মৃতের নিকট কী বলা যাবে? এবং মৃতের পরিজনরা কী বলবে?‎

মৃতের নিকট কী বলা যাবে? এবং মৃতের পরিজনরা কী বলবে?‎

মৃতের নিকট কী বলা যাবে? এবং মৃতের পরিজনরা কী বলবে?‎ >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ১৫১ঃ মৃতের চোখ বন্ধ করার পর দো‘আ
পরিচ্ছেদ – ১৫২ঃ মৃতের নিকট কী বলা যাবে? এবং মৃতের পরিজনরা কী বলবে?‎
পরিচ্ছেদ – ১৫৩ঃ মৃতের জন্য মাতমবিহীন কান্না বৈধ
পরিচ্ছেদ – ১৫৪ঃ মৃতের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা নিষেধ

পরিচ্ছেদ – ১৫১ঃ মৃতের চোখ বন্ধ করার পর দো‘আ

৯২৪. উম্মে সালামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ আবু সালামার নিকট গেলেন। তখন তাঁর (আত্মা বের হওয়ার পর) চোখ খোলা ছিল। নবী সাঃআঃ তা বন্ধ করার পর বললেন, ‘‘যখন (কারো) প্রাণ নিয়ে নেওয়া হয়, তখন চোখ তার দিকে তাকিয়ে থাকে।’’ (এ কথা শুনে) তাঁর পরিবারের কিছু লোক চিল্লিয়ে কাঁদতে আর‎ম্ভ করল। নবী সাঃআঃ বললেন, ‘‘তোমরা নিজেদের আত্মার জন্য মঙ্গলেরই দো‘আ কর। কেননা, ফিরিশ্‌তাবর্গ তোমাদের কথার উপর ‘আমীন’ বলেন।’’ অতঃপর তিনি এই দো‘আ বললেন,

اَللهم اغْفِرْ لأَبِي سَلَمَة، وَارْفَعْ دَرَجَتْهُ فِي المَهْدِيِّينَ، وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبهِ فِي الغَابِرِينَ، وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ العَالَمِينَ، وَافْسَحْ لَهُ في قَبْرِهِ، وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ

‘আল্লা-হুম্মাগফির লি আবী সালামাহ, (এখানে মৃতের নাম নিতে হবে) অরফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিইয়্যীন, ওয়াখলুফহু ফী আক্বিবিহী ফিল গা-বিরীন, অগফির লানা অলাহু ইয়া রাব্বাল ‘আ-লামীন, ওয়াফসাহ লাহু ফী ক্বাবরিহী অ নাউবিরলাহু ফীহ।’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি (অমুককে) মাফ করে দাও এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের দলে ওর মর্যাদা উন্নত কর, অবশিষ্টদের মধ্যে ওর পশ্চাতে ওর উত্তরাধিকারী দাও। আমাদেরকে এবং ওকে মার্জনা করে দাও হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! ওর কবরকে প্রশস্ত করো এবং ওর জন্য কবরকে আলোকিত করো।

(মুসলিম ৯২০, আবু দাঊদ ৩১১৮, ইবনু মাজাহ ১৪৫৪, আহমাদ ২৬০০৩) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৫২ঃ মৃতের নিকট কী বলা যাবে? এবং মৃতের পরিজনরা কী বলবে?‎

৯২৫. উম্মে সালামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা পীড়িত অথবা মৃতের নিকট উপস্থিত হলে ভাল কথা বল। কেননা, ফিরিশ্‌তারা তোমাদের কথায় ‘আমীন’ বলেন।’’ (উম্মে সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আন্‌হা) বলেন, অতঃপর যখন (আমার স্বামী) আবু সালামাহ মারা গেলেন, তখন আমি নবী সাঃআঃ এর নিকট এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আবু সালামাহ মারা গেছেন। (সুতরাং আমি এখন কী বলব?)’ তিনি বললেন, তুমি এই দো‘আ বল,

اَللهم اغْفِرْ لِي وَلَهُ، وَأعْقِبْنِي مِنْهُ عُقْبَى حَسَنَةً

‘আল্লাহুম্মাগফির লী অলাহু, অআ‘ক্বিবনী মিনহু উক্ববা হাসানাহ।’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ও তাঁকে মার্জনা কর এবং আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম বিনিময় প্রদান কর।’ সুতরাং আমি তা বললাম, ফলে মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম বিনিময় মুহাম্মাদ সাঃআঃকে (স্বামীরূপে) প্রদান করলেন।

(মুসলিম ৯১৯, ৯১৮, তিরমিজী ৯৭৭, নাসাঈ ১৮২৫, আহমাদ ৩১১৯, ইবনু মাজাহ ১৪৪৭, আহমাদ ২৫৯৫৮, ২৬০৬৮, ২৬০৯৫, ৬১২৯, ২৬১৫৭, ২৬১৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ৫৫৮) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯২৬. উক্ত উম্মে সালামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃকে বলতে শুনেছি, ‘‘যে বান্দা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় এই দো‘আ বলবে,

إِنَّا ِللهِ وَإنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اَللهم أجُرْنِي فِي مُصِيبَتي وَاخْلُفْ لِي خَيراً مِنْهَا

‘ইন্না লিল্লা-হি অইন্না ইলাইহি রা-জি‘ঊন, আল্লা-হুম্মা’জুরনী ফী মুসীবাতী অখ্‌লুফলী খাইরাম মিনহা।’

(যার অর্থ, আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করব। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার এই বিপদে প্রতিদান দাও এবং তার জায়গায় উত্তম বিনিময় প্রদান কর।)

আল্লাহ তাকে তার বিপদে প্রতিদান ও তার জায়গায় উত্তম বিনিময় দান করিবেন।’’

উম্মে সালামাহ রাঃআঃ বলেন, ‘যখন আবু সালামাহ মারা গেলেন, তখন আমি সেইরূপ বললাম, যেরূপ বলার আদেশ রসুলুল্লাহ সাঃআঃ আমাকে দিয়েছিলেন। সুতরাং আল্লাহ আমাকে তার চেয়ে উত্তম বিনিময় রসুলুল্লাহ সাঃআঃকে (স্বামীরূপে) প্রদান করলেন।’

(মুসলিম ৯১৮, ৯১৯, তিরমিজী ৯৭৭, নাসাঈ ১৮২৫, আহমাদ ৩১১৯, ইবনু মাজাহ ১৪৪৭, আহমাদ ২৫৯৫৮, ২৬০৬৮, ২৬০৯৫, ৬১২৯, ২৬১৫৭, ২৬১৯৯, মুওয়াত্তা মালিক ৫৫৮) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯২৭. আবু মূসা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায় আল্লাহ ফিরিশ্‌তাদেরকে বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার সন্তানের প্রাণ নিয়েছ?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তার অন্তরের ফল কেড়ে নিয়েছ?’ তাঁরা বলেন, ‘হ্যাঁ।’ তারপর তিনি বলেন, ‘আমার বান্দা কী বলেছে?’ তাঁরা উত্তরে বলেন, ‘সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং ‘

إِنَّا ِللهِ وَإنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ

‘ইন্না লিল্লা-হি অইন্না ইলাইহি রা-জিঊন’’

পড়েছে।’ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং তার নাম রাখ—প্রসংশা-গৃহ।’

(তিরমিজী, হাসান) (তিরমিজী ১০২১, আহমাদ ১৯২২৬) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯২৮. আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন আমি আমার বান্দার পছন্দনীয় পার্থিব জিনিসকে কেড়ে নিই, অতঃপর সে (তাতে) সওয়াবের আশা রাখে, তখন তার জন্য আমার নিকট জান্নাত ছাড়া অন্য কোন বিনিময় নেই।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬৪২৪, আহমাদ ৯১২৭) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯২৯. উসামাহ ইবনে যায়দ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ এর কন্যা তাঁকে ডাকার জন্য এবং এ সংবাদ দেওয়ার জন্য দূত পাঠালেন যে, তাঁর শিশু অথবা পুত্র মরণাপন্ন। অতঃপর তিনি দূতকে বললেন, ‘‘তুমি তার নিকট ফিরে গিয়ে বল, ‘তা আল্লাহরই–যা তিনি নিয়েছেন এবং যা কিছু দিয়েছেন–তাও তাঁরই। আর তাঁর নিকট প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে।’ অতএব তাকে বল, সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং নেকীর আশা রাখে।’’ —অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১২৮৪, ৫৬৫৫, ৬৬০২, ৬৬৫৫, ৭৩৭৭, ৭৪৪৮, মুসলিম ৯২৩, নাসাঈ ১৮৬৮, আবু দাঊদ ৩১২৫, আহমাদ ২১২৬৯, ২১২৮২, ২১২৯২) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৫৩ঃ মৃতের জন্য মাতমবিহীন কান্না বৈধ

৯৩০. ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ সা‘দ ইবনে উবাদার সাক্ষাতে গেলেন। তাঁর সঙ্গে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, সাদ ইবনে আবী অক্কাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাঃআঃও ছিলেন। সেখানে পৌঁছে রসুলুল্লাহ সাঃআঃ কাঁদতে লাগলেন। রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর কাঁদা দেখে লোকেরাও কাঁদতে আরম্ভ করল। অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘তোমরা কি শুনতে পাও না যে, আল্লাহ চোখের অশ্রু এবং অন্তরের দুঃখের উপর শাস্তি দেন না। কিন্তু তিনি এটার কারণে শাস্তি দেন অথবা দয়া করেন।’’ সেই সাথে তিনি নিজের জিভের দিকে ইঙ্গিত করলেন।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১৩০৪, মুসলিম ৯২৪) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯৩১. উসামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর নিকট তাঁর নাতিকে তার মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে আসা হল। (ওকে দেখে) রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর চক্ষুদ্বয় হইতে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা‘দ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ কী?’ তিনি বললেন, ‘‘এটা রহমত (দয়া); যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে রেখেছেন। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১২৮৪, ৫৬৫৫, ৬৬০২, ৬৬৫৫, ৭৩৭৭, ৭৪৪৮, মুসলিম ৯২৩, নাসাঈ ১৮৬৮, আবু দাঊদ ৩১২৫, আহমাদ ২১২৬৯, ২১২৮২, ২১২৯২) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

৯৩২. আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের নিকট গেলেন, যখন সে মারা যাচ্ছিল। রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রুপাত হইতে লাগল। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তাঁকে বললেন, ‘আপনিও (কাঁদছেন)? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি সাঃআঃ বললেন, ‘‘হে আওফের পুত্র! এটা তো মমতা।’’ অতঃপর দ্বিতীয়বার কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘‘চোখ অশ্রুপাত করছে এবং অন্তর দুঃখিত হচ্ছে। আমরা সে কথাই বলব, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করিবে। আর হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিরহে দুঃখিত।’’

(বুখারী, মুসলিম কিছু অংশ) (সহীহুল বুখারী শরীফ ১৩০৩, মুসলিম ২৩১৫, আবু দাঊদ ৩১২৬, আহমাদ ১২৬০৬) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ১৫৪ঃ মৃতের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা নিষেধ

৯৩৩. রসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর স্বাধীনকৃত দাস আবু রাফে’ আসলাম রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসূলল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল দেবে এবং তার দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তাকে চল্লিশবার ক্ষমা করিবেন।’’

(হাকেম, মুসলিমের শর্তে সহীহ) (সিলসিলা সহীহা ২৩৫৩) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply