার জন্য উত্তম হবে। {১}

{১} জইফ : আহমাদ ২২২৯৩, ত্ববারানী ৭৮৭০। কারণ এর সানাদে আলী বিন ইয়াযীদ একজন দুর্বল রাবী।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১৬১৫. হারিসাহ্ ইবনি মুযাররাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার খাব্বাব [রাদি.]-এর নিকট গেলাম [সে সময়ে তিনি অসুস্থ ছিলেন]। তিনি তার শরীরের সাত জায়গায় দাগ লাগিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, আমি যদি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে তোমরা মৃত্যু কামনা করো না কথাটি না শুনতাম, তাহলে অবশ্যই মৃত্যু কামনা করতাম। আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে আমার নিজেকে এরুপ পেয়েছি যে, আমি একটি দিরহামেরও মালিক ছিলাম না। আর এখন আমার ঘরের কোণেই চল্লিশ হাজার দিরহাম পড়ে আছে। হারিসাহ বলেন, তারপর খাবাব্বের কাছে তার কাফনের কাপড় আনা হলো [যা খুবই উত্তম দামী কাপড় ছিল] তিনি তা দেখে কাঁদতে লাগলেন এবং বলিতে লাগলেন, যদিও এ কাপড় জায়িয কিন্তু হামযাহ [রাদি.]-এর জন্য পুরো কাফনের কাপড় পাওয়া যায়নি। শুধু একটি কালো ও সাদা পুরাতন চাদর ছিল। তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা খালি হয়ে যেত। আবার পা ঢাকলে মাথা খালি হয়ে যেত। অবশেষে এ চাদর দিয়েই মাথা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। আর পা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল ইযখার ঘাস দিয়ে। {১}

{১} সহীহ : আত তিরমিজি ৯৭০, আহমাদ ২১০৭২। মৃত্যুকে স্মরণ করা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

হজ্জ পর্ব

হজ্জ পর্ব হজ্জ পর্ব >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন পর্ব-১১ হজ্জ পর্বঅধ্যায়বিষয়হাদিস সংখ্যা১১১-১৫হজ্জ পর্ব(২৫০৫-২৭৫৮)=২৫৪১১০হজ্জ ১১১ইহরাম ও …

Leave a Reply

%d bloggers like this: